📘 Biggan moy quran > 📄 মাকড়সা, পাখি, উট, আনআম, ঘোড়া, খচ্চর, গাধা

📄 মাকড়সা, পাখি, উট, আনআম, ঘোড়া, খচ্চর, গাধা


মাকড়সা (The spider)
আল কোরআনে মাকড়সার (spider) উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে যুক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে। সর্বোত্তম আল্লাহপাকের অস্তিত্ব উপলব্ধি করা যায় এ যুক্তির মর্মার্থ থেকে। কেননা সপ্তম শতাব্দীতে মাকড়সার বাসা নির্মাণ কৌশল মানুষের জ্ঞানের আওতায় ছিল না। মাকড়সার বাসার দুর্বলতা এবং ভঙ্গুরতা সকলেই উপলব্ধি করতে পারেন। অথচ তারা এ অনিশ্চিত বাসস্থানকে আশ্রয়স্থল হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। কোরআনের বক্তব্য হলো, যারা আল্লাহ ব্যতিরেকে অন্য কাউকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করে কিংবা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশী স্থাপন করে তাদের অবস্থানও মাকড়সার বাসস্থানের মতো দুর্বল ও ভঙ্গুর।
مَثَلُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ أَوْلِيَاءَ كَمَثَلِ الْعَنْكَبُوْتِ اتَّخَذَتْ بَيْتًا وَإِنَّ أَوْهَنَ الْبُيُوتِ لَبَيْتُ الْعَنْكَبوتِ.
The parable of those who take patrons other than Allah is that of the spider who builds to herself a house; but truly the frailest of houses is the Spider's house, if they but knew.
যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে তাদের রক্ষক হিসেবে গ্রহণ করে তাদের অবস্থা সেই মাকড়সার মতো, যে নিজের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে। সত্যি বলতে কি মাকড়সার ঘর হলো খুবই ভঙ্গুর আবাসস্থল। কিন্তু তারা যদি তা জানত। (আনকাবুত-৪১)
আল্লাহপাকের সৃষ্টি জগতে মাকড়সার বাসস্থান অতি বিস্ময়কর নিদর্শন। এরা জাল বুনে দু'টি উদ্দেশ্যে:
১। আশ্রয় গ্রহণের উদ্দেশ্যে।
২। খাদ্য শিকারের উদ্দেশ্যে।
এ ছোট্ট প্রাণীর শরীরে আছে সিল্ক গ্রন্থি (Silk glands)। এ গ্রন্থি থেকে এক ধরনের চটচটে আঁঠালো রস বের হয়। যা শরীরের পেছনে অবস্থিত অতি সূক্ষ্ম নল দিয়ে বেরিয়ে আসে। বাতাস লাগার সাথে সাথে তা শুকিয়ে সুতার মতো সরু হয়ে যায়। এ সুতা দিয়েই মাকড়সা জাল তৈরি করে। জাল তৈরির পদ্ধতি অতিশয় অভিনব, যার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্যাটার্ন ও জ্যামিতিক গঠন-কাঠামো দর্শনে সকলেই মুগ্ধ হয়ে যান। জাল তৈরির জন্য মাকড়সা প্রথমে একটি ভালো জায়গা পছন্দ করে নিয়ে বৃত্তের কেন্দ্রের মতো একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে সাইকেলের স্পোকের মতো সরলরেখা ছড়িয়ে দেয়। তারপর সুতাগুলি দিয়ে চক্রাকারে চাকা তৈরি করে। এভাবে জাল বোনা শেষ হয় এবং সে জালের ভেতর থেকে একটা সুতা নিয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে সুতাটা ধরে বসে থাকে শিকারের অপেক্ষায়। জালে কোন পোকা পড়লে তখন মাকড়সার হাতে ধরা সুতায় টান পড়ে। এ টান পড়ার সাথে সাথে সে জালের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে এবং আরও জাল তৈরি করে চতুর্দিক থেকে পোকাটাকে জড়িয়ে ফেলে এবং হুল ফুটিয়ে পোকাটাকে মেরে খেয়ে ফেলে। আবার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা প্রতিকূল অবস্থায় অথবা বিশ্রাম গ্রহণের জন্য মাকড়সা জালের নিচে আশ্রয় গ্রহণ করে যদিও এটা ক্ষণস্থায়ী ও দুর্বল বাসস্থান। সুমহান আল্লাহপাক এ ধরনের বাসস্থানের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন ঐসব নির্বোধ লোকের জন্য যারা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেছে।
[একটি বিষয় জেনে রাখতে হবে শুধু মেয়ে মাকড়সাই জাল বুনতে পারে। সেজন্য পবিত্র কোরআনে 'আনকাবুত' শব্দটি Feminine gender হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।]

পাখি (The Bird):
وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَيْرِ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ
There is not an animal in the earth, nor a flying creature that flies on two wings, but are communities like you.
পৃথিবীতে এমন কোন প্রাণী নেই এমন কোন পাখি নেই, যারা তোমাদের মতো গোত্র রচনা করেনি। (আনআম-৩৮)
এ আয়াতটি এখানে আবার টেনে এনেছি একটি প্রাণীর উপর আলোচনা পেশ করার জন্য। এটি হলো পাখি যা আল্লাহ তাআলার বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সৃষ্টির মধ্যে একটি। আয়াতে Flying creature এর অর্থ পাখি এবং যেসব কীটপতঙ্গ উড়তে পারে তাদেরকে বোঝানো হয়েছে। পাখি সম্পর্কিত আলোচনা অন্যান্য অধ্যায়ে করা হয়েছে। এখানে পাখির Community সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হবে।
পাখি পৃথিবীর সর্বত্র ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট মেরুদণ্ডী প্রাণীদের এক শ্রেণী Aves এর বর্তমানে জীবিত প্রায় ৯০২২টি প্রজাতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। উড়বার ক্ষমতাহীন একদল বড় আকারের পাখিকে সামগ্রিকভাবে র‍্যাটাইটিস (Ratites) বলা হয়। উটপাখি, এমু (Emu), রিয়া (Rhea), কিউই (Kiwi) এবং টিনামোয়াস (Tinamous) সহ এসব পাখি একই গোত্র থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়। এরা প্রজনন ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। ডিম দেয়। বাচ্চা দেয় এবং এদের বলয়ে একটা সমাজ বা গোষ্ঠীবদ্ধ জীবন (Community) সৃষ্টি করে।
আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে যেসব পাখি তাদেরকে পরিযায়ী পাখি (Migratory birds) বলা হয়। পাতারি হাঁস (Common teal), পীং-হাঁস (Gadwall), ছোট লালশির (Wigeon), গিরিয়া হাঁস (Blue winged teal), পান্তামুখী (Shoveller), রাঙামডি (Red crested pochard), ভতি হাঁস (White eyed pochard), বামুনিয়া হাঁস (Tufted duck), চকা-চকি (Ruddy shelduck), কোয়েল (Quail), ইন্ডিগো বান্টিংস (Indigo buntings) এবং বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর মাইগ্রেটরী পাখি হিসেবে পরিচিত। এরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পরিযান করে এবং এদের দীর্ঘ উড়ন যাত্রায় একটি সামাজিক বন্ধন কাজ করে। এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, পরিযায়ী পাখিরা দলবদ্ধ হয়ে আকাশ পথে ভ্রমণ করে এবং একে অপরের সাথে ভাষা ও ভাব বিনিময় করে। ভাষা বলতে আমরা যে ভাষায় কথা বলি পাখিরা সেভাবে কথা বলতে পারে না। এরা নিজেদের মধ্যে ভাব আদান প্রদান করে আকার ইঙ্গিতে এবং পরস্পরকে বোঝার ক্ষমতা এদের আছে। এরা কতগুলি শব্দ, কিছু হাবভাব দিয়ে নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করে। পরিযায়ী পাখি সম্পর্কিত আলোচনা দেখুন পরিশিষ্ট-৯-এ।

উট (The Camel)
Artiodactyla বর্গের Camelidae গোত্রের দু'টি স্তন্যপায়ী প্রজাতির সাধারণ নাম হলো উট। এ দু'টি প্রজাতির একটি ব্যাকট্রিয়ান উট (Camelus bactrianus) এবং অপরটি আরবীয় বা ড্রোমেডারি উট (C. dromedarius) উভয়েই গৃহপালিত। ব্যাকট্রিয়ান উট ড্রোমেডারি উটের তুলনায় বেশি শক্তিশালী এবং দেহের গঠনও অপেক্ষাকৃত ভারী ও মজবুত। ভারবাহী পশু হিসেবে এরা বেশি উপযুক্ত। তাই এদের বলা হয় Ship of the desert। এদের পিঠে থাকে চর্বিযুক্ত কলায় (tissue) তৈরি দু'টি কুঁজ। একটি ঘাড়ের উপর অপরটি পিঠের কিছুটা পশ্চাদভাগে।
আরবীয় উট ব্যাকট্রিয়ান উটের চেয়ে লম্বা এবং পিঠে একটিমাত্র কুঁজ থাকে। মরুভূমিতে এ প্রজাতির দু'টি পৃথক জাত লক্ষ্য করা যায়। একটি প্রধানত ভারবাহী, পণ্য দ্রব্যাদি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। অপরটি সামান্য হালকা গড়নের, দ্রুত দৌড়াতে অভ্যস্ত। আরবীয় উট মরুজীবনের জন্য চমৎকারভাবে অভিযোজিত। এদের প্রশস্ত পদ বালির উপর চলাচলের জন্য যেমন উপযুক্ত, তেমনি নাসারন্ধ্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ক্ষমতা এবং সংরক্ষণ করার উপযোগী।
উটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরীরবৃত্তীয় অভিযোজন হলো এদের দেহে পানি সংরক্ষণ ক্ষমতা। এটা মনে রাখতে হবে উট পানি মজুদ করে না বরং সংরক্ষণ করে। এ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া খুবই বিস্ময়কর। Duke University'র প্রফেসর Kunt S. Nielson উটের উপর এক গবেষণা কর্ম পরিচালনা করে জানিয়েছেন, উটের নাসারন্ধ্রে পানির অণু গ্রহণকারী এক ধরনের ঝিল্লি (membrane) আছে। এ ঝিল্লি পানির অণু চুষে নিয়ে ধরে রাখে। উট যখন নিঃশ্বাস ছাড়ে এ ঝিল্লি পানির অণু বের হতে দেয় না। অন্য কোন প্রাণীর মধ্যে এ ধরনের কৌশলী ঝিল্লির ব্যবস্থা নেই। উটের নাসারন্ধ্রের মধ্যে এ মেমব্রেন থাকার কারণে তা ৬৮% জলকণা সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। তাই পানি পান না করেও উট অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে এবং সে একসঙ্গে ১৫ গ্যালন (৫৭ লিঃ) পর্যন্ত পানি পান করতে সক্ষম। উটের আর একটি দর্শনীয় কৌশল সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে। মরুভূমিতে যখন ধূলিময় মরুঝড় উত্থিত হয় আর এ মরুঝড়ে কোন প্রাণী পড়লে তখন তার মৃত্যু ছাড়া কোন উপায় থাকে না। কারণ চতুর্দিক থেকে প্রচন্ড বেগে বালির কণা এসে নাক, কান, চোখ আর মুখে প্রবেশ করে তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। তখন শ্বাস রুদ্ধ অবস্থায় মৃত্যু অবধারিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘযাত্রা পথে মরুভূমির উট যখন মরুঝড়ে পড়ে তখন সে হঠাৎ বালির মধ্যে একটা গর্ত করে বসে পড়ে এবং চোখ দু'টি বন্ধ করে নাকসহ সমস্ত মুখমন্ডল বালির গর্তে গুঁজে রাখে। এভাবে সে ১৫ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। এ ঘটনা লক্ষ্য করে গবেষকরা তার ফুসফুস ব্যবচ্ছেদ করে দেখেছেন যে, ফুসফুসের তলে একটি পাতলা আবরণী যুক্ত থলে আছে। ঐ থলের মধ্যে অক্সিজেন সংরক্ষিত থাকে। এ সংরক্ষিত অক্সিজেনের বদৌলতে অন্তত ১৫ দিন অক্সিজেন গ্রহণ না করে সে বাঁচতে পারে। তাই মরুঝড়ের সময় বালির গর্তে মুখ গুঁজে রেখে সে বেঁচে থাকে। সর্বোত্তম আল্লাহ তাআলা উটকে মরুঝড়ের মধ্যে বেঁচে থাকার যে কৌশল শিক্ষা দিয়েছেন এবং দেহের মধ্যে অক্সিজেন সংরক্ষণের যে ব্যবস্থা করে দিয়েছে তা কি আশ্চর্যজনক নয়! তাই তো ওহীর আয়াত দ্বারা তিনি মানবজাতিকে আহ্বান করেছেন;
أَفَلَا يَنْظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ.
Do they not look at the camels, how they are made?
তারা কি উটগুলোর প্রতি লক্ষ্য করে দেখে না, কিভাবে এদের সৃষ্টি করা হয়েছে? (সূরা আল-গাশিয়া-১৭)
এটা খুবই বিস্ময়কর বিষয় যে, সপ্তম শতাব্দীতে আল্লাহপাক প্রত্যাদেশের মাধ্যমে উটের দৈহিক গঠন সম্পর্কে যে মর্মবাণী ব্যক্ত করেছেন তা প্রাণী বিজ্ঞানীদের প্রাণান্তকর গবেষণার ফলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ গবেষণায় উটের পশমও (camel's hair) বাদ যায়নি। উটের পশমে তৈরি হয় বস্ত্র, বিশেষ করে ওভারকোট অতি আরামদায়ক, হালকা এবং উষ্ণ। তাছাড়া এ পশম অবশ্য যথেষ্ট দামী। তাই অন্য প্রাণী থেকে সংগৃহীত পশমের মান বাড়াতে উটের পশম অনেক সময় মেশানো হয়।

আনআম (Cattle)
وَالْأَنْعَامَ خَلَقَهَا لَكُمْ فِيهَا دِفْءٌ وَمَنَافِعُ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ.
And the cattle has He created, when you have warm clothing and benefits and whereof you eat.
আর তিনি গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, তোমরা তাদের থেকে পশমী কাপড় ও অনেক উপকার পেয়ে থাক এবং তাদের মাংস তোমরা খাও। (নাহল-৫)
আনআম (نعم এর বহুবচন) শব্দের অর্থ Cattle বা গবাদি পশু। এ শব্দ দ্বারা সকল চতুষ্পদ গৃহপালিত পশুকে বোঝায়। উট, গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল সবই আনআম এর অন্তর্ভুক্ত। আবার উক্ত আয়াতে ব্যবহৃত দিফা (دفء) শব্দের অর্থ হলো উটের পশম থেকে নির্মিত গরম কাপড় যা পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া ভেড়ার পশম থেকেও গরম কাপড় এবং কম্বল তৈরি হয় যা অত্যন্ত আরামদায়ক, মসৃণ ও হালকা। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহপাক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, গবাদি পশু থেকে আমরা যে উপকার পেয়ে থাকি তা তিন ভাগে বিভক্ত:
১। গবাদি পশুর মাংস ও দুধ
২। গবাদি পশুর চামড়া ও শিং
৩। গবাদি পশু ভারবাহী
১। গবাদি পশুর মাংস ও দুধ: মাংস ও দুধ আমরা গবাদি পশু থেকে লাভ করে থাকি। এ দু'টি খাদ্য অত্যধিক পুষ্টিমান সমৃদ্ধ। উট, গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগলের মাংসে উচ্চমান সম্পন্ন প্রোটিন (protein), কার্বোহাইড্রেট (carbohydrate), চর্বি (fat), ভিটামিন (vitamin) এবং অতি প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড বিদ্যমান। শারীরিক সবলতার জন্য এসব উপাদান অপরিহার্য। আর উল্লেখিত পশুদের দুধ সুষম খাদ্য হিসেবে সমাদৃত। কারণ দুধে ছয় প্রকার উপাদান থাকে। যথা, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, ফ্যাট, খাদ্যপ্রাণ, খনিজ লবণ ও পানি।
২। গবাদি পশুর চামড়া ও শিং: গবাদি পশুর চামড়া থেকে তৈরি হয় গরম পোশাক, কম্বল, বই-পুস্তকের কভার, জুতা এবং এদের পশম পাকানো সুতা নির্মাণ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এ পাকানো সুতাকে বলা হয় উল (wool)। উল দিয়ে বহুবিধ পশমী পোশাক তৈরি করা হয়। এ পোশাকগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ওভারকোট, জাম্পার, মোজা, মাফলার, গ্লোভস ও অন্যান্য পশমী সামগ্রী। আর গবাদি পশুর শিং থেকে চিরুনি, বাঁট ও ঘর সাজাবার নানা রকম দ্রব্য তৈরি হয়ে থাকে।
৩। গবাদি পশু ভারবাহী: প্রাচীন কালে গবাদি পশু একস্থান থেকে অন্য স্থানে মাল বহনের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। আজকের দিনেও মরুভূমিতে উট ভারবাহী পশু হিসেবে সেখানকার জনমানুষের প্রয়োজন মেটায়। মধ্য এশিয়ার ব্যাকট্রিয়ান উট এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরবি উট এখনো মরুভূমিতে যাতায়াতের নির্ভরযোগ্য বাহন। কারণ তারা মরু অঞ্চলের আবহাওয়ার সাথে সমন্বয় সাধন করে চলতে পারে। এদেরকে তাই মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।
পাহাড়ী এলাকায় ও পাহাড়ী অঞ্চলে ঘোড়া, গাধা, খচ্চর ও হাতী মালপত্র বহনের কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। শীতল মরু অঞ্চলের রুষ্ট পরিবেশে বল্গা হরিণ এবং ল্যাপ-ডগ ভারবাহী পশু হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া স্মরণাতীত কাল থেকে গরু মহিষকে জমি চাষের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি বিজ্ঞানের অগ্রগতির যুগেও পৃথিবীর বহু দেশে গরু, ষাঁড়, উট ও ঘোড়াকে কৃষি কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অতএব, গবাদি পশু থেকে মানুষ যেসব সুবিধা ভোগ করে তা পরম হিতৈষী আল্লাহ তাআলারই অশেষ অনুগ্রহ। এসব প্রাণী সৃষ্টি করা না হলে মানব জাতির সমৃদ্ধি কখনো ঘটতো না।
وَتَحْمِلُ أَثْقَالَكُمْ إِلَى بَلَدٍ لَّمْ تَكُونُوا بُلِغِيْهِ إِلَّا بِشِقِّ الْأَنْفُسِ إِنَّ رَبُّكُمْ لَرَءُوفٌ رَّحِيم
And they carry your heavy Loads to lands that you could not reach except with great trouble to yourselves: truly your Lord is indeed Most kind and Most Merciful.
আর এরা (আনআম) তোমাদের ভারী বোঝা একস্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করে নিয়ে যায় যেখানে তোমরা প্রাণান্তকর ভ্রমণ ব্যতীত পৌঁছতে পার না। নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রভু পরম দয়ালু ও পরম করুণাময়। (নাহল-৭)
وَالْخَيْلُ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا وَزِينَةً وَيَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُونَ.
And He has created horses, mules and donkeys, for you to ride and use for adorment and He has created things of which you have no Knowledge.
তোমাদের আরোহনের জন্য এবং শোভার জন্য তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি এমন বস্তু সৃষ্টি করেছেন যেগুলি সম্পর্কে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই। (নাহল-৮)
এ আয়াতে আরও তিনটি প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাদের বিশেষ গুরুত্ব এখনো বিদ্যমান। এরা হলো ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা। এসব প্রাণীকে আল্লাহপাক সৃষ্টি করেছেন আমাদের চড়ার জন্য।

ঘোড়া (The Horse)
ঘোড়া Equidae গোত্রের স্তন্যপায়ী প্রজাতির সাধারণ নাম। সহজে পোষ মানে এবং বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য ঘোড়াকে এখন তিনটি দলে শ্রেণী বিভাগ করা হয়। যেমন- স্যাডল (saddle) ও ঘোড় দৌড়ের জাত। ড্রাফট ব্রিড (draft breeds) এবং হারনেস হর্স (harness horse)। কিছু কিছু ঘোড়া আছে যাদের সৌন্দর্য, সৌম্যতা ও দ্রুত গতির বিচারে উচ্চমানের। এসব ঘোড়া বিশেষভাবে সৌন্দর্য প্রদর্শনীতে দেখানো হয়ে থাকে। মাদি ঘোড়া ১-২ বছর বয়সে প্রজনন ক্ষমতা অর্জন করলেও সাধারণত তিন বছরের আগে এমনটি ঘটে না। প্রায় ১১ মাস গর্ভ ধারণের পর প্রতি বছর একটি বা দু'টি শাবক এরা প্রসব করে। ঘোড়ার সর্বোচ্চ আয়ু ৬০ বছর লিপিবদ্ধ করা হলেও গড় আয়ু ৩৫ বছর।

খচ্চর (The Mule)
খচ্চরকেও Equidae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বেজোড় ক্ষুরবিশিষ্ট খচ্চর Perissodactyla বর্গের সদস্য। খচ্চরের উপর চড়ে আরামদায়ক ভ্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রচলিত প্রথা। আল্লাহপাকের সৃষ্টির মধ্যে এটা খুবই আশ্চর্যজনক বিষয় যে, পুরুষ গদর্ভ (E. asinus) এবং স্ত্রী ঘোড়ার (E. caballus) যৌন মিলনের মাধ্যমে সৃষ্ট সংকর (Hybrid) খচ্চর নামে পরিচিত। স্ত্রী গদর্ভ ও পুরুষ ঘোড়ার মাধ্যমে যে সংকর হয় তাকে সাধারণত বলা হয় হিনি (Hinny)। স্বাভাবিক নিয়মে কখনো সংকর সৃষ্টি হয় না। আর খচ্চর ও হিনি সাধারণত বন্ধ্যা হয়ে থাকে।

গাধা (The Donkey)
গাধা স্বাভাবিকভাবে Equidae গোত্রের Perissodactyla বর্গের সদস্য। এরা এখন সমগ্র এশিয়া ও ইউরোপে গৃহপালিত এবং এদেরকে প্রধানত ভারবাহী প্রাণী হিসেবে পালন করা হয়। এরা কঠোর পরিশ্রমী। তবে ঠান্ডা পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার দরুন উষ্ণ আবহাওয়ায় এরা ভালো থাকে। এশিয়ার বন্য গাধা (Equus hemionus) অনেকগুলো সাধারণ নামে পরিচিত। ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে এ প্রজাতিকে এখন কয়েকটি জাত (race) অথবা উপজাতে ভাগ করা হয়েছে। মঙ্গোলিয়ার মধ্য এলাকায় এটি কুলান (kulan-E.h. hemionus), ইরান ও ভারতে ওনাগার (E.h. Onager), আর সবচেয়ে বড় আকারের যে জাতটি তিব্বত ও সিকিমে পরিব্যাপ্ত তা কিয়াং (Kiang-E.h. Kiagn) নামে পরিচিত।
অতএব, যখন থেকে মানুষ উল্লেখিত প্রাণীদেরকে যানবাহনের কাজে নিয়োজিত করেছে তখন থেকেই এদেরকে মডেল করে মানুষ যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছু যান্ত্রিক যান বিশেষ চিন্তার মাধ্যমে তৈরি করেছে। যেমন স্থলযান, জলযান ও আকাশযান। এগুলো এখন আধুনিক যুগের যানবাহন। বর্তমানে মহাকাশ ভ্রমণের যুগে শুধুমাত্র পৃথিবীতে কেন মহাশূন্যেও আরামদায়ক ও দ্রুত ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে মানুষ প্রযুক্তি জ্ঞানের বদৌলতে আরও অধিকতর উন্নতি সাধন করবে। অবশ্য এসব উন্নতির কথা এখন আমরা জানি না। যিনি জানেন তিনি সর্বময় মহাজ্ঞানী সর্বোত্তম আল্লাহপাক।

📘 Biggan moy quran > 📄 শূকর ও মৃত পশুর মাংস ক্ষতিকর

📄 শূকর ও মৃত পশুর মাংস ক্ষতিকর


শূকর ও মৃত পশুর মাংস ক্ষতিকর

বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের উন্নয়নের ফলে পশু-পাখির মাংসের পুষ্টিমান সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। সাথে সাথে ঐসব পশু সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়েছে যাদের মাংস ভক্ষণ করা হলে মানুষের দেহের ভেতরে মারাত্মক রোগ জীবাণু সংক্রমিত হয়। ইউরোপ ও আমেরিকার জনগণের কাছে শূকরের মাংস (swine flesh) অতি প্রিয় খাদ্য। কিন্তু এসব দেশের বিজ্ঞানীরা এখন এ তথ্য প্রমাণ করেছে যে, শূকরের মাংস অবশ্যই নোংরা (foul), দূষিত (polluted) এবং ক্ষতিকর (harmful)। সুমহান কিতাব আল-কোরআন সপ্তম শতাব্দীতে এই তথ্যটি গোটা মানবজাতিকে জানিয়ে দিয়েছে:

إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ - فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغِ وَلَا عَادٍ فَلَا اثْمَ عَلَيْهِ - إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ.
He has forbidden you only the dead animals and blood and the flesh of swine and that which is slaughtered as a sacrifice for others than Allah. But if one is forced by necessity without wilful disobedience nor transgressing due limits, then there is no sin on him. Truly Allah is Forgiving and Most Merciful.

তিনি আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য হারাম করেছেন, মৃত পশু, রক্ত ও শূকরের মাংস এবং আরো হারাম করেছেন সে সব জন্তুর মাংস যেগুলো আল্লাহপাক ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। কিন্তু যদি কেউ একান্ত প্রয়োজনে নিরুপায় হয়ে পড়ে এবং না-ফরমানী ও সীমা লংঘন না করে তাহলে তার জন্য কোনো পাপ বিবেচিত হবে না। সত্যিকার অর্থে আল্লাহ পাক মহান ক্ষমাশীল এবং পরম করুণাময়। (বাকারা- ১৭৩)

শূকরের মাংস (Swine flesh): এ আয়াতে শূকরের মাংস মানুষের জন্য হারাম (অবৈধ) ঘোষণা করা হয়েছে। আল-কোরআনের অন্তত ৪টি আয়াতে শূকরের মাংসের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত এবং স্বাস্থ্যসম্মত। কারণ পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ দ্বারা প্রমাণ করা হয়েছে যে, ট্রাইকিনিয়াসিস (Trichiniasis) নামের প্যারাসাইট সংক্রমণ শূকরের মাংসের সাহায্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং ট্রাইকিনেলা স্পাইরালিস (Trichinella spiralis) নামের ক্ষুদ্রতম গোলাকার কৃমির মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হয়। এর ফলে দেহের ভাইটাল অর্গ্যানগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং হঠাৎ করে মানুষ মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।

কাঁচা কিংবা ভালোভাবে সিদ্ধ না হওয়া শূকরের মাংস খেলে এনসিস্টেড (Encysted) কীটাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ এ ধরনের শূকরের মাংসে উল্লেখিত কীটাণু থাকে। এ ক্ষুদ্র কীটগুলো এক সপ্তাহ পাকস্থলীতে থাকার পর রক্তের সাথে মাংসপেশীতে প্রবেশ করে এবং সেখানে প্রদাহ কেন্দ্র তৈরি করে। এ রোগ ইউরোপ ও আমেরিকায় বেশ বিস্তৃত এবং শুধু আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ১৫% লোক এ রোগে আক্রান্ত বলে মনে করা হয়।

এটা হিসাব করে দেখা গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ মিলিয়ন লোক Trichiniasis রোগে আক্রান্ত। এ রোগের চিকিৎসাও তেমন ফলপ্রসূ হয় না। পাতলা পায়খানা ঘটিয়ে অন্ত্রনালী থেকে অন্যসব রোগ জীবাণুকে কার্যকরভাবে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু শূকরের ট্রাইকিনেলা স্পাইরালিস দ্বারা আক্রান্ত হলে তা সম্ভব হয় না। এমনকি এ রোগের নির্দিষ্ট থেরাপিও পাওয়া যায় না।

একবার ট্রাইকিনা (trichinae) জীবাণু পেশী-শিরায় সংক্রমিত হয়ে গেলে সেখান থেকে তাকে আর দূর করা সম্ভব হয় না। তাই চরম পর্যায়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলে মৃত্যু ঘটে। প্রকৃতপক্ষে, এ রোগের জীবাণু হৃদপেশী আক্রমণ করে সেখানে মায়োকার্ডাইটিস (myocarditis) রোগ সৃষ্টি করে এবং এর ফলে হৃদপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হয়। শূকরের মাংসের ট্রাইকিনা ওয়ার্ম (Trichina worm) ১৫০°C তাপমাত্রায় মারা যায়। তাই আমেরিকা ও ইউরোপের সরকারগুলো শূকরের মাংসকে ১৫০°C তাপমাত্রায় ২০ দিনের অধিক ফ্রোজেন করা না হলে তা বাজারজাত করতে দেয় না। শূকরের মাংসে আর এক ধরণের প্যারাসাইট থাকে। একে বলা হয় টিনিয়া সোলিয়াম (Taenia solium)। এ প্যারাসাইট বা রোগজীবাণুও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রোগ সৃষ্টি করে। যেমন, মাংসপেশী, হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, চোখ, স্নায়ুতন্ত্র ইত্যাদি আক্রান্ত করে মারাত্মক উপসর্গ প্রকাশ করে। বর্তমান বিশ্বে টিনিয়া সোলিয়াম বা টেপওয়ার্ম দ্বারা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬০ মিলিয়নেরও বেশি। এদের অধিকাংশই শূকরের মাংস ভক্ষণকারী।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারা অতি সম্প্রতি 'স্যাটক্সিন' নামক একপ্রকার প্রোটিন শূকরের গোশত থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে। চামড়ার বিভিন্ন প্রকার অ্যালার্জি, একজিমা, ফুসফুসে হাঁপানি ইত্যাদি রোগের জন্য এ আবিষ্কৃত প্রোটিন দায়ী। দেখা গেছে খুব সামান্য পরিমাণ স্যাটক্সিন খেলেও দৈহিক অসারতা এবং গ্রন্থিতে ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। শূকরের মাংসে অতি উচ্চ মাত্রায় চর্বি থাকে। তাই নিয়মিত এ মাংস খেলে শরীরে ভিটামিন E এর ঘাটতি দেখা দেয় এবং এ ঘাটতি যৌন গ্রন্থি সমূহের স্বাভাবিক ক্রিয়ায় বিশেষ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে যৌন দুর্বলতা এবং যৌন অক্ষমতা প্রকাশ পায়।

এ বিষয়টি খুব লক্ষণীয় যে, ইউরোপ ও আমেরিকায় উন্নতমানের অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শূকরের মাংস থেকে সৃষ্ট ব্যাধিগুলো নিবারণ করতে পারছে না। সুতরাং এ মারাত্মক রোগগুলো নিবারণ করতে হলে একটি মাত্র উপায় আছে তাহলো শূকরের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকা। অর্থাৎ আল্লাহপাকের আদেশের কাছে আত্মসমর্পণ করা।

মৃত প্রাণী (Dead Animals)
আয়াতে ব্যবহৃত শব্দ 'মাইতাহ' অর্থ মৃত পশু। এ শব্দ দ্বারা মৃত পশুর গলিত মাংসকেও (carrion) বোঝানো হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেছেন মৃত পশু-পাখির মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয় এবং আইনসিদ্ধ পশু-পাখির গলিত মাংসও স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। কারণ একটি প্রাণী যখন আপনা থেকেই মারা যায় তখন কী কারণে মারা গেছে জানা খুব কঠিন ব্যাপার। ঐ প্রাণীটি সাধারণ বিষপানে, কিংবা ভাইরাসের আক্রমণ অথবা কার্বাঙ্কল (anthrax) রোগে মৃত্যুবরণ করতে পারে। পশুর অ্যানথ্রাক্স একটি ছোঁয়াচে রোগ এবং ঐ রোগে মৃত পশুর মাংস হাতে নিয়ে নড়াচড়া করাও বিপদজনক। কারণ এভাবে নড়াচড়া করার ফলে এ রোগের জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী লোকেরা (যারা নিবিড়ভাবে ঐ ধর্ম পালন করে) পশু-পাখি আপনা থেকেই মারা গেলে কেবল তাদের মাংস ভক্ষণ করে। কারণ তারা মনে করে জীব হত্যা মহাপাপ।” এ বাণীর পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক সারযুক্তি নেই। দয়াময় আল্লাহ তাআলার আদেশ হলো আইনসিদ্ধ জীবিত পশু-পাখি জবাই করে তাদের মাংস খাওয়া বিজ্ঞানসম্মত এবং স্বাস্থ্যসম্মত।

রক্ত (Blood): রক্ত বলতে এ আয়াতে চলমান বা প্রবাহমান রক্তের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ পশু জবাই করলে যে রক্ত পশুর দেহ থেকে নির্গত হয়ে বেরিয়ে আসে। এরূপ রক্তে থাকে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান, টক্সিন (toxin), ও প্যাথোজেনিক মাইক্রো অর্গানিজম (pathogenic micro organisms)। রক্তের এসব পদার্থ অবশ্যই ক্ষতিকর। এটা খুবই যুক্তি সঙ্গত যে, প্রবাহিত রক্তের সাথে যদি বিষাক্ত পদার্থগুলো বাইরে বেরিয়ে যায় তাহলে মাংস স্বাস্থ্যপ্রদ হয়ে ওঠে। সেজন্য আল্লাহপাক পশু-পাখিকে তাঁর নামে জবাই করে রক্ত বের করে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُودَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبْعُ إِلَّا مَا ذَكَيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُوا بِالْأَزْلَامِ - ذُلِكُمْ فِسْقٌ.
Forbidden to you (for food) are: the dead animals, blood, swine flesh and that on which Allah's name has not been mentioned while slaughtering and that which has been killed by strangling or by a violent blow or by a headlong fall or by the goring of horns and that which has been partly eaten by a wild animal - unless you are able to slaughter it (before its death) and that which is sacrificed on stone-altars. Forbidden also is to use arrows seeking luck or decision; that is impiety.

তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ (খাদ্য) হলো, মৃত জীব, রক্ত, শূকরের গোশত এবং যাকে আল্লাহপাকের নাম উল্লেখ না করে জবাই করা হয়েছে, যাকে গলাটিপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে, যাকে সজোরে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে, যা উপর থেকে পড়ে মারা গেছে, যা শিং এর আঘাতে নিহত হয়েছে, যাকে বন্যপ্রাণী আংশিকভাবে ভক্ষণ করেছে যদি না তা জবাই করা তোমাদের পক্ষে সম্ভব হয় (তার মৃত্যুর পূর্ব) এবং যা কোনো দেব-বেদীতে উৎসর্গ করা হয়েছে। আরো নিষেধ করা হয়েছে ঐসব পশু সম্পর্কে যা ভাগ্য নির্ধারক তীর দ্বারা বধ করা হয়েছে। এ সবই নিষ্ঠুর পাপ কাজ। [মায়েদা-৩]

মৃত প্রাণীর মাংস বা গলিত মাংস, রক্ত এবং শূকরের মাংস যা আগেই আলোচনা করা হয়েছে। এখন নিষ্ঠুর পদ্ধতিতে প্রাণী হত্যা করে তার গোশত খাওয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে।

গলাটিপে হত্যা করা (Killed by Strangling): গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা প্রাণীর মাংস খাওয়া যাবে না। কারণ যখন কোনো পশুকে গলা টিপে ধরা হয় তখন সে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। এর ফলে অতিরিক্ত CO₂ (কার্বন ডাইঅক্সাইড) রক্তে জমে ওঠে এর দ্বারা ক্ষতিকর যৌগিক উপাদান (harmful compounds) গঠিত হয়। এছাড়া রক্ত বেরিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় মারাত্মক টক্সিন সৃষ্টি হয় এবং ব্যাকটেরিয়া বের হতে পারে না। সুতরাং গলাটিপে হত্যা করা পশু-পাখির মাংসে বিষক্রিয়া ও ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়। যে মাংসে টক্সিন ও ব্যাকটেরিয়া থাকে তা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করাও যায় না, পচন ধরে। আর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা পশুর শরীর থেকে পরবর্তী পর্যায়ে রক্তক্ষরণ করাও সম্ভব হয় না। অতএব এভাবে হত্যা করা প্রাণীর মাংস শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই আল্লাহ তাআলার নিষেধাজ্ঞা অতীব প্রণিধানযোগ্য।

সজোরে আঘাত করে হত্যা করা (Killed by violent blow): ইলেকট্রিক শক দিয়ে, লৌহ দণ্ড দিয়ে কিংবা লাঠি দিয়ে আঘাত করে প্রাণী হত্যা করা একটি নিষ্ঠুর পদ্ধতি। এ প্রক্রিয়ায় পশুকে হত্যা করা হলে তার মধ্য থেকে প্রবাহমান রক্ত বের হতে পারে না। কারণ রক্ত তখনই বের হয়ে আসে যখন হৃদ স্পন্দন সচল থাকে, পশু অবচেতন অবস্থায় থাকে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। এ শর্তগুলো জবাই হওয়া পশুর ক্ষেত্রে দেখা যায়। কারণ জবাই হওয়া অবস্থায় যখন পশু পড়ে থাকে তখন তার হৃদপিণ্ডে সংকোচন প্রসারণ অব্যাহত থাকে। মস্তিষ্কে O₂ এর ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে পেশী সংকোচন শুরু হয় এবং পেশী সংকোচনের কারণে প্রাণীর মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ধমনীতে যে Blood vessels রয়েছে সেই রক্তবাহী নালীতে চাপ সৃষ্টির ফলে রক্ত নির্গত হতে থাকে। নির্গত অবস্থায় কেন্দ্রীয় পরিবহন পদ্ধতির মাধ্যমে রক্ত মস্তিষ্কে যেতে চাইলেও তা যেতে পারে না। কারণ গলায় শিরা উপশিরাগুলো তো তখন কর্তিত অবস্থায় থাকে। তবে যতক্ষণ না পশুটি মারা যাচ্ছে ততক্ষণ তার মস্তিষ্ক কোষ (Cell) থেকে তার পেশীর কাছে এ মর্মে বার্তা যাচ্ছে যে, চাপ দিয়ে রক্ত সঞ্চালিত কর। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, প্রাণী সংজ্ঞাহীন অবস্থায় থাকলেও তার মধ্যে সংকোচন প্রসারণ অব্যাহত থাকে। আর প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে পশু সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। এ সময়ে সে কোনো ব্যথা অনুভব করে না। সুতরাং স্বাস্থ্যসম্মত মাংসের জন্য জবাই পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত। তাই মুসলমানেরা আল্লাহপাকের নামে জবাই করে এবং এ পদ্ধতি অব্যাহত রেখেছে। এখন দেখি, চিকিৎসা বিজ্ঞান মুসলমানদের জবাই পদ্ধতি সম্পর্কে কী বলছে। ডক্টর অব মেডিসিন, Lord Horder বলেছেন, "I made careful observation of the process called 'Slaughter.' This consists in a clear cutting of all the blood vessels of the neck, together with the windpipe and gullet, in fact, all the soft structures up to the spine. The animal loses consciousness immediately. It is difficult to conceive a more painless and a more rapid mode of death. For a few seconds after the cut, the animal makes no movement. Its body is then convulsed, the convulsive movements continue for about a minute and then cease." ("অর্থাৎ "আমি জবাই পদ্ধতি' ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখেছি। এ পদ্ধতিতে পশুর ঘাড়ের সব রক্তনালী, শ্বাসনালী ও অন্ননালীসহ শির দাঁড়ার হাড়ের আগ পর্যন্ত সকল নরম গঠন কেটে ফেলা হয়। এর ফলে পশু সহজেই চেতনা হারায়। এ পদ্ধতির চেয়ে সহজ, ব্যথাহীন ও তাৎক্ষণিক কোনো পদ্ধতি নেই। জবাইয়ের কয়েক মুহূর্ত পরেই পশু আর নড়াচড়া করতে পারে না। এর শরীর তখন দাপাদাপি করতে থাকে। শরীরের এ দাপাদাপি এক মিনিটের মধ্যে স্তিমিত হয়ে যায়।")

খুব ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করা এবং দক্ষতার সাথে ছুরি চালানোর ফলে পশুর যে অবস্থা ঘটে সে অবস্থাকে মূর্ছার সঙ্গে তুলনা করা যায়। এ ধরনের মূর্ছাগত অবস্থা রক্তনালী কাটার দরুন সংগঠিত হয়। রক্তনালী বিচ্ছিন্ন করার কারণে দ্রুতগতিতে রক্ত বের হয় এবং রক্তচাপ কমে যায়। জবাই করার ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রাণীর তীব্র মুভমেন্ট আরম্ভ হয় এবং তা ৯০ সেকেন্ড বিদ্যমান থাকে। মূর্ছার প্রাথমিক অবস্থায় পশুর অনুভূতি বিলুপ্ত হয়। এ পর্যন্ত পশু নিধনের যত প্রকার পদ্ধতি চালু আছে তার মধ্যে জবাই পদ্ধতি উৎকৃষ্টতম। এতে পশুর যন্ত্রণা কম হয়। এ সত্যটি সম্পর্কে খুব ভালোভাবে বিচার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল রিসার্চ এর পরিচালক Dr. Leonard Hill বলেছেন, জবাই করা প্রাণী চেতনা হারাবার সঙ্গে সঙ্গে যে মুভমেন্ট শুরু হয় তা থেকে দেখা গেছে যে, অনুভূতি ব্যতিরেকে ঐ পশুর রক্ত নির্গত হচ্ছে। এ বিষয়ে মুভমেন্ট ব্যাপারটি অনেকের কাছে অনুভূতিজাত ঘটনা বলে মনে হবে। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে ফেলার পরেও ঐ দেহ মৃত অবস্থায় নড়াচড়া করে। এটা কি অনুভূতিজাত নড়াচড়া? অনুভূতির সাড়া তো মস্তিষ্ক থেকে প্রেরিত হয়।

পৃথিবীর বহু দেশে ইলেকট্রিক শক দিয়ে পশু হত্যা করে তার মাংস পরিবেশন করা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, এভাবে হত্যা করা পশুর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। কারণ ইলেকট্রিক শকে বধ করা প্রাণীর মাংস ফুলে ওঠে, অস্ত্র রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং মেরুদণ্ডের হাড় ও কাঁধের দু'দিকের হাড় ফেটে যায়। এ অবস্থায় মাংসের সাথে যে রক্ত থাকে তার দরুন মাংসে পচন ধরে এবং মাংসের স্বাদ নষ্ট হয়। ইলেকট্রিক শকে হত্যা করা পশুর মাংসে পচন ধরার কারণ হলো রক্ত নির্গত হওয়া ব্যতীত ইলেকট্রিক শকের দরুন ল্যাকটিক অ্যাসিডের উচ্চ লেভেলে উত্তরণ। Lactic Acid উচ্চপর্যায়ে উত্তরণের কারণে মাংসের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা পরিবর্তন হয়ে যায়। আবার জোরালো আঘাতে যদি মস্তিষ্ক শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে ভলান্টারি মাসল্‌স প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর তরল পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয় এবং হৃৎপিণ্ড স্পন্দন থেমে গেলে মস্তিষ্ক বিচ্ছিন্ন হলেও অধিক পরিমাণ রক্ত ক্ষরণ হবে না। নিরাপদ মাংসের জন্য রক্তক্ষরণ খুবই প্রয়োজনীয়।

উপর থেকে পড়ে মারা গেলে (The dead through falling from a height)
যদি কোনো পশু উপর থেকে পড়ে গিয়ে, আঘাত পেয়ে ঘাড় ভেঙে, দারুণ আতঙ্কে কিংবা পানিতে ডুবে গিয়ে মারা যায় তাহলে এসব কারণে সংঘটিত মৃত্যু প্রচণ্ড আঘাতজনিত মৃত্যুর সমতুল্য হবে। পানিতে ডুবে মরা শ্বাসরুদ্ধজনিত মৃত্যুর সমান। তাই উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া পশুর মাংস স্বাস্থ্যকর নয়।

শিং এর গোড়ায় নিহত পশু (Killed by the goring of horns)
যদি কোনো পশু নিজেদের মধ্যে শিং দিয়ে মারামারি করে কিংবা মানুষ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মারামারি ঘটিয়ে মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে মৃত পশুর মাংসও নিষিদ্ধ। এ ধরণের মৃত্যুও অপঘাত মৃত্যুর সমান। অপঘাত মৃত্যুর ক্ষতিকর তথ্যাবলী আগেই আলোচিত হয়েছে।

বন্যপশুর কামড়ে মারা গেলে (Devoured of wild beasts)
কোনো পশু অন্য কোনো বন্যপশুর কামড়ে মারা গেলে তার মাংস খাওয়া নিষেধ। এ নিষেধ যে সব কারণে যুক্তিসঙ্গত তাহলো আক্রমণকারী পশুর আংশিক কামড়ে বিষ থাকতে পারে এবং শরীরে চলমান রক্ত অধিক পরিমাণে নির্গত নাও হতে পারে। কিন্তু এরূপ পশু যদি জীবিত থেকে যায় এবং তাকে আল্লাহ্‌ পাকের নামে জবাই করা সম্ভব হয় তাহলে সে পশুর মাংস খেতে বাঁধা নেই।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, পশু-পাখির মাংস খাওয়ার ব্যাপারে যেসব বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে তা মানবজাতির কল্যাণের জন্যই করা হয়েছে। এটা খুবই স্পষ্ট।

قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ تَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرِ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغِ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ رَبَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ.
Say (O Mohammad-s:), "I find not in that which has been revealed to me anything forbidden to be eaten by one who wishes to eat it, unless it be carrion, or blood poured forth or swine flesh for that surely is impure or impious meat, which is slaughtered as a sacrifice for others than Allah. But whosoever is forced by necessity without wilful disobedience, nor transgressing due limits, certainly your Lord is oft-forgiving and Most Merciful."

বলুন (হে মুহাম্মদ সঃ), "আমার কাছে যেসব বিধান ওহীর মাধ্যমে আসে তার মধ্যে আমি কোনো নিষিদ্ধ খাদ্য দেখতে পাই না কোনো ভক্ষণকারীর জন্য, যা সে খেতে ইচ্ছা করে। তবে মৃত পশুর গলিত মাংস, অথবা প্রবাহিত রক্ত কিংবা শূকরের মাংস, যা অপবিত্র ও দূষিত, জবাই করা জন্তু যা আল্লাহ ছাড়া অন্য নামে উৎসর্গ করা হয়েছে এ সবই নিষিদ্ধ। তথাপি যদি কোনো ব্যক্তি একান্ত বাধ্য হয়ে (ক্ষুধার তাড়নায়) নিষিদ্ধ মাংস খেয়ে ফেলে অবাধ্যতা বশত নয়, নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করেও নয় তাহলে নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ তোমার প্রভু বড় ক্ষমাশীল এবং পরম করুণাময়। (আনআম - ১৪৫)

He has forbidden for you only dead animal, blood and swine flesh and that which has been immolated in the name of any other than Allah. But he who is driven thereto, neither craving nor transgressing, then Allah is oft-forgiving, Most Merciful.

তিনি তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত পশু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যেসব জন্তু আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়। কিন্তু কেউ সীমালঙ্ঘনকারী না হয়ে নিরুপায় বশত ঐসবের মাংস খায় তবে তার জন্য ক্ষমা আছে। আল্লাহপাক তো খুবই ক্ষমাশীল, বড়ই মেহেরবান। (নহল- ১১৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00