📘 Biggan moy quran > 📄 ডেড সী-লুত সাগর

📄 ডেড সী-লুত সাগর


ডেড সী-লুত সাগর
সাগরটির নাম 'dead sea' অর্থাৎ মৃত সাগর। কারণ এর বুকে কোনো প্রাণী পড়লে তার মৃত্যু অবধারিত। এর পানি অত্যধিক লবণাক্ত। সাধারণত সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা প্রতি লিটারে ৩৫ গ্রাম। কিন্তু ডেড সী-র জলে প্রতি লিটারে ২৪০ গ্রাম নুন বিদ্যমান। অতিমাত্রায় নুন থাকায় এর পানির আপেক্ষিক গুরুত্ব মানুষের পুরো শরীরের আপেক্ষিক গুরুত্বের চেয়ে বেশি। ফলে কোনো বস্তু এর জলে ডুবে না, ভেসে থাকে। ডেড সী-র আঞ্চলিক নাম লুত সাগর। বাইতুল মুকাদ্দাস ও জর্দান নদীর মাঝখানে এ সাগর অবস্থিত। শুষ্ক অঞ্চলে এর অবস্থান হওয়ার ফলে বাষ্পীভবন অর্থাৎ এর জল বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। আর সেখানে বৃষ্টিপাতও হয় না বললে চলে। তাই প্রতিদিনই নদীবাহিত নুন জমে লুত সাগরের পানির নুনের অনুপাত সমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। লবণ খনিতে কোনো প্রাণী পড়লে যেমন স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তা বিলীন হয়ে যায় তেমনি অত্যধিক নুন মিশ্রিত এর পানিতে কোনো জীবজন্তু পড়লে সেটি আর জানে বাঁচতে পারে না। এর পানিতে পটাসিয়াম ক্লোরাইড (KCl), সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড (MgCl₂), সোডিয়াম সালফেট (Na₂SO₄) এবং ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড (CaCl₂) অতিমাত্রায় রয়েছে।

আল্লাহ তাআলার বিশিষ্ট নবী হযরত লুত (আঃ) এর জাতির বসবাসস্থল ছিল লুত সাগর জায়গাটি। এ জাতির লোকেরা বিভিন্ন পাপ কাজে জড়িত ছিল। এরা অস্বাভাবিক যৌনকর্ম, লুটপাট, এবং গর্হিত কাজে মশগুল থাকত। এ রকম বেপরোয়া সীমা অতিক্রমকারী সম্প্রদায়কে শাস্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহ পাক যমীনকে উল্টে দিয়ে বজ্রপাত ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদেরকে মাটির গভীরে প্রোথিত করেন। এর সঙ্গে তাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করেন। আর লুত সাগরটি ভবিষ্যৎ মানব জাতির জন্য দৃষ্টান্তস্থল হিসেবে স্থায়ী চিহ্ন করে দেন। কারণ লুত সাগরস্থ জায়গাটিতেই সংঘটিত হয়েছিল আল্লাহ তাআলার ভয়ানক শাস্তির ধ্বংসযজ্ঞ যা কোরানের বিভিন্ন আয়াতে বর্ণিত আছে,

وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ الْعَالَمِينَ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّنْ دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ
We also sent Lut; He said to his people, "Do you commit Lewdness such as no people in creation committed before you? For you practise your lusts on men preference to women, you are indeed a people transgressing beyond bounds.
আমরা লুত (আঃ) কে প্রেরণ করেছি, তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন "তোমরা কি এমন কাজ করছ যা তোমাদের পূর্বে সৃষ্টি জগতে কেউ করেনি? তোমরা কাম প্রবণতা চরিতার্থ করার জন্য পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদের ছেড়ে; প্রকৃতপক্ষে তোমরা সীমা লঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। (আরাফ ৮০-৮১)

فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِّنْ سِجِيلٍ مَّنْضُودٍ
When Our decree issued We turned it upside down and rained down on them stones of clay, spread layer on layer.
যখন আমাদের হুকুম জারি হলো, তখন আমরা উক্ত জনপদকে উল্টে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। (হুদ-৮২)

📘 Biggan moy quran > 📄 ফেরাউনের দেহ

📄 ফেরাউনের দেহ


ফেরাউনের দেহ

وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودَةً بَغْيًا وَعَدُوا حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ أَمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُوا إِسْرَائِيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ التَّنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ.
We took the Bani Isreal across the sea, pharaoh and his hosts followed them in insolence and spite. At length, when overwhelemd with the flood, he said, I believe that there is no God except Allah whom the Bani Israel believe in. I am of those who submit to Allah" It was said to him, Ah, now! But a little while before was you in rebellion and you did mischief and violence!
আমরা বনি ইসরাইলদের নদী পার করে দিলাম এবং ফেরাউন ও তার বাহিনী বিদ্বেষ প্রসূত ঔদ্ধত্য নিয়ে তাদেরকে পশ্চাদ্ধাবন করছিল। অবশেষে যখন সে নিমজ্জিত হল তখন বলল "আমি ঈমান আনলাম সে-ই আল্লাহর উপর যিনি ছাড়া আর (কোন প্রভু) নেই, যার উপর বনি ইসরাইলগণ বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত। তাকে বলা হল, এখন কেন! পূর্বে তুমি তো অমান্যকারী ছিলে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে!

প্রায় তিন হাজার বৎসর পূর্বে, মিশর রাজ্যের শাসক ছিল ফারাও। কোরআনে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে ফেরাউন। মিশর প্রত্নতত্ত্ববিদ ও গবেষকগণ সে সময়কার ফেরাউনের নাম মারনেপতাহ বলে উল্লেখ করেছেন। শাসক হিসেবে ফেরাউন ছিল দুর্দণ্ড প্রতাপ সমৃদ্ধ স্বৈরাচার (Autocrat)। দম্ভ, অহংকার আর ঔদ্ধত্য মনোভাব তার কথা ও কাজে প্রকাশ পেত। এমন কি মানবীয় বৈশিষ্ট্যের সীমা অতিক্রম করে একদিন নিজেকে সে রব (انا الرب) ঘোষণা করে বসল। এ অবস্থায় আল্লাহ তাআলা তাঁর বিশিষ্ট নবী মুছা (আঃ) কে নির্দেশ দেন, ফেরাউনের দরবারে গিয়ে তাওহীদের দাওয়াত পেশ করার জন্য,

إِذْهَبَ إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى.
Now, go you to pharaoh, for he has indeed transgressed all bounds.
এখন তুমি (মুছা-আঃ) ফেরাউনের কাছে যাও, সে বড় অহংকারী সীমালঙ্ঘনকারী হয়েছে। (ত্বাহা-২৪)

কিন্তু ফেরাউন তাওহীদের দাওয়াত তো গ্রহণ করলই না। বরং মুছা (আঃ) ও তাঁর উম্মতদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে পশ্চাদ্ধাবন করে তাদেরকে নিয়ে গেল নীল নদের তীরে। আল্লাহ পাকের নির্দেশে সাথে সাথে নদের পানি দু'ভাগ হয়ে রাস্তা তৈরী হয়ে গেল। মুছা (আঃ) এবং তাঁর সাথী সঙ্গীরা সে রাস্তা বেয়ে নদের ওপার চলে গেলেন। ফেরাউন এবং তার সৈন্যবাহিনী একই রাস্তা অনুসরণ করে যে-ই মাত্র নদের মাঝখানে আসল, অমনি তরঙ্গের প্রচন্ড ঝাপটা এসে তাদেরকে নিমজ্জিত করে নিল। এমতাবস্থায় ফেরাউন বলল, "আমি মুছা (আঃ)-এর রবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।" তখন আল্লাহপাক বললেন, "তোমাকে অনেক বার তাওহীদের দাওয়াত পেশ করা হয়েছিল, তুমি বরং বার বার ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিলে।

ফেরাউনের মৃতদেহ এখনো সংরক্ষিত আছে কায়রো শহরের তাজবীরে অবস্থিত জাতীয় যাদুঘরের 'রয়াল মমিজ' কক্ষে। মিশরীয় প্রত্নতত্ত্ববিদ লরেট কর্তৃক ১৮৯৮ সালে এটি আবিষ্কৃত হয় এবং দেহটি ফেরাউন মারনেপতাহর বলে শনাক্ত করা হয়। কোরআন যখন অবতীর্ণ হয় তখন ফেরাউন মারনেপতাহর মরদেহ সংরক্ষিত ছিল নীল নদের পাড়ে অবস্থিত থিবিসের নেক্রোপলিস সমাধি ভূমিতে এবং তা মমি করা ছিল। রসায়নবিদ বিস্ময়বোধ করেন এ জন্য যে, কোন রাসায়নিক উপাদানে ফেরাউনের মরদেহ মমি করা হয়েছে যা হাজার হাজার বছর ধরে মৃতদেহটিকে অক্ষত রেখেছে? এ প্রসঙ্গে কোন কোন রসায়ন বিজ্ঞানী বলেছেন, হয়ত তখন ফেরাউনের সাথে জন্ম নিয়েছিল একদল রসায়নবিদ যাদের বিশিষ্ট আবিষ্কারের নিরিখে ফেরাউনের নিষ্প্রাণ অস্তিত্ব এখনো ঠিক আছে। প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ আল-কোরআনে ঘোষণা দিয়েছেন, ফেরাউনের লাশ রক্ষা করা হবে চিরকাল, যাতে সীমালঙ্ঘনকারী শাসক সম্প্রদায় শিক্ষা নিতে পারে।

فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُوْنَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ عَنْ أَيْتِنَا لَغْفِلُونَ.
This day shall we save you (Feraun) in your very body so that you may be a sign to those who come after you. But indeed many among mankind are heedless to our signs.
আজ আমরা কেবল তোমার (ফেরাউন) মৃতদেহকেই রক্ষা করব যাতে তুমি পরবর্তীদের জন্য একটি নিদর্শন হয়ে থাকতে পার। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ আমাদের নিদর্শনের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন। (ইউনুছ-৯২)

📘 Biggan moy quran > 📄 হযরত নূহ (আঃ) এর কিস্তি

📄 হযরত নূহ (আঃ) এর কিস্তি


হযরত নূহ (আঃ) এর কিস্তি
وَحَمَلْتُهُ عَلَى ذَاتِ الْوَاحِ وَدُسُرٍ. تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا جَزَاءً لِمَنْ كَانَ كُفِرَ وَلَقَدْ تَرَكْنَهَا آيَةً فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ.
But We bore him (Hazrat Nuh-A) on an ark made of planks and spikes. It floated under Our eyes, a reward for him who was rejected by them. And We left it (the Ark) as a sign for the coming generations. But is there anyone to receive lesson from it?
আমরা নূহকে কাষ্ঠ ও পেরেক নির্মিত নৌযানে আরোহণ করিয়েছি, যা চলত আমাদের দৃষ্টির সামনে। এটা ছিল তাঁর জন্য প্রতিদান, যাকে তারা (কাফেররা) প্রত্যাখ্যান করেছিল। আমরা একে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিদর্শন করে রেখেছি। অতএব, কেউ কি আছে যে, এ নিদর্শন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে? (কমর-১৩-১৫)

১৯৫০ সালের ঘটনা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) স্থাপিত স্যাটেলাইট তুরস্কের একটি পর্বতের কাছাকাছি স্থান থেকে আসা মানব চক্ষুর আকৃতি বিশিষ্ট একটি বস্তুর ছবি প্রেরণ করে। ছবিটি দেখে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সাড়া পড়ে যায় এ জন্য যে, মানব চক্ষুর ন্যায় বিশাল এ ছবিটি কিসের হতে পারে? স্যাটেলাইট যে স্থান থেকে চিত্রটি তুলেছে তা হচ্ছে তুরস্কের জুদী পর্বতের কাছাকাছি স্থান। এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান ও গবেষণা চালিয়ে দীর্ঘদিনেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি।

অবশেষে মার্কিন তরুণ ভূ-তত্ত্ববিদ ডঃ ভান্দিল জোনস সফলকাম হলেন। তার প্রবল আগ্রহ এবং অনুসন্ধিৎসু মন তাকে নিয়ে গেল জুদী পর্বতের চূড়ায়। মহাগ্রন্থ আল-কোরআন থেকে তিনি একটি তথ্য পেয়ে স্যাটেলাইট কর্তৃক প্রেরিত ছবির বাস্তবতা উপলব্ধি করে নিলেন। কোরআনে বর্ণিত তথ্যটি হচ্ছে, হাজার হাজার বৎসর পূর্বে আল্লাহর নবী নূহ (আঃ) মহাপ্লাবন থেকে আত্মরক্ষার জন্য একটি কিস্তি নির্মাণ করেছিলেন। প্লাবন শেষে কিস্তিটি জুদী পর্বতের চূড়ায় এসে ভিড়েছিল। ডঃ জোনস এ অনুসন্ধানের প্রথম পর্যায়ে তিনি তুরস্কে গিয়ে স্থানীয় প্রবীণ লোকজনের কাছ থেকে হযরত নূহ (আঃ) এবং তাঁর নির্মিত নৌকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে কোরআনে বর্ণিত মহাপ্লাবন সম্পর্কে তথ্য লাভ করে জুদী পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করেন এবং বহু কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি পেয়ে যান। সেটি হযরত নূহ (আঃ) এর কিস্তি। আবিষ্কৃত নৌকাটি ৫০ ফুটেরও অধিক চওড়া এবং দীর্ঘদিন পাহাড়ের অভ্যন্তরে থাকায় এর মূল আকারের বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এখন আল-কোরআন বলছে,
وَقُضِيَ الْأَمْرُ وَاسْتَوَتْ عَلَى الْجُودِي وَقِيلَ بُعْدًا لِلْقَوْمِ الظَّلِمِينَ.
And the matter was ended. The Ark rested on the mount Judi.
এবং কাজ সমাপ্ত হল। আর নৌকাটি জুদী পর্বতের নিকট এসে ভিড়ল। (হুদ-৪৪)

📘 Biggan moy quran > 📄 ইরাম শহর

📄 ইরাম শহর


ইরাম শহর
১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর সংস্করণে 'ন্যাশনাল জিওগ্রাফি' একটি তথ্য পরিবেশন করে, যাতে উল্লেখ করা হয় ১৯৭৩ সালে সিরিয়ায় 'ইবলা' শহর খনন করে আবিষ্কার করা হয়েছে। শহরটি ৩৪ শতাব্দীর পুরাতন এবং এতদিন যাবৎ মাটির নিচে চাপা পড়েছিল। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে আবিষ্কারকগণ ইবলা শহরের গ্রন্থাগারে একটি নথি খুঁজে পান, যাতে ইবলা শহরের লোকেরা যেসব শহরের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করতো তার সবকটির নাম লেখা রয়েছে। উক্ত তালিকায় 'ইরাম' শহরের নামটি ছিল। ইবলা শহরের লোকেরা ইরাম (স্তম্ভের শহর) শহরের ব্যবসায়ীদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে, লেনদেন করেছে। মহান গ্রন্থ আল-কোরআন এ ইরাম শহরের নাম উল্লেখ করে বলেছে, সে-ই শহরের প্রথম আ'দ জাতি, যাদের দৈহিক গঠন ও শক্তি-সাহসে সব জাতি থেকে স্বতন্ত্র ছিল। এত দীর্ঘকায় জাতি আল্লাহ তা'আলা ইতিপূর্বে সৃষ্টি করেননি। কিন্তু তাদের অন্যায় কর্মের দরুন তাদেরকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়েছিল।
কোরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ইরাম শহর সম্পর্কে কিছুই জানত না। এমন কি কোনো প্রাচীন ইতিহাসেও এ বিষয়ে কিছুই লিপিবদ্ধ ছিল না। জ্ঞানের মহান উৎস আল-কোরআন প্রত্নতত্ত্ববিদ্যার তথ্যসমূহ প্রকাশ করে বিজ্ঞানের এ শাখাটিকে বর্তমানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে।

اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ . إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ . الَّتِي لَمْ يُخْلَقُ مِثْلُهَا فِي الْبَلَادِ .
See you not how your Lord dealt with 'Ad of the city of Iram, with lofty pillars.
আপনি কি লক্ষ্য করেন না আপনার প্রভু আ'দ গোত্রের ইরামবাসীদের সাথে কী আচরণ করেছেন, যাদের দৈহিক গঠন ছিল স্তম্ভের ন্যায় দীর্ঘ। (ফজর-৬-৭)
কোনো কোনো তাফসীরবিদ বলেছেন, ইরাম আ'দ-তনয় শাদ্দাদ নির্মিত বেহেশতের নাম। কেননা এ অনুপম প্রাসাদটি বহু স্তম্ভের উপর দণ্ডায়মান এবং স্বর্ণ-রৌপ্য দ্বারা নির্মিত ছিল, যাতে মানুষ পরকালের বেহেশতের পরিবর্তে এ নগদ বেহেশতটির প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাই এ বিরাট প্রাসাদের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর যখন শাদ্দাদ সভাসদসহ এ নকল বেহেশতে প্রবেশ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে, অমনি আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তি উপস্থিত হয়। ফলে সবাই আযাবে নিপতিত হয় এবং কৃত্রিম বেহেশতটিও মাটির গভীরে তলিয়ে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00