📄 ভ্রূণের ক্রমবিকাশ
ভ্রূণের ক্রমবিকাশ
وَقَدْ خَلَقَكُمْ أَطْوَارًا .
And He who created you in diverse stage.
তিনি আল্লাহ, যিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন স্তর থেকে সৃষ্টি করেছেন। (নূহ-১৪)
মাতৃগর্ভে একটি মানব শিশু পরিপূর্ণতা লাভ করে স্তরের পর স্তর অতিক্রম করে। এটি এমন একটি জটিল প্রক্রিয়া যা সংঘটিত হয় দয়াময় আল্লাহপাকের রহমতের উপস্থিতিতে। মাতৃগর্ভে ভ্রূণ সৃষ্টি হওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ Sperm এবং Ovum থেকে শুধুমাত্র একটি Sperm এবং একটি Ovum প্রয়োজন। উভয় কোষের নিষেক হওয়া মাত্রই যে কোষটি গঠিত হয় তার নাম Zygote। জাইগোট জরায়ুতে (uterus) প্রতিস্থাপিত হওয়ার পর পিটুইটারি গ্রন্থি, ডিম্বাশয় এবং অমরা (placenta) নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে মাতৃদেহের পরিবর্তনগুলো ক্রমান্বয়ে বিকাশ লাভ করে এবং প্রতিস্থাপিত জাইগোট ক্লিভেজ প্রক্রিয়ায় দ্রুত বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন স্তরের সূচনা করে। ব্রিটিশ ভ্রূণতত্ত্ববিদ Von Baer, ১৮২৭ সালে ভ্রূণ বিকাশের স্তর (stage) গুলো আবিষ্কার করেন।
৭ম শতাব্দীতে অবতীর্ণ আল-কোরআন ভ্রূণ বিকাশের পর্যায়গুলো বিভিন্ন সূরায় খণ্ডিতভাবে বর্ণনা দিয়েছে। আবার সূরা মু’মিনুনের ১২-১৫ নং আয়াতে এ পর্যায়গুলো ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে উপস্থাপন করেছেন যা বিজ্ঞানসম্মতভাবে ধারাবাহিক সামঞ্জস্যতা বিধান করে।
নিম্নে আল-কোরআন এবং বিজ্ঞানে বর্ণিত ভ্রূণ সৃষ্টির পর্যায়গুলো পাশাপাশি সাজিয়ে দেখানো হলো,
আল-কোরআন বিজ্ঞান
১। সুলালাহ (সার নির্যাস) ১। Sperm (n) + Ovum (n) (প্রজনন কোষ)
২। নুৎফা (অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃষ্ট প্রজনন কোষ) ২। Zygote (নিষিক্ত কোষ)
৩। আলাক (জমাট রক্তপিণ্ড) ৩। Blastocyst (রক্তপিণ্ড)
৪। মুদগাহ (মাংসপিণ্ড) ৪। Somites (বহুকোষী মাংসপিণ্ড)
৫। ইযাম (অস্থি) ৫। Skeleton (কঙ্কাল বা অস্থি তন্ত্র)
৬। লাহম (মাংসপেশী) ৬। Muscles (মাংসপেশী)
৭। রূহ (প্রাণ) ৭। Foetus (মানব শিশু)
وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ طِينٍ . ثُمَّ جَعَلْنَهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِينٍ . ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ।
Verily, We created man from the best extraction from clay, then We placed him as a nutfah (zygote) in a safe custody (uterus) firmly fixed, then out of that nutfah, We created blastocyst (Alaq-a leech like substance), then that blastocyst, We made somites (Mudgha-a chewed like mass), then that We made out of that Somites the skeleton (izam) and clothed the Skeleton with muscles (Lahm); then We developed it into a different shape (Human baby). So, blessed be Allah the best of the creators.
প্রকৃতপক্ষে, আমরা মানুষ সৃষ্টি করেছি মাটির সার নির্যাস থেকে। পরে তা নুৎফা (জাইগোট) রূপে একটি সুরক্ষিত আধারে (জরায়ু) স্থাপন করেছি। অতঃপর তা জমাট রক্তপিণ্ডে (জোঁক সদৃশ বস্তু) রূপান্তর করে লটকে দিয়েছি। তারপর লটকে যাওয়া রক্তপিণ্ডকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করেছি। এরপর তাকে অস্থি বানিয়েছি। তারপর অস্থির উপর মাংসপেশী জড়িয়ে দিয়েছি। অবশেষে তাকে একটি ভিন্ন রূপ (পূর্ণশিশু) দান করেছি। সুতরাং তিনি মহামহিম আল্লাহ তা'আলা যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মহান স্রষ্টা। (মু'মিনুন-১২-১৫)
১. সুলালাহ্-----sperm+ovum (n+n)
আল কোরআনে প্রথম পর্যায়কে বলা হয়েছে মাটির সার নির্যাস (سلالة من طين) অর্থাৎ মাটির সার নির্যাস থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা হয়। তাহলে মাটির সার নির্যাস কি?
মাটির সার নির্যাস হচ্ছে সোডিয়াম (Na), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), পটাসিয়াম (k), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (02), নাইট্রোজেন (N₂) ইত্যাদি। বৃক্ষরাজি এবং ক্ষেতের ফসল মূলের সাহায্যে এগুলো চুষে নেয়। তারপর বৃক্ষফল (আম, কাঁঠাল, আপেল, আঙ্গুর, কলা) দেয়। ক্ষেতে ফসল (ধান, গম, ভুট্টা, যব) উৎপন্ন হয়। ফল এবং ফসলগুলো মানুষ খাদ্য রূপে গ্রহণ করার পর পাকস্থলিতে ডাইজেস্ট হয়। ডাইজেস্টিভ খাদ্যের সার নির্যাস থেকে জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পুরুষের শুক্রাশয়ে (testes) উৎপন্ন হয় Spermatozoon এবং নারীর ডিম্বাশয়ে (ovary) উৎপন্ন হয় Ovum। অতঃপর Spermatozoon এবং Ovum এর নিষেক থেকে সৃষ্টি হয় Zygote। জাইগোট জরায়ুতে (uterus) স্থানান্তরিত হয়ে ভ্রূণ (embryo) গঠন করে। আর এ ভ্রূণ ক্রমান্বয়ে রূপান্তরের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ মানুষ সৃষ্টি হয়।
সুতরাং 'সুলালাহ' হচ্ছে মানুষ তৈরির বেসিক উপাদান যা থেকে মানুষ সৃষ্টির মলিকিউল আহরিত হয়। অর্থাৎ পিতা মাতার পুষ্টির প্রয়োজনে মাটির সার নির্যাস থেকে যেসব উপাদান সংগৃহীত হয় সেসব উপাদান থেকে নুৎফা তৈরি হয়।
২. নুৎফা ...... জাইগোট
আরবী 'নুৎফা' শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দৃষ্ট অতি সূক্ষ্ম জনন কোষ। Sperm এবং Ovum উভয় অর্থে নুৎফা শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আবার Sperm এবং Ovum এর নিষেকের ফলে গঠিত কোষ, জাইগোটকেও কোরআনে নুৎফা বলা হয়েছে এবং এক্ষেত্রে নুৎফা শব্দের পরে 'আমসাজ' (أَمْشَاج) শব্দটি এসেছে। জাইগোট গঠনের ২৪ ঘণ্টার পর তা বাচ্চাথলির দেয়ালে ঘেরা প্রকোষ্ঠে স্থান লাভ করে এবং ২টি, ৪টি, ৮টি এভাবে ক্রমান্বয়ে বিভাজন হতে থাকে। এটাকে বলা হয় Morula।
৩। আলাক....... ব্লাস্টোসিস্ট
আলাক অর্থ জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ড। বিজ্ঞানে বলা হয় Blastocyst। এটি দেখতে জোঁকের মতো (Leech like substance), একটি জোঁক রক্ত চুষে নিয়ে যে রূপ ধারণ করে আলাক সে রকম একটি বস্তু। ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে আলাক জোঁক সদৃশ রূপ লাভ করে। এর মধ্যে থাকে মাথার সম্মুখভাগের উন্নত অংশ। এ পর্যায়ে হৃৎপিণ্ড অর্থাৎ Cardiovascular system এর উন্নয়ন ঘটে এবং ভ্রূণটি পুষ্টির জন্য তার মাতৃ রক্তের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে ১৫-১৬ দিনের মাথায় আলাক বাচ্চাদানির দেয়ালে ঝুলন্ত দেহবস্তুর মতো ঝুলে থাকে। তাই আরবী আলাক শব্দের তিনটি অর্থ বিজ্ঞানসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এক- জমাট রক্তপিণ্ড, দুই- জোঁক সদৃশ বস্তু এবং তিন- ঝুলন্ত দেহবস্তু।
৪। মুদগাহ....... সোমাইটস
আরবী 'মুদগাহ' শব্দের অর্থ মাংসপিণ্ড। বিজ্ঞানে এটাকে Somites বলা হয়। ব্লাস্টোসিস্ট এর বাইরের স্তর ট্রফোব্লাস্ট নিঃসৃত এনজাইমের প্রভাবে প্রাচীর কলা (Tissue) বিগলিত হলে ব্লাস্টোসিস্ট নিমজ্জিত হয়। যার ফলে Blastocyst সোমাইটস-এ পরিণত হয়। কোরআনে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে মুদগাহ। এ প্রক্রিয়া অন্তত ২০-৪২ দিন পর্যন্ত চলে। মুদগাহ অবস্থায় ভ্রূণকে প্রকৃতপক্ষে চর্বন বস্তুর মতো (chewed like substance) দেখায়। তখন ১৩টি খাঁজকাটা মাংসপিণ্ডের ব্লক ভ্রূণের শিরদাঁড়ায় সাজানো থাকে যেগুলোকে বলা হয় 'মেসোডার্মাল সেগমেন্ট (mesodermal segments)।
৫। ইযাম....... স্কেলেটন
ইজাম অর্থ অস্থি বা কঙ্কাল। বিজ্ঞানে এটাকে Skeleton বলা হয়েছে। এ পর্যায়ে প্রথমে যে অস্থিগুলো দেখা দেয় সেগুলো হচ্ছে উপরিভাগের কচি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। প্রাথমিক ৬ সপ্তাহে কচি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মেসেনকাইমাল টিস্যুগুলো (mesenchymal tissue) কোমল অস্থিতে পরিণত হয়ে ভবিষ্যৎ অস্থির স্বচ্ছ মডেল গঠন করে। ৬ সপ্তাহের শেষের দিকে উপরের দিকের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কঙ্কালের পূর্ণাঙ্গ কোমল মডেল প্রদর্শন করে। ১২ সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণের একটি ক্ষুদ্র পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল গঠিত হয়। মানব কঙ্কালে মোট ৩৬০টি জোড়া থাকে। এ স্তরে ৩৬০টি জোড়া সমৃদ্ধ কঙ্কালতন্ত্র সম্পূর্ণ হতে ১২ সপ্তাহ সময় লাগে। মানব কঙ্কাল মোট ২০৬টি হাড় দ্বারা গঠিত।
৬। লাহম....... মাসলস্
লাহম অর্থ মাংসপেশী। বিজ্ঞানে এটাকে Muscles stage বলা হয়। ৭ম সপ্তাহ থেকে কঙ্কালতন্ত্র বিস্তার লাভ করে এবং অস্থিগুলো যথাযথ আকার ধারণ করে। ৮ম সপ্তাহ থেকে অস্থির চারপাশে পেশীগুলো আবৃত হতে থাকে। ৮ম সপ্তাহ শেষ হলে নির্দিষ্ট পেশীতন্ত্র, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং মাথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ সময় ভ্রূণটি নড়াচড়া করতে সক্ষম হয়।
৭। রূহ....... ফিটাস
এটা সর্বশেষ স্তর। এ স্তরে মানব শিশু পরিপূর্ণতা লাভ করে। আরবী 'খালকান আখরা' অর্থ ভিন্ন আকার। গর্ভে থাকার পূর্ণ সময় পরে শিশু ভূমিষ্ঠ হয় অর্থাৎ আল্লাহপাকের ইচ্ছানুযায়ী শিশুটি আপন অস্তিত্বে মূর্ত হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানে এ পর্যায়কে Foetus বলা হয়েছে। Foetus অর্থ- "Miniature human baby"
Height/weight
30.00
20.00
10.00
0.00
60 80 100 120 140 160 180 200
Age in days
Development of Human Foetus in the uterus
height in cm.
weight in oz.
فَإِنَّا خَلَقْنَكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِنُبَيِّنَ لَكُمْ.
Then surely We created you from dust, then from Nutfah, then from a leech like clot (Alaq), then from a chewed like mass (Mudgah), partly formed and partly unformed so that We made our power manifest to you.
অবশ্যই আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে। তারপর প্রজনন কোষ থেকে। তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে, যা কিছুটা আকৃতি প্রাপ্ত হয় কিছুটা আকৃতি বিহীন। যেন আমাদের ক্ষমতা তোমাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে। (হজ্ব-৫)
هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًا.
It is He Who created you from earth, then from sperm and ovum (nutfah), then from blastocyst (Alaq), then does He get out as a child.
তিনি আল্লাহ যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নুৎফা থেকে, অতঃপর তোমাদের বের করেন একটি পরিপূর্ণ মানব শিশু রূপে। (মু'মিন-৬৭)
আধুনিক ভ্রূণতত্ত্ববিদগণ নিবিড়ভাবে ভ্রূণ বিকাশের পর্যায়গুলো পর্যবেক্ষণ করে আবিষ্কার করেন যে, প্রতিটি স্তর তিনটি পর্দা (Veils) দ্বারা সুরক্ষিত এবং এ সব আবরণী ভ্রূণকে শারীরিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে। বিজ্ঞানে পর্দাগুলো যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা নিম্নরূপ:
১। জাইগোট আবরণী: (a) Corona radiata (b) Uterine wall (c) Abdominal Wall.
২। ব্লাস্টোসিস্ট আবরণী: (a) Placental membrane (b) Uterine wall (c) Abdominal wall.
৩। ফিটাস আবরণী: (a) Amnion (b) Chorion (c) Trophoblast.
বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিষ্কার এ পর্দা বা আবরণী সম্পর্কে আল-কোরআন বলেছে,
يَخْلُقُكُمْ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ خَلْقًا مِّنْ بَعْدِ خَلْقٍ فِي ظُلُمَاتٍ ثَلَاثٍ
He Created you in the wombs of your mother from one stage to another always in three Veils of darkness.
আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাতৃগর্ভে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে তিনটি গাঢ় পর্দার ভেতর থেকে। (যুমার-৬)
Some Anatomists do, however, differ; they say the Quranic verse might have meant as follows:
১। The three veils of a secondary Oocyte are: a) The corona radiata b) The Zona pellucida c) The Uterine wall.
২। The three veils of Uterine wall are: a) The perimetrium b) The myometrium c) The endometrium
৩। The three veils of endometrium are: a) The basal layer b) The mid-spongy layer c) The compact layer.
দেখা যাচ্ছে প্রতিটি স্তরে তিন ধরনের কুশলী আবরণী বা পর্দা (veil) রয়েছে, যেগুলো ভ্রূণকে নিরাপদ সংরক্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। উপরোক্ত আয়াতে বিভিন্ন স্তরে তিন প্রকার সুদৃঢ় পর্দার (Three veils) ধারণা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রশ্ন: কেন ইসলাম মাহরাম নন এমন পুরুষের সঙ্গে নারীদেরকে মুসাফাহ করতে নিষেধ করেছে? আর যে ব্যক্তি কামভাব ব্যতিরেকে (তার স্ত্রীর সাথে) মুসাফাহ করে তার অযু ভঙ্গ হয়ে যাবে কিনা?
উত্তর: ইসলাম এটাকে নিষিদ্ধ করেছে। কারণ, এটা একটা বড় ধরনের ফিতনা যে, একজন পুরুষ তার মাহরাম নন এমন একজন নারীর শরীর স্পর্শ করবে, আর ফিতনার উপলক্ষ বা কারণ এমন প্রতিটি বস্তু বা বিষয়কে ইসলাম নিষেধ করেছে, আর এ জন্যই শরী'আত এ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী কাজটিকে প্রতিরোধ করার জন্য দৃষ্টিকে অবনমিত রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। আর যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে স্পর্শ করবে, তার সে স্পর্শ দ্বারা তার অযু নষ্ট হবে না, এমনকি যদিও তার স্পর্শ করার কাজটি কামভাবসহ হয়ে থাকে; তবে যখন এ স্পর্শের কারণে মযী (বীর্যের মতো পাতলা পানি) অথবা মনী (বীর্য) বের হয়ে যায়, তখন মনী (বীর্য) হলে গোসল করা আবশ্যক হয়ে যাবে এবং 'মযী' হলে যৌনাঙ্গ ধৌত করার সাথে সাথে অযু করা আবশ্যক হবে।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-'উসাইমীন
📄 Chromosome
Chromosome
১৮৭৯ সালে W. Flemming কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতর অবস্থিত অতি সূক্ষ্ম সূতার মত এক প্রকার বস্তুর সন্ধান পান এবং এদের নাম দেন ক্রোমাটিক (Chromatic)। এরপর ১৮৮৮ সালে W. Waldeyer এর নামকরণ করেন ক্রোমোজোম (Chromosome)। পরে বিজ্ঞানীরা অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন যে, এদের গঠন অত্যন্ত জটিল। দু'ধরনের নিউক্লিক এসিড যথা, DNA ও RNA এবং দু'ধরনের প্রোটিন, হিসটোন (Histone) ও ক্রোমোজোমিন (Chromosomin) দ্বারা ক্রোমোজোম গঠিত।
ক্রোমোজোম বংশগতির উপাদান বা জিন (gene) বহনকারী কোষের অন্যতম অঙ্গাণু। ক্রোমোজোমে জিন উপাদানের অবস্থান তার ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিডে (DNA) সারিবদ্ধ হয়ে থাকা এ উপাদান এসিড-প্রোটিন এবং বেসিক-প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সুতার মত এক জটিল নিউক্লিয় প্রোটিনের গঠন তৈরী করে। উদ্ভিদ এবং প্রাণীর সব প্রকৃত কোষে নিউক্লিয়াসের মধ্যে ক্রোমোজোম থাকে। তবে দেহকোষ মাইটোসিস অথবা জনন কোষ মিওসিস বিভাজনের সময় যখন তারা সংকুচিত হয় এবং নিউক্লিয়াসের আবরণী অদৃশ্য হয়ে যায় কেবল তখনই অণুবীক্ষণ যন্ত্রে তাদের চোখে পড়ে। এ সময় তাদের নিরেট, দ্বিখন্ডিত বিভক্ত দন্ডের মতো গঠন বলে মনে হয় এবং প্রত্যেক ক্রোমাটিড (Chromatid) নামে দু'টি হুবহু একই রকমের সমান্তরাল অংশ নিয়ে গঠিত থাকে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমোজোমে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে একটি প্রাথমিক সংকোচন (primary constriction) থাকে। একে সেন্ট্রোমিয়ার (Centromere) অথবা কাইনেটোকোর (kinetochore) বলা হয়। কোষ বিভাজনের সময় এ অংশের মাধ্যমে ক্রোমোজোমের অর্ধাংশ দু'টি স্পিন্ডল ফাইবারের (Spindle fibre) সঙ্গে যুক্ত হয়ে আলাদা হয়ে যায়।
পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী বসবাস করে। একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির ক্ষেত্রে ক্রোমোজোমের সংখ্যাও নির্দিষ্ট থাকে। Sperm এবং Ovum-এ দু'ধরনের জনন কোষের Chromosome সংখ্যা অর্ধেক হয় বলে একে হ্যাপ্লয়েড সেট (haploid set=n) বলা হয়। প্রত্যেক মানুষের দেহ কোষে (somatic cell) ৪৬টি বা ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। শিশুর জীবনের প্রথম কোষে (জাইগোট) ২৩টি আসে sperm থেকে এবং অন্য ২৩টি আসে Ovum থেকে। ২৩ জোড়া Chromosome এর মধ্যে ছেলে মেয়ে সকলের ক্ষেত্রে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমের আকার ও কাজ করার ক্ষমতা এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ এরা দেহজ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এদের বলা হয় দেহ ক্রোমোজোম (autosome)। বাকী এক জোড়া অর্থাৎ ২৩ তম ক্রোমোজোমকে বলা হয় যৌন ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম (sex chromosome), যা যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। যৌন ক্রোমোজোম আবার দু'রকম। মেল ক্রোমোজোম এবং ফিমেল ক্রোমোজোম। মেল ক্রোমোজোমকে চিহ্নিত করা হয়েছে 'Y' দ্বারা এবং ফিমেল ক্রোমোজোমকে চিহ্নিত করা হয়েছে 'X' দ্বারা। তাই মেয়েদের যৌন ক্রোমোজোমের সাংকেতিক চিহ্ন ‘XX’ কিন্তু ছেলেদের যৌন ক্রোমোজোমের জোড়ায় থাকে একটি ‘X’ অপরটি ‘Y’। তাই ছেলেদের যৌন ক্রোমোজোমের সাংকেতিক চিহ্ন ‘XY’। এ যৌন ক্রোমোজোম দিয়ে ছেলে মেয়েদের মধ্যে আকৃতিগত ও শারীরিক বৃত্তীয় পার্থক্য নির্দিষ্ট হয়।
মানব শিশু জন্ম নেয় পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্য নিয়ে যা ক্রোমোজোমে ধরা থাকে। বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি অনুসন্ধান করতে গিয়ে এ তত্ত্ব আবিষ্কার হয়।
অতএব, ক্রোমোজোমের যুগল সত্তার প্রতি ইঙ্গিত করে আল-কোরআন বলছে, وَإِنَّهُ خَلَقَ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى مِنْ نُّطْفَةٍ إِذَا تُمْنَى ، وَإِنَّ عَلَيْهِ الْإِنْشَاءَ الأَخَرَ
And that He created the pairs of male and female in the Nutfah when it is emitted forth and it is for Him to bring forth the second creation.
আর তিনি নুৎফার মধ্যে পুরুষ এবং স্ত্রীলিঙ্গ জোড়া সৃষ্টি করেছেন যখন এটা স্খলিত হয় এবং দ্বিতীয় সৃষ্টি প্রবর্তন করা তাঁরই দায়িত্ব। (নাজম-৪৫)
এখানে ‘যাওজাইনিজ জাকারা ওয়াল উনথা’ আয়াতাংশ দ্বারা জোড়া ক্রোমোজোম ‘X’ ও ‘Y’ সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে এটা একেবারেই স্পষ্ট।
وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ جَعَلَكُمْ أَزْوَاجًا
Allah created you from dust, then from nutfah, then He makes you in pairs.
আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নুৎফা থেকে, তারপর জোড়া করে। (ফাতির-১১)
এ জোড়া এক রহস্যময় বিষয়। Chromosome এ রয়েছে জোড়া, নিউক্লিক এসিডে (DNA / RNA) রয়েছে জোড়া। প্রোটিনে রয়েছে জোড়া। ক্রোমোজোম সংক্রান্ত বিশদ আলোচনা দেখুন পরিশিষ্ট ৫-এ।
প্রশ্ন: স্বামীর ভাইদের জন্য তাদের ভাইয়ের বউ তথা ভাবির সাথে স্বাভাবিক পরিবেশে মুসাফাহ (করমর্দন) করা বৈধ হবে কি, আর এটা সাধারণত হয়ে থাকে পিতামাতা ও ভাই-বোনের উপস্থিতিতে ঈদ বা অনুরূপ কোনো অনুষ্ঠানকে উপলক্ষ করে?
উত্তর: স্বামীর ভাই অথবা তার চাচা অথবা মামা অথবা তার চাচার ছেলেদের জন্য তাদের ভাইয়ের বউ (ভাবি) অথবা তাদের মামী বা চাচীসহ সকল অপরিচিত মহিলার সাথে মুসাফাহ করা বৈধ নয়। কারণ, ভাই তার ভাবির জন্য মাহরাম নন, অনুরূপভাবে চাচা তার ভাতিজা বউয়ের জন্য মাহরাম নন, অনুরূপভাবে মামা তার ভাগিনা বউয়ের জন্য মাহরাম নন, অনুরূপভাবে চাচার ছেলেরা তাদের চাচাতো ভাইয়ের বউয়ের জন্য মাহরাম নয়। আর তাদের সাথে করমর্দন বৈধ না হওয়ার কারণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, তিনি বলেন:
"আমি নারীদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করি না।"36
আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহ 'আনহা বলেন: إِنِّي لَا أُصَافِحُ النِّسَاءَ».
مَا مَسَّتْ يَدُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ، مَا كَانَ يُبَايِعُهُنَّ إِلَّا بِالْكَلَامِ».
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত কখনও কোনো নারীর হাত স্পর্শ করে নি, তিনি শুধু কথা বলার মাধ্যমেই তাদেরকে 'বায়'আত' করাতেন।"37
তাছাড়া অপরিচিত নারীদের সাথে মুসাফাহ করাটা কখনও কখনও তাদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার মতো বা আরও প্রকটভাবে তাদের সাথে ফিতনা সৃষ্টির কারণ হিসেবে ভূমিকা পালন করে। তবে তারা যদি বোন, ফুফু, পিতার স্ত্রী (সৎ মা), পুত্রবধুর মতো মাহরাম কেউ হন, তাহলে তাদের সাথে মুসাফাহা করাটা দোষের নয়। আর সঠিক ফতোয়া দেওয়ার তাওফীক দানের মালিক হলেন আল্লাহ তা'আলা।
শাইখ আবদুল 'আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায
টিকাঃ
³⁶ ইবনু মাজাহ, হাদীস নং- ২৮৭৪, আহমাদ, মুসনাদ, হাদীস নং- ২৭০০৮
³⁷ সহীহ বুখারী ও মুসলিম。
📄 জিন তত্ত্ব
জিনতত্ত্ব (Genetics)
কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত অতি সূক্ষ্ম সুতার মত যুগল ক্রোমোজোমের কথা আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি। Chromosome বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় জিন (Gene) নামের এক প্রকার এজেন্ট যা DNA (ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) দ্বারা গঠিত।
জিন বংশগতির নিয়ন্ত্রণকারী ন্যূনতম একক। প্রতিটি জীবের বৈশিষ্ট্যাবলী জিনের মাধ্যমেই বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে থাকে অর্থাৎ জিনই হলো বংশগতির একমাত্র ধারক ও বাহক। বংশগতি বিদ্যার জনক গ্রেগর মেন্ডেলের মতে জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য একটি করে ফ্যাক্টর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। এ ফ্যাক্টরকেই ১৯০৩ সালে জোহানসেন Gene নামে অভিহিত করেন। তাই মেন্ডেলের দেয়া নাম ফ্যাক্টর এখনকার জিন সমার্থক বলে বিবেচনা করা হয়।
পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, একটি ক্রোমোজোমে অসংখ্য জিন থাকে এবং এ জিনগুলি একটি বিশেষ রীতিতে বিন্যস্ত থাকে। প্রতিটি জিন একটি নির্দিষ্ট ক্রোমোজোমে একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে। ঐ নির্দিষ্ট স্থানকে জিনের লোকাস (Locus) বলে। যা পরিবর্তিত হয় না। একজোড়া প্রতিরূপ (homologous) ক্রোমোজোমে লোকাসের স্থান নির্দিষ্ট। প্রতিটি লোকাসে এক বা একাধিক কার্যকরী একক থাকতে পারে এবং প্রতিটি একক একটি জিন হিসেবে কাজ করে। ক্রোমোজোমের লোকাসে অবস্থিত যে কোন কার্যকরী একক, যাতে Recombination সম্ভব ও যা মিউটেশনে অংশ নিতে পারে তা-ই জিন। আধুনিক ধারণায় ক্রোমোজোমের যে অংশটি পলিপেপটাইড উৎপাদনে সংকেত বহন করে সেটাই জিন। ক্রোমোজোমের একমাত্র স্থায়ী রাসায়নিক পদার্থ হলো DNA।
সুতরাং DNA-ই বংশগতির প্রতিনিধি ও রাসায়নিক ভিত্তি এবং সরাসরি পিতামাতার বৈশিষ্ট্য তার সন্তান-সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যায়। একটি ক্রোমোজোমে জিনগুলি পরপর একটি সারিতে সাজানো থাকে। মানব দেহে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমে জিনের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।
জিনের তাত্ত্বিক ব্যবহার আজকাল উদ্ভিদ জগতে, শস্য জগতে এবং প্রাণী জগতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কেননা এর গুণগত মানে পরিবর্তন ঘটিয়ে কম সময়ে বৃদ্ধি শীল এবং অধিক ফলনশীল ফসল উৎপাদন করা যায়। আবার জিনের মাধ্যমে হাঁস, মুরগী, গো-মেষ প্রভৃতি প্রাণীর উন্নত প্রজাতির প্রজন্ম সৃষ্টি ছাড়াও জিন ক্লোনিং করে এসব প্রাণীর প্রতিরূপ সৃষ্টির কাজে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা সফলকাম হয়েছেন। পৃথিবীর মানুষকে খাদ্যাভাব রোগ ব্যাধি থেকে মুক্তি তথা প্রজাতি রক্ষায় জিনতত্ত্ব আশীর্বাদ স্বরূপ প্রমাণিত হয়েছে। জিনগত প্রকৌশল (genetic engineering) প্রয়োগ করে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রোগ ব্যাধি যথা হাঁপানী, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন প্রভৃতি নির্মূল করে একটি সুস্থ পৃথিবী গড়ে তুলতে এখন সবাই সচেষ্ট হয়েছে। জিন (Gene) বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক আর বাহক। অন্যান্য বংশগত বৈশিষ্ট্য সহ চেহারার প্রতিচ্ছবি, গায়ের রং, চোখ ও চুলের রং, উচ্চতার পরিমাণ এবং অঙ্গভঙ্গির উপস্থাপনা জিনের মধ্যে বিদ্যমান। বংশ পরম্পরায় এসব বৈশিষ্ট্য একজন থেকে আর এক জনের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়।
Gene দু'ধরনের হয়ে থাকে। প্রকট জিন (dominant gene) এবং প্রচ্ছন্ন জিন (recessive gene)। যদি পিতার Dominant gene সন্তানের মধ্যে স্থানান্তরিত হয় তাহলে সন্তানটি হুবহু পিতার মত হয়। তাই মানুষ মন্তব্য করে "The boy takes after his father"। আর যখন মায়ের DG শিশুর মধ্যে স্থানান্তরিত হয় তখন শিশুটি মায়ের মত হয়। আবার পিতা-মাতার প্রচ্ছন্ন জিন (recessive gene) শিশুর মধ্যে প্রকাশিত হলে শিশু পিতা-মাতা কারোর মতই হয় না। পরিশিষ্ট ৬-এ জিনতত্ত্বের উপর বিশদ আলোচনা করা হয়েছে এবং বিজ্ঞানময় গ্রন্থ আল-কোরআন Gene সম্পর্কে যে ধারণা পেশ করেছে তা হচ্ছে,
مِنْ نُّطْفَةٍ خَلَقَهُ فَقَدَرَةً.
Of a nutfah He (Allah) creates him and then decrees his fate.
একটি নুৎফা থেকে আল্লাহ তাকে (মানুষকে) সৃষ্টি করেছেন এবং তার শরীর বৃত্তীয় পরিণতি নির্ধারণ করেছেন।
আরবী 'ফাকাদ্দারাহ' শব্দের অর্থ হচ্ছে- পরিণতি স্বরূপ ঘটা, To become, To grow into, মানসিক ও শরীর বৃত্তীয় সাদৃশ্যের উদ্ভব হওয়া। বলাবাহুল্য এসব বৈশিষ্ট্য জিনের মধ্যে ধরা থাকে। কোন কোন অনুবাদ গ্রন্থে 'ফাকাদ্দারাহ' শব্দের অনুবাদ করা হয়েছে যথাযথ, পরিণতি, পরিমিত। এসব অর্থও জীন তত্ত্বের সমার্থক।
وَجَعَلَ لَكُمْ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا . وَمِنَ الْأَنْعَامِ أَزْوَاجًا
He has made for you pairs among yourselves and pairs among cattle. This is the means by which He multiples you.
তিনি তোমাদের মধ্যে জোড়া তৈরী করেছেন, পশুদের মধ্যেও করেছেন জোড়া ভিত্তিক নিদর্শন যাতে করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সম্প্রসারিত হয়।
هُوَ الَّذِي يُصَوِّرُكُمْ فِي الْأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَاءُ . لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الحكيم.
He it is Who fashions you in the wombs as He pleases, there is no creator except Him, the Exalted.. the Wise.
তিনি সে-ই মহান সত্তা যিনি মাতৃগর্ভে তোমাদের আকৃতি গঠন করেন যেমন তিনি ইচ্ছা করেন। আল্লাহ ছাড়া আর কোন স্রষ্টা নেই, তিনি প্রবল পরাক্রান্ত-প্রজ্ঞাময়।
মহান আল্লাহ জোড়া সৃষ্টি করেছেন নুৎফার মধ্যে ক্রোমোজোমের মধ্যে এবং জিনের মধ্যে। অনুরূপভাবে পশু-পাখিদের মধ্যেও করেছেন জোড়াভিত্তিক নিদর্শন। অধিকন্তু Gene সৃষ্টি করে এর গুণগত মান পরিবর্তনশীল করেছেন যাতে করে প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং বংশ পরম্পরায় বংশগত বৈশিষ্ট্য অব্যাহত থাকে।
প্রশ্ন: কোনো কোনো পুরুষ কোনো কোনো নিকটাত্মীয় নারীর সাথে মুসাফাহ করতে বাধ্য হয়, অথচ তারা ঐ পুরুষ ব্যক্তির মাহরাম কেউ নন, বরং আত্মীয় ও প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে এরূপ করে থাকে; সুতরাং এর বিধান কী হবে? এ এক্ষত্রে পর্দা করার উদ্দেশ্যে নারী যদি তার হাতের উপর কাপড়ের টুকরা রাখে তাহলে তা যথেষ্ট হবে কি?
উত্তর: পুরুষ কর্তৃক অপরিচিত বা মাহরাম নন এমন নারীর সাথে মুসাফাহা করা বৈধ নয়, যদিও মুসাফাহা করার সময় সে নারীর হাতের উপর কাপড়ের টুকরা রাখা হউক না কেন।
وَصَلَّى اللهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّم .
(আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর)।
স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড
📄 DNA (Deoxyribonucleic acid)
DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড)
DNA জীবকোষের নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান ক্রোমোজোমের একমাত্র স্থায়ী প্রাণরাসায়নিক যৌগ হলো Deoxyribonucleic Acid বা DNA। এটি ক্রোমোজোম তথা জিনের সাংগঠনিক উপাদানরূপে জীবনের প্রজাতি সত্তা ও বংশগতির নিয়ন্ত্রণ করে। কোষের অধিকাংশ DNA ক্রোমোজোমের উপাদান হিসেবে নিউক্লিয়াসে বিরাজ করে। অল্প পরিমাণের DNA মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড ও অন্যান্য সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুতেও থাকে। DNA গঠিত হয় ৫ কার্বন বিশিষ্ট ডি অক্সিরাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট, অ্যাডেনিন (adenine), গুয়ানিন (guanine), সাইটোসিন (cytosine) এবং থাইমিন (thymine) নামক নাইট্রোজেন বেস দিয়ে।
পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, DNA জীবকোষে বিদ্যমান বৃহৎ অণুর অন্তর্ভুক্ত। DNA অণুগুলোর আনবিক ওজন দুই বিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে। এ অণুগুলো দীর্ঘ পলিমার যা বহুসংখ্যক নিউক্লিওটাইড মনোমার দিয়ে গঠিত। প্রতিটি নিউক্লিওটাইড একটি নাইট্রোজেন ক্ষারক, শর্করা ও ফসফরিক এসিড দিয়ে গঠিত। DNA অণুতে বিদ্যমান নাইট্রোজেন ক্ষারকগুলো হলো পিউরিন (অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন) এবং পাইরিমিডিন (সাইটোসিন ও থাইমিন)।
DNA এর গঠন আবিস্কারকারী James Watson এবং Francis Crick ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিডের চার প্রকার মলিকুউল (AGCT) পিউরিন ও পাইরিমিডিন অবস্থানে কিভাবে জোড়া সংযোগে সজ্জিত থাকে তা একটি মডেল উপস্থাপন করে দেখান এবং এ মডেলের নাম দেন Double Helix (দ্বি-সূত্রাকার)। এ ডবল হেলিক্স মডেল অনুযায়ী, মলিকুউলগুলোতে দুটি DNA শিকল একে অপরের সঙ্গে পাকানো থাকে এবং শিকল দুটি সঠিক অর্থে বিপরীতমুখী বা বিপরীতমুখী সমান্তরাল (antiparallel)। এ বিজ্ঞানীদ্বয়ের মডেল অনুসারে, পিউরিন ও পাইরিমিডিনের ভিন্ন আকার ও আকৃতির ফলে ডবল হেলিক্স অণুতে এদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট রীতিতে জোড়া বন্ধন ঘটে। যথা (1) AT বা TA (২) GC বা CG এবং AT, CG, GC, TA এর ধারা শৃংখল জিন থেকে জিনে পরিবর্তিত হয়।
ওয়াটসন ও ক্রিক আরো প্রস্তাব করেন যে, দ্বি-সূত্রাকৃতির DNA পাকানো অবস্থায় থাকে, যা একটি হেলিক্যাল (Helical) গঠন তৈরি করে।
বায়োকেমিস্টরা চিন্তা করে দেখলেন যে, কৃত্রিম উপায়ে যদি ল্যাবরেটরিতে DNA প্রস্তুত করা যায় তাহলে ক্রোমোজোম তৈরি করা সহজ হবে। কিন্তু এ পরীক্ষা চালিয়ে তারা হতাশ হলেন। যে DNA তৈরি হলো তাতে প্রাণের সাড়া এল না। কারণ DNA এমন এক জটিল অণু যা অপত্য বংশধরে পরিবৃত্তি বা প্রকরণের (variation) উদ্ভব ঘটায়। তাই এটি কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা মানুষের পক্ষে অসাধ্য।
DNA কে বংশগতির প্রতিচিত্রের ধারক বলার কারণগুলো হচ্ছে, এটি কোষের বৃদ্ধি ও প্রজননের সময় নির্ভুল প্রতিলিপি সৃষ্টি করতে পারে। বংশগতিতে সকল প্রকার বৈশিষ্ট্য বহন করার ক্ষমতা এর আছে। এর গঠন কাঠামো অত্যন্ত স্থায়ী এবং বিশেষ কোন কারণ ছাড়া অত সহজে পরিবৃত্তি ঘটে না। সেজন্য দেখা যায় একজন মানুষের আঙ্গুলের চাপ আর একজনের সাথে কখনো মিলে না। কারণ আঙ্গুলের অগ্রভাগে যে রৈখিক বিন্যাস ফুটে উঠে তার প্রতিলিপি ধরা থাকে DNA এর মধ্যে। তাই DNA কে বলা হয় 'The Hereditary blueprint for life'।
অতএব মহামহিম আল্লাহ তাআলা DNA সম্পর্কে নিম্নোক্ত আয়াতে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন এসব তত্ত্ব আবিষ্কারের পূর্বে,
وَفِي خَلْقِكُمْ وَمَا يَبَتٌ مِنْ دَابَّةٍ ءَايَاتٌ لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ
And in your nature and in all the animals which He scatters (over the earth) there are signs for those of assured faith.
তোমাদের চরিত্র সত্তায় এবং পশুদের মধ্যে যা তিনি (পৃথিবীময়) ছড়িয়ে দিয়েছেন, এতে নিদর্শন সমূহ ইঙ্গিত করা হয়েছে বিশ্বাসকারীদের জন্য। (জাসিয়া-৪)
بَلَى قُدِرِينَ عَلَى أَنْ نُسَوّى بَنَانَهُ
Indeed, We have power to restore his very finger tips in perfect order.
নিশ্চয়, আমরা তার আঙ্গুলের অগ্রভাগ সঠিকভাবে প্রত্যার্পণ করার ক্ষমতা রাখি। (কিয়ামাহ-৪)
মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী সৃষ্টির জৈব উপাদান Sperm, ovum, জিন, Chromosome, DNA প্রভৃতি কোন বিজ্ঞানী ল্যাবরেটরিতে উৎপন্ন (Originate) করতে পারবে কি? আজ থেকে কিয়ামাত পর্যন্ত যত বিজ্ঞানী আসবে পৃথিবীতে, সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে যাবে। DNA সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেখুন পরিশিষ্ট ৮-এ।
أَفَرَيْتُمُ مَا تُمْنُونَ . أَنتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَلِقُونَ.
Do you see the Human Nutfah that you throw out? Is it you who create it or am I the creator?
আচ্ছা লক্ষ্য কর, যে নুৎফা (জনন কোষ) তোমরা নিক্ষেপ কর তা কি তোমরাই সৃষ্টি করেছ, নাকি আমিই তার স্রষ্টা? (ওয়াকিয়া-৫৮)
অতএব আল-কোরআনে আলোচ্য তত্ত্বগুলোর ইঙ্গিত করা হয়েছে ঐ সময়ে যখন বিজ্ঞানের বাতাস বিন্দুমাত্র প্রবাহিত হয়নি। বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের উন্নয়নের ফলে আমরা কোরআনের এসব আয়াতগুলোর কিছুটা মর্মার্থ বুঝতে সক্ষম হয়েছি এবং একথা সকলে উপলব্ধি করে থাকেন যে, আল্লাহপাক সীমাহীন জ্ঞানের অধিকারী। তাই আমাদের উচিত প্রজ্ঞাময় আল্লাহপাকের প্রতি সর্বদা অনুগত থাকা এবং নিয়মিত তাঁকে সেজদা করা।
প্রশ্ন: যথাযথ দলীল ও প্রমাণসহ জানতে চাই যে, আমার জন্য অপরিচিত বা পরনারীর সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করা বৈধ হবে কিনা, যখন আমি তার হাতের ওপর কোনো কিছু রেখে আড়াল করি? আর এ ক্ষেত্রে কম বয়স্কা নারীর বিধানের মতো-ই কি বেশি বয়স্কা নারীর বিধান হবে?
উত্তর: কোনো পুরুষ মানুষের জন্য এমন অপরিচিত নারীর সাথে মুসাফাহা করা বৈধ হবে না, যে নারী তার মাহরাম কেউ নন, চাই সে মুসাফাহা বা করমর্দন সরাসরি হউক অথবা কৌশলে কোনো কিছু দ্বারা আড়াল করার মাধ্যমেই হউক। কারণ, এটা ফিতনা বা বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ, আর আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا ﴾ [الاسراء: ٣٢]
"তোমরা ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেয়ো না, নিঃসন্দেহে এ হচ্ছে একটি অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ”। [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩২]
আর এ আয়াতটি নির্দেশ করে যে, এমন প্রত্যেকটি জিনিস আমাদের জন্য পরিহার করা আবশ্যক, যা যেনা ব্যভিচার পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়, চাই তা যৌনাঙ্গের ব্যভিচার হউক (আর এটা সবচেয়ে বড় যেনা), অথবা অন্য কোনো পর্যায়ের ব্যভিচার হউক। আর কোনো সন্দেহ নেই যে, পুরুষ কর্তৃক অপরিচিত নারীর হাত স্পর্শ করার ব্যাপারটি যৌনতাকে উস্কে দেয়, আর এ প্রসঙ্গে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে, যাতে ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে কঠিনভাবে হুমকি রয়েছে, যে ব্যক্তি এমন নারীর সাথে মুসাফাহা করে, যে নারী তার মাহরাম নন, আর এ ব্যাপারে যুবতী ও বৃদ্ধার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ, যেমন বলা হয়ে থাকে: (प्रत्येक পতিত বস্তুরই সংগ্রহকারী রয়েছে)। তাছাড়া বৃদ্ধা থেকে যুবতীর সীমারেখা বা পরিচয়ের বিষয়টি আপেক্ষিক, তাতে উপলব্ধির বিষয়টি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। কেননা একজন মনে করে যে, এ তো বৃদ্ধা।
আবার অন্যজন মনে করে যে, এ তো যুবতী।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-'উসাইমীন