📄 বিদ্যুতের চমকে দৃষ্টিশক্তির বিভ্রম
বিদ্যুতের চমকে দৃষ্টিশক্তির বিভ্রম
يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُمْ مَشَوْ فِيْهِ وَإِذَا أَظْلَمُ عَلَيْهِمْ قَامُوا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
The lightning almost snatches away their sight from them. As often as it flashes forth for them they walk therein and when it darkens against them they stand still. If Allah willed He could destroy their hearing and their sight. For Allah has power over all things.
বিদ্যুৎ-চমক তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়। এটা যতখানি আলোকিত করে তার মধ্যে তারা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায় তখন থমকে দাঁড়িয়ে যায়। আল্লাহপাক ইচ্ছা করলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দুই-ই নষ্ট করে দিতে পারেন। কারণ তিনি সকল বস্তুর উপর শক্তিমান। (বাকারা-২০)
এ আয়াতের মর্মার্থ দাবি করে যে মানুষ আলোর উপস্থিতিতে সবকিছু দেখতে পায়। অন্ধকারে কিছুই দেখে না। কিন্তু আলোর ঝলক তীব্র হলে চোখের আলোকগ্রাহী (Photoreceptor) কোষগুলো অসংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
মানুষের চোখ আলোর মধ্য দিয়ে দৃষ্টি সঞ্চার করে। অর্থাৎ আলোর প্রতি মানুষের দৃষ্টি খুবই সংবেদনশীল। চোখের আলোক সংবেদী স্তর রেটিনা নামে পরিচিত। রেটিনা আলোক উদ্দীপনাবাহী জটিল সুসংবদ্ধ স্নায়ুকোষ এবং আলোক সংবেদী গ্রাহক কোষ সমন্বয়ে গঠিত। আলোক সংবেদী গ্রাহক কোষ দুই ধরনের— কোণ (cones) এবং রড (rods)। cones সাধারণত দিনের আলোতে দেখতে সাহায্য করে এবং রং (colours) সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি করে। আর Rods রাতের অন্ধকারে এবং ক্ষীণ আলোতে দেখার জন্য অভিযোজিত।
কোন বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলোক তরঙ্গ (Light waves) এসে cones এবং Rods কোষকে উদ্দীপিত করলে তবেই মানুষ দেখতে পায়। কিন্তু সব ধরনের আলোক তরঙ্গ আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। যেসব তরঙ্গ ধরা পড়ে তাদের বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। যার ব্যাপ্তি 3800A° থেকে 7200A° তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের মধ্যে (1 Angstrom= 10⁻⁸cm)। আলোক তরঙ্গ চোখে পড়লে cones এবং Rods এর যে রাসায়নিক পদার্থ আছে তা আলো শোষণ করে নেয়। কোণ-এর আছে আয়োডোপসিন এবং রড-এর আছে রোডপসিন। আলোর ছোঁয়ায় এ রাসায়নিক বস্তু দু'টির মধ্যে ফোটোকেমিক্যাল বিক্রিয়ার (Photochemical reaction) কারণে আবেগ সৃষ্টি হলে তা স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কের দর্শন কেন্দ্রে (visual centre) পৌঁছে যায়। তখনই মানুষ দেখতে পায়। অন্ধকারে Cones এবং Rods আলো গ্রহণ করতে পারে না বলেই কিছুই দর্শন করা যায় না।
আবার আলোর তীব্রতার প্রেক্ষাপটে দৃষ্টিশক্তি নিয়ে পরীক্ষা করলে দেখা যায় কোন্স এবং রড খুব তীব্র আলোতে অসংবেদী হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ-চমক হঠাৎ জোরালো আলো উৎপন্ন করে ক্ষীপ্র গতিতে ছড়িয়ে দেয়। এসময় কোন্স এবং রড এর দিক থেকে কোন সাড়া না আসার দরুন মানুষের দৃষ্টি সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আকাশে বিদ্যুৎ-ঝলকের ফলে চলার পথে মানুষের দৃষ্টি শক্তির যে প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি হয় আলোচ্য আয়াতে আল্লাহপাক ‘ইয়াফু’ শব্দ দ্বারা তা চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
References: 1. The Holy Quran: Abdullah Yusuf Ali 2. Science Encyclopedia: Vol-1, First Published Nov. 99 Bangla Academy, Dhaka.