📄 DNA (Deoxyribonucleic acid)
DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড)
DNA জীবকোষের নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান ক্রোমোজোমের একমাত্র স্থায়ী প্রাণরাসায়নিক যৌগ হলো Deoxyribonucleic Acid বা DNA। এটি ক্রোমোজোম তথা জিনের সাংগঠনিক উপাদানরূপে জীবনের প্রজাতি সত্তা ও বংশগতির নিয়ন্ত্রণ করে। কোষের অধিকাংশ DNA ক্রোমোজোমের উপাদান হিসেবে নিউক্লিয়াসে বিরাজ করে। অল্প পরিমাণের DNA মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড ও অন্যান্য সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুতেও থাকে। DNA গঠিত হয় ৫ কার্বন বিশিষ্ট ডি অক্সিরাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট, অ্যাডেনিন (adenine), গুয়ানিন (guanine), সাইটোসিন (cytosine) এবং থাইমিন (thymine) নামক নাইট্রোজেন বেস দিয়ে।
পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, DNA জীবকোষে বিদ্যমান বৃহৎ অণুর অন্তর্ভুক্ত। DNA অণুগুলোর আনবিক ওজন দুই বিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে। এ অণুগুলো দীর্ঘ পলিমার যা বহুসংখ্যক নিউক্লিওটাইড মনোমার দিয়ে গঠিত। প্রতিটি নিউক্লিওটাইড একটি নাইট্রোজেন ক্ষারক, শর্করা ও ফসফরিক এসিড দিয়ে গঠিত। DNA অণুতে বিদ্যমান নাইট্রোজেন ক্ষারকগুলো হলো পিউরিন (অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন) এবং পাইরিমিডিন (সাইটোসিন ও থাইমিন)।
DNA এর গঠন আবিস্কারকারী James Watson এবং Francis Crick ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিডের চার প্রকার মলিকুউল (AGCT) পিউরিন ও পাইরিমিডিন অবস্থানে কিভাবে জোড়া সংযোগে সজ্জিত থাকে তা একটি মডেল উপস্থাপন করে দেখান এবং এ মডেলের নাম দেন Double Helix (দ্বি-সূত্রাকার)। এ ডবল হেলিক্স মডেল অনুযায়ী, মলিকুউলগুলোতে দুটি DNA শিকল একে অপরের সঙ্গে পাকানো থাকে এবং শিকল দুটি সঠিক অর্থে বিপরীতমুখী বা বিপরীতমুখী সমান্তরাল (antiparallel)। এ বিজ্ঞানীদ্বয়ের মডেল অনুসারে, পিউরিন ও পাইরিমিডিনের ভিন্ন আকার ও আকৃতির ফলে ডবল হেলিক্স অণুতে এদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট রীতিতে জোড়া বন্ধন ঘটে। যথা (1) AT বা TA (২) GC বা CG এবং AT, CG, GC, TA এর ধারা শৃংখল জিন থেকে জিনে পরিবর্তিত হয়।
ওয়াটসন ও ক্রিক আরো প্রস্তাব করেন যে, দ্বি-সূত্রাকৃতির DNA পাকানো অবস্থায় থাকে, যা একটি হেলিক্যাল (Helical) গঠন তৈরি করে।
বায়োকেমিস্টরা চিন্তা করে দেখলেন যে, কৃত্রিম উপায়ে যদি ল্যাবরেটরিতে DNA প্রস্তুত করা যায় তাহলে ক্রোমোজোম তৈরি করা সহজ হবে। কিন্তু এ পরীক্ষা চালিয়ে তারা হতাশ হলেন। যে DNA তৈরি হলো তাতে প্রাণের সাড়া এল না। কারণ DNA এমন এক জটিল অণু যা অপত্য বংশধরে পরিবৃত্তি বা প্রকরণের (variation) উদ্ভব ঘটায়। তাই এটি কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা মানুষের পক্ষে অসাধ্য।
DNA কে বংশগতির প্রতিচিত্রের ধারক বলার কারণগুলো হচ্ছে, এটি কোষের বৃদ্ধি ও প্রজননের সময় নির্ভুল প্রতিলিপি সৃষ্টি করতে পারে। বংশগতিতে সকল প্রকার বৈশিষ্ট্য বহন করার ক্ষমতা এর আছে। এর গঠন কাঠামো অত্যন্ত স্থায়ী এবং বিশেষ কোন কারণ ছাড়া অত সহজে পরিবৃত্তি ঘটে না। সেজন্য দেখা যায় একজন মানুষের আঙ্গুলের চাপ আর একজনের সাথে কখনো মিলে না। কারণ আঙ্গুলের অগ্রভাগে যে রৈখিক বিন্যাস ফুটে উঠে তার প্রতিলিপি ধরা থাকে DNA এর মধ্যে। তাই DNA কে বলা হয় 'The Hereditary blueprint for life'।
অতএব মহামহিম আল্লাহ তাআলা DNA সম্পর্কে নিম্নোক্ত আয়াতে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন এসব তত্ত্ব আবিষ্কারের পূর্বে,
وَفِي خَلْقِكُمْ وَمَا يَبَتٌ مِنْ دَابَّةٍ ءَايَاتٌ لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ
And in your nature and in all the animals which He scatters (over the earth) there are signs for those of assured faith.
তোমাদের চরিত্র সত্তায় এবং পশুদের মধ্যে যা তিনি (পৃথিবীময়) ছড়িয়ে দিয়েছেন, এতে নিদর্শন সমূহ ইঙ্গিত করা হয়েছে বিশ্বাসকারীদের জন্য। (জাসিয়া-৪)
بَلَى قُدِرِينَ عَلَى أَنْ نُسَوّى بَنَانَهُ
Indeed, We have power to restore his very finger tips in perfect order.
নিশ্চয়, আমরা তার আঙ্গুলের অগ্রভাগ সঠিকভাবে প্রত্যার্পণ করার ক্ষমতা রাখি। (কিয়ামাহ-৪)
মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী সৃষ্টির জৈব উপাদান Sperm, ovum, জিন, Chromosome, DNA প্রভৃতি কোন বিজ্ঞানী ল্যাবরেটরিতে উৎপন্ন (Originate) করতে পারবে কি? আজ থেকে কিয়ামাত পর্যন্ত যত বিজ্ঞানী আসবে পৃথিবীতে, সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে যাবে। DNA সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেখুন পরিশিষ্ট ৮-এ।
أَفَرَيْتُمُ مَا تُمْنُونَ . أَنتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَلِقُونَ.
Do you see the Human Nutfah that you throw out? Is it you who create it or am I the creator?
আচ্ছা লক্ষ্য কর, যে নুৎফা (জনন কোষ) তোমরা নিক্ষেপ কর তা কি তোমরাই সৃষ্টি করেছ, নাকি আমিই তার স্রষ্টা? (ওয়াকিয়া-৫৮)
অতএব আল-কোরআনে আলোচ্য তত্ত্বগুলোর ইঙ্গিত করা হয়েছে ঐ সময়ে যখন বিজ্ঞানের বাতাস বিন্দুমাত্র প্রবাহিত হয়নি। বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের উন্নয়নের ফলে আমরা কোরআনের এসব আয়াতগুলোর কিছুটা মর্মার্থ বুঝতে সক্ষম হয়েছি এবং একথা সকলে উপলব্ধি করে থাকেন যে, আল্লাহপাক সীমাহীন জ্ঞানের অধিকারী। তাই আমাদের উচিত প্রজ্ঞাময় আল্লাহপাকের প্রতি সর্বদা অনুগত থাকা এবং নিয়মিত তাঁকে সেজদা করা।
প্রশ্ন: যথাযথ দলীল ও প্রমাণসহ জানতে চাই যে, আমার জন্য অপরিচিত বা পরনারীর সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করা বৈধ হবে কিনা, যখন আমি তার হাতের ওপর কোনো কিছু রেখে আড়াল করি? আর এ ক্ষেত্রে কম বয়স্কা নারীর বিধানের মতো-ই কি বেশি বয়স্কা নারীর বিধান হবে?
উত্তর: কোনো পুরুষ মানুষের জন্য এমন অপরিচিত নারীর সাথে মুসাফাহা করা বৈধ হবে না, যে নারী তার মাহরাম কেউ নন, চাই সে মুসাফাহা বা করমর্দন সরাসরি হউক অথবা কৌশলে কোনো কিছু দ্বারা আড়াল করার মাধ্যমেই হউক। কারণ, এটা ফিতনা বা বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ, আর আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا ﴾ [الاسراء: ٣٢]
"তোমরা ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেয়ো না, নিঃসন্দেহে এ হচ্ছে একটি অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ”। [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩২]
আর এ আয়াতটি নির্দেশ করে যে, এমন প্রত্যেকটি জিনিস আমাদের জন্য পরিহার করা আবশ্যক, যা যেনা ব্যভিচার পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়, চাই তা যৌনাঙ্গের ব্যভিচার হউক (আর এটা সবচেয়ে বড় যেনা), অথবা অন্য কোনো পর্যায়ের ব্যভিচার হউক। আর কোনো সন্দেহ নেই যে, পুরুষ কর্তৃক অপরিচিত নারীর হাত স্পর্শ করার ব্যাপারটি যৌনতাকে উস্কে দেয়, আর এ প্রসঙ্গে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে, যাতে ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে কঠিনভাবে হুমকি রয়েছে, যে ব্যক্তি এমন নারীর সাথে মুসাফাহা করে, যে নারী তার মাহরাম নন, আর এ ব্যাপারে যুবতী ও বৃদ্ধার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ, যেমন বলা হয়ে থাকে: (प्रत्येक পতিত বস্তুরই সংগ্রহকারী রয়েছে)। তাছাড়া বৃদ্ধা থেকে যুবতীর সীমারেখা বা পরিচয়ের বিষয়টি আপেক্ষিক, তাতে উপলব্ধির বিষয়টি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। কেননা একজন মনে করে যে, এ তো বৃদ্ধা।
আবার অন্যজন মনে করে যে, এ তো যুবতী।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-'উসাইমীন