📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শপথের বিভিন্ন রূপ

📄 শপথের বিভিন্ন রূপ


শপথ তিন ধরনের: ১. এমন শপথ যা কাফফারার যোগ্য। এই শপথ আল্লাহর নামে অথবা তাঁর কোনো গুণের নামে অথবা তাঁর এমন কোনো নামে করা হয়, যা আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য প্রযোজ্য নয়। যেমন- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, রাহমান ইত্যাদি। ২. এমন শপথ যা কাফফারার যোগ্য নয়। যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টির নামে শপথ করা। ৩. এমন শপথ যা আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের প্রতি অসদাচরণ। এ ধরনের শপথ করলে কাফফারাও দিতে হয়না, কোনো গুনাহও হয়না।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নিজেদের অমুসলিম বা ইসলাম বহির্ভূত গণ্য করা হয় এমন শপথ করলে

📄 নিজেদের অমুসলিম বা ইসলাম বহির্ভূত গণ্য করা হয় এমন শপথ করলে


কেউ যদি এরূপ শপথ করে যে, আমি যদি মিথ্যা বলি, তবে আমি কাফের। আমি আল্লাহর উপর কুফরি করবো। রসূলুল্লাহ সা. এর প্রতি অস্বীকার করবো অথবা আমার উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে শপথ করে এবং বলে আমি যদি মিথ্যা বলি, তবে আমি ইহুদি অথবা খৃষ্টান। সে সত্য সত্যই ইহুদি বা খৃষ্টান হবে।" (আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)
তবে এ হাদিস থেকে এ সিদ্ধান্ত টানা যায়না যে, যার মুখ থেকে এরূপ কথা বের হবে সে সত্য সত্যই ইহুদি বা খৃষ্টান হয়ে যাবে। এর অর্থ হচ্ছে, তার উচিত এরূপ কথা বলা থেকে বিরত থাকা, কেননা এতে কুফরের সঙ্গে সাদৃশ্য সৃষ্টি হয়। সে যদি তা পরিহার করে চলে, তাহলে ভালো। নচেত মাকরূহ কাজ করলো। এই ধরনের শপথকে ইয়া'মিনুল ফিগার বলা হয়। ফকিহগণ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন: শপথকারী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলবে। এটা একটা কবীরা গুনাহ। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "মানুষের মাঝে কুফরি ও ঈমানের মধ্যবর্তী জিনিস হচ্ছে নামায ত্যাগ করা।" এটি আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত।
এ হাদিসের অর্থ হচ্ছে যে ব্যক্তি কোনো কাজ করার শপথ গ্রহণ করে, সে যদি তা করে তবে সে কাফের। যদি সে তা না করে তবে সে মুমিন। এটা সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে বিশ্বাস করে, আল্লাহর নামে শপথ করার পর তা ভঙ্গ করলে কাফের হতে হয়। কিন্তু এ ধরনের বিশ্বাস যে পোষণ করেনা, তার ক্ষেত্রে এরূপ শপথ দ্বারা কেউ কাফের হবেনা। এটা ইবনুল মুনযির, ইবনুল আরাবি, ইবনে তাইমিয়া ও ইাইয়েমের মত। তাদের যুক্তি হলো, ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলক্রমে কেউ যদি কুফরি কথা উচ্চারণ করে, তাকে কাফের গণ্য করা যাবেনা। যতক্ষণ সে আন্তরিকভাবে কুফরি গ্রহণ না করে, তার মন তার প্রতি প্রশান্তি লাভ না করে এবং তার ইচ্ছা তার উপর দৃঢ় না হয়। আল্লাহ সূরা নাহলের ১০৬ নং আয়াতে বলেছেন: "যাকে কুফরি কথা বলতে বাধ্য করা হয়, অথচ তার মন ঈমানের উপর অবিচল, তার জন্য নয়। কিন্তু যে ব্যক্তি কুফরির জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখে তার উপর আল্লাহর গযব আপতিত হবে।"

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো নামে শপথ করা নিষিদ্ধ

📄 আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো নামে শপথ করা নিষিদ্ধ


আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা হারাম। যেমন কোনো নবী, ফেরেশতা, অথবা অন্য কোনো মানুষের নামে শপথ করা। ইবনে উমর রা. থেকে বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি কসম খাবে, সে যেন আল্লাহ ছাড়া আর কারো নামে কসম না খায়।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম খায়, সে কুফরি করলো বা শরিক করলো।" আবু দাউদ ও তিরমিযি বর্ণনা করেন: ইবনে উমর রা. তার পিতা উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম খায়, সে শিরক করে।" এ বিষয়ে ইমাম শওকানি বলেছেন: এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো বিভিন্ন ভাষায় বর্ণিত হয়েছে এবং এগুলো সর্বসম্মতভাবে অকাট্য প্রমাণ করে যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা নিষিদ্ধ। এতে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 যার নামে শপথ করা হয় তার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য না থাকলে

📄 যার নামে শপথ করা হয় তার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য না থাকলে


আল্লাহর সৃষ্টির নামে শপথ করা নিষিদ্ধ, চাই তা সম্মানিত সৃষ্টি হোক, যেমন নবী ও ফেরেশতা, অথবা অ-সম্মানিত সৃষ্টি হোক। তবে যদি শপথকারী আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করার সময় তার প্রতি ভক্তি বা শ্রদ্ধার উদ্দেশ্য পোষণ না করে, যেমন কাবা ঘরের নামে শপথ করা বা আমানতের নামে শপথ করা, তখন হারাম হবেনা। এ সম্পর্কে আহমদ ও আবু দাউদ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে ব্যক্তি কসম খাবে, সে যেন আল্লাহ ছাড়া আর কারো নামে কসম না খায়। কুরাইশরা তাদের পিতাদের নামে শপথ করতো। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমাদের পিতাদের নামে শপথ করো না।" আর কুরাইশরা "আমানতের" নামে শপথ করতো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: "আমানতের নামে শপথ করো না।" অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করে, সে যদি মনে করে, যার নামে সে শপথ করছে, তারও ইবাদত করা জায়েয, তাহলে তার উপর শিরকের গুনাহ বর্তাবে। আর যদি এমন মনে না করে, তবে গুনাহ হবেনা। কেবল হারাম কাজ করবে। এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে সমস্ত হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00