📄 জলভরা মেঘ
জলভরা মেঘ (Rain laden cloud)
أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ السَّمَاءِ فِيْهِ ظُلَمْتُ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصَابِعَهُمْ فِي أَذَانِهِمْ مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكَفِرِينَ. Or another similitude is that of a rain-laden cloud from the sky; in it are darknesses, thunder and lightning. They press their fingers in their ears to keep out the stunning thunder-clap, the while they are in terror of death. But Allah encompasses the disbelievers.
আর একটি সাদৃশ্য হলো আকাশের বৃষ্টিভরা মেঘের মত, যার মধ্যে থাকে প্রগাঢ় অন্ধকার, বজ্র এবং বিদ্যুৎ চমক। প্রচন্ড বজ্রধ্বনি থেকে মানুষ রক্ষা পেতে চায় কানে আঙ্গুল চাপা দিয়ে। তখন তারা মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে পড়ে। কিন্তু আল্লাহপাক এ সময় অবিশ্বাসীদের ঘেরাও করে রাখেন। (বাকারা-১৯)
এ আয়াতে পথভ্রষ্ট লোকদের উদাহরণ দিতে গিয়ে আল্লাহপাক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব আমাদের অবহিত করেছেন যা আধুনিক মৌসুমী বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
১. মেঘের অন্ধকার স্তর সমূহ (layers of darkness in the clouds)
২. বিদ্যুৎ চমক (Lightning)
৩. বজ্রনিনাদ (Thunder-clap)
১. মেঘের অন্ধকার স্তরসমূহ
মেঘ হলো বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র আকারের পানি যা মূলতঃ বাতাসে ভাসমান জলীয় বাষ্প জমাট বেঁধে তৈরী হয়। এর নাম জলভরা মেঘ। তবে আরও কয়েক ধরনের মেঘ আকাশে দেখা যায়, যা পূর্বে উল্লেখ করেছি। যথা- পুঞ্জ মেঘ (cumulus), স্তর মেঘ (stratus), ঊর্ণা মেঘ (cirrus)। এসব মেঘের সমষ্টিকে বলা হয় নিম্বাস (nimbus)। অর্থাৎ নিম্বাস মেঘ হলো সবরকম মেঘের সমাহার। যখন স্তর মেঘ প্রচুর জলকণা সঞ্চয় করে অত্যন্ত ঘন হয় তখন ভারী হয়ে সেটা অন্তত ২০০০ মিটার উচ্চতায় নেমে আসে। আর এ মেঘের উপরের দিকের উচ্চতা প্রায় ৪ থেকে ৫ কিঃ মিঃ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে দেখলে এ মেঘ ঘোর কৃষ্ণবর্ণ দেখায়। এর বুনিয়াদ এলাকা খুবই তিমিরাচ্ছন্ন দেখায়। এর কারণ তাদের গভীরতা। যে গভীরতার ব্যাপ্তি পূর্বেই উল্লেখ করেছি। অর্থাৎ ৪ থেকে ৫ কিঃ মিঃ। "নীল নভ ঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহিরে।" কবিতার এ ছন্দ এরূপ মেঘকে উদ্দেশ্য করে লেখা। যদি আকাশে অন্ধকার নিম্বাস মেঘ থাকে, আর ঘুমন্ত কাউকে হঠাৎ জাগিয়ে যদি প্রশ্ন করা হয়, "বলতো এখন ক'টা বাজে?" তখন তার পক্ষে সঠিক সময় বলা কঠিন হবে। এ মেঘ সকাল আর দুপুরকে সন্ধ্যার অন্ধকারে একাকার করে দেয়। এ বিশেষ ধরনের মেঘের নাম নিম্বোস্ট্রাটাস (nimbostratus)। সুতরাং মেঘের মধ্যে অন্ধকারের বিভিন্ন স্তর আছে বলে আমরা ধরতে পারি। তাই আলোচ্য আয়াতে 'জুলোমাত' শব্দ দ্বারা এর ইঙ্গিত করা হয়েছে।
২. বিদ্যুৎ চমকঃ জলভরা মেঘের আর একটি দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। তাহলো বিদ্যুৎ চমক (Lightning)। উচ্চ শক্তির উজ্জ্বল বিদ্যুৎ ক্ষরণ যা কোন চার্জযুক্ত মেঘ এবং ভূ-পৃষ্ঠের কোন অবস্থান বিন্দুর মধ্যে দু'টি চার্জযুক্ত মেঘের মধ্যে অথবা একই মেঘের বিপরীত চার্জযুক্ত স্তরের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। সাধারণত মেঘের উপরের অংশ পজিটিভ চার্জযুক্ত এবং নিচের অংশ নেগেটিভ চার্জযুক্ত হয়। এ পার্থক্য সৃষ্টি হয় একটি জটিল প্রক্রিয়ায়। যখন মেঘকণা ও বৃষ্টিবিন্দু বায়ুর তীব্রতায় তাড়িত হয়ে মেঘের বরফজমা তাপবলয়ে পৌঁছে যায় তখন বৃষ্টিকণা জমে গিয়ে বরফের ক্ষুদ্র টুকরায় পরিণত হয়। জমে যাওয়ার মুহূর্তে টুকরাগুলো ফেটে গিয়ে বরফের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খুঁচিগুলোকে নিক্ষেপ করে দেয়। এসব বরফ খুঁচি পজিটিভ চার্জ বয়ে নিয়ে যায় এবং রেখে যায় নেগেটিভ চার্জ। পজিটিভ চার্জযুক্ত কণাগুলো বাতাসের তীব্র উর্ধ্বটানে মেঘের শীর্ষদেশে গিয়ে পৌঁছে। নেগেটিভ চার্জ নিয়ে ভারী কণাগুলো মেঘের নিম্নদেশে অবস্থান করে এবং মেঘের মধ্যে চার্জ পৃথকীকরণের কাজ সম্পন্ন করে। যখন বৈদ্যুতিক চার্জের গঠন খুব বেশী বড় হয়ে পড়ে তখন মধ্যবর্তী বাতাস তাদের পৃথক করে রাখতে পারে না। তাই একটা বিরাট স্ফুলিঙ্গ ঢেউ পজিটিভ অবস্থান থেকে নেগেটিভ অবস্থানের দিকে ধাবিত হয়।
একটি মেঘের সমগ্র অন্তর্দেশ জুড়ে এ ধরনের স্ফুলিঙ্গ ঘটতে পারে। কিংবা একটা মেঘের বুক থেকে অন্য একটা মেঘের বুকে লাফিয়ে পড়তে পারে। কিংবা মেঘের বুক থেকে পৃথিবী পৃষ্ঠে পড়তে পারে। এসব স্ফুলিঙ্গ চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল আভা বিচ্ছুরিত করে।
বজ্রনিনাদঃ জলভরা মেঘের আর একটি বৈশিষ্ট্য হলো বজ্রধ্বনি। বিদ্যুৎ-চ্যানেলে তড়িৎ চার্জের বিরাট স্ফীতি অত্যধিক তাপ সৃষ্টি করে বাতাসের মধ্যে হঠাৎ ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটায় এবং আমরা যে বজ্রনিনাদ শুনতে পাই সেই বজ্রধ্বনি প্রেরণ করে শব্দ তরঙ্গ (sound wave)। এ শব্দ তরঙ্গ বিস্ফোরনের শব্দের মত প্রতিধ্বনিময় প্রচন্ড শব্দের সৃষ্টি করে।
বজ্রপাতের সময় প্রধান আঘাতের ফলে একটি আয়নিত পথের সৃষ্টি হয় এবং এ আয়নিত পথে প্রধান বিদ্যুৎ ক্ষরণ ঘটে। এ প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৩,০০,০০০ সেলসিয়াসের মতো উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি হতে পারে। প্রায় ৫০ মিটার ধাপে ধাপে এবং এক ধাপ থেকে পরবর্তী ধাপের মধ্যে প্রায় ৫০ মাইক্রোসেকেন্ড বিরতিতে ইলেকট্রনের একটা উত্তাল ঢেউ নেমে আসে। প্রধান আঘাত ভূ-পৃষ্ঠে পৌছালে সেখান থেকে আধানের ঢেউ আগের পথ ধরে ফিরে আসে। বজ্রপাত প্রক্রিয়ায় গড় বিদ্যুৎপ্রবাহ প্রায় ১০,০০০ অ্যাম্পিয়ারের মত হয়। তবে ফিরতি আঘাতে (Return stroke) সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ প্রবাহ ২০,০০০ অ্যাম্পিয়ার পর্যন্ত উঠতে পারে।
অতএব, জলভরা মেঘের (rain-laden cloud) তিনটি দৃশ্য অন্ধকার স্তর সমূহ, বিদ্যুৎ স্ফুলিঙ্গ ও বজ্রনিনাদ এ আয়াতে অত্যন্ত স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আধুনিক আবহবিজ্ঞানীরা জলভরা মেঘের বিদ্যুৎ স্ফুলিঙ্গ ও বজ্রের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে উপরোক্ত তত্ত্ব ও তথ্যের অবতারণা করেছেন।
هُوَ الَّذِي يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنْشِئُ السَّحَابَ الثَّقَالَ.
He it is who shows you the lightning as a fear and as a hope; and it is He who brings up the clouds, heavy with rain.
তিনি সে-ই মহান প্রভু, যিনি বিদ্যুৎ প্রদর্শন করেন ভয় এবং আশা সহকারে। আর আকাশে জলভরা মেঘমালা আনয়ন করেন। (রা'দ-১২)
📄 ছায়া (shadow)
ছায়া (Shadow)
أَلَمْ تَرَ إِلَى رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ الظَّلَّ وَلَوْ شَاءَ لَجَعَلَهُ سَاكِنَا ثُمَّ جَعَلْنَا الشَّمْسَ عَلَيْهِ دَلِيلًا. ثُمَّ قَبَضْنَهُ إِلَيْنَا قَبْضًا تَسِيرًا .
Have you not turned your vision to your Lord? How He does prolong the shadow! If He willed He could make it stationary! Then do We make the Sun its guide. Then We withdraw it to Us a gradual concealed withdrawal.
তোমরা কি তোমাদের প্রভুর দিকে দৃষ্টি মেলে দেখ না? তিনি ছায়াকে কীভাবে দীর্ঘায়িত করেন! যদি তিনি ইচ্ছা করতেন তাহলে ছায়াকে স্থির করেও রাখতে পারতেন। অতঃপর আমরা সূর্যকে করেছি এর নির্দেশক। এরপর আমরা একে আমাদের দিকে ক্রমান্বয়ে গুটিয়ে আনি। (ফোরকান-৪৫-৪৬)
অস্বচ্ছ বস্তু দ্বারা আলো বাধাপ্রাপ্ত হলে ছায়া সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ অস্বচ্ছ বস্তুর বিপরীত দিকে আলোর উৎস বিদ্যমান থাকলে ছায়া উৎপন্ন হয়। আলোর প্রধান উৎস সূর্য। তার আলোর সামনে যত অস্বচ্ছ বস্তু অবস্থান করে, ঐসব বস্তুর বিপরীত দিকে ছায়া পড়তে দেখা যায় এবং এ ছায়ার দৈর্ঘ্য সব সময় একই রকম থাকে না। বিভিন্ন সময় এর দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে অর্থাৎ কম-বেশি হয়। এর কারণ হলো সূর্যের অবস্থান দ্বারা ছায়া পরিচালিত হয়। সূর্য যদি স্থির অবস্থায় না থাকে তাহলে ছায়ার দৈর্ঘ্য ও অবস্থান স্থির অবস্থায় থাকে না। ছায়ার দৈর্ঘ্য আপাতন কোণের স্পর্শকের সঙ্গে উল্টা আনুপাতিক। আপাতন কোণ যত ক্ষুদ্র হবে ছায়ার দৈর্ঘ্যও তত বড় হবে। তাই সকাল বেলা সূর্যের উচ্চতা কম থাকে বলে আপাতন কোণ ক্ষুদ্র হয়, যার ফলে ছায়া হয় দীর্ঘ। সূর্যের উচ্চতা যতই বৃদ্ধি পেতে থাকে ক্রমান্বয়ে ততই ক্ষুদ্র হতে থাকে। পুনরায় ছায়া পর্যায়ক্রমে বড় হতে থাকে যখন উচ্চতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
সূর্যের দ্বারা উৎপন্ন ছায়ার পরিবর্তন সংঘটিত হয় আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত নিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে। তাই আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, আল্লাহপাক যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে তিনি ছায়াকে স্থির করে রাখতে পারতেন। এ বক্তব্যটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এ অবস্থা সৃষ্টি হতো তখনই যখন পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি খুবই মন্থর হতো। অর্থাৎ যে সময়ে পৃথিবী সূর্যের অক্ষপথ একবার সম্পূর্ণরূপে প্রদক্ষিণ করে, সে সময়ের মধ্যে যদি পৃথিবী তার নিজ অক্ষে একবার আবর্তন করত। (সূর্যের অক্ষপথ সম্পূর্ণরূপে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ। কিন্তু নিজ অক্ষপথ একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে মাত্র ২৪ ঘণ্টা)। এ অবস্থা হলে পৃথিবীর এক অংশ স্থায়ীভাবে সূর্যের দিকে উন্মুক্ত থাকত এবং এ অংশের সকল ছায়া স্থির হয়ে থাকত। আর পৃথিবীর অপরাংশ স্থায়ীভাবে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে থাকত। অবস্থা এরূপ হলে মহাবিপদ নেমে আসত। কারণ পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের দিকে উন্মুক্ত থাকত সে অংশ উত্তপ্ত মরুভূমিতে পরিণত হতো। আর যে অংশ সূর্যের বিপরীত দিকে থাকত সেখানে সবকিছু জমাট বাঁধা বরফে ঢাকা থাকত, যা জীবন ধারণকে অসম্ভব করে তুলত। পরম হিতৈষী আল্লাহপাক পৃথিবীকে দিয়েছেন আনুপাতিক ঘূর্ণন গতি, যার ফলে ছায়া একবার দীর্ঘ হয় আবার খর্ব হয়। ছায়ার এ হ্রাস-বৃদ্ধির ঘটনা থেকেই আমরা বুঝতে পারি আল্লাহপাক কর্তৃক বেঁধে দেওয়া আইনের আওতায় পৃথিবী আবর্তিত হচ্ছে এবং তার কোনো অংশই দীর্ঘ সময়ের জন্য সূর্যের সামনে স্থির করে রাখা হয় না। এ কারণেই পৃথিবীর আবহমণ্ডল বেশ সহনীয় এবং জীবনকে বিকশিত করার পক্ষে অতিশয় সহায়ক।
📄 বিদ্যুতের চমকে দৃষ্টিশক্তির বিভ্রম
বিদ্যুতের চমকে দৃষ্টিশক্তির বিভ্রম
يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُمْ مَشَوْ فِيْهِ وَإِذَا أَظْلَمُ عَلَيْهِمْ قَامُوا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
The lightning almost snatches away their sight from them. As often as it flashes forth for them they walk therein and when it darkens against them they stand still. If Allah willed He could destroy their hearing and their sight. For Allah has power over all things.
বিদ্যুৎ-চমক তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়। এটা যতখানি আলোকিত করে তার মধ্যে তারা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায় তখন থমকে দাঁড়িয়ে যায়। আল্লাহপাক ইচ্ছা করলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দুই-ই নষ্ট করে দিতে পারেন। কারণ তিনি সকল বস্তুর উপর শক্তিমান। (বাকারা-২০)
এ আয়াতের মর্মার্থ দাবি করে যে মানুষ আলোর উপস্থিতিতে সবকিছু দেখতে পায়। অন্ধকারে কিছুই দেখে না। কিন্তু আলোর ঝলক তীব্র হলে চোখের আলোকগ্রাহী (Photoreceptor) কোষগুলো অসংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
মানুষের চোখ আলোর মধ্য দিয়ে দৃষ্টি সঞ্চার করে। অর্থাৎ আলোর প্রতি মানুষের দৃষ্টি খুবই সংবেদনশীল। চোখের আলোক সংবেদী স্তর রেটিনা নামে পরিচিত। রেটিনা আলোক উদ্দীপনাবাহী জটিল সুসংবদ্ধ স্নায়ুকোষ এবং আলোক সংবেদী গ্রাহক কোষ সমন্বয়ে গঠিত। আলোক সংবেদী গ্রাহক কোষ দুই ধরনের— কোণ (cones) এবং রড (rods)। cones সাধারণত দিনের আলোতে দেখতে সাহায্য করে এবং রং (colours) সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি করে। আর Rods রাতের অন্ধকারে এবং ক্ষীণ আলোতে দেখার জন্য অভিযোজিত।
কোন বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলোক তরঙ্গ (Light waves) এসে cones এবং Rods কোষকে উদ্দীপিত করলে তবেই মানুষ দেখতে পায়। কিন্তু সব ধরনের আলোক তরঙ্গ আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। যেসব তরঙ্গ ধরা পড়ে তাদের বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। যার ব্যাপ্তি 3800A° থেকে 7200A° তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের মধ্যে (1 Angstrom= 10⁻⁸cm)। আলোক তরঙ্গ চোখে পড়লে cones এবং Rods এর যে রাসায়নিক পদার্থ আছে তা আলো শোষণ করে নেয়। কোণ-এর আছে আয়োডোপসিন এবং রড-এর আছে রোডপসিন। আলোর ছোঁয়ায় এ রাসায়নিক বস্তু দু'টির মধ্যে ফোটোকেমিক্যাল বিক্রিয়ার (Photochemical reaction) কারণে আবেগ সৃষ্টি হলে তা স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কের দর্শন কেন্দ্রে (visual centre) পৌঁছে যায়। তখনই মানুষ দেখতে পায়। অন্ধকারে Cones এবং Rods আলো গ্রহণ করতে পারে না বলেই কিছুই দর্শন করা যায় না।
আবার আলোর তীব্রতার প্রেক্ষাপটে দৃষ্টিশক্তি নিয়ে পরীক্ষা করলে দেখা যায় কোন্স এবং রড খুব তীব্র আলোতে অসংবেদী হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ-চমক হঠাৎ জোরালো আলো উৎপন্ন করে ক্ষীপ্র গতিতে ছড়িয়ে দেয়। এসময় কোন্স এবং রড এর দিক থেকে কোন সাড়া না আসার দরুন মানুষের দৃষ্টি সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আকাশে বিদ্যুৎ-ঝলকের ফলে চলার পথে মানুষের দৃষ্টি শক্তির যে প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি হয় আলোচ্য আয়াতে আল্লাহপাক ‘ইয়াফু’ শব্দ দ্বারা তা চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
References: 1. The Holy Quran: Abdullah Yusuf Ali 2. Science Encyclopedia: Vol-1, First Published Nov. 99 Bangla Academy, Dhaka.