📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শপথের সংজ্ঞা

📄 শপথের সংজ্ঞা


আরবী ভাষায় শপথকে ইয়া'মিন বা কসম বলা হয়। ইয়া'মিন অর্থ ডান হাত। যেহেতু আরবের লোকেরা কোনো চুক্তিতে প্রবেশ করার সময় বা চুক্তির উপর দৃঢ়তা প্রদর্শনের জন্য পরস্পর ডান হাত দিয়ে ধরে রাখতো, তাই এর নামকরণ হয়েছে ইয়া'মিন। ইয়া'মিন শব্দটির আরেকটি আভিধানিক অর্থ শক্তি। আর শপথ চুক্তির দৃঢ়তা ও সংকল্পের মজবুতি বুঝায় বলেই এর নাম ইয়া'মিন রাখা হয়েছে। শরিয়তের পরিভাষায় শপথ হলো, কোনো কথা বা কাজকে দৃঢ়ভাবে সম্পাদন বা বর্জন করার জন্য আল্লাহর নাম বা কোনো গুণের উল্লেখ দ্বারা কৃত কসম। এটা ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হোক বা বৈধ হোক, সকল ধরনের কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন কোনো শপথকারী বললো: আল্লাহর কসম, আমি অমুক কাজটা করবো অথবা অমুক কাজটা করবোনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আল্লাহর নাম বা গুণের উল্লেখ ব্যতিত কসম হয়না

📄 আল্লাহর নাম বা গুণের উল্লেখ ব্যতিত কসম হয়না


আল্লাহর নাম বা গুণের উল্লেখ ব্যতিত কোনো কসম হয়না। যেমন- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, অথবা আল্লাহর কসম, অথবা আল্লাহর মহত্ত্বের কসম। কারণ মহান আল্লাহ কোরআনে নিজের নাম দ্বারা কসম করেছেন। আল্লাহ বলেন: আল্লাহ বলেন: وَيَسْتَنبِئُونَكَ أَحَقُّ هُوَ قُلْ إِي وَرَبِّي إِنَّهُ لَحَقٌّ وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ অর্থ: তারা তোমার নিকট জানতে চায়, এটা কি সত্য? তুমি বলো, হ্যাঁ, আমার প্রভুর কসম, এটা অবশ্যই সত্য। তোমরা তা প্রতিরোধ করতে পারবেনা।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শপথের বিভিন্ন রূপ

📄 শপথের বিভিন্ন রূপ


শপথ তিন ধরনের: ১. এমন শপথ যা কাফফারার যোগ্য। এই শপথ আল্লাহর নামে অথবা তাঁর কোনো গুণের নামে অথবা তাঁর এমন কোনো নামে করা হয়, যা আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য প্রযোজ্য নয়। যেমন- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, রাহমান ইত্যাদি। ২. এমন শপথ যা কাফফারার যোগ্য নয়। যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টির নামে শপথ করা। ৩. এমন শপথ যা আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের প্রতি অসদাচরণ। এ ধরনের শপথ করলে কাফফারাও দিতে হয়না, কোনো গুনাহও হয়না।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নিজেদের অমুসলিম বা ইসলাম বহির্ভূত গণ্য করা হয় এমন শপথ করলে

📄 নিজেদের অমুসলিম বা ইসলাম বহির্ভূত গণ্য করা হয় এমন শপথ করলে


কেউ যদি এরূপ শপথ করে যে, আমি যদি মিথ্যা বলি, তবে আমি কাফের। আমি আল্লাহর উপর কুফরি করবো। রসূলুল্লাহ সা. এর প্রতি অস্বীকার করবো অথবা আমার উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যে শপথ করে এবং বলে আমি যদি মিথ্যা বলি, তবে আমি ইহুদি অথবা খৃষ্টান। সে সত্য সত্যই ইহুদি বা খৃষ্টান হবে।" (আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)
তবে এ হাদিস থেকে এ সিদ্ধান্ত টানা যায়না যে, যার মুখ থেকে এরূপ কথা বের হবে সে সত্য সত্যই ইহুদি বা খৃষ্টান হয়ে যাবে। এর অর্থ হচ্ছে, তার উচিত এরূপ কথা বলা থেকে বিরত থাকা, কেননা এতে কুফরের সঙ্গে সাদৃশ্য সৃষ্টি হয়। সে যদি তা পরিহার করে চলে, তাহলে ভালো। নচেত মাকরূহ কাজ করলো। এই ধরনের শপথকে ইয়া'মিনুল ফিগার বলা হয়। ফকিহগণ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন: শপথকারী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলবে। এটা একটা কবীরা গুনাহ। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "মানুষের মাঝে কুফরি ও ঈমানের মধ্যবর্তী জিনিস হচ্ছে নামায ত্যাগ করা।" এটি আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত।
এ হাদিসের অর্থ হচ্ছে যে ব্যক্তি কোনো কাজ করার শপথ গ্রহণ করে, সে যদি তা করে তবে সে কাফের। যদি সে তা না করে তবে সে মুমিন। এটা সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে বিশ্বাস করে, আল্লাহর নামে শপথ করার পর তা ভঙ্গ করলে কাফের হতে হয়। কিন্তু এ ধরনের বিশ্বাস যে পোষণ করেনা, তার ক্ষেত্রে এরূপ শপথ দ্বারা কেউ কাফের হবেনা। এটা ইবনুল মুনযির, ইবনুল আরাবি, ইবনে তাইমিয়া ও ইাইয়েমের মত। তাদের যুক্তি হলো, ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলক্রমে কেউ যদি কুফরি কথা উচ্চারণ করে, তাকে কাফের গণ্য করা যাবেনা। যতক্ষণ সে আন্তরিকভাবে কুফরি গ্রহণ না করে, তার মন তার প্রতি প্রশান্তি লাভ না করে এবং তার ইচ্ছা তার উপর দৃঢ় না হয়। আল্লাহ সূরা নাহলের ১০৬ নং আয়াতে বলেছেন: "যাকে কুফরি কথা বলতে বাধ্য করা হয়, অথচ তার মন ঈমানের উপর অবিচল, তার জন্য নয়। কিন্তু যে ব্যক্তি কুফরির জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখে তার উপর আল্লাহর গযব আপতিত হবে।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00