📄 যার নামে শপথ করা হয় তার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য না থাকলে
আল্লাহর সৃষ্টির নামে শপথ করা নিষিদ্ধ, চাই তা সম্মানিত সৃষ্টি হোক, যেমন নবী ও ফেরেশতা, অথবা অ-সম্মানিত সৃষ্টি হোক। তবে যদি শপথকারী আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করার সময় তার প্রতি ভক্তি বা শ্রদ্ধার উদ্দেশ্য পোষণ না করে, যেমন কাবা ঘরের নামে শপথ করা বা আমানতের নামে শপথ করা, তখন হারাম হবেনা। এ সম্পর্কে আহমদ ও আবু দাউদ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি কসম খাবে, সে যেন আল্লাহ ছাড়া আর কারো নামে কসম না খায়। কুরাইশরা তাদের পিতাদের নামে শপথ করতো। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমাদের পিতাদের নামে শপথ করো না।" আর কুরাইশরা "আমানতের" নামে শপথ করতো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: "আমানতের নামে শপথ করো না।" অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করে, সে যদি মনে করে, যার নামে সে শপথ করছে, তারও ইবাদত করা জায়েয, তাহলে তার উপর শিরকের গুনাহ বর্তাবে। আর যদি এমন মনে না করে, তবে গুনাহ হবেনা। কেবল হারাম কাজ করবে। এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে সমস্ত হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায়।
📄 সৃষ্টির নামে শপথ করা
ফকিহগণ একমত, সৃষ্টিজীবের নামে শপথ করলে সে শপথ কাফফারার যোগ্য হবে না। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি কসম খাবে সে যেন আল্লাহ ছাড়া আর কারো নামে কসম না খায়।" অন্য রেওয়ায়াতে আছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম খায়, সে শিরক করে।" এতে কোনো কাফফারা নেই। এটা ইমাম মালেকের অভিমত। অন্যান্যদের মতে, এতেও কাফফারা রয়েছে। তবে প্রথম মতটাই সঠিক।
📄 শপথের শর্ত ও উপাদান
শপথের কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত আছে। শপথকৃত কাজটা ভালো বা বৈধ হওয়া, গুনাহর কাজ বা হারাম না হওয়া জরুরি। শপথকারীকে শপথ করার সময় সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক ও স্বাধীন ক্ষমতার অধিকারী হওয়া জরুরি। তাকে শপথের উপর অটল থাকা ও তার প্রতি দায়বদ্ধ থাকা জরুরি। শপথের কাফফারা সম্পর্কিত আলোচনায় বিশদ বিবরণ আসবে।
📄 শপথ সম্পর্কে শরিয়তের বিধি
মহান আল্লাহ কোরআনে বিভিন্ন ধরনের শপথের উল্লেখ করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শপথ করার বিধান দিয়েছেন। শপথ যদি এমন হয় যে, শপথকারী যা শপথ করেছে তা করার বা না করার ব্যাপারে তার স্বাধীনতা আছে, তাহলে শপথ কার্যকর হবে এবং তাকে শপথের উপর অটল থাকতে হবে। যেমন, যদি বলে: আল্লাহর কসম, আমি অমুক কাজটা করবো। শপথ করার পর সে কাজটা করলে গুনাহ হবেনা। আর শপথ করার পর যদি সে কাজটা না করে, তবে কসম ভাঙার গুনাহ হবে এবং কাফফারা দিতে হবে। তবে যদি শপথ এমন হয় যে, শপথকারী যা শপথ করেছে তা করতে বাধ্য, তাহলে শপথ কার্যকর হবে। সে যদি তা করে তবে কসম ভাঙার গুনাহ হবেনা, কাফফারাও দিতে হবেনা। আর যদি সে তা না করে, তবে কসম ভাঙার গুনাহ হবে এবং কাফফারা দিতে হবে। কারণ, সে যা শপথ করেছে, তা করা তার জন্য ওয়াজিব ছিলো। আর যদি শপথ এমন হয় যে, শপথকারী যা শপথ করেছে তা করা তার জন্য হারাম, তাহলে শপথ কার্যকর হবেনা। সে যদি তা করে তবে গুনাহগার হবে। কসম ভাঙার গুনাহ হবেনা, কাফফারাও দিতে হবেনা। আর যদি সে তা না করে, তবে কসম ভাঙার গুনাহ হবেনা, কাফফারাও দিতে হবেনা। কেননা সে যা শপথ করেছে, তা করা তার জন্য হারাম ছিলো। আর যদি শপথ এমন হয় যে, শপথকারী যা শপথ করেছে তা করা তার জন্য বৈধ, তাহলে শপথ কার্যকর হবে। সে যদি তা করে তবে গুনাহ হবেনা, কাফফারাও দিতে হবেনা। আর যদি সে তা না করে, তবে কসম ভাঙার গুনাহ হবে এবং কাফফারা দিতে হবে।