📘 Biggan moy quran > 📄 পরাগায়ণ

📄 পরাগায়ণ


পরাগায়ণ (Pollination)
سُبْحْنَ الَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنْفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ.
Glory be to Him Who created all the pairs of that which the earth grows and in their own kind and in other things about which they have no knowledge.
মহামহিম প্রভু তিনি, যিনি মাটি থেকে উৎপন্ন সর্বকিছু এবং তাদের নিজেদের মধ্যে আর তারা জানে না এমন বস্তুসমূহের মধ্যে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। (ইয়াসীন-৩৬)

মহান আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টিজগতের সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে জোড়া ভিত্তিক ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন। পদার্থ জগত, প্রাণীজগত এবং উদ্ভিদ জগতে বিপরীত জোড়া যেমন আছে তেমনি পরমাণুর মধ্যে রয়েছে জোড়া। পুলিন, Sperm, Ovum, ক্রোমোজোম, জিন, DNA, RNA, প্রভৃতি জৈবিক উপাদানের মধ্যেও জোড়া ভিত্তিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। সমগ্র সৃষ্টি জুড়ে জোড়া ব্যবস্থা না থাকলে পদার্থ জগতের সম্প্রসারণ ঘটতো না। উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতের বংশ বিস্তারের ধারা থেমে যেত। গোটা সৃষ্টি প্রাণহীন আড়ষ্টতায় পর্যবসিত হয়ে যেত।

উদ্ভিদ মাটি বিদীর্ণ করে ওঠে এবং অনড় দাঁড়িয়ে থাকে। তাহলে এদের মিলন ঘটবে কিভাবে? হ্যাঁ, মিলন ঘটবার কৌশলগত ব্যবস্থা রয়েছে। বৃক্ষ ও তরুবীথির যে ফুল সৃষ্টি হয়, তার পরাগধানীতে থাকে পুষ্পরেণু বা পুলিন। পুলিন দু'প্রকার। পুংরেণু এবং স্ত্রী রেণু। উভয় রেণুর মিলন হলেই ফল সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে পুংরেণু, স্ত্রীরেণু পর্যন্ত পৌঁছার জন্য দু'টি মাধ্যম কাজ করে। একটি হচ্ছে বায়ু প্রবাহ অপরটি কীটপতঙ্গ।

বায়ু প্রবাহের মাধ্যমে পুলিন উড়ে উড়ে চারপাশের ফুলের উপর গিয়ে পড়ে। ফলে পুংরেণু দ্বারা স্ত্রীরেণু নিষিক্ত হয় এবং ফল সৃষ্টি হয়। আবার প্রজাপতি, ভ্রমর, মৌমাছি প্রভৃতি যখন ফুলের উপর বসে তখন পুলিন তাদের পা গুলো জড়িয়ে ধরে। পরক্ষণে ওরা যখন অন্য ফুলের উপর গিয়ে বসে, তাদের পায়ে জড়ানো রেণু বিপরীত রেণুর সাথে মিলিত হয়ে নিষেক (fertilization) ঘটায়। ফুলে ফুলে মিলনের এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় পরাগায়ন (Pollination)।

এখন, পরাগায়ণ সম্পর্কে আল-কোরআনের ঐশী বাণী,
وَأَرْسَلْنَا الرِّيَاحَ لَوَاقِحَ.
And We send the fecundating wind.
আর আমরা ফলদানকারী (গর্ভ দানকারী) বাতাস প্রেরণ করি। (হিজর-২২)

وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ.
And fruit of every kind He made in pairs two and two.
আর তিনি প্রত্যেক ফল দুই-দুই জোড়া থেকে সৃষ্টি করেছেন। (রাআদ-৩)

উক্ত আয়াতে 'জাওয়াইনিস্নাইন' (زوجين اثنين) শব্দ দ্বারা পুংরেণু (Male stamens) এবং স্ত্রীরেণু (Female pistils) কে বোঝানো হয়েছে। কেননা উভয়ের মিলনের দরুন ফল উৎপন্ন হয়।

কোন কোন ফুলে পুংকেশর ও স্ত্রীকেশর উভয়ই থাকে। বায়ু প্রবাহের প্রভাবে এরা যখন দোল খায় তখন পারস্পরিক মিলন ঘটে। যেমন, খেজুর ফল, পেঁপে ইত্যাদি।

📘 Biggan moy quran > 📄 মিরাকল ফুড

📄 মিরাকল ফুড


মিরাকল ফুড
তৎকালীন রাজা-বাদশাহরা বলতেন মিরাকল ফুড বা আশ্চর্য খাবার। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে ডাক্তারি চিকিৎসায় এর ব্যবহার ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখনো একই গুরুত্ব বহন করে। মোগল আমলে রাজা-বাদশাহরা তাদের যৌবন ধরে রাখার জন্য খাদ্যটি নিয়মিত গ্রহণ করতেন। বর্তমানে বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়েরা (Sportsmen) স্টামিনা বৃদ্ধির জন্য এটি গ্রহণ করে। সাহিত্যের ভাষায় এটিকে রোমান্টিক খাদ্য বলা হয়। কেননা জীবনের সকল অপূর্ব মুহূর্তে এর নামটি উচ্চারিত হয়ে থাকে। খাদ্যটির নাম-মধু (Honey)।

ফুলের মধু গ্রন্থি থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে। আর তা সংরক্ষণ করে এমন কতগুলো প্রকোষ্ঠে (cell) যা সুকৌশলে নির্মিত। মৌমাছির বাসা এতই শিল্প নৈপুণ্যতায় মণ্ডিত যা রীতিমতো বিস্ময়কর। সমগ্র বাসা (Nest) অসংখ্য ষড়ভুজের (Hexagon) সমষ্টি। অর্থাৎ এক একটি প্রকোষ্ঠ ৬টি বাহু দ্বারা সীমাবদ্ধ। ২টি বাহু খাড়াভাবে এবং চারটি বাহু তির্যকভাবে সংযুক্ত। বাহুগুলো মোমের তৈরি এবং একটি বাসায় পরস্পর সংযুক্ত অসংখ্য প্রকোষ্ঠ থাকে। যেখানে মধু জমা রাখা হয়। পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে মৌমাছি বাসা নির্মাণের জন্য তিনটি স্থান সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে থাকে। (১) পাহাড়ের কোল (২) বৃক্ষ ডাল (৩) বাড়িঘরের ছাদ। একটি বাসায় কেবল একজন রানি মৌমাছি থাকে এবং হাজার হাজার কর্মী মৌমাছি (স্ত্রী) কঠোর পরিশ্রম স্বীকার করে মধু সংগ্রহ করে। এ কাজে কেউ এতটুকু অলসতা প্রদর্শন করেছে কিনা সে বিষয়ে সবাই রানির কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। মৌমাছির এ শিক্ষা আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মধুতে দু'রকম শর্করা পাওয়া যায়। গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ। এ দু'টি উপাদান মধুর প্রধান উপকরণ। এতে সামান্য পরিমাণে সুক্রোজ ও মল্টোজ রয়েছে। মধুতে কার্বোহাইড্রেট ৭৯.৫%, প্রোটিন ০.৩%, আয়রন ০.৭% হারে বিদ্যমান। ডাক্তারি ভাষায় মধুকে বলা হয় ডিটারজেন্ট টু আলসার। মেডিসিন হিসেবে মধু ব্যাকটেরিয়ার এক নম্বর শত্রু। অর্থাৎ এটি অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে। ওরাল ডিহাইড্রেশনে মধুকে চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। যা ডায়রিয়া প্রতিকারে বিশেষ কার্যকর। কণ্ঠস্বর সবল করার জন্য মধুর শরবত অত্যন্ত উপকারী। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে, মধু রোগজীবাণু খুব কার্যকরভাবে ধ্বংস করে।

وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِى مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ . ثُمَّ كُلِى مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفُ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءُ لِلنَّاسِ، إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
And your Lord inspired the bees, saying: "Take your habitations in the hills, and on the trees and in what they erect. Then eat of all the fruits and follow the paths of your Lord made tractable for you; there issues forth from their bellies, a drink of varying colours, wherein is healing for men; Verily in this is indeed a sign for people who thought.
আপনার প্রভু মধুমক্ষিকাকে এ মর্মে ওহী করেছেন, তোমরা গাছের ডালে, পাহাড়ে এবং ঘরবাড়ির ছাদে বাসা (মৌচাক) নির্মাণ কর। অতঃপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন প্রভুর পথে চল যা অতি সরল। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় (মধু) নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নির্দেশনা। (নাহল-৬৮-৬৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00