📘 Biggan moy quran > 📄 Closed Big Bang

📄 Closed Big Bang


Closed Big Bang
মহাবিশ্বের সকল বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণকে বলা হয় Gravitational Force বা মহাকর্ষীয় শক্তি। সৌরজগতের গ্রহগুলি সূর্যের আকর্ষণে আবর্তিত হয়। উপগ্রহ গ্রহের আকর্ষণে ঘুরে। গ্রহাণুপুঞ্জ সূর্যের চারদিকে ঝাঁক বেধে পরিক্রমণ করে। এভাবে একক গ্যালাক্সি গুচ্ছ গ্যালাক্সির টানে ঘুরে। অর্থাৎ প্রত্যেকটি বস্তু একে অপরের সাথে মিলতে চায়। কিন্তু এ মিলন ঘটতে পারে না যে কারণ তা হচ্ছে Force of expansion। অর্থাৎ মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ গতির ফলে Space সৃষ্টি হয়। ফলে পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়।
আর যদি সম্প্রসারণ গতি ক্রমান্বয়ে থেমে যায়, তাহলে মহাকর্ষীয় টানে গ্রহ, নক্ষত্রগুলি পরস্পরের কাছাকাছি এসে যাবে। তখন প্রচন্ড সংঘর্ষ শুরু হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সম্প্রসারণ গতি থামবে কিনা? এ বিষয়ে একটি তথ্য দেয়া হয়েছে যে, মহাকর্ষ শক্তি সম্প্রসারণ (expansion) বন্ধ করতে পারবে কিনা, তা নির্ভর করছে মহাজাগতিক পদার্থের গড় ঘনত্বের উপর। এর তাত্ত্বিক প্রতিরূপগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এ ঘনত্ব যদি সংকট ঘনত্ব (critical value) থেকে বেশী হয় তাহলে মহাকর্ষ যথেষ্ট পরিমাণে শক্তিশালী হবে। ফলে মহাবিশ্বের প্রসারণ বন্ধ করে মহাসংকোচের দিকে নিয়ে যাবে। এ অবস্থাকে Closed Big Bang বলা হয়েছে। আমেরিকান বিজ্ঞানী Freeman Dyson এটাকে Big Crunch বলেছেন। অর্থাৎ পুনরায় মহাজগত একটি বিন্দুতে এসে বিস্ফোরিত হবে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো থেকে দেখা যায় মহাকাশে নতুন নতুন নক্ষত্র, কোয়াসার তথা নতুন গ্যালাক্সি জন্ম নিচ্ছে, যার দরুন মহাজাগতিক গড় ঘনত্ব প্রভাবিত হচ্ছে। আবার বিশ্বের প্রতিটি পরমাণুর ভেতর ১০ কোটি নিউট্রিনো (Neutrino) আছে। তাদের পরিমাণও বিশাল ভরে সমৃদ্ধ এবং তাদের মোট ওজন মহাবিশ্ব Closed করার জন্য যথেষ্ট। তাছাড়া বিপুল পরিমাণ মহাজাগতিক ধূলি (Cosmic Dust) মহাবিশ্বের গড় ঘনত্ব বৃদ্ধি করে চলেছে, যেমন প্রতি বছর ১০ হাজার টন ধূলি কণা শুধু পৃথিবী গ্রহে পতিত হয়। এখন মহাকাশে অনেক কৃষ্ণবিবরের (black hole) সন্ধান পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করে থাকেন মহাকর্ষের টানে নক্ষত্রগুলো পরস্পরের নিকটবর্তী হলে সংঘর্ষ বাধে। যার কারণে এ Black Holeগুলো সৃষ্টি হয়েছে।
Scientific Indications in the Holy Quran, গ্রন্থে উদ্ধৃত করা হয়েছে, "A time will come when the force of gravitation is strong enough, then expansion will gradually stop. As a result the universe will begin to contract and finally collapse with a big explosion into a ultra small size of matter."

এখন মহাবিশ্বের Closed Big Bang সম্পর্কে আল-কোরআন যে তথ্য দিয়েছে তা হচ্ছে,
يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِ لِلْكُتُبِ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا طَ إِنَّا كُنَّا فُعِلِينَ.
The Day when We will roll up the heavens like a scroll rolled up for books and as We began the first creation similarly shall We repeat it.
সে দিন আমরা মহাবিশ্ব (মহাকাশ) গুটিয়ে নেব যেমনি করে গুটিয়ে নেয়া হয় লিখিত বইপত্র। আর প্রথমবার সৃষ্টি করার সময় আমরা যেভাবে (Big Bang) আরম্ভ করেছিলাম অনুরূপভাবে তা রিপীট করা হবে। (আম্বিয়া-১০৪)
গুটিয়ে যাওয়া বই-পত্রের মত মহাবিশ্ব যে গুটিয়ে যাবে তার ইঙ্গিত বহন করে বিশ্বজগতের চূড়ান্ত অবস্থার কর্মসূচী, যা বিজ্ঞানী Freeman নকশার মাধ্যমে তুলে ধরে দেখিয়েছেন। তিনি এ মর্মে মত ব্যক্ত করেছেন যে, মহাবিশ্ব সংকুচিত হয়ে একটি বিন্দুতে এসে যে Big crunch ঘটাবে সে-ই বিগ ক্রাঞ্চের প্রায় ১ বিলিয়ন বছর পূর্বেই গ্যালাক্সি সমূহের মধ্যকার ফাঁকা জায়গা গুটিয়ে আসবে। ১০০ মিলিয়ন বছর পূর্বে একক গ্যালাক্সির শূন্যস্থান (space) সংকুচিত হবে। তখন বিশ্বজগত কেবলমাত্র তারকারাজীতে পূর্ণ হয়ে যাবে এবং তারকাগুলো একে অপরের এত কাছে এসে পড়বে যে, সেগুলো একসঙ্গে একটি বিশালাকার সূর্যের মত হয়ে কিরণ বিচ্ছুরিত করবে। এক সময়ে নক্ষত্রসমূহের মধ্যে বিরাট সংঘর্ষ ঘটবে। এর ফলে অসংখ্য কৃষ্ণবিবর (Black holes) সৃষ্টি হবে। অবশেষে এসব কৃষ্ণবিবর একে অপরকে আকৃষ্ট করে একাকার হয়ে যাবে এবং তারা একটি অতি উষ্ণ, অসীম ঘনত্বের বস্তুপিণ্ড তৈরি করবে। আর এটি-ই হলো Closed Bang বা Big crunch.
Closed Big Bang theory-তে যা বলা হয়েছে আল-কোরআনের উক্ত আয়াত তার চেয়েও স্পষ্ট। শুরুতে যে মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) ঘটেছিল সমাপ্তিতেও মহাবিস্ফোরণ ঘটিয়ে মহাবিশ্ব গুটিয়ে ফেলা হবে।
إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ.
It shall be a Big Blast and they will be brought before Us.
এটি হবে এক মহাবিস্ফোরণ, আর তারা সবাই আমার সমীপে সমবেত হবে। (ইয়াসীন-৫৩)
إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انْتَتَرَتْ.
The day when the firmament is cleft asunder and the planets scattered.
সেদিন আকাশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং গ্রহ সমূহ ছড়িয়ে পড়বে। (ইনফিতার-১-২)
إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ.
When the sky is cleft asunder.
সে দিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে পৃথক হয়ে যাবে। (ইনশিকাক-১)
كَلَّا إِذَا دُكَّتِ الْأَرْضُ دَكَّا دَكَّا .
When the earth is pounded to powder.
সেদিন পৃথিবী চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গুঁড়ো হয়ে যাবে। (ফজর-২১) এ আয়াত থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, পৃথিবী নামক গ্রহটি চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে কিভাবে পাউডারে পরিণত হবে।
পৃথিবীর নিম্নদেশে একটি নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত ভূ-ত্বকের (crust) অবস্থান। ভূ-ত্বকের নীচে একশ' কিলোমিটার পুরু একটি স্তর আছে। এ স্তর শীতল ও কঠিন। এ স্তরকে বলা হয় অশ্বমন্ডল। (Lithosphere)। আমাদের গ্রহের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো এ বিষয়ের মধ্যে এমনভাবে সম্পৃক্ত যে, অশ্বমন্ডলসহ পৃথিবীর উপরিভাগ ভেঙ্গে কয়েকটি শক্ত লিথোস্ফিয়ারিক প্লেটে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। লিথোস্ফিয়ারের নীচে একটি অঞ্চল আছে যার ব্যাপ্তি হলো নিম্নে ১০০ কিঃ মিঃ থেকে ২৫০ কিঃ মিঃ এর মধ্যে। এ অঞ্চলের উপরাংশ বা আবরণ উত্তপ্ত এবং অপেক্ষাকৃত গলিত প্লাস্টিকের মত তলতলে। এ স্তরের নাম নমনীয় মন্ডল (Aesthenosphere)। নমনীয় মন্ডলের মধ্যকার থার্মাল কনভেকটিভ গতিবেগের (thermal convective motion) দ্বারা লিথোস্ফিয়ারিক প্লেটগুলো চালিত হয়। যখন সাত বিলিয়ন বছর পর সূর্য বিশাল রক্তিম দৈত্যে (Red giant) পরিণত হবে এবং বুধ ও শুক্রের মত গ্রহগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে এবং পৃথিবীর কক্ষপথে এসে উপনীত হবে তখন পৃথিবীর উপরিভাগের তাপমাত্রা অতি মাত্রায় বেড়ে যাবে এবং এ্যান্থেনোস্ফিয়ারের কনভেকটিভ গতিবেগ দ্রুত ও দিক-বেদিক হয়ে পড়বে। অতি দ্রুত গতিতে লিথোস্ফিয়ারিক প্লেটগুলো একে অপরের গায়ে ভয়ংকরভাবে ধাক্কা মারবে। ফলে পৃথিবী কাঁপতে থাকবে এবং এ কম্পন হবে বিরামহীন। পাহাড়-পর্বতসহ পৃথিবীর উপরাংশের সবকিছু অতি উত্তাপে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। আর এভাবেই সবকিছু পাউডারে পর্যবসিত হবে।
When the earth is shaken with a great shake and the hills are ground to powder so that they become a scattered dust.
সেদিন পৃথিবী বিরাট ঝাঁকুনি খেয়ে কম্পিত হয়ে উঠবে। পাহাড়গুলো গুঁড়ো হয়ে পাউডারে পরিণত হবে এভাবে যে, সবগুলো ধূলি-কণার আকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। (ওয়াকিয়া-৪-৬)

অতএব, মহাবিশ্বের সমাপ্তি ঘটবে এমন এক সময়ে যখন এর গড় ঘনত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং মহাকর্ষীয় শক্তির প্রাবল্য বেগবান হবে। সাথে সাথে সম্প্রসারণ গতি থেমে যাবে। ফলে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, কোয়াসার, প্রভৃতি জ্যোতিষ্ক মহাকর্ষীয় টানে পরস্পরের নিকট এসে সংঘর্ষ শুরু করবে। বিশাল মহাজগৎ একটি বিন্দুতে এসে Closed হবে। এটাই হচ্ছে মহান স্রষ্টার নির্ধারিত সিদ্ধান্ত এবং তা অতি সত্য।
সম্প্রতি, Closed Big Bang বা Closed Universe তত্ত্বে বিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মহাবিশ্ব (Whole universe) একটি বিন্দুতে Closed হওয়ার পর এমন এক শক্তিধর সত্তা দৃশ্যমান হয়ে ওঠবে যিনি মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ শক্তি (Gravitation and gravity) দ্বারা সমগ্র সৃষ্টি জগৎকে ধারণ করে রেখেছিলেন। তাহলে এ মহাশক্তিধর সত্তা কে?
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
All that is in the Universe will perish. And the presence of your Lord will remain forever who is full of Majesty - Bounty and Honour.
মহাবিশ্বের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে আর আপনার একমাত্র প্রভুর সত্তা অবশিষ্ট থাকবে যিনি মহীয়ান ও গরীয়ান। (রহমান-২৬-২৭)
References:
1. Scientific Indications in the holy Quran: Islamic Foundation Bangladesh. 2nd Edition.
2. Quranic Sciences: Afzalur Rahman. Muslim Schools Trust, London.
3. Science in the Quran: Akbar Ali. Prof., Dhaka University.
4. William K. Hatman: Astronomy the cosmic Journey, 3rd Edition.
5. National Geographic, June, 1983.
6. A Brief History of Time: Stephen Hawking.
7. The Ultimate fate of the Universe: Jamal N. Islam, 1st Published 1983

মুমিনের জন্য কারাগার
১১৪. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
"দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাত।”
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ এই হাদীস বর্ণনা করার পর বলেন, “দুনিয়াতে প্রত্যেক মুমিন বিষণ্ণ ও ভারাক্রান্ত থাকে। কারণ, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মুমিন বান্দাকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে পার হতে হবে। জাহান্নাম পার হওয়ার সময় সে তা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে, এরকম সংবাদ তো তার কাছে আসেনি। আল্লাহর কসম, মুমিন বান্দার যত অসুখ হয়, বিপদে পড়ে, কঠিন বিষয়ের মুখোমুখি হয়, জুলমের শিকার হয় কিন্তু কোনো প্রতিকার করতে পারে না, এসবের জন্য সে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান আশা করে। এভাবেই সে দুনিয়াতে দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে দিনযাপন করে এবং একসময় দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রশান্তি ও সম্মান প্রদান করা হয়।" [১২৮]

কল্যাণ লাভের একটি উপায়
১১৫. সালিম ইবনু আবিল জা'দ থেকে বর্ণিত আছে, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম বলেছেন,
طُوبَى لِمَنْ خَزَنَ لِسَانَهُ، وَوَسِعَهُ بَيْتُهُ، وَبَكَى عَلَى خَطِيئَتِهِ
“ওই ব্যক্তির কল্যাণ হোক যে তার জিহ্বাকে সংযত রেখেছে, যার গৃহ তার (ইবাদাতের) জন্য প্রশস্ত এবং যে তার পাপকাজের জন্য (অনুতপ্ত হয়ে) কান্না করেছে।" [১২৯]

সে আলিম হওয়ার উপযুক্ত নয়
১১৬. আবদুল আ'লা তাইমি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাকে ইলম দান করা হয়েছে, অথচ ওই ইলম তাকে কাঁদায় না, তা হলে সে উপকারী ইলম পাওয়ার উপযুক্তই নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা আলিমগণের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন এভাবে-
إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِن قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِن كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولًا وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا
"যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তাদেরকে যখন এটা শুনানো হয় তখন তারা সাজদায় লুটিয়ে পড়ে। এবং বলে ওঠে—পবিত্র আমাদের রব, আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি তো পূর্ণ হয়েই থাকে। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা শুনে তাদের বিনয় আরও বেড়ে যায়।" [১৩০]-[১৩১]

দুঃখ-যাতনাও ইবাদাত
১১৭. মালিক ইবনু মিগওয়াল এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মনের দীর্ঘ দুঃখ-যাতনাও আল্লাহর ইবাদাত।”[১০২]

একটি আয়াতের ব্যাখ্যা
১১৮. মুবারাক ইবনু ফুদালা থেকে বর্ণিত আছে, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ ۞
“তোমরা কি এই কথায় বিস্ময়বোধ করছ! এবং হাসি-ঠাট্টা করছ! কান্না করছ না?”[১৩৩] তারপর বললেন, "আল্লাহর কসম, এই ব্যাপারে সে ব্যক্তিই সবচেয়ে বুদ্ধিমান যে কেঁদেছে। তাই তোমরা (তোমাদের) হৃদয়গুলোকে কাঁদাও। (নিজেদের) কর্মের জন্য কেঁদে দুঃখপ্রকাশ করো। কাঁদলে দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। (না কাঁদলে) তার হৃদয় পাষাণ।”[১৩৪]

প্রতিদান হবে ধৈর্যের সমপরিমাণ
১১৯. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মনের কষ্ট নির্ভর করে অন্তর্দৃষ্টির ওপর।" [১৩৫]

কান্নার ব্যাপারে পাপীর অভিনয়
১২০. শুআইব জুবায়ি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যখন মানুষের পাপ পূর্ণতা পায়, তখন চোখ তার আয়ত্তে চলে আসে। যখনই সে কাঁদতে চায় কাঁদতে পারে।" [১৩৬]

তিনটি উপদেশ
১২১. আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলল, “হে আবূ আবদুর রহমান, আমাকে উপদেশ দিন।” আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তোমার বাড়ি যেন কঠোর সাধনার (জায়গা) হয়, তোমার পাপকাজের কথা মনে করে কান্না করো এবং জিহ্বাকে সংযত রাখো।”[১৩৭]

কাঁদতে না পারলে কান্নার ভান করা
১২২. আরফাজাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “কেউ কাঁদতে পারলে সে যেন কাঁদে; আর যে কাঁদতে পারে না, সে যেন কান্নার ভান করে।”[১৩৮]

তাওবাকারীদের মন সবচেয়ে নরম
১২৩. আউন ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, উমর ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “তোমরা তাওবাকারীদের সান্নিধ্যে বসো, কারণ তাদের মন সবচেয়ে নরম।”[১৩৯]

আল্লাহর নিয়ামাতের বর্ণনা
১২৪. মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইবনু শাযারাহ রহিমাহুল্লাহ আমাদের উপদেশ দিতেন এবং কাঁদতেন। তাঁর কান্না ছিল তাঁর আমলের অনুরূপ। তিনি বলতেন, হে লোকসকল, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে যেসব নিয়ামাত দান করেছেন তা স্মরণ করো। তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামাতের কতই না চমৎকার প্রভাব রয়েছে! হায়! (জিহাদের) লাল, হলুদ, সাদা ও কালো বাহনগুলোর মধ্যে আমি যা দেখতে পাই, তোমরা যদি তা দেখতে পেতে! যখন সালাত কায়েম করা হয় তখন আসমান, জান্নাত এবং জাহান্নামের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়। আবার (জিহাদে) যখন দুটি দল মুখোমুখি হয় তখনও আসমানের দরজা এবং জান্নাত ও জাহান্নামের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আয়তলোচনা হুরদেরকে সাজানো হয়। তারা তাকিয়ে দেখতে থাকে। যখন কোনো ব্যক্তি এগিয়ে যায়, তারা বলতে থাকে, হে আল্লাহ, তুমি তাকে সাহায্য করো, তাকে দৃঢ়পদ রাখো। যখন কেউ পিছু হটে তারা মুখ ঢেকে ফেলে এবং বলে, হে আল্লাহ, তুমি তাকে ক্ষমা করো। হে জাতির বিশিষ্ট লোকেরা, তোমরা ঝাঁপিয়ে পড়ো। তোমাদের প্রতি আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক! তোমরা আয়তলোচনা হুরদেরকে লাঞ্ছিত কোরো না। শহীদের দেহ থেকে নির্গত প্রথম রক্তফোঁটাটি এমনভাবে তার পাপ মুছতে থাকে, যেভাবে গাছের ডাল থেকে পাতা ঝরতে থাকে। দুইজন আয়তলোচনা হুর তার কাছে নেমে আসে এবং তার চেহারা থেকে ধুলোবালি মুছে দেয়। তারা বলে, এখন তোমার সময় হয়েছে। সেও তাদেরকে বলে, এখন তোমাদের সময় হয়েছে। তারপর তাকে এক শ সেট কাপড় পরানো হয়, যেগুলোকে দুই আঙুলের মাঝে গুঁজে রাখা সম্ভব। এই কাপড় কোনো মানুষের বোনা নয়; বরং তা জান্নাতে উৎপাদিত। [১৪০]

নাজাত পাওয়ার উপায়
১২৫. উকবা ইবনু আমির জুহানি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, নাজাত কী? (কীভাবে নাজাত পাওয়া সম্ভব?) তিনি বললেন,
أَمْلِكُ عَلَيْكَ لِسَانَكَ، وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ، وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ
“তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখো। তোমার ঘর যেন কঠোর সাধনার (জায়গা) হয়, আর তোমার পাপকাজের কথা মনে করে কান্নাকাটি করো।” [১৪১]

জাতির উদ্দেশে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর উপদেশ
১২৬. মালিক ইবনু আনাস রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমার কাছে এই বাণী পৌঁছেছে যে, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম তাঁর জাতিকে বলেছেন, "আল্লাহর যিকর ছাড়া অন্য কথা বেশি বোলো না। কারণ এতে তোমাদের হৃদয় পাষাণ হয়ে যাবে। আর পাষাণ হৃদয় আল্লাহ তাআলা থেকে অনেক দূরে কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর মানুষের পাপের দিকে ধর্মগুরুদের দৃষ্টিতে তাকিয়ো না; বরং একজন বান্দার মতো তাদের পাপকাজগুলো দেখো। মানুষ তো দুই পর্যায়ে রয়েছে: একদল সমস্যায় আক্রান্ত, আর আরেক দলকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। যারা সমস্যায় আক্রান্ত তাদের প্রতি মমতা দেখাও এবং ক্ষমাপ্রাপ্তির জন্য আল্লাহর প্রশংসা করো।" [১৪২]

কথা অনুযায়ী কাজের হিসেব
১২৭. ইমাম শা'বী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “বক্তা (দুনিয়াতে) যে বক্তৃতা দেবে, কিয়ামাতের দিন তার কাছে তা পেশ করা হবে।" [১৪৩]

অধিক কথা বলায় অহংকার প্রকাশ পায়
১২৮. উমর ইবনু আবদিল আযীয রহিমাহুল্লাহ-এর অনুলেখক নুআইম ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত, উমর ইবনু আবদিল আযীয রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "অহংকার ও গৌরবের ভয় আমাকে বেশি কথা বলা থেকে বিরত রাখে।" [১৪৪]

খ্যাতি ও প্রসিদ্ধির ভয়
১২৯. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি বসরার এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "আমি একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। তাদের কারও কাছে প্রজ্ঞা ও হিকমতের কথা বলা হলে খ্যাতির ভয়ে সেগুলো প্রচার করা থেকে বিরত থাকতেন। অথচ তা প্রচার করলে তাদের সঙ্গীদের উপকার হতো। রাস্তার ওপর কোনো কষ্টদায়ক বস্তু দেখলে খ্যাতির ভয়ে তারা সেটা সরাতেন না।" [১৪৫]

টিকাঃ
[১২৮] মুসলিম, ২৯৫৬, প্রথম অংশ মুরসাল, দ্বিতীয় অংশ মাওকুফ।
[১২৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৫৫, সনদ সালিম পর্যন্ত সহীহ।
[১৩০] সূরা বনী ইসরাইল: ১০৭-১০৯।
[১৩১] আবু জাফর তাবারি, জামিউল বায়ান, ১৫/১২১, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৩২] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ২৮৪, মাকতু।
[১৩৩] সূরা নাজম: ৫৯-৬০।
[১৩৪] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৫০৫, মাকতু।
[১৩৫] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[১৩৬] ওয়াকিহ ইবনুল জাররাহ, কিতাবুয যুহদ, ৪৭৪, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[১৩৭] তাবারানি, আল-মু'জামুল কাবীর, ৯/১০৫, মাওকুফ।
[১৩৮] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ১০৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৩৯] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/২৭২, সনদ মুনকাতি, মাওকুফ।
[১৪০] আবদুর রাজ্জাক, মুসান্নাফ, ৯৫৩৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৪১] তিরমিযি, ২৪০৬, হাসান। সনদটি দঈফ। কিন্তু অন্যান্য সনদে বর্ণিত হওয়ায় হাদীসটি হাসান।
[১৪২] মালিক, মুআত্তা, ২/৯৮৬, প্রথম অংশটি মারফুরূপে বর্ণিত।
[১৪৩] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/৩১২, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[১৪৪] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৩০১, সনদ হাসান, মাওকুফ।
[১৪৫] হাদীসটি মাকতু'রূপে বর্ণিত। এই আসার ও তার আগেরাটির অর্থে আপত্তি রয়েছে। বান্দাকে অবশ্যই আত্মগরিমা, খ্যাতি-কামনা ও লৌকিকতা থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, তা তাকে সৎকাজ থেকে বিরত রাখবে। বরং বান্দার কর্তব্য হলো কল্যাণের উদ্দেশ্যে সৎকাজ করা এবং খ্যাতির বাসনা ও লোক-দেখানোর মনোভাব থেকে সংযত থাকা। (অনুবাদক)।

শাইখ আবদুল আযীয ইবন বায
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক, আর সালাত (দুরূদ) ও সালাম নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, যার পরে আর কোনো নবী নেই।
অতঃপর... ৩০/০২/১৩৯৭ হি. তারিখে প্রকাশিত 'আল-মাদীনা' সংবাদপত্রের ৩৮৯৮তম সংখ্যায় 'জীবন জীবনের জন্য'/'হৃদয় হৃদয়ের জন্য' (وجها لوجه) শিরোনামে 'নূরাহ বিনতে...'-এর লেখাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং মূলকথা হলো উল্লিখিত নূরাহ জেদ্দায় শিক্ষা-বিষয়ক অনুষদের ডিন ফায়েযা আদ-দিবাগের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে যোগ দেন এবং এক পর্যায়ে উল্লিখিত নূরাহ প্রাথমিক স্তরে (যদিও তা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) আমাদের ছেলে সন্তানদেরকে শিক্ষাদানের কাজে নারী শিক্ষক না থাকার কারণে ফায়েযাকে অদ্ভুত নারী বলে সম্বোধন করেছেন, আর উক্ত নূরাহ তার বক্তব্যে এর কতগুলো কারণও উল্লেখ করেছেন। আর ফায়েযা, নূরা ও তার সহকর্মীগণ কর্তৃক আমাদের ছোট ছোট সন্তানদের শিক্ষাদানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ এবং শিশুদের কল্যাণমূলক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাদের প্রতি আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদসহ এ প্রস্তাবিত বিষয়ের মধ্যে যেসব ক্ষতি ও খারাপ পরিণতি রয়েছে সেসব বিষয়ে সতর্ক করা আমার আবশ্যকীয় কর্তব্য বলে মনে করছি, আর এটা হলো নারীগণ কর্তৃক প্রাথমিক স্তরে শিশুদের শিক্ষাদনের দায়িত্ব গ্রহণ করাটা তাদের সাথে বয়ঃসন্ধিতে উপনিত হওয়া ছেলে বা পরিপক্ক বয়সের ছেলেদের সাথে মেলামেশা ও উঠাবসার মতো পরিবেশের দিকে নিয়ে যায়। কারণ, কিছু কিছু ছেলে প্রাথমিক স্তরের ছাত্র হিসেবে ভর্তি হয় বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হওয়া বয়সে এবং কখনও কখনও তাদের কেউ কেউ বালেগও (প্রাপ্তবয়স্ক) হয়ে যায়। কেননা শিশুর বয়স যখন দশ বছরে উপনীত হয়, তখন তাকে বয়ঃসন্ধিকালে উপনীত বলে গণ্য করা হয় এবং তার স্বভাব তখন নারীদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায়। কারণ, এমন বয়সের ছেলে বিয়ে করতে সক্ষম এবং অন্যান্য পুরুষগণ যা করে, সেও তা করতে পারে, আর সেখানে আরেকটি বিষয় হলো, নারীগণ কর্তৃক প্রাথমিক স্তরে ছেলে শিশুদের শিক্ষাদনের বিষয়টি নারী-পুরুষে সহাবস্থান করার পরিবেশের দিকে ধাবিত করে, অতঃপর এ প্রথাটি শিক্ষার অপরাপর স্তরসমূহে চলতে থাকে। কারণ, নিঃসন্দেহে এটা শিক্ষার সকল স্তরে নারী-পুরুষে সহাবস্থান করার দরজা উন্মুক্ত করার একটা অন্যতম প্রক্রিয়া। আর নারী-পুরুষ মিলেমিশে সহাবস্থানমূলক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উদ্ভুত অসংখ্য খারাপ কাজের বিষয়টি সর্বজন বিদিত এবং এর অশুভ পরিণতি সম্পর্কে এমন প্রত্যেকে জানে, যে বা যারা বিভিন্ন দেশে এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছে। সুতরাং ইসলামী বিশেষজ্ঞগণের মধ্য থেকে এমন প্রত্যেকেই আমাদের ছেলে ও মেয়েদের এ অবস্থা সম্পর্কে নিঃসন্দেহে অবগত আছেন, যার ন্যূনতম জ্ঞান আছে শরী'আতের দলীল-প্রমাণ সম্পর্কে এবং এ যুগের উম্মতের বাস্তবতা সম্পর্কে। আর আমি বিশ্বাস করি যে, এ প্রস্তাবটি এমন প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত যা শয়তান অথবা তার প্রতিনিধিদের কেউ কেউ পেশ করেছে উপরিউক্ত ফায়েযা ও নূরাহ'র ভাষায় এবং কোনো সন্দেহ নেই এটা এমন এক প্রস্তাব, যা খুশি করেছে আমাদের ও ইসলামের শত্রুদেরকে এবং এটা এমন এক প্রস্তাব, যে দিকে তারা গোপনে ও প্রকাশ্যে আহ্বান করে।
আর এ জন্য আমি মনে করি যে, আমাদের আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো এ দরজাটিকে চূড়ান্তভাবে তালাবদ্ধ করে রাখা এবং আমাদের ছেলে সন্তানদেরকে সকল স্তরে পুরুষ শিক্ষকদের পাঠদানের আওতায় অবশিষ্ট রাখা, যেমনিভাবে আবশ্যক হলো মেয়ে সন্তানদেরকে সকল স্তরে মহিলা শিক্ষকদের পাঠদানের আওতায় বহাল রাখা। আর এর মাধ্যমে আমরা আমাদের দীন, ছেলে ও মেয়েদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারব এবং আমাদের শত্রুদের লাভজনক পরিকল্পনার গতিরোধ করতে সক্ষম হব, আর আমরা সম্মানিত মহিলা শিক্ষকগণের নিকট আশা করি যে, তাঁরা শতভাগ নিষ্ঠা, সততা ও ধৈর্যের সাথে সকল স্তরে আমাদের মেয়েদেরকে শিক্ষাদানের জন্য তাদের সকল চেষ্টা ও শ্রম বিনোয়োগ করবেন।
আর এটা সর্বজনবিদিত যে, শিক্ষার সকল স্তরে ছেলেদেরকে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে মহিলা শিক্ষকগণের চেয়ে পুরুষ শিক্ষকগণ অধিক ধৈর্যশীল, শক্তিশালী ও বেশি যত্নবান, অনুরূপভাবে এটাও সর্বজন বিদিত যে, শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে এবং তার উপরের অন্যান্য স্তরে ছেলেরা মহিলা শিক্ষকের চেয়ে পুরুষ শিক্ষককে অনেক বেশি সমীহ ও সম্মান করে এবং তার কাথা ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে এবং এসবের সাথে সাথে শিক্ষার এ স্তরে তারা পুরুষ শিক্ষকদের নৈতিক চরিত্র, বিচক্ষণতা, মহত্ব, ধৈর্য, শক্তি ও উদ্যমের প্রশিক্ষণ লাভ করে, আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তো সহীহভাবে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرِ سِنِينَ . وَفَرَّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ».
"তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সালাতে জন্য নির্দেশ দাও, যখন তারা সাত বছর বয়সে উপনীত হয়, আর তাদেরকে সালাতের জন্য প্রহার কর, যখন তারা দশ বছর বয়সে উপনীত হয় এবং তাদের শোয়ার স্থান পৃথক করে দাও।"
শিক্ষার সকল স্তরে ছেলে ও মেয়েদের সহাবস্থানের মধ্যে যে ভয়াবহ বিপদের কথা আমরা আলোচনা করেছি, এ হাদীসটি তার প্রমাণ বহন করে। তাছাড়া এর উপর কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মাতের বাস্তবতা থেকে বহু দলীল-প্রমাণ রয়েছে, সংক্ষেপ করার চিন্তা থেকেই এখানে সেগুলোর উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করি নি। আমাদের সরকার, মহামান্য শিক্ষামন্ত্রী ও নারী শিক্ষাবিষয়ক সম্মানিত মহাপরিচালক-সকলকে আল্লাহ তা'আলা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং তাদেরকে তিনি এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার তাওফীক দান করেছেন। আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদেরকে এমন সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফীক দান করেন, যাতে রয়েছে জাতির কল্যাণ ও মুক্তি এবং সাথে আছে আমাদের ও আমাদের যুবক ও যুবতীগণের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও সৌভাগ্য, তিনি তো সব শুনেন এবং আমাদের অতি আপনজন।
وَصَلَّى اللهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ.
(আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবীর ওপর)।
শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায

টিকাঃ
• আহমাদ, আবু দাউদ (হাদীস নং- ৪৯৫) ও হাকেম রহ. প্রমুখ, আর সুয়ূতী রহ. হাদীসটি সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00