📄 জীবিকা অন্বেষণে অভিপ্রয়াণে বের হওয়া
ইমাম তিরমিযি সাখার গামেদি থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'হে আল্লাহ, আমার উম্মতের প্রত্যুষে জীবিকা উপার্জনের চেষ্টায় বরকত দাও।' তিনি যখনই কোনো ছোট বা বড় বাহিনী কোথাও পাঠাতেন, দিনের প্রথম ভাগেই পাঠাতেন। সাখার একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি যখন কোনো ব্যবসায়ী বহর কোথাও পাঠাতেন দিনের প্রথম ভাগেই পাঠাতেন। ফলে তিনি ধনাঢ্যে পরিণত হন এবং বিপুল ধন-সম্পদ অর্জন করেন।
📄 হালাল উপার্জন
আলি রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: আল্লাহ তাঁর বান্দাকে হালাল সম্পদ উপার্জনে ব্যস্ত দেখতে ভালোবাসেন (তাবারানি ও দায়লামি)।
মালেক ইবনে আনাম রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন: প্রত্যেক মুসলমানের উপর হালাল অর্থ উপার্জন করা ওয়াজিব। (তাবারানি)।
রাফে' ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ সা.কে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে রসূলুল্লাহ্, কোন্ উপার্জন অধিকতর পবিত্র? তিনি বললেন: মানুষ নিজ হাতে যা উপার্জন করে ও যে কোনো সৎ ব্যবসা। (আহমাদ, বায্যার, তাবারানি)। (অর্থাৎ যে ব্যবসা হারাম ও প্রতারণা থেকে মুক্ত। কৃষি, বাণিজ্য ও শিল্প হচ্ছে উপার্জনের মূল উৎস। তবে এর মধ্যে যেটি নিজ হাতে করা হয় এবং যে সম্পদ জেহাদ থেকে গনিমত হিসেবে অর্জিত হয় সেটা অধিকতর পবিত্র ও বরকতময়। আবার কারো কারো মতে ব্যবসা ও বাণিজ্যই অধিকতর পবিত্র ও বরকমতয় ব্যবস্থা।)
📄 ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত শরিয়তের বিধি জানা ওয়াজিব
আয়-রোযগারের চেষ্টায় নিয়োজিত প্রত্যেকেরই কিভাবে আয়-রোযগার সঠিক ও হালাল হয় এবং কিভাবে হারাম ও ত্রুটিপূর্ণ হয় তা জানা অবশ্য কর্তব্য, যাতে তার লেনদেন সঠিক হয় এবং আয়-ব্যয় ত্রুটিমুক্ত হয়। বর্ণিত আছে, উমর রা. বাজারে ঘোরাফেরা করতেন, কোনো কোনো ব্যবসায়ীকে চাবুক মারতেন এবং বলতেন: 'যে ব্যক্তি শরিয়তের বিধান জানে সে ব্যতীত আমাদের বাজারে কেউ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেনা। কেননা যে শরিয়তের বিধান জানেনা, সে ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক সুদ খাবেই।'
আজকাল বহু মুসলমান লেনদেনের নিয়ম-কানুন জানার প্রয়োজন উপলব্ধি করেনা এবং এ দিকটি অবহেলা করে থাকে। তারা শুধু বাড়তি মুনাফা অর্জনে ও আয় বৃদ্ধিতেই উদগ্রীব থাকে এবং হারাম উপার্জনের তোয়াক্কা করেনা। এটা মারাত্মক অন্যায়। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কর্তব্য, এ অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা, হালাল-হারাম বাছ-বিচার করে চলা, উপার্জনকে বৈধ ও হালাল রাখা এবং সাধ্যমত সন্দেহভাজন লেনদেনও এড়িয়ে চলা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: 'প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ইসলামের জ্ঞান অর্জন করা ফরয।' সুতরাং যে ব্যক্তি হালাল খাবার খেতে, হালাল সম্পদ উপার্জন করতে এবং মানুষের আস্থা ও আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনে ইচ্ছুক, তার এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়।
নু'মান ইবনে বশীর রা. থেকে বর্ণিত, রসূলল্লাহ্ সা. বলেছেন: 'হালাল সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত এবং হারামও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত। এই দু'য়ের মাঝে কিছু সন্দেহজনক জিনিস রয়েছে। (যেগুলো সম্পর্কে শরিয়তে পক্ষে ও বিপক্ষে প্রমাণ রয়েছে এবং ফকিহদের মধ্য মতভেদ রয়েছে।) যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বাঁচার জন্যে সন্দেহজনক জিনিস বর্জন করে তার সুস্পষ্ট হারাম থেকে রক্ষা পাওয়া অধিকতর নিশ্চিত হবে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক গুনাহের কাজ করার ধৃষ্টতা দেখায়, তার সুস্পষ্ট গুনাহতে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গুনাহের কাজগুলো আল্লাহ্ সুরক্ষিত চারণক্ষেত্র। যে ব্যক্তি এই চারণক্ষেত্রের নিকট দিয়ে ঘোরে তার এতে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে।' (বুখারি ও মুসলিম)।
📄 ব্যবসার সংজ্ঞা
ব্যবসা আভিধানিক অর্থ বিনিময় করা, তা যে ধরনেরই হোক না কেন। আর শরিয়তের পরিভাষায় দু'পক্ষের সম্মতিক্রমে একটি দ্রব্য দ্বারা অপর দ্রব্যের বিনিময় করা অথবা শরিয়ত সম্মত উপায়ে কোনো জিনিসের বিনিময়ে কোনো সম্পদ হস্তান্তর করা।