📄 Intelligent speech
Intelligent Speech
মনস্তত্ত্ব বিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় বিষয় 'মানুষ' (man)। মহানুভব স্রষ্টা কর্তৃক প্রদত্ত মানুষের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তার কথা বলার ক্ষমতা। কিন্তু কোন্ বৈশিষ্ট্যের নিরিখে মানুষ কথা (speech) বলে? এক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ভূমিকা সর্বাধিক। কথা বলার সহায়ক দু'টি পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্য মানুষের কণ্ঠে সম্পৃক্ত করা হয়েছে যা মস্তিষ্ক (brain) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তার একটি হলো Phonation অপরটি Articulation।
Phonation: এ পদ্ধতিতে স্বর যন্ত্রের স্বর পর্দার (Vocal cord) সাহায্যে শব্দতরঙ্গ ও কম্পন সৃষ্টি হয়।
Articulation: এ পদ্ধতিতে ঠোঁট, জিহ্বা, মুখবিবর, মাংসপেশী, তালু, প্রভৃতি অঙ্গের সঞ্চারণ দ্বারা শব্দ উচ্চারিত হয় এবং সাথে সাথে তা ডেলিভারী হয়।
প্রয়োজনীয় কথা তৈরীর জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গ থেকে স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে সংকেত প্রেরিত হয় মস্তিষ্কের একটি কেন্দ্রে, যার নাম "Speech centre"। উপরন্তু কথা বলার সাথে জড়িত অঙ্গসমূহের নড়াচড়া (movement) নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের যে অঙ্গ, তার নাম 'ব্রোকার জোন'। বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, মস্তিষ্কের 'ব্রোকার অঞ্চল' মানুষকে সবাক করেছে। অন্য কোন প্রাণীর মস্তিষ্কে ব্রোকার অঞ্চলের সন্ধান মেলেনি। তাই তারা কথা বলতে পারে না।
দুর্মতি ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্বটি যেসব কারণে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে তার একটি কারণ এই যে, যদি গরিলা, শিম্পাঞ্জি কিংবা বানরের বিবর্তন থেকে মানুষ সৃষ্টি হতো তাহলে অবশ্যই ঐসব প্রাণীর মস্তিষ্কে ব্রোকার অঞ্চলের সন্ধান পাওয়া যেত।
অতএব, কথা বলার বিশেষ শিল্প নৈপুণ্যতা কেবল মানুষের মস্তিষ্কে এবং স্বর যন্ত্রে সম্পৃক্ত রয়েছে। এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা বলছেন,
خَلَقَ الْإِنْسَانَ عَلَّمَهُ الْبَيَانَ
He has created man and taught him an eloquent speech.
তিনি (আল্লাহ) মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তার মধ্যে কথা বলার কৌশলগত শিক্ষা দান করেছেন। (রহমান: ৩-৪)
Abdullah Yusuf Ali আরবী 'বায়ান' শব্দের অনুবাদ করেছেন, Intelligent speech, M. M. Pickthall এ শব্দের অনুবাদে লিখেছেন, Utterance। বায়ান এর আরো অনেক অর্থ আছে। যেমন, কথন, ধ্বনিতকরণ, বাচনভঙ্গি, উক্তি, Power of expression, মনের ভাবাদি বাক্যে প্রকাশ করা ইত্যাদি।
প্রশ্ন: আমি আমার পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর কখনও ছয় মাস পর, আবার কখনও পূর্ণ এক বছর পর তাদের সাথে সাক্ষাৎ করি। আর যখনই আমি বাড়িতে পৌঁছাই, তখন মহিলারা (ছোট ও বড়) আমাকে অভ্যর্থনা জানায় এবং তারা আমাকে এমনভাবে চুম্বন করে যে, আমি তাতে লজ্জাবোধ করি, আর বাস্তব কথা বলতে কি এ প্রথাটি আমাদের মাঝে ব্যাপকভবে ছড়িয়ে আছে এবং আমার বংশের লোকজন এটাকে কিছুই মনে করে না। কারণ, তাদের ধারণা মতে এটা হারাম কিছু নয়; কিন্তু আমি ইসলামী শিক্ষা অর্জন করেছি আল-হামদুলিল্লাহ; এ ব্যাপারে আমি একটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থার মধ্যে আছি। আমার প্রশ্ন হলো কীভাবে আমি নারীদের চুম্বন করার বিষয়টি সংশোধন বা প্রতিকার করতে সক্ষম হব? তবে জেনে রাখা দরকার যে, আমি যদি তাদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করি, তাহলে তারা আমার প্রতি ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হন এবং বলেন: সে আমাদেরকে সম্মান বা শ্রদ্ধা করে না, আমাদেরকে অপছন্দ করে এবং আমাদেরকে ভালোবাসে না (ভালোবাসা বলতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে গড়ে উঠা সম্পর্ক। যুবক ও যুবতীর মাঝে গড়ে উঠা সম্পর্কের ভালোবাসা নয়) ইত্যাদি ইত্যাদি, আর এমতাবস্থায় আমি যখন তাদেরকে চুম্বন করব, তখন কি আমি গুনাহের কাজে জড়িয়ে যাব না? জেনে রাখা দরকার যে, এ প্রতিকুল মন্দ অবস্থার ব্যাপারে আমার কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই?
উত্তর: একজন মুসলিম ব্যক্তির জন্য তার স্ত্রী ও মাহরাম ছাড়া অন্য কারও সাথে মুসাফাহা করা বা কাউকে চুম্বন করা বৈধ নয়; বরং এগুলো হারাম কাজের অন্তর্ভুক্ত এবং ফিতনার অন্যতম কারণ ও অশ্লীলতার বহিঃপ্রকাশ, আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দলীল সাব্যস্ত আছে। তিনি বলেন:
«إِنِّي لَا أُصَافِحُ النِّسَاءَ».
"আমি নারীদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করি না।"40
আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহ 'আনহা বলেন:
مَا مَسَّتْ يَدُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ حِيْنَ الْبَيْعَةِ، إِنَّمَا كَانَ يُبَايِعُهُنَّ بالكلام».
"বায়'আত গ্রহণের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত কখনও কোনো নারীর হাত স্পর্শ করে নি। তিনি শুধু কথা বলার মাধ্যমেই তাদেরকে 'বায়'আত' করাতেন।"41
আর মাহরাম নন এমন নারীদের সাথে মুসাফাহা করা ও তাদেরকে চুম্বন করা খুবই নিকৃষ্ট কাজ, হউক তারা চাচাতো বোন অথবা মামাতো বোন, অথবা প্রতিবেশীদের কেউ অথবা যে কোনো সম্প্রদায়ের কেউ- মুসলিমগণের ইজমা বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এসব হারাম এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত অশ্লীল কাজে জড়িয়ে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। সুতরাং মুসলিম ব্যক্তির আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া এবং এ অভ্যাসে অভ্যস্ত মহিলা আত্মীয়স্বজন ও অন্যান্য সকল নারীকে অনুরোধ করে বুঝানো যে, এটা হারাম কাজ, যদিও মানুষ তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, আর কোনো মুসলিম পুরুষ ও নারীর জন্য এটা করা বৈধ নয়, যদিও তাদের আত্মীয়স্বজন অথবা তাদের এলাকার অধিবাসীগণ তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে; বরং তাদের জন্য ওয়াজিব হলো এটাকে প্রত্যাখ্যান করা এবং সমাজকে এর থেকে সাবধান ও সতর্ক করা, আর মুসাফাহ ও চুম্বন না করে মৌখিকভাবে সালাম দেওয়াটাই যথেষ্ট।
শাইখ আবদুল 'আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায
টিকাঃ
⁴⁰ ইবনু মাজাহ, হাদীস নং- ২৮৭৪; আহমাদ, মুসনাদ, হাদীস নং- ২৭০০৮
⁴¹ সহীহ বুখারী ও মুসলিম。
📄 সুন্দর করে কথা বলা এক প্রকার আর্ট
সুন্দর করে কথা বলা এক প্রকার আর্ট
দৈনন্দিন জীবনে মনের যথার্থ ভাব প্রকাশের লক্ষ্যে আমরা একে অপরের সাথে কথা বলি। হৃদয়ের অনুভূতি উপমা ও অনুপ্রাস দ্বারা ব্যক্ত করার জন্য স্বরযন্ত্র থেকে উৎসারিত শব্দ সমষ্টি-ই ভাবের উন্মেষ ঘটায়। অন্তরনিহিত চিন্তা-চেতনা, আবেগ-উচ্ছ্বাস এবং আবেদন-নিবেদন বিপুল প্রসারী কথার রেণুতে প্রকাশ পায়।
আল-কোরআন এবং নবীজীর (সাঃ) হাদীস কথা বিনিময়ের যে সৌজন্যমূলক কৌশল শিক্ষা দেয় তা কাল উত্তীর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিদিত। অর্থাৎ প্রতিদিনের সংলাপ মহিমান্বিত হয়ে ওঠে কোরআন-সুন্নাতে বর্ণিত প্রকাশ ভঙ্গির তাৎপর্যগত আদর্শের মাধ্যমে। যেমন বড়দের সাথে, পিতা-মাতার সাথে এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বিনিময় করতে হবে শ্রদ্ধা-জড়িত কণ্ঠে। প্রতিবেশীর সাথে আত্মীয়-স্বজনের সাথে কিংবা বন্ধুর সাথে বাক্য বিনিময় হবে সম্প্রীতির সুরে। আর ছোটদের সাথে, এতিমদের সাথে এবং দাস-দাসীদের সাথে সংলাপ হবে স্নেহ মাখা কণ্ঠে। কথা বলার এরূপ স্তর বিন্যাস প্রতিষ্ঠিত হলে মানব পরিবেষ্টিত সমাজে সম্প্রীতি মূলক নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে।
وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ.
And say to my servants that they should only say those words that are best.
আর আমার বান্দাদের বলে দিন তারা যেন এরূপ কথা বলে যা উত্তম। (বনি ইসরাঈল-৫৩)
وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتْمَى وَالْمُسْكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَنْكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا.
And do good to parents, kinsfolk, orphans, the needy, the neighbour who is near of kin, the neighbour who is not near of kin, the Companion by your side, the wayfarer, and those slaves whom your right hands possess. Most surely Allah does not like such as are proud and boastful.
পিতামাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকার ভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সুন্দর ব্যবহার করবে। আল্লাহ মোটেও পছন্দ করেন না দাম্ভিক আত্মগরীমাকে। (নিসা-৩৬)
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا وَ قَوْلًا كَرِيمًا ، وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيْنِي صَغِيرًا.
And your Lord has decreed that you worship none but Him, and that you be kind to parents. If one of them or both of them attain old age in your life, say not to them a word of contempt, nor shout at them but address them in terms of honour. And lower unto them the wing of submission and humility through mercy and say, "My Lord, bestow on them your mercy as they did bring me up when I was young.
আর আপনার প্রভু আদেশ জারি করেছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কারো বন্দেগী করা যাবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সুন্দর ব্যবহার করবে। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়ই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদের সামনে "ওহ" শব্দটিও উচ্চারণ করবে না এবং তাদেরকে ধমক দিয়ে কথা বলবেনা। বরং শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বলবে। তাদের সমীপে নম্রভাবে অবনত হয়ে থাকবে। আর আমার কাছে নিবেদন করতে থাক, হে প্রভু! তাঁদের প্রতি দয়া বর্ষণ কর যেমন তাঁরা আমাকে শৈশব কালে রহমতের কোলে লালন পালন করেছে। (বনি ইসরাইল ২৩-২৪)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ (رض) عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ.
Abdullah-Ibn-Amar reported that the Holy Prophet (S.A.W) said, "A real muslim is one from whose tongue and hands the other muslims are safe and sound".
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সঃ) বলেছেন, "প্রকৃত মুসলমান হচ্ছে সে ব্যক্তি যার জিহবা এবং হাত থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ। (বুখারী)
عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ (رض) قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ لِى أَنْ أَعْلَمَ إِذَا أَحْسَنْتُ وَإِذَا أَسَأْتُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَمِعْتُ جِيرَانَكَ يَقُولُونَ قَدْ أَحْسَنْتَ فَقَدْ أَحْسَنْتَ وَإِذَا سَمِعْتَ لَيَقُولُونَ قَدْ أَسَأْتَ فَقَدْ أَسَأْتَ.
ইবনে মাসুদ (রঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবীজীর (সঃ) নিকট আরজ করলেন, হে আল্লাহর রসুল, আমি ভাল করি না মন্দকরি তা কি করে জানব? নবীজী বললেন, যখন তোমার প্রতিবেশীরা বলবে, তুমি ভাল (কাজ) কর তখন প্রকৃতই তুমি ভাল লোক। আর তারা যদি বলে তুমি মন্দ (কাজ) করে থাকে। তাহলে সত্যিকার অর্থে তুমি মন্দের প্রতি আকৃষ্ট। (ইবনে মাজা)
عَنْ عَائِشَةَ (رض) فَقَالَتْ جَاءَ أَعْرَابِيُّ إِلَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ تُقَبِّلُونَ الصَّبْيَانَ فَمَا نُقَبِّلُهُمْ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ أَمْلِكُ لَكَ أَنْ نَزَعَ اللَّهُ مِنْ قَبْلِكَ الرَّحْمَةَ.
হযরত আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক বেদুইন নবী (সাঃ) এর কাছে এসে বলল, আপনারা শিশুদের চুমু দেন। আমরা তো তাদের চুমু দিই না। জবাবে নবীজী (সাঃ) বললেন, আল্লাহ তা'আয়ালা তোমাদের অন্তর থেকে দয়ামায়া তুলে নিলে আমি তার কি করতে পারি।
عَنْ أَنَسٍ (رض) أَنَّهُ مَرَّ عَلَى صِبْيَانِ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ وَقَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُهُ.
Hazrat Anas-Bin-Malik (R.A) says that once he passed by some children and saluted them by offering greetings of peace and said, the Holy Prophet (s.a.w) also acted like wise.
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, একদা তিনি ছোটদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন এবং বললেন নবীজী (সাঃ) এভাবে ছোটদের সালাম দিতেন। (মুসলিম)
সুন্দর করে কথা বলা এক প্রকার আর্ট (শিক্ষা)। এ আর্ট আয়ত্তে থাকলে জয় করা যায় মানব সমাজ। সর্বোপরি বিশাল মহাবিশ্বের মালিক আল্লাহ তা'আলাকে আর্ট সমৃদ্ধ ভাষায় ডাক দিলে সাথে সাথে সাড়া পাওয়া যায়। দৃষ্টান্ত স্বরূপ আল-কোরআন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, আল্লাহর বিশিষ্ট নবী এবং বান্দা হযরত আয়ুব (আঃ) কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে জর্জরিত হয়ে গিয়েছিলেন। শরীরে এমনভাবে পচন ধরা শুরু হয়, যার প্রেক্ষিতে পচনশীল অংশে পোকা এসে যায়। এমতাবস্থায় জনপদের অধিবাসীরা তাঁকে লোকালয় থেকে বিতাড়িত করে দেয়। ফলে তিনি এক নির্জন স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তাঁর স্ত্রী লাইয়া কেবল তাঁর দেখাশুনায় নিয়োজিত ছিলেন। তখন হযরত আয়ুব (আঃ) এর জিহবাটা শুধু ভাল ছিল। জিহবা নড়াচড়া করে আল্লাহ পাকের তাছবীহ করতেন, হাম্দ করতেন এবং যিকির করতেন। এভাবে সাত বছর আট মাস অতিবাহিত হয়।
অবশেষে জিহবায় ও পচন ধরা শুরু হয়। আর তিনি জিহবা নড়াচড়া করতে পারেন না। তারপর হযরত আয়ুব (আঃ) হৃদয়ের সকল আবেগ উজাড় করে মহান প্রভুকে যে ভাষায় ডাক দিয়েছিলেন তা ছিল অনন্য সাধারণ ভাষা শৈলী।
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّحِمِينَ.
And remember Ayub, when he appealed to his Lord "Truely distress has seized me but you are the Most Merciful of those that are Merciful.
স্মরণ করুন, যখন আয়ুব (আঃ) তার প্রভুর কাছে মিনতি পেশ করলেন, হে আমার প্রভু, আমি ভীষণ কষ্টে পতিত হয়েছি কিন্তু তুমি তো সকল দয়াবানের উপর শ্রেষ্ঠ দয়াবান"। অথচ এ ক্ষেত্রে বলা উচিত ছিল আমি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছি। আমাকে শেফা দান করুন। এভাবে না বলে তিনি কথাকে কৌশলগত ব্যঞ্জনায় সমৃদ্ধ করলেন। আর তৎক্ষণাৎ মহান প্রভু সাড়া দিলেন।
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِنْ ضُرٍ وَآتَيْنَهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُمْ مَعَهُمْ رَحْمَةً منْ عِنْدِنَا .
So We answered his call and We removed the distress that was on him and We restored his family to him (that he had lost) and the like thereof along with them as a mercy from ourselves.
অতঃপর আমরা তাঁর নিবেদনে সাড়া দিলাম এবং তাঁর সকল দুঃখ কষ্ট দূর করে দিলাম এবং তাঁর পরিবার পরিজনদের ফিরিয়ে দিলাম এবং এক বিশেষ রহমত দ্বারা তাঁকে ধন্য করে দিলাম। (আম্বিয়া-৮৪)
সুন্দর করে কথা বলা এক প্রকার আর্ট। এ আর্ট আয়ত্ত করার জন্য তিনটি বিশেষ গুণ অর্জন করতে হয়।
১. কোরআন-সুন্নাহ থেকে জ্ঞান অর্জন।
২. নিবিড় ধৈর্য ধারণ।
৩. আত্মসংযম অবলম্বন।
প্রশ্ন: আমি বর্তমানে রিয়াদ শহরে বাস করি এবং সেখানে আমার নিকটাত্মীয়রাও অবস্থান করেন, আমার এবং তাদের মধ্যে আত্মীয়তার দিক থেকে খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তাদের মাঝে আছেন আমার খালাতো বোন, চাচীসব ও চাচাতো বোনেরা, আর যখনই আমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাই, তখন আমি তাদেরকে সালাম জানাই এবং চুম্বন করি, আর তারাও আমার সাথে খোলামেলাভাবে বসে, অথচ আমি এ প্রথায় অস্বস্তি বোধ করি; আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলছি যে, এ প্রথা দক্ষিণাঞ্চেলের অধিকাংশ জেলায় ব্যাপকভাবে প্রচলিত। সুতরাং এ প্রথার ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্য কী এবং আমি কী করব? অনুগ্রহ করে আমাকে এ ব্যাপারে অবহিত করবেন। আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম পুরষ্কার দান করুন।
উত্তর: এ প্রথাটি অত্যন্ত খারাপ একটি প্রথা বা রীতিনীতি, যা পবিত্র শরী'য়ত বিরোধী। আর আপনার জন্য তাদেরকে চুম্বন করা এবং তাদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করা বৈধ নয়। কারণ, আপনার চাচীগণ, চাচাতো বোন, মামাতো বোন, খালাতো বোন প্রমুখ আপনার জন্য 'মাহরাম' নন। সুতরাং তাদের জন্য আবশ্যক হলো আপনার থেকে পর্দা করা এবং আপনার উদ্দেশ্যে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করা। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন;
وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَسْلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَظْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ
[আল-আহযাব: ৫৩]
"তোমরা তার পত্নীদের কাছ থেকে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এ বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য বেশি পবিত্র”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৩]
আর এ আয়াতটি ব্যাপক অর্থবোধক, যার বিধান আলেমগণের বিশুদ্ধ মতে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত স্ত্রীগণ ও তাঁরা ভিন্ন অন্য সকল (মাহরাম নন এমন) নারীদের জন্য সামানভাবে প্রযোজ্য, আর যে ব্যক্তি বলে যে, এ আয়াতের বিধান শুধু নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত স্ত্রীগণের জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য, তার কথা বাতিল অগ্রহণযোগ্য, যার কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি ও দলিল নেই। আর আল্লাহ তা'আলা সূরা আন-নূরে বলেন: وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ ءَابَابِهِنَّ أَوْ ءَابَاءِ بُعُولَتِهِنَّ .....) [النور: ٣١]
"আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর.... ছাড়া কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে"। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১]
আর পর্দার এ আয়াতের বিধান থেকে যাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, আপনি তো তাদের অন্তর্ভুক্ত কেউ নন; বরং আপনার চাচী, চাচাতো বোন, মামাতো বোন, খালাতো বোন প্রমুখের মাঝে আপনি হলেন সম্পূর্ণ এক অপরিচিত পর পুরুষ, অর্থাৎ আপনি তাদের মাহরাম কেউ নন, এমতাবস্থায় আপনার আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো আমরা যা আলোচনা করলাম, তা তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া এবং তাদের নিকট এ ফতোয়া পাঠ করে শুনানো, যাতে তারা আপনাকে ক্ষমা করে বা অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয় এবং এ ব্যাপারে শরী'আতের বিধান সম্পর্কে জানতে পারে। আর কোনো প্রকার চুম্বন অথবা মুসাফাহা ছাড়া তাদেরকে সালাম দেওয়াটাই আপনার জন্য যথেষ্ট, যার কারণটি আমরা আয়াত থেকে উল্লেখ করেছি।
তাছাড়া কোনো এক নারী নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুসাফাহা করতে চাইলে তিনি বলেন: إِنِّي لَا أُصَافِحُ النِّسَاءَ».
"আমি নারীদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করি না।"42 আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহ 'আনহা বলেন:
مَا مَسَّتْ يَدُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ، مَا كَانَ يُبَايِعُهُنَّ إِلَّا بِالْكَلَامِ».
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত কখনও কোনো নারীর হাত স্পর্শ করে নি। তিনি শুধু কথা বলার মাধ্যমেই তাদেরকে 'বায়'আত' করাতেন।"43 আর সহীহ মুসলিমে আয়েশা রাদিয়াল্লাহ 'আনহা থেকে ইফকের কাহিনী প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন:
لما سمعت صوت صفوان بن المعطل، خمرت وجهي وكان قد رآني قبل الحجاب
"যখন আমি সাফওয়ান ইবন মু'য়াত্তালের কণ্ঠ শুনতে পেলাম, তখন আমি আমার চেহারা ঢেকে ফেললাম, আর সে আমাকে পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পূর্বে দেখেছিল"।
সুতরাং এটা প্রমাণ করে যে, পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পর নারীগণ তাদের চেহারা ঢেকে রাখতেন। আল্লাহ মুসলিম সমাজের অবস্থার সংস্কার ও সংশোধন করে দিন এবং তাদেরকে দীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আর তাওফীক দানের মালিক তো আল্লাহই।
শাইখ আবদুল 'আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায
টিকাঃ
⁴² ইবনু মাজাহ, হাদীস নং- ২৮৭৪; আহমাদ, মুসনাদ, হাদীস নং- ২৭০০৮。
⁴³ সহীহ বুখারী ও মুসলিম。
📄 Intelligent Quotient
Intelligent Quotient (বুদ্ধির পরিমাপ)
I.Q. = (mental age / chronological age) x 100
আজকাল I.Q. কথাটি খুব বেশি চালু হয়েছে। Intelligent Quotient কথাটির সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে I.Q., যার প্রচলিত অর্থ বুদ্ধির পরিমাপ।
মনোবিজ্ঞানীরা বুদ্ধির নানা রকম সংজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন বুদ্ধি হচ্ছে মানুষের মনের একটি বৈশিষ্ট্য, যার সাহায্যে অজানা পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা স্থির হয়।
এরূপ সংজ্ঞার আলোকে বলা যেতে পারে, ৬০৫ খ্রিস্টাব্দে কাবা গৃহ সংস্কারকালে 'হাজরে আসওয়াদ' (পবিত্র কালো পাথর) স্থাপনকে কেন্দ্র করে আরব গোত্রে পারস্পরিক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। কারণ সব গোত্র চায় এ পবিত্র ঐতিহাসিক পাথরখানা যথাস্থানে স্থাপন করে ধন্য হতে। তাই সংঘর্ষ বন্ধ করে কীভাবে এ সমস্যার সম্মানজনক সমাধান করা যায়, তা নিয়ে তৎকালীন আরব নেতারা আকুল পাথারে পড়ে যান।
অবশেষে ওয়ালিদ বিন মুগিরা, আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ (সাঃ)-কে সমস্যাটি নিষ্পত্তির প্রস্তাব করেন। মুহাম্মদ (সঃ)-এর বয়স তখন ৩৫ বছর। সমস্যার ধরন পর্যবেক্ষণ করে তিনি (মুহাম্মদ সঃ) তৎক্ষণাৎ একটি কৌশল অবলম্বন করেন। কাবা গৃহের সামনে একটি রুমাল পেতে তার উপর নিজ হস্তে হাজরে আসওয়াদ রাখেন। চার গোত্রের চার প্রধান পুরুষকে রুমালের চার কোণা ধরে তা যথাস্থানে বহন করে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন। তারা সাথে সাথে তাই করেন। ফলে সবাই যেমন মর্যাদার অধিকারী হলেন, তেমনি বিবাদের সম্মানজনক মীমাংসা হয়ে গেল।
এ কৌশলকে মনোবিজ্ঞান মনের বুদ্ধিভিত্তিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করে। আবার বুদ্ধির বিকাশ ঘটে জ্ঞান অর্জনের নিরিখে। জ্ঞান অর্জনের পূর্বশর্ত হচ্ছে অধ্যয়ন।
যত বেশি পাঠ করা যায়, বুদ্ধি ও প্রতিভার বিকাশ তত বেশি ত্বরান্বিত হয়। তাই মানুষের বুদ্ধি পরিমাপের জন্য একটি ফর্মুলা নির্ধারণ করা হয়েছে। তা হচ্ছে:
I.Q. = mental age x 100
chronological age
একটি ১০ বছর বয়সের বালক যদি ১২ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের যোগ্য কাজ (problem) সম্পন্ন করতে পারে, তাহলে তার Chronological age (স্বাভাবিক বয়স) = ১০, mental age (মানসিক বয়স) = ১২। সুতরাং তার I.Q. = ১২/১০ x ১০০ = ১২০। আবার ১২ বছর বয়সের বালক (কম বুদ্ধির দরুন) ১০ বছর বয়স্ক বালকদের যোগ্য কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হলে তার I.Q. হবে,
I.Q. = ১০/১২ x ১০০ = ৮৩.৩৩।
I.Q. সমৃদ্ধ করার জন্য গোটা মানবজাতিকে আল-কোরআন আমন্ত্রণ জানিয়েছে তার সর্বপ্রথম অবতীর্ণ বাণীতে;
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ
Read and ponder in the name of your Lord Who created (all creation in the Universe).
আপনার প্রভুর নামে পাঠ করুন (আর চিন্তা করুন) যিনি সৃষ্টি করেছেন (মহাবিশ্বের সব কিছু)।
اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ . الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ . عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمُ.
Read with attention and your Lord is Most Bountiful Who taught by the pen. He taught man that which he knew not.
মনোযোগের সাথে পাঠ করুন, আপনার প্রভু মহানুভব যিনি কলমের সাহায্যে মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।
বুদ্ধি এবং প্রতিভার বিকাশ ত্বরান্বিত করার জন্য সকল জ্ঞানের মহান অধিপতি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, তাঁরই কাছে জ্ঞান ভিক্ষা করার জন্য মানবজাতিকে উপদেশ দিয়েছেন।
وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا
And say, my Lord, bestow upon me increase of knowledge.
এবং বলুন, প্রভু হে! আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধি প্রদান করুন। (ত্বোয়াহা-১১৪)
إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ।
Verily it is You who are full of knowledge and Wisdom.
প্রকৃতপক্ষে, আপনিই (আল্লাহ) মহাজ্ঞানী এবং প্রজ্ঞাময়। (বাকারা-৩২)
ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সঃ) জ্ঞান অর্জনকে ফরজ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
عَنْ أَنَسٍ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَمُسْلِمَةٍ
Anas (R) reported that the Holy Prophet Muhammad (s:) said "The pursuit of knowledge is obligatory on every Muslim man and woman".
হযরত আনাস (রঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সঃ) বলেছেন, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য (কোরআনের) জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। (ইবনে মাজাহ)
আই. কিউ. সমৃদ্ধ করার একেবারে নির্ভুল, স্বচ্ছ এবং সমুন্নত গ্রন্থ হচ্ছে কোরআন হাকিম। কোরআন সর্বপ্রথম মানুষের অন্তঃপ্রকৃতিকে নাড়া দিয়ে তার অন্তঃকরণকে পরিশুদ্ধ করে। এটি মানুষকে জগৎ সংসারের গভীরে প্রবেশ করতে দেয় না, অথচ সংসার বিমুখ করে না। মানুষকে চিন্তাশীল করে, কখনো উদাসীন করে না। সর্বোপরি কোরআনের জ্ঞান মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ধাবিত করে। যে আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে জীবনব্যাপী নয়ন দুটি সত্যের পথ খোঁজে।
ذلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ।
This is the Book whereof there is no doubt, a guidance sure for those who fear Allah much.
এটি একমাত্র গ্রন্থ, যার মধ্যে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই এবং তাদেরকে নিশ্চিত পথ বের করে দেয়, যারা মহান আল্লাহকে ভয় করার নীতি অবলম্বন করে। (বাকারা-২)
تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ।
These are the verses of the Book, full of knowledge and wisdom.
এগুলো জ্ঞান-বিজ্ঞানে পূর্ণ কিতাবের আয়াত। (ইউনুস-১)
كِتَب أَنْزَلْتُهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَتِ إِلَى النُّورِ.
This book which We have revealed unto you in order to lead mankind into light from the depth of darkness.
এ গ্রন্থ যা আমরা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, মানবজাতিকে অন্ধকারের নিগড় থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসার জন্য। (ইব্রাহিম-১)
আরবী 'জুলুম' শব্দের প্রতিশব্দ হচ্ছে অন্যায়-অবিচার। জুলুমের মূল শব্দ "জুলমাহ", যার অর্থ অন্ধকার। অন্ধকারের প্রধান রূপ হচ্ছে অজ্ঞতা। পবিত্র কোরআন মানবজাতিকে অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের আলোকপথে ধাবিত করতে চায়। মানুষ যখন অন্যায়, অবিচার, বস্তুপূজা, কামনা, বাসনা এবং স্বার্থপরতার দিকে ধাবিত হয়, তখন নিশ্চিতভাবে বলা যায় সে তিমির বিবরে হারিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় আল-কোরআন আদর্শের সিগন্যাল লাইট জ্বালিয়ে বিভ্রান্ত মানবজাতিকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সঃ) প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করার জন্য কোরআন শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ.
Uthman (R.A) reported that the Apostle of Allah said, "The best of you is he who has learned the Quran and teaches it."
হযরত উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম জ্ঞানী লোক হচ্ছেন তিনি, যিনি নিজে কোরআন শিক্ষা করেন এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেন।
মানুষের প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া অত্যন্ত গুনাহের কাজ, কিন্তু নবীজী শিক্ষা দিচ্ছেন দু'ব্যক্তির প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া যায়।
عَنْ عَمَرَو (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا حَسَدَ إِلَّا عَلَى الْإِثْنَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ قُرْآنَ فَهُوَ يَقُولُ بِهِ أَنَاءَ اللَّيْلَ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَهُوَ يَنْفِقُ مِنْهُ أَنَاءَ اللَّيْلِ وَأَنَاءَ النَّهَارِ.
Ibn Umar (r.a) related that the Holy Prophet (s.a.w) said, "There's no envy except for two; One he upon whom Allah has bestowed the (knowledge of) Quran and he studies and practices it throughout the night and throughout the day and the other whom Allah has given wealth and he spends it in the cause of Allah, throughout the night and day."
হযরত আমর (রঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজী বলেছেন, দু'ব্যক্তি ছাড়া আর কারো প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া যায় না। এক ব্যক্তি হচ্ছে এমন— যাকে আল্লাহপাক কোরআন (থেকে জ্ঞান) দান করেছেন, তিনি কোরআন অধ্যয়ন করেন, অনুধাবন করেন, অনুসরণ করেন। দিনেও করেন, রাতেও করেন। তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া যায় তার মতো হওয়ার জন্য। আর এক ব্যক্তি, যাকে মাল-সম্পদ দান করা হয়েছে। (নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে) উদ্বৃত্ত সম্পদগুলো তিনি আল্লাহর পথে খরচ করেন। দিনেও করেন, রাতেও করেন। তার প্রতিও ঈর্ষান্বিত হওয়া যায় তার মতো হওয়ার জন্য। (মুত্তাফিকুন আলাইহি)
عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَيْنِ رَجُلٌ أَتَاهُ اللهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ الْحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا .
Ibn Mas'ud (r.a) reported Allah's Messenger (সঃ) বলেছেন, "Only two persons deserve being envied; firstly a person to whom Allah has given wealth and bestowed upon him divine wisdom to spend in a righteous cause and secondly, the person upon whom Allah has bestowed wisdom by which he judges and which he teaches."
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, দুই ব্যক্তির বেলায় ঈর্ষা পোষণ করা যায়। যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তা সৎ পথে ব্যয় করার পবিত্র মানসিকতা দান করেছেন। আবার যাকে আল্লাহ জ্ঞান-বিজ্ঞান দান করেছেন এবং সে তার সাহায্যে বিচার মীমাংসা করে ও তা অন্যদের শিক্ষা দেয়। (বুখারী, মুসলিম)
ইমামে আজম আবু হানিফা (রঃ) আল্লাহ তাআলার নূরের তাজাল্লি (আলোর ঝলক) ৯৯ বার স্বপ্নের মধ্যে অবলোকন করেছেন। প্রত্যেকবার তিনি জিজ্ঞেস করেছেন, হে আল্লাহ! "তোমার কাছে সবচেয়ে উত্তম ইবাদত কোনটি?"
প্রত্যেকবার আল্লাহর নূর জবাব দিয়েছেন, "তেলাওয়াতিল কোরআন" (কোরআনের অনুসরণ আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ইবাদত)।
আরবী "তালাহ" শব্দ থেকে তেলাওয়াত শব্দের উৎপত্তি। যার অর্থ অনুসরণ করা, যেমন সূরা "শামস"-এ বলা হয়েছে,
وَالْقَمَرِ إِذَا تَلْهَا
By the moon as she follows him (the sun)
চন্দ্রের শপথ যখন সে সূর্যকে অনুসরণ করে। (সূরা শামস-২)
অথচ আমাদের আরবী শিক্ষিত লোকেরা তেলাওয়াত শব্দকে শুধু "পাঠ করার" মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন। তেলাওয়াত শব্দের অর্থ অধ্যয়ন, অনুধাবন, অনুসরণ।
মানুষের হৃদয়ে কিংবা স্মৃতিতে যদি মহান গ্রন্থ আল-কোরআনের জ্ঞান বিধৃত না থাকে, তাহলে সেই হৃদয় কিংবা স্মৃতি সম্পূর্ণ অন্তঃসারশূন্য। তার অন্য সব জ্ঞান তাকে আত্মার শান্তি এবং সমৃদ্ধি এনে দিতে পারবে না। তাই নবীজী (সঃ) বলেছেন,
إِنَّ الَّذِي لَيْسَ فِي جَوْفِهِ شَيْئُ مِنَ الْقُرْآنِ كَالْبَيْتِ الْخَرِيبِ.
Ibn Abbas (r.a) related that the Holy Prophet (s.a.w) said, "One whose heart does not contain anything from the Holy Quran is like a deserted House."
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সাঃ) বলেছেন, যার হৃদয়ে কোরআনের কিছু মাত্র অংশ নেই, তার হৃদয় হচ্ছে বিরান বাড়ির মতো।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرًا .
Abu Hurairah (r.a) reported that the Holy Prophet said, "Don't make your House graveyards".
হযরত আবু হুরাইরা (রঃ) হতে বর্ণিত, নবীজী (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের ঘরকে কবরস্থান বানিয়ে নিও না।
এই হাদীসের তাৎপর্য হচ্ছে, কবরস্থানে যেমন নীরব-নিস্তব্ধতা বিরাজ করে, মুর্দাগুলো কেবল শুয়ে আছে, কোনো নড়াচড়া নেই, প্রাণের স্পন্দন নেই, তেমনি যে ঘরে নিয়মিত নামাজ আদায় হয় না, কোরআন পাঠ হয় না, কোরআনের অধ্যয়ন হয় না এবং দরস হয় না, সেই ঘরটি কবরস্থানের মতো নীরব-নিস্তব্ধ এবং সেই ঘরের মানুষগুলো সবাই মৃত।
প্রশ্ন: পুরুষ ব্যক্তি কর্তৃক তার কন্যাকে চুম্বন করা বৈধ কিনা, যখন সে বড় হয়ে যায় এবং তার বয়স প্রাপ্তবয়স্কের পর্যায়ে উপনীত হয়, চাই সে বিবাহিতা হউক অথবা অবিবাহিতা, চাই সে চুম্বন হউক তার গালে বা মুখে বা অনুরূপ কোনো স্থানে, আর যখন মেয়ে তার পিতার ঐসব স্থানে চুম্বন করে, তখন তার বিধানই বা কী হবে?
উত্তর: পুরুষ ব্যক্তি কর্তৃক বিনা কামুক দৃষ্টিতে তার বয়স্ক কন্যা বা কম বয়সের কন্যাকে চুম্বন করাতে কোনো অসুবিধা নেই, তবে শর্ত হলো মেয়ে বড় হলে চুম্বন হতে হবে তার গালের মধ্যে। কেননা আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে সাব্যস্ত আছে যে, তিনি তাঁর কন্যা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহাকে তাঁর গালে চুম্বন দিয়েছেন।
আর মুখের উপর চুম্বন করার বিষয়টি কখনও কখনও জাতিগত কামভাবকে উস্কিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে, যার ফলে তা বর্জন করাটাই বেশি উত্তম এবং অধিক সাবধানতা। আর অনুরূপভাবে মেয়ের জন্যও তার পিতার নাকে বা মাথায় বিনা কামুক দৃষ্টিতে চুম্বন করা বৈধ। আর ফিতনা নির্মূল করার উদ্দেশ্য এবং অশ্লীলতার সকল পথ বন্ধ করার জন্য কামভাবসহ এ ধরনের চুম্বন করাটা সকলের জন্যই হারাম বলে গণ্য হবে।
শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায
📄 বুদ্ধি ও অনুভূতির আধার
বুদ্ধি ও অনুভূতির আধার
মানুষের মস্তিষ্ককে বুদ্ধি ও অনুভূতির আধার বলা হয়। আল্লাহ তাআলার বিস্ময়কর সৃষ্টি এ মস্তিষ্ক (Brain) যার অনুকরণে আবিষ্কৃত হয়েছে কম্পিউটার। বিজ্ঞানের সর্বশেষ তথ্যে প্রকাশ করা হয়েছে যে, মানুষের মস্তিষ্কে ১৪ বিলিয়ন নিউরন (nerve cells) আছে। প্রত্যেকটি cell-এর আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য ও কার্যকারণ রয়েছে। কোনো কিছু শেখার সময় স্নায়ুবিক উদ্দীপনায় কোষসমূহ সক্রিয় হয় এবং প্রতিবর্তী (Reflex) ক্রিয়ার সাহায্যে শিক্ষা শুরু হয়।
প্রতিবর্ত দু'প্রকার
১। অনাপেক্ষ প্রতিবর্ত (Unconditioned Reflex):
যেসব ক্রিয়া জন্মগতভাবে মানুষ লাভ করে তাকে বলা হয় অনাপেক্ষ প্রতিবর্ত। যেমন আগুন দগ্ধ করবেই। এ অনুভূতি থেকে কেউ আগুনে হাত দেয় না। ক্ষুধা পেলে খাদ্য গ্রহণ করতেই হবে, নইলে জীবন বাঁচবে না। এসব ক্রিয়াকে সহজাত প্রতিবর্তও বলা যায়।
২। সাপেক্ষ প্রতিবর্ত (Conditioned Reflex):
সাপেক্ষ উদ্দীপকের প্রভাবে যে নতুন শিক্ষা শুরু হয় তার নাম সাপেক্ষ প্রতিবর্ত। যেমন আগুন প্রজ্জ্বলিত করে সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা, খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর উপযোগিতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি সাপেক্ষ প্রতিবর্তের অন্তর্গত।
সাপেক্ষ প্রতিবর্তী ক্রিয়ার সাহায্যে যখন শিক্ষা শুরু হয় তখন স্নায়ুতে স্নায়ুতে নতুন সংযোগ গড়ে ওঠে এবং শিক্ষাকে মনে রাখার জন্য নতুন স্নায়ু বর্তনী (Neural circuit) গঠিত হয়। ফলে শিক্ষা এবং জীবনের ঘটনাবলী যেসব কোষে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায় তাদের বলা হয় স্মৃতি কোষ (Memory cell)। শিক্ষণীয় বিষয় এবং ঘটনাসমূহ কীভাবে Memory cell-এ আবদ্ধ থাকে তা এখনো গবেষণাধীন রয়েছে। তবে আধুনিক বিজ্ঞানীরা মনে করে থাকেন, শিক্ষার ফলে যেসব নতুন স্নায়ুবর্তনী গড়ে ওঠে সেসবের মধ্যে এক প্রকার প্রোটিন জাতীয় উপাদান সঞ্চিত থাকে, যার নাম Ribonucleic Acid বা RNA। বস্তুত এ RNA-ই হচ্ছে স্মৃতি।
মনোবিজ্ঞানীরা স্মৃতি পরিমাপের (Memory Quotient) তিনটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
১. Method of recall: এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে কোনো বিষয় মুখস্থ করার পর তা Recall করতে বলা হয়। তখন কতটুকু নির্ভুলভাবে Recall করতে পারল তা একটি সূত্রের সাহায্যে নির্ণয় করা হয়। সূত্রটি হচ্ছে,
Memory Recall = (No. of recalled subject - No. of Error) / Total No. of subject x 100
যেমন, একজন কুরআন শিক্ষার্থীকে ১০টি আয়াত মুখস্থ করতে দেওয়া হলো। মুখস্থ করার পর তা Recall করতে বলা হলো। তখন দেখা গেল তিনি ১০টি আয়াতই Recall করেছেন কিন্তু ২টি আয়াতে কিছু ভুল করেছেন। তাহলে তার স্মৃতির পরিমাপ,
MR = (10-2) / 10 x 100 = 80%
২. Method of recognition: এ পদ্ধতিতে পূর্বে শেখা বিষয়ের সাথে নতুন বিষয় মিশিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে সবটুকু হুবহু Recall করতে পারলে স্মৃতি পরিমাপের যে সূত্র হবে,
MR = (Right - wrong) / Total No. of subject x 100
MR = (100-0) / 100 x 100 = 100%
৩. Method of saving: এ পদ্ধতিতে পূর্বে কোনো শেখা বিষয় পুনরায় শিখতে দেওয়া হয় এবং সময় রেকর্ড করা হয়। ধরা যাক প্রথমবার শিখতে সময় লেগেছিল ৬০ মিনিট। পরের বার শিখতে সময় লাগল ১৫ মিনিট, সুতরাং এ ক্ষেত্রে স্মৃতির পরিমাপ হবে
MR = (60-15) / 60 x 100 = 75%
কোনো বিষয় (Subject) স্মৃতিতে ধারণ করার জন্য মনোবিজ্ঞানে আর একটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ আছে। তা হচ্ছে Association Method। এ পদ্ধতিতে বলা হয়েছে প্রথমে বিষয়টির ভাবার্থ ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। তারপর গোটা বিষয়টা পরপর এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে প্রথম অংশ মুখস্থ করার পর দ্বিতীয় অংশ মুখস্থ করা সহজ হয়। এরপর দ্বিতীয় অংশ থেকে তৃতীয় অংশ, এভাবে গোটা বিষয় মুখস্থ হলে তা সহজে বিস্মৃত হয় না।
বিজ্ঞানময় গ্রন্থ আল-কুরআন, যার মধ্যে ৩,২৩,৬৭০টি হরফ, ৭৭,৪৩০টি শব্দ এবং ৬২৩৬টি আয়াত সন্নিবেশিত আছে। সমগ্র কুরআনে শব্দ ও আয়াতগুলি এমনভাবে সাজানো আছে যে, প্রথম অংশ মুখস্থ করার পর দ্বিতীয় অংশ মুখস্থ হয়ে যায়। দ্বিতীয় অংশ থেকে তৃতীয় অংশ, এভাবে গোটা কুরআন শরীফ স্মৃতিতে ধারণ করার জন্য এর ভাষা শৈলী (Language style) থেকে উৎসারিত ছন্দময় গতি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আবার পঠিত কুরআন স্মরণ করার সময় প্রথম আয়াতটা মনে করতে পারলে দ্বিতীয় আয়াত অনায়াসে মনে পড়ে যায়।