📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শরিয়তে ব্যবসার স্থান

📄 শরিয়তে ব্যবসার স্থান


কুরআন, সুন্নাহ্ ও ইজমা (মুসলিম জাতির সর্বসম্মত মত) দ্বারা ব্যবসা শরিয়ত সম্মত বলে প্রমাণিত। কুরআনে সূরা বাকারার ২৭৫ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেন: . وَأَمَلَ اللَّهُ الْبَيْعَ وَمَرَّمَ الرِّبوا আল্লাহ্ বেচাকেনাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।' আর রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'সর্বোত্তম উপার্জন হলো মানুষের শ্রম দ্বারা এবং যে কোনো সৎ (ভেজাল ও প্রতারণামুক্ত) ব্যবসা দ্বারা উপার্জন।'
রসূলুল্লাহ্ সা. এর যুগ থেকে আমাদের যুগ পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম জাতি ব্যবসায়ের বৈধতা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ঐকমত্য পোষণ করে এসেছে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ব্যবসা বৈধতার যৌক্তিকতা

📄 ব্যবসা বৈধতার যৌক্তিকতা


মহান আল্লাহ্ ব্যবসা তথা বেচাকেনাকে তাঁর বান্দাদের সুবিধার্থে বৈধ করেছেন। প্রত্যেক মানুষেরই খাদ্য বস্ত্র ইত্যাদির প্রয়োজন হয়ে থাকে। মানুষ যতোক্ষণ বেঁচে থাকে, ততোক্ষণ তার জীবন ধারণের জন্যে এ সব জিনিস একেবারেই অপরিহার্য। কোনো মানুষের পক্ষে একাকী নিজের জন্যে এ সব প্রয়োজনীয় জিনিস যথেষ্ট পরিমাণে সঞ্চিত করে রাখা সম্ভব নয়। কেননা সে এ সব জিনিস অন্যের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে বাধ্য। এ জন্যে বিনিময়ের চেয়ে পূর্ণাংগ কোনো ব্যবস্থা নেই। সে অন্যের কাছে থাকা যে সব জিনিসের মুখাপেক্ষী, তা তার কাছ থেকে গ্রহণের বিনিময়ে নিজের কাছে থাকা যে সব জিনিস তার অপ্রয়োজনীয়, তা তাকে দেবে। এটাই বিনিময় পদ্ধতি এবং এটাই ব্যবসার মূলকথা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 বৈধভাবে ব্যবসা সম্পন্ন হওয়ার ফল

📄 বৈধভাবে ব্যবসা সম্পন্ন হওয়ার ফল


ব্যবসার চুক্তি, তার মূল উপাদানসমূহ ও শর্তাবলী সম্পন্ন হওয়ার ফল দাঁড়াবে এই যে, বিক্রেতা তার পণ্যের মালেকানা স্বত্ব ক্রেতার নিকট হস্তান্তর করতে বাধ্য হবে এবং ক্রেতা তার মূল্যের মালেকানা বিক্রেতার নিকট হস্তান্তর করতে বাধ্য হবে। সে সাথে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যে তার নিকট যে জিনিসের মালেকানা হস্তান্তর হয়েছে, তা সর্ব প্রকার বিধি সম্মত ব্যবহার বৈধ হয়ে যাবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ব্যবসার উপাদান

📄 ব্যবসার উপাদান


ব্যবসা ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (সম্মতি দান বা গ্রহণ) দ্বারা সম্পন্ন হয়। ছোট-খাট জিনিসের ক্রয়-বিক্রয় এর ক্ষেত্রে ইজাব ও কবুলের প্রয়োজন হয়না। পণ্য ও মূল্যের সরাসরি লেনদেনই যথেষ্ট। সমাজে প্রচলিত ও সুবিদিত রীতি-প্রথাই এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে। ইজাব ও কবুলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। কেননা চুক্তির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের উদ্দেশ্যই বিবেচ্য বিষয়, শব্দ নয়। (ব্যবসায় হচ্ছে মানুষের পারস্পরিক লেনদেনের আওতাভুক্ত এবং আন্তরিক সম্মতিই এর ভিত্তি। এই সম্মতি যদি গোপন ও অব্যক্ত থাকে, তবে তা অপর পক্ষের জানা সম্ভব নয়। এ জন্য অন্তরের সম্মতির অভিব্যক্তি ঘটে, এমন শব্দ বা বাক্যকে শরিয়ত সম্মতির প্রতীক হিসাবে গ্রহণ করে এবং তার উপরই শরিয়তের বিধি নির্ভরশীল বলে ঘোষণা করেছে। ইজাব হলো ক্রেতা ও বিক্রেতা এই দুই পক্ষের যে কোনো এক পক্ষ থেকে প্রথম প্রকাশিত প্রস্তাব। আর কবুল হলো প্রস্তাবের জবাবে অপর পক্ষ থেকে প্রকাশিত পরবর্তী বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া। প্রস্তাবক বা ইজাবকারী ক্রেতা বা বিক্রেতা যে কেউ হতে পারে। অনুরূপ কবুলকারীও যে কোনো পক্ষ হতে পারে।) যে শব্দ বা বাক্য বিনিময় ভিত্তিক লেনদেন এবং আদান-প্রদানে সম্মতি বুঝায় অথবা উভয় পক্ষের মধ্যে সম্মতিসূচক মনোভাব ব্যক্ত করে কিংবা মালেকানা স্বত্ব প্রদানের অর্থ জ্ঞাপনকারী কোনো লক্ষণ পরিদৃষ্ট হয় বা শব্দ উচ্চারিত হয়, তাতেও ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়। যেমন বিক্রেতা কর্তৃক বলা: বিক্রি করলাম, প্রদান করলাম, মালেকানা প্রদান করলাম, অথবা এটা তোমার, অথবা মূল্য দাও। কিংবা ক্রেতা কর্তৃক বলা ক্রয় করলাম বা গ্রহণ করলাম, বা সম্মত হলাম বা মূল্য নাও।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00