📘 Biggan moy quran > 📄 The Big Bang Theory

📄 The Big Bang Theory


The Big Bang theory
Allah's will--Primeval atom--Big Bang--Universe
بَدِيعُ السَّمُوتِ وَالْأَرْضِ طَ وَإِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ.
To him is due the primal Origin of the heavens and the earth, when He decrees a thing, He does only say to it 'Be' and it is.
নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের উদ্ভাবক তিনি আল্লাহ, যিনি কোন জিনিসের প্রতি যখন আদেশ দেন তখন শুধু বলেন "হও" আর অমনি তা হয়ে যায়। (বাকারা-১১৭)
নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল তথা বিশাল মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার ক্ষেত্রে ব্যাপক জটিলতা ও গভীর সমস্যা বিদ্যমান। এ বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে হলে সৃষ্টির মূলে যে বিস্ময়কর কলাকৌশল ও দক্ষতা রয়েছে সে সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে হয়।
সুদূর অতীত কাল থেকে মানুষ এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি-রহস্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করার জন্য প্রবল অনুসন্ধান প্রয়াস চালিয়ে আসছে। তাদের অনুসন্ধান প্রয়াস বিভিন্ন সময়ে বহু পৌরাণিক কল্পকথার জন্ম দিয়েছে। সৃষ্টির উৎস অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীদের যে নিবিড় অনুসন্ধান প্রয়াস তা বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এসে সফল হয়েছে।
আধুনিক বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্ব সৃষ্টির যে মৌলিক তত্ত্ব আবিষ্কার করেন তার নাম Big Bang Theory বা মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব। ১৯২৭ সনে বেলজিয়াম জ্যোতির্বিজ্ঞানী G. Lemaitre উক্ত তত্ত্ব প্রস্তাব করেন। এরপর তত্ত্বটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন জর্জ গ্যামো, এইচ. আলফার ও আর হেরমান।
১৯৬৫ সনে উইলসন ও পেনজিয়াস 3° k- এ সমান সমান তাপমাত্রা বিকিরণের যে মাইক্রো তরঙ্গ বিকিরণ পটভূমি (cosmic micro wave background radiation) আবিষ্কার করেন সে আবিষ্কার থেকে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় যে, মাইক্রো তরঙ্গ বিকিরণের উৎস হলো Big Bang বা একটি আদি অগ্নিগোলকের (Primeval fireball) উৎক্ষিপ্ত অবশেষ। এ আবিষ্কারের ফলে উইলসন ও পেনজিয়াস নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। G. Lemaitre এ আদি অগ্নিগোলকের নাম দিয়েছেন "Primeval Atom" ।
Big Bang হলো এমন একটি ঘটনা যার আগে নভোমন্ডল, ভূ-মন্ডল, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, কোয়াসার, পালসার, কিছুই ছিল না। অর্থাৎ বর্তমান মহাবিশ্বের পদার্থ, শক্তি ও স্থান-কাল একটি বস্তুপিণ্ডে কেন্দ্রিভূত ছিল। এ বস্তুপিণ্ডের অসীম ঘনত্ব ও অগাধ উষ্ণতা ছিল। এ উষ্ণতা 1032 ডিগ্রী k (k=kelvine- তাপমাত্রার একক) বলে উল্লেখ করা হয়।
According to the Big Bang Theory, "Creation started with a violent explosion of a dense primeval fireball- followed by its expansion"
According to G. Lemaitre, "Our Universe had started from a highly compressed and extremely hot state which called the 'Primeval atom'. Creation started with the expansion of this ultra-hot, ultra- dense, ultra small clump of Primeval atom caused by a violent explosion-the Big Bang.
মহাবিস্ফোরণ পরবর্তী 10-43 সেকেন্ড সময় পর্যন্ত সংগঠিত ঘটনাবলী সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। তবে এতটুকু জানা যায় চারটি শক্তি মহাকর্ষীয় (gravitational force), সবল নিউক্লিয় (strong nuclear force), দুর্বল নিউক্লিয় (weak nuclear force) এবং বিদ্যুৎচুম্বকীয় শক্তি (electromagnetic force) ঐ আদি অগ্নিবলের ভেতরে একীভূত অবস্থায় ছিল। বিস্ফোরণের সাথে সাথে মহাকর্ষ শক্তি অন্য তিনটি শক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রারম্ভিক শর্ত হিসেবে পদার্থ, শক্তি ও স্থান-কালের আধার অগ্নিবলটি (fireball) বিস্ফোরণের পর পুঞ্জ পুঞ্জ বস্তু চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছুটতে থাকে এবং সময়ের প্রবাহ ও সম্প্রসারণ গতি স্বতঃস্ফূর্ত বৈশিষ্ট্যে ধাবিত হয়ে ধারাবাহিক প্রসারের মাধ্যমে বিরাট Space গড়ে তোলে।
এরপর যেসব বস্তুর উদ্ভব হয়, সেগুলো- ইলেকট্রন, প্রোটন, কিছু ডিউটেরন (Deuteron), হিলিয়াম এবং হাইড্রোজেন। এগুলো সুবিশাল ফোটন (photon) সাগরে ডুবে যায় এবং অগ্নি-গ্যাসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বস্তুপিণ্ডে পরিণত হয়। সম্প্রসারণ গতির কারণে ঐ ক্ষুদ্র বস্তুপিণ্ডগুলি একে অপর থেকে দূরত্ব বজায় রেখে ইতস্ততঃ উড়ে বেড়াতে থাকে। বস্তুপিণ্ডগুলির নিজস্ব মহাকর্ষ শক্তি থাকার ফলে তারা সংকুচিত হতে পারত। দয়াময় আল্লাহপাক মহাকর্ষ শক্তির বিপরীতে সম্প্রসারণ (force of expansion) শক্তি সৃষ্টি করে দেয়ার ফলে ভয়ংকর সংঘর্ষ ঘটেনি। দুই পরস্পর বিরোধী শক্তির ক্রিয়া বিক্রিয়ার দরুণ গ্যাস গঠিত ক্ষুদ্র পিণ্ডগুলো বিভিন্ন আকার ধারণ করে। কোনটা মোচাকৃতি, কোনটা গোলাকার এবং আরও অন্যান্য আকারের।
মহাবিশ্বের বয়স যখন ১ সেকেন্ড তখন এর তাপমাত্রা ছিল 1 gm/cc। যদি ঐ মুহূর্তে সম্প্রসারণের মাত্রা এক হাজার বিলিয়নের এক ভাগও কম হতো তাহলে গোটা বিশ্ব কয়েক মিলিয়ন বৎসরের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যেত। আর যদি অনুরূপ মাত্রায় সম্প্রসারণ বৃদ্ধি পেত তাহলে গোটা বিশ্ব এমন বিশাল আকার ধারণ করতো যে, তখন মহাকর্ষ শক্তি (force of gravitation) দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়তো।
মহাবিশ্বের বয়স যখন ১০ থেকে ১০০ সেকেন্ড তখন হিলিয়াম নিউক্লিয় (Helium nuclei) গঠিত হয়। যদি ঐ সময় হিলিয়াম নিউক্লিয় বিশ্বের সকল প্রোটনকে আত্মীকরণ (absorb) করে নিতো তাহলে মহাবিশ্ব প্রায় সবটুকু ডিউটেরিয়াম (deuterium) বা হিলিয়াম নিউক্লিয়কে ধরে রাখত। আর যদি ডিউটেরিয়ামই প্রধান উৎপন্ন বস্তু হতো তাহলে তারকাগুলো হাইড্রোজেন বোমার মত বিস্ফোরিত হতো।
তাপমাত্রা যখন ৩০০০°k- এ নেমে আসে তখন ইলেকট্রন ও প্রোটন থেকে Atom তৈরী হয়। অধিকাংশ হাইড্রোজেন Atom এর সাথে কিছু হিলিয়াম নিয়ে বস্তুপিণ্ড গঠন করে এবং দূরত্ব বজায় রেখে উড়ে বেড়াতে থাকে। এ অবস্থায় Big Bang সংগঠিত হওয়ার প্রায় 1010 বছর পরে গ্যাস গঠিত বস্তুপিণ্ডগুলো মহাকর্ষ শক্তির টানে একত্রিত হয়ে প্রোটো-গ্যালাক্সি (protogalaxy) এবং শেষে গ্যালাক্সির (galaxy) জন্ম দেয়। এ কাজে সময় লাগে ২৫০ মিলিয়ন বৎসর। গ্যালাক্সির মধ্যকার ধূলি ও নিউক্লিয়ার গ্যাস থেকে নক্ষত্র পুঞ্জের সৃষ্টি হয়। নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যকার বস্তু যখন ঘনীভূত হয়, তখন ঘূর্ণায়মান সৌর নীহারিকার (Solar nebula) কেন্দ্রীয় অংশ সংকুচিত হয়ে প্রোটোসান (Protosun) গঠন করে। আর বাইরের চক্রবেষ্টনী (outer rings) গ্রহ, উপগ্রহের জন্ম দেয়। এসব ঘটনা ঘটতে সময় লাগে ৭৫০ মিলিয়ন বৎসর।
সূর্য সৃষ্টির সাথে সাথেই পৃথিবী সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়। বহু অবস্থার মধ্যদিয়ে অতিক্রম করে পৃথিবী আজকের অবস্থায় এসেছে। সৌরজগতের সদস্য, গ্যাস ও ধূলায় ঘূর্ণায়মান লাল উষ্ণ অনুজ্জ্বল গোলকের মত আমাদের পৃথিবী কম করে হলেও ৪৬০ কোটি বছর পূর্বে যাত্রা শুরু করে। তাপমাত্রা পাওয়ার পরে তাকে একটি তরল অবস্থা অতিক্রম করতে হয়। পরবর্তী ১০০০ মিলিয়ন বৎসর পর এর অনেক স্থানে শক্ত আবরণের সৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ ও আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপ দারুণভাবে আধিক্য লাভ করে এবং একটি বাষ্পীয় পরিমন্ডল একে ঘিরে ফেলে। যখন পৃথিবীর উপরিভাগ ঠান্ডা হলো তখন জলীয় বাষ্প জমে ঘনীভূত হয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত শুরু করে। এ বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হয় লেক, নদী, সাগর ও মহাসাগর। এ সময় পর্যন্ত প্রাণ সৃষ্টি হয়নি এবং পৃথিবীর কোথাও প্রাণের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে শুধু গড়ে ওঠেছিল পাহাড়-পর্বত ও মরুভূমির রুক্ষ-শুষ্ক প্রতিচ্ছবি।
পৃথিবীর ভূ-ত্বক জমাট বাধার পর যে ৩০০০ মিলিয়ন বছর অতিক্রান্ত হয়েছে সে সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়নি। তবে পরে উষ্ণ সাগরে প্রাণের উৎপত্তি ঘটে। প্রথমে যে প্রাণ সৃষ্টি হলো তা ছিল এক কোষ বিশিষ্ট (uni-cellular)। পরে এলো সামুদ্রিক অ্যালগী (algae) এবং সামুদ্রিক মেরুদন্ডহীন প্রাণী। মেরুদন্ডী প্রাণী এবং আদিম কালের মাছের মত প্রাণীদের আবির্ভাব ঘটলো আরো ১০০ মিলিয়ন বছর পরে।
যখন মাটির উপরে উদ্ভিদ জন্মাতে শুরু করল, তখন অমেরুদন্ডী প্রাণীরা স্থলভাগে বিচরণ শুরু করল এবং ক্রমান্বয়ে তারা বৃদ্ধি পেতে লাগল।
এ সময় পৃথিবীর উপরিতল কয়েকটি খণ্ডে বিভক্ত ছিল। এ খণ্ডগুলি ছিল শীতল, অনড় এবং ১০০ কিঃমিঃ বিস্তৃত প্লেট-সদৃশ। এগুলি উত্তপ্ত ও টলটলে গলিত অঞ্চলের উপর ভেসে বেড়াতো। এ টলটলে এলাকাকে বলা হয় অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার (aesthenosphere)। অভিকর্ষ (gravity) শক্তির প্রভাবে এ প্লেটগুলো গতিশীল হয়ে ওঠে। একে বলা হয় প্লেট-টেকটনিকস্ (plate tectonics) উপমহাদেশীয় প্লেটগুলো পরস্পরের সাথে ধাক্কা খাওয়ার ফলে বিশাল সংকুচিত পার্বত্য এলাকা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দাঁড়ায়। এভাবে কালক্রমে সামুদ্রিক জীবনের আধিপত্য শেষ হয়ে যায়। আর ইউরোপ ও এশিয়ায় জেগে ওঠে সুউচ্চ পর্বত শ্রেণী।
পরবর্তী ১৪০ মিলিয়ন বছরকে বলা হয় সরীসৃপের (reptiles) যুগ। এ সময় সরীসৃপরা আকারে এবং সংখ্যায় খুব বেশী বৃদ্ধি পায়। তারপর দেখা দেয় পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর। তবে এরা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে পারেনি। সবচেয়ে বৃহদাকার সরীসৃপ ডাইনোসর স্থলভাগে অধিককাল তার কর্তৃত্ব জোরদার করে রেখেছিল।
এরপর ৬৫ মিলিয়ন বছরে পৃথিবীতে স্তন্যপায়ী প্রাণী বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী শেষ ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) বছর ধরে মানুষ (homo sapiens) প্রাধান্য বিস্তার করে রেখেছে।
অতএব, মহাবিশ্বে এখনো নূতন নূতন গ্রহ, উপগ্রহ এবং নক্ষত্র সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত আবিষ্কার হচ্ছে। নক্ষত্র সমূহ মহাকর্ষ বলের প্রভাবে গ্যালাক্সি ও গুচ্ছ গ্যালাক্সি গঠন করে চলেছে। বর্তমানে এরূপ অসংখ্য গ্যালাক্সি আবিষ্কৃত হয়েছে।
অতএব, মহাবিশ্ব সৃষ্টির মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) যাঁর কুন (Be) আদেশ দ্বারা সংগঠিত হয়েছে তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী মহামহিম আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। ৭ম শতাব্দীতে অবতীর্ণ আল-কোরআনে মহাজগত সৃষ্টির Big Bang theory স্পষ্ট আয়াত দ্বারা বিবৃত হয়েছে। এ তত্ত্ব আবিষ্কারে বিজ্ঞানীদের ১৪০০ বৎসর সময় লেগেছে। "Big Bang theory" সম্পর্কে আল-কোরআন বলছে,
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَهُمَا .
Do not the unbelievers see that the heavens and the earth were joined together as one single mass; then We clove them asunder.
অবিশ্বাসীরা কি লক্ষ্য করে দেখে না, নভোমন্ডল এবং ভূ-মন্ডল (একটি বস্তুর ন্যায়) পরস্পর সংযুক্ত ছিল; অতঃপর আমরা এদের ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। (আম্বিয়া-৩০)
আরবী "রাতক" শব্দের অর্থ হচ্ছে, পদার্থ, শক্তি ও স্থান কালের একটি সংযুক্ত প্রক্রিয়া। আর "ফাতাক" শব্দ দ্বারা কোন সংযুক্ত বস্তুকে পৃথক করা, ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করা, বিচ্ছিন্ন করা, ইত্যাদি বোঝায়। মহান আল্লাহর "কুন" আদেশ ব্যক্ত করার সাথে সাথে আদি বস্তুপিণ্ডটির (primeval fireball) বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং আসমান-যমীন তথা মহাবিশ্বের তাবৎ বস্তু সৃষ্টির সূচনা হয়।
إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ.
It shall be a Big Blast and they will be brought before Us.
এটা হবে এক মহা বিস্ফোরণ। আর তারা সবাই আমার সমীপে স্থানান্তরিত হবে। (ইয়াসীন-৫৩)
আরবী "সাইহা” অর্থ 'Big Blast' বিজ্ঞানে যাকে বলা হয়েছে Big Bang.
উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে একটি Big Blast সংগঠিত হবে দ্বিতীয় বার সৃষ্টির সময়।
كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ.
As We began the first creation similarly shall We repeat it
প্রথমবার সৃষ্টির সময় আমরা যেভাবে আরম্ভ করেছিলাম পুনরায় একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।
যেহেতু দ্বিতীয়বার সৃষ্টির সময় Big Blast সংগঠিত হবে তাহলে প্রথমবারও Big Blast দ্বারা সৃষ্টির সূচনা হয়েছিল, উপরোক্ত আয়াত থেকে তা প্রতীয়মান হয়।
إنما أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ.
Verily when He intends to create a thing, He only says unto it 'Be' then it is.
প্রকৃতপক্ষে কোন কিছু সৃষ্টির জন্য তিনি যখন ইচ্ছা করেন শুধু বলেন "হও” অমনি তা হয়ে যায়। (ইয়াসীন-৮২)
অতএব, ১৫ বিলিয়ন বৎসর পূর্বে সপ্ত আকাশ, সৌর জগত, গ্যালাক্সি, গ্রহ উপগ্রহ, নেবুলা, সুপার নোভা, কোয়াসার, পালসার এসব কিছুই ছিল না। তখন যিনি ছিলেন-তিনি সর্বময় মহাবিজ্ঞানী, এক এবং একক সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।
الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمُوتِ وَالْأَرْضِ.
All the Praises be to Allah who created the heavens and the earth.
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি নভোমন্ডল এবং ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন। (ফাতির-১)
মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কিত বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেখুন পরিশিষ্ট-১।
References: 1. Scientific indications in the Holy Quran. Dr. M. Shamsher Ali and others; Islamic Foundation, Bangladesh. 2. Earth Science, Edward J. Tarbuck & Frederic K. Lutgens. Merill publishing Co. A Bell & howell information Co. Toronto. London, Columbus. 5th edition. 3. Bangla Academy Science Encyclopedia, published by Bangla Academy, Dhaka, Vol-1, 1st edn. 4. Scientific Magazine. 5. The first three Minutes: Steven Weinberg: Flamingo 1993 6. The Ultimate fate of the Universe; Jamal N. Islam, 1st Published 1983

অধিক পুণ্য বনাম কম পাপ
৫৯. কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা-কে এক লোক জিজ্ঞেস করল, কোন ব্যক্তিকে দেখে আপনি বিস্মিত হন?-যে ব্যক্তি কম আমল করে ও কম গুনাহ করে? নাকি বেশি আমল করে ও বেশি গুনাহ করে? ইবনু আব্বাস জবাব দিলেন, পাপ থেকে বেঁচে থাকাই উত্তম।[৬৬]

পাপের স্বল্পতাই উত্তম
৬০. আয়িশা রদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, “(নেকির দিক থেকে) একনিষ্ঠ ইবাদাতগুজারকে ছাড়িয়ে যেতে চাইলে পাপ থেকে নিজেকে বিরত রেখো। (কারণ) পাপের স্বল্পতার চেয়ে উত্তম কিছু নেই, যা নিয়ে তোমরা আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হতে পারবে।”[৬৭]

মুমিন বান্দা ছোটো পাপকেও বড়ো করে দেখে
৬১. আবুল আহওয়াস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “মুমিন বান্দার কাছে পাপ এমন—যেন সে বিশাল শিলাখণ্ডের নিচে বসে আছে আর ভয় করছে, তা এক্ষুনি ভেঙে পড়বে। আর কাফিরের কাছে পাপ হলো—নাকের ওপর দিয়ে ওড়ে যাওয়া সামান্য মাছির মতো।”[৬৮]

নাকের ওপর দিয়ে যাওয়া মাছি
৬২. হারিস ইবনু সুওয়াইদ থেকে বর্ণিত, “মুমিন বান্দার কাছে পাপ এমন—যেন সে বিশাল পাহাড়ের নিচে বসে আছে আর ভয় করছে, তা এক্ষুনি ভেঙে পড়বে। আর পাপাচারীর কাছে পাপ হলো নাকের ওপর দিয়ে ওড়ে যাওয়া সামান্য মাছির মতো।”[৬৯]

আল্লাহ যার কল্যাণ চান
৬৩. সুলাইমান ইবনু হাবীব রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, গুনাহকে তার জন্য কষ্টসাধ্য বানিয়ে দেন। আর যখন কোনো বান্দার অকল্যাণ চান, তার সামনে পাপকে সুশোভিত করে তোলা হয়।”[৭০]

আল্লাহর অবাধ্যতা!
৬৪. আবদুর রহমান ইবনু আমর আওযাঈ বলেন, আমি বিলাল ইবনু সা'দ রহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি: “পাপের নগণ্যতার দিকে তাকিয়ো না; বরং যাঁর অবাধ্যতা করেছ তাঁর (বড়োত্বের) দিকে তাকাও।”[৭১]

আত্মার ছটফটানি
৬৫. আমর ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস রদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন, “চড়ুই (পাখি) খাঁচায় বন্দি হলে যতটা ছটফট করে, মুমিনের আত্মা গুনাহর কারণে তার চেয়েও বেশি ছটফট করে।”[৭২]

খুঁটিতে-বাঁধা ঘোড়া
৬৬. আবূ সাঈদ খুদরি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَثَلُ الْمُؤْمِنِ وَمَثَلُ الْإِيمَانِ كَمَثَلِ الْفَرَسِ فِي آخِيَّتِهِ، يَجُولُ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى آخِيَّتِهِ. وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ يَسْهُو ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى الْإِيمَانِ، فَأَطْعِمُوا طَعَامَكُمُ الْأَنْقِيَاءَ، وَأَوْلُوا مَعْرُوفَكُمُ الْمُؤْمِنِينَ
“ঈমানদার ব্যক্তি ও ঈমান যেন খুঁটিতে-বাঁধা ঘোড়ার মতো। চক্কর দিতে দিতে তা অবশেষে খুঁটির কাছেই ফিরে আসে। একইভাবে কোনো মুমিন (কখনও কখনও) ভুল করে, আবার ঈমানের দিকেই ফিরে আসে। তাই তোমাদের খাদ্যবস্তু পরহেজগার ব্যক্তিদেরকে খাওয়াও এবং তোমাদের দান-খয়রাত ঈমানদারগণকে দাও।”[৭৩]

আমলে রয়েছে নিরাপত্তা
৬৭. আবূ আমর কাইস ইবনু রাফি' রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কয়েকজন সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কাছে সমবেত হলেন। কল্যাণমূলক কথাবার্তা বলতে বলতে তাদের অন্তর গলে গেল। কিন্তু ওয়াকিদ ইবনু হারিস রদিয়াল্লাহু আনহু চুপ থাকলেন। অন্যরা তাঁকে বললেন, আবুল হারিস, আপনি কিছু বললেন না যে? তিনি বললেন, আপনারা কথা যা বলেছেন যথেষ্ট। অন্যরা বললেন, আমাদের জীবনের শপথ, আপনি কথা বলুন! আপনি তো আমাদের চেয়ে বয়সে ছোটো নন। ওয়াকিদ ইবনু হারিস রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি কথা শুনি, কারণ কথা বলায় রয়েছে শঙ্কা। আর আমলের দিকে দৃষ্টি দিই, কারণ আমলে রয়েছে নিরাপত্তা। [৭৪]

কথা-কাজে মিল
৬৮. ইমরান ইবনু আবিল জা'দ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “সকলেই ভালো ভালো কথা বলে। তবে যার কথা ও কাজে মিল রয়েছে, সে-ই সফল। আর যার কথা ও কাজে গরমিল থাকে, সে তো নিজেকেই তিরস্কৃত করল।”[৭৫]

অজানা বিষয়ে ফাতওয়া দেওয়ার নিন্দা
৬৯. সুফইয়ান ইবনু উয়াইনা রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, “অনেকেই এমন বিষয়ে পারদর্শী, যে অনুযায়ী তারা নিজেরাই আমল করে না।”[৭৬]

কথা নয়, কাজেই পরিচয়
৭০. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "মানুষকে তাদের কথা নয়, কাজ দিয়ে বিচার করো। কারণ, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি কথার ব্যাপারে কর্মের দলিল প্রতিষ্ঠা করেন। ওই দলিল তার কথাকে সত্যায়ন করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। (অর্থাৎ, কেউ কোনো কথা বলার পর সে অনুযায়ী কাজ করল কি না, তা আল্লাহ তাআলা দেখেন।) কোনো ভালো কথা শুনলে বক্তাকে কিছুটা সময় দিয়ো। যদি তার কথার সাথে কাজ মিলে যায়, তবে তা কতই না চমৎকার ও চক্ষুশীতলকারী! তাকে ভাই আর বন্ধু বানিয়ে ভালোবাসো। যদি তার কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকে, তা হলে তার আর কোন বিষয়টি তোমাকে ধাঁধায় ফেলছে? তার কোন জিনিসটি তোমার কাছে গোপন থাকছে? তার ব্যাপারে সাবধান! তার থেকে দূরে সরে যেয়ো। বনি আদম যেভাবে ধোঁকা খেয়েছে সে যেন তোমাকে সেভাবে ধোঁকা না দেয়। তোমারও কথা ও কাজ আছে; কথার ওপর কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ো। গোপনীয় আমল আছে, প্রকাশ্য আমলও আছে; এর মাঝে গোপনীয় আমল অগ্রাধিকার পাবে। পার্থিব কর্ম আছে ও পরকালীন কর্ম আছে; অগ্রাধিকার পাবে পরকালীন কর্ম।”[৭৭]

আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেন
৭১. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ-কে বলল, আমাকে উপদেশ দিন। হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বললেন, “আল্লাহ তাআলার হুকুম-আহকামকে সম্মান করো, আল্লাহও তোমাকে সম্মান দেবেন।”[৭৮]

ইলম অনুযায়ী আমল
৭২. হিশাম ইবনু হাসসান থেকে বর্ণিত, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণ করে, তার খুশু-খুজু-চোখ-জিহ্বা-হাত-সালাত-আলোচনা ও পরহেজগারিতায় (সেই ইলমের) প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। (অর্থাৎ, প্রতিটি কাজ ইলম অনুযায়ী করার চেষ্টা করে)। কোনো ব্যক্তি যখন ইলমের একটি দিক অর্জন করে এবং সে ইলম অনুযায়ী আমল করে, তা হলে তা পুরো দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তা আখিরাতের জন্য ব্যয় করে দেওয়ার চেয়েও বেশি কল্যাণকর হয়।”[৭৯]

কুরআনের দুটি আয়াতই যথেষ্ট
৭৩. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, সা'সা[৮০] বলেছেন, আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে এই আয়াতগুলো পাঠ করতে শুনলাম :
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
"কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎ-কাজ করলেও সে তা দেখতে পাবে।”[৮১]
তা শুনে বললাম—“এটাই আমার জন্য যথেষ্ট, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। এর চেয়ে বেশি কিছু শুনতে চাই না।”[৮২]

পাপের ব্যাপারে সচেতনতা
৭৪. যাইদ ইবনু আসলাম রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এক লোক রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, প্রত্যেকেই কি অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে তা দেখতে পাবে? এবং অণু পরিমাণ অসৎ-কাজ করলে তা-ও দেখতে পাবে? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'হ্যাঁ'। লোকটি তখন এই কথা বলতে বলতে চলে গেল, হায় হায়! আমার কত গুনাহ! তার কথা শুনে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, آمَن الرَّجُلُ ‘লোকটি নিরাপদ রয়েছে।'”[৮৩]

কুরআনের দুটি আয়াতই উপদেশ হিসেবে যথেষ্ট
৭৫. মা'মার থেকে বর্ণিত, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
“কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎ-কাজ করলেও সে তা দেখতে পাবে।" আয়াত দুটি নাযিল হওয়ার পর একজন মুসলিম বললেন, “এটাই আমার জন্য যথেষ্ট! কারণ, অণু পরিমাণ সৎকাজ ও অসৎ-কাজ করলে তা দেখতে পাব। আমার আর কোনো উপদেশের প্রয়োজন নেই।”[৮৪]

পাপকাজের কারণে ইলম ভুলে যাওয়া
৭৬. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি ওই ব্যক্তির কথা ভাবি, যে পাপের কারণে আগের অর্জিত ইলম ভুলে গেছে।”[৮৫]

কুরআন ভুলে যাওয়া ভয়াবহ বিপদ
৭৭. দাহহাক ইবনু মুযাহিম রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআন শেখার পর তা ভুলে যাওয়া শুধু পাপকাজেরই ফল। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ
“তোমাদের ওপর যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তো তিনি ক্ষমা করে দেন।”[৮৬] আর কুরআন ভুলে যাওয়া একটি ভয়াবহ বিপদ।[৮৭]

পাপকাজের কারণে রিযক থেকে বঞ্চিত করা হয়
৭৮. সাওবান রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ الرَّجُلَ لَيُحْرَمُ الرِّزْقَ بِالذَّنْبِ يُصِيبُهُ
“মানুষ তার পাপকর্মের কারণে রিযক থেকে বঞ্চিত হয়।”[৮]

আমলে মিথ্যা কথার কুপ্রভাব
৭৯. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, “আমি কোনো মিথ্যা বললে আমার আমলে সেটা ধরা পড়ে।”[৮১]

নিজেকে চেনার উপায়
৮০. শুআইব ইবনু আবী সাঈদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, কীভাবে জানব যে আমি নিজে কেমন? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
إِذَا رَأَيْتَ كُلَّمَا طَلَبْتَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الْآخِرَةِ وَابْتَغَيْتَهُ يُسَرَ لَكَ، وَإِذَا أَرَدْتَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَابْتَغَيْتَهُ عُسْرَ عَلَيْكَ، فَاعْلَمْ أَنَّكَ عَلَى حَالٍ حَسَنَةٍ. فَإِذَا رَأَيْتَ كُلَّمَا طَلَبْتَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الْآخِرَةِ وَابْتَغَيْتَهُ عُسْرَ عَلَيْكَ، وَإِذَا طَلَبْتَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَابْتَغَيْتَهُ يُسْرَ لَكَ، فَأَنْتَ عَلَى حَالٍ قَبِيحَةٍ
"যদি তুমি এমন অবস্থায় থাকো যে, তুমি আখিরাতের কোনো বিষয় চাইলে তা তোমার জন্য সহজ করে দেওয়া হয় এবং দুনিয়াবি কোনো বিষয় চাইলে তা তোমার জন্য কঠিন করে দেওয়া হয়, তবে তুমি উত্তম অবস্থায় আছ। আর যদি এমন অবস্থায় থাকো যে, আখিরাতের কোনো বিষয় চাইলে তা তোমার জন্য কঠিন করে দেওয়া হয় এবং দুনিয়াবি কোনো বিষয় চাইলে তোমার জন্য তা সহজ করে দেওয়া হয়, তবে তুমি নিকৃষ্ট অবস্থায় আছ।”[১০]

জিহ্বাকে সংযত রাখা
৮১. হুমাইদ ইবনু হিলাল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আমর রদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, “অপ্রয়োজনীয় বিষয় বাদ দাও। অর্থহীন বিষয়ে কখনও কথা বোলো না। যেভাবে টাকা-পয়সা সংরক্ষণ করো, সেভাবে নিজের জিহ্বা সংরক্ষণ করো।” [৯১]

ভালো কাজের মর্যাদা
৮২. আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ
"তাঁর কাছে শুধুমাত্র পবিত্র কথাই ওপরের দিকে আরোহণ করে এবং সৎকাজ তাকে ওপরে ওঠায়।"[৯২]
আবুস সিনান শাইবানি বলেন, আমি দাহহাক ইবনু মুযাহিম রহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “সৎকাজ পবিত্র কথাকে ওপরের দিকে ওঠায়। "[৯৩]

ভালো কথার সঙ্গে ভালো কাজ
৮৩. মা'মার থেকে বর্ণিত, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “সৎকাজ ভালো কথাকে আল্লাহর দিকে উঠিয়ে নেয়। কিন্তু কারও কথা যদি ভালো হয় আর কাজ খারাপ হয়, তবে ওই কথাকে কাজের ওপর ছুড়ে ফেলা হয়। কারণ, কথার চেয়ে কাজ করাই অধিক সঙ্গত।”
মা'মার বলেন, কাতাদা রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ (এবং সৎকাজ তাকে ওপরে ওঠায়)[৯৪] -এর অর্থ হলো, "আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির সৎকাজ কবুল করে নেন।"[৯৫]

টিকাঃ
[৬৬] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৩৬৯, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৬৭] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ১৬৫, মাওকুফ।
[৬৮] নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ৭/১২৯, সনদ হাসান, মাওকুফ।
[৬৯] বুখারি, ৫৯৫৯।
[৭০] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৭১] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/২২৩, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৭২] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৭৩] আহমাদ, ৩/৫৫, সনদ দঈফ।
[৭৪] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৭৫] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ১৬০, হাসান লি-গাইরিহি, মাওকুফ।
[৭৬] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[৭৭] ইবনু আবদিল বার, জামিউ বায়ানিল ইলম, ২/৬-৭, মাকতু।
[৭৮] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ২/১৫২, মাওকুফ, মুনকাতি।
[৭৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ২৬১, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৮০] ফারাযদাকের দাদা অথবা চাচা ছিলেন তিনি।
[৮১] সূরা যিলযাল: ৭-৮।
[৮২] নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/৫২১, এই হাদীসের রাবীগণ সিকাহ।
[৮৩] জালালুদ্দিন সুয়ুতি, আদ-দুররুল মানসুর, ৬/৩৮১, মুরসাল।
[৮৪] জালালুদ্দিন সুয়ুতি, আদ-দুররুল মানসুর, ৬/৩৮২, মুরসাল।
[৮৫] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১/১৯৯, মাওকুফ।
[৮৬] সূরা শুরা: ৩০।
[৮৭] ওয়াকিহ ইবনুল জাররাহ, কিতাবুয যুহদ, ৯৫, সনদ হাসান, মুরসাল।
[৮৮] ইবনু হিব্বান, সহীহ, ১০৯০, সনদ হাসান।
[৮৯] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[১০] হাদীসটি মুরসাল। এর সমার্থবোধক হাদীস বুখারি ও মুসলিমে রয়েছে।
[১১] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৩৫২, সনদ মুনকাতি, মাওকুফ।
[১২] সূরা ফাতির: ১০।
[১৩] জালালুদ্দিন সুয়ুতি, আদ-দুররুল মানসুর, ৫/৩৪৬, সনদ হাসান, মাওকুফ।
[১৪] সূরা ফাতির: ১০।
[১৫] সনদ সহীহ, মাওকুফ。

রাতের সালাত রাতের শুরু, শেষ ও মধ্যখানে আদায় করা বৈধ, তবে উত্তম হচ্ছে শেষ তৃতীয়াংশ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يفطر من الشهر حتى نظن أن لا يصوم منه، ويصوم حتى نظن أن لا يفطر، وكان لا تشاء أن تراه من الليل مصلياً إلا رأيته، ولا نائماً إلا رأيته».
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো মাসে পানাহার করতেন, এক সময় আমরা মনে করতাম তিনি এ মাসে সিয়াম পালন করবেন না। আবার কোনো মাসে সিয়াম পালন করতেন, এক সময় আমরা মনে করতাম এ মাসে তিনি পানাহার করবেন না। তিনি এমন ছিলেন, যদি তুমি তাকে রাতে সালাত আদায়কারী দেখতে চাও দেখতে পাবে, আর যদি তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে চাও, তাও দেখতে পাবে”।

এ থেকে রাতের সালাতের সহজ নিয়ম বুঝে আসে, যার যখন সুবিধা উঠে সালাত আদায় করবে। হ্যাঁ রাতের শেষ অংশে সালাত আদায় করা উত্তম। আমর ইবন আবাসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
«أقرب ما يكون الرب من العبد في جوف الليل الآخر، فإن استطعت أن تكون ممن يذكر الله في تلك الساعة فكن».
“রাতের শেষ ভাগে বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, যদি তুমি সে সময়ে আল্লাহর যিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পার, তাহলে তাদের অন্তর্ভুক্ত হও”। এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয় আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস দ্বারা, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
ينزل ربنا تبارك وتعالى كل ليلة إلى السماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الآخر فيقول: من يدعوني فأستجيب له؟ من يسألني فأعطيه؟ من يستغفرني فأغفر له؟ فلا يزال كذلك حتى يضيء الفجر».
“আমাদের রব প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকে। অতঃপর তিনি বলেন, কে আমাকে আহ্বান করবে, আমি যার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার নিকট প্রার্থনা করবে, আমি যাকে প্রদান করব? কে আমার নিকট ইস্তেগফার করবে, আমি যাকে ক্ষমা করব? ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত অনুরূপ বলতে থাকেন”।

জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
إن في الليل لساعة لا يوافقها عبد مسلم يسأل الله خيراً من أمر الدنيا والآخرة إلا أعطاه إياه، وذلك كل ليلة».
“নিশ্চয় রাতে এমন একটি সময় রয়েছে, সে সময় যদি বান্দা আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, তাকে অবশ্যই তা প্রদান করা হয়। আর এটা প্রত্যেক রাতে হয়”।

আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন:
أحب الصلاة إلى الله صلاة داود عليه السلام، وأحب الصيام إلى الله صيام داود، وكان ينام نصف الليل، ويقوم ثلثه، وينام سدسه، ويصوم يوماً ويُفطر يوماً، ولا يفر إذا لاق».
"আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় সালাত হচ্ছে দাউদের সালাত, তিনি রাতের অর্ধেক সময় ঘুমাতেন, এক তৃতীয়াংশ কিয়াম করতেন ও এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। তিনি এক দিন সিয়াম পালন করতেন ও একদিন পানাহার করতেন। তিনি শত্রুদের মুখোমুখি হলে কখনো পলায়ন করতেন না"।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোনো আমল রাসূলুল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় ছিল? তিনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিকতা। আমি বললাম: তিনি কখন দাঁড়াতেন? তিনি বললেন: যখন মুরগির ডাক শুনতেন, তিনি দাঁড়াতেন”। তার থেকে অপর হাদীসে এসেছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ রাতে জাগিয়ে দিতেন, তার অযীফা শেষ করার আগে সাহরীর সময় হত না"।

টিকাঃ
২১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪১।
২২. তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৭৯; আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৭৭; নাসাঈ, হাদীস নং ৫৭২, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সুনান তিরমিযী: (৩/১৮৩)।
২৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৮।
২৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৭।
২৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৩১, ১৯৭৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৫৯।
২৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৩২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪১।
২৭. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩১৬, আল-বাহিন হাদীসটি হাসান বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/২৪৪)।

প্রশ্ন: কিছু সংখ্যক ইসলামী রাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান বা দৃষ্টিভঙ্গি কী, যেখানে বেশি বেশি অপরাধ, পাপাচার ও কুফুরী পরিলক্ষিত হয়। কারণ, সেখানে যুবতীরা প্রায় উলঙ্গ এবং যুবকরা বিপথগামী পথভ্রষ্ট, আর নারী ও পুরুষে খোলাখুলি সহাবস্থান এবং লজ্জাকর ও অশালীন পরিবেশকে ইসলাম পছন্দ করে না; বরং ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়ার সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশের ব্যাপারে উৎসাহিত করে অথচ এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো কোনো অনুষদে এক আল্লাহ তা'আলাকে সাজদাহ করার জন্য একটি মসজিদ পর্যন্ত পাওয়া যায় না, আর ইউনিফর্ম বা প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক হিসেবে যে পোশাক নির্ধারণ করা হয় তা হলো ইউরোপীয় মুশরিকদের পোশাক এবং এ নির্ধারিত পোশাক পরিধান করা ব্যতীত জামা (কামিজ) ও পাগড়ীর মত পোশাক পরিধান করে কোনো ছাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় না। কেননা এটা তাদের নিকট সেকেলে ও মূর্খতা। সুতরাং এমতাবস্থায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার বিধান কী হবে?
উত্তর: প্রথমত: উপকারী ও জনকল্যাণমূলক জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখা প্রশাখায় জ্ঞান অর্জন ফরযে কিফায়া'।• সুতরাং মুসলিম জাতির ওপর, বিশেষ করে তাদের শাসকশ্রেণির ওপর আবশ্যক হলো, তার জাতির মধ্য থেকে নারী ও পুরুষদের সমন্বয়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রকার প্রয়োজনীয় ও জরুরি বিষয়গুলোর জ্ঞান অর্জনের জন্য একটি গোষ্ঠীকে তৈরি করবে এবং তাদের জন্য সে জ্ঞান অর্জনের পথকে সহজ করে দেবে, যাতে জাতি তার সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করতে, অসুস্থদের চিকিৎসাসেবা দিতে এবং বিপজ্জনক সময় বা স্থানগুলো এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়। সুতরাং যদি এ কাজটি সম্পন্ন হয়, তাহলে গোটা জাতি দায়িত্বমুক্ত হবে এবং সাওয়াবের আশা করতে পারবে নতুবা দুর্যোগের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকবে এবং শাস্তির বাণী অবশ্যাম্ভাবী হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত: শিক্ষাব্যবস্থায় ছাত্রীদের সাথে ছাত্রদের এবং শিক্ষিকাদের সাথে শিক্ষকদের সহাবস্থান করা হারাম। কেননা তা ফিতনা, যৌন উস্কানি ও অশ্লীলতায় নিমজ্জিত হওয়ার দিকে ধাবিত করে, আর অপরাধ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং বড় বড় অন্যায় সংঘটিত হবে, যখন শিক্ষিকাগণ বা ছাত্রীগণ তাদের শরীরের গোপনীয় বিষয়গুলোর কোনো কিছু প্রকাশ করে, অথবা তারা এমন পাতলা পোশাক পরিধান করে যার কারণে ভিতরের সবকিছু দেখা যায়, অথবা সংকীর্ণ বা টাইটপিট পোশাক পরিধান করে, যা তাদের অঙ্গগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা সবকিছু বুঝিয়ে দেয়, অথবা তারা ছাত্র বা শিক্ষকবৃন্দের সাথে হাসি, রসিকতা, কৌতক করে, অথবা এ ধরনের এমন কোনো আচরণ করে, যা সম্মানহানি, ধর্ষণ ও নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত করে।
সুতরাং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনযন্ত্রের দায়িত্ব হলো সম্মানহানি, ধর্ষণ এবং জাতীয় জীবনে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা রোধ করার জন্য ছাত্রদের জন্য পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা এবং অনুরূপভাবে ছাত্রীদের জন্য পৃথক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করা, আর এর মাধ্যমে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও দীনদার ব্যক্তিবর্গের পক্ষে কোনো রকম সংকট বা জটিলতা ছাড়াই শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণের কাজটি অত্যন্ত সুচারুরূপে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। আর প্রশাসনিক দায়িত্বশীলগণ যখন তাদের দায়িত্ব পালন না করেন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় মেয়েদের থেকে ছেলেদেরকে আলাদা করতে ব্যর্থ হন, তখন ঐসব ব্যক্তিবর্গের চালচলনের সাথে যোগদান করা বা সংহতি প্রকাশ করা বৈধ হবে না, তবে ব্যক্তি যখন নিজ উদ্যোগে উপদেশ প্রদান এবং এ ব্যাপারে তার বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষকগণের সহযোগিতার মাধ্যমে অশ্লীলতা ও খারাপি কমাতে সক্ষম হবে বলে মনে করবে এবং ফিতনা থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করবে, তখন ভিন্ন কথা (অর্থাৎ তখন তাদের সাথে যোগদান করা বৈধ হবে)।
স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড

টিকাঃ
• ইসলামী শরী'আতের পরিভাষায় 'ফরযে কিফায়া' এমন একটি আবশ্যকীয় কাজ বা 'ইবাদত, যা মুসলিম সমাজের একটি বিশেষ গোষ্ঠী পালন করলে বাকি মুসলিম জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। -অনুবাদক।

📘 Biggan moy quran > 📄 মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ

📄 মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ


বিংশ শতাব্দীতে জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) গবেষণার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক কলাকৌশলে বেশ কয়েকটি নতুন পদক্ষেপ প্রত্যক্ষ করা হয়েছে। বিপুল দূরবর্তী নক্ষত্র কিংবা গ্যালাক্সি থেকে আলো একটি নতুন প্রযুক্তির কৌশলের মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংগৃহীত হয়ে থাকে। এ আলো দ্বারা ফটোগ্রাফিক প্লেটে ইমেজ তৈরী করা হয়। এ ইমেজ বা প্রতিচ্ছবি তৈরী হয় শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে। অন্য আর এক পন্থায় আকাশী বস্তু (Heavenly bodies) থেকে আলো সংগ্রহ করা হয়। এ আলোকে ভেঙ্গে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে পরিণত করা হয়। এ পন্থা বিজ্ঞানীদের ঐ উপাদান বা অণুকণাকে চিনে নিতে সহায়তা করে যে অণুকণা থেকে আলো উদ্‌গত হয়।

পদার্থ বিজ্ঞানের প্রত্যেক ছাত্র ডপ্লার ইফেক্ট (Doppler effect) এর সহায়তায় একথা জানতে পেরেছে যে, আমাদের কাছ থেকে নক্ষত্রসমূহ দূরে সরে যাচ্ছে এবং সমগ্র আলোক-দৃশ্য লাল বা দীর্ঘ তরঙ্গের শেষদিকে সরে যাচ্ছে। এধরনের সরে যাওয়াকে Astronomy-তে বলা হয় রেড শিফট (Red shift)। ১৮১৮ সালে জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এইচ. সি. ভসেট (H.C. Voset) প্রথম নক্ষত্র সমূহের Red shift আবিস্কার করেন।

বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে আরো একটি শক্তিশালী পদ্ধতি উন্নতি লাভ করেছে। এ পদ্ধতিকে বলা হয় Radio Astronomy বা রেডিও জ্যোতির্বিদ্যা। এ পদ্ধতি দ্বারা জ্যোতিষ্ক গবেষকগণ আকাশের ঐ দূরবর্তী অঞ্চলে তাদের গবেষণা কর্ম চালিয়ে যান, যেখানে শক্তিশালী অপটিক্যাল টেলিস্কোপ এ যাবত পৌছাতে পারেনি। এ প্রযুক্তিগত কৌশলের দ্বারা রেডিও সিগন্যাল নক্ষত্রসমূহের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। এসব রেডিও-সিগন্যাল বিভিন্ন তাৎক্ষণিকতায় রাডারে ধরা পড়ে এবং সিগন্যালগুলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন যে, সিগন্যালগুলো উদ্ভুত হয় কোন্ অণুকণা বা উপাদান থেকে।

১৯২৯ সনে বিজ্ঞানী হাবল্ (Hubble) প্রকাশ করেন যে, গ্যালাক্সিগুলো আমাদের দিক থেকে সকল দিকে ছুটে চলেছে। এ গ্যালাক্সিগুলোর দূরত্ব এবং এদের পশ্চাদগামী হওয়ার গতিবেগের মধ্যে একটি রৈখিক সম্পর্ক বিরাজমান। এদের এ গতিবেগ এদের দূরত্বের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। অর্থাৎ দূরত্ব যত বৃদ্ধি পায় গতিবেগও তত বৃদ্ধি পেতে থাকে।

বিশাল মহাবিশ্ব গ্যালাক্সির সমষ্টি। বিজ্ঞানের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (২০০০ সাল) ৫০,০০০ কোটি গ্যালাক্সি আমাদের মহাবিশ্ব জুড়ে রয়েছে। এখনো প্রতিদিন গ্যালাক্সির জন্ম হচ্ছে এবং তার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্যালাক্সিগুলির মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ গতি (force of expansion)। অর্থাৎ, বিশাল মহাজগত সুষমহারে প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ সম্প্রসারণ গতির ফলে সৃষ্ট দূরত্ব পরিমাপের জন্য Hubble একটি সূত্র উপস্থাপন করেছেন। তা হচ্ছে, "একটি গ্যালাক্সির লাল বিচ্যূতি আমাদের কাছ থেকে তার দূরত্বের সামানুপাতিক।” অর্থাৎ গ্যালাক্সিগুলো দূরত্বের সমানুপাতে আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সূত্রটির গাণিতিক ফর্মুলা নিম্নরূপঃ
Vr=Hx D
Vr=গতিবেগ H = Hubble ধ্রুবক D = দূরত্ব

একদল বিজ্ঞানী দূরত্ব নির্ণয়ের প্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করে Hubble ধ্রুবকের মান বের করেছেন 50 km/sec/Mpc অর্থাৎ গ্যালাক্সিগুলো প্রতি সেকেন্ডে 50km দূরে সরে যাচ্ছে। আর একদল বিজ্ঞানী বেতার টেলিস্কোপ দিয়ে গ্যালাক্সির দীপ্ত রশ্মি এবং গ্যাসের গতি নির্ণয় করেছেন। এ পদ্ধতিতে Hubble ধ্রুবকের মান পেয়েছেন 100km/sec/Mpc। এভাবে বিজ্ঞানীরা একটি স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, প্রতি সেকেন্ডে মহাজগত 50km থেকে 100km পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়ে থাকে এবং এ সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী Albert Einstein তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব Cosmological Constant (মহাজাগতিক ধ্রুবক) এ বলেছেন "একটি রহস্যময় স্বতাড়িত বৈশিষ্ট্যের কারণে মহাবিশ্ব ক্রমেই সম্প্রসারিত হয়ে চলেছে। এ বিস্ময়কর তত্ত্বটি টাইপ-আইএ সুপারনোভা নামে পরিচিত এবং স্টেলা এক্সপ্লোশন এর পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কে আল-কোরআন ৭ম শতাব্দীতে যে তথ্য দিয়েছে তা এখন সবাই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন।

وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُوْنَ.
With power and skill did We make the firmament; indeed We are expanding the vastness of space thereof.
প্রবল ক্ষমতা বলে আমরা আকাশ সৃষ্টি করেছি এবং অবশ্যই তা সম্প্রসারণ করে চলেছি। (যারিয়াত-৪৭)

আরবী "মুসিউন" শব্দের অর্থ হচ্ছে শক্তির নিরিখে কোন কিছুর সম্প্রসারণ বা বৃদ্ধি ঘটানো। আর গোটা মহাবিশ্বকে আল-কোরআন কখনো "সামা'আ" অথবা "সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্" পরিভাষা দ্বারা বুঝিয়েছেন।

فَلَا أُقْسِمُ بِالْخُنَّسِ . الْجَوَارِ الْكُنَّسِ.
Verily, I Call to witness the stars that recede, go straight or hide.
বস্তুতঃ আমি দেখার আহ্বান করি সেসব নক্ষত্রের প্রতি, যেগুলো পশ্চাদগামী হয়, সোজা চলে কিংবা অদশ্য হয়ে যায়। (তাকভীরঃ ১৭-১৮)

এ আয়াতে গ্রহ-নক্ষত্রসমূহের পেছনে সরে যাওয়া, চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া তথা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কে এত স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
He adds to creation as he pleases, Surely, Allah is powerful over everything.
আল্লাহ তার সৃষ্টিকে যেমন ইচ্ছা বর্ধিত করেন এবং তিনি প্রত্যেক বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। (ফাতির-২১)

দার্শনিক কবি আল্লামা ইকবাল (রঃ) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "The Recreation of Religious thought in Islam" এ উল্লেখ করেছেন, বিশ্বজগত সৃষ্টির কাজ কখনো সমাপ্ত হয়নি। মহান প্রভুর আদেশ কুন (Be) তৎসহ ফাইয়াকুন (Then it is) যথারীতি অব্যাহত রয়েছে।

মহাবিশ্বের কেন্দ্র থেকে সুষমহারে মহাজাগতিক সম্প্রসারণ ঘটে চলেছে। যার দরুন গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রহমতের দুআ
৮৪. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
رَحِمَ اللَّهُ قَوْمًا يَحْسَبُهُمُ النَّاسُ مَرْضَى، وَمَا هُمْ بِمَرْضَى
“আল্লাহ তাআলা ওই কওমকে রহম করুন, যাদেরকে মানুষ অসুস্থ ভাবে, অথচ তারা অসুস্থ নয়।”[১৬]
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “তারা (অত্যধিক) ইবাদাতে মশগুল থাকে (যার ফলে মানুষ তাদের অসুস্থ মনে করে)।”

মুনাফিক রাত জেগে ইবাদাত করতে পারে না
৮৫. কাতাদা রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “(আমাদের সময়) একটি কথা বলা হতো, “মুনাফিক কখনও (ইবাদাতের মাধ্যমে) রাত্রি জাগরণ করতে পারে না।”[১৭]

তামীম দারী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর সালাত
৮৬. মাসরুক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কার এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন, “এটা ছিল তোমার ভাই তামীম দারী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর (সালাত পড়ার) জায়গা। এক রাতে তিনি ভোর বা ভোর হয়ে যায় যায় এমন সময় পর্যন্ত রুকু, সাজদা আর আল্লাহর কিতাব থেকে এই আয়াত পড়ে পড়ে কাঁদছিলেন :
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أَنْ نَجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَاءٌ مَحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ
“যেসব লোক অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে তারা কি মনে করে নিয়েছে যে, আমি তাদেরকে এবং মুমিন ও সৎকর্মশীলদেরকে সমপর্যায়ভুক্ত করে দেব যে তাদের জীবন ও মৃত্যু সমান হয়ে যাবে? তারা যে ফয়সালা করে তা অত্যন্ত জঘন্য।”[৯৮]-[৯৯]

মাসরুক রহিমাহুল্লাহ-এর সালাত
৮৭. মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাসরুক রহিমাহুল্লাহ-এর স্ত্রী বলেছেন, “মাসরুককে কখনও কখনও এমন অবস্থায় পাওয়া যেত যে, দীর্ঘ সালাত পড়ার কারণে তাঁর পা দুটি ফুলে গেছে। আল্লাহর শপথ! তার পেছনে বসলে আমার এত মায়া লাগত যে, আমি কেঁদেই ফেলতাম।”[১০০]

যারা নিজেদের জন্য কাঁদে
৮৮. ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর বলেন, কা'ব আহবার রহিমাহুল্লাহ একজন লোকের কুরআন তিলাওয়াত অথবা দুআ-যিকর শুনছিলেন, (তখন লোকটি কাঁদছিল)। তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। তারপর যেতে যেতে বললেন, “কিয়ামাত হওয়ার আগেই যারা নিজেদের জন্য কাঁদে, তাদের কল্যাণ হোক।”[১০১]

সালাত পড়ে রাত কাটানো
৮৯. উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “সবার চোখ ঘুমে অবশ হয়ে এলে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু সালাতে দাঁড়াতেন। আমি মৌমাছির গুনগুনের মতো তাঁর (কুরআন তিলাওয়াতের) আওয়াজ শুনতাম। এভাবে ভোর হয়ে যেত।”[১০২]

আখিরাতের ব্যাপারে সাহাবিদের ভয়
৯০. আবুল আহওয়াস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “কেউ যখন (সাহাবিদের) তাঁবুর দরজায় গিয়ে দাঁড়াত, ওখানে মৌমাছির গুনগুনের মতো (যিকর-আযকারের) আওয়াজ শুনতে পেত। (এখনকার) লোকদের কী হলো যে এরা (আখিরাতের বিষয়ে) নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে, যে বিষয়ে পূর্ববর্তীরা ছিলেন ভীতসন্ত্রস্ত?”[১০৩]

মর্যাদায় তারতম্য
৯১. আউন ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা একটি দলকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; তাদেরকে নিয়ামাত দান করবেন এবং তারা ভোগ করবে। আরেক-দল লোক মর্যাদায় তাদের ওপরের স্তরে থাকবে। এরা তাদেরকে দেখে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক, ওরা আমাদের চেয়ে বেশি মর্যাদা পেল যে? এরা তো আমাদের ভাই, আমরা তো তাদের সাথেই ছিলাম। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, অসম্ভব! তোমরা যখন পরিতৃপ্ত হতে তখন তারা ক্ষুধার্ত থাকত, যখন তোমরা তৃষ্ণা নিবারণ করতে তখন তারা পিপাসার্ত থাকত, যখন তোমরা ঘুমিয়ে থাকতে তখন তারা সালাতে দাঁড়াত, যখন তারা (আমলের কারণে) ওপরের দিকে উঠত তখন তোমরা (গোনাহের কারণে) নিচের দিকে নামতে।"[১০৪]

জান্নাতে মর্যাদার তারতম্য
৯২. আবুল মুতাওয়াক্কিল রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ الدَّرَجَةَ فِي الْجَنَّةِ فَوْقَ الدَّرَجَةِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، وَإِنَّ الْعَبْدَ لَيُرْفَعُ بَصَرَهُ فَيَلْمَعُ لَهُ بَرْقُ يَكَادُ يَخْطَفُ بَصَرَهُ، فَيُفَزَعُ لِذَلِكَ فَيَقُولُ: مَا هَذَا؟ فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا نُورُ أَخِيكَ فُلَانٍ، فَيَقُولُ: أَخِي فُلَانٌ، كُنَّا نَعْمَلُ فِي الدُّنْيَا جَمِيعًا، وَقَدْ فُضْلَ عَلَى هَكَذَا؟ قَالَ: فَيُقَالُ لَهُ: إِنَّهُ كَانَ أَفْضَلَ مِنْكَ عَمَلًا، ثُمَّ يُجْعَلُ فِي قَلْبِهِ الرِّضَا حَتَّى يَرْضَى
"জান্নাতে মর্যাদার (বিভিন্ন) স্তর থাকবে, যেমন আসমান ও জমিনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জান্নাতে কেউ ওপরের দিকে তাকাবে, তার সামনে এমন বিজলি চমকে উঠবে যে তার চোখ ধাঁধিয়ে দেবে। সে ভয় পেয়ে যাবে এবং বলবে, এটা কী? তাকে বলা হবে, এটা তোমার অমুক ভাইয়ের আলো। সে বলবে, আমার অমুক ভাই, দুনিয়াতে তো আমরা একসঙ্গে আমল করতাম। আজ তাকে আমার চেয়ে এতবেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে? তাকে বলা হবে, আমলের ক্ষেত্রে সে তোমার চেয়ে উত্তম ছিল। এরপর তার অন্তরে সন্তুষ্টি সৃষ্টি করে দেওয়া হবে, ফলে সে সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।”[১০৫]

টিকাঃ
[১৬] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত।
[১৭] সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৯৮] সূরা জাসিয়া, ৪৫: ২১।
[৯৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ১৮২, মাসরুক পর্যন্ত হাদীসটির সনদ সহীহ।
[১০০] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৩৫, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১০১] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ২৫৩, মাওকুফ এবং এর রাবীগণ সিকাহ।
[১০২] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ১৫৬, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১০৩] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৩৪৭, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১০৪] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/২৪৭, সনদ দুর্বল, মাওকুফ।
[১০৫] হাদীসটির সবগুলো সনদ সহীহ, মুরসাল।

কিয়ামুল লাইলের নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নেই। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«صلاة الليل مثنى مثنى، فإذا خشي أحدكم الصبح صلى ركعة واحدة توتر له ما قد صلى».
"রাতের সালাত দু'রাকাত, দু'রাকাত, যখন তোমাদের কেউ ভোর হওয়ার আশংকা করবে, সে এক রাকাত সালাত আদায় করবে, যা তার পূর্বের সালাতগুলো বেজোড় করে দিবে"। কিন্তু এগারো বা তেরো রাকাতে সীমাবদ্ধ থাকাই উত্তম, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাকাত সংখ্যা ছিল অনুরূপ। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي ما بين أن يفرغ من صلاة العشاء إلى الفجر إحدى عشرة ركعة يسلم بين كل ركعتين ويوتر بواحدة ؛ ولحديثها الآخر: ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة».
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতুল এশা শেষ করে ফজর পর্যন্ত এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন, প্রত্যেক দু'রাকাত পর সালাত ফিরাতেন এবং এক রাকাত দ্বারা বিতর আদায় করতেন"। তার থেকে অপর হাদীসে এসেছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ও গায়রে রমযানে এগারো রাকাতের অধিক পড়তেন না"।

টিকাঃ
২৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৯।
২৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩৬।
৩০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩৮।

প্রশ্ন: পুরুষ ব্যক্তির জন্য এমন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা বৈধ হবে কিনা, যেখানে একই কক্ষে নারী ও পুরুষ সহাবস্থান করে, আপনার জ্ঞাতার্থে বলছি যে সেখানে আল্লাহর দিকে আহ্বান করার ব্যাপারে ছাত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে?
উত্তর: আমার মতে কোনো মানুষের জন্য এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করা বৈধ নয়, যেখানে নারী ও পুরুষ সহাবস্থান করে, চাই সে পুরুষ হউক অথবা নারী হউক। কারণ, তাতে তার সচ্চরিত্রতা, সততা ও নৈতিকতার ব্যাপারে প্রচণ্ড রকমের বিপদ রয়েছে। কেননা মানুষ যতই পবিত্রতা, সততা ও নৈতিকতাসম্পন্ন হউক না কেন, যখন সে তার চেয়ারের পাশের চেয়ারে কোনো নারীকে দেখতে পাবে, বিশেষ করে সে যদি রূপসী ও সৌন্দর্য প্রদর্শনকারিনী হয়, তখন ফিতনা ও মন্দ থেকে নিরাপদ থাকা তার পক্ষে কষ্টকর হয়ে যাবে।
আর এমন প্রত্যেক বিষয় বা বস্তুই হারাম ও অবৈধ বলে গণ্য হবে, যা ফিতনা ও খারাপির দিকে নিয়ে যায়। সুতরাং আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট আমাদের মুসলিম ভাইদের জন্য প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদেরকে এ ধরনের বিষয়াদি থেকে মুক্ত রাখেন, যা তাদের যুবকদের জন্য শুধু অকল্যাণ, ফিতনা ও বিপর্যয়... নিয়ে আসে এমনকি এ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া যদি অন্য কাঙ্খিত বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়া না যায়, তাহলে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে অন্য শহরে গিয়ে লেখাপড়া করতে হবে, যেখানে এ ধরনের সহাবস্থান নেই। অতএব, আমি এটাকে জায়েয মনে করি না; হয়তো আমি ছাড়া কেউ কেউ ভিন্ন মতও পোষণ করতে পারেন।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-'উসাইমীন

📘 Biggan moy quran > 📄 সৃষ্টির নির্ভুল অনুপাত

📄 সৃষ্টির নির্ভুল অনুপাত


সৃষ্টির নির্ভুল অনুপাত

সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞানীরা এ তথ্য উপলব্ধি করেছেন যে, নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডল জুড়ে যেখানে যা কিছু রয়েছে সে সবের মধ্যে একটি নির্ভুল অনুপাত-চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়। এ অনুপাত নির্ধারণের মধ্যে সুপরিকল্পনা ও বুদ্ধির বিকাশ সুস্পষ্ট।

পৃথিবীর ঘটনা প্রবাহের বৈশিষ্ট্যাবলী এবং আকাশমন্ডলের দৃশ্যাবলী নির্ধারিত হয়ে থাকে পদার্থ বিজ্ঞানের কিছু নিয়মের মাধ্যমে। এ নিয়মগুলোর মধ্যে একটি সুন্দর সূক্ষ্ম সমতা কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

উদাহরণ স্বরূপ সৌরজগতের গ্রহ-উপগ্রহগুলির ঘূর্ণন প্রকৃতির নিয়মগুলির কথা যদি বলি। আল্লাহপাক কর্তৃক বেধে দেয়া এ নিয়মগুলি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী জোহান্স কেপলার। তাই এ নিয়মগুলোর নাম দেয়া হয়েছে Kepler's Law বা কেপলারের সূত্র।

প্রথম সূত্রের ভাষ্য হলো, "প্রতিটি গ্রহ একটি উপবৃত্তীয় কক্ষে সূর্যকে পরিক্রমণ করে এবং এ উপবৃত্তের কোন ফোকাসে সূর্য অবস্থান করে।

দ্বিতীয় সূত্র, "সূর্য ও গ্রহের যোগকারী রেখা (radius vector) সমান কালে সমান ক্ষেত্র অতিক্রম করে।"

তৃতীয় সূত্র, "যে কোন গ্রহের নাক্ষত্রকালের বর্গ তাদের সূর্য থেকে মধ্যবর্তী দূরত্বের ঘন অনুপাতের (Proportional to the cubes) সমান।

এসব সূত্রের গাণিতিক বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, সূর্য এবং গ্রহসমূহের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট এবং নির্ভুল অনুপাত বিদ্যমান। যা না হলে হয়তো একটি বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা সব সময় থেকে যেত।

পূর্বে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে যে, পৃথিবী বর্তমানে যে অবস্থানে রয়েছে তার থেকে যদি কয়েক সেন্টিমিটার যদি সূর্যের কাছাকাছি যেত তাহলে এ সুন্দর বসুন্ধরা জ্বলে-পুড়ে লাল হয়ে শুক্র গ্রহের (Venus) রূপ ধারণ করতো। এখানে জীবনের উৎপত্তি কখনো সম্ভব হতো না। আর যদি পৃথিবী সূর্য থেকে ১% মাত্র দূরে সরে যেত, তাহলে পৃথিবী মঙ্গল (Mars) গ্রহের মত জমাট বাঁধা বরফে রূপান্তরিত হতো।

যে হারে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে সে হারের চেয়ে যদি অতি সামান্যতম ডিগ্রী কম হতো তাহলে সৃষ্টির পর মুহূর্তে পৃথিবী নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। অপরপক্ষে সম্প্রসারণের হার যদি প্রান্তিক মাত্রায় বৃহত্তর হতো তাহলে মহাবিশ্ব এত বিপুল আকারে বৃদ্ধি পেত যে, সেখানে মহাকর্ষ শক্তি কোনভাবে কাজ করতে পারতো না।

সোলার সিস্টেম এ্যাটমিক মডেলে (solar system atomic model) আমরা দেখি, সেখানে নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন পাক খায়। চারটি মৌলিক শক্তি যথা- সবল নিউক্লিয় শক্তি, দুর্বল নিউক্লিয় শক্তি, মহাকর্ষ শক্তি ও বিদ্যুৎ চুম্বকীয় শক্তি পরমাণুর গঠন উপাদানগুলির উপর সক্রিয় রয়েছে। সবল নিউক্লিয় শক্তি দু'টি প্রোটনকে একসঙ্গে আকর্ষণ করে। কিন্তু বিদ্যুৎ শক্তি ঐ দু'টিকে গ্রহণ করে না। যদি সবল নিউক্লিয় শক্তি সামান্যতম দুর্বল হতো তাহলে সাব-এ্যাটমিক কণিকাগুলো (sub-atomic particles) একসঙ্গে সংযোজিত হয়ে পরমাণুর নিউক্লিয় গঠন করতে পারতো না। অপরপক্ষে সবল নিউক্লিয় শক্তি যদি আরো বেশী সবল হতো তাহলে মহাবিশ্বের সকল হাইড্রোজেন (H) হিলিয়ামে (He) রূপান্তরিত হতো। বিশ্বজগতে হাইড্রোজেন আর খুঁজে পাওয়া যেত না। কিন্তু হাইড্রোজেন আমাদের কাছে দু'ভাবে প্রয়োজন। যেসব রাসায়নিক উপাদান জীবকোষ গঠন করে তার জন্য হাইড্রোজেন একান্ত অপরিহার্য। সূর্য এবং অন্যান্য নক্ষত্র যে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে আমাদের কিরণ দিয়ে যাচ্ছে তাও এ হাইড্রোজেন জ্বালানীর বদৌলতে।

রসায়ন বিজ্ঞানে আমরা দেখি, প্রত্যেকটি উপাদান নির্দিষ্ট আনুপাতিক হারে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে। দুই পরমাণু হাইড্রোজেন ও এক পরমাণু অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় এক অণু পানি (H₂O) গঠিত হয়। এর ব্যতিক্রম করে পানির অণু সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ অসম্ভব, বাতাসে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের আণুপাতিক হার ৪:১। এ অণুপাত যদি উল্টে দেয়া হতো। অর্থাৎ ৪ ভাগ অক্সিজেন ও ১ ভাগ নাইট্রোজেন হতো তাহলে কোন কিছুতে আগুন লাগলে সে আগুন বিস্তৃত হয়ে গোটা পৃথিবীকে পুড়িয়ে শেষ করে দিত। আর অক্সিজেনের আধিক্যের দরুণ সমগ্র প্রাণী জগত নিঃশ্বাসজনিত জটিলতায় বিনাশ হয়ে যেত। অপরপক্ষে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কম হলে উদ্ভিদ জগতের নাইট্রোজেনীয় উপাদান আত্মীকরণ (absorption) প্রক্রিয়া ব্যাহত হতো। ফলে বৃক্ষরাজির বিকাশ ঘটতো না।

সুতরাং এটা খুবই পরিষ্কার যে, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলকে একটি সুষম আনুপাতিক ধারায় বিন্যস্ত করে রেখেছেন, যাতে করে সবকিছু সঠিকভাবে কার্যরত থাকতে পারে। সৃষ্টি জুড়ে বিজ্ঞানের এ অনুপাত বিষয়ক তথ্য আল-কোরআন ৭ম শতাব্দীতে প্রকাশ করেছে;

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ
He It is who Created the heavens and the earth in true proportions.
তিনিই সর্বময় সত্তা যিনি নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডল সৃষ্টি করেছেন নির্ভুল অনুপাতে। (আনআম-৭৩)

خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِلْمُؤْمِنِينَ
Allah Created the firmaments and the earth in true proportions. Surely, in this is a proof for those who believe.
আল্লাহপাক সঠিক অনুপাতে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন। অবশ্যই যারা বিশ্বাস রাখে তাদের জন্য এতে রয়েছে প্রমাণ। (আনকাবুত-৪৪)

وَسَخَّرَ لَكُمُ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ دَائِبَيْنِ : وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ
And He made the Sun and the Moon constant in their courses, to be of service unto you and He (also) made the night and the day to be of service to you.
আর তিনি সূর্য এবং চাঁদকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সর্বদা একই নিয়মে, এবং রাত ও দিনকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। (ইব্রাহীম-৩৩)
আরবী 'সাখখারা' শব্দের অর্থ কোন বস্তুকে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত করে রাখা।

নবিজির সালাত
৯৩. হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাতের বেলা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত পড়লেন। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত শুরু করার পর বললেন,
اللَّهُ أَكْبَرُ ذُو الْمَلَكُوتِ، وَالْجَبَرُوتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ
‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, যিনি সকল রাজত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী, যিনি বড়োত্ব ও মহত্ত্বের অধিকারী।’
এরপর সূরা বাকারা পাঠ করলেন। তারপর রুকূ করলেন, রুকূ ছিল তাঁর প্রায় কুরআন পাঠের সমান। রুকূতে তিনি বললেন, سُبْحَانَ رَبِّ الْعَظِيمِ ‘আমার মহান রবের মহিমা প্রকাশ করছি।’ তারপর দাঁড়ালেন এবং রুকূর সমান দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর সাজদায় গিয়ে বললেন, سُبْحَانَ رَبِّ الْأَعْلَى ‘আমার সমুন্নত রবের মহিমা প্রকাশ করছি।’ সাজদা থেকে মাথা তুললেন এবং দুই সাজদার মাঝখানে সাজদার সমান (সময়) অবস্থান করলেন এবং বললেন, رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي ‘রব আমার, আমাকে ক্ষমা করে দাও! রব আমার, আমাকে ক্ষমা করে দাও!’ এভাবে তিনি সূরা বাকারা, সূরা আল ইমরান, সূরা নিসা, সূরা মাইদা ও সূরা আনআম পাঠ করলেন।” [১০৬]
শু'বা বলেন, বর্ণনাকারী সূরা মাইদা নাকি সূরা আনআম বলেছিলেন, তা ঠিক মনে নেই।

ভোরে যেমন থাকতেন নবিজি
৯৪. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলতেন, “ভোরবেলায় রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারা কখনও থাকত উৎফুল্ল, উজ্জ্বল এবং মন থাকত প্রশান্ত; আবার কোনো কোনো দিন ভোরে তাঁর চেহারায় থাকত ঘুমঘুম ভাব। আল্লাহ তাআলাই এ ব্যাপারে ভালো জানেন।" [১০৭]

ভারসাম্যপূর্ণ সালাত
৯৫. ইয়াযীদ রাকাশি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাত ছিল সমান সমান, ভারসাম্যপূর্ণ।" [১০৮]

সালাতে একটি আয়াতের পুনরাবৃত্তি
৯৬. আবুল মুতাওয়াক্কিল রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক রাতে সালাতে দাঁড়ালেন এবং কুরআনের একটি আয়াতই পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন। [১০৯]

নবিজির সালাত পর্যবেক্ষণ
৯৭. ইসহাক ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলেছেন, “এক রাতে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাত দেখতে আমার ইচ্ছে হলো। সে রাতে তিনি ইশার সালাত পড়ার পর অল্প কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলেন। এরপর উঠে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারলেন। তারপর হাওদার পেছন দিকে গিয়ে ওখান থেকে তাঁর মিসওয়াক নিলেন। দাঁত মেজে ওজু করে (সালাতে দাঁড়ালেন)। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তিনি রুকূ দিলেন না, দাঁড়িয়েই থাকলেন, এ অবস্থায় রাতের কত অংশ যে কেটে গেল, টেরই পেলাম না। একসময় ঘুম আমার চোখে পাহাড়ের মতো চেপে বসল।”[১১০]

নবিজির রাত্রিকালীন যিকর
৯৮. রবীআ ইবনু কা'ব আসলামি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হুজরার পাশে রাত্রিযাপন করলাম। শুনতে পেলাম যে, তিনি রাতে উঠে (সালাতের মধ্যে) দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে বললেন سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ 'আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত, তিনি মহাবিশ্বের শাসক'; তারপর দীর্ঘক্ষণ বললেন سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ 'আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত, আর প্রশংসা কেবল তাঁরই' ." [১১১]

পায়ের পাতা ফেটে রক্ত বেরোল
৯৯. মুগীরা ইবনু শু'বা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একবার তাহাজ্জুদের সালাতে) এতক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন যে তাঁর দুই পায়ের পাতা ফেটে গিয়ে রক্ত বের হলো। তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তো আপনার আগের ও পরের সব গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। (তবুও কেন এমনটা করেন?) জবাবে তিনি বললেন, أَفَلَا أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا 'আমি কি আল্লাহর একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?'”[১১২]

সালাতে দাঁড়িয়ে ক্রন্দন
১০০. মুতাররিফ ইবনু আবদিল্লাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, "আমি একবার নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে গেলাম, তখন তিনি সালাত পড়ছিলেন আর পাত্রে (গরম পানি) ফোটার মতো শব্দ হচ্ছিল তাঁর বুকে। (অর্থাৎ, তিনি কাঁদছিলেন)।" [১১৩]

কুরআন তিলাওয়াত শুনে কান্না
১০১. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, اقْرَأْ عَلَيَّ 'আমাকে কুরআন পড়ে শোনাও।' আমি বললাম, আপনার সামনে আমি কুরআন পড়ব, অথচ তা আপনার ওপরই নাযিল হয়েছে। তিনি বললেন, إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي 'আমি তা অন্যের মুখে শুনতে ভালোবাসি।' তারপর আমি সূরা নিসা পাঠ করতে শুরু করলাম। যখন আমি এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলাম :
فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا
“তবে কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব এদের বিরুদ্ধে।”[১১৪] তখন দেখলাম, তাঁর দুই চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে। তিনি বললেন, ‘হাসবুক’ ‘এবার থামো।” [১১৫]

কাঁদতে কাঁদতে ঘরে চলে যাওয়া
১০২. খালিদ ইবনু ইয়াসার রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একবার আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনালেন, তিনি তখন কাঁদলেন এবং তাঁর কান্না তীব্র হলো। এরপর তিনি মাথা ঢেকে দাঁড়ালেন এবং তাঁর ঘরে চলে গেলেন।" [১১৬]

সালাতে হাই তুলতে দেখা যায়নি
১০৩. ইয়াযীদ ইবনুল আসাম্ম রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কখনও সালাতে হাই তুলতে দেখা যায়নি।" [১১৭]

মুত্তাকিদের থেকে তিলাওয়াত শোনা
১০৪. তাউস রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لَا يُسْمَعُ الْقُرْآنُ مِنْ رَجُلٍ أَشْهَى مِنْهُ مِمَّنْ يَخْشَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ
“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তার কাছ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শোনা সবচেয়ে বেশি কাঙ্ক্ষিত।”[১১৮]

যার তিলাওয়াত সুমধুর
১০৫. ইমাম ইবনু শিহাব যুহরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কাছে এই হাদীস পৌঁছেছে যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ صَوْتًا بِالْقُرْآنِ، الَّذِي إِذَا سَمِعْتَهُ يَقْرَأُ، أُرِيتَ أَنَّهُ يَخْشَى اللَّهَ
"কারও তিলাওয়াত শুনলে দেখবে-আল্লাহকে যে যথাযথ ভয় করে-তার তিলাওয়াতই সুমধুর হয়ে থাকে।"[১৯]

স্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত
১০৬. মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব কুরাযি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হরফে হরফে কুরআন তিলাওয়াত করতেন।” (অর্থাৎ, প্রতিটি হরফ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতেন) [২০]

প্রতি হরফ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ
১০৭. উম্মু সালামা রদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কুরআন তিলাওয়াতের প্রশংসায় বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিটি হরফ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতেন।”[২১]

সুযোগের সদ্ব্যবহার
১০৮. হাকীম ইবনু উমাইর রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ فُتِحَ لَهُ بَابٌ مِنَ الْخَيْرِ فَلْيَنْتَهِزْهُ، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي مَتَى يُغْلَقُ عَنْهُ
"যার জন্য কল্যাণের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে সে যেন (কল্যাণকে) ভালোভাবে ব্যবহার করে। কারণ সে জানে না কখন তার জন্য তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।"[১২২]

রাত কাটে ঘুমিয়ে, দিন কাটে খেয়ে
১০৯. খাইসামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “কেউ কেউ রাতের বেলায় মৃতদেহ এবং দিনের বেলায় কুকুরের মতো (আচরণ করে)।”[১২৩]

একাগ্রতার সঙ্গে সালাত আদায়
১১০. সুলাইমান রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তাকে ফেলে দেওয়া কাপড়ের মতো মনে হতো।” (তিনি এতটাই একাগ্র হয়ে সালাত আদায় করতেন।) [১২৪]

বিনম্রভাবে সালাত আদায়
১১১. আবু উবাইদা রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু যখন সালাতে দাঁড়াতেন, দৃষ্টি, কণ্ঠস্বর ও হাত সংযত রাখতেন।” [১২৫] (অত্যন্ত খুশু-খুযুর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন।)

আল্লাহ যার কথা শোনেন এবং যার কথা শোনেন না
১১২. দাউদ ইবনু আবী সালিহ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি সালাতের মধ্যে মনোযোগ-সহকারে (তিলাওয়াত) শোনে, তার কথাও শোনা হয়; এবং যে তা উপেক্ষা করে, তার কথাও উপেক্ষা করা হয়।”[১২৬]

আল্লাহ যার প্রতি মনোযোগ দেন
১১৩. কা'ব আহবার রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “বান্দা যখন সালাতে দাঁড়ায় এবং তাতে খুব মনোযোগ দেয়, আল্লাহ তাআলাও তার প্রতি মনোযোগ দেন। আর সালাতে অমনোযোগী হলে আল্লাহ তাআলাও তার প্রতি অমনোযোগী হন।”[১২৭]

টিকাঃ
[১০৬] তায়ালিসি, মুসনাদ, ৪১৬, এই হাদীসের রাবীগণ সিকাহ।
[১০৭] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত।
[১০৮] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত।
[১০৯] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত হয়েছে। আলবানি বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ।
[১১০] সনদ সহীহ, মুরসাল।
[১১১] মুসলিম, ৪৮৯।
[১১২] হাদীসটি সহীহ। বুখারি ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
[১১৩] আবূ দাউদ, ৮৯০, সনদ সহীহ।
[১১৪] সূরা নিসা: ৪১।
[১১৫] হাদীসটি সহীহ।
[১১৬] সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১১৭] সনদ সহীহ, মুরসাল।
[১১৮] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৭/১৭০, মুরসাল।
[১১৯] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত।
[১২০] সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১২১] আবূ দাউদ, ১৪৫৩, হাসান।
[১২২] সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১২৩] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ১/১৩০, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১২৪] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ২/১৩৬, মাওকুফ।
[১২৫] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ২/১৩৬, মাওকুফ।
[১২৬] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[১২7] সনদ সহীহ, মাওকুফ।

১. ঘুমের সময় কিয়ামুল লাইলের নিয়ত করা আর ঘুমের উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ ইবাদাতে শক্তি অর্জন করা, তাহলে ঘুমেও সাওয়াব হবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«ما من امرئ تكون له صلاة بليل فغلبه عليها نوم إلا كتب الله له أجر صلاته، وكان نومه صدقة عليه»
"এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যার রাতে সালাত আদায়ের অভ্যাস ছিল, অতঃপর তার ওপর ঘুম প্রবল হল, আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই সালাতের সাওয়াব লিখবেন, আর তার ঘুম হবে তার জন্য সদকা"। আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«من أتى فراشه وهو ينوي أن يقوم يصلي من الليل فغلبته عيناه حتى أصبح، كتب له ما نوى، وكان نومه صدقة عليه من ربه تعالى».
“যে ব্যক্তি তার বিছানায় আসল, যার নিয়ত ছিল রাতে উঠে সালাত আদায় করা, কিন্তু তার ওপর ঘুম প্রবল হল, অতঃপর ভোর করল, তার নিয়ত অনুযায়ী তার জন্য লেখা হবে। আর তার ঘুম হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সদকা স্বরূপ”।

২. জাগ্রত হয়ে হাত মলে চেহারা থেকে ঘুম দূর করা, আল্লাহর যিকির করা ও মিসওয়াক করা, এবং বলা:
«لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير، سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، رب اغفر لي»
কারণ উবাদা ইবন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে আড়মোড়া দিয়ে উঠে বলল:
«لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير، الحمد لله وسبحان الله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله، ثم قال: اللهم اغفر لي، أو دعا استجيب له».
অতঃপর সে বলল: হে আল্লাহ আমাকে মাফ কর, অথবা দো'আ করল, তার দো'আ কবুল করা হবে"। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "...রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হয়ে হাত দ্বারা চেহারা থেকে ঘুম মুছতে ছিলেন, অতঃপর সূরা আল ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন..."।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, «كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل يشوص فاه بالسواك»،
"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন ঘুম থেকে উঠতেন, মিসওয়াক দ্বারা তার মুখ দাঁতন করতেন"। অতঃপর জাগ্রত হওয়ার অন্যান্য যিকির পড়া এবং আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক অযু করা।

৩. হালকা দু'রাকাত সালাত দ্বারা তাহাজ্জুদ আরম্ভ করা। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কর্ম দ্বারা অনুরূপ প্রমাণিত হয়। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل ليصلي افتتح صلاته بركعتين خفيفتين»
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে সালাত আদায়ের জন্য উঠতেন, তিনি হালকা দু'রাকাত সালাত দ্বারা তার সালাত আরম্ভ করতেন"।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إذا قام أحدكم من الليل فليفتتح صلاته بركعتين خفيفتين».
"যখন তোমাদের কেউ রাতে সালাতের জন্য উঠে, সে যেন তার সালাত হালকা দু'রাকাত দ্বারা আরম্ভ করে"।

৪. ঘরে তাহাজ্জুদ আদায় করা মুস্তাহাব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। যায়েদ ইবন সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «... فعليكم بالصلاة في بيوتكم، فإن خير صلاة المرء في بيته إلا المكتوبة».
"... তোমরা ঘরে সালাত আদায় কর, কারণ ব্যক্তির উত্তম সালাত হচ্ছে তার ঘরে ফরয ব্যতীত"।

৫. নিয়মিত কিয়ামুল লাইল আদায় করা, কখনো ত্যাগ না করা। নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত নিয়মিত পড়া মুস্তাহাব যদি শরীর চাঙ্গা ও মন প্রফুল্ল থাকে, তাহলে দীর্ঘ কিরাত করবে, অন্যথায় হালকা কিরাতে সালাত আদায় করবে, আর কখনো ছুটে গেলে কাযা করবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«خذوا من الأعمال ما تطيقون فإن الله لا يمل حتى تملوا»
“তোমরা সে পরিমাণ আমল কর, যার সাধ্য তোমাদের রয়েছে, কারণ আল্লাহ ক্লান্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও”। তিনি বলতেন:
«أحب العمل إلى الله ما داوم عليه صاحبه وإن قل»
"আল্লাহর নিকট সে আমলই অধিক পছন্দনীয়, বান্দা যার ওপর নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখে, যদিও তার পরিমাণ কম হয়"।
আব্দুল্লাহ ইবন আমর আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন:
يا عبد الله لا تكن مثل فلان كان يقوم الليل فترك قيام الليل
"হে আব্দুল্লাহ তুমি অমুকের মত হয়ো না, সে রাতে কিয়াম করত, কিন্তু সে তা ত্যাগ করেছে"।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন:
"...وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا صلى صلاة أحب أن يداوم عليها، وكان إذا غلبه نوم أو وجع عن قيام الليل صلى من النهار ثنتي عشرة ركعة»
"...রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো সালাত আদায় করতেন, তা তিনি নিয়মিত আদায় করা পছন্দ করতেন। যদি তার ওপর ঘুম প্রবল হত অথবা দাঁড়াতে কষ্ট হত, তাহলে তিনি দিনে বারো রাকাত সালাত আদায় করতেন"। উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «من نام عن حزبه أو عن شيء منه فقرأه فيما بين صلاة الفجر وصلاة الظهر كتب له كأنما قرأه من الليل».
"যে ব্যক্তি তার অযীফা থেকে ঘুমিয়ে পড়ল অথবা তার কতক অবশিষ্ট রইল, সে যদি তা ফজর ও যোহর সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে পড়ে নেয়, তাহলে তার জন্য লেখা হবে যেন সে তা রাতেই পড়েছে"।

৬. যদি তন্দ্রা চলে আসে, তাহলে সালাত ত্যাগ করে ঘুমানো উত্তম, যেন ঘুম পূর্ণ হয়। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إذا نعس أحدكم في الصلاة فليرقد حتى يذهب عنه النوم؛ فإن أحدكم إذا صلى وهو ناعس لعله يذهب يستغفر فيسب نفسه؟»
"যখন তোমাদের কেউ সালাতে ঝিমায়, তার উচিৎ শুয়ে পড়া, যেন তার থেকে ঘুম চলে যায়। কারণ, ঘুমানো অবস্থায় যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে, তখন হয়তো সে নিজের জন্য ইস্তেগফার করতে গিয়ে নিজেকে গালি দেবে"। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু 'মারফু' সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন:
«إذا قام أحدكم من الليل فاستعجم القرآن على لسانه فلم يدر ما يقول فليضطجع».
"যখন তোমাদের কেউ রাতে দণ্ডায়মান হয়, অতঃপর তার জন্য যদি কুরআন পড়া কষ্টকর হয়, কী বলে বলতে পারে না, তাহলে সে যেন শুয়ে পড়ে”।

৭. রাতের সালাতের জন্য স্ত্রীকে জাগ্রত করা মুস্তাহাব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সালাত আদায় করতেন, যখন তিনি বিতর আদায় করতেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলতেন:
«قومي فأوتري يا عائشة»
"হে আয়েশা উঠ, বিতর আদায় কর"। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"রহম আল্লাহ রাজুলান ক্বামা মিনাল লাইলি ফাসাল্লা, ছুম্মা আইক্বাযা ইমরা’আতাহু ফাসাল্লাত, ফাইয়ান আবাত নাযা ফি ওয়াজহাহা আলমা’আ, ওয়া রহেমাল্লাহু ইমরা’আতূন ক্বামাত মিনাল লাইলি ফাসাল্লাত, ছুম্মা আইক্বাযাত জাওজাহা ফাইয়ান আবাই নাযাআত ফি ওয়াজহাহু আলমা’আ."
“আল্লাহ সে ব্যক্তিকে রহম করুন, সে রাতে উঠে সালাত আদায় করল, অতঃপর তার স্ত্রীকে জাগ্রত করল। যদি সে উঠতে না চায় তার চেহারায় পানির ছিটা দিল। আল্লাহ সে নারীর ওপর রহম করুন যে রাতে উঠে সালাত আদায় করল, অতঃপর তার স্বামীকে জাগ্রত করল, যদি সে উঠতে না চায় তার চেহারায় পানির ছেটা দিল”।

আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إذا استيقظ الرجل من الليل وأيقظ امرأته فصليا ركعتين كتبا من الذاكرين الله كثيراً والذاكرات».
“যখন ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে ও তার স্ত্রীকে জাগ্রত করে, অতঃপর উভয়ে সালাত আদায় করে, তাদেরকে অধিক যিকিরকারী নারী ও অধিক যিকিরকারী পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত লেখা হয়”। আলী ইবন আবু তালিব বর্ণনা করেন, কোনো এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ও ফাতিমার নিকট গমন করলেন, অতঃপর বললেন:
"তোমরা কি সালাত আদায় করছ না?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, সন্দেহ নেই আমাদের অন্তর আল্লাহর হাতে, যখন তিনি আমাদেরকে উঠাতে চাইবেন আমরা উঠে যাব। আমার এ কথা বলার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলেন। আমাকে কোনো উত্তর করলেন না। অতঃপর তার প্রস্থানের সময় আমি তাকে শুনলাম, তিনি উরুতে হাত মেরে বলতে ছিলেন:
﴿ وَكَانَ الْإِنسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا ﴾ [الكهف: ٥٤]
"আর মানুষ সবচেয়ে বেশি তর্ককারী”। [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৫৪]
ইবন বাত্তাল রহ, বলেছেন: "এ থেকে রাতের সালাতের ফযীলত প্রমাণিত হয় এবং এ জন্য পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের জাগ্রত করা উচিৎ”। তাবারি রহ. বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যদি রাতের সালাতের অধিক ফযীলত জানা না থাকত, তাহলে তিনি কখনো নিজ মেয়ে ও চাচতো ভাইকে তার জন্য কষ্ট দিতেন না, তাও এমন সময় যা আল্লাহ তার মখলুকের আরামের জন্য নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু তিনি চেয়েছেন আরাম ও বিশ্রাম ত্যাগ করে তারা সে ফযীলত অর্জন করুক। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
﴿وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى ﴾ [طه: ١٣٢]
"আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার ওপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোনো রিযিক চাই না। আমিই তোমাকে রিযিক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য”। [সূরা ত্বহা, আয়াত: ১৩২]
আর আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু যে বলেছেন: "হে আল্লাহর রাসূল, সন্দেহ নেই আমাদের অন্তর আল্লাহর হাতে, যখন তিনি আমাদেরকে উঠাতে চাইবেন আমরা উঠে যাব" এ কথার উৎস হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার বাণী:
﴿اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ ﴾ [الزمر: ٤١]
"আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল কওমের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৪১]
আর তিনি যে বলেছেন: “আমরা উঠবো” এর অর্থ আমরা জাগ্রত হব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উরুতে হাত মারার উত্তম অর্থ হচ্ছে আলির দ্রুত উত্তর দেওয়া ও যথাযথ ওজর পেশ না করা। এ জন্য তিনি উরুতে হাত মেরেছেন। হাদীস থেকে বুঝে আসে: রাতের সালাতের জন্য উদ্বুদ্ধ করা, সাথীদের নির্দেশ দেওয়া এবং ইমাম ও বড়দের উচিৎ অধীনদের দীনি ও দুনিয়াবী উপকারের স্বার্থে তাদের রাতের সালাতের খোঁজ-খবর নেওয়া। উপদেশ প্রদানকারীর কর্তব্য যখন তার কথা গ্রহণ করা না হয় অথবা তার মনের বিরুদ্ধে প্রতি উত্তর শুনে, তাহলে বিরত থাকা ও রুষ্ঠ না হওয়া, যদি কোনো হিকমত না থাকে"।

নবী পত্নী উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে ঘাবড়ে উঠেন, অতঃপর তিনি বলেন,
«سبحان الله ماذا أنزل الله من الخزائن؟ وماذا أنزل من الفتن؟ أيقظوا صواحب يوسف ( يريد أزواجه) لكي يصلين، رُبَّ كاسية في الدنيا عارية في الآخرة». وفي لفظ: «ماذا أنزل الليلة؟».
"সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ কত খাজানা নাযিল করেছেন? কত ফিতনা নাযিল করা হয়েছে? হে ইউসুফের সাথীগণ (তার স্ত্রীগণ উদ্দেশ্য) তোমরা সালাত আদায়ের জন্য জাগ্রত হও। দুনিয়াতে অনেক পোশাক পরিহিতা আখিরাতে নগ্ন থাকবে"। অপর বর্ণনায় এসেছে: "আজ রাতে কী নাযিল করা হয়েছে?"।
হাফেয ইবন হাজার রহ. বলেছেন: "...এ হাদীস থেকে রাতের সালাতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করণ ও তা ওয়াজিব নয় বুঝে আসে। কারণ তিনি তাদের ওপর অবশ্য জরুরি করেন নি"। এ হাদীস থেকে আরো প্রমাণিত হয় ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আল্লাহর যিকির করা মুস্তাহাব, অনুরূপ ইবাদাতের জন্য নিজ পরিবারের লোকদের জাগ্রত করা, বিশেষ করে যখন কোনো কিছু ঘটে তখন মুস্তাহাব"।
ইবন আসির রহ. বলেছেন: "দুনিয়াতে অনেক পোশাক পরিহিতা আখিরাতে নগ্ন থাকবে" এ কথা দ্বারা মানুষের নেক আমলের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা সে পরকালের জন্য প্রেরণ করে। তিনি বলেন, "দুনিয়ার অনেক সম্পদশালী কোনো ভালো কাজ করে না, সে আখিরাতে ফকির। দুনিয়াতে অনেক পোশাক পরিহিতা, বিত্ত ও সচ্ছলতার মালিক আখিরাতে নগ্ন ও হতভাগা হবে"।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তার পিতা উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর তাওফীক মোতাবেক রাতে সালাত আদায় করতেন, অতঃপর যখন শেষ রাত হত তার পরিবারকে সালাতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। তিনি তাদেরকে বলতেন: সালাত, সালাত, অতঃপর নিম্নের আয়াত তিলাওয়াত করতেন:
﴿وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلٰوةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْـَٔلُكَ رِزْقًا ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكَ ۗ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوٰى﴾ [طه: ١٣٢]
“আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার ওপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোনো রিযিক চাই না। আমিই তোমাকে রিযিক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য” [সূরা ত্বহা, আয়াত: ১৩২]

৮. মনোযোগ ও বুঝে বুঝে যে পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করা যায়, তাহাজ্জুদে সে পরিমাণ পাঠ করা: এক পারা বা তার চেয়ে অধিক বা তার চেয়ে কম উচ্চ-অনুচ্চ যেভাবে ইচ্ছা পড়ার অনুমতি রয়েছে। হ্যাঁ যদি উচ্চ স্বরে তিলাওয়াত করলে পড়াতে প্রাণ আসে অথবা উপস্থিত লোকেরা শ্রবণ করতে পারে, অথবা অন্য কোনো ফায়দা রয়েছে, তাহলে উচ্চ স্বরে পড়া উত্তম। আর যদি নিকটে কেউ তাহাজ্জুদ পড়ে, অথবা তার উচ্চ স্বরের কারণে কারো কষ্ট হয়, তাহলে আস্তে পড়া উত্তম। আর যদি অগ্রাধিকারের কোনো কারণ না থাকে, তাহলে যেভাবে ইচ্ছা পড়বে।
উপরে বর্ণিত সব অবস্থা সম্পর্কে হাদীস রয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فأطال حتى هممت بأمر سوء، قيل: و ما هممت به؟ قال: هممت أن أجلس وأدعه».
"আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো এক রাতে সালাত আদায় করেছি, তিনি এত লম্বা করলেন যে আমি খারাপ ইচ্ছা করে ছিলাম, বলা হল: কি ইচ্ছা করে ছিলেন? তিনি বললেন: আমি ইচ্ছা করে ছিলাম তাকে ত্যাগ করে আমি বসে যাব"। হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি কোনো এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছি, তিনি বাকারা আরম্ভ করলেন, আমি বললাম: একশ' আয়াত হলে হয়ত রুকু করবে। তিনি পড়তে থাকলেন আমি বললাম হয়ত এক রাকাতে এ সূরা শেষ করবেন, তিনি পড়তে থাকলেন আমি বললাম: এর দ্বারা হয়ত রুকু করবেন। অতঃপর তিনি সূরা আলে-ইমরান আরম্ভ করে তা শেষ করলেন। অতঃপর তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করে শেষ করলেন তিনি ধীরে ধীরে স্পষ্ট করে পড়তে ছিলেন। যখন কোনো তাসবীহের আয়াত পাঠ করতেন, তাসবীহ পড়তেন, যখন কোনো প্রার্থনার আয়াত পড়তেন, প্রার্থনা করতেন। যখন কোনো আশ্রয় চাওয়ার আয়াত পড়তেন, আশ্রয় চাইতেন...।" মালেক ইবন আশজায়ি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাতে দাঁড়িয়েছি, তিনি সূরা বাকারা তিলাওয়াত করলেন, তিনি এমন কোনো রহমতের আয়াত তিলাওয়াত করেননি, যেখানে তিনি বিরতি দিয়ে প্রার্থনা করেন নি। তিনি আযাবের কোনো অতিক্রম করলে সেখানে বিরতি দিয়ে আশ্রয় চেয়েছেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ানোর সমপরিমাণ রুকু করেন, রুকুতে তিনি বলতেন:
سبحان ذي الجبروت، والملكوت، والكبرياء، والعظمة
অতঃপর তিনি সাজদা করেন, রুকুর অনুরূপ তিনি সাজদাতে বলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে তিনি সূরা আল ইমরান তিলাওয়াত করেন, অতঃপর তিনি একেকটি সূরা তিলাওয়াত করেন"। হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাত আদায় করতে দেখেছেন, তিনি চার রাকাত সালাত আদায় করেন, তাতে তিনি সূরা বাকারাহ, আলে ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়েদাহ অথবা সূরা আল-'আনআম তিলাওয়াত করেন"।
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা জনৈক ব্যক্তিকে বলেন, যে এক রাকাতে মুফাস্সালের সকল সূরা তিলাওয়াত করেছে: "তুমি কি কবিতার মতো দ্রুত পড়েছ? আমি তো সামঞ্জস্যপূর্ণ সে সব সূরা জানি, যেগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটির সাথে অপরটি মিলিয়ে পাঠ করতেন। অতঃপর তিনি মুফাস্সাল থেকে বিশটি সূরা উল্লেখ করেন, প্রতি রাকাতে দু'টি করে সূরা। অপর বাক্যে এসেছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রাকাতে এগুলো থেকে দু'টি সূরা তিলাওয়াত করতেন”। তিনি বলেন, ইবন মাসউদের 'মাসহাফ' মোতাবেক বিশটি সূরা মুফাস্সালের শুরু থেকে, যার সর্বশেষ সূরা দুখান ও সূরা নাবা"। সহীহ মুসলিমের বর্ণিত শব্দ: "আব্দুল্লাহর রচনা মোতাবেক দশ রাকাতে মুফাস্সালের বিশটি সূরা"। সহীহ মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছে:
... هذاً كهذ الشعر، إن أقواماً يقرؤون القرآن لا يجاوز تراقيهم، ولكن إذا وقع في القلب فرسخ فيه نفع، وإن أفضل الصلاة الركوع والسجود، إني لأعلم النظائر التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرن بينهن ......
"কবিতার মতো দ্রুত পড়েছ, নিশ্চয় এক জাতি রয়েছে যারা কুরআন তিলাওয়াত করে, তবে তাদের গর্দান অতিক্রম করে না; কিন্তু যখন অন্তরে স্থির হও ও তাতে প্রোথিত হয় উপকার করে। সর্বোত্তম সালাত হচ্ছে রুকু ও সাজদা। নিশ্চয় আমি সে সব সূরা জানি, যেগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিলিয়ে পাঠ করতেন...।"
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের এক আয়াত দ্বারা এক রাত শেষ করেছেন"। আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে এক আয়াত পড়তে থাকেন, সকাল পর্যন্ত তিনি তা বারবার পড়তে ছিলেন। আর সে আয়াতটি হচ্ছে: إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ) [المائدة: [۱۱۸]
"যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন তবে তারা আপনারই বান্দা, আর তাদেরকে যদি ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ১১৮] এ থেকে বুঝা যায় সালাতুল লাইলে বান্দার তাওফিক, সুস্থতা ও ইমানী শক্তি মোতাবেক বিভিন্ন কিরাত পড়া শ্রেয়।

কিয়ামুল লাইলে কিরাত জোরে ও আস্তে পড়ার দলীল: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে কিরাত জোরে পড়তেন, না আস্তে পড়তেন? তিনি বললেন: তিনি সব করতেন, কখনো জোরে পড়তেন আবার কখনো আস্তে পড়তেন"। আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে বলেন,
يا أبا بكر، مررت بك وإنك تصلي تخفض صوتك قال: قد أسمعت من ناجيت يا رسول الله، قال: «ارفع قليلاً»
"হে আবু বকর, আমি তোমার পাশ দিয়ে গিয়েছি, তুমি নিচু স্বরে সালাত আদায় করতে ছিলে" তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যার সাথে নিভৃতে কথোপকথন করেছি তাকে শুনিয়েছি। তিনি বললেন: "তোমার আওয়াজ সামান্য উঁচু কর" আর উমারকে তিনি বলেন,
مررت بك وأنت تصلي رافعاً صوتك فقال: يا رسول الله! أوقظ الوسنان وأطرد الشيطان، قال: «اخفض قليلاً».
"আমি তোমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি, তুমি উঁচু আওয়াজে সালাত আদায় করছিলে"। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি ঘুমন্তদের জাগ্রত ও শয়তান বিতাড়িত করছিলাম। তিনি বললেন: "তুমি সামান্য নিচু কর"।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক রাতে জনৈক ব্যক্তিকে কুরআন তিলাওয়াত করতে শুনেন, অতঃপর তিনি বলেন,
«يرحمه الله لقد أذكرني كذا وكذا ، آية كنت أسقطتها من سورة كذا وكذا» وفي لفظ : كان النبي صلى الله عليه وسلم يستمع قراءة رجل في المسجد فقال: «رحمه الله لقد أذكرني آية كنت أنسيتها».
"আল্লাহ তাকে রহম করুন, সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যা আমি অমুক অমুক সূরা থেকে বাদ দিয়ে ছিলাম"। অপর শব্দে এভাবে এসেছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে এক ব্যক্তির কিরাত শুনতে ছিলেন, তিনি বললেন: "আল্লাহ তাকে রহম করুন, সে আমাকে অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যা আমি ভুলে গিয়ে ছিলাম"।
কুরআনের হাফেয যদি দিন-রাতের সালাতে কুরআন তিলাওয়াত করে, তাহলে কুরআন তার স্মরণ ও মুখস্থ থাকবে। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إنما مثل صاحب القرآن كمثل صاحب الإبل المعقلة إن عاهد عليها أمسكها وإن أطلقها ذهبت».
"কুরআনের হাফেযের উদাহরণ হচ্ছে উটের মালিকের ন্যায়, যদি সে তা বারবার তিলাওয়াত করে রাখতে পারবে, আর যদি ছেড়ে দেয় চলে যাবে"।
মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে:
وإذا قام صاحب القرآن فقرأه بالليل والنهار ذكره وإذا لم يقم به نسيه».
"কুরআনের হাফিয যদি রাতে ও দিনে সালাতে দণ্ডায়মান হয়ে তিলাওয়াত করে, স্মরণ রাখতে পারবে, আর যদি সে তা সালাতে না পড়ে ভুলে যাবে"।

৯. কখনো কখনো জামা'আতের সাথে রাতের নফল আদায় করা বৈধ। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামা'আতের সাথে ও একলা সালাত আদায় করেছেন, তবে তার অধিকাংশ নফল সালাত ছিল একলা। তিনি কখনো হুযায়ফার সাথে সালাত আদায় করেছেন। কখনো ইবন আব্বাসের সাথে। কখনো আনাস, তার মাতা ও ইয়াতিমের সাথে। কখনো ইবন মাসউদের সাথে। কখনো আউফ ইবন মালেকের সাথে। কখনো আনাস ও তার মা এবং তার খালা উম্মে হারামের সাথে। কখনো ইতবান ইবন মালেক ও আবু বাকরার সাথে। একবার তাঁর সাহাবীগণ উসমানের বাড়িতে ইমামতি করেছে। হ্যাঁ এটাকে নিয়মিত সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করবে না, যদি কখনো তা করে তাহলে সমস্যা নেই, তারাবীর সালাত ব্যতীত, কারণ তাতে জামা'আত দায়েমি সুন্নাত"।

১০. বিতর সালাত দ্বারা তাহাজ্জুদ শেষ। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«اجعلوا آخر صلاتكم بالليل وتراً». وفي لفظ لمسلم: «من صلى من الليل فليجعل آخر صلاته وتراً قبل الصبح، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يأمر بذلك».
"বেতেরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত বানাও”। মুসলিমের বর্ণনায় এরূপ এসেছে, (আব্দুল্লাহ ইবন উমার বলেছেন): "যে রাতে সালাত আদায় করে, সে যেন তার শেষ সালাত করে বিতরকে 'ফজরের পূর্বে', কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ নির্দেশ করতেন"।

১১. ঘুম যাওয়া ও দণ্ডায়মানকে সাওয়াব জ্ঞান করা, তাহলে ঘুম ও সজাগ সর্বাবস্থায় সাওয়াব হাসিল হবে। একবার মুয়ায ও আবু মুসা আশা'আরি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নেক আমলের আলোচনা করতে ছিলেন। মুয়ায বললেন: হে আব্দুল্লাহ আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন: আমি রাত-দিন সর্বদা বিরতি দিয়ে দিয়ে তিলাওয়াত করি। তিনি বললেন: আপনি কীভাবে তিলাওয়াত করেন হে মুয়ায? তিনি বললেন: আমি প্রথম রাতে ঘুমাই অতঃপর সালাতে দাঁড়াই, যখন আমার কিছু ঘুম হয়ে যায় এবং আল্লাহর তাওফীক মোতাবেক তিলাওয়াত করি। আমি ঘুমকে ইবাদাত মনে করি, যেমন দাঁড়ানোকে ইবাদাত মনে করি"। অপর বর্ণনায় এসেছে: "মুয়ায আবু মুসাকে বললেন: আপনি কিভাবে তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন: দাঁড়িয়ে, বসে ও আমার বাহনের ওপর, বিরতি দিয়ে দিয়ে তিলাওয়াত করি। তিনি বলেন, কিন্তু আমি দাঁড়াই ও ঘুমাই, আমি আমার ঘুমকে ইবাদাত মনে করি যেমন দাঁড়ানোকে ইবাদাত মনে করি"।
হাফেয ইবন হাজার রহ. বলেছেন: "এর অর্থ হচ্ছে তিনি বিশ্রামে সাওয়াব অন্বেষণ করেন, যেমন তিনি কষ্ট করে সাওয়াব অন্বেষণ করেন কারণ বিশ্রাম দ্বারা যদি ইবাদাতের শক্তি অর্জন উদ্দেশ্য হয়, তাহলে সেখানেও সাওয়াব হয়"।
আমি আল্লামা আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায রহ.-কে বলতে শুনেছি: “এতে সাহাবীদের সুন্দর আখলাক, ইবাদাতের প্রতি তাদের ঈর্ষা ও পরস্পর ইবাদাতের আলোচনার প্রমাণ পাওয়া যায়। তারা ঘুম ও দাঁড়ানোকে পর্যন্ত ইবাদাত গণ্য করতেন। অতএব, মুসলিমের উচিৎ তার সময় ও কাজ বণ্টন করে নেওয়া: একটি সময় কুরআনের জন্য, একটি সময় অন্যান্য কাজের জন্য ও একটি সময় পরিবারের জন্য...”

১২. লম্বা কিরাতের সাথে অধিক রুকু সাজদা করা উত্তম রাতের সালাতে যদি কষ্ট অথবা বিরক্ত না লাগে। জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"أفضل الصلاة طول القنوت..."
“লম্বা কুনুত” বিশিষ্ট সালাত উত্তম"। সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তাকে জান্নাতে প্রকাশকারী আমল অথবা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল, তিনি বলেন, আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বলেছেন:
عليك بكثرة السجود لله، فإنك لا تسجد لله سجدة إلا رفعك الله بها درجة وحط عنك بها خطيئة؛
"তুমি আল্লাহর জন্য অধিক সাজদা কর। কারণ, তুমি এমন কোনো সাজদা করবে না, যার বিনিময়ে আল্লাহ তোমার মর্তবা বৃদ্ধি করবেন না ও তোমার পাপ মোচন করবেন না"। রাবিআ ইবন কাব আসলামি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রাত্রি যাপন করতাম, তার অযুর পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিস পেশ করতাম। তিনি আমাকে বলেন, "চাও”, আমি বললাম: আমি জান্নাতে আপনার সাথে থাকতে চাই। তিনি বললেন: "এ ছাড়া অন্য কিছু?” আমি বললাম: এটাই। তিনি বললেন:
«فأعني على نفسك بكثرة السجود»
"অধিক সাজদা দ্বারা তুমি আমাকে সাহায্য কর, তোমার জন্যই” আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«أقرب ما يكون العبد من ربه وهو ساجد، فأكثروا الدعاء»
"বান্দা তার রবের অধিক নিকটবর্তী হয় সাজদা অবস্থায়, অতএব তোমরা অধিক দো'আ কর"।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত একটি 'মারফু' হাদীসে আছে:
«أما الركوع فعظموا فيه الرب، وأما السجود فاجتهدوا في الدعاء، فقمن أن يُستجاب لكم».
"আর রুকুতে তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা কর, সাজদাতে অধিকহারে দো'আ কর, অধিক সম্ভাবনা রয়েছে যে তোমাদের ডাকে সাড়া দেওয়া হবে"।
এসব হাদীসের কারণে আলিমগণ ইখতিলাফ করেছেন কোনোটি উত্তম; লম্বা কিয়াম করে কম সাজদা করা অথবা সংক্ষেপ কিয়াম করে অধিক সাজদা করা?
কেউ বলেছেন: লম্বা কিয়ামের তুলনায় অধিক রুকু সাজদা উত্তম। ইমাম আহমদের সাথীদের একটি জামা'আত এ অভিমত গ্রহণ করেছেন, তাদের দলীল পূর্বে উল্লিখিত সাজদার ফযীলত সংক্রান্ত হাদীস।
কেউ বলেছেন: উভয় সমান।
কেউ বলেছেন: লম্বা কিয়াম করা অধিক রুকু সাজদা থেকে উত্তম। তাদের দলীল পূর্বে উল্লিখিত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস: «أفضل الصلاة طول القنوت»،
"লম্বা কুনুত বিশিষ্ট সালাতই উত্তম"। ইমাম তাবারি রহ, আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ الَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا ﴾ [الزمر: ৯] “যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সাদজাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে" [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৯] সম্পর্কে বলেন, এখানে কুনুতের অর্থ সালাতে দাঁড়িয়ে কিরাত পড়া। অন্যরা বলেছেন: কুনুত অর্থ ইবাদাত, আর 'কানেত' অর্থ আনুগত্যকারী।” ইবন কাসির রহ. বলেন, أَمَّنْ هُوَ قَائِنُ وَانَاءَ الَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا ﴾ [الزمر: ٩] “যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সাদজাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে" [সূরা যুমারআয়াত: ৯] অর্থাৎ সাজদা ও কিয়াম অবস্থায়। এ জন্য যারা কুনুতের অর্থ বলেছেন সালাতে খুশু বা একাগ্রতা, তারা দলীল হিসেবে এ আয়াত পেশ করেছেন, এখানে কুনুত অর্থ শুধু দাঁড়ানো নয় যেমন অনেকে বলেছেন। ইবন মাসউদ বলেছেন: قَانَتْ “কানেত” অর্থ আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্যকারী"।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া রহ. বলেছেন: "কিয়াম, রুকু ও সাজদা লম্বা করা অধিক কিয়াম, রুকু ও সাজদা থেকে উত্তম"। আমি শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ.-কে বলতে শুনেছি: "এ নিয়ে আলিমগণ মতবিরোধ করেছেন কোনোটি উত্তম: কম সাজদা করে দীর্ঘ কিয়াম করা, অথবা সংক্ষেপে কিয়াম করে অধিক সাজদা করা তাদের কেউ এটা, আর কেউ ওটা উত্তম বলেছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত ছিল মধ্যম পন্থার, তিনি যদি লম্বা কিয়াম করতেন, তাহলে রুকু-সেজদাও লম্বা করতেন। আর যদি সংক্ষেপে কিয়াম করতেন, তাহলে রুকু-সাজদাও সংক্ষেপ করতেন এটাই উত্তম"।
তিনি আরো বলেছেন: উত্তম হচ্ছে মুসল্লি তার সাধ্যমত সালাত আদায় করবে যেন বিরক্তি না আসে। তার মন যদি লম্বা কিরাতের জন্য সায় দেয় তাহলে লম্বা করবে। আর যদি তার মন সংক্ষেপে আরাম বোধ করে, তাহলে সংক্ষেপ করবে, যখন দেখবে যে সংক্ষেপে অধিক খুশু/একাগ্রতা সৃষ্টি হয়, মনোযোগ তৈরি হয় ও ইবাদত করতে আনন্দ লাগে। সাজদা যত অধিক হবে, তত উত্তম, অতএব মুসলিম যদি এরূপ করতে পারে, তাহলে দীর্ঘ কিয়াম করা উত্তম অধিক রুকু-সাজদার সাথে, যেখানে উভয় পদ্ধতি বিদ্যমান, আর তা হচ্ছে মধ্যম পন্থার সালাত, যদি কিয়াম লম্বা করে রুকু-সাজদা লম্বা করবে, আর যদি কিয়াম সংক্ষেপ করে, রুকু-সাজদা সংক্ষেপ করবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচুর ইবাদাত করতেন ও তার থেকে তিনি আনন্দ পেতেন। অনেক সময় তিনি রাতের সালাতে দীর্ঘ কিরাত পড়তেন যে, তার দু'পা ফেটে যেত। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে বলেন; আপনি এরূপ করেন কেন, অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সব গুনা মাফ করে দিয়েছেন? তিনি বলেন,
«أفلا أكون عبداً شكوراً».
"আমি কি আল্লাহর শোকর গুজার বান্দা হবো না?" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত, তিনি রাতের সালাতে এক রাকাতে সূরা বাকারাহ, নিসা ও আল ইমরান তিলাওয়াত করেছেন। হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাতে তাকে চার রাকাত সালাত আদায় করতে দেখেছেন, সেখানে তিনি সূরা বাকারাহ, আল ইমরান, নিসা, মায়েদাহ অথবা আন'আম তিলাওয়াত করেছেন"। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন, «كان يصلي إحدى عشرة ركعة، كانت تلك صلاته - تعني بالليل - فيسجد السجدة من ذلك قدر ما يقرأ أحدكم خمسين آية قبل أن يرفع رأسه».
"তিনি এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন, তার সালাত এমন ছিল যে, তিনি একটি সাজদা করতেন, তার মাথা উঠানোর আগে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারত"। তিনি এ কারণে আনন্দ বোধ করতেন, তার রবের ইবাদাতে তিনি বিরক্ত হতেন না, বরং সালাত ছিল তার চোখের শীতলতা। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «حُبِّبَ إِلَيَّ النِّسَاءُ وَالطِّيبُ، وَجُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ».
“আমার নিকট নারী ও সুগন্ধি প্রিয় করে দেওয়া হয়েছে, আর আমার চোখের শীতলতা বানানো হয়েছে সালাতকে”। সালাত ছিল তার আরামের বস্তু। সালেম ইবন আবুল জাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল: আফসোস আমি যদি সালাত আদায় করে স্বস্তি হাসিল করতাম! ফলে তারা (উপস্থিত লোকেরা) তাকে তিরস্কার করল, সে বলল: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: يا بلال أقم الصلاة أرحنا بها».
“হে বেলাল সালাত কায়েম কর, আমাদেরকে তার দ্বারা স্বস্তি দাও”। কিন্তু উম্মতের জন্য তিনি বলেছেন: خذوا من الأعمال ما تطيقون، فإن الله لا يمل حتى تملوا».
“তোমরা যা পার তাই আমল কর। কারণ আল্লাহ ক্লান্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও”।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إن الدين يسر ولن يشاد الدين أحد إلا غَلَبَهُ، فسدّوا وقاربوا، وأبشروا، واستعينوا بالغدوة والروحة، وشيء من الدلجة، والقصد القصد تبلغوا».
"দীন সহজ, তোমাদের যে কেউ দীনে কঠোরতা করবে, দীন তার ওপর গালেব হবে। অতএব, তোমরা মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর, তার নিকটবর্তী থাক ও সুসংবাদ গ্রহণ কর, (কারণ নিয়মতান্ত্রিক আমল কম হলেও অধিক সাওয়াব), আর সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের কিছু অংশে অর্থাৎ প্রাণবন্ত সময়ে নিয়মিত আমল করে সাহায্য চাও। আর মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর, মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর, তাহলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে"।
আমি শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ.-কে বলতে শুনেছি: "এ থেকে প্রমাণিত হয় আমাদের পক্ষে উত্তম হচ্ছে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা, অধিক লম্বা না করা যেন আমরা বিরক্ত না হই ও ইবাদাত ত্যাগ না করি। মুমিন নিজেকে কষ্ট না দিয়ে সালাত আদায় করবে, মুজাহাদা ও ইবাদাত করবে, বরং সব বিষয়ে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবে, যেন বিরক্তির ফলে ইবাদাতের প্রতি অনিহা সৃষ্টি না হয়”।

টিকাঃ
৩১. নাসাঈ, হাদীস নং ১৭৮৪; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩১৪; মালেক ফিল 'মুয়াত্তা': (১/১১৭), আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/৩৮৬) ও 'ইরওয়াউল গালিল': (২/২০৫)।
৩২. নাসাঈ, হাদীস নং ৬৮৭, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: 'ইরওয়াউল গালিল': (৪৫৪) ও সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/৩৮৬)।
৩৩. হাফিয ইবন হাজার রহ. বলেছেন: [১] শব্দটি 'আসলি' বাড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন: অন্যান্য বর্ণনাতে এরূপ রয়েছে। আমি বলছি: এ শব্দ ইবন মাজাহ তার সুনান গ্রন্থে বাড়িয়েছেন, দেখুন হাদীস নং (৩৮৭৮), আলবানী হাদীসের এ বৃদ্ধিকে সুনান ইবন মাজাহ গ্রন্থে সহীহ বলেছেন। দেখুন: (২/৩৩৫)।
৩৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৫৪।
৩৫. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮২-৭৬৩।
৩৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৪।
৩৭. দেখুন: লেখকের হিসনুল মুসলিম, (পৃ. ১২-১৬)।
৩৮. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৭।
৩৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৮।
৪০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮১।
৪১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৭০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮২।
৪২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৫২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১১৯।
৪৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৬।
৪৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৭।
৪৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮৬।
৪৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮৭।
৪৭. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৪।
৪৮. নাসাঈ, হাদীস নং ১৬১০; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৩৬; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩০৮, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/৩৫৪)।
৪৯. ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৩৫; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩০৯, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/২৪৩)।
৫০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১২৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭৫।
৫১. 'ফাতহুল বারি' থেকে সংগৃহীত: (৩/১১)।
৫২. ফাতহুল বারি: (৩/১১)।
৫৩. ফাতহুল বারি: (৩/১১)।
৫৪. শারহুন নববী আলা সহীহি মুসলিম: (৬/৩১১); 'ফাতহুল বারি' লি ইবন হাজার: (৩/১১)।
৫৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৫, ১১২৬, ২৬১৮, ৭০৭৯।
৫৬. 'ফাতহুল বারি': (৩/১১)।
৫৭. 'ফাতহুল বারি': (৩/১১)।
৫৮. 'জামেউর রাসূল ফি আহাদিসির রাসূল": (৬/৬৮)।
৫৯. ‘জামেউল উসূল ফি আহাদিসির’ রাসূল: (৬/৬৮)।
৬০. ‘আল-মুগনি’ লি ইবন কুদামাহ: (২/৫৬২)।
৬১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৩৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭৩।
৬২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭২।
৬৩. আবু দাউদ, হাদীস নং ৮৭৩; নাসাঈ, হাদীস নং ১০৪৯, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/১৬৬)।
৬৪. আবু দাউদ, হাদীস নং ৭৭৪, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/১৬৬)।
৬৫. এখানে সামঞ্জস্যশীল বলতে অর্থের সামঞ্জস্য, যেমন উপদেশ, হিকমত, ঘটনা ইত্যাদি, আয়াতের সংখ্যার সমতা উদ্দেশ্য নয়।
৬৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৭৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৫-৭২২।
৬৭. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯৯৬, ৫০৪৩।
৬৮. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬-৭২২।
৬৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৫-৭২২।
৭০. তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৮, আলবানী এ হাদীসের সনদ সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ তিরমিযী: (১/১৪০)।
৭১. ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৫০, আলবানী হাদীসটি হাসান বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান ইবন মাজাহ: (১/২২৫), আরনাউত 'জামেউল উসূল': (৬/১০৫) গ্রন্থে তা সহীহ বলেছেন।
৭২. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৩৭; তিরমিযী, হাদীস নং ২৯২৪; নাসাঈ, হাদীস নং ১৬৬২; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৫৪; আহমদ: (৬/১৪৯), আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/৩৬৫)।
৭৩. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩২৯; তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৭, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/২৪৭)।
৭৪. বুখারি: ফাদায়েলুল কুরআন ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮৮।
৭৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০৩১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮৯।
৭৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৭-৭৮৯।
৭৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৭।
৭৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮২-৭৬৩।
৭৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৫৮।
৮০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭৩।
৮১. আবু দাউদ, হাদীস নং ৮৭৩; নাসাঈ, হাদীস নং ১০৪৯।
৮২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৬০।
৮৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৮৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩।
৮৪. 'আল-মুগনি' লি ইবন কুদামাহ: (২/৫৬৭)।
৮৫. 'ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ' লি ইবন তাইমিয়াহ: (পৃ. ৯৮)।
৮৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫১।
৮৭. আবু মুসা আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাম আব্দুল্লাহ ইবন কায়েস।
৮৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৩৪২, ৪৩৪২, ৪৩৪৪, ৪৩৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৩৩।
৮৯. 'ফাতহুল বারি': (৮/৬২)।
৯০. আমি এ বাণী সহীহ বুখারীর তাকরিরের সময় শুনেছি হাদীস নং (৪৩৪১), সোমবার দিন, ফজরের সময়, রিয়াদে অবস্থিত জামে কাবির মসজিদে। তারিখ: ২২/৭/১৪১৬হি.।
৯১. হাদীসে বর্ণিত "قنوت" (কুনুত) শব্দ বিভিন্ন অর্থ প্রদান করে। যেমন, আনুগত্য, খুশু বা একাগ্রতা, সালাত, দো'আ, ইবাদত, কিয়াম, লম্বা কিয়াম, চুপ থাকা, স্থিরতা, আনুগত্য প্রতিষ্ঠা করা ও বিনয়বনতা। দেখুন: 'নিহায়া ফি গারিবিল হাদীস' লি ইবন আসির, বাবুল কাফ মাআন নুন: (৪/১১১); 'মাশারিকুল আনওয়ার আলাস সিহাহ ওয়াল আসার' লিল কাদি আয়াদ, হারফুল কাফ মাআ সায়েরিল হুরুফ: (২/১৮৬); 'হাদইউস সারি মুকাদ্দামাহ ফাতহুল বারি' লি ইবন হাজার: (পৃ. ১৭৬), হাফেয ইবন হাজার বলেছেন, ইবনুল আরাবি কুনুতের দশটি অর্থ উল্লেখ করেছেন... দেখুন: 'ফাতহুল বারি' মাকতাবাহ সালফিয়াহ: (২/৪৯১) ইবন আসির হাদীসে বর্ণিত কুনুতের অর্থ উল্লেখ করে বলেছেন: “হাদীসে বর্ণিত কুনুত উল্লিখিত যে শব্দের সম্ভাবনা রাখে, সে অর্থে তা ব্যবহার করতে হবে"। 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদীস ওয়াল আসর': (৪/১১১)।
৯২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৬।
৯৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮৮।
৯৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮৯।
৯৫. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮২।
৯৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৯।
৯৭. দেখুন: 'আল-মুগনি' লি ইবন কুদামাহ: (২/৫৬৪); ফাতওয়া শাইখুল ইসলাম লি ইবন তাইমিয়াহ: (২৩/৬৯); 'নাইলুল আওতার' লি শাওকানি: (২/২৭০)।
৯৮. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৬।
৯৯. 'জামেউল বায়ান আন তাবিলি আয়াল কুরআন': (৪/৪৮)।
১০০. 'তাফসিরে ইবন কাসির': (৪/৪৮)।
১০১. ফতোয়া শাইখুল ইসলাম: (২৩/৭১), তিনি (২৩/৬৯-৮৩) নং পৃষ্ঠাসমূহে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন শুধু সাজদা বারোটি কারণে শুধু রুকু থেকে উত্তম অতঃপর তিনি তা দলীলসহ উল্লেখ করেছেন।
১০২. 'মুনতাকাল আখবার' লি ইবন তাইমিয়াহ গ্রন্থের (১২৬১) নং হাদীসের তাকরিরের সময় শুনেছি।
১০৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮৩৬, ৪৮৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮১৯, ২৮২০, আয়েশা ও মুগিরা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন।
১০৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭২।
১০৫. আবু দাউদ, হাদীস নং ৮৭৩; নাসাঈ, হাদীস নং ১০৪৯।
১০৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯৪।
১০৭. নাসাঈ, হাদীস নং ৩৯০৪; আহমদ: (৩/১২৮), আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ নাসাঈ: (৩/৮২৭)।
১০৮. আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯৮৫, ৪৯৮৬, আলবানী সহীহ সুনান নাসাঈতে হাদীসটি সহীহ বলেছেন: (৩/৯৪১)।
১০৯. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮২।
১১০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৯, ৬৪৬৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮১৬।
১১১. 'মুনতাকাল আখবার' এর (১২৫৭-১২৬২) নং হাদীসের ব্যাখ্যার সময় আমি তার এ বাণী শ্রবণ করেছি。

প্রশ্ন: যে শিক্ষক ছেলে ও মেয়ে সম্মিলিত ক্লাসে পাঠদান করেন অথবা পাঠদান করেন শুধু মেয়েদের ক্লাসে, যারা বয়ঃসন্ধিতে উপনীত, তিনি যখন তাদের দিকে তাকান, তখন গুনাহগার হবেন কি?
উত্তর: পুরুষ ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো নারীদের দিকে তাকানো থেকে নিজ দৃষ্টিকে সংযত রাখা। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
﴿ قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ ﴾ [النور: ٣٠]
"মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটিই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত"। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩০]
আর ইমাম মুসলিম ও আবু দাউদ রহ. প্রমুখ জারির ইবন আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
«سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَظَرِ الفَجْأَةِ، فَقَالَ: اصْرِفْ نَظَرَكَ».
"আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (অপরিচিত নারীর দিকে) হঠাৎ করে দৃষ্টি পড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলাম। জবাবে তিনি বললেন: তুমি তোমার দৃষ্টিকে ফিরিয়ে নাও।" এ হাদীসের শব্দগুলো ইমাম আবু দাউদ রহ.-এর। আর শিক্ষার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মাঝে সহাবস্থান বৈধ নয়। কেননা এটা তাদের মাঝে অশ্লীল কাজ সংঘটিত হওয়ার অন্যতম উপায় ও মাধ্যম।

📘 Biggan moy quran > 📄 Closed Big Bang

📄 Closed Big Bang


Closed Big Bang
মহাবিশ্বের সকল বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণকে বলা হয় Gravitational Force বা মহাকর্ষীয় শক্তি। সৌরজগতের গ্রহগুলি সূর্যের আকর্ষণে আবর্তিত হয়। উপগ্রহ গ্রহের আকর্ষণে ঘুরে। গ্রহাণুপুঞ্জ সূর্যের চারদিকে ঝাঁক বেধে পরিক্রমণ করে। এভাবে একক গ্যালাক্সি গুচ্ছ গ্যালাক্সির টানে ঘুরে। অর্থাৎ প্রত্যেকটি বস্তু একে অপরের সাথে মিলতে চায়। কিন্তু এ মিলন ঘটতে পারে না যে কারণ তা হচ্ছে Force of expansion। অর্থাৎ মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ গতির ফলে Space সৃষ্টি হয়। ফলে পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়।
আর যদি সম্প্রসারণ গতি ক্রমান্বয়ে থেমে যায়, তাহলে মহাকর্ষীয় টানে গ্রহ, নক্ষত্রগুলি পরস্পরের কাছাকাছি এসে যাবে। তখন প্রচন্ড সংঘর্ষ শুরু হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সম্প্রসারণ গতি থামবে কিনা? এ বিষয়ে একটি তথ্য দেয়া হয়েছে যে, মহাকর্ষ শক্তি সম্প্রসারণ (expansion) বন্ধ করতে পারবে কিনা, তা নির্ভর করছে মহাজাগতিক পদার্থের গড় ঘনত্বের উপর। এর তাত্ত্বিক প্রতিরূপগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এ ঘনত্ব যদি সংকট ঘনত্ব (critical value) থেকে বেশী হয় তাহলে মহাকর্ষ যথেষ্ট পরিমাণে শক্তিশালী হবে। ফলে মহাবিশ্বের প্রসারণ বন্ধ করে মহাসংকোচের দিকে নিয়ে যাবে। এ অবস্থাকে Closed Big Bang বলা হয়েছে। আমেরিকান বিজ্ঞানী Freeman Dyson এটাকে Big Crunch বলেছেন। অর্থাৎ পুনরায় মহাজগত একটি বিন্দুতে এসে বিস্ফোরিত হবে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো থেকে দেখা যায় মহাকাশে নতুন নতুন নক্ষত্র, কোয়াসার তথা নতুন গ্যালাক্সি জন্ম নিচ্ছে, যার দরুন মহাজাগতিক গড় ঘনত্ব প্রভাবিত হচ্ছে। আবার বিশ্বের প্রতিটি পরমাণুর ভেতর ১০ কোটি নিউট্রিনো (Neutrino) আছে। তাদের পরিমাণও বিশাল ভরে সমৃদ্ধ এবং তাদের মোট ওজন মহাবিশ্ব Closed করার জন্য যথেষ্ট। তাছাড়া বিপুল পরিমাণ মহাজাগতিক ধূলি (Cosmic Dust) মহাবিশ্বের গড় ঘনত্ব বৃদ্ধি করে চলেছে, যেমন প্রতি বছর ১০ হাজার টন ধূলি কণা শুধু পৃথিবী গ্রহে পতিত হয়। এখন মহাকাশে অনেক কৃষ্ণবিবরের (black hole) সন্ধান পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করে থাকেন মহাকর্ষের টানে নক্ষত্রগুলো পরস্পরের নিকটবর্তী হলে সংঘর্ষ বাধে। যার কারণে এ Black Holeগুলো সৃষ্টি হয়েছে।
Scientific Indications in the Holy Quran, গ্রন্থে উদ্ধৃত করা হয়েছে, "A time will come when the force of gravitation is strong enough, then expansion will gradually stop. As a result the universe will begin to contract and finally collapse with a big explosion into a ultra small size of matter."

এখন মহাবিশ্বের Closed Big Bang সম্পর্কে আল-কোরআন যে তথ্য দিয়েছে তা হচ্ছে,
يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِ لِلْكُتُبِ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا طَ إِنَّا كُنَّا فُعِلِينَ.
The Day when We will roll up the heavens like a scroll rolled up for books and as We began the first creation similarly shall We repeat it.
সে দিন আমরা মহাবিশ্ব (মহাকাশ) গুটিয়ে নেব যেমনি করে গুটিয়ে নেয়া হয় লিখিত বইপত্র। আর প্রথমবার সৃষ্টি করার সময় আমরা যেভাবে (Big Bang) আরম্ভ করেছিলাম অনুরূপভাবে তা রিপীট করা হবে। (আম্বিয়া-১০৪)
গুটিয়ে যাওয়া বই-পত্রের মত মহাবিশ্ব যে গুটিয়ে যাবে তার ইঙ্গিত বহন করে বিশ্বজগতের চূড়ান্ত অবস্থার কর্মসূচী, যা বিজ্ঞানী Freeman নকশার মাধ্যমে তুলে ধরে দেখিয়েছেন। তিনি এ মর্মে মত ব্যক্ত করেছেন যে, মহাবিশ্ব সংকুচিত হয়ে একটি বিন্দুতে এসে যে Big crunch ঘটাবে সে-ই বিগ ক্রাঞ্চের প্রায় ১ বিলিয়ন বছর পূর্বেই গ্যালাক্সি সমূহের মধ্যকার ফাঁকা জায়গা গুটিয়ে আসবে। ১০০ মিলিয়ন বছর পূর্বে একক গ্যালাক্সির শূন্যস্থান (space) সংকুচিত হবে। তখন বিশ্বজগত কেবলমাত্র তারকারাজীতে পূর্ণ হয়ে যাবে এবং তারকাগুলো একে অপরের এত কাছে এসে পড়বে যে, সেগুলো একসঙ্গে একটি বিশালাকার সূর্যের মত হয়ে কিরণ বিচ্ছুরিত করবে। এক সময়ে নক্ষত্রসমূহের মধ্যে বিরাট সংঘর্ষ ঘটবে। এর ফলে অসংখ্য কৃষ্ণবিবর (Black holes) সৃষ্টি হবে। অবশেষে এসব কৃষ্ণবিবর একে অপরকে আকৃষ্ট করে একাকার হয়ে যাবে এবং তারা একটি অতি উষ্ণ, অসীম ঘনত্বের বস্তুপিণ্ড তৈরি করবে। আর এটি-ই হলো Closed Bang বা Big crunch.
Closed Big Bang theory-তে যা বলা হয়েছে আল-কোরআনের উক্ত আয়াত তার চেয়েও স্পষ্ট। শুরুতে যে মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) ঘটেছিল সমাপ্তিতেও মহাবিস্ফোরণ ঘটিয়ে মহাবিশ্ব গুটিয়ে ফেলা হবে।
إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ.
It shall be a Big Blast and they will be brought before Us.
এটি হবে এক মহাবিস্ফোরণ, আর তারা সবাই আমার সমীপে সমবেত হবে। (ইয়াসীন-৫৩)
إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انْتَتَرَتْ.
The day when the firmament is cleft asunder and the planets scattered.
সেদিন আকাশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং গ্রহ সমূহ ছড়িয়ে পড়বে। (ইনফিতার-১-২)
إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ.
When the sky is cleft asunder.
সে দিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে পৃথক হয়ে যাবে। (ইনশিকাক-১)
كَلَّا إِذَا دُكَّتِ الْأَرْضُ دَكَّا دَكَّا .
When the earth is pounded to powder.
সেদিন পৃথিবী চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গুঁড়ো হয়ে যাবে। (ফজর-২১) এ আয়াত থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, পৃথিবী নামক গ্রহটি চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে কিভাবে পাউডারে পরিণত হবে।
পৃথিবীর নিম্নদেশে একটি নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত ভূ-ত্বকের (crust) অবস্থান। ভূ-ত্বকের নীচে একশ' কিলোমিটার পুরু একটি স্তর আছে। এ স্তর শীতল ও কঠিন। এ স্তরকে বলা হয় অশ্বমন্ডল। (Lithosphere)। আমাদের গ্রহের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো এ বিষয়ের মধ্যে এমনভাবে সম্পৃক্ত যে, অশ্বমন্ডলসহ পৃথিবীর উপরিভাগ ভেঙ্গে কয়েকটি শক্ত লিথোস্ফিয়ারিক প্লেটে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। লিথোস্ফিয়ারের নীচে একটি অঞ্চল আছে যার ব্যাপ্তি হলো নিম্নে ১০০ কিঃ মিঃ থেকে ২৫০ কিঃ মিঃ এর মধ্যে। এ অঞ্চলের উপরাংশ বা আবরণ উত্তপ্ত এবং অপেক্ষাকৃত গলিত প্লাস্টিকের মত তলতলে। এ স্তরের নাম নমনীয় মন্ডল (Aesthenosphere)। নমনীয় মন্ডলের মধ্যকার থার্মাল কনভেকটিভ গতিবেগের (thermal convective motion) দ্বারা লিথোস্ফিয়ারিক প্লেটগুলো চালিত হয়। যখন সাত বিলিয়ন বছর পর সূর্য বিশাল রক্তিম দৈত্যে (Red giant) পরিণত হবে এবং বুধ ও শুক্রের মত গ্রহগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে এবং পৃথিবীর কক্ষপথে এসে উপনীত হবে তখন পৃথিবীর উপরিভাগের তাপমাত্রা অতি মাত্রায় বেড়ে যাবে এবং এ্যান্থেনোস্ফিয়ারের কনভেকটিভ গতিবেগ দ্রুত ও দিক-বেদিক হয়ে পড়বে। অতি দ্রুত গতিতে লিথোস্ফিয়ারিক প্লেটগুলো একে অপরের গায়ে ভয়ংকরভাবে ধাক্কা মারবে। ফলে পৃথিবী কাঁপতে থাকবে এবং এ কম্পন হবে বিরামহীন। পাহাড়-পর্বতসহ পৃথিবীর উপরাংশের সবকিছু অতি উত্তাপে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। আর এভাবেই সবকিছু পাউডারে পর্যবসিত হবে।
When the earth is shaken with a great shake and the hills are ground to powder so that they become a scattered dust.
সেদিন পৃথিবী বিরাট ঝাঁকুনি খেয়ে কম্পিত হয়ে উঠবে। পাহাড়গুলো গুঁড়ো হয়ে পাউডারে পরিণত হবে এভাবে যে, সবগুলো ধূলি-কণার আকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। (ওয়াকিয়া-৪-৬)

অতএব, মহাবিশ্বের সমাপ্তি ঘটবে এমন এক সময়ে যখন এর গড় ঘনত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং মহাকর্ষীয় শক্তির প্রাবল্য বেগবান হবে। সাথে সাথে সম্প্রসারণ গতি থেমে যাবে। ফলে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, কোয়াসার, প্রভৃতি জ্যোতিষ্ক মহাকর্ষীয় টানে পরস্পরের নিকট এসে সংঘর্ষ শুরু করবে। বিশাল মহাজগৎ একটি বিন্দুতে এসে Closed হবে। এটাই হচ্ছে মহান স্রষ্টার নির্ধারিত সিদ্ধান্ত এবং তা অতি সত্য।
সম্প্রতি, Closed Big Bang বা Closed Universe তত্ত্বে বিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মহাবিশ্ব (Whole universe) একটি বিন্দুতে Closed হওয়ার পর এমন এক শক্তিধর সত্তা দৃশ্যমান হয়ে ওঠবে যিনি মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ শক্তি (Gravitation and gravity) দ্বারা সমগ্র সৃষ্টি জগৎকে ধারণ করে রেখেছিলেন। তাহলে এ মহাশক্তিধর সত্তা কে?
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
All that is in the Universe will perish. And the presence of your Lord will remain forever who is full of Majesty - Bounty and Honour.
মহাবিশ্বের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে আর আপনার একমাত্র প্রভুর সত্তা অবশিষ্ট থাকবে যিনি মহীয়ান ও গরীয়ান। (রহমান-২৬-২৭)
References:
1. Scientific Indications in the holy Quran: Islamic Foundation Bangladesh. 2nd Edition.
2. Quranic Sciences: Afzalur Rahman. Muslim Schools Trust, London.
3. Science in the Quran: Akbar Ali. Prof., Dhaka University.
4. William K. Hatman: Astronomy the cosmic Journey, 3rd Edition.
5. National Geographic, June, 1983.
6. A Brief History of Time: Stephen Hawking.
7. The Ultimate fate of the Universe: Jamal N. Islam, 1st Published 1983

মুমিনের জন্য কারাগার
১১৪. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
"দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাত।”
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ এই হাদীস বর্ণনা করার পর বলেন, “দুনিয়াতে প্রত্যেক মুমিন বিষণ্ণ ও ভারাক্রান্ত থাকে। কারণ, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মুমিন বান্দাকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে পার হতে হবে। জাহান্নাম পার হওয়ার সময় সে তা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে, এরকম সংবাদ তো তার কাছে আসেনি। আল্লাহর কসম, মুমিন বান্দার যত অসুখ হয়, বিপদে পড়ে, কঠিন বিষয়ের মুখোমুখি হয়, জুলমের শিকার হয় কিন্তু কোনো প্রতিকার করতে পারে না, এসবের জন্য সে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান আশা করে। এভাবেই সে দুনিয়াতে দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে দিনযাপন করে এবং একসময় দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রশান্তি ও সম্মান প্রদান করা হয়।" [১২৮]

কল্যাণ লাভের একটি উপায়
১১৫. সালিম ইবনু আবিল জা'দ থেকে বর্ণিত আছে, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম বলেছেন,
طُوبَى لِمَنْ خَزَنَ لِسَانَهُ، وَوَسِعَهُ بَيْتُهُ، وَبَكَى عَلَى خَطِيئَتِهِ
“ওই ব্যক্তির কল্যাণ হোক যে তার জিহ্বাকে সংযত রেখেছে, যার গৃহ তার (ইবাদাতের) জন্য প্রশস্ত এবং যে তার পাপকাজের জন্য (অনুতপ্ত হয়ে) কান্না করেছে।" [১২৯]

সে আলিম হওয়ার উপযুক্ত নয়
১১৬. আবদুল আ'লা তাইমি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাকে ইলম দান করা হয়েছে, অথচ ওই ইলম তাকে কাঁদায় না, তা হলে সে উপকারী ইলম পাওয়ার উপযুক্তই নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা আলিমগণের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন এভাবে-
إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِن قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِن كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولًا وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا
"যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তাদেরকে যখন এটা শুনানো হয় তখন তারা সাজদায় লুটিয়ে পড়ে। এবং বলে ওঠে—পবিত্র আমাদের রব, আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি তো পূর্ণ হয়েই থাকে। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা শুনে তাদের বিনয় আরও বেড়ে যায়।" [১৩০]-[১৩১]

দুঃখ-যাতনাও ইবাদাত
১১৭. মালিক ইবনু মিগওয়াল এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মনের দীর্ঘ দুঃখ-যাতনাও আল্লাহর ইবাদাত।”[১০২]

একটি আয়াতের ব্যাখ্যা
১১৮. মুবারাক ইবনু ফুদালা থেকে বর্ণিত আছে, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ ۞
“তোমরা কি এই কথায় বিস্ময়বোধ করছ! এবং হাসি-ঠাট্টা করছ! কান্না করছ না?”[১৩৩] তারপর বললেন, "আল্লাহর কসম, এই ব্যাপারে সে ব্যক্তিই সবচেয়ে বুদ্ধিমান যে কেঁদেছে। তাই তোমরা (তোমাদের) হৃদয়গুলোকে কাঁদাও। (নিজেদের) কর্মের জন্য কেঁদে দুঃখপ্রকাশ করো। কাঁদলে দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। (না কাঁদলে) তার হৃদয় পাষাণ।”[১৩৪]

প্রতিদান হবে ধৈর্যের সমপরিমাণ
১১৯. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মনের কষ্ট নির্ভর করে অন্তর্দৃষ্টির ওপর।" [১৩৫]

কান্নার ব্যাপারে পাপীর অভিনয়
১২০. শুআইব জুবায়ি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যখন মানুষের পাপ পূর্ণতা পায়, তখন চোখ তার আয়ত্তে চলে আসে। যখনই সে কাঁদতে চায় কাঁদতে পারে।" [১৩৬]

তিনটি উপদেশ
১২১. আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলল, “হে আবূ আবদুর রহমান, আমাকে উপদেশ দিন।” আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তোমার বাড়ি যেন কঠোর সাধনার (জায়গা) হয়, তোমার পাপকাজের কথা মনে করে কান্না করো এবং জিহ্বাকে সংযত রাখো।”[১৩৭]

কাঁদতে না পারলে কান্নার ভান করা
১২২. আরফাজাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “কেউ কাঁদতে পারলে সে যেন কাঁদে; আর যে কাঁদতে পারে না, সে যেন কান্নার ভান করে।”[১৩৮]

তাওবাকারীদের মন সবচেয়ে নরম
১২৩. আউন ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, উমর ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “তোমরা তাওবাকারীদের সান্নিধ্যে বসো, কারণ তাদের মন সবচেয়ে নরম।”[১৩৯]

আল্লাহর নিয়ামাতের বর্ণনা
১২৪. মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইবনু শাযারাহ রহিমাহুল্লাহ আমাদের উপদেশ দিতেন এবং কাঁদতেন। তাঁর কান্না ছিল তাঁর আমলের অনুরূপ। তিনি বলতেন, হে লোকসকল, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে যেসব নিয়ামাত দান করেছেন তা স্মরণ করো। তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামাতের কতই না চমৎকার প্রভাব রয়েছে! হায়! (জিহাদের) লাল, হলুদ, সাদা ও কালো বাহনগুলোর মধ্যে আমি যা দেখতে পাই, তোমরা যদি তা দেখতে পেতে! যখন সালাত কায়েম করা হয় তখন আসমান, জান্নাত এবং জাহান্নামের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়। আবার (জিহাদে) যখন দুটি দল মুখোমুখি হয় তখনও আসমানের দরজা এবং জান্নাত ও জাহান্নামের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আয়তলোচনা হুরদেরকে সাজানো হয়। তারা তাকিয়ে দেখতে থাকে। যখন কোনো ব্যক্তি এগিয়ে যায়, তারা বলতে থাকে, হে আল্লাহ, তুমি তাকে সাহায্য করো, তাকে দৃঢ়পদ রাখো। যখন কেউ পিছু হটে তারা মুখ ঢেকে ফেলে এবং বলে, হে আল্লাহ, তুমি তাকে ক্ষমা করো। হে জাতির বিশিষ্ট লোকেরা, তোমরা ঝাঁপিয়ে পড়ো। তোমাদের প্রতি আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক! তোমরা আয়তলোচনা হুরদেরকে লাঞ্ছিত কোরো না। শহীদের দেহ থেকে নির্গত প্রথম রক্তফোঁটাটি এমনভাবে তার পাপ মুছতে থাকে, যেভাবে গাছের ডাল থেকে পাতা ঝরতে থাকে। দুইজন আয়তলোচনা হুর তার কাছে নেমে আসে এবং তার চেহারা থেকে ধুলোবালি মুছে দেয়। তারা বলে, এখন তোমার সময় হয়েছে। সেও তাদেরকে বলে, এখন তোমাদের সময় হয়েছে। তারপর তাকে এক শ সেট কাপড় পরানো হয়, যেগুলোকে দুই আঙুলের মাঝে গুঁজে রাখা সম্ভব। এই কাপড় কোনো মানুষের বোনা নয়; বরং তা জান্নাতে উৎপাদিত। [১৪০]

নাজাত পাওয়ার উপায়
১২৫. উকবা ইবনু আমির জুহানি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, নাজাত কী? (কীভাবে নাজাত পাওয়া সম্ভব?) তিনি বললেন,
أَمْلِكُ عَلَيْكَ لِسَانَكَ، وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ، وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ
“তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখো। তোমার ঘর যেন কঠোর সাধনার (জায়গা) হয়, আর তোমার পাপকাজের কথা মনে করে কান্নাকাটি করো।” [১৪১]

জাতির উদ্দেশে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর উপদেশ
১২৬. মালিক ইবনু আনাস রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমার কাছে এই বাণী পৌঁছেছে যে, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম তাঁর জাতিকে বলেছেন, "আল্লাহর যিকর ছাড়া অন্য কথা বেশি বোলো না। কারণ এতে তোমাদের হৃদয় পাষাণ হয়ে যাবে। আর পাষাণ হৃদয় আল্লাহ তাআলা থেকে অনেক দূরে কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর মানুষের পাপের দিকে ধর্মগুরুদের দৃষ্টিতে তাকিয়ো না; বরং একজন বান্দার মতো তাদের পাপকাজগুলো দেখো। মানুষ তো দুই পর্যায়ে রয়েছে: একদল সমস্যায় আক্রান্ত, আর আরেক দলকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। যারা সমস্যায় আক্রান্ত তাদের প্রতি মমতা দেখাও এবং ক্ষমাপ্রাপ্তির জন্য আল্লাহর প্রশংসা করো।" [১৪২]

কথা অনুযায়ী কাজের হিসেব
১২৭. ইমাম শা'বী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “বক্তা (দুনিয়াতে) যে বক্তৃতা দেবে, কিয়ামাতের দিন তার কাছে তা পেশ করা হবে।" [১৪৩]

অধিক কথা বলায় অহংকার প্রকাশ পায়
১২৮. উমর ইবনু আবদিল আযীয রহিমাহুল্লাহ-এর অনুলেখক নুআইম ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত, উমর ইবনু আবদিল আযীয রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "অহংকার ও গৌরবের ভয় আমাকে বেশি কথা বলা থেকে বিরত রাখে।" [১৪৪]

খ্যাতি ও প্রসিদ্ধির ভয়
১২৯. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি বসরার এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "আমি একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। তাদের কারও কাছে প্রজ্ঞা ও হিকমতের কথা বলা হলে খ্যাতির ভয়ে সেগুলো প্রচার করা থেকে বিরত থাকতেন। অথচ তা প্রচার করলে তাদের সঙ্গীদের উপকার হতো। রাস্তার ওপর কোনো কষ্টদায়ক বস্তু দেখলে খ্যাতির ভয়ে তারা সেটা সরাতেন না।" [১৪৫]

টিকাঃ
[১২৮] মুসলিম, ২৯৫৬, প্রথম অংশ মুরসাল, দ্বিতীয় অংশ মাওকুফ।
[১২৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৫৫, সনদ সালিম পর্যন্ত সহীহ।
[১৩০] সূরা বনী ইসরাইল: ১০৭-১০৯।
[১৩১] আবু জাফর তাবারি, জামিউল বায়ান, ১৫/১২১, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৩২] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ২৮৪, মাকতু।
[১৩৩] সূরা নাজম: ৫৯-৬০।
[১৩৪] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৫০৫, মাকতু।
[১৩৫] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[১৩৬] ওয়াকিহ ইবনুল জাররাহ, কিতাবুয যুহদ, ৪৭৪, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[১৩৭] তাবারানি, আল-মু'জামুল কাবীর, ৯/১০৫, মাওকুফ।
[১৩৮] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ১০৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৩৯] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/২৭২, সনদ মুনকাতি, মাওকুফ।
[১৪০] আবদুর রাজ্জাক, মুসান্নাফ, ৯৫৩৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৪১] তিরমিযি, ২৪০৬, হাসান। সনদটি দঈফ। কিন্তু অন্যান্য সনদে বর্ণিত হওয়ায় হাদীসটি হাসান।
[১৪২] মালিক, মুআত্তা, ২/৯৮৬, প্রথম অংশটি মারফুরূপে বর্ণিত।
[১৪৩] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/৩১২, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[১৪৪] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৩০১, সনদ হাসান, মাওকুফ।
[১৪৫] হাদীসটি মাকতু'রূপে বর্ণিত। এই আসার ও তার আগেরাটির অর্থে আপত্তি রয়েছে। বান্দাকে অবশ্যই আত্মগরিমা, খ্যাতি-কামনা ও লৌকিকতা থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, তা তাকে সৎকাজ থেকে বিরত রাখবে। বরং বান্দার কর্তব্য হলো কল্যাণের উদ্দেশ্যে সৎকাজ করা এবং খ্যাতির বাসনা ও লোক-দেখানোর মনোভাব থেকে সংযত থাকা। (অনুবাদক)।

শাইখ আবদুল আযীয ইবন বায
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক, আর সালাত (দুরূদ) ও সালাম নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, যার পরে আর কোনো নবী নেই।
অতঃপর... ৩০/০২/১৩৯৭ হি. তারিখে প্রকাশিত 'আল-মাদীনা' সংবাদপত্রের ৩৮৯৮তম সংখ্যায় 'জীবন জীবনের জন্য'/'হৃদয় হৃদয়ের জন্য' (وجها لوجه) শিরোনামে 'নূরাহ বিনতে...'-এর লেখাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং মূলকথা হলো উল্লিখিত নূরাহ জেদ্দায় শিক্ষা-বিষয়ক অনুষদের ডিন ফায়েযা আদ-দিবাগের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে যোগ দেন এবং এক পর্যায়ে উল্লিখিত নূরাহ প্রাথমিক স্তরে (যদিও তা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) আমাদের ছেলে সন্তানদেরকে শিক্ষাদানের কাজে নারী শিক্ষক না থাকার কারণে ফায়েযাকে অদ্ভুত নারী বলে সম্বোধন করেছেন, আর উক্ত নূরাহ তার বক্তব্যে এর কতগুলো কারণও উল্লেখ করেছেন। আর ফায়েযা, নূরা ও তার সহকর্মীগণ কর্তৃক আমাদের ছোট ছোট সন্তানদের শিক্ষাদানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ এবং শিশুদের কল্যাণমূলক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাদের প্রতি আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদসহ এ প্রস্তাবিত বিষয়ের মধ্যে যেসব ক্ষতি ও খারাপ পরিণতি রয়েছে সেসব বিষয়ে সতর্ক করা আমার আবশ্যকীয় কর্তব্য বলে মনে করছি, আর এটা হলো নারীগণ কর্তৃক প্রাথমিক স্তরে শিশুদের শিক্ষাদনের দায়িত্ব গ্রহণ করাটা তাদের সাথে বয়ঃসন্ধিতে উপনিত হওয়া ছেলে বা পরিপক্ক বয়সের ছেলেদের সাথে মেলামেশা ও উঠাবসার মতো পরিবেশের দিকে নিয়ে যায়। কারণ, কিছু কিছু ছেলে প্রাথমিক স্তরের ছাত্র হিসেবে ভর্তি হয় বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হওয়া বয়সে এবং কখনও কখনও তাদের কেউ কেউ বালেগও (প্রাপ্তবয়স্ক) হয়ে যায়। কেননা শিশুর বয়স যখন দশ বছরে উপনীত হয়, তখন তাকে বয়ঃসন্ধিকালে উপনীত বলে গণ্য করা হয় এবং তার স্বভাব তখন নারীদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায়। কারণ, এমন বয়সের ছেলে বিয়ে করতে সক্ষম এবং অন্যান্য পুরুষগণ যা করে, সেও তা করতে পারে, আর সেখানে আরেকটি বিষয় হলো, নারীগণ কর্তৃক প্রাথমিক স্তরে ছেলে শিশুদের শিক্ষাদনের বিষয়টি নারী-পুরুষে সহাবস্থান করার পরিবেশের দিকে ধাবিত করে, অতঃপর এ প্রথাটি শিক্ষার অপরাপর স্তরসমূহে চলতে থাকে। কারণ, নিঃসন্দেহে এটা শিক্ষার সকল স্তরে নারী-পুরুষে সহাবস্থান করার দরজা উন্মুক্ত করার একটা অন্যতম প্রক্রিয়া। আর নারী-পুরুষ মিলেমিশে সহাবস্থানমূলক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উদ্ভুত অসংখ্য খারাপ কাজের বিষয়টি সর্বজন বিদিত এবং এর অশুভ পরিণতি সম্পর্কে এমন প্রত্যেকে জানে, যে বা যারা বিভিন্ন দেশে এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছে। সুতরাং ইসলামী বিশেষজ্ঞগণের মধ্য থেকে এমন প্রত্যেকেই আমাদের ছেলে ও মেয়েদের এ অবস্থা সম্পর্কে নিঃসন্দেহে অবগত আছেন, যার ন্যূনতম জ্ঞান আছে শরী'আতের দলীল-প্রমাণ সম্পর্কে এবং এ যুগের উম্মতের বাস্তবতা সম্পর্কে। আর আমি বিশ্বাস করি যে, এ প্রস্তাবটি এমন প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত যা শয়তান অথবা তার প্রতিনিধিদের কেউ কেউ পেশ করেছে উপরিউক্ত ফায়েযা ও নূরাহ'র ভাষায় এবং কোনো সন্দেহ নেই এটা এমন এক প্রস্তাব, যা খুশি করেছে আমাদের ও ইসলামের শত্রুদেরকে এবং এটা এমন এক প্রস্তাব, যে দিকে তারা গোপনে ও প্রকাশ্যে আহ্বান করে।
আর এ জন্য আমি মনে করি যে, আমাদের আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো এ দরজাটিকে চূড়ান্তভাবে তালাবদ্ধ করে রাখা এবং আমাদের ছেলে সন্তানদেরকে সকল স্তরে পুরুষ শিক্ষকদের পাঠদানের আওতায় অবশিষ্ট রাখা, যেমনিভাবে আবশ্যক হলো মেয়ে সন্তানদেরকে সকল স্তরে মহিলা শিক্ষকদের পাঠদানের আওতায় বহাল রাখা। আর এর মাধ্যমে আমরা আমাদের দীন, ছেলে ও মেয়েদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারব এবং আমাদের শত্রুদের লাভজনক পরিকল্পনার গতিরোধ করতে সক্ষম হব, আর আমরা সম্মানিত মহিলা শিক্ষকগণের নিকট আশা করি যে, তাঁরা শতভাগ নিষ্ঠা, সততা ও ধৈর্যের সাথে সকল স্তরে আমাদের মেয়েদেরকে শিক্ষাদানের জন্য তাদের সকল চেষ্টা ও শ্রম বিনোয়োগ করবেন।
আর এটা সর্বজনবিদিত যে, শিক্ষার সকল স্তরে ছেলেদেরকে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে মহিলা শিক্ষকগণের চেয়ে পুরুষ শিক্ষকগণ অধিক ধৈর্যশীল, শক্তিশালী ও বেশি যত্নবান, অনুরূপভাবে এটাও সর্বজন বিদিত যে, শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে এবং তার উপরের অন্যান্য স্তরে ছেলেরা মহিলা শিক্ষকের চেয়ে পুরুষ শিক্ষককে অনেক বেশি সমীহ ও সম্মান করে এবং তার কাথা ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে এবং এসবের সাথে সাথে শিক্ষার এ স্তরে তারা পুরুষ শিক্ষকদের নৈতিক চরিত্র, বিচক্ষণতা, মহত্ব, ধৈর্য, শক্তি ও উদ্যমের প্রশিক্ষণ লাভ করে, আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তো সহীহভাবে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرِ سِنِينَ . وَفَرَّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ».
"তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সালাতে জন্য নির্দেশ দাও, যখন তারা সাত বছর বয়সে উপনীত হয়, আর তাদেরকে সালাতের জন্য প্রহার কর, যখন তারা দশ বছর বয়সে উপনীত হয় এবং তাদের শোয়ার স্থান পৃথক করে দাও।"
শিক্ষার সকল স্তরে ছেলে ও মেয়েদের সহাবস্থানের মধ্যে যে ভয়াবহ বিপদের কথা আমরা আলোচনা করেছি, এ হাদীসটি তার প্রমাণ বহন করে। তাছাড়া এর উপর কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মাতের বাস্তবতা থেকে বহু দলীল-প্রমাণ রয়েছে, সংক্ষেপ করার চিন্তা থেকেই এখানে সেগুলোর উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করি নি। আমাদের সরকার, মহামান্য শিক্ষামন্ত্রী ও নারী শিক্ষাবিষয়ক সম্মানিত মহাপরিচালক-সকলকে আল্লাহ তা'আলা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং তাদেরকে তিনি এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার তাওফীক দান করেছেন। আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদেরকে এমন সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফীক দান করেন, যাতে রয়েছে জাতির কল্যাণ ও মুক্তি এবং সাথে আছে আমাদের ও আমাদের যুবক ও যুবতীগণের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও সৌভাগ্য, তিনি তো সব শুনেন এবং আমাদের অতি আপনজন।
وَصَلَّى اللهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ.
(আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবীর ওপর)।
শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায

টিকাঃ
• আহমাদ, আবু দাউদ (হাদীস নং- ৪৯৫) ও হাকেম রহ. প্রমুখ, আর সুয়ূতী রহ. হাদীসটি সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00