📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শপথ কত প্রকার ও কি কি

📄 শপথ কত প্রকার ও কি কি


শপথ তিন প্রকার: ১. অপ্রীতিকর শপথ ২. ইচ্ছাকৃত শপথ ৩. মিথ্যা শপথ।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অপ্রীতিকর শপথ ও তার বিধি

📄 অপ্রীতিকর শপথ ও তার বিধি


অপ্রীতিকর শপথ হচ্ছে সেই শপথ, যা অভ্যাসের বশবর্তী হয়ে করা হয় এবং যেখানে শপথ করার কোনো উদ্দেশ্য থাকেনা, বা থাকেও তবে তা তার মনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়। যেমন কোনো ব্যক্তি যখন বলে: "না, আল্লাহর কসম, না, আল্লাহর কসম" বা "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম"। এ ধরনের শপথকারী মিথ্যা বলে থাকলেও তার জন্য কাফফারা দিতে হয়না। কেননা আল্লাহ বলেন: لا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ অর্থ: "আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের অপ্রীতিকর শপথের জন্য পাকড়াও করবেনা, বরং তোমাদের অন্তর যা উপার্জন করেছে, সে জন্য পাকড়াও করবে।" (আল বাকারা: ২২৫)
আয়েশা রা. থেকে বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেন: "অপ্রীতিকর শপথ হচ্ছে মানুষের মুখ দিয়ে শপথ করার উদ্দেশ্য ছাড়াই এমন কথা বের হয়ে আসা, যেমন "না, আল্লাহর কসম" বা "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম"। ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: এই ধরনের শপথকারী মিথ্যা বলে থাকলেও তার কোনো কাফফারা দিতে হয়না। কেননা শপথ করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিলনা। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ আলেমের মত হচ্ছে, এ ধরনের শপথকারী মিথ্যা বলে থাকলে তার জন্য কাফফারা দিতে হবে। এ মতটি উমর ইবনুল খাত্তাব, ইবনে উমর, আলী, ইবনে মাসউদ, উম্মে সালমা, সাঈদ বিন মুসাইয়াব, শুরাইহ, শা'বী, ইবরাহিম নাখয়ি, আবু হানিফা, আহমদ ও ইসহাকের। ইমাম মালিক বলেছেন: যে ব্যক্তি তার অতীত সম্পর্কে শপথ করে, সে যদি তা জানে এবং ইচ্ছা করেই মিথ্যা বলে, তাহলে তার জন্য কাফফারা দিতে হবে। আর যদি সে তা না জানে, তাহলে কাফফারা দিতে হবেনা। কারণ তার শপথ করার কোনো উদ্দেশ্য ছিলনা। আর যে ব্যক্তি তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে শপথ করে, সে যদি তা জানে এবং ইচ্ছা করেই মিথ্যা বলে, তাহলে তার জন্য কাফফারা দিতে হবে। আর যদি সে তা না জানে, তাহলে কাফফারা দিতে হবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ইচ্ছাকৃত শপথ ও তার বিধি

📄 ইচ্ছাকৃত শপথ ও তার বিধি


ইচ্ছাকৃত শপথ হচ্ছে সেই শপথ, যা কোনো কাজ ভবিষ্যতে সম্পাদন বা বর্জন করার জন্য করা হয়। এই ধরনের শপথকে ইয়া'মিনুল মুনাকিদা বলা হয়। এই শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন: لا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَدْتُمْ أَيْمَانَكُمْ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسْكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ অর্থ: আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের অপ্রীতিকর শপথের জন্য পাকড়াও করবেনা, বরং তোমাদের অন্তর যা উপার্জন করেছে, সে জন্য পাকড়াও করবে।" (আল মায়েদা: আয়াত ৮৯)
এখানে "বাকি শপথ" এর অর্থ হচ্ছে ইচ্ছাকৃত শপথ। এই শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 মিথ্যা শপথ ও তার বিধি

📄 মিথ্যা শপথ ও তার বিধি


মিথ্যা শপথ হচ্ছে সেই শপথ, যা অতীতের কোনো ঘটনা সম্পর্কে মিথ্যা বলার জন্য করা হয়। এই ধরনের শপথকে ইয়া'মিনুল গামূস বলা হয়। এটা কবীরা গুনাহ। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সাথে শরিক করা, পিতা মাতার অবাধ্য হওয়া, মিথ্যা শপথ করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে হত্যা করা।" (বুখারি, মুসলিম)
ইমাম শাফেয়ি, আহমদ ও অন্যান্য আলেমের মতে, এই শপথের জন্য কাফফারা দিতে হয়না। কেননা এটা এত বড় গুনাহ যে, কাফফারা দ্বারা তা মোচন হয়না। এতে তওবা ও আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা অপরিহার্য। হানাফি ও মালেকিদের মতে, এ শপথের জন্য কাফফারা দিতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00