📄 ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত শরিয়তের বিধি জানা ওয়াজিব
আয়-রোযগারের চেষ্টায় নিয়োজিত প্রত্যেকেরই কিভাবে আয়-রোযগার সঠিক ও হালাল হয় এবং কিভাবে হারাম ও ত্রুটিপূর্ণ হয় তা জানা অবশ্য কর্তব্য, যাতে তার লেনদেন সঠিক হয় এবং আয়-ব্যয় ত্রুটিমুক্ত হয়। বর্ণিত আছে, উমর রা. বাজারে ঘোরাফেরা করতেন, কোনো কোনো ব্যবসায়ীকে চাবুক মারতেন এবং বলতেন: 'যে ব্যক্তি শরিয়তের বিধান জানে সে ব্যতীত আমাদের বাজারে কেউ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেনা। কেননা যে শরিয়তের বিধান জানেনা, সে ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক সুদ খাবেই।'
আজকাল বহু মুসলমান লেনদেনের নিয়ম-কানুন জানার প্রয়োজন উপলব্ধি করেনা এবং এ দিকটি অবহেলা করে থাকে। তারা শুধু বাড়তি মুনাফা অর্জনে ও আয় বৃদ্ধিতেই উদগ্রীব থাকে এবং হারাম উপার্জনের তোয়াক্কা করেনা। এটা মারাত্মক অন্যায়। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কর্তব্য, এ অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা, হালাল-হারাম বাছ-বিচার করে চলা, উপার্জনকে বৈধ ও হালাল রাখা এবং সাধ্যমত সন্দেহভাজন লেনদেনও এড়িয়ে চলা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: 'প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ইসলামের জ্ঞান অর্জন করা ফরয।' সুতরাং যে ব্যক্তি হালাল খাবার খেতে, হালাল সম্পদ উপার্জন করতে এবং মানুষের আস্থা ও আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনে ইচ্ছুক, তার এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়।
নু'মান ইবনে বশীর রা. থেকে বর্ণিত, রসূলল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'হালাল সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত এবং হারামও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত। এই দু'য়ের মাঝে কিছু সন্দেহজনক জিনিস রয়েছে। (যেগুলো সম্পর্কে শরিয়তে পক্ষে ও বিপক্ষে প্রমাণ রয়েছে এবং ফকিহদের মধ্য মতভেদ রয়েছে।) যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বাঁচার জন্যে সন্দেহজনক জিনিস বর্জন করে তার সুস্পষ্ট হারাম থেকে রক্ষা পাওয়া অধিকতর নিশ্চিত হবে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক গুনাহের কাজ করার ধৃষ্টতা দেখায়, তার সুস্পষ্ট গুনাহতে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গুনাহের কাজগুলো আল্লাহ্ সুরক্ষিত চারণক্ষেত্র। যে ব্যক্তি এই চারণক্ষেত্রের নিকট দিয়ে ঘোরে তার এতে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে।' (বুখারি ও মুসলিম)।
📄 ব্যবসার সংজ্ঞা
ব্যবসা আভিধানিক অর্থ বিনিময় করা, তা যে ধরনেরই হোক না কেন। আর শরিয়তের পরিভাষায় দু'পক্ষের সম্মতিক্রমে একটি দ্রব্য দ্বারা অপর দ্রব্যের বিনিময় করা অথবা শরিয়ত সম্মত উপায়ে কোনো জিনিসের বিনিময়ে কোনো সম্পদ হস্তান্তর করা।
📄 শরিয়তে ব্যবসার স্থান
কুরআন, সুন্নাহ্ ও ইজমা (মুসলিম জাতির সর্বসম্মত মত) দ্বারা ব্যবসা শরিয়ত সম্মত বলে প্রমাণিত। কুরআনে সূরা বাকারার ২৭৫ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেন: . وَأَمَلَ اللَّهُ الْبَيْعَ وَمَرَّمَ الرِّبوا আল্লাহ্ বেচাকেনাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।' আর রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'সর্বোত্তম উপার্জন হলো মানুষের শ্রম দ্বারা এবং যে কোনো সৎ (ভেজাল ও প্রতারণামুক্ত) ব্যবসা দ্বারা উপার্জন।'
রসূলুল্লাহ্ সা. এর যুগ থেকে আমাদের যুগ পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম জাতি ব্যবসায়ের বৈধতা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ঐকমত্য পোষণ করে এসেছে।
📄 ব্যবসা বৈধতার যৌক্তিকতা
মহান আল্লাহ্ ব্যবসা তথা বেচাকেনাকে তাঁর বান্দাদের সুবিধার্থে বৈধ করেছেন। প্রত্যেক মানুষেরই খাদ্য বস্ত্র ইত্যাদির প্রয়োজন হয়ে থাকে। মানুষ যতোক্ষণ বেঁচে থাকে, ততোক্ষণ তার জীবন ধারণের জন্যে এ সব জিনিস একেবারেই অপরিহার্য। কোনো মানুষের পক্ষে একাকী নিজের জন্যে এ সব প্রয়োজনীয় জিনিস যথেষ্ট পরিমাণে সঞ্চিত করে রাখা সম্ভব নয়। কেননা সে এ সব জিনিস অন্যের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে বাধ্য। এ জন্যে বিনিময়ের চেয়ে পূর্ণাংগ কোনো ব্যবস্থা নেই। সে অন্যের কাছে থাকা যে সব জিনিসের মুখাপেক্ষী, তা তার কাছ থেকে গ্রহণের বিনিময়ে নিজের কাছে থাকা যে সব জিনিস তার অপ্রয়োজনীয়, তা তাকে দেবে। এটাই বিনিময় পদ্ধতি এবং এটাই ব্যবসার মূলকথা।