📘 Biggan moy quran > 📄 আল-কোরআন এবং Cosmology

📄 আল-কোরআন এবং Cosmology


জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না যারা
৩৮. ইয়াহইয়া ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, ইরাকের একদল মুসাফির আবূ যর গিফারি রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে হাদীস বর্ণনা করার অনুরোধ জানায়। তিনি তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি তাদের বলেন, “তোমরা জানো যে, হাদীস শিক্ষা করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করা হয়। তাই কেউই দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে তা শিখবে না।” অথবা তিনি বলেছেন, “কেউ যদি পার্থিব উদ্দেশ্যে হাদীস শেখে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।”[৪৪]
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ দাবি করেছেন যে, عزف শব্দের অর্থ হলো ঘ্রাণ।

খ্যাতি লাভের উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করা
৩৯. আয়িযুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কেউ যদি খ্যাতি লাভের উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন বা হাদীস শিক্ষা করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।”[৪৫]

আল্লাহ তাআলার ভয়ই ইলম হিসেবে যথেষ্ট
৪০. কাসিম ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “আল্লাহ তাআলার ভয়ই ইলম হিসেবে যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে ধোঁকায় পতিত হওয়া মূর্খতা হিসেবে যথেষ্ট।”[৪৬]

পূর্বসূরিদের পথ আঁকড়ে ধরা
৪১. ইবরাহীম নাখঈ থেকে বর্ণিত। হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “হে ক্বারীগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের পূর্বসূরিগণের পথ আঁকড়ে ধরো। আল্লাহ তাআলার কসম, যদি তাঁদের পথে অটল থাকো তবে অনেক দূর এগিয়ে যাবে; আর সে পথ ছেড়ে ডানে-বাঁয়ে চললে অবশ্যই চরমভাবে পথভ্রষ্ট হবে।”[৪৭]

আলিমের ফিতনা
৪২. ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব রহিমাহুল্লাহ বলেন, “ফকীহ আলিমের একটি ফিতনা এই যে, তিনি অন্যের কথা শোনার চেয়ে নিজে বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন, যদিও কথা বলার মতো যথেষ্ট ব্যক্তি রযেছেন। অন্যের কথা শোনাটাই নিরাপদ এবং তাতে ইলম বাড়ে। শ্রোতা বক্তার অংশীদার। আল্লাহ তাআলা যদি রক্ষা না করেন, তবে অধিক কথায় রয়েছে পেরেশানি, পরিশ্রম, অতিরঞ্জন ও ক্ষতি। এমনও আলিম আছেন যারা মনে করেন, বংশমর্যাদা ও চেহারা-সুরতের কারণে একে অন্যের চেয়ে কথা বলার বেশি অধিকার রাখে। তারা দরিদ্রদেরকে হেয়জ্ঞান করেন। তাদের কাছে গরিবদের কোনো স্থান নেই। কেউ কেউ তো ইলমকে কুক্ষিগত করে রাখতে ভালোবাসেন। তারা মনে করেন, ইলম শিক্ষা দেওয়াটা একটা অপচয়। ইলম আমার নিজের কাছেই থাকুক- এটাই তাদের পছন্দ। এমনও আলিম আছেন যারা জ্ঞানের ক্ষেত্রে স্বৈরাচারী শাসকের মতো আচরণ করেন; তাদের বক্তব্যের বিরুদ্ধমত প্রকাশ করলে বা তাদের অধিকারের ব্যাপারে অসচেতন হলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কোনো কোনো আলিম নিজেকে মুফতির পদে বসিয়েছেন; তার জ্ঞান নেই-এমন বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে-'আমি জানি না' বলতে লজ্জাবোধ করেন। ফলে আন্দাজে ঢিল ছোড়েন এবং যারা বানিয়ে কথা বলেন তাদের কথা লিখে দেন। কেউ কেউ তো আবার যা শোনেন তা-ই বর্ণনা করেন। এমনকি মর্যাদার আশায় তারা ইয়াহুদি-নাসারাদের কথাও বর্ণনা করেন।” [৪৮]

কিচ্ছা বর্ণনাকারীদের জন্য দুর্ভোগ
৪৩. মাইমুন ইবনু মিহরান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কিচ্ছা-কাহিনি বর্ণনাকারীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে দুর্যোগের অপেক্ষায় থাকে, আর শ্রোতা রহমতের প্রতীক্ষায় থাকে।” [৪৯]

দ্বীনদারি দেখিয়ে দুনিয়া অর্জন করা
৪৪. আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
يَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ رِجَالٌ يَخْتُلُونَ الدُّنْيَا بِالدِّينِ، يَلْبَسُونَ لِلنَّاسِ جُلُودَ الضَّأْنِ مِنَ الدِّينِ، أَلْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، وَقُلُوبُهُمْ قُلُوبُ الذِّتَابِ، يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: أَفَبِي تَغْتَرُّونَ، أَمْ عَلَى تَجْتَرِئُونَ، فَبِي حَلَفْتُ لَأَبْعَثَنَّ عَلَى أُولَبِكَ مِنْهُمْ فِتْنَةً تَدَعُ الْحَلِيمَ مِنْهُمْ حَيْرَانَ
"শেষ জামানায় এমন-কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা দ্বীনের দ্বারা দুনিয়া অর্জন করবে। (অর্থাৎ, দ্বীনদারি প্রকাশ করে মানুষকে ধোঁকায় ফেলবে।) মানুষের চোখে বিনয়ী সাজতে মেষ-দুম্বার চামড়া পরবে (অর্থাৎ, মোটা কম্বল বা পোশাক পরে দ্বীনদার সাজবে)। তাদের মুখের ভাষা হবে মধুর চেয়ে মিষ্টি; পক্ষান্তরে অন্তর হবে বাঘের মতো (হিংস্র)। আল্লাহ তাআলা এদের সম্পর্কে বলেন, এরা কি আমাকে ধোঁকা দিতে চায় নাকি আমার ওপর ধৃষ্টতা পোষণ করে? (জেনে রাখো), আমি শপথ করে বলছি, তাদের ওপর এমন বিপদ পাঠাব যাতে তাদের বিচক্ষণ-বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণও দিশেহারা হয়ে পড়বে।”[৫০]

না জানলে 'আমি জানি না' বলা
৪৫. নাফি' বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু উমর রদিয়াল্লাহু আনহুমা-কে একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলো। জবাবে তিনি বললেন, আমি তা জানি না।”[৫১]

না বুঝে ফাতওয়া দেওয়ার ভয়াবহতা
৪৬. উকবা ইবনু মুসলিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু উমর রদিয়াল্লাহু আনহুমা-কে একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, আমি তো তা জানি না। তাঁকে আবারও একই বিষয় জিজ্ঞেস করা হলো। এবার তিনি বললেন, তোমরা কি আমাদের পিঠকে তোমাদের জন্য জাহান্নামের সাঁকো বানাতে চাও? তোমরা কি বলতে চাও যে, ইবনু উমর আমাদেরকে এ ব্যাপারে ফাতওয়া দিয়েছেন?”[৫২]

হাদীস বর্ণনায় ভীতি
৪৭. ইবনু শুবরুমাহ বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু লোকদের হাদীস শোনাচ্ছিলেন। তখন তামীম ইবনু হাযলামকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে বললেন, হে তামীম ইবনু হাযলাম, তুমি নিজে যদি মুহাদ্দিস হতে পারো তবে তা-ই করো।”[৫৩]

বক্তার ফিতনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা
৪৮. হাইওয়াতা ইবনু শুরাইহ বলেন, আমি ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব রহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, “বক্তা ফিতনার আশঙ্কায় থাকে এবং চুপ-থাকা ব্যক্তি আল্লাহর রহমতের অপেক্ষায় থাকে।”[৫৪]

আলোচনার মজলিস ছোটো হওয়া
৪৯. হাইওয়াতা ইবনু শুরাইহ বলেন, আমি উকবা ইবনু মুসলিম রহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, “দু-একজন কী বড়োজোর তিন-চারজনের সাথে ইলমি আলোচনা করা যায়। কিন্তু লোকসংখ্যা এর চেয়ে বেড়ে গেলেই চুপ থাকবে বা উঠে চলে আসবে।” [৫৫]

ইলমের অহংকার
৫০. ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সম্পদের কারণে (মানুষ) যেমন সীমালঙ্ঘন করে, তেমনই ইলমের কারণেও করে থাকে।”[৫৬]

অন্যদের প্রাধান্য দেওয়া
৫১. আবদুর রহমান ইবনু আবী লাইলা রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক শ বিশজন সাহাবিকে পেয়েছি। তাদের কেউই নিজেকে মুহাদ্দিস (ভাবতেন) না, তবে মনে করতেন— তাঁর ভাই-ই হাদীস বর্ণনার জন্য যথেষ্ট। আর তাঁদের কেউই নিজেকে মুফতি (ভাবতেন) না, তবে মনে করতেন—তাঁর ভাই-ই ফাতওয়া দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।” (বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছেন, মাসজিদে তাদের পেয়েছি।) [৫৭]

বিশেষ বিশেষ কথা বলে দুআ করা
৫২. দাউদ ইবনু শাবূর বলেন, “আমরা তাউস রহিমাহুল্লাহ-কে বললাম, আপনি এই এই কথা বলে আমাদের জন্য দুআ করুন। তিনি বললেন, তাতে কোনো সাওয়াব আছে বলে মনে করি না।”[৫৮]

হাদীস বর্ণনায় অনীহা
৫৩. সা'দ ইবনু মাসউদ বলেন, নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক সাহাবিকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি অমুক অমুক লোকের মতো হাদীস বর্ণনা করেন না কেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাঁরা যা শুনেছেন আমিও তার অনুরূপ শুনেছি এবং তাঁরা যেখানে যেখানে উপস্থিত ছিলেন আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু পরে সেসব বিষয় (আমি বর্ণনা না করলেও) গোপন থাকেনি এবং মানুষও সেগুলো (অন্যের মাধ্যমে জানার দ্বারা) আঁকড়ে ধরেছে। তাই আমি এমন ব্যক্তিদের পেয়ে গেছি যাঁরা আমার (পরিবর্তে এই কাজের) জন্য যথেষ্ট। তা ছাড়া আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীতে কম-বেশি করতে চাই না। আল্লাহর কসম, কেউ আমাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে জবাব দিতে এত আগ্রহ বোধ করি, যেন তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ঠান্ডা পানি চাইছি; কিন্তু হেরফের হওয়ার আশঙ্কায় জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকি।"[৫১]

কিয়ামাতের আলামত
৫৪. আবু উমাইয়া লাখমী[৬০] রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ ثَلَاثًا: إِحْدَاهُنَّ أَنْ يُلْتَمَسَ الْعِلْمُ عِنْدَ الْأَصَاغِرِ
"কিয়ামাতের আলামত তিনটি। তার একটি হলো মনগড়া ফাতওয়া- প্রদানকারীদের কাছ থেকে ইলম শেখা।”[৬১]

আমল ব্যতীত ইলমের প্রতিদান নেই
৫৫. ইয়াযীদ ইবনু জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয ইবনু জাবাল রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন,
اعْلَمُوا مَا شِئْتُمْ أَنْ تَعْلَمُوهَا؛ فَلَنْ يَأْجُرَكُمُ اللَّهُ بِعِلْمٍ حَتَّى تَعْمَلُوا
"যা যা চাও, শিখে নাও। কিন্তু আমল ব্যতীত আল্লাহ তাআলা কোনো ইলমের প্রতিদান দেবেন না।”[৬২]

কোনো কোনো প্রশ্ন সমস্যা বাড়িয়ে দেয়
৫৬. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু যর গিফারি রদিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তিকে বললেন, “কী প্রশ্ন করেছ, ভেবে দেখো। তুমি আমাকে এমন-এক বিষয়ে প্রশ্ন করেছ যার দ্বারা আল্লাহ তাআলা তোমার সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেবেন।”[৬৩]

অন্যকে তালীম দেয় অথচ নিজে করে না
৫৭. ইসমাঈল ইবনু আবী খালিদ থেকে বর্ণিত। শা'বী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "জান্নাতীদের কিছু লোক একদল জাহান্নামীকে দেখে জিজ্ঞেস করবে, আরে! তোমরা জাহান্নামে গেলে কী করে? অথচ তোমরা আমাদের যে আদব ও ইলম শিখিয়েছ তারই কল্যাণে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করেছি। তারা জবাব দেবে, আমরা সৎকাজের আদেশ দিতাম ঠিকই; কিন্তু নিজেরা তা করতাম না।”[৬৪]

নেক মজলিস
৫৮. আবদুর রহমান ইবনু রাযীন বলেন, “আমি আবদুর রহমান ইবনু আবী হিলাল রহিমাহুল্লাহ-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা একটি জানাযা দেখলাম। তিনি তখন আমাকে বললেন, এমন মজলিস খোঁজো, যেখানে অন্যের কথাই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে। আর আমরা সেখানে বসে (কথা শুনব)।”[৬৫]

টিকাঃ
[৪৪] ইবনু মাজাহ, ২৫২, সনদ দুর্বল, মাওকুফ। তবে এর সমার্থবোধক হাসান মারফু হাদীস রয়েছে।
[৪৫] সনদ হাসান, মাকতু। তবে এর সমার্থবোধক হাদীস হাসান মারফুরূপে বর্ণিত হয়েছে।
[৪৬] তাবারানি, আল-মু'জামুল কাবীর, ৮৯২৭। এর সমার্থবোধক হাদীস বুখারি ও মুসলিমে রয়েছে।
[৪৭] ইবনু আবদিল বার, জামিউ বায়ানিল ইলম, ২/৯৭, সহীহ।
[ ৪৮] ইবনু আবদিল বার, জামিউ বায়ানিল ইলম, ১/১৩৬-১৩৭, মাওকুফ।
[৪৯] সনদ হাসান।
[৫০] তিরমিযি, ২৫১৫।
[৫১] আত-তাবাকাত, ৪/১৪৪, সনদ হাসান, মাওকুফ।
[৫২] সনদ হাসান, মাওকুফ।
[৫৩] ইবনু আবদিল বার, জামিউ বায়ানিল ইলম, ২/১৬৩, মুনকাতি। অর্থাৎ, যদি সম্ভব হয়, তবে তুমিও হাদীসচর্চা করো।
[৫৪] ইবনু আবদিল বার, জামিউ বায়ানিল ইলম, ১/১৩৭, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৫৫] সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৫৬] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/৫, মাওকুফ।
[৫৭] ইবনু আবদিল বার, জামিউ বায়ানিল ইলম, ২/৬৩, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৫৮] সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৫৯] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[৬০] অথবা, জুমাহী থেকে বর্ণিত।
[৬১] ইবনু আবদিল বার, জামিউ বায়ানিল ইলম, ১/১৫৭-১৫৮, হাসান।
[৬২] ইবনু আদি, আল-কামিল ফি যুআফায়ির রিজাল, ২/২৫-২৬, মাওকুফ।
[৬৩] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[৬৪] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৪, সনদ সহীহ, মাওকুফ; তবে এর সমার্থবোধক হাদীস সহীহ সনদে মারফুরূপে বর্ণিত হয়েছে।
[৬৫] সনদ সহীহ, মাওকুফ。

১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাতের জন্য খুব পরিশ্রম করতেন, এমনকি তার কদম মুবারক ফেটে যেত। তিনি রাতের কিয়ামে প্রচুর কষ্ট করতেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এত কিয়াম করতেন যে, তার দু'পা ফেটে যেত। আয়েশা তাকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল আপনি কেন এরূপ করেন, অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সব গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন? তিনি বললেন: أفلا أحب أن أكون عبداً شكوراً
"আমি কি আল্লাহর শোকর গুজার বান্দা হতে পছন্দ করব না!"
মুগিরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, «قام النبي صلى الله عليه وسلم حتى تورمت قدماه، فقيل له: غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تأخر؟ قال: «أفلا أكون عبداً شكوراً».
"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়াম করলেন, ফলে তার দু'পা ফুলে গিয়েছিল, তাকে বলা হলো: আপনার পূর্বাপর সব গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন? তিনি বললেন: «أفلا أكون عبداً شكوراً».
"আমি কি শোকর গুজার বান্দা হবো না"।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী খুব সুন্দর বলেছেন:
وفينا رسول الله يتلو كتابه - إذا انشق معروف من الفجر ساطع
يبيت يجافي جنبه عن فراشه - إذا استثقلت بالكافرين المضاجع
"আমাদের মাঝে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন, যিনি তার কিতাব তিলাওয়াত করনে যখন উজ্জ্বল ফজর উদিত হয়। তিনি বিছানা থেকে পার্শ্বদেশ পৃথক রেখে রাত যাপন করেন, যখন কাফিররা গভীর ঘুমে নিমজ্জিত থাকে"।

২. জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম উপায় রাতের সালাত। আব্দুল্লাহ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করেন, তখন লোকেরা তার দিকে ছুটে গেল। আর চারদিকে ধ্বনিত হল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছেন তিনবার। আমি মানুষের সাথে তাকে দেখতে আসলাম। আমি যখন তার চেহারা ভালোভাবে দেখলাম, পরিষ্কার বুঝলাম তার চেহারা কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। আমি সর্বপ্রথম তাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন:
«يا أيها الناس، أفشوا السلام، وأطعموا الطعام، وصلوا الأرحام، وصلوا بالليل والناس نيام، تدخلوا الجنة بسلام».
"হে লোকেরা, তোমরা সালামের প্রসার কর, খাদ্য দান কর, আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখ ও রাতে সালাত আদায় কর যখন মানুষের ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করবে"। জনৈক কবি খুব সুন্দর বলেছেন:
ألهتك لذة نومة عن خير عيش - مع الخيرات في غرف الجنان
تعيش مخلدا لا موت فيها - وتنعم في الجنان مع الحسان
تيقظ من منامك إن خيرا - من النوم التهجد بالقرآن
"ঘুমের স্বাদ তোমাকে উত্তম চরিত্রবতী হুরদের সাথে জান্নাতের বালাখানার উত্তম জীবন থেকে বঞ্চিত করছে। জান্নাতে তুমি সর্বদা থাকবে, সেখানে কোনো মৃত্যু নেই, অনিন্দ্য সুন্দরীদের নিয়ে মত্ত থাকবে। অতএব, ঘুম থেকে জাগ্রত হও, নিশ্চয় কুরআন তিলাওয়াত করে তাহাজ্জুত আদায় করা ঘুম থেকে অধিক উত্তম"।

৩. রাতে সালাত আদায়কারীদের জন্য জান্নাতের উঁচু প্রাসাদসমূহ তৈরি করা হয়েছে। আবু মালেক আশা'আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(إِنَّ فِي الْجَنَّةِ غُرَفًا يُرَى ظَاهِرُهَا مِنْ بَاطِنِهَا، وَبَاطِنُهَا مِنْ ظَاهِرِهَا، أَعَدَّهَا اللَّهُ تَعَالَى لِمَنْ أَطْعَمَ الطَّعَامَ، وَأَلَانَ الْكَلَامَ، وَتَابَعَ الصِّيَامَ، وَأَفْشَى السَّلَامَ، وَصَلَّى بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ)
"নিশ্চয় জান্নাতে কতক বালাখানা রয়েছে, যার বাহির ভেতর থেকে ও ভেতর বাহির থেকে দেখা যাবে। যা আল্লাহ তৈরি করেছেন তাদের জন্য যারা খাদ্যদান করে, বিনয়াবনত কথা বলে, সিয়ামের পর সিয়াম পালন করে, সালামের প্রসার করে এবং রাতে সালাত আদায় করে যখন লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে"।

৪. রাতে নিয়মিত সালাত আদায়কারীগণ আল্লাহর মুহসিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত, যারা আল্লাহর রহমত ও জান্নাতের হকদার। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ الَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ ﴾ [الذاريات: ۱۷،۱۸]
"রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাত আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা চাওয়ায় রত থাকত” [সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ১৭-১৮]

৫. আল্লাহ তা'আলা নেককার ও রহমানের বান্দাদের প্রশংসার মধ্যে রাতে সালাত আদায়কারীদেরও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন:
﴿وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَمًا ﴾ [الفرقان: ٦٤]
"আর যারা তাদের রবের জন্য সাজদারত ও দণ্ডায়মান হয়ে রাত্রি যাপন করে” [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৪]

৬. আল্লাহ তা'আলা সাক্ষ্য দিয়েছেন রাতে সালাত আদায়কারীগণ পূর্ণ ইমানদার। তিনি বলেছেন:
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ ﴿ إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِنَايَتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبِّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ ﴾ [السجدة : ١٥، ١٦]
"আমার আয়াতসমূহ কেবল তারাই বিশ্বাস করে, যারা এর দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দেওয়া হলে সাজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ করে। আর তারা অহঙ্কার করে না। তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা হয়। তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে। আর আমরা তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে”। [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ১৫-১৬]

৭. যারা রাতে সালাত আদায় করে ও যারা করে না তারা উভয় সমান নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
﴿أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ ءَانَاءَ الَّيْلِ سَاجِدًا وَقَابِمَا يَحْذَرُ الْآخِرَةَ وَيَرْجُوا رَحْمَةَ رَبِّهِ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُوا الْأَلْبَابِ ﴾ [الزمر: ٩]
"যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সাজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রব-এর রহমত প্রত্যাশা করে (সে কি তার সমান যে এরূপ করে না) বল, 'যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?' বিবেকবান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে" [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৯]

৮. রাতের সালাত গুনাহের কাফ্ফারা ও পাপ মোচনকারী। আবু উমামা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ فَإِنَّهُ دَأْبُ الصَّالِحِينَ قَبْلَكُمْ، وَهُوَ قُرْبَةٌ إِلَى رَبِّكُمْ، وَمَكْفَرٌ لِلسَّيِّئَاتِ، وَمَنْهَاةٌ لِلْآثَامِ».
"তোমরা রাতের সালাত আঁকড়ে ধর, কারণ এটা তোমাদের পূর্বের নেককার লোকদের অভ্যাস এবং তোমাদের রবের নৈকট্য দানকারী, গুনাহের কাফ্ফারা ও পাপ মোচনকারী"।

৯. ফরয সালাতের পর রাতের সালাত সর্বোত্তম সালাত। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ‘মারফু' হাদীসে এসেছে:
«أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ، وَأَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْمَكْتُوبَةِ صَلَاةُ اللَّيْلِ».
"রমযানের পর সর্বোত্তম সিয়াম মুহররম মাসের সিয়াম এবং ফরয সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত রাতের সালাত”।

১০. কিয়ামুল লাইল মুমিনদের সম্মান। সাহাল ইবন সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করলেন, অতঃপর বললেন:
يا محمد عش ما شئت فإنك ميت، وأحبب من شئت فإنك مفارقه، واعمل ما شئت فإنك مجزي به ثم قال: يا محمد شرف المؤمن قيام الليل، وعزه استغناؤه عن الناس».
“হে মুহাম্মাদ যত দিন পার বেঁচে নেও, অতঃপর অবশ্যই তুমি মারা যাবে। যাকে ইচ্ছা মহব্বত কর, অবশ্যই তার থেকে তুমি বিচ্ছেদ হবে। যা ইচ্ছা আমল কর, তার প্রতিদান অবশ্যই তোমাকে দেওয়া হবে। অতঃপর বলেন, হে মুহাম্মাদ মুমিনের সম্মান হচ্ছে রাতের সালাত, আর তার ইজ্জত হচ্ছে মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষিতা”।

১১. রাতে সালাত আদায়কারী ঈর্ষার পাত্র, কারণ এর সাওয়াব অধিক। এ সালাত দুনিয়া ও তার মধ্যে বিদ্যমান সবকিছু থেকে উত্তম। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لا حسد إلا في اثنتين: رجل آتاه الله القرآن فهو يقوم به آناء الليل وآناء النهار، ورجل آتاه الله مالاً فهو ينفقه آناء الليل وآناء النهار
"দু'জন ব্যতীত কোনো ঈর্ষা নেই: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন, সে কুরআন নিয়ে রাত ও দিনের বিভিন্ন সময় কিয়াম করে। অপর ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, সে তা রাত ও দিনের বিভিন্ন সময় খরচ করে"।
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لا حسد إلا في اثنتين: رجل آتاه الله مالاً فسلطه على هلكته في الحق، ورجل آتاه الله الحكمة فهو يقضي بها ويعلمها».
"দু'জন ব্যতীত কোনো ঈর্ষা নেই: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, সে তা সত্য পথে খুব খরচ করে। অপর ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত দান করেছেন, সে তার মাধ্যমে ফয়সালা করে ও মানুষকে তা শিক্ষা দেয়”।

১২. রাতের সালাতে কুরআন তিলাওয়াত করা বড় গণিমত ও সৌভাগ্যের বিষয়। আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«من قام بعشر آيات لم يكتب من الغافلين، ومن قام بمائة آية كتب من القانتين، ومن قام بألف آية كتب من المقنطرين».
"যে ব্যক্তি দশ আয়াত দ্বারা কিয়াম করল, তাকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হবে না। আর যে একশত আয়াত দ্বারা কিয়াম করল, তাকে কানেতিনদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হবে। আর যে এক হাজার আয়াত দ্বারা কিয়াম করল, তাকে মুকানতিরিনদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হবে"।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: أيحب أحدكم إذا رجع إلى أهله أن يجد فيه ثلاث خلفات عظام سمان؟ قلنا: نعم، قال: «ثلاث آيات يقرأ بهن أحدكم في صلاته خير له من ثلاث خلفات عظام سمان».
"তোমাদের কেউ কি পছন্দ করে, যখন সে বাড়িতে যাবে সেখানে সে তিনটি মোটা তাজা গাভীন উট (তার মালিকানাধীন) দেখবে? আমরা বললাম: হ্যাঁ, তিনি বললেন: তোমাদের কারো নিজ সালাতে তিনটি আয়াত তিলাওয়াত করা তিনটি মোটা তাজা উট হতে উত্তম"।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন খতমের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআন খতম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তখন তিনি বলেন,
«في أربعين يوماً»، ثم قال: «في شهر»، ثم قال: «في خمس عشرة»، ثم قال: «في عشر»، ثم قال: «في سبع». قال: إني أقوى من ذلك، قال: «لا يفقه من قرأه في أقل من ثلاث».
"চল্লিশ দিনে, অতঃপর বলেন, এক মাসে, অতঃপর বলেন, পনেরো দিনে, অতঃপর বলেন, দশ দিনে, অতঃপর বলেন, সাত দিনে। তিনি বলেন, আমি এর চেয়ে অধিকের সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন: তিন দিনের কমে যে খতম করবে, সে কুরআন বুঝবে না"।

টিকাঃ
৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮২০)।
৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮৩৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮১৯।
৬. বলা হয় এটা আব্দুল্লাহ ইবন রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবিতা।
৭. ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩২৫১, ১৩৩৪; তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৮৫, ১৯৮৪); হাকিম: (৩/১৩); আহমদ: (৫/৪৫১); 'সিলসিলাতুল আহাদীসিস সাহীহা': (৫৬৯) ও 'ইরওয়াউল গালিল': (৩/২৩৯) গ্রন্থে আলবানী রহ. হাদীসটি সহীহ বলেছেন।
৮. 'কিয়ামুল লাইল' লিল ইমাম মুহাম্মদ ইবন নাসর আল-মাওয়াযি: (পৃ. ৯০), 'তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইল' লি ইবন আবিদ দুনিয়া: (পৃ. ৩১৭), কেউ বলেছেন: এ কবিতাগুলো মালেক ইবন দিনারের।
৯. সিয়ামের পর সিয়াম পালন করে অর্থাৎ ফরয সিয়ামের পর অধিক নফল সিয়াম পালন রাখে, একের পর এক রাখতে থাকে একেবারে ত্যাগ করে না। কেউ বলেছেন: এর সর্বনিন্ম সংখ্যা হচ্ছে প্রত্যেক মাসে কমপক্ষে তিনটি সিয়াম পালন করা। দেখুন: 'তুহফাতুল আহওয়াযি': (৬/১১৯)।
১০. আহমদ: (৫/৩৪৩); ইবন হিব্বান, হাদীস নং (৬৪১; তিরমিযী, হাদীস নং ২৫২৭, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে; আহমদ: (২/১৭৩), আব্দুল্লাহ ইবন আমর থেকে। আলবানী সহীহ সুনান তিরমিযী: (২/৩১১) ও সহীহ আল-জামে: (২/২২০), হাদীস নং (২১১৯) গ্রন্থে হাসান বলেছেন।
১১. তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৪৯; হাকেম: (১/৩০৮); বায়হাকি: (২/৫০২), আলবানী ‘ইরওয়াউল গালিল’: (২/১৯৯), হাদীস নং (৪৫২) ও সহীহ তিরমিযী: (৩/১৭৮) গ্রন্থে হাদীসটি হাসান বলেছেন।
১২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৩।
১৩. হাকেম: (৪/৩২৫), তিনি হাদীসটি সহীহ বলেছেন, ইমাম যাহাবী তার সমর্থন করেছেন। ইমাম মুনযিরি 'তারগিব ও তারহিব': (১/৬৪০) গ্রন্থে এ হাদীসের সনদ হাসান বলেছেন। তিনি তাবরানির 'আল-আওসাত' গ্রন্থের সূত্রে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। হায়সামি 'মাজমাউয যাওয়ায়েদ': (২/২৫৩) গ্রন্থে তার সূত্রের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আলবানী 'সিলসিলাতুল আহাদীসিস সাহীহা' গ্রন্থে হাদীসটি হাসান বলেছেন, হাদীস নং (৮৩১)। তিনি এর তিনটি সনদ উল্লেখ করেছেন: আলী, সাহাল ও জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে।
১৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮১৫।
১৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮১৬।
১৬. মুকানতিরিন: যাদের জন্য বে-হিসাব সওয়াব লেখা হয় তাদেরকে মুকানতিরিন বলা হয়। দেখুন: 'তারগিব ও তারহিব': (১/৪৯৫)।
১৭. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৯৮; সহীহ ইবন খুজাইমাহ: (২/১৮১), হাদীস নং (১১৪২), আলবানী সহীহ আবু দাউদ: (১/২৬৩) ও 'সিলসিলাতুল আহাদীসিস সাহীহা': (৬৪৩) গ্রন্থে হাদীসটি সহীহ বলেছেন।
১৮. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮০২।
১৯. সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৯৫, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/২৬২)।
২০. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৯০, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/২৬১)।

প্রশ্ন: আমি বিদেশে পড়ুয়া একজন ছাত্র এবং সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়টি নারী- পুরুষ সম্মিলিত, আমার প্রশ্ন হলো: এ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করাটা আমার জন্য বৈধ হবে কিনা?
উত্তর: যে মুসলিম ব্যক্তি নিজের মুক্তি চায় আমরা তাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, সে যেন অনিষ্টতা ও ফিতনার যাবতীয় কারণ ও উপায়-উপকরণ থেকে দূরে থাকে, আর কোনো সন্দেহ নেই যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুবতীদের সাথে মেলামেশা করাটা ফিতনা-ফ্যাসাদ সংঘটিত হওয়ার এবং যিনা-ব্যভিচার ছড়িয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। আর কোনো ব্যক্তি যদি নিজেকে হিফাযত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে, তার জন্য আবশ্যক হলো কঠিনভাবে সাধনা করা; কিন্তু ব্যক্তি যখন এর দ্বারা পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তখন তার জন্য আবশ্যকীয় করণীয় হচ্ছে সতর্ক হওয়া, এর থেকে দূরে সরে থাকা, দৃষ্টিকে অবনমিত রাখা, লজ্জাস্থানকে হিফাযত করা এবং নারীদের নিকটবর্তী না হওয়ার জন্য সাধ্যানুসারে চেষ্টা করবে, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন

মুদারাবা (مُضَارَبَةٌ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ
শাব্দিক অর্থ: الْمُضَارَبَةُ (মুদারাবা) শব্দটি مُفَاعَلَةٌ ওযনে মাসদার বা মূলধাতু। তা ضَرَبَ فِي الْأَرْضِ থেকে গৃহীত; এর অর্থ: ঘুরে বেড়ানো, সফর করা, ভ্রমণ করা। এ অর্থে শব্দটি পবিত্র কুরআনেও ব্যবহৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ "একদল দেশে দেশে সফর করে।" যেহেতু মুদারাবা চুক্তির প্রেক্ষিতে একজনের পুঁজি নিয়ে অপরজন ব্যবসা উপলক্ষে দেশবিদেশ সফর করে তাই একে মুদারাবা বলে।

পারিভাষিক অর্থ: أَنْ تُعْطِيَ إِنْسَانًا مِنْ مَالِكَ مَا يَتَّجِرُ فِيهِ عَلَى أَنْ يَكُونَ الرِّبْحُ بَيْنَكُمَا ، أَوْ يَكُونَ لَهُ سَهْمٌ مَعْلُومٌ مِنَ الرِّبِّحِ 'একজনের পুঁজি অপরজনের হাতে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে দেওয়া, তাতে যা লাভ হবে তা সমহারে অথবা চুক্তিনামায় বিবৃত হারে বণ্টন করা হবে- এ ধরনের চুক্তিকে মুদারাবা বলে।'

ইরাক এলাকায় এ চুক্তিকে মুদারাবা বলা হলেও মক্কা-মদীনা এলাকায় বলা হয় মুকারাযা (مُقَارَضَة) বা কিরায (قراض)। প্রখ্যাত ভাষাবিদ যামাখশারী এ সম্পর্কে বলেছেন, মুকারাযা বা কিরায-এর মূল শব্দ الْقَرْض। যার অর্থ: পরিভ্রমণ করা, দেশভ্রমণ করা। হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ মুদারাবা শব্দটি ব্যবহার করেছেন; অপরদিকে মালেকী ও শাফেয়ী মাযহাবের আলেমগণ ব্যবহার করেছেন কিরায বা মুকারাযা শব্দ।

মুদারাবা বৈধ হওয়ার তাৎপর্য ও গূঢ় রহস্য
মুদারাবা বৈধ ও জায়েয; প্রয়োজন তা জায়েয করেছে। দেখা যায়, একজনের হাতে প্রয়োজনীয় ব্যয়ের অধিক সম্পদ রয়েছে প্রচুর, সে তাতে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে তা বাড়াতে চায়। কিন্তু ব্যবসা করে তা বাড়ানোর ক্ষমতা বা সুযোগ তার নেই। এ পর্যায়ে সে বাধ্য হয় তার প্রতিনিধি নির্ধারণ করতে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এ জন্যে সে ব্যবসাকাজে অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তিকে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসাবে রাখতে পারে না। হয়তো কেউ কর্মচারী হতে রাজি হয় না, বরং সে বেতনের পরিবর্তে লাভে অংশীদার হতে চায়। অথবা কর্মচারী পাওয়া গেলেও তাকে পুঁজির মালিক নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতে পারে না, যেহেতু পুঁজির অধিকারী ব্যক্তির ব্যবসা পরিচালনার ক্ষমতা বা যোগ্যতা থাকে না। এমনি পরিস্থিতিতে মানবগোষ্ঠীর মাঝে মুদারাবা পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে, শরীয়তও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার অনুমোদন দিয়েছে।

টিকাঃ
১. সূরা মুযযাম্মিল, আয়াত ২০
২. লিসানুল আরব -ضرب مادة
৩. লিসানুল আরব, আল-কামূসুল মুহীত।
৪. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ৭৯; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ১৯
১৮. মাওয়াহিবুল জলীল, খ. ৫, পৃ. ৩৫৬; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৫০৭

📘 Biggan moy quran > 📄 আল-কোরআন এবং Astronomy

📄 আল-কোরআন এবং Astronomy


আত্মপ্রশংসার নিন্দা
১৩০. ইবরাহীম নাখঈ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “হায়, (লোকেরা) একত্রে সমবেত হওয়ার সময় যদি তারা নিজেদের ব্যাপারে ভালো আলোচনা করা বা আত্মপ্রশংসার বিষয়টা অপছন্দ করত![১৪৬]

আমলের গোপনীয়তার প্রতি গুরুত্বারোপ
১৩১. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যদি এমন হতো যে, কেউ কুরআনের জ্ঞান অর্জন করলে তার প্রতিবেশী জানতে না পারত; কেউ অনেক বেশি ফিকহী ইলম অর্জন করলেও লোকেরা তা টের না পেত; কেউ নিজ বাড়িতে দীর্ঘ সালাত পড়লেও ওখানে উপস্থিত লোকেরা তা বুঝতে না পারত।
আমি একদল মানুষের কথা জানি, তারা দুনিয়ার বুকে প্রতিটা আমল গোপনীয়তার সাথে করত, কখনও তা প্রকাশ হতো না। মুসলমানগণ প্রাণপণে দুআ করতেন; কিন্তু কোনো আওয়াজ শোনা যেত না। কেবল তাদের ও তাদের রবের মধ্যে এক ধরনের গুঞ্জরণ সৃষ্টি হতো। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
'তোমরা বিনয়ের সঙ্গে ও গোপনে তোমাদের রবকে ডাকো।[১৪৭]
আর আল্লাহ তাআলা তাঁর এক সৎ বান্দার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার কথায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন,
إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا
'যখন (যাকারিয়্যা) তার প্রতিপালককে ডেকেছিল গোপনে।'”[১৪৮]-[১৪৯]

আমলের কথা লোকদের বলে বেড়ানোর পরিণাম
১৩২. আবদুল্লাহ ইবনু উমর রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন-
مَنْ سَمَّعَ النَّاسَ بعلمه، سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ سَامِعَ خَلْقِهِ، وَحَقَّرَهُ وَصَغَرَهُ
"কেউ যদি তার জ্ঞানের কথা লোকদের কাছে বলে বেড়ায়, আল্লাহও তার (গোপন) কথা মানুষকে শুনিয়ে দেন; তাকে অপমানিত ও অপদস্থ করেন।”[১৫০]
আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, এই হাদীস বর্ণনা করার পর ইবনু উমরের চোখ-দুটি ভিজে গেল।

আমলের আগে নিয়ত ঠিক করে নেওয়া
১৩৩. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ-এর কাছে কিছু লোকের আলোচনা করে বলা হলো যে, তাঁরা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বললেন, “তোমরা যা বলছ ও ভাবছ, বিষয়টি তেমন নয়। যখন দুটি দল মুখোমুখি হয় তখন ফেরেশতাগণ নেমে এসে প্রত্যেক মানুষকে তাদের নিজ নিজ স্তরে লিপিবদ্ধ করেন: অমুক দুনিয়া লাভের জন্য জিহাদ করেছে; অমুক রাজত্ব লাভের জন্য জিহাদ করেছে; অমুক যশখ্যাতির জন্য জিহাদ করেছে, ইত্যাদি; আর অমুক আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য জিহাদ করেছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের আশায় জিহাদ করে, সে জান্নাতে যাবে।"[১৫১]

লোক-দেখানো বিনয় ও নম্রতা
১৩৪. আবূ ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত, আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু অথবা আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "লোক-দেখানো বিনয় ও নম্রতা থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে পানাহ চাও।” তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সেটা কী জিনিস? তিনি বললেন, "দেহ বিনয়ী দেখালেও অন্তরে বিনয় নেই।"[১৫২]

আমলে কঠোরতা সত্ত্বেও পারস্পরিক সৌজন্য
১৩৫. আওযাঈ থেকে বর্ণিত, বিলাল ইবনু সা'দ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আমি তাঁদেরকে দেখেছি যে, তাঁরা নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনে (ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে) কঠোর ছিলেন। তবে তাঁরা পরস্পরকে দেখে (মুচকি) হাসতেন। রাত শুরু হলেই মগ্ন হয়ে যেতেন আল্লাহর ইবাদাতে।”[১৫৩]

মুচকি হাসি
১৩৬. উবাইদুল্লাহ ইবনুল মুগীরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস রদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি : “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি।"[১৫৪]

পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে তাকানো
১৩৭. আউন ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল মুচকি হাসি হাসতেন (অট্টহাসি দিতেন না) এবং কারও দিকে তাকালে পরিপূর্ণভাবে তাকাতেন।”[১৫৫]

ধীরস্থিরভাবে কথা বলা
১৩৮. মিসআর বলেন, একজন শাইখ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাবির ইবনু আবদিল্লাহ রদিয়াল্লাহু আনহু অথবা আবদুল্লাহ ইবনু উমর রদিয়াল্লাহু আনহুমা- কে বলতে শুনেছেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথাবার্তায় ধীরতা ও স্থিরতা ছিল।”[১৫৬]

দাঁত বের করে না হাসা
১৩৯. আয়িশা রদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও এমনভাবে হাসতেন না যে, তাঁর সামনের দাঁতগুলো বেরিয়ে যেত; বরং তিনি কেবল মুচকি হাসতেন।" [১৫৭]

রোজা রাখা অবস্থায় পরিপাটি থাকা
১৪০. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যেদিন তোমাদের কেউ সাওম রাখবে, সে যেন দিনের বেলা চুল পরিপাটি রাখে।" [১৫৮] (যাতে কেউ বুঝতে না পারে সে রোজাদার।)

মানুষকে জানতে না-দেওয়া
১৪১. হিলাল ইবনু ইয়াসাফ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম বলেছেন, “রোজা রাখা অবস্থায়ও মাথার চুল ও দাড়িতে তেল লাগিয়ো, ঠোঁট মুছে রেখো। যাতে মানুষ বুঝতে না পারে, তুমি রোজাদার। ডান হাত দিয়ে দান করলে নিজের বাম হাত থেকেও তা লুকিয়ে রেখো। আর সালাত পড়ার সময় ঘরের দরজায় পর্দা টানিয়ে রেখো। কারণ, আল্লাহ তাআলা যেভাবে রিযক বণ্টন করেন, ঠিক সেভাবে প্রশংসাও বণ্টন করেন।" [১৫৯]

গোপনে পড়ায় বেশি সাওয়াব
১৪২. খালিদ ইবনু মুহাজির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি : “যেমনিভাবে ফরজ সালাত একাকী পড়ার চেয়ে জামাআতে পড়া উত্তম, তেমনিভাবে নফল সালাত প্রকাশ্যে পড়ার চেয়ে গোপনে পড়া উত্তম।”[১৬০]

প্রতিদানের প্রত্যাশা
১৪৩. কাসিম আবূ আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لَا أَجْرَ لِمَنْ لَا حِسْبَةً لَهُ
“যে ব্যক্তি (আল্লাহ তাআলার কাছে) প্রতিদান প্রত্যাশা করে না, সে কোনো প্রতিদান পায় না।”[১৬১]

বলে বেড়ালে ইবাদাত নষ্ট হয়ে যায়
১৪৪. আবূ সালামা ইবনু আবদির রহমান রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলল, “আমি চার বছর ধরে একটানা রোজা রেখেছি।” রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
لَا صُمْتَ، وَلَا أَفْطَرْتَ
“তুমি রোজা রাখোনি, রোজা ভাঙোওনি।”[১৬২] কারণ, তুমি তা বলে বেড়াচ্ছ।

আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়
১৪৫. হাবীব ইবনু সুহাইব রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَا تَقَرَّبَ الْعَبْدُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى بِشَيْءٍ أَفْضَلَ مِنْ سُجُودٍ خَفِي
"বান্দা যে-সকল (আমলের) মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করে, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো গোপন সাজদা।" [১৬৩]

গোপনীয়তার সঙ্গে যিকর
১৪৬. দামরাতা ইবনু হাবীব রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
اذْكُرُوا اللَّهَ تَعَالَى ذِكْرًا خَامِلًا قَالَ: فَقِيلَ: وَمَا الذِّكْرُ الْخَامِلُ؟ قَالَ: الذِّكْرُ الْخَفِيُّ
"যিকরুন খামিলের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করো।” জিজ্ঞেস করা হলো, যিকরুন খামিল কী? তিনি বললেন, “গোপনীয় যিকর।” [১৬৪]

ঘরে কান্নাকাটি করা
১৪৭. মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, আবূ উমামা বাহিলি রদিয়াল্লাহু আনহু একবার মাসজিদে এসে দেখলেন, এক ব্যক্তি সাজদায় পড়ে কান্নাকাটি করছে এবং আল্লাহকে ডাকছে। তিনি তাকে বললেন, "আহ, এটা যদি তোমার ঘরে করতে!" [১৬৫]

টিকাঃ
[১৪৬] আবূ খাইসামাহ, কিতাবুল ইলম, ৩৬, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৪৭] সূরা আরাফ: ৫৫।
[১৪৮] সূরা মারইয়াম: ০৩।
[১৪৯] ওয়াকিহ ইবনুল জাররাহ, কিতাবুয যুহদ, ৩৩৮, মাকতু।
[১৫০] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৪৪, সনদ দঈফ; তবে এর সমার্থবোধক হাদীস সহীহ সনদে মারফুরূপে বর্ণিত হয়েছে।
[১৫১] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[১৫২] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[১৫৩] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/২২৪, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৫৪] তিরমিযি, ৩৬৪১, হাদীসটি হাসান। আলবানি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
[১৫৫] তিরমিযি, ৩৬৪২, মু'দাল এবং অন্য কিতাবে হাসান সনদে মাওসুলরূপেও বর্ণিত হয়েছে। আলবানি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
[১৫৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৪৪, হাদীসটি দঈফ, তবে এর সমার্থবোধক হাদীস হাসান সনদেও বর্ণিত হয়েছে।
[১৫৭] সনদ দঈফ। তবে হাদীসটি অন্যান্য সনদে বর্ণিত হওয়ায় সহীহ। বুখারি, ৫৭৪১।
[১৫৮] সনদ সহীহ, মাওকুফ। ইমাম বুখারি 'সাওম' অধ্যায়ে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
[১৫৯] হিলাল ইবনু ইয়াসাফ পর্যন্ত হাদীসটির সনদ সহীহ। হাদীসটির বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
[১৬০] এখানে হাদীসটি মাকতু, তবে এর সমার্থবোধক হাদীস মারফুরূপে বর্ণিত হয়েছে।
[১৬১] সনদ হাসান, মুরসাল।
[১৬২] সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১৬৩] সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১৬৪] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/১৪০, সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১৬৫] সনদ সহীহ, মাওকুফ。

প্রশ্ন: আমি ঊনিশ বছর বয়সের অবিবাহিত যুবক এবং নারীর সৌন্দর্যে আমি প্রভাবিত হয়ে যাই, এখন আমি কী করব, এমনকি আমি নারী থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলি (তারপরও সমস্যা), কেননা সে তার প্রতি আমার মনোযোগ এমনভাবে আকর্ষণ করে ফেলেছে, যা আমাকে তার ব্যপারে সবসময় চিন্তায় ফেলে রাখে?
উত্তর: তোমার জন্য আবশ্যকীয় করণীয় হলো তুমি তোমার চক্ষুকে নারীদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া থেকে অবনমিত রাখবে এবং তাদের ব্যাপারে তোমার চিন্তা করা বন্ধ করবে, আর আল্লাহ তা'আলা নিষ্পাপ পবিত্র বান্দাগণের জন্য যা প্রস্তুত করেছেন তা স্মরণ করবে এবং হারাম থেকে দূরে থাকবে, আর তোমার জন্য আরও আবশ্যক করণীয় হলো দ্রুত বিয়ের কাজ সম্পন্ন করবে। কারণ, তা দৃষ্টিকে সবচেয়ে বেশি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে, আর তা চিন্তা দূর করে এবং নিজেকে বৈধ ও হালালের ওপর সীমাবদ্ধ রাখে। আর আল্লাহই সবচেয়ে বেশি জানেন।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন

📘 Biggan moy quran > 📄 সৌরজগত (The Solar system)

📄 সৌরজগত (The Solar system)


প্রশ্ন: আমাদের শহরে পরিবহণগুলো গণপরিবহণ এবং নারী-পুরুষ সম্মিলিত, আবার কখনও কখনও অনিচ্ছাকৃতভাবে অথবা কোনো প্রকার আকাঙ্খা ছাড়াই কোনো কোনো নারীর সাথে সংস্পর্শ হয়ে যায়, যা মূলত ভিড়ের কারণেই হয়ে থাকে। সুতরাং এমতাবস্থায় আমরা গুনাহগার হব কিনা? আমরা কী করব, আর আমাদের তো এসব পরিবহণ ছাড়া চলাচল করার ক্ষমতা বা উপায়ও নেই?
উত্তর: এ অবস্থায় পুরুষ ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো নারীদের সংস্পর্শ এবং এমন ভিড়ের মধ্য থেকে দূরে থাকা, যেখানে তার শরীর তাদের শরীরের সাথে মিলে যায়, যদিও তা পরিহিত পোশাকের আড়াল থেকে হউক না কেন। কারণ, এটা ফিতনার সুড়সুড়ি দেয়, আর মানুষ নিষ্পাপ নয়, কখনও কখনও সে মনে করে যে, সে এ কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলছে এবং এর দ্বারা সে প্রভাবিত নয়, কিন্তু শয়তান তো বনী আদমের রক্ত সঞ্চালনের শিরায় শিরায় চলাচল করে, ফলে কখনও কখনও তার থেকে এমন উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে, যা তার স্বাভাবিক কাজকে বিপর্যস্ত করবে। সুতরাং মানুষ যখন নিরোপায় হয়ে এ কাজে বাধ্য হয় এবং এর দ্বারা প্রভাবিত হবে না বলে মনে করে, তখন আশা করি এতে তার গুনাহ হবে না। কিন্তু আমার ধারণা মতে তার জন্য এ ধরনের নিরোপায় অবস্থাও উত্তরণ করা অসম্ভব নয়। কেননা তার পক্ষে এমন একটি স্থান খুঁজে নেওয়া সম্ভব, যেখানে তার নারীর সাথে সংস্পর্শ হবে না, এমনকি যদি সে দাঁড়িয়েও থাকে, আর এর দ্বারা সে এ কাজ থেকে বাঁচতে পারে, যা ফিতনাকে অপিরহার্য করে তুলে। আর পুরুষ ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো- সে সাধ্যানুসারে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করবে এবং এসব কাজ বা বিষয়কে তুচ্ছ ও সহজ মনে করবে না।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-'উসাইমীন

📘 Biggan moy quran > 📄 পৃথিবী (The Earth)

📄 পৃথিবী (The Earth)


প্রশ্ন: এখানে আধুনিক সভ্যতার দাবিদারগণের কেউ কেউ ভাবির (ভাইয়ের বউ'র) চেহারার দিকে তাকানোকে বৈধ বলে প্রচার করেন এবং এর সপক্ষে কিছু বিশুদ্ধ দলীলও (তাদের দৃষ্টিতে) পেশ করেন। এর জবাবে আপনাদের মতামত কীভাবে ব্যক্ত করবেন, সবিনয়ে জানতে চাই?
উত্তর: ভাইয়ের বউ তথা ভাবি অন্যান্য নারীর মতো-ই অপরিচিত বা পরনারীদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তার ভাইয়ের জন্য তার (ভাবির) দিকে তাকানো বৈধ নয়, যেমনিভাবে বৈধ নয় চাচী, মামী ও তাদের মত নারীদের দিকে তাকানো। আর তার জন্য বৈধ নয় সকল অপরিচিত নারীদের মত তাদের কোনো একজনের সাথে একান্ত নির্জনে সাক্ষাৎ করা, আর তাদেরও কারো জন্য বৈধ নয় তার স্বামীর ভাই তথা দেবরের সামনে বা তার (দেবরের) চাচা বা মামার সামনে বেপর্দা অবস্থায় চলাফেরা করা অথবা তাকে নিয়ে সফর করা বা একান্ত নির্জনে অবস্থান বা সাক্ষাৎ করা। কারণ, আল্লাহ তা'আলা সাধারণভাবে বলেন:
﴿وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَسْلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ﴾ [الاحزاب: ৫৩]
"তোমরা তার পত্নীদের কাছ থেকে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এ বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য বেশি পবিত্র"। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৩]
আহলুল ইলমের বিশুদ্ধ মতে এ আয়াতটি সাধারণভাবে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ ও অন্যান্য নারীদের বেলায় সমানভাবে প্রযোজ্য। তাছাড়া আল্লাহ তা'আলা আরও বলেছেন:
قُل لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ ﴾ [النور: ٣٠ ]
"মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটিই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩০]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: يَأَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ [الاحزاب: ٥٩]
"হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৯]
আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: لَا تُسَافِرُ المَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ».
"কোনো মাহরাম পুরুষের সাথে ছাড়া কোনো নারী সফর করবে না। "16 নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: لا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ».
"কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না। তবে জেনে রাখবে এমতাবস্থায় তাদের সাথে তৃতীয় জন হলো শয়তান। "17 তাছাড়া তার দেবর বা অনুরূপ কোনো পুরুষের সামনে বেপর্দা অবস্থায় চলার মধ্যে এবং ঐ পুরুষ কর্তৃক তার চেহারার দিকে তাকানোর মধ্যে ফিতনার অনেক কারণ নিহিত রয়েছে এবং আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক। আল্লাহই ভালো জানেন- এসব বিষয়ই হলো পর্দার বিষয়টি বাধ্যতামূলক হওয়ার, তাদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া ও তার সাথে একান্ত নির্জনে সাক্ষাৎ করাটা নিষিদ্ধ ঘোষণার অন্যতম হিকমত। কেননা চেহারা হলো সৌন্দর্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আর আল্লাহই হলেন তাওফীক দানের একমাত্র মালিক।
শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায

টিকাঃ
¹⁶ সহীহ বুখারী ও মুসলিম
¹⁷ তিরমিযী, হাদীস নং- ২১৬৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00