📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মানত কখন শুদ্ধ হয় এবং কখন অশুদ্ধ

📄 মানত কখন শুদ্ধ হয় এবং কখন অশুদ্ধ


মানত শুদ্ধ হওয়ার জন্য শপথকারীর সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক ও স্বাধীন ক্ষমতার অধিকারী হওয়া জরুরি। অতএব পাগল, শিশু ও বলপ্রয়োগের শিকার ব্যক্তি মানত করলে তা শুদ্ধ হবেনা। মানতকৃত কাজটা বাধ্যতামূলক ও পুণ্যময় কাজ হওয়া জরুরি। গুনাহর কাজ বা হারাম কাজ বা মাকরূহ কাজ বা নিষিদ্ধ কাজ হলে তা শুদ্ধ হবেনা। উপরন্তু মানতকৃত কাজটি মানতকারীর জন্য সম্ভব হওয়া জরুরি। অসম্ভব কাজ হলে তা শুদ্ধ হবেনা।
মানতকৃত কাজটা এমন হওয়া জরুরি, যা মানত করার পূর্বে তার জন্য বাধ্যতামূলক ছিল না। বাধ্যতামূলক কাজ হলে মানত শুদ্ধ হবেনা। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি বলে: আল্লাহর কসম, আমি নামায পড়বো। তখন তার উপর তা বাধ্যতামূলক হবে না।
মানতকৃত কাজটি এমন হওয়া জরুরি, যা অন্য কারো জন্য বাধ্যতামূলক নয়। যেমন কেউ যদি বলে: আল্লাহর কসম, আমি অমুক কাজটা করবো, যা অন্য কারো জন্য বাধ্যতামূলক। তখন তার উপর তা বাধ্যতামূলক হবেনা।
মানতকৃত কাজটি এমন হওয়া জরুরি, যা মানতকারীর জন্য লাভজনক। লাভজনক না হলে তা শুদ্ধ হবেনা।
মানতকৃত কাজটি এমন হওয়া জরুরি, যা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুমোদন সাপেক্ষে। আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুমোদন ব্যতীত হলে তা শুদ্ধ হবেনা।
মানতকৃত কাজটা এমন হওয়া জরুরি, যা মানতকারীর জন্য কোনো ক্ষতিসাধন করে না। ক্ষতিসাধন করলে তা শুদ্ধ হবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যে মানত মুরূদ

📄 যে মানত মুরূদ


যে মানত মুরূদ অর্থাৎ প্রত্যাখ্যানযোগ্য, তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তার জন্য কাফফারাও দিতে হয়না। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "মানুষের যে জিনিসে মালিকানা নেই, তাতে তার কোনো মানত চলেনা। যে গোলামের সে মালিক নয়, তাকে সে মুক্ত করতে পারেনা। যে স্ত্রীর সে স্বামী নয়, তাকে সে তালাক দিতে পারেনা।" (তিরমিযি)
আর হারাম কাজ বা গুনাহর কাজের জন্য মানত করলে তা বাতিল গণ্য হবে। তার জন্য কাফফারাও দিতে হবেনা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আল্লাহর নাফরমানীর জন্য মানত করা যাবেনা।" (বুখারি)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত: "রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আল্লাহর নাফরমানীর জন্য মানত করা যাবেনা।" (মুসলিম)
এ হাদিস থেকে জানা যায়, আল্লাহর নাফরমানীর জন্য মানত করলে তা বাতিল গণ্য হবে এবং তার জন্য কাফফারা দিতে হয়না। তবে ইমাম মালেক, শাফেয়ি, আহমদ ও ইসহাক বলেছেন: গুনাহর কাজের জন্য মানত করলে তার জন্য শপথের কাফফারা দিতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শর্তযুক্ত মানত ও শর্তহীন মানত

📄 শর্তযুক্ত মানত ও শর্তহীন মানত


মানত দু'রকমের: শর্তযুক্ত ও শর্তহীন। শর্তযুক্ত মানত হলো, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় মানত করা। যেমন: "যদি আমার রোগ মুক্তি হয়, তবে আমি একশো টাকা সদকা করবো।" এ ধরনের মানত ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হবে। শর্তহীন মানত হলো, কোনো কিছু পাওয়ার আশা ছাড়া মানত করা। যেমন: "আল্লাহর জন্য আমার উপর ফরয, আমি একশো টাকা সদকা করবো।" এ ধরনের মানত ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হবে।
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "মানত কোনো ভালো কিছু আনেনা, কেবল কৃপণের কাছ থেকে কিছু বের করে।" (বুখারি, মুসলিম)
এ হাদিস থেকে জানা যায়, মানত করা মুস্তাহাব নয়। কিন্তু মানত করলে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। ইমাম নববী বলেছেন: মানত করা মাকরূহ। কেননা এটা কেবল কৃপণ ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু বের করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কিছু ব্যয় করতে চায় না, সে যখন কোনো জিনিস পাওয়ার আশা করে, তখন মানত করে। যখন সে পায়, তখন মানত পূর্ণ করে। আর যদি না পায়, তাহলে করে না। তাই এ ধরনের মানত মন্দ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মৃতদের নামে মানত

📄 মৃতদের নামে মানত


মৃত ব্যক্তিদের নামে মানত করা বা তাদের প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করে তাদের নামে মানত করা হারাম। কেননা এটা শিরক। আল্লাহ বলেন: وَمِنَ الْأَنْصَابِ وَالْأَزْلَامِ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَنِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ অর্থ: "আস্তানা ও ভাগ্যনির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। অতএব, তোমরা এগুলো বর্জন করো, যাতে তোমরা কল্যাণ লাভ করো।" (সূরা মায়েদা: ৯০)
আস্তানা বলতে সেই স্থানকে বুঝায়, যেখানে মূর্তি বা অন্য কোনো মৃত ব্যক্তির কবর থাকে এবং মানুষ তার উদ্দেশ্যে মানত করে। এটা শিরক। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করে, সে শিরক করে।" (আবু দাউদ, তিরমিযি)
এ হাদিস থেকে জানা যায়, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করা হারাম। আর যারা এ ধরনের মানত করে, তারা শিরক করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00