📘 Biggan moy quran > 📄 সোলার সিষ্টেম এ্যাটমিক মডেল

📄 সোলার সিষ্টেম এ্যাটমিক মডেল


সোলার সিষ্টেম অ্যাটমিক মডেল

পদার্থকে ভেঙে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে পরিণত করা যায়। এ ক্ষুদ্র অংশের নাম অণু (Molecule)। যার মধ্যে পদার্থের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। কিন্তু অণুকে ভেঙে এমন ক্ষুদ্র অংশে পরিণত করা যায়, যা খালি চোখে দেখার মতো নয়। এর নাম পরমাণু (Atom)।

১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) পরমাণু একত্র করলেও খালি চোখে দেখা যায় না। তাই বিজ্ঞানীরা মনে করতেন পরমাণু অবিভাজ্য পার্টিকল। ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী Faraday ঘোষণা দেন যে, পরমাণু, বিদ্যুৎ পরিবহণে সক্ষম। তখন বিজ্ঞানীদের মধ্যে এ মর্মে সাড়া পড়ে যায় যদি পরমাণু, বিদ্যুৎবাহী পার্টিকল হয়, তাহলে এটাকে আরও বিভাজন করা যাবে। এরপর পরমাণু বিদ্যুৎ বিভাজন করে পাওয়া গেল নেগেটিভ চার্জযুক্ত ইলেকট্রন, পজিটিভ চার্জ যুক্ত প্রোটন, চার্জবিহীন নিউট্রন এবং পরমাণুর কেন্দ্র নিউক্লিয়াস। এসব উপাদান পরমাণুর অভ্যন্তরে সুনির্দিষ্ট নিয়মের প্রতি অনুগত। এটি ১৯১১ সালে Ernest Rutherford সোলার সিস্টেম অ্যাটমিক মডেল উপস্থাপন করে প্রমাণ করেন যে, সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে যেমন গ্রহ, উপগ্রহগুলি আবর্তিত হয় তেমনি নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন, একে-অপরের আকর্ষণে ঘোরে। এক্ষেত্রে চার প্রকার মৌলিক শক্তি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যেন পরমাণুর অভ্যন্তরে পরমাণুর উপাদানসমূহ একত্রে থাকে। শক্তিগুলো হচ্ছে:
১. মহাকর্ষ শক্তি (Gravitational force).
২. বিদ্যুৎচুম্বকীয় শক্তি (Electromagnetic force).
৩. সবল নিউক্লিয় শক্তি (Strong nuclear force).
৪. দুর্বল নিউক্লিয় শক্তি (Weak nuclear force).

মহাকর্ষ শক্তি সকল বস্তুর উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এ শক্তি নিকট দূরত্ব থেকে অসীম দূরত্ব পর্যন্ত ক্রিয়াশীল। আর এ শক্তি অন্যান্য শক্তির তুলনায় খুবই নগণ্যভাবে ক্ষুদ্র (negligibly small)। কারণ অতি ক্ষুদ্র দেহ বস্তু যা সাব-অ্যাটমিক ঘটনার মধ্যে সম্পৃক্ত তার শক্তি সবল শক্তির (strong force) তুলনায় প্রায় 10⁻⁵⁹ গুণ।

ইলেকট্রোম্যাগনেটিক শক্তির ব্যাপ্তিও অসীম। কিন্তু এ শক্তি ঐসব বস্তুর উপর ক্রিয়া করে যাদের ইলেকট্রিক চার্জ আছে। এ শক্তি নিউক্লিয়ার শক্তি অপেক্ষা 137 গুণ দুর্বল। এক বা একাধিক ফোটনের (photon) পরিবর্তনের দ্বারা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ধারায় দু'টি Particles এর মধ্যে মিথস্ক্রিয়া (interact) ঘটে থাকে। ফোটন (photon) এমন একটি কণিকা যার কোনো দেহবস্তু নেই এবং চার্জও নেই। আর এটা জোরালো কিংবা দুর্বল মিথস্ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না।

শক্তিশালী স্বল্প ব্যাপ্তির নিউক্লিয়ার শক্তির মাধ্যমে নিউট্রন ও ফোটন পরস্পরের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া করে। পারমাণবিক নিউক্লিয়ার (Atomic nuclei) মধ্যে উক্ত নিউক্লিয়ার শক্তি এসব কণিকাগুলোকে বেঁধে রাখার দায়িত্ব বহন করে। অবস্থান-বিন্দু পরিবর্তনের মাধ্যমে দু'টি নিউক্লিয়নস (Protons ও neutrons) পরস্পরকে আকর্ষণ করে থাকে।

যেসব Particles সবল নিউক্লিয় শক্তি অনুভব করে সে কণিকাগুলোকে বলা হয় হ্যাড্রন (Hadrons)। হ্যাড্রনকে আবার দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা, ব্যারিয়ন (baryons) ও মেসন (mesons)। জানামতে, একশ'রও বেশি Hadrons আছে।

যেসব কণিকা সবল শক্তি অনুভব করে না কেবল দুর্বল শক্তির প্রত্যুত্তর দিতে পারে তাদের বলা হয় লেপটন (Lepton)।

দুর্বল নিউক্লিয়ার শক্তির স্বল্প-ব্যাপ্তির পরিমাণ হলো প্রায় 10⁻¹⁴ cm এবং এ শক্তি কোনো কিছুকেই বাঁধতে পারে না। তবে জোরালো মিথস্ক্রিয়ার বহু কণিকার অবক্ষয়কে এ শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এবং কিছু নির্দিষ্ট তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়ার (Radioactive Nuclei) অবক্ষয় রোধ করে।

এখন, আল-কোরআন অ্যাটমিক মডেলের উপর তত্ত্বগত ইঙ্গিত পেশ করে বলছে:

وَمِنْ كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
And everything We have created pairs that you may receive instruction.
আর প্রত্যেক বস্তুকে আমরা (বিপরীত চার্জ যুক্ত) জোড়া রূপে সৃষ্টি করেছি যেন তোমরা নির্দেশ লাভ করতে পার। (যারিয়াত-৪৯)

আরবী 'শাইয়িন' শব্দের অর্থ Mass, particle, Matter, বস্তু, বিষয়, উপাদান, ইত্যাদি।

علِمُ الْغَيْبِ لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمُوتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ أَصْغَرُ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَبٍ مُبِينٍ
By Him Who knows the unseen, from Whom is not hidden the least little atom in the heavens or on earth, nor is there anything less then that or greater but is in the record in the clear book.
তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত, সমগ্র আকাশ ও জমিনে একটি পরমাণু এমনকি এর চেয়ে ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ কোনো কিছুই তার অগোচরে নয়। সব কিছু লিপিবদ্ধ আছে সুস্পষ্ট কিতাবে। (সূরা সাবা-৩)

পরমাণুর গঠন উপাদান ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন পাওয়ার পর আবিষ্কৃত হয়েছে ইলেকট্রনের প্রতিকণা পজিট্রন। আবিষ্কৃত হয়েছে নিউট্রিনো, মেসন ইত্যাদি।

অতি সম্প্রতি অনেক নতুন মৌলিক কণিকা সনাক্ত করা হয়েছে এবং এদের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বিভিন্ন দলে ভাগ করা হয়েছে। সুস্পষ্ট রূপে যে ৩৪টি মৌলিক কণিকার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল তা এখন ১০০তে এসে দাঁড়িয়েছে। তাদেরকে চারটি শ্রেণীতে ফেলা হয়েছে।
১. Baryon: এ শ্রেণীতে ৯টি মৌলিক কণিকা ও তাদের প্রতিকণিকা রয়েছে। এদেরকে আবার দু'ভাগে ভাগ করা হয়- হাইপেরন ও নিউক্লিয়ন।
২. Meson: এ শ্রেণীর সদস্য সংখ্যা ৯। ৫টি কণিকা ও ৪টি প্রতিকণিকা (Anti particle)। এরাও দু'ভাগে বিভক্ত। যথা, একেয়ন ও পায়ন।
৩. Lepton: চারটি কণিকা ও তাদের চারটি প্রতিকণিকা এ শ্রেণীতে বিদ্যমান।
৪. Photon: এ শ্রেণীর একমাত্র সদস্য ফোটন। ফোটনের প্রতিকণা ফোটন নিজেই।

وَمَا يَعْزُبُ عَنْ رَبِّكَ مِنْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَلَا أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَبٍ مُّبِينِ.
Nor is hidden from your Lord the weight of a particle on the earth or in heaven and not the least and not the greatest of these things but are recorded in a clear record.
আপনার প্রভুর কাছ থেকে গোপন থাকে না একটি কণিকাও জমিনে কিংবা আকাশে, না এর (কণিকা) চেয়ে ক্ষুদ্র, না এর চেয়ে বড় কোনো কিছু আছে। অধিকন্তু সব জিনিস সুস্পষ্ট বিধানে বিধৃত আছে। (ইউনুস-৬১)

অতএব, উল্লেখিত আয়াতসমূহে পদার্থের অণু, পরমাণু, ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন এবং মৌলিক কণিকা, যেমন লেপটন, কোয়ার্ক ইত্যাদির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

আল-কোরআনের বিশেষ একটি নীতি হচ্ছে, এটি কোনো বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করবে। কিন্তু বিস্তারিত বর্ণনা দেবে না। কেননা যদি অণু, পরমাণু, ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন এবং মৌলিক কণিকাগুলির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বিজ্ঞান গ্রন্থের মতো সাজিয়ে লেখা হত তাহলে এতদিন সবাই মনে করতো এটি মানুষের লেখা গ্রন্থ এবং বাইবেলের মতো বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন তত্ত্ব ও তথ্য এতে যোগ করা হয়েছে। ঐশী গ্রন্থ হিসেবে এর বিশ্বস্ততা এবং বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিত। তাই প্রত্যেকটি বিধানের নির্দেশ করা হয়েছে। বিস্তারিত বর্ণনা

📘 Biggan moy quran > 📄 Mass Energy Theory

📄 Mass Energy Theory


মহাবিশ্বের সকল পদার্থই পরমাণু (Atom) দিয়ে গড়া। মহাবিস্ফোরণের (Big bang) পর নক্ষত্রের অভ্যন্তরে এ পরমাণু সৃষ্টি হয়। আর নক্ষত্র তার দেহের অভ্যন্তরে পারমাণবিক সংযোজন প্রক্রিয়ায় (Atomic fusion process) শক্তি উৎপন্ন করে এবং সে শক্তি বিতরণ করে। ফলে মহাবিশ্বের সকল বস্তু এ শক্তির নিরিখে গঠিত ও পুনঃগঠিত হয়। তাই Albert Einstein তাঁর বিখ্যাত "Mass Energy Theory" তে বলেছেন "Matter has a definite relation with power." তত্ত্বটির গাণিতিক ফর্মুলা হচ্ছে:
E = mc²
E = Energy m=mass C² = Velocity of light

প্রকৃতপক্ষে, পরমাণু তৈরীতে বিপুল পরিমাণ শক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এ শক্তি তখন থেকেই পরমাণুর নিউক্লিয়াসে সঞ্চিত রয়েছে। নিউক্লিয়াসকে ভেঙ্গে বিভক্ত করলে এদের মধ্যে সঞ্চিত বিপুল শক্তি মুক্তি লাভ করে, যা E=mc² সূত্রের সাহায্যে পরিমাপ করা যায়। নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত শক্তিকে বলা হয় Nuclear energy বা পারমাণবিক শক্তি। বর্তমান বিশ্বকে পারমাণবিক বিশ্ব বলা চলে। এর ব্যবহার এখন শক্তির সংকট মোকাবেলায় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে, কৃষি উন্নয়নে অর্থাৎ উন্নত জাতের বীজ উৎপাদনে এবং সমরাস্ত্র তৈরীতে পারমাণবিক শক্তির সফলতা সর্বাধিক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে এ বিপুল শক্তি তা কোথেকে সঞ্চিত হলো। এর জবাবে সেকুলার বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন এটি প্রকৃতিজাত শক্তি যা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে সঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু স্রষ্টায় বিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা বলেছেন অসীম শক্তির মূল উৎস যিনি, তিনি মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা। আল-কোরআনে এই স্রষ্টার জাতীয় নাম উল্লেখ করা হয়েছে আল্লাহ (الله)। যে নাম অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করা যায় না। আর আল্লাহর শক্তি নির্ধারণ করা মানুষের পক্ষে অসাধ্য। তাঁরই সঞ্চারিত শক্তি মূলতঃ পরমাণুর নিউক্লিয়াসে সঞ্চিত হয়েছে এবং এ শক্তির নিরিখে মহাবিশ্বের সমস্ত জিনিস সৃষ্টির সূচনা হয়। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,

ইন্না আল্লাহ আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর
Surely Allah has power over all things.
নিশ্চয়ই আল্লাহর শক্তি সব কিছুর উপর সক্রিয়।

ইন্না আল্লাহ আযীযুন হাকীম
Verily Allah is exalted in power and full of Wisdom.
অবশ্যই আল্লাহ প্রবল শক্তির অধিকারী এবং সুবিজ্ঞানী।

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যেভাবে শক্তি (Energy) সঞ্চারিত হয়েছে, Allah's Command - Energy - nucleons & electron - Atoms - Molecules & Elements = Physical worlds.

📘 Biggan moy quran > 📄 Metter Transmission

📄 Metter Transmission


Matter Transmission

পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন কণা, যাদের সম্মিলিতভাবে বলা হয় নিউক্লিয়াস। আর ইলেকট্রন কণা নিউক্লিয়াসকে ঘিরে পাক খায়। যদি কোনোভাবে বাহির থেকে পরমাণুকে পর্যাপ্ত শক্তি জোগানো যায় তাহলে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ থেকে মুক্ত হয়ে পড়তে পারে। যদি কাছাকাছি কোনো শক্তিশালী পজিটিভ কণা রাখা হয় তখন নেগেটিভ ইলেকট্রন সেদিকে ধাবিত হয়। এমনি করে সৃষ্টি হয় ইলেকট্রন প্রবাহ যা বিদ্যুৎ প্রবাহের নামান্তর। অর্থাৎ বিদ্যুৎ প্রবাহ মানেই হলো ইলেকট্রনের প্রবাহ।

পরমাণুর প্রবাহমান প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক। তাই "Einstein পদার্থকে রূপান্তরিত ধারায় বিশ্লেষণ করে এ তত্ত্ব দেন, Matter could be converted into power and then transmitted to a long distance and then reassembled to get back the matter"। এ প্রক্রিয়াটির নাম Matter transmission। আর Matter transmission পদ্ধতিতে পদার্থকে ভেঙে পরমাণুতে রূপান্তর করা যায়। তারপর বিদ্যুতে, এরপর বিদ্যুৎ শক্তির মাধ্যমে মানুষের ছবি এবং শব্দকে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গে (Electromagnetic waves) পরিণত করে দূর-দূরান্তে প্রেরণ করা যায় এবং তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা যায় এবং এ Transmission চোখের পলকে ঘটে যায়।

নিউক্লিয়ার সায়েন্স আবিষ্কার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ইসলামের সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর 'মিরাজ' (ঊর্ধ্বলোকে গমন) নিয়ে বিতর্ক ছিল। একটি রক্ত মাংসের মানব শরীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অতিক্রম করে কিভাবে ঊর্ধ্বলোকে গমন করতে পারে— এ নিয়ে ছিল বিতর্ক। বিজ্ঞান এখন এ বিতর্কের দেয়াল ভেঙে চুরমার করে দিয়ে মিরাজের বাস্তবতা প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, মিরাজে আমার বাহন ছিল 'বোরাক'। নবীজী বোরাক শব্দ উল্লেখ করে মিরাজের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সহজ করে দিয়েছেন। আরবী "বারকু” (برق) শব্দের অর্থ বিদ্যুৎ এবং বারকু এর Superlative degree হচ্ছে বোরাক। অতএব, বোরাক মানে কোনো জানোয়ার নয়, খচ্চর কিংবা ঘোড়াও নয়। যেমনটি কোনো কোনো ক্যালেন্ডারে আমরা দেখি একটি ছবি, যার দেহটা ঘোড়ার এবং চেহারাটা মেয়ে লোকের এবং দু'টি পাখা যুক্ত করা হয়। ছবিটির নিচে লেখা হয়, 'হাজা বোরাকুন নবী (সঃ) (নাউজুবিল্লাহ)। এটি একটি কল্পনা প্রসূত উদ্ভট ধারণা, যা বিশ্বাস করলে ঈমান থাকবে না। সেজন্য জ্ঞান অর্জনের উপর ইসলাম খুব বেশি জোর দিয়েছে যাতে আমরা ঈমান ঠিক রাখতে পারি। সুতরাং আমরা জানলাম 'বারকু' শব্দ থেকে বোরাক শব্দটি এসেছে।

আবার আল-কোরআন মুহাম্মদ (সঃ) কে নূর বা আলো হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।
قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورُ وَكِتُبُ مُّبِينٌ.
There has come to you from Allah a light and perspicuous book..
(হে মানব জাতি) আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট এসেছে একটি আলো এবং একখানা স্পষ্ট কিতাব। (মায়েদা-১৫)

অতএব, Matter transmission পদ্ধতি, কোরআনের আলোক তত্ত্ব এবং হাদীসের বোরাক তথ্যের নিরিখে মুসলিম বিজ্ঞানীরা মিরাজের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে,
The greatest prophet of Islam Mohammad (s), Almighty Allah might have converted his physical body first into barq (Electricity) and then into noor (light), a noor having a speed much faster than that of our ordinary noor and he (M) appeared in person before his Majesty in a twinkling of an eye.
সর্বময় শক্তিধর আল্লাহ তা'আলা তাঁর শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর শারীরিক অস্তিত্বকে প্রথমে বিদ্যুতে রূপান্তর করেন এবং পরে তা আলোতে প্রবর্তিত করেন।
সাধারণ আলো প্রতি সেকেন্ডে 300,000 km বেগে চলে কিন্তু এ আলোকে Superlative degree করায় এর গতিবেগ ছিল সর্বাধিক এবং চোখের পলকে তিনি (মুহাম্মদ-সঃ) মানব রূপে তার প্রভুর সামনে উপস্থিত হয়ে যান।

হযরত মুছা (আঃ) আল্লাহ পাকের নূরের ঝলক দর্শন করে বেহুঁশ হয়ে গিয়েছিলেন। মুহাম্মদ (সঃ) এর ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। কারণ আল্লাহপাক হচ্ছেন আলোর উৎস আর মুহাম্মদ (সঃ) আলোকিত পাত্র। যেমন সূর্য আলোর উৎস। আর চাঁদ সূর্যের আলো দ্বারা আলোকিত উপগ্রহ। চাঁদ যেমন সূর্যের আলোতে বেহুঁশ হয় না তেমনি আল্লাহ তা'আলার নূরের ঝলকে মুহাম্মদ (সঃ) অজ্ঞান হননি বরং স্বাভাবিক ছিলেন।

এখন, মিরাজের ঘটনা সমূহের উপর কোরআনের আয়াত
سُبْحَنَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَرَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ أَيْتِنَا .
Glory to Him Who did carry His Abed (Mohammad -S:) for a journey by night from the masjid-Al-Haram to the masjid-Al-Aksa, the environs of which We blessed so that We might show him some of our signs.
মহিমান্বিত প্রভু তিনি, যিনি তাঁর নবীকে এক রাতে সফর করিয়েছেন বাইতুল হারাম থেকে বাইতুল আকসা ব্যাপী। যার পরিবেশকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন যেন আল্লাহর নিদর্শন সমূহ তাঁকে প্রদর্শন করা যায়। (বনী ইসরাঈল-১)

وَلَقَدْ رَاهُ نَزْلَةً أُخرى . عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهى . عِنْدَهَا جَنَّةُ الْمَاوَى . إِذْ يَغْشَى السَّدْرَةَ مَا يَغْشَى . مَازَاغَ الْبَصْرُ وَمَا طَغَى . لَقَدْ رَأَى مِنْ آيَتِ رَبِّهِ الكُبرى.
For indeed he saw him at the second time near the lote-tree, beyond which none may pass, near it is the garden of abode. Behold the Lote-tree was shrouded. His sight never swerved nor did it go wrong. For truly did he see of the signs of his Lord the greatest.
নিশ্চয়ই তিনি (মুহাম্মদ-সঃ) তাঁকে আর একবার দেখেছেন প্রান্তবর্তী বদরী বৃক্ষের নিকট, যার নিকট অবস্থিত জান্নাতুল মাওয়া। বৃক্ষটি যদ্বারা আচ্ছাদিত হবার তদ্বারা আচ্ছাদিত ছিল। তার দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি। লক্ষ্যচ্যুতও হয়নি। তিনি তাঁর মহান প্রভুর নিদর্শন সমূহ পরিদর্শন করেছেন। (নাজম-১৩-১৮)

মিরাজে নবীজী হযরত জিব্রাইল (আঃ) কে দ্বিতীয় বার দেখেন বদরী বৃক্ষের নিকট তার আসল রূপে (Visible form)। প্রথমবার অনুরূপ আকৃতিতে দেখেছিলেন হেরা পর্বতে প্রথম ওহী নাযিলের সময়।

📘 Biggan moy quran > 📄 মিরাজ তত্ত্ব এবং Theory of Relativity

📄 মিরাজ তত্ত্ব এবং Theory of Relativity


মিরাজ তত্ত্ব এবং Theory of Relativity

এ প্রশ্ন যুগ যুগ ধরে মানুষকে আলোড়িত করেছে। এমন কোন জ্ঞানী, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবী এবং সাহিত্যিক অবশিষ্ট নেই যাঁরা সময় নিয়ে চিন্তা গবেষণা করেননি। সৃষ্টির সূচনা থেকে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ও সময়ের প্রবাহ শুরু হয়েছে। যা আদি বস্তুপিণ্ডের (Primeval Atom) ভিতরে একীভূত অবস্থায় ছিল। তখন থেকে সময় প্রবাহিত ধারায় বিরাজ করছে। সময়ের প্রবাহমান বৈশিষ্ট্যের দরুন একে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন, বর্তমান কাল, অতীত কাল এবং ভবিষ্যৎ কাল। কালের এ তিনমাত্রা কিন্তু স্থানীয় সচেতনতায় সীমাবদ্ধ, যা আমাদের জীবন ধারার সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু মহাবিশ্বের অন্য সব স্থানের সাথে এর চরিত্রগত অস্তিত্ব যেমন জটিল তেমনি দুর্বোধ্য।

সময়ের বৈচিত্র্যময় চরিত্র উদঘাটন করতে গিয়ে Albert Einstein বিস্ময়কর সফলতা লাভ করেন এবং একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন, যার নাম Theory of Relativity। এ তত্ত্ব অনুযায়ী সময়ের চরম ও পরম (Absolute) কোন অস্তিত্ব নেই। Time is relative in respect of duration.” সময় একটি আপেক্ষিক বিষয় যা স্থানীয় সচেতনতায় বিরাজমান। আমাদের বলয়ে পৃথিবী, চাঁদ, সূর্য প্রভৃতি আকাশী বস্তুর ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার মাত্রা থেকে সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা এবং দিন, মাস, বৎসর ইত্যাদি সময়ের এককগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।

পৃথিবী গ্রহের জন্য সময়ের এসব একক নির্ধারণী ধারণা কোরআন প্রকাশ করেছে এভাবে,
يَسْتَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيْتُ لِلنَّاسِ
They ask you concerning the moon, say, they are but signs to mark fixed periods of time for men.
(হে, মুহাম্মদ সঃ) ওরা আপনাকে চাঁদের হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে, আপনি জবাব দিন, চাঁদের-হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে সময় নির্দেশের জন্য। (বাকারা-১৮৯)

إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللهِ إِثْنَا عَشَرَ شَهْرًا
The number of months in the sight of Allah is twelve (in a year).
আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা-১২ (তাওবা-৩৬)

একই পৃথিবীর অধীনে যখন আমাদের বাংলাদেশে রাত তখন আমেরিকায় দিন। আমাদের যখন রাত দশটা তখন লন্ডনে বিকেল ৪টা। পৃথিবী তার কক্ষপথে একবার ঘুরতে সময় লাগে ২৪ ঘণ্টা। ঐ সময়ে সূর্যের আলো যে অংশে পড়ে সে অংশে দিন জাগে, অপর অংশে রাত নামে। এ রাত-দিনের আবর্তনের মধ্যে ১৪ ঘণ্টায় একদিন নির্ধারিত হয়েছে।

পৃথিবী সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন। তাই আমরা ৩৬৫ দিনে বছর ধরি। এতো গেল পৃথিবী গ্রহের আভ্যন্তরীণ সময়ের বিভিন্নতার একটি প্রতিচিত্র।

কিন্তু একই সৌরজগতের অধীনে বুধ (Mercury) গ্রহে ১ বৎসর হয় ৮৮ দিনে। শুক্র (Venus) গ্রহে ২২৫ দিনে বৎসর হয়। মঙ্গল (Mars) গ্রহে ৬৮৭ দিনে এবং বৃহস্পতি (Jupiter) গ্রহে ৪৩৮০ দিনে বৎসর হয়। এসব গ্রহের সেকেন্ড মিনিট, ঘণ্টা, কখনো পৃথিবীর অনুরূপ হবে না কিংবা এক গ্রহের সময়ের একক অন্য গ্রহ থেকে অবশ্যই কম বেশী হবে। অর্থাৎ "A long time in one Planet is no time in another" আবার ছায়াপথ গ্যালাক্সির ১দিন পৃথিবীর হিসাবে ২২০ মিলিয়ন বৎসরের সমান। তাহলে মহাবিশ্বে সময়ের অবধারিত স্থিতির অস্তিত্ব কোথাও নেই। Einstein, 4th dimension theory-তে সময়কে চতুর্থ মাত্রা হিসেবে প্রদর্শন করেছেন। অর্থাৎ কোন বস্তু প্রথম মাত্রা (দৈর্ঘ্য), দ্বিতীয় মাত্রা (বিস্তার) এবং তৃতীয় মাত্রার (ভেদ) সমন্বয়ে অস্তিত্ব প্রাপ্ত হয়। কিন্তু চতুর্থ মাত্রা (সময়) ব্যতিরেকে তার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। সেজন্য আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী বস্তু যখন আলোর গতিতে চলে সময় তখন স্থির হয়ে পড়ে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, 'মিরাজে আল্লাহর দরবারে আমি ২৭ বৎসর অবস্থান করেছি।' এ কথার উপর অনেকেই তখন বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেনি। কারণ নবীজী মিরাজ থেকে ফিরে আসার পর দেখা গেছে তাঁর বিছানায় তখনো উষ্ণতা বিরাজ করছে এবং ওযুর পানি গড়াগড়ি যাচ্ছে। আপেক্ষিক তত্ত্ব থেকে এ সত্য প্রতিভাত হয়েছে যে সপ্তম আকাশে ঊর্ধ্বে যার দূরত্ব ২০ বিলিয়ন আলোক বৎসর। সেখানকার লক্ষ লক্ষ বৎসর পৃথিবীর জন্য Zero time। কারণ সেখানে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের অস্তিত্ব নেই। আদি-অন্তহীন অঞ্চল জুড়ে একটি মাত্র কাল বিদ্যমান। তা হচ্ছে বর্তমান কাল। তাই সেখান থেকে গ্রহ, উপগ্রহগুলির ঘূর্ণন গতি যেমন প্রত্যক্ষ করা যায় তেমনি পৃথিবীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল অবলোকন করা যায়।

সময়ের আপেক্ষিকতা সম্পর্কে কোরআনের স্পষ্ট ধারণা হচ্ছে,
وَإِنَّ يَوْمًا عِنْدَ رَبِّكَ كَالْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ.
Verily a day in the sight of your Lord is like a thousand years of your reckoning,
প্রকৃতপক্ষে, মহান প্রভুর দরবারে এক দিন তোমাদের হিসাবে ১০০০ বছরের সমান। (হজ্জ-৪৭)

এখন, ১০০০ বৎসর = ১ দিন
২৭ '' = ২৭ × ২৪ × ৬০ = ৩৮ মিনিট (প্রায়)।
১০০০
আবার আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ.
The angels and the spirit ascend to Him in a Day the measure thereof is (as) fifty thousand years.
ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহপাকের নিকট পৌঁছে একদিনে। এ একদিনের পরিমাপ হলো ৫০,০০০ বছরের সমান। (মাআরিজ-৪)

তাহলে,
৫০০০০ বৎসর = ১ দিন
২৭ '' = ২৭ × ২৪ × ৬০ × ৬০ = ৪৬ সেকেন্ড।
৫০০০০
এখানে একটি বিষয় খুবই পরিষ্কার যে, রূহ বা মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর তাআলার দরবারে পৌঁছতে সময় লেগেছিল মাত্র ৪৬ সেকেন্ড এবং মহান আল্লাহর সৃষ্টি সমূহ পরিদর্শনে নবীজীর যে ২৭ বছর সময় লেগেছিল। পৃথিবীতে ফিরে এসে দেখেন তা ৩৮ মিনিটের সময়।

সময়ের যে হিসাব আমরা তুলে ধরেছি তা বলতে গেলে সংঘটিত ঘটনার আলোকে সঠিক নয়। তাহলে কোন ঘটনা ঠিক কেমন করে আমরা নির্ণয় করতে পারি? কোনটা অতীত কোনটা বর্তমান তা আমরা কিভাবে বুঝি? কোন বস্তুর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো, যে বস্তু আমরা দেখি তার থেকে আলোর বিকিরণ আমাদের চোখে এসে পড়ে। ফলে আমরা বস্তুটিকে স্পষ্টভাবে দেখি। এ আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছতে নিশ্চিত কিছু সময় লাগে। কারণ আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩০০০০০ কিমি। কাজেই যে মুহূর্তে কোন ঘটনা ঘটছে বলে আমরা মনে করি সে-ই মুহূর্তে সেটা ঘটছে তা কিন্তু নয়। তা পূর্বেই ঘটে গেছে। তবে কত পূর্বে ঘটেছে তা নির্ভর করে দূরত্বের উপর। ৩০০০০০ কিমি দূরে ঘটলে সে ঘটনা আমরা দেখব ১ সেকেন্ড পরে। এ হিসেবে ১৮ লক্ষ কিমি দূরে ঘটলে ১ মিনিট পর দেখব। ১০ কোটি ৮০ লক্ষ কিমি দূরে ঘটলে ১ ঘণ্টা পরে দেখব। আমরা আকাশে যে অনেক নক্ষত্র দেখি, এগুলোর মধ্যে কোন কোনটি এত বিস্তর দূরত্বে অবস্থিত যার ফলে তাদের আলো পৃথিবীতে পৌঁছতে লক্ষ লক্ষ বছর কেটে যায়। সে লক্ষ লক্ষ বছরগুলো আমাদের জন্য ভবিষ্যৎ কাল। আর নক্ষত্রদের জন্য বর্তমান কিংবা অতীত কাল। বর্তমানে আমরা যে বিশ্বজগত দেখছি তা কি এখনো বিদ্যমান আছে! এ ক্ষেত্রে আমরা কি বলব।

যেমন, আমরা সকলে অবগত আছি যে, ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে। এ যুদ্ধে যারা সামনে ছিল তারা সকলেই এ যুদ্ধ দেখেছে। অর্থাৎ যুদ্ধের আলোকচিত্র চোখের রেটিনা গ্রহণ করার ফলে তার প্রতিবিম্ব মস্তিষ্ক দ্বারা গঠিত হয়েছে। ফলে তারা সেদিন সবকিছু দেখেছিল। কিন্তু পৃথিবী থেকে কোটি কোটি কিমি দূরে যে গ্রহ আছে তাতে ২৪৩ বছরের ব্যবধানের মধ্যে এখনো আলোকচিত্র হয়ত পৌঁছেনি। কিন্তু যে গ্রহে আলোকচিত্র পৌঁছবে তারা দেখবে যে পলাশীর যুদ্ধ সংগঠিত হচ্ছে। তাহলে ঐ ঘটনাটি আমাদের কাছে বর্তমান অতিক্রম করে অতীত হয়েছে। অথচ অন্য গ্রহের জন্য এখনো ভবিষ্যৎ কাল। তাই সময় একটি আপেক্ষিক ধারণা মাত্র।

অতএব, মহান আল্লাহর সৃষ্ট জগতসমূহ পরিদর্শনে নবীজীর ২৭ বৎসর সময় লেগেছিল। পৃথিবীতে ফিরে এসে দেখলেন তা ৩৮ মিনিট কিংবা ৪৬ সেঃ এর সফর।

বস্তুত সৃষ্টিতে সময়ের চেয়ে কঠিন এবং দুর্বোধ্য বিষয় আর কিছু নেই। অনেক বিজ্ঞানী বলেছেন তাঁরা যদি সময়ের চরিত্রটাকে ভালভাবে বুঝতে পারতেন তাহলে স্রষ্টাকে আরো বেশী উপলব্ধি করতে সক্ষম হতেন। হাদিসের কুদসীতে বর্ণিত আছে "মানুষ কালকে (সময়কে) গালমন্দ করে। অথচ আমি-ই কাল" কাল হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কারণ হচ্ছে, আল্লাহর কাছে ভবিষ্যৎ কিংবা অতীত কালের অস্তিত্ব নেই। সবসময় বর্তমান কালের ব্যাপ্তীতে তিনি বিরাজমান এবং সৃষ্টি শুরুতে যখন কিছুই ছিল না, তখন তিনিই কেবল ছিলেন। আর যখন কিছুই থাকবে না তখনও তিনিই থাকবেন, মহা সৃষ্টির বিশাল পরিধি ব্যাপী তিনি বিরাজমান। অর্থাৎ সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে একটি মাত্র কালের অস্তিত্ব আছে, তা হচ্ছে বর্তমান কাল। অতীত কিংবা ভবিষ্যৎ কাল তাকে স্পর্শ করে না। কেননা তার কাছে রাত-দিন নেয়, সকাল-সন্ধ্যা নেই। 'Big Bang' ঘটনাটি আমাদের জন্য অতীতকাল। আল্লাহ তা'আলার জন্য বর্তমান কাল। কেয়ামত দিবসটি আমাদের জন্য ভবিষ্যৎ কাল কিন্তু আল্লাহর জন্য বর্তমান কাল।

هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ.
He (Allah) is the first and the last, the evident and immanent and He has full knowledge of all things.
তিনি (আল্লাহ) সৃষ্টির প্রথমে ছিলেন এবং সর্বশেষে তিনিই থাকবেন, তিনি দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যে বর্তমান। সকল বিষয়ে তিনি পূর্ণ জ্ঞানবান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00