📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সংজ্ঞা

📄 সংজ্ঞা


মানত শব্দটির আভিধানিক অর্থ প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা। পবিত্র কুরআনে একে 'মানত' বা 'নযর' নাম দেয়া হয়েছে। এর শরিয়ত সম্মত পারিভাষিক অর্থ হলো: কোনো পুণ্যময় কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। কাজটি সাধারণত বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু মানত করার মাধ্যমে তা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 জাহেলি যুগে মানত

📄 জাহেলি যুগে মানত


জাহেলি যুগেও মানত করার প্রথা চালু ছিলো। তবে তা বিভিন্ন ধরনের শিরকের সাথে মিশ্রিত ছিলো। কেননা তারা পুণ্যবান মৃত ব্যক্তিদের নামে, তাদের প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে মানত করতো। এর মাধ্যমে তারা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে চাইতো এবং তাদের নৈকট্য লাভ করতে চাইতো। ইসলাম এসে এর থেকে শিরকের সব উপকরণ দূর করে দিয়েছে। ইবনুল কাইয়েম যাদুল মায়াদ গ্রন্থে বলেছেন: মানত তিন প্রকারের। ১. শিরকপূর্ণ মানত: যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর নামে মানত করা। ২. বিদয়াতপূর্ণ মানত: যেমন আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুমোদিত নয় এমন মানত করা। ৩. সুন্নতি মানত: যা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুমোদিত।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইসলামে মানত বৈধ

📄 ইসলামে মানত বৈধ


ইসলামে মানত বৈধ। কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন: وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ অর্থ: "তারা যেন তাদের মানত পূর্ণ করে।" (সূরা হজ্জ: ২৯)
মহান আল্লাহ মানত পূর্ণকারীদের প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ বলেন: يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا অর্থ: "তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেই দিনের ভয় করে, যার অকল্যাণ হবে ব্যাপক।" (সূরা ইনসান: ৭)
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহকে মান্য করার মানত করে, সে যেন তাকে মান্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানী করার মানত করে, সে যেন তার নাফরমানী না করে।" (বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)
তবে মানত করা মুস্তাহাব নয়। কেননা রসূলুল্লাহ সা. মানত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: "মানত কোনো ভালো কিছু আনেনা, কেবল কৃপণের কাছ থেকে কিছু বের করে।" (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)
ইমাম নববী বলেছেন: মানত করতে নিষেধ করা হয়েছে এজন্য যে, সে কোনো কল্যাণের কারণ হয়না। সে ব্যক্তি তা কেবল সে কাজটা করবে বলে বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কিছু ব্যয় করতে চায় না। তাই যখন কোনো জিনিস পেতে চায়, তখন মানত করে। যখন সে পায়, তখন মানত পূর্ণ করে। আর যদি না পায়, তাহলে করে না। তাই এ ধরনের মানত মন্দ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মানত কখন শুদ্ধ হয় এবং কখন অশুদ্ধ

📄 মানত কখন শুদ্ধ হয় এবং কখন অশুদ্ধ


মানত শুদ্ধ হওয়ার জন্য শপথকারীর সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক ও স্বাধীন ক্ষমতার অধিকারী হওয়া জরুরি। অতএব পাগল, শিশু ও বলপ্রয়োগের শিকার ব্যক্তি মানত করলে তা শুদ্ধ হবেনা। মানতকৃত কাজটা বাধ্যতামূলক ও পুণ্যময় কাজ হওয়া জরুরি। গুনাহর কাজ বা হারাম কাজ বা মাকরূহ কাজ বা নিষিদ্ধ কাজ হলে তা শুদ্ধ হবেনা। উপরন্তু মানতকৃত কাজটি মানতকারীর জন্য সম্ভব হওয়া জরুরি। অসম্ভব কাজ হলে তা শুদ্ধ হবেনা।
মানতকৃত কাজটা এমন হওয়া জরুরি, যা মানত করার পূর্বে তার জন্য বাধ্যতামূলক ছিল না। বাধ্যতামূলক কাজ হলে মানত শুদ্ধ হবেনা। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি বলে: আল্লাহর কসম, আমি নামায পড়বো। তখন তার উপর তা বাধ্যতামূলক হবে না।
মানতকৃত কাজটি এমন হওয়া জরুরি, যা অন্য কারো জন্য বাধ্যতামূলক নয়। যেমন কেউ যদি বলে: আল্লাহর কসম, আমি অমুক কাজটা করবো, যা অন্য কারো জন্য বাধ্যতামূলক। তখন তার উপর তা বাধ্যতামূলক হবেনা।
মানতকৃত কাজটি এমন হওয়া জরুরি, যা মানতকারীর জন্য লাভজনক। লাভজনক না হলে তা শুদ্ধ হবেনা।
মানতকৃত কাজটি এমন হওয়া জরুরি, যা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুমোদন সাপেক্ষে। আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুমোদন ব্যতীত হলে তা শুদ্ধ হবেনা।
মানতকৃত কাজটা এমন হওয়া জরুরি, যা মানতকারীর জন্য কোনো ক্ষতিসাধন করে না। ক্ষতিসাধন করলে তা শুদ্ধ হবেনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00