📄 মৃতদের নামে মানত
মৃত ব্যক্তিদের নামে মানত করা বা তাদের প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করে তাদের নামে মানত করা হারাম। কেননা এটা শিরক। আল্লাহ বলেন: وَمِنَ الْأَنْصَابِ وَالْأَزْلَامِ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَنِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ অর্থ: "আস্তানা ও ভাগ্যনির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। অতএব, তোমরা এগুলো বর্জন করো, যাতে তোমরা কল্যাণ লাভ করো।" (সূরা মায়েদা: ৯০)
আস্তানা বলতে সেই স্থানকে বুঝায়, যেখানে মূর্তি বা অন্য কোনো মৃত ব্যক্তির কবর থাকে এবং মানুষ তার উদ্দেশ্যে মানত করে। এটা শিরক। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করে, সে শিরক করে।" (আবু দাউদ, তিরমিযি)
এ হাদিস থেকে জানা যায়, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করা হারাম। আর যারা এ ধরনের মানত করে, তারা শিরক করে।
📄 কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ইবাদত করার মানত
কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ইবাদত করার মানত করা বৈধ। যেমন: কোনো ব্যক্তি মানত করলো যে, সে বাইতুল্লাহ শরিফে বা মসজিদে নববীতে বা বাইতুল মাকদাসে নামায পড়বে। এ ধরনের মানত করা বৈধ এবং তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। তবে এ ধরনের মানত করা মুস্তাহাব নয়। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "নামাযের জন্য তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সফর করা জায়েয নেই: বাইতুল্লাহ শরিফ, আমার এই মসজিদ এবং বাইতুল মাকদাস।" (বুখারি, মুসলিম)
এ হাদিস থেকে জানা যায়, এই তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও ইবাদত করার মানত করা বৈধ নয়। আর যদি কেউ এই তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও ইবাদত করার মানত করে, তাহলে তা বাতিল গণ্য হবে এবং তার জন্য কাফফারা দিতে হবেনা।
আর যদি কেউ কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ইবাদত করার মানত করে এবং সেই স্থানটি এমন হয়, যেখানে শিরকের কোনো আলামত থাকে, যেমন কোনো কবর বা মাজার, তাহলে সেখানে ইবাদত করা হারাম। আল্লাহ বলেন: وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا অর্থ: "মসজিদগুলো আল্লাহর জন্য। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।" (সূরা জিন: ১৮)
এ আয়াত থেকে জানা যায়, মসজিদ আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট। অতএব, সেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা জায়েয নেই। আর যদি কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকে, তাহলে সে শিরক করে।
📄 বিশেষ কোনো পুণ্যবান ব্যক্তির নামে মানত করা
বিশেষ কোনো পুণ্যবান ব্যক্তির নামে মানত করা হারাম। কেননা এটা শিরক। আল্লাহ বলেন: "আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।" (সূরা জিন: ১৮)
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করে, সে শিরক করে।" (আবু দাউদ, তিরমিযি)
এ হাদিস থেকে জানা যায়, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করা হারাম। আর যারা এ ধরনের মানত করে, তারা শিরক করে। আর যারা এ ধরনের মানত করে, তাদের মানত বাতিল গণ্য হবে এবং তার জন্য কাফফারাও দিতে হবেনা।
তবে যদি কেউ কোনো পুণ্যবান ব্যক্তির নামে মানত করে এবং তার উদ্দেশ্য হয় আল্লাহকে মান্য করা, তাহলে তা বৈধ। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ বলে: "আমি অমুক ব্যক্তির সম্মানে একশো টাকা সদকা করবো।" এখানে তার উদ্দেশ্য যদি হয় আল্লাহকে মান্য করা এবং আল্লাহকে খুশি করা, তাহলে তা বৈধ। আর যদি তার উদ্দেশ্য হয় পুণ্যবান ব্যক্তির নৈকট্য লাভ করা, তাহলে তা হারাম।
📄 রোষার মানত করে এর পূরণে অক্ষম হলে
কেউ যদি রোযা রাখার মানত করে, কিন্তু পরে তা পূরণে অক্ষম হয়, তাহলে তার জন্য রোযা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। সে এর বদলে কাফফারা দেবে। আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের অপ্রীতিকর শপথের জন্য পাকড়াও করবেনা, বরং তোমাদের অন্তর যা উপার্জন করেছে, সে জন্য পাকড়াও করবে।" (আল বাকারা: ২২৫)
এ আয়াত থেকে জানা যায়, শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হবে। অতএব, রোযা রাখার মানত করে তা পূরণে অক্ষম হলে তার জন্য কাফফারা দিতে হবে।
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যার উপর রোযা রাখার মানত থাকে, সে যদি তা পূরণে অক্ষম হয়, তাহলে তার জন্য দশজন মিসকিনকে খাবার দান করা অথবা পোশাক দান করা অথবা একজন দাস মুক্ত করা।" (বুখারি, মুসলিম)
এ হাদিস থেকে জানা যায়, রোযা রাখার মানত করে তা পূরণে অক্ষম হলে তার জন্য শপথের কাফফারা দিতে হবে।