📘 Biggan moy quran > 📄 পানির ঘূর্ণন প্রকৃতি

📄 পানির ঘূর্ণন প্রকৃতি


পানির ঘূর্ণন প্রকৃতি

সব সমুদ্রের মোট পানির পরিমাণ পৃথিবীর আয়তনের তুলনায় কম হলেও আমাদের কাছে বিস্ময়ের বিষয়। প্রায় ১৩৭ কোটি ঘন কিলোমিটার পানি (137,00,00,000 km³) আর তা পৃথিবীর পিঠে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু পানির স্তর তৈরী করেছে। এ বিশাল আয়তনের পানির ভান্ডার, সাগর-মহাসাগরে, নদ-নদীতে, খাল-বিলে, বায়ুমন্ডলে এবং ভূ-গর্ভের বিভিন্ন স্তরে পাক খাচ্ছে। সাগর, মহাসাগরের পানি বাষ্পীয়ভবনের মাধ্যমে উপরে ওঠে এবং জলীয় কণায় ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরী করে। এরপর বৃষ্টিধারায় ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসে। বৃষ্টির পানি কিছু পরিমাণ ভূ-গর্ভে সংরক্ষিত হয়। অবশিষ্ট পানি নদ-নদীর দিকে প্রবাহিত হয়। ভূ-গর্ভের পানি বিশুদ্ধ এবং গভীর নলকূপের মাধ্যমে উত্তোলন করে মানুষ তা স্বাচ্ছন্দে পান করে। পানির ঘূর্ণন চক্রের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা সাগর মহাসাগরের লবণাক্ত ও ক্ষারযুক্ত পানি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় পরিশুদ্ধ করে উপরে তোলেন, যার মধ্যে কোন প্রকার আবর্জনা ও জীবাণু থাকতে পারে না। যাকে বলা হয় পাতিত পানি। এভাবে সৃষ্টির শুরু থেকে সমগ্র পানি আকাশ ও যমীনের মধ্যে চক্রাকারে ঘুরছে। তার কোন ক্ষয় নেই, ধ্বংস নেই। তবে রূপান্তর আছে। পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটে। তাই কোন অঞ্চলের তাপমাত্রা ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে যখন মাইনাসের দিকে যায় তখন সে অঞ্চলের সমস্ত পানি বরফে পরিণত হয়। আবার যে অঞ্চলের তাপমাত্রা ১০০° সেলসিয়াসে উঠে, সে অঞ্চলের পানি বাষ্পে পরিণত হয়। সাগর-মহাসাগর থেকে প্রতি বছর অন্তত ৩২০,০০০ km³ পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উড়ে যায় ৬০,০০০ km³। তাহলে মোট ৩৮০,০০০ km³ পানি প্রতি বৎসর বাষ্পে পরিণত হয়। কিন্তু তার মধ্য থেকে ২৮৪,০০০ km³ পানি সাগর মহাসাগরে পুনরায় ফিরে আসে। বাকী ৯৬,০০০ km³ পানি ঝর্ণাধারায় সাগরে গিয়ে পড়ে। এভাবে আকাশ ও যমীন ব্যাপী পানির ঘূর্ণন প্রক্রিয়া চলে।

পানির ঘূর্ণন প্রকৃতি সম্পর্কে আল-কোরআন বলছে,
وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً بِقَدْرٍ فَاسْكَنْهُ فِي الْأَرْضِ وَإِنَّا عَلَى ذَهَابِهِ لَقَدِرُونَ
And We send down water from the sky according to some known measure and We store it also in the earth and surely We are able to drain it off.
আমরা আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করি পরিমিতভাবে। অতঃপর তা যমীনে সংরক্ষণ করি। আমরা তা আবার অপসারণ করতেও সক্ষম। (মুমিনুন-১৮)

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَلَكَهُ يَنَابِيعُ فِي الْأَرْضِ
See you not that Allah sends down rain from the sky and leads it through springs in the earth?
তোমরা কি দেখ না যে, আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তা যমীনে ঝর্ণাধারায় প্রবাহিত করেন। (যুমার-২১)

وَهُوَ الَّذِي أَرْسَلَ الرِّيحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَى رَحْمَتِهِ وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا . لِنُحْيِ بِهِ بَلْدَةً مَيْتًا وَنُسْقِيَهُ مِمَّا خَلَقْنَا أَنْعَامًا وَأَنَاسِي كَثِيرًا . وَلَقَدْ صَرَفْنَهُ بَيْنَهُمْ لِيَذَّكَّرُوا فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُورًا .
And He it is Who sends the winds as heralds of glad tidings going before His mercy and We send down pure water from the sky.
That with We may give life to a dead land and slake the thirst of things We have created-cattle and men in great numbers.
And We have distributed the water among them, in order to that they may celebrate Our praises but most men are averse to aught but rank ingratitude.
তিনি আল্লাহ, যিনি সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন রহমত স্বরূপ এবং আকাশ থেকে বিশুদ্ধ বারি বর্ষণ করেন।
তা দ্বারা মৃত ভূমিকে সঞ্জীবিত করেন এবং সৃষ্টিকুলের জীবজন্তু ও বহুসংখ্যক মানুষের তৃষ্ণা নিবৃত্ত করেন। এবং আমাদের বর্ষিত বারি আমরা বিভিন্নভাবে বিতরণ করি। যাতে তারা আমাদের মহিমা প্রচারে মশগুল থাকে। কিন্তু অধিকাংশ লোক অকৃতজ্ঞতা ছাড়া কিছুই করে না। (ফুরকান-৪৮-৫০)

قُلْ أَرَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَا كُمْ غَوْرًا فَمَنْ يَاتِيْكُمْ بِمَاءٍ مَعِينٍ.
Say, tell me if all your water were to disappear who then will bring you clear flowing water?
আচ্ছা বলতো, যদি সমস্ত পানি তোমাদের নাগালের বাইরে অপসারিত করি তবে কে তোমাদের এনে দিতে পারে সে পানির প্রবাহ? (মুলক-৩০)

ভূ-গর্ভস্থ পানির প্রবাহ হ্রাস পেলে গভীর নলকূপ দ্বারাও পানির নাগাল পাওয়া যায় না। আল্লাহ তা'আলা উপরোক্ত আয়াতসমূহে পানির ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তা খুবই স্পষ্ট এবং প্রমাণিত সত্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00