📄 আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
وَ مِنَ آيَتِهِ أَنْ يُرْسِلَ الرِّيَاحَ مُبَشِّرَاتٍ وَلِيُذِيْقَكُمْ مِنْ رَحْمَتِهِ.
And among His signs is this that He sends the winds as bearer of glad tidings and that He may make you taste of His mercy.
আর আল্লাহর নির্দেশনা সমুহের একটি এই যে, তিনি সুসংবাদবাহী (পূর্বাভাস) বায়ু প্রেরণ করেন যাতে তার অনুগ্রহ তোমরা আস্বাদন করতে পার। (রূম-৪৬)
ঝড়, বৃষ্টি, সাইক্লোন প্রভৃতি শুরু হওয়ার আগে এমন একটি বায়ু প্রবাহিত হয় যার মধ্য থেকে মেটোরোগ্রাফ (meteorographs) অঙ্কন করা যায়। অর্থাৎ তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, বজ্রবৃষ্টি (thunderstorms) জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতির সার্বিক মানচিত্র পাওয়া যায় এবং এ মানচিত্র আগেভাগে দেওয়ার নাম আবহাওয়ার পূর্বাভাস। আল-কোরআন এটাকে বলেছে সুসংবাদবাহী পূর্বাভাস। সাধারণত আবহাওয়ার পূর্বাভাস তিন প্রকার,
(১) স্বল্পকালীন পূর্বাভাস (short range forecast)-- যার মেয়াদ ৪৮ ঘণ্টা।
(২) মধ্যমেয়াদী পূর্বাভাস (medium range forecast) -- যা এক সপ্তাহের জন্য দেওয়া হয়।
(৩) দীর্ঘ মেয়াদী পূর্বাভাস (Long range forecast) --যা সাধারণত ছয় বা আট মাস আগে দেওয়া হয়।
আবহাওয়া পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য প্রথমেই আবহাওয়ার মানচিত্র (weather map) দরকার। সারা পৃথিবীতে অসংখ্য আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র আছে। প্রতিটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য টেলিগ্রাফ, টেলিপ্রিন্টার বা বেতারের মাধ্যমে মূল কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে এ তথ্যগুলি একটি মানচিত্রে সাংকেতিকভাবে অঙ্কন করা হয়। এবার যে সব জায়গায় বায়ুর চাপ সমান, তাদের একটি রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়। এ রেখাকে বলা হয় সমচাপ রেখা। এ সমচাপ রেখা টেনে উচ্চ চাপ অঞ্চল নিম্নচাপ অঞ্চলকে পরস্পর থেকে আলাদা করা হয়। নিম্নচাপ অঞ্চলে যে সমচাপ রেখা (Isobar) প্রতিভাত হয় তার মান সবচেয়ে কম। নিম্নচাপ অঞ্চলকে ঘিরে ক্রমশ আরো সমচাপ রেখা টানা হয়। তাদের মান ক্রমশ বাড়ে। এভাবে সমতাপ রেখা (Isotherm) ও সমবৃষ্টি রেখা (Isohyete) ইত্যাদির সাহায্যে ঐ মানচিত্রটিকে সম্যক বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্লেষিত মানচিত্রটি থেকে নিকটবর্তী অঞ্চলে কোন নিম্নচাপ ক্ষেত্র আছে কি নেই, বা কোন প্রকার আবহাওয়া প্রণালী এ মানচিত্রে প্রকাশ পেয়েছে কি না তা বোঝা যায়। যদি তাই হয় তাহলে লক্ষ্য রাখা হয় সে নিম্নচাপ বা আবহাওয়া প্রণালী কোন দিকে সরে যাচ্ছে। এভাবে একটা ধারণা করা হয় যে, আগামী দু'একদিনে কোনদিকে আবহাওয়া প্রণালী সরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী, বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয় সেদিকেই। আবহাওয়া প্রণালীটি যতই প্রবল হবে বৃষ্টিপাতও ততবেশী প্রবল হবে বলে ধরা হয়। আর সমচাপ রেখাগুলি যতই ঘন সন্নিবিষ্ট হবে কিংবা নিম্নচাপ ক্ষেত্রটি যতই গভীর হবে বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ততবেশী হবে। এর কারণ হচ্ছে উপরোক্ত অবস্থায় চারপাশ থেকে বায়ুপ্রবাহ প্রচণ্ড বেগে ছুটে এসে ঐ গভীর নিম্নচাপ ক্ষেত্রটি ভরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। এভাবে ঝড়, বৃষ্টি, সাইক্লোন প্রভৃতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
وَهُوَ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَى رَحْمَتِهِ حَتَّى إِذَا أَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا مُقْنَهُ لَبَلَدٍ مَيِّتِ فَأَنْزَلْنَا بِهِ الْمَاءَ فَأَخْرَجْنَا بِهِ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ.
And it is He Who sends the gentle winds like heralds of glad tidings, going before His mercy. When they have carried the heavy laden clouds, We drive them to a land that is dead, then We cause rain to descend thereon and produce every kind of harvest therewith.
তিনিই সে সত্তা যিনি অনুগ্রহ পূর্বক বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানি পূর্ণ মেঘমালা বয়ে আনে। তখন আমরা সেই মেঘমালাকে কোন শুষ্ক ভূখণ্ডের দিকে পরিচালিত করি। অতঃপর সেই মেঘমালা থেকে বারি বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সর্বপ্রকার ফসল উৎপন্ন করে দিই। (আ’রাফ-৫৭)
আজকাল কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে আবহাওয়া পরিস্থিতি নিরূপণ করা হয়। ১৯৬০ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র সর্বপ্রথম আবহাওয়া নিরূপণ কৃত্রিম উপগ্রহ (Weather satellite) মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছিল। এ উপগ্রহ উত্তর দক্ষিণে বা দক্ষিণ উত্তরে যেত এবং দুই মেরুর উপর দিয়ে পৃথিবীর চারদিকে পাক খেত। এগুলোর উচ্চতা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০০-১৬০০ কিঃমিঃ এর মতো এবং পৃথিবীর চারদিকে একপাক ঘুরতে সময় নিত প্রায় ১০০-১২০ মিনিট। এই কৃত্রিম উপগ্রহগুলি নিচের দিকে শক্তিশালী ক্যামেরাযুক্ত এবং প্রতি দু'মিনিট অন্তর ছবি তুলতে থাকে। ছবিগুলিকে বেতার তরঙ্গে পরিণত করে আবহাওয়া চিত্র বেতারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়। ভূপৃষ্ঠে পর্যবেক্ষণ কক্ষে গ্রাহক যন্ত্রে ঐ বেতার তরঙ্গ আবার চিত্রে রূপান্তরিত করার ব্যবস্থা আছে। এ ব্যবস্থার নাম Automatic Picture Transmission Unit বা APT। বর্তমানে আরো অত্যাধুনিক INSAT উপগ্রহের মাধ্যমে আবহাওয়া পরিস্থিতি নিরূপণ করা হয়। এ উপগ্রহ পৃথিবীর উপর নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোনো বিশেষ দ্রাঘিমার উপর অবস্থান করে। এর উচ্চতা ৩৮০০০ কিঃমিঃ এবং এটি পৃথিবীর সাথে সমান তালে পাক খেয়ে যায়। অনেক উপরে থাকার দরুন INSAT উপগ্রহ একটি বিরাট অঞ্চলের ছবি তুলতে পারে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে বেতার সংকেত পাঠিয়ে যখন খুশি এ ছবি পাওয়া যায়। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে যখন সাইক্লোন ঝড় বৃষ্টি হয়ে ধীরে ধীরে তটভূমির দিকে অগ্রসর হয়, তখন কোথায় এ ঝড়টি আছড়ে পড়বে এটি জানা বিশেষ প্রয়োজন। কারণ সে অঞ্চলের লোকজনকে প্রচণ্ড ঝড় এবং সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাসের জন্য সতর্ক করা একান্ত দরকার। এ সময়ে INSAT উপগ্রহ থেকে পাঠানো ছবিগুলি অত্যন্ত কার্যকর হয়ে থাকে।
📄 মেঘ সৃষ্টি
মেঘ সৃষ্টি
জলীয় বাষ্প থেকে মেঘ সৃষ্টি হয়। জলীয় কণা যখন সাগর, নদ-নদী, খাল-বিল থেকে বাষ্পাকারে উপরে ওঠে, তখন সেটা চারপাশের বায়ুস্তরের চেয়ে হালকা হয়ে যায়। ফলে জলীয় বাষ্প উৎপন্ন হয়েই উপরের দিকে উঠতে থাকে। আবার ঊর্ধ্বগামী বায়ুপ্রবাহ ক্রমশ শীতল হয়ে আসে এবং ঘনীভবনের মাধ্যমে সেটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। যদি সংশ্লিষ্ট বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা বা কোনো রাসায়নিক পদার্থ কিংবা লবণের ক্ষুদ্রকণা অথবা আর অন্য কোনো কণা না থাকে তাহলে বাতাসের আর্দ্রতা ৩২০% না হলে ১০-৭ সেন্টিমিটার ব্যাসার্ধের জলকণা তৈরি হবে না। ১০-৫ সেন্টিমিটার ব্যাসার্ধের জলকণা সৃষ্টি করতে গেলে বাতাসের আর্দ্রতা অন্তত ১১০% হওয়া চাই। কিন্তু এত বেশি আর্দ্রতা সাধারণত বাতাসে সৃষ্টি হয় না। অথচ আর্দ্রতা এর চেয়ে কম হলে জলীয় বাষ্প দ্রবীভূত হবেই না। তাহলে মেঘ সৃষ্টি হয় কেমন করে?
আসলে বাতাসে বর্তমান লবণ কণা এবং অন্যান্য ভাসমান পদার্থই মেঘ সৃষ্টি করতে সাহায্য করছে। দেখা যায় বাতাসে যদি লবণের ক্ষুদ্র কণা প্রচুর পরিমাণে থাকে, তাহলে ৭৮% আর্দ্রতাতেই মেঘ তৈরি হয়। সমুদ্রের উপরস্থ বায়ুমণ্ডলে এ লবণ কণাগুলি সব সময়ই বিরাজমান। মহাসাগরীয় বাতাসে প্রতি লিটারে লবণ কণাও অন্যান্য রাসায়নিক কণার সংখ্যা ১০ লক্ষের মতো। আর স্থল ভাগে এর সঙ্গে ধূলিকণা ও প্রকৃতির অন্যান্য উৎস থেকে উৎসারিত জলকণা যুক্ত হয়ে এ কণাগুলির সংখ্যা দাঁড়ায় প্রতি লিটারে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ। মেঘ আর কিছুই নয় এ জলকণাগুলির সমষ্টি মাত্র। সুতরাং মেঘ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি আল্লাহ তা'আলার পরিকল্পনা।
اللَّهُ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَيَبْسُطُهُ فِي السَّمَاءِ كَيْفَ يَشَاءُ وَيَجْعَلُهُ كِسَفًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلْلِهِ.
It is Allah Who sends the winds so that they raise the clouds. Then He spreads it in the sky as He pleases and places it layer upon layer and you see the rain issuing forth from that.
📄 মেঘমালা
আকাশে মেঘের দিকে তাকালেই বুঝা যায় যে, সব মেঘ এক রকমের নয়। এক এক মেঘের এক এক চেহারা। আকৃতি অনুযায়ী মেঘকে মোট চার ভাগে ভাগ করা যায়। (১) পুঞ্জ মেঘ (Cumulus) (২) স্তর-মেঘ (Stratus) (৩) ঊর্ণা-মেঘ (Cirrus)। এ তিন রকম মেঘের সমষ্টিকে বলা হয় নিম্বাস (Nimbus)।
(১) আকাশে পুঞ্জ-মেঘের নানা পরিবর্তন ঘটে থাকে। এটি যখন ছোট ছোট হংসবলাকার মত ভেসে বেড়ায় তখন তাকে বলা হয় Fair weather cumulus. আবার এ মেঘ যখন ফুলকপির আকারে মাথাচাড়া দিয়ে মধ্যস্তরে পৌঁছে তখন তার নাম Large cumulus. কখনো কখনো এ মেঘ আরো বর্ধিত হয়ে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছবার চেষ্টা করে। কিন্তু ট্রপোস্ফিয়ারের বায়ু কখনো স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে যেতে পারে না। তাই ট্রপোস্ফিয়ারের কাছে এসে বায়ুটা আর উপর দিকে না গিয়ে ঐ স্তরের চার পাশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন যে মেঘ সৃষ্টি হয় তা থেকে প্রচন্ড বৃষ্টিপাত, মাঝে মাঝে শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাতও হয়ে থাকে। এর নাম Thunder cloud.
(২) স্তর মেঘ যখন ভূপৃষ্ঠে থাকে তখন তার নাম কুয়াশা। শীতের ভোরে অনেক সময় দেখা যায় সারা আকাশ মেঘে ঢাকা। বায়ুমণ্ডলে একটা ভিজে ভিজে ভাব। হঠাৎ মেঘে ঢাকা আকাশে একটা ফুটো হয়ে গিয়ে এক ঝলক সূর্যালোক ঠিকরে পড়ে। ক্রমে ক্রমে জমাট বাঁধা মেঘ ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হতে থাকে। তখন টুকরা মেঘগুলো নিচু হাওয়ার সঙ্গে শাঁ শাঁ করে ছুটে চলে। এদের বলা হয় নিম্ন স্তর মেঘ। স্তর মেঘ যখন ৩০০০ মিটার থেকে ৬০০০ মিটার পর্যন্ত অবস্থান করে, তখন এর নাম হয় মধ্যস্তর মেঘ (Alto-Stratus)। এ মেঘ প্রায় সারা আকাশে ছড়িয়ে থাকে এবং যদি কোন কারণে ঘন বিস্তৃত হয় তাহলে তা থেকে টিপটিপ বৃষ্টি হয়। স্তর মেঘ যদি উচ্চ স্তরে গঠিত হয়, তাহলে তার নাম হয় উচ্চস্তর মেঘ (Cirro-Status)। এ মেঘও প্রায় সারা আকাশে ছড়িয়ে থাকে।
(৩) এবার ঊর্ণা-মেঘ। এ মেঘ দেখতে মাকড়সার পাতলা জাল বা ঘোড়ার লেজের মত। এ মেঘ তৈরী হয় প্রায় ৭৫০০ মিটার থেকে ৮০০০ মিটারের মধ্যে।
(৪) নিম্বাস মেঘ। এ মেঘ সব রকম মেঘের সমাহার। যখন মধ্যস্তর মেঘ প্রচুর জল সঞ্চয় করে অত্যন্ত ঘন হয়, তখন ভারী হয়ে সেটা ২০০০ মিটার উচ্চতায় নেমে আসে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে দেখলে এ মেঘকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ দেখায়। সকালে কিংবা দুপুরে নিম্বাস মেঘের কারণে সন্ধ্যাকালীন অন্ধকার নেমে আসে। যদি আকাশে নিম্বাস মেঘ থাকে আর তখন ঘুমন্ত কাউকে হঠাৎ জাগিয়ে প্রশ্ন করা হয়, বলতো, এখন ক'টা বাজে? তার পক্ষে সঠিক সময় বলা কঠিন হবে। এ মেঘ সকাল আর দুপুরকে সন্ধ্যার অন্ধকারে একাকার করে দেয়। এ বিশেষ ধরনের মেঘের নাম নিম্বোস্ট্রাটাস (nimbostratus)। সুতরাং মেঘের মধ্যে অন্ধকারের বিভিন্ন স্তর আছে বলে আমরা ধরতে পারি। তাই আলোচ্য আয়াতে 'জুলোমাত' শব্দ দ্বারা এর ইঙ্গিত করা হয়েছে।
اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ يُزْجِي سَحَابًا ثُمَّ يُؤَلِّفُ بَيْنَهُ ثُمَّ يَجْعَلُهُ رُكَامًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلٰلِهِ وَيُنَزِّلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمِنْ جِبَالِ فِيهَا مِنْ بَرَدٍ فَيُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَصْرِفُهُ عَنْ مَنْ يَشَاءُ.
See you not that Allah directs the clouds gently, then joins them together, then piles them up so that you can see the rain comes forth from between them And He sends down from the sky (cloud like) mountains wherein is hail and He strikes therewith whom He wills and averts it from whom He wills.
তিনি আল্লাহ যিনি বায়ু প্রেরণ করেন। যেন তা মেঘমালাকে উত্থিত করে। অতঃপর মেঘরাশিকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে স্থাপন করেন। এরপর তোমরা দেখতে পাও তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। (রুম-৪৮)
وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَآيٰتُ لِقَوْمٍ يَّعْقِلُونَ.
In the change of the winds and in the clouds obedient between the sky and the earth; indeed there are signs for a people that are wise.
আবহাওয়া পরিবর্তনে আর মেঘমালায়, যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আকাশ ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই জ্ঞানী লোকদের জন্য রয়েছে এখানে অনেক নির্দেশনা। (বাকারা-১৬৪)
📄 মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত
এর পূর্বের আলোচনায় আমরা দেখেছি জলকণার ব্যাসার্ধ যত ছোট হবে, ততই বাষ্পের দ্রবীভূত হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বড় ফোঁটা তৈরি করতে গেলে লবণকণা, ধূলিকণা বা অন্যান্য ক্ষুদ্র দ্রবণীয় কণা বাতাসে থাকা একান্ত প্রয়োজন। এসব কণা বায়ুতে যখন বিরাজ করে তখন জলবিন্দু সৃষ্টি হয়ে সেগুলো ঊর্ধ্বগামী বায়ুপ্রবাহের মুখে পড়ে অপেক্ষাকৃত শীতল অঞ্চলে এসে হিমাঙ্ক স্তরের উপরে উঠলে কিছু জলবিন্দু অতি শীতল হয়ে যায়। আর কিছু জলবিন্দু বরফের কুচিতে পরিণত হয়। সেখানে অতিশীতল জলবিন্দুগুলো খুব শীঘ্রই বাষ্পীভূত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঐ অঞ্চলে পাশাপাশি যে হিমকণাগুলো আছে তার উপরে জমা হয়ে যায় এবং সেগুলো আকারে বাড়ে। বড় আকারের হিমকণাগুলো যখন নিজের ভারে নিচে নামতে থাকে তখন ছোট ছোট জলবিন্দুগুলো এর গায়ে লেগে বড় বড় ফোঁটা তৈরি করে। তখন জলবিন্দুর ব্যাসার্ধ ১ মিলিমিটার বা তার চেয়ে বেশি হয়ে যায়। তখনই ঐ জলবিন্দুগুলো বৃষ্টির আকারে ঝরে পড়ে।
وَأَنْزَلْنَا مِنَ الْمُعْصِرَاتِ مَاءً ثَجَّاجًا .
And We send down water from the rain-laden clouds in abundance.
আর আমরা জলধারী মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত করি।
وَاللَّهُ أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا إِنَّ فِي ذلِكَ لَآيَةً لِلْقَوْمِ تَسْمَعُونَ.
And Allah sends down rain from the sky and give life to the earth after its death; Verily in this is a sign for those who listen.
আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তা দ্বারা নির্জীব জমিনকে সজীব করেন। নিশ্চয়ই এতে শ্রবণকারীদের জন্য রয়েছে নিদর্শন।
পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানি অত্যন্ত নির্মল এবং বিশুদ্ধ। নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর থেকে বাষ্পাকারে উৎক্ষিপ্ত জলকণা হিমাঙ্ক স্তরে পৌঁছলে তা থেকে লবণ এবং অন্যান্য রাসায়নিক কণা মুক্ত হয়ে যায় এবং বাতাস তা শুষে নেয়। ফলে বৃষ্টির পানি পাতিত জলের মতো স্বচ্ছ এবং বিশুদ্ধ অবস্থায় ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়। যা পান করার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا .
And We send down pure water from the sky.
আর আমরা আকাশ থেকে বিশুদ্ধ বারি বর্ষণ করি।
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لَكُمْ مِّنْهُ شَرَابٌ وَمِنْهُ شَجَرٌ فِيْهِ تُسِيمُونَ.
He It is Who sends down water for you from clouds, out of it you have your drink and there grows the vegetation on which you pasture your cattle.
তিনি তোমাদের জন্য মেঘ থেকে বারি বর্ষণ করেন। যা থেকে তোমরা পান কর এবং তা দিয়ে তৃণরাজি উৎপন্ন হয়, যার উপর তোমরা পশুচারণ কর।
অতএব, মৌসুমী বিজ্ঞানে বর্ণিত মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, তুফান, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ঋতু পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয়ের পরিকল্পনা, পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ করেন যিনি- তিনি কে?
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ نَزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ.
And if indeed you ask them who it is that sends down rain from the sky and gives life therewith to the earth after its death, they will certainly reply, 'Allah'! say, 'praise is due to Allah but most of them understand not.
আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা ভূমিকে মৃত অবস্থা থেকে সঞ্জীবিত করেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে, 'আল্লাহ'। বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্যে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা বুঝেনা।