📘 Biggan moy quran > 📄 Intelligent Quotient

📄 Intelligent Quotient


Intelligent Quotient (বুদ্ধির পরিমাপ)
I.Q. = (mental age / chronological age) x 100

আজকাল I.Q. কথাটি খুব বেশি চালু হয়েছে। Intelligent Quotient কথাটির সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে I.Q., যার প্রচলিত অর্থ বুদ্ধির পরিমাপ।

মনোবিজ্ঞানীরা বুদ্ধির নানা রকম সংজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন বুদ্ধি হচ্ছে মানুষের মনের একটি বৈশিষ্ট্য, যার সাহায্যে অজানা পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা স্থির হয়।

এরূপ সংজ্ঞার আলোকে বলা যেতে পারে, ৬০৫ খ্রিস্টাব্দে কাবা গৃহ সংস্কারকালে 'হাজরে আসওয়াদ' (পবিত্র কালো পাথর) স্থাপনকে কেন্দ্র করে আরব গোত্রে পারস্পরিক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। কারণ সব গোত্র চায় এ পবিত্র ঐতিহাসিক পাথরখানা যথাস্থানে স্থাপন করে ধন্য হতে। তাই সংঘর্ষ বন্ধ করে কীভাবে এ সমস্যার সম্মানজনক সমাধান করা যায়, তা নিয়ে তৎকালীন আরব নেতারা আকুল পাথারে পড়ে যান।

অবশেষে ওয়ালিদ বিন মুগিরা, আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ (সাঃ)-কে সমস্যাটি নিষ্পত্তির প্রস্তাব করেন। মুহাম্মদ (সঃ)-এর বয়স তখন ৩৫ বছর। সমস্যার ধরন পর্যবেক্ষণ করে তিনি (মুহাম্মদ সঃ) তৎক্ষণাৎ একটি কৌশল অবলম্বন করেন। কাবা গৃহের সামনে একটি রুমাল পেতে তার উপর নিজ হস্তে হাজরে আসওয়াদ রাখেন। চার গোত্রের চার প্রধান পুরুষকে রুমালের চার কোণা ধরে তা যথাস্থানে বহন করে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন। তারা সাথে সাথে তাই করেন। ফলে সবাই যেমন মর্যাদার অধিকারী হলেন, তেমনি বিবাদের সম্মানজনক মীমাংসা হয়ে গেল।

এ কৌশলকে মনোবিজ্ঞান মনের বুদ্ধিভিত্তিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করে। আবার বুদ্ধির বিকাশ ঘটে জ্ঞান অর্জনের নিরিখে। জ্ঞান অর্জনের পূর্বশর্ত হচ্ছে অধ্যয়ন।

যত বেশি পাঠ করা যায়, বুদ্ধি ও প্রতিভার বিকাশ তত বেশি ত্বরান্বিত হয়। তাই মানুষের বুদ্ধি পরিমাপের জন্য একটি ফর্মুলা নির্ধারণ করা হয়েছে। তা হচ্ছে:

I.Q. = mental age x 100
chronological age

একটি ১০ বছর বয়সের বালক যদি ১২ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের যোগ্য কাজ (problem) সম্পন্ন করতে পারে, তাহলে তার Chronological age (স্বাভাবিক বয়স) = ১০, mental age (মানসিক বয়স) = ১২। সুতরাং তার I.Q. = ১২/১০ x ১০০ = ১২০। আবার ১২ বছর বয়সের বালক (কম বুদ্ধির দরুন) ১০ বছর বয়স্ক বালকদের যোগ্য কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হলে তার I.Q. হবে,

I.Q. = ১০/১২ x ১০০ = ৮৩.৩৩।

I.Q. সমৃদ্ধ করার জন্য গোটা মানবজাতিকে আল-কোরআন আমন্ত্রণ জানিয়েছে তার সর্বপ্রথম অবতীর্ণ বাণীতে;

اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ
Read and ponder in the name of your Lord Who created (all creation in the Universe).
আপনার প্রভুর নামে পাঠ করুন (আর চিন্তা করুন) যিনি সৃষ্টি করেছেন (মহাবিশ্বের সব কিছু)।

اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ . الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ . عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمُ.
Read with attention and your Lord is Most Bountiful Who taught by the pen. He taught man that which he knew not.
মনোযোগের সাথে পাঠ করুন, আপনার প্রভু মহানুভব যিনি কলমের সাহায্যে মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।

বুদ্ধি এবং প্রতিভার বিকাশ ত্বরান্বিত করার জন্য সকল জ্ঞানের মহান অধিপতি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, তাঁরই কাছে জ্ঞান ভিক্ষা করার জন্য মানবজাতিকে উপদেশ দিয়েছেন।

وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
And say, my Lord, bestow upon me increase of knowledge.
এবং বলুন, প্রভু হে! আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধি প্রদান করুন। (ত্বোয়াহা-১১৪)

إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ।
Verily it is You who are full of knowledge and Wisdom.
প্রকৃতপক্ষে, আপনিই (আল্লাহ) মহাজ্ঞানী এবং প্রজ্ঞাময়। (বাকারা-৩২)

ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সঃ) জ্ঞান অর্জনকে ফরজ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

عَنْ أَنَسٍ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَمُسْلِمَةٍ
Anas (R) reported that the Holy Prophet Muhammad (s:) said "The pursuit of knowledge is obligatory on every Muslim man and woman".
হযরত আনাস (রঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সঃ) বলেছেন, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য (কোরআনের) জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। (ইবনে মাজাহ)

আই. কিউ. সমৃদ্ধ করার একেবারে নির্ভুল, স্বচ্ছ এবং সমুন্নত গ্রন্থ হচ্ছে কোরআন হাকিম। কোরআন সর্বপ্রথম মানুষের অন্তঃপ্রকৃতিকে নাড়া দিয়ে তার অন্তঃকরণকে পরিশুদ্ধ করে। এটি মানুষকে জগৎ সংসারের গভীরে প্রবেশ করতে দেয় না, অথচ সংসার বিমুখ করে না। মানুষকে চিন্তাশীল করে, কখনো উদাসীন করে না। সর্বোপরি কোরআনের জ্ঞান মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ধাবিত করে। যে আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে জীবনব্যাপী নয়ন দুটি সত্যের পথ খোঁজে।

ذلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ।
This is the Book whereof there is no doubt, a guidance sure for those who fear Allah much.
এটি একমাত্র গ্রন্থ, যার মধ্যে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই এবং তাদেরকে নিশ্চিত পথ বের করে দেয়, যারা মহান আল্লাহকে ভয় করার নীতি অবলম্বন করে। (বাকারা-২)

تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ।
These are the verses of the Book, full of knowledge and wisdom.
এগুলো জ্ঞান-বিজ্ঞানে পূর্ণ কিতাবের আয়াত। (ইউনুস-১)

كِتَب أَنْزَلْتُهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَتِ إِلَى النُّورِ.
This book which We have revealed unto you in order to lead mankind into light from the depth of darkness.
এ গ্রন্থ যা আমরা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, মানবজাতিকে অন্ধকারের নিগড় থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসার জন্য। (ইব্রাহিম-১)

আরবী 'জুলুম' শব্দের প্রতিশব্দ হচ্ছে অন্যায়-অবিচার। জুলুমের মূল শব্দ "জুলমাহ", যার অর্থ অন্ধকার। অন্ধকারের প্রধান রূপ হচ্ছে অজ্ঞতা। পবিত্র কোরআন মানবজাতিকে অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের আলোকপথে ধাবিত করতে চায়। মানুষ যখন অন্যায়, অবিচার, বস্তুপূজা, কামনা, বাসনা এবং স্বার্থপরতার দিকে ধাবিত হয়, তখন নিশ্চিতভাবে বলা যায় সে তিমির বিবরে হারিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় আল-কোরআন আদর্শের সিগন্যাল লাইট জ্বালিয়ে বিভ্রান্ত মানবজাতিকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সঃ) প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করার জন্য কোরআন শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ.
Uthman (R.A) reported that the Apostle of Allah said, "The best of you is he who has learned the Quran and teaches it."
হযরত উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম জ্ঞানী লোক হচ্ছেন তিনি, যিনি নিজে কোরআন শিক্ষা করেন এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেন।

মানুষের প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া অত্যন্ত গুনাহের কাজ, কিন্তু নবীজী শিক্ষা দিচ্ছেন দু'ব্যক্তির প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া যায়।

عَنْ عَمَرَو (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا حَسَدَ إِلَّا عَلَى الْإِثْنَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ قُرْآنَ فَهُوَ يَقُولُ بِهِ أَنَاءَ اللَّيْلَ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَهُوَ يَنْفِقُ مِنْهُ أَنَاءَ اللَّيْلِ وَأَنَاءَ النَّهَارِ.
Ibn Umar (r.a) related that the Holy Prophet (s.a.w) said, "There's no envy except for two; One he upon whom Allah has bestowed the (knowledge of) Quran and he studies and practices it throughout the night and throughout the day and the other whom Allah has given wealth and he spends it in the cause of Allah, throughout the night and day."
হযরত আমর (রঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজী বলেছেন, দু'ব্যক্তি ছাড়া আর কারো প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া যায় না। এক ব্যক্তি হচ্ছে এমন— যাকে আল্লাহপাক কোরআন (থেকে জ্ঞান) দান করেছেন, তিনি কোরআন অধ্যয়ন করেন, অনুধাবন করেন, অনুসরণ করেন। দিনেও করেন, রাতেও করেন। তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া যায় তার মতো হওয়ার জন্য। আর এক ব্যক্তি, যাকে মাল-সম্পদ দান করা হয়েছে। (নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে) উদ্বৃত্ত সম্পদগুলো তিনি আল্লাহর পথে খরচ করেন। দিনেও করেন, রাতেও করেন। তার প্রতিও ঈর্ষান্বিত হওয়া যায় তার মতো হওয়ার জন্য। (মুত্তাফিকুন আলাইহি)

عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَيْنِ رَجُلٌ أَتَاهُ اللهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ الْحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا .
Ibn Mas'ud (r.a) reported Allah's Messenger (সঃ) বলেছেন, "Only two persons deserve being envied; firstly a person to whom Allah has given wealth and bestowed upon him divine wisdom to spend in a righteous cause and secondly, the person upon whom Allah has bestowed wisdom by which he judges and which he teaches."
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, দুই ব্যক্তির বেলায় ঈর্ষা পোষণ করা যায়। যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তা সৎ পথে ব্যয় করার পবিত্র মানসিকতা দান করেছেন। আবার যাকে আল্লাহ জ্ঞান-বিজ্ঞান দান করেছেন এবং সে তার সাহায্যে বিচার মীমাংসা করে ও তা অন্যদের শিক্ষা দেয়। (বুখারী, মুসলিম)

ইমামে আজম আবু হানিফা (রঃ) আল্লাহ তাআলার নূরের তাজাল্লি (আলোর ঝলক) ৯৯ বার স্বপ্নের মধ্যে অবলোকন করেছেন। প্রত্যেকবার তিনি জিজ্ঞেস করেছেন, হে আল্লাহ! "তোমার কাছে সবচেয়ে উত্তম ইবাদত কোনটি?"

প্রত্যেকবার আল্লাহর নূর জবাব দিয়েছেন, "তেলাওয়াতিল কোরআন" (কোরআনের অনুসরণ আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ইবাদত)।

আরবী "তালাহ" শব্দ থেকে তেলাওয়াত শব্দের উৎপত্তি। যার অর্থ অনুসরণ করা, যেমন সূরা "শামস"-এ বলা হয়েছে,

وَالْقَمَرِ إِذَا تَلْهَا
By the moon as she follows him (the sun)
চন্দ্রের শপথ যখন সে সূর্যকে অনুসরণ করে। (সূরা শামস-২)

অথচ আমাদের আরবী শিক্ষিত লোকেরা তেলাওয়াত শব্দকে শুধু "পাঠ করার" মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন। তেলাওয়াত শব্দের অর্থ অধ্যয়ন, অনুধাবন, অনুসরণ।

মানুষের হৃদয়ে কিংবা স্মৃতিতে যদি মহান গ্রন্থ আল-কোরআনের জ্ঞান বিধৃত না থাকে, তাহলে সেই হৃদয় কিংবা স্মৃতি সম্পূর্ণ অন্তঃসারশূন্য। তার অন্য সব জ্ঞান তাকে আত্মার শান্তি এবং সমৃদ্ধি এনে দিতে পারবে না। তাই নবীজী (সঃ) বলেছেন,

إِنَّ الَّذِي لَيْسَ فِي جَوْفِهِ شَيْئُ مِنَ الْقُرْآنِ كَالْبَيْتِ الْخَرِيبِ.
Ibn Abbas (r.a) related that the Holy Prophet (s.a.w) said, "One whose heart does not contain anything from the Holy Quran is like a deserted House."
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সাঃ) বলেছেন, যার হৃদয়ে কোরআনের কিছু মাত্র অংশ নেই, তার হৃদয় হচ্ছে বিরান বাড়ির মতো।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرًا .
Abu Hurairah (r.a) reported that the Holy Prophet said, "Don't make your House graveyards".
হযরত আবু হুরাইরা (রঃ) হতে বর্ণিত, নবীজী (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের ঘরকে কবরস্থান বানিয়ে নিও না।

এই হাদীসের তাৎপর্য হচ্ছে, কবরস্থানে যেমন নীরব-নিস্তব্ধতা বিরাজ করে, মুর্দাগুলো কেবল শুয়ে আছে, কোনো নড়াচড়া নেই, প্রাণের স্পন্দন নেই, তেমনি যে ঘরে নিয়মিত নামাজ আদায় হয় না, কোরআন পাঠ হয় না, কোরআনের অধ্যয়ন হয় না এবং দরস হয় না, সেই ঘরটি কবরস্থানের মতো নীরব-নিস্তব্ধ এবং সেই ঘরের মানুষগুলো সবাই মৃত।

প্রশ্ন: পুরুষ ব্যক্তি কর্তৃক তার কন্যাকে চুম্বন করা বৈধ কিনা, যখন সে বড় হয়ে যায় এবং তার বয়স প্রাপ্তবয়স্কের পর্যায়ে উপনীত হয়, চাই সে বিবাহিতা হউক অথবা অবিবাহিতা, চাই সে চুম্বন হউক তার গালে বা মুখে বা অনুরূপ কোনো স্থানে, আর যখন মেয়ে তার পিতার ঐসব স্থানে চুম্বন করে, তখন তার বিধানই বা কী হবে?
উত্তর: পুরুষ ব্যক্তি কর্তৃক বিনা কামুক দৃষ্টিতে তার বয়স্ক কন্যা বা কম বয়সের কন্যাকে চুম্বন করাতে কোনো অসুবিধা নেই, তবে শর্ত হলো মেয়ে বড় হলে চুম্বন হতে হবে তার গালের মধ্যে। কেননা আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে সাব্যস্ত আছে যে, তিনি তাঁর কন্যা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহাকে তাঁর গালে চুম্বন দিয়েছেন।
আর মুখের উপর চুম্বন করার বিষয়টি কখনও কখনও জাতিগত কামভাবকে উস্কিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে, যার ফলে তা বর্জন করাটাই বেশি উত্তম এবং অধিক সাবধানতা। আর অনুরূপভাবে মেয়ের জন্যও তার পিতার নাকে বা মাথায় বিনা কামুক দৃষ্টিতে চুম্বন করা বৈধ। আর ফিতনা নির্মূল করার উদ্দেশ্য এবং অশ্লীলতার সকল পথ বন্ধ করার জন্য কামভাবসহ এ ধরনের চুম্বন করাটা সকলের জন্যই হারাম বলে গণ্য হবে।
শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায

📘 Biggan moy quran > 📄 বুদ্ধি ও অনুভূতির আধার

📄 বুদ্ধি ও অনুভূতির আধার


বুদ্ধি ও অনুভূতির আধার

মানুষের মস্তিষ্ককে বুদ্ধি ও অনুভূতির আধার বলা হয়। আল্লাহ তাআলার বিস্ময়কর সৃষ্টি এ মস্তিষ্ক (Brain) যার অনুকরণে আবিষ্কৃত হয়েছে কম্পিউটার। বিজ্ঞানের সর্বশেষ তথ্যে প্রকাশ করা হয়েছে যে, মানুষের মস্তিষ্কে ১৪ বিলিয়ন নিউরন (nerve cells) আছে। প্রত্যেকটি cell-এর আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য ও কার্যকারণ রয়েছে। কোনো কিছু শেখার সময় স্নায়ুবিক উদ্দীপনায় কোষসমূহ সক্রিয় হয় এবং প্রতিবর্তী (Reflex) ক্রিয়ার সাহায্যে শিক্ষা শুরু হয়।

প্রতিবর্ত দু'প্রকার

১। অনাপেক্ষ প্রতিবর্ত (Unconditioned Reflex):
যেসব ক্রিয়া জন্মগতভাবে মানুষ লাভ করে তাকে বলা হয় অনাপেক্ষ প্রতিবর্ত। যেমন আগুন দগ্ধ করবেই। এ অনুভূতি থেকে কেউ আগুনে হাত দেয় না। ক্ষুধা পেলে খাদ্য গ্রহণ করতেই হবে, নইলে জীবন বাঁচবে না। এসব ক্রিয়াকে সহজাত প্রতিবর্তও বলা যায়।

২। সাপেক্ষ প্রতিবর্ত (Conditioned Reflex):
সাপেক্ষ উদ্দীপকের প্রভাবে যে নতুন শিক্ষা শুরু হয় তার নাম সাপেক্ষ প্রতিবর্ত। যেমন আগুন প্রজ্জ্বলিত করে সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা, খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর উপযোগিতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি সাপেক্ষ প্রতিবর্তের অন্তর্গত।

সাপেক্ষ প্রতিবর্তী ক্রিয়ার সাহায্যে যখন শিক্ষা শুরু হয় তখন স্নায়ুতে স্নায়ুতে নতুন সংযোগ গড়ে ওঠে এবং শিক্ষাকে মনে রাখার জন্য নতুন স্নায়ু বর্তনী (Neural circuit) গঠিত হয়। ফলে শিক্ষা এবং জীবনের ঘটনাবলী যেসব কোষে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায় তাদের বলা হয় স্মৃতি কোষ (Memory cell)। শিক্ষণীয় বিষয় এবং ঘটনাসমূহ কীভাবে Memory cell-এ আবদ্ধ থাকে তা এখনো গবেষণাধীন রয়েছে। তবে আধুনিক বিজ্ঞানীরা মনে করে থাকেন, শিক্ষার ফলে যেসব নতুন স্নায়ুবর্তনী গড়ে ওঠে সেসবের মধ্যে এক প্রকার প্রোটিন জাতীয় উপাদান সঞ্চিত থাকে, যার নাম Ribonucleic Acid বা RNA। বস্তুত এ RNA-ই হচ্ছে স্মৃতি।

মনোবিজ্ঞানীরা স্মৃতি পরিমাপের (Memory Quotient) তিনটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।

১. Method of recall: এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে কোনো বিষয় মুখস্থ করার পর তা Recall করতে বলা হয়। তখন কতটুকু নির্ভুলভাবে Recall করতে পারল তা একটি সূত্রের সাহায্যে নির্ণয় করা হয়। সূত্রটি হচ্ছে,
Memory Recall = (No. of recalled subject - No. of Error) / Total No. of subject x 100
যেমন, একজন কুরআন শিক্ষার্থীকে ১০টি আয়াত মুখস্থ করতে দেওয়া হলো। মুখস্থ করার পর তা Recall করতে বলা হলো। তখন দেখা গেল তিনি ১০টি আয়াতই Recall করেছেন কিন্তু ২টি আয়াতে কিছু ভুল করেছেন। তাহলে তার স্মৃতির পরিমাপ,
MR = (10-2) / 10 x 100 = 80%

২. Method of recognition: এ পদ্ধতিতে পূর্বে শেখা বিষয়ের সাথে নতুন বিষয় মিশিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে সবটুকু হুবহু Recall করতে পারলে স্মৃতি পরিমাপের যে সূত্র হবে,
MR = (Right - wrong) / Total No. of subject x 100
MR = (100-0) / 100 x 100 = 100%

৩. Method of saving: এ পদ্ধতিতে পূর্বে কোনো শেখা বিষয় পুনরায় শিখতে দেওয়া হয় এবং সময় রেকর্ড করা হয়। ধরা যাক প্রথমবার শিখতে সময় লেগেছিল ৬০ মিনিট। পরের বার শিখতে সময় লাগল ১৫ মিনিট, সুতরাং এ ক্ষেত্রে স্মৃতির পরিমাপ হবে
MR = (60-15) / 60 x 100 = 75%

কোনো বিষয় (Subject) স্মৃতিতে ধারণ করার জন্য মনোবিজ্ঞানে আর একটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ আছে। তা হচ্ছে Association Method। এ পদ্ধতিতে বলা হয়েছে প্রথমে বিষয়টির ভাবার্থ ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। তারপর গোটা বিষয়টা পরপর এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে প্রথম অংশ মুখস্থ করার পর দ্বিতীয় অংশ মুখস্থ করা সহজ হয়। এরপর দ্বিতীয় অংশ থেকে তৃতীয় অংশ, এভাবে গোটা বিষয় মুখস্থ হলে তা সহজে বিস্মৃত হয় না।

বিজ্ঞানময় গ্রন্থ আল-কুরআন, যার মধ্যে ৩,২৩,৬৭০টি হরফ, ৭৭,৪৩০টি শব্দ এবং ৬২৩৬টি আয়াত সন্নিবেশিত আছে। সমগ্র কুরআনে শব্দ ও আয়াতগুলি এমনভাবে সাজানো আছে যে, প্রথম অংশ মুখস্থ করার পর দ্বিতীয় অংশ মুখস্থ হয়ে যায়। দ্বিতীয় অংশ থেকে তৃতীয় অংশ, এভাবে গোটা কুরআন শরীফ স্মৃতিতে ধারণ করার জন্য এর ভাষা শৈলী (Language style) থেকে উৎসারিত ছন্দময় গতি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আবার পঠিত কুরআন স্মরণ করার সময় প্রথম আয়াতটা মনে করতে পারলে দ্বিতীয় আয়াত অনায়াসে মনে পড়ে যায়।

📘 Biggan moy quran > 📄 REM-NREM

📄 REM-NREM


REM-NREM

وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا
And We have made your sleep for rest (নাবা-৯)

ঘুম (Sleep) মানুষের জন্য অবধারিত বিশ্রাম। এটি শরীর মন তথা পুরো স্নায়ুতন্ত্র (nervous system) অবকাশ গ্রহণের অবলম্বন। ঘুম কেন মানুষকে আচ্ছন্ন করে তার সঠিক তত্ত্ব এখনো অনুদঘাটিত। ঘুমকে মস্তিষ্কের পরিবর্তিত জাগ্রত অবস্থা (modified conscious state) বলা যায়। মস্তিষ্কের যে অংশ আমাদের জাগ্রত রাখতে সাহায্য করে, তা আমাদের brain stem এর উপর বিস্তৃত এক প্রকার স্নায়ুজাল। ঐ স্নায়ুজালের উপর থেকে ইন্দ্রিয় অনুভূতির প্রভাব হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের চোখে ঘুম নেমে আসে।

ঘুমকে দু'পর্যায়ে ভাগ করা যায়, ১. Rapid eye movement (REM) বা Paradoxical Sleep. ঘুমের এ অবস্থায় চোখের তারা দ্রুত নড়াচড়া করে। ২. Non Rapid eye movement (NREM) বা Orthodox sleep. ঘুমের এ অবস্থায় চোখের তারা থাকে স্থির।

নিদ্রায় আক্রান্ত হয়ে মানুষ সরাসরি অর্থোডক্স পর্যায়ে গিয়ে উপস্থিত হয়। এ অর্থোডক্স পর্যায়ের স্থায়িত্ব এক ঘন্টা কিংবা তারও বেশি হতে পারে। REM একে অনুসরণ করে চলে। REM এর স্থায়িত্ব ২ মিনিট থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ঘুমের REM পর্যায়ে মানুষ স্বপ্ন দেখে। আমরা যে স্বপ্ন দেখি তা ব্যাখ্যা করলে দেখা যায়, আমাদের চেতন মনের গভীরে একটি অবচেতন মন আছে। আমরা যখন জাগ্রত অবস্থায় থাকি তখন আমাদের ভাবনা, চিন্তা, আবেগ, অনুভূতি চেতন মনের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর যখন ঘুমিয়ে পড়ি অমনি অবচেতন মনের অতৃপ্ত আশা, আকাঙ্খা এবং জানা অজানা ঘটনাবলী স্বপ্নের রূপ ধরে মনের চেতন স্তরে উঠে আসে।

পবিত্র কোরআনে নবীদের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নবী রাসূলগণের স্বপ্ন এক প্রকার ওহী, যার নাম ওহীয়ে গাইরে মাতলু। হযরত ইউসুফ (আঃ) এর স্বপ্ন সম্পর্কে আল-কোরআন বলছে,

إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَاَبَتِ إِنِّي رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي سُجِدِينَ.
Remember, when Yusuf (A) said to his father, O my father, I dreamt eleven Planets, the sun and the moon. I saw them prostate themselves to me.
স্মরণ করুন, যখন ইউসুফ (আঃ) তাঁর পিতাকে বললেন, পিতাজী, আমি এক স্বপ্নে দেখেছি এগারটি গ্রহ, চাঁদ এবং সূর্যকে। আমি তাদের দেখেছি আমার প্রতি অবনত হতে। (ইউসুফ-৪)

জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার ঘটনা আল-কোরআনে বিবৃত হয়েছে।

وَنَادَيْنَهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ . قَدْ صَدَّقْتَ الرُّعْيا .
We called out of him, O Ibrahim, you have already fulfilled the vision! আমরা তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম, আপনি তো স্বপ্নকে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। (সাফফাত-১০৪/১০৫)

নিদ্রা অবস্থায় REM-পর্যায়ে যে স্বপ্ন দৃষ্ট হয় তা আল্লাহর নবীদের জন্য ওহী এবং সাধারণ মানুষের জন্য নির্দেশনা (Sign)। ঘুমের সময় মস্তিস্ক বাইরের উদ্দীপক (Stimulus) থেকে মুক্ত থাকে। কিন্তু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন কোন মানুষের হাতে অত্যন্ত গরম কিংবা খুব ঠান্ডা বস্তুর ছোঁয়া লাগালে সে হাত সরিয়ে নেয়। অথবা একজন ঘুমন্ত মানুষের মুখের উপর যদি মশা কিংবা মাছি বসে শিহরণ জাগায় তাহলে ঐ ব্যক্তি হাত নেড়ে মশা মাছিকে বিতাড়িত করে। এটাকে বিজ্ঞানীরা অবচেতন মনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। কারণ ঘুমন্ত অবস্থায়ও ত্বকে অবস্থিত উদ্দীপক গ্রাহক (Stimulus Receptor) সচেতন থাকে। তাই সে বাইরের যে কোন খবর গ্রহণ করে সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর (Sensory nerve) মাধ্যমে মস্তিস্কের অনুভূতি কোষকে জানিয়ে দেয়। সেখান থেকে নির্দেশ আসে চেষ্টীয় স্নায়ু (Motor nerve) দিয়ে পেশীতে। তখনই ঘুমন্ত ব্যক্তি নিজের অজান্তে হাত সরিয়ে নেয়। কিংবা হাত নড়াচড়া করে মাশামাছি তাড়ায়। মস্তিষ্ক ও দেহের অন্যান্য বহু অংশ আছে নিদ্রার মাধ্যমে বিশ্রাম গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু দেহের কোন কোন অংশ নিদ্রাকালীন সময়ে বিশ্রাম তো গ্রহণ করেই না বরং সচল থাকে। এগুলো হলো, হৃদপিন্ড, ফুসফুস এবং মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রসমূহ। এটি এক বিস্ময়কর রহস্য।

وَمِنْ أَيْتِهِ مَنَامُكُمْ بِالَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَابْتِغَاءُكُمْ مِنْ فَضْلِهِ ، إِنَّ فِي ذَلِكَ لَايَتٍ لِقَوْمٍ يَسْمَعُونَ.
And among His signs is the sleep that you take by night and by day and the quest that you out of His Bounty; Verily in that are signs for those who hearken.
আর আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি হচ্ছে দিবা-নিশি তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর কৃপা অন্বেষণ করা। নিশ্চয় এতে মনোযোগী সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে অনেক প্রমাণ। (রূম-২৩)

এ আয়াতে আল্লাহপাক নিদ্রাকে নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা দিয়েছেন। নিদ্রা বা ঘুম এমন একটি শারীরবৃত্তীয় অবস্থা যার দ্বারা স্নায়ুতন্ত্র ও শিরা-উপশিরাসহ সারাদেহ পুনরায় সুস্থ হয়ে ওঠে। মস্তিষ্ক নিদ্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং নিদ্রার উপকারিতা ভোগ করে। নিদ্রা কেন মানুষকে আচ্ছন্ন করে তার সঠিক কোন তত্ত্ব আবিষ্কৃত না হলেও কিছু বাস্তব ধারণার মাধ্যমে নিদ্রার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এটা বিশ্বাস করা হয় যে, সেরিব্রাল অ্যানোক্সেমিয়ার (cerebral anoxaemia) কারণে নিদ্রাকালে মস্তিষ্কের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ রক্তপ্রবাহ পরিবর্তিত হয় না। মস্তিষ্কের কোন পার্টিকুলার অংশে বিশেষ করে মধ্য-মস্তিষ্কে যথেষ্ট রক্তপ্রবাহ হ্রাস পাওয়া সম্ভব। এ হ্রাস জনিত কারণ নিদ্রার সাথে সংশ্লিষ্ট। স্নায়ুকেন্দ্রে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে দিনে (কর্মদিবসে) এবং রাত্রে (নিদ্রাকালীন সময়ে) অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করার মাত্রা নিম্নে দেখানো হল,
Intake of Exhalation of O2 CO2
Day (working time) 67.0% 58%
Night (sleeping time) 33.0% 42%

এ হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে নিদ্রাকালীন সময়ে অক্সিজেন গ্রহণ কম হয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমনও তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে। এটা ভালভাবে সকলে জানে যে, কার্বন ডাইঅক্সাইডের আধিক্য আরামহীনতা ও অচেতনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যখন সহজভাবে বলা হয় অক্সিজেনের অভাব কিংবা কার্বন ডাইঅক্সাইডের উপস্থিতি এবং টিস্যুগুলোর মধ্যে অন্যান্য ক্রিয়ার উদ্ভব সাধারণভাবে নিদ্রা ঘটিয়ে থাকে। কিন্তু এসব ঘটমান প্রক্রিয়া মোটেও ব্যাখ্যা দিতে পারে না ঐ সমস্ত মানুষের ব্যাপারে যারা শারীরিক পরিশ্রমের কাজে অংশগ্রহণ না করেও নির্দিষ্ট সময়ে নিদ্রার কোলে ঢলে পড়ে। কেননা যুক্তি দেখানো হয় যে, দৈহিক পরিশ্রমের কারণে শরীর অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়লে মানুষকে দ্রুত নিদ্রা আবিষ্ট করতে পারে। যখন মানুষ চোখ বন্ধ করে বাইরের দৃশ্য দেখা বন্ধ করে দেয় তখন সে নিজেকে বাহ্য প্রভাব থেকে গুটিয়ে নিয়ে নিদ্রায় মশগুল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মন উদ্দীপ্ত হতে পারে না এবং নিরবচ্ছিন্ন শান্তি নেমে আসে। এটা মনে করা হয় যে, ঘুমের পূর্বে মানুষ যতক্ষণ জাগ্রত অবস্থায় থাকে ততক্ষণে মস্তিষ্কে নিদ্রা সৃষ্টিকারী বস্তু সমন্বিত হয়ে ওঠে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞানী Lindsley -এর মতে, নিদ্রা সম্পর্কে এমন কোন একক তত্ত্ব নেই যা পুরোপুরিভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। রাসায়নিক তত্ত্বে জোর দেয়া হয়েছে টক্সিন পুঞ্জিভবনের (accumulation of toxins) উপর, কার্বন ডাইঅক্সাইডের বৃদ্ধির উপর, অক্সিজেনের কমতির উপর এবং বিশেষভাবে হিপনোটক্সিন (Hypnotoxin) উৎপন্নের উপর। যে ধারণাটি অতি সাধারণভাবে গ্রহণ করা হয়েছে সেটি হল এ যে, মস্তিষ্কের মধ্যে একটি জেগে থাকার কেন্দ্র রয়েছে। খুব সম্ভব এ কেন্দ্রটি diencephalon এর মধ্যে অবস্থিত। এ diencephalon প্রতিনিয়ত অন্তর্মুখী অনুভূতি দ্বারা আক্রান্ত হয়। জেগে থাকার কেন্দ্রটি যতক্ষণ অনুভূতির সংকেত প্রাপ্ত হয়ে কর্মব্যস্ত থাকে ততক্ষণ মানুষের চোখে ঘুম আসে না। অর্থাৎ মানুষ জেগে থাকে। নিদ্রা তখনই মানুষকে আক্রান্ত করে যখন পেশীর ক্লান্তি ও অবসাদের কারণে অন্তর্মুখী অনুভূতিগুলো ব্যাপকহারে হ্রাস পায়। অন্ধকারে এবং শান্ত পরিবেশে মস্তিষ্কে প্রেরিত ইন্দ্রিয়ানুভূতির সংকেতগুলোও অধিক মাত্রায় হ্রাস পায়। এর ফলে মানুষের চোখে নিদ্রা এসে ভর করে।

মানুষের মস্তিষ্ক থেকে গৃহিত ইলেকট্রিক্যাল বৈশিষ্ট্যগুলির রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে যে, বিভিন্ন পর্যায়ের মাধ্যমে নিদ্রা বিভিন্ন মাত্রায় কার্যকর হয়ে থাকে। মস্তিষ্ক তরঙ্গের জাগ্রত অবস্থা থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়। এ পরিবর্তনকে তন্দ্রালু ধরন বলে আখ্যায়িত করা হয়। এ ধরনকে অনুসরণ করে আসে আরেকটি পরিবর্তন যা প্রকৃত নিদ্রার ইঙ্গিতবাহী। এ নিদ্রা সুচিত হয় ব্যাপক আকারে, ধীর গতিতে ও অনিয়মিতভাবে যা মস্তিষ্ক গুণের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে পেশী আন্দোলিত হয়ে থাকে। এ আন্দোলন নিদ্রা সুচিত করে। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জানা গেছে যে, অধিকাংশ মানুষ ঘুমের সময় অবস্থান পরিবর্তন করে থাকে। ফটোগ্রাফিক রেকর্ড থেকে প্রতিভাত হয়েছে যে, গড় নিদ্রা-ভোগী ব্যক্তি ঘুমন্ত অবস্থায় ২০ থেকে ৩০টি অবস্থান পরিবর্তনের ক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে। এ অবস্থান পরিবর্তন ঘটে ৭ মিনিট পরপর। তাই ঘুমন্ত অবস্থায় নড়াচড়ার সুবিধার্থে বিছানা প্রশস্ত হওয়া সমীচীন।

সুতরাং উপরোক্ত তত্ত্বগুলো থেকে এটা খুবই স্পষ্ট হয়েছে যে, নিদ্রার উপর কোন তত্ত্বই এর সঠিক কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। তাই এর কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য গবেষক বিজ্ঞানীগণ গবেষণা কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন।

📘 Biggan moy quran > 📄 প্রেম আল্লাহ পাকের নিদর্শন

📄 প্রেম আল্লাহ পাকের নিদর্শন


প্রেম আল্লাহ পাকের নিদর্শন

পৃথিবীতে প্রেমহীন কোনো মানুষের সন্ধান মিলবে না। কারণ মানুষকে প্রেমের নিদর্শন দিয়ে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। সে নিদর্শনগুলি হচ্ছে, কলব (Conscience), আকল (Wisdom), নাফস (Sense of selfhood) এবং বয়ান (Power of expression)। এসব নিদর্শন থেকে উদগত বিপুল প্রসারী "ভাব সম্পদ" মানুষের অভ্যন্তরে যে আলোড়ন সৃষ্টি করে তা তাৎক্ষণিক মানসিক ক্রিয়ার ফলে প্রতিভাত হয়। মনোবিজ্ঞানীরা এরকম ঘটমান মানসিক ক্রিয়াকে বলে থাকেন-প্রেম (Love)।

প্রকৃতপক্ষে, প্রেম হচ্ছে জীবনের বিচিত্র মুহূর্তের অচিন্তনীয় অনুভূতি যা তাৎক্ষণিক উদ্দীপনায় মানসিক ক্রিয়া প্রদর্শন করে।

প্রেম কেন এত বেশি আবেগ অনুভূতি সৃষ্টি করে তা বিজ্ঞানীদের অজানা। তবে কোনো কোনো মনোবিজ্ঞানী মস্তিষ্কের (Brain) পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland) থেকে নিঃসৃত কয়েক রকম হরমোনকে এর জন্য দায়ী করেছেন। (হরমোন হচ্ছে এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে নির্গত হয়ে রক্তে মিশে যায় এবং শারীরিক ও মানসিক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। যেমন, গোনাডোট্রপিক হরমোন, মেলানোসাইট স্টিমুলেটিং হরমোন, গ্রোথ হরমোন, অক্সিটোসিন হরমোন, অ্যান্টিডিউরেটিক হরমোন ইত্যাদি। এ সকল হরমোন (Hormone) শারীরিক বৃদ্ধি ঘটায় ও মানসিক চঞ্চলতা সৃষ্টি করে এবং হৃদয়ে আসক্তি জাগিয়ে তোলে। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus) অঞ্চলকে উত্তেজিত করে। তারপর এমন এক অচিন্তনীয় অনুভূতি সৃষ্টি হয় যার বিপুল অনুভবে হৃদয়-মন উদ্বেলিত হয়ে ওঠে।

এমনি করে অন্তকরণ থেকে উৎসারিত আবেগ, আসক্তি, আনন্দ, বিষাদ, স্মৃতি, অনুভূতি, প্রভৃতি মনোবৃত্তির ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফলাফল চেহারায় ফুটে ওঠে। তাই মনস্তত্ত্ববিজ্ঞানীরা বলেন, "Face is the index of mind" অর্থাৎ মনের মধ্যে আনন্দ-বিষাদের কোনো ঘটনা সংগঠিত হলে চেহারায় তা সূচিত হবেই। মনোবিজ্ঞানীরা চেহারা দেখেই বলেন, "আপনি প্রিয়জনের বিরহে আড়ষ্ট হয়ে পড়েছেন" অথবা "আপনার একজন সঙ্গী (Spouse) প্রয়োজন।"

আল-কোরআন সঙ্গী (Spouse) গ্রহণের যে কল্যাণকর বিধান দিয়েছে তা হচ্ছে "বিবাহ বন্ধন"। নারী-পুরুষ পবিত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর পরস্পর প্রেম নিবেদনপূর্বক যে বিপুল শান্তি অনুভব করে তা অন্য সকল প্রশান্তি থেকে ব্যতিক্রম। পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, বিবাহ বন্ধনের বাইরে নারী-পুরুষের সম্পর্ক যেমন Live-together, open-sex culture প্রভৃতি ভ্রান্ত পদ্ধতি। প্রবঞ্চনা, মিথ্যা এবং বিকৃত মানসিকতা চরিতার্থ করার প্রয়াস ব্যতীত এগুলি আর কিছু নয়। এতে প্রকৃত শান্তি লাভের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। উপরন্তু পরিবারভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে বর্বর যুগের সূচনা করার জন্য এগুলি একটা অবাঞ্ছিত প্রচেষ্টা।

মূলত মহান স্রষ্টা স্বামী-স্ত্রীর হৃদয়ে যে প্রেম সৃষ্টি করে দেন তা এক বিশেষ রহমত এবং আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে একটি।

وَمِنْ أَيْتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مُوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ.
And among His signs is this that He created for you spouse from among yourselves that you may dwell in tranquillity with them and He has put love and mercy between your hearts; Verily in that are signs for those who reflect.
তাঁর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে একটি হচ্ছে তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা পরস্পর প্রশান্তিতে থাকতে পার এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে দুনিবার ভালোবাসা ও করুণা সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য রয়েছে অনেক নির্দেশনা। (রূম-২১)

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ مِنَ الْمَاءِ بَشَرًا فَجَعَلَهُ نَسَبًا وَصِهْرًا وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيرًا.
It is He Who has created man from water, then has He established relationships of lineage and marriage; for your Lord has power over all things.
তিনি আল্লাহ, যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে এবং তাদের মধ্যে বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছেন। মূলত আপনার প্রভু সকল বিষয়ের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। (ফোরকান-৫৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00