📄 শপথের ভিত্তি নিগুঢ় ও প্রচলিত রীতি
শপথের ভিত্তি তার অর্থবোধকতা ও শপথকারীর নিয়ত। শপথের শব্দে প্রকাশ না হলেও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী যা শপথের অর্থ বুঝায়, তা শপথ হিসেবে গণ্য হবে। যেমন কোনো ব্যক্তি কসম না খেয়েও যদি এমন কাজ করে বা এমন কথা বলে, যা শপথের অর্থ বুঝায়, তাহলে সে শপথকারী গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলে: "আমি যদি এই কাজটা করি, তবে আমি কাফের।" বা "আমি যদি এই কাজটা না করি, তবে আমি মুসলিম নই।" এ ধরনের বাক্য দ্বারা শপথ কার্যকর হবে এবং তা ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হবে।
মিশরের ১৯২০ সালের ২৫ নং আইনের ২ নং ধারায় বলা হয়েছে: "শপথের ভিত্তি তার নিয়ত। শপথের শব্দে প্রকাশ না হলেও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী যা শপথের অর্থ বুঝায়, তা শপথ হিসেবে গণ্য হবে।" এই ধারাটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: "কতিপয় হানাফি ও মালেকি আলেমের মতানুসারে শপথযুক্ত তালাককে বাতিল গণ্য করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং আলী রা. কাজি শুরাইহ ও দাউদ যাহেরি প্রমুখের মতানুসারে শপথের অর্থবোধক শর্তযুক্ত তালাককে বাতিল গণ্য করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।"
📄 শপথের কাফফারা
শপথ ভঙ্গ করলে তার কাফফারা দিতে হবে। শপথের কাফফারা তিন রকমের: ১. দশজন মিসকিনকে মধ্যম মানের খাবার দান করা, যা নিজের পরিবারকে খেতে দেয়া হয়। ২. দশজন মিসকিনকে পোশাক দান করা। ৩. একজন দাস মুক্ত করা। উপরোক্ত তিনটির যে কোনো একটি বেছে নিতে পারবে। এই তিনটার মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নিতে না পারলে, তিন দিন রোযা রাখবে। এটা সকল আলেমের মত। আল্লাহ বলেন: فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسْكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ অর্থ: "তার কাফফারা হচ্ছে দশজন মিসকিনকে মধ্যম ধরনের খাদ্য, যা সাধারণত তোমাদের পরিবারের লোকদেরকে খেতে দাও, অথবা তাদেরকে পোশাক দান করা অথবা একজন দাস বা দাসীকে মুক্ত করা। আর যে ব্যক্তি এগুলো পাবেনা, সে তিন দিন রোযা রাখবে। এটা তোমাদের শপথের কাফফারা, যখন তোমরা শপথ করো। তোমরা তোমাদের শপথ সংরক্ষণ করো। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা শোকর করো।" (সূরা মায়েদা: আয়াত ৮৯)