📘 Biggan moy quran > 📄 মানুষের আদি উৎস

📄 মানুষের আদি উৎস


মানুষের আদি উৎস (The origin of man)
Allah's will — Energy — Nucleons & electrons — Atoms -- Molecules & elements — Physical body+life+soul (sense of selfhood)+Qalb (wisdom & Knowledge)+Divine soul=MAN.
পৃথিবীতে মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত আছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অগ্রহণযোগ্য এবং বিজ্ঞান বহির্ভূত মতবাদ হচ্ছে চার্লস ডারউইনের 'মানব বিবর্তনবাদ' তত্ত্বটি। এতে সে (ডারউইন) বলেছে, প্রতিটি জীব বিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বলে বর্তমানে আধুনিক মানব প্রজাতি বিবর্তনের আওতাভুক্ত এবং আদি Primate এর একটি শাখার উন্নত সংস্করণই বর্তমান সুন্দর মানব। বহু কোষী কার্ডাটা (chordata) পর্বের মেরুদন্ডী ও স্তন্যপায়ী চার পা (Legs) বিশিষ্ট বানর, গরিলা শিম্পাঞ্জি এবং মানুষ প্রাইমেট-এর অন্তর্ভুক্ত। আদি প্রাইমেট এর বিবর্তনের বিভিন্ন শাখায় কেউ হয়েছে বানর, কেউ হয়েছে গরিলা, কেউ শিম্পাঞ্জি এবং সর্বাধিক বিবর্তনের সহায়ক প্রজাতির একটি শাখা মানুষে পরিণত হয়েছে।
ঊনবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানীরা ডারউইনের উক্ত মতবাদটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার সামনে টিকছে না বিধায় বাতিল করে দিয়েছেন। শুধুমাত্র কিছু নাস্তিক বিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী এ তত্ত্বটি একশ ভাগ সত্য মেনে নিয়ে তাদের লিখিত বই পত্রে উদ্ধৃত করে থাকে।
বাস্তববাদী বিজ্ঞানীরা ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্বের অবাস্তবতা প্রমাণ করতে গিয়ে যুক্তি প্রদর্শন করেছেন, যদি বানর কিংবা শিম্পাঞ্জির বিবর্তনের ফলে মানুষ সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে মানুষের বিচার ক্ষমতা, প্রজ্ঞা, বিবেক, বুদ্ধিমত্তা, আত্মশক্তি, উদ্ভাবনী শক্তি, চিন্তাশক্তি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যও কি বিবর্তনের ফল? যা বানর কিংবা শিম্পাঞ্জির মধ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সৃষ্টি কূলের মধ্যে একমাত্র মানুষই কথা বলতে পারে। স্বর যন্ত্রের সাহায্যে শব্দ তৈরী করে কথা বলার জন্য মানুষের মস্তিস্কে একটা অঞ্চল রয়েছে যার নাম 'ব্রোকার জোন'। শিম্পাঞ্জি, গরিলা, বানর কিংবা অন্য যে কোন প্রাণীর মস্তিস্কে ব্রোকার জোনের সন্ধান মেলেনি। তাই অন্যান্য প্রাণীরা কথা বলতে পারে না। এসব বৈশিষ্ট্য ছাড়াও ৬টি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য মানুষের আছে যা বানর কিংবা শিম্পাঞ্জির মধ্যে নেই।
যেমন- (১) চলনঃ শুধু মানুষই পুরাপুরি দু'পায়ে হাটতে সক্ষম। (২) মুষ্টিবদ্ধতাঃ মুষ্টিবদ্ধ করার ক্ষমতা কেবল মানুষের রয়েছে। হাতের পাঁচটি আঙ্গুল ইচ্ছামত সঞ্চালন করে লিখার কাজ, অস্ত্র চালানোর কাজ এবং অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে পারে মানুষ।
(৩) মস্তিস্কের বিকাশঃ মানুষের মস্তিস্ক এতো বেশী উন্নত যার দরুন নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের পরতে পরতে অভিযান চালাতে মানুষ সক্ষম।
(৪) শৈশব ও প্রাক বয়ঃসন্ধিকালঃ মানুষের শৈশব ও প্রাক বয়ঃসন্ধিকাল দীর্ঘ হওয়ায় মা ও শিশুর সম্পর্ক ঘনিষ্ট হয়েছে এবং মায়ের কাছ থেকে শিশু শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছে।
(৫) সামাজিক জীবনঃ উন্নত সামাজিক জীবন মানুষের অন্যতম সাফল্য এবং পৃথিবীতে প্রাধান্য বিস্তারের অন্যতম মূল শক্তি।
(৬) নৈতিক বিকাশঃ নীতিগতভাবে মানুষ সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, আলো-আঁধার ইত্যাদি পার্থক্য করতে পারে।
মলিকুউল ভিত্তিক কার্বন ব্যবহারের ফলে যে সব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে সে বিক্রিয়ার ধারাবাহিকতার মধ্যে সৃষ্ট যে প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা 'জীবন' (Life) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। এ প্রক্রিয়া দ্বারা জীবন একটি সিস্টেমে পরিণত হয়েছে এবং জীবনের এ সিস্টেম বৃদ্ধি ও প্রজনন কাজে সাহায্য করেছে। যেসব কোষ দ্বারা মানুষ সৃষ্টি হয় সেসব কোষকে প্রধানত চার ধরনের জৈব পদার্থ (Organic Substance) পার্থক্য করে দেখাতে পারে। এসব জৈব পদার্থ হলো, কার্বোহাইড্রেট, ফেটস, নিউক্লিক এসিড এবং প্রোটিন। এ চার উপাদানের সাথে থাকে অজৈব বস্তু (inorganic Substance)। জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কে যে আধুনিক চিন্তাভাবনা তা হলো কিভাবে জৈব বস্তু অস্তিত্ব লাভ করেছে।
প্রাণীদেহ তৈরী হয় একটার পর একটা কোষ সাজিয়ে। কোষের অভ্যন্তরে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার মধ্যে আছে DNA। জীবনের শুরু অবশ্যই DNA থেকে। DNA এর গঠন পদ্ধতি এতই জটিল যে, এটিকে দেখতে কিছুটা মোচড়ানো (twisted) মইয়ের মত মনে হয়। বিজ্ঞানীরা একে বলেন Double Helix (স্ক্রু ন্যায় পেঁচানো)। এ মইয়ের ধাপগুলি চার ধরনের মলিলের বহুবিধ জোড়ার সংযোগে তৈরী হয়ে থাকে; এরা হলো এ্যাডেনিন (adenin), থাইমিন (thymine), গুয়ানিন (guanine) ও সাইটোসিন (cytosine)।
এ DNA-ই প্রাণের মৌলিকতম অণু যা বংশগতির ধারক আর বাহক। মানুষ যে দেখতে ঠিক মানুষেরই মত, বানর কিংবা শিম্পাঞ্জির মত নয়। তার কারণ মানুষের DNA ওদের DNA থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বিশ্বের প্রতিটি প্রাণীরই রয়েছে তার নিজস্ব পরিচায়ক আলাদা DNA। আবার দু'টি মানুষ যে দেখতে এক রকম হয় না তার কারণ হচ্ছে, দু'জন মানুষের মধ্যেও থাকে আলাদা আলাদা DNA। পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের DNA এর গঠন আলাদা আলাদা। এরই বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং এ। যেহেতু দু'টি মানুষের DNA এক রকম হতে পারে না। তাই DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং হয়ে দাঁড়িয়েছে আজকে সনাক্ত করনের অব্যর্থ হাতিয়ার। ফিঙ্গার প্রিন্টিং সম্পর্কে আল-কোরআনের তথ্য-
بَلَى قَدِرِينَ عَلَى أَنْ نُسَوِّى بَنَانَهُ More over, We are able to restore his very finger tips in perfect order. পরন্তু, আমরা মানুষের আঙ্গুলের অগ্রভাগ সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম। (কিয়ামাহ-৪)
তাহলে বলা যেতে পারে একটি প্রাণী যেসব কোষ দিয়ে তৈরী সেই কোষের মধ্যকার DNA হচ্ছে তার গোটা শরীরের ব্লু-প্রিন্ট। বংশগতি বৈশিষ্ট্যের ধারক আর বাহক DNA (Deoxyribonucleic Acid) যার মধ্যে ধরা থাকে শারীরিক ও মানসিক গঠন, চেহারার প্রতিচ্ছবি এবং আচার-আচরণগত বৈশিষ্ট্য। বানর কিংবা শিম্পাঞ্জির বিবর্তন থেকে মানুষ সৃষ্টি হয়ে থাকলে মানুষের সারা শরীর লোম দ্বারা আবৃত থাকত। মানুষের লেজ গজাত এবং বানরের অন্যসব বৈশিষ্ট্য মানুষের DNA এর মধ্যে ধরা থাকত।
পৃথিবীর নিখিল ধর্ম বিশারদগণ বলেছেন, আসলে দুর্মতি ডারউইন মানুষকে নাস্তিকতার (Atheism) দিকে ধাবিত করার উদ্দেশ্যে বিবর্তনবাদ তত্ত্বটি দাঁড় করিয়েছে। কারণ সমস্ত ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে, মানুষের একজন আদি পুরুষ আছেন।
মানুষ যে স্বয়ম্ভু কিছু নয়, বরং আল্লাহর সৃষ্ট জীব। বিজ্ঞানীরা এ বক্তব্য বিশ্বাস করেন। কিন্তু এ বক্তব্যের সমর্থনে এ যাবত আনুষ্ঠানিক কোন তথ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেন নি। পক্ষান্তরে মানুষ যে আল্লাহর সৃষ্টি নয়। অর্থাৎ কোরআন ও অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থে মানব সৃষ্টি সংক্রান্ত বক্তব্য যে সত্য নয় সে সম্পর্কেও বিজ্ঞান কোন দলিল প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অধিকন্তু নাস্তিক্যবাদের স্বপক্ষে স্বতঃসিদ্ধ কোন শক্তিশালী প্রমাণ এ যাবত বিজ্ঞানীরা পাননি।
তবে এটা পজিটিভলি স্বীকার করা হয় যে, মানুষ সৃষ্টির সুচনায় যেসব উপাদান (মৃত্তিকা ও পানি) কোরআন ব্যাপকভাবে উল্লেখ করেছে। তা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সত্য। মৃত্তিকা অর্থাৎ মৃত্তিকার উপাদান মলিকুউল অথবা মৃত্তিকার সারনির্যাস (সুলালাত) হলো মানুষের দেহ গঠনের রাসায়নিক উপাদান। মানবদেহ পরিগঠনের প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান যেগুলি মলিকুউল তৈরী করে সেসব উপাদান ও উপকরণ মৃত্তিকায় বিদ্যমান। এটা সত্য যে সৃষ্টির গোড়াতে সৃষ্টিশীল বিবর্তনের একটি ধারা প্রাণী জগতে চালু ছিল। এ 'সৃষ্টিশীল বিবর্তন' দুর্মতি ডারউইনের তথাকথিত 'বিবর্তনবাদ' এর ধারণা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাছাড়া সৃষ্টিশীল বিবর্তন তথা রূপান্তর প্রক্রিয়া বিজ্ঞানের একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য — একথা বিজ্ঞানের ছাত্রদের মধ্যে কে না জানে।
সুতরাং সৃষ্টিশীল বিবর্তনের এক পর্যায়ে মহাশক্তিধর ও সর্বময় সৃষ্টি কর্তা এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তিনি পৃথিবীতে নতুন এক জোড়া 'জীবন্ত প্রাণী' সৃষ্টি করবেন এবং এ জীবন্ত প্রাণী জোড়ার গঠন উপাদানগুলি নিয়ে মানুষ চিন্তা গবেষণা করে সৃষ্টির কৌশলগত প্রক্রিয়া উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।
অপরপক্ষে, এই 'জীবন্ত প্রাণীদ্বয়' সৃষ্টির পূর্বে পৃথিবীতে আরও অনেক 'জীবন্ত প্রাণী' বিদ্যমান ছিল; ঐসব জীবন্ত প্রাণী "সৃষ্টিশীল বিবর্তনবাদ" প্রক্রিয়ায় পরিব্যাপ্ত ছিল। তাদের গঠনাকৃতি, দেহাবয়ব, শারীরিক শক্তি, ও সক্রিয় ক্ষমতা ছিল। কিন্তু তাদের ছিল না বাক শক্তি, প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা, বিবেকবোধ ও চিন্তাশক্তি।
সুতরাং এটা খুবই স্পষ্ট যে, মহান আল্লাহর মহতী ইচ্ছায় সৃষ্টিশীল বিবর্তনের ধারায় এক জোড়া 'জীবন্ত প্রাণী' সৃষ্টি হলো। যাঁরা আজকের গোটা মানব জাতির আদি পিতা-মাতা (The origin parents of men)। আল কোরআনে আদি পিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে আদম (আঃ)। আদম শব্দের আভিধানিক অর্থ Earth বা গোধুম বর্ণ মাটি। জীবনের শুরু যেহেতু DNA থেকে। গোধুম বর্ণ মাটি কিংবা কাদামাটি DNA ও প্রোটিন উপাদানে অণুঘটক (Catalyst) হিসেবে কাজ করে। ক্যাটালিস্ট নিজের পরিবর্তন না ঘটিয়ে অন্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এই পরিবর্তন বিবর্তনের ধারায় প্রবাহিত হয়ে জীবন্ত জীবন জোড়ার (আদম ও হাওয়া-আঃ) বংশধরদের শারীরিক গঠন কাঠামোর পদ্ধতি-প্রক্রিয়ার বিবর্তন ও রূপান্তর ঘটে চলে ভ্রূণ (embryo) সৃষ্টির পর থেকে। এটাই হলো আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের আবিস্কার, গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার ফলাফলজাত সিদ্ধান্ত।
মানুষ যে আল্লাহর সৃষ্ট জীব, উপরের আলোচনা হলো তারই যৌক্তিক ব্যাখ্যা। কোরআন বলছে, আল্লাহ তাআলা মানুষ সৃষ্টি করেছেন সেরকম আকার আকৃতি দিয়ে, যেরকম আকার আকৃতি তিনি ইচ্ছা করেছেন। মহামহিম আল্লাহর এ ইচ্ছার প্রকাশ ঘটেছে একটা সাংগঠনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে। এ পরিকল্পনার ধারায় প্রয়োজনীয় উপাদানগুলির পরিবর্তন-বিবর্তন ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে মানুষ গড়ে উঠেছে সুঠামদেহী, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও গৌরবমন্ডিত একক সৃষ্টজীব হিসেবে। যা শুরুতে একটি ফর্মুলার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করার পর তাঁকে জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়ে সমস্ত সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন এবং তাঁর নফস থেকে একজন সঙ্গিনী (Spouse) সৃষ্টি করেন। যার নাম 'হাওয়া' (আঃ)। তিনি সমগ্র মানবজাতির আদি জননী (Origin mother) হাওয়া আলাইহিস সালাম।
আদম এবং হাওয়ার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর উভয়ের মিলনের ফলে মাতৃগর্ভে সন্তান সৃষ্টি হয় যা ২৮০ দিন পর সুন্দর মানব রূপে ভূমিষ্ট হয়। এভাবে বিশ্বময় গোটা মানব জাতি সম্প্রসারিত হয়েছে এবং মানুষ সৃষ্টির এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সরাসরি মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির আর প্রয়োজন নেই।
يَأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً.
O' mankind! Be dutiful to your Lord, Who created you from a single person (Adam), and from him He created his wife (Hawa), and from them both He created many men and women.
হে মানব জাতি! তোমাদের প্রভুর অনুগত হও যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের দু'জন থেকে বিস্তার করেছেন অগণিত নারী পুরুষ। (নিসা-১)
وَاللهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَنِينَ وَحَفَدَةً وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّبَتِ أَفَبِالْبَاطِلِ يُؤْمِنُونَ وَبِنِعْمَةِ اللَّهِ هُمْ يَكْفُرُونَ.
And Allah has made for you mates of your own kind and has made from your mates, your children and grand children and has provided you with good things. will they then believe in vain things and deny the favour of Allah?
আল্লাহ তোমাদের নফস থেকে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং উভয়ের মধ্য থেকে অপত্য আর পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ সরবরাহ করেছেন। অতএব, তারা কি অযৌক্তিক বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করে? (নহল-৭২)
উক্ত আয়াত দু'টি থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ডারউইনের মানব বিবর্তনবাদ তত্ত্বটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিমূলক এবং অযৌক্তিক যার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
মানুষ বানরে রূপান্তরিত হওয়ার একটি ঘটনা আল-কোরআনে উল্লেখ আছে। সম্ভবত মি. ডারউইন উক্ত ঘটনাটি উল্টো করে মানব বিবর্তনবাদ তত্ত্বটি সাজিয়েছে।
ঘটনাটি হচ্ছে, মাদইয়ান ও তুর পাহাড়ের মধ্যবর্তী সমুদ্রের তীরে একটি জনপদ ছিল যার নাম 'আইলা'। ইহুদীরা সেখানে বসবাস করত। আল্লাহ তাআলা হযরত দাউদ (আঃ) কে তাদের নবী করে পাঠিয়েছিলেন। প্রতি শনিবার নদীর ধারে প্রচুর মাছ এসে খেলা করত। তাই আল্লাহ শনিবারে মাছ শিকার করা ইহুদীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছিলেন। এ আদেশ পাওয়ার পর ইহুদীরা দু'দলে বিভক্ত হয়ে যায়। একদল আল্লাহর আদেশ মেনে নিয়ে শনিবারে মাছ শিকার করা থেকে বিরত থাকে। অপর দল একটি অপকৌশল অবলম্বন করে নদীর ধারে ধারে কূপ খনন করে রাখে এবং শনিবারে মাছগুলোকে তারা কূপের ভিতর ঢুকিয়ে আটকে দিত। পরের দিন আটকানো মাছগুলো শিকার করত। একদিন সকাল বেলা জনপদের লোকেরা লক্ষ্য করলেন এরূপ অপকৌশল অবলম্বনকারী তথা আল্লাহর আদেশ অমান্যকারী ইহুদীদের বস্তিতে অস্বাভাবিক নিরবতা বিরাজ করছে। তাই আল্লাহর আদেশ মান্যকারীর দল সেখানে পৌঁছে দেখলেন যে, সবাই বিকৃত হয়ে বানর আর লেজবিহীন গরিলায় রূপান্তরিত হয়ে গেছে।
وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدُوا مِنْكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ
Well you know those among you who transgressed in the matter of the saturday. We said to them, Be you monkeys, despised and rejected.
তোমরা তাদেরকে ভালোরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করেছিল। আমি বললাম, 'তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।' (বাকারা-৬৫)
فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَا نُهُوا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ
So when they exceeded the limits of what they were prohibited, We said to them 'Be you Apes' despised and rejected.
যখন তারা সীমা অতিক্রম করতে লাগল সে কর্মে, যা থেকে তাদের বারণ করা হয়েছিল। তখন আমি নির্দেশ দিলাম, 'তোমরা লাঞ্ছিত গরিলা হয়ে যাও।' (আ’রাফ-১৬৬)
References:
1. The origin of man; Dr. Maurice Bucaille, 2nd edn., Jan. 1996
2. Al-Quran & Modern Science; Mullah Shamsuddin Ahmed, 1st edn., Jan. 1992

প্রশ্ন: আমার প্রশ্ন, নারীর কাজ করা এবং মাহরাম পুরুষ ব্যতীত ভিন্ন শহরে তার অবস্থান করার বিধান প্রসঙ্গে, জেনে রাখা দরকার যে, আমি বর্তমানে এমন এক রাজ্যে এমন এক স্থানে কাজ করি যেখানে সবাই নারী এবং আমি কর্মক্ষেত্রের সাথেই সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ বিভাগে বসবাস করি, আর সেখানের সবাইও নারী। 'আল-হামদুলিল্লাহ' আল্লাহর শুকরিয়া যে, এখানে নারী-পুরুষে মেশামেশি বা আল্লাহ তা'আলার অসন্তুষ্টির কোনো কারণ বিদ্যমান নেই, চাই সেটা কর্মক্ষেত্রে হউক অথবা বসবাসের ক্ষেত্রেই হউক, আর আমি শরী'আতসম্মত মাহরাম পুরুষ হিসেবে আমার ভাইকে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছি; কিন্তু আমি তাতে সক্ষম হই নি। সুতরাং বর্তমানে আমার এ অবস্থা এবং মাহরাম পুরুষ ব্যতীত এখনে আমার অবস্থানের ব্যাপারে শরী'আতের বিধান কী? জেনে রাখা দরকার যে, প্রথমত: আমি এখানে হাযির হওয়ার পূর্বে আল্লাহ তা'আলার নিকট বহুবার 'ইস্তিখারা' ২৮ করেছি এবং অনুভব করেছি যে, আল্লাহ অনেক কাজ আমার জন্য সহজ করে দেবেন। দ্বিতীয়ত: কর্মক্ষেত্রে আমার শহরে নারী-পুরুষে মেশামেশি ও মন্দ চরিত্রের দিক থেকে অবস্থা এমন যে, কোনো সভ্য মুসলিম সেখানে তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে উৎসাহবোধ করে না। অতএব, আমি যা বললাম তার আলোকে আপনাদের অভিমত কী?
উত্তর: আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের ও আপনার জন্য তাওফীক ও উত্তম পরিবেশ প্রার্থনা করছি, আর আপনি এই যে অবস্থান করছেন তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কেননা কোনো শহরে মাহরাম পুরুষ ব্যতীত নারীর অবস্থান করাটা শরী'আতের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো দোষের নয় এবং তাতে কোনো সমস্যাও নেই, বিশেষ করে এটা যখন সমজাতীয়দের ব্যাপার তখন তাতে বিপদ বা ঝুঁকি নেই। তাছাড়া পুরুষদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে নারীদের মাঝে কাজ করাটা আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক বৈধ করা পেশার অন্তর্ভুক্ত অথবা নারীদের মাঝে অভ্যন্তরীণ বিভাগে অবস্থান করাটাও কোনো সমস্যা নয়; কিন্তু আপনার জন্য নিষিদ্ধ হলো একাকি অবস্থায় সফর করা। সুতরাং আপনি মাহরাম পুরুষ ছাড়া সফর করবেন না এবং মাহরাম পুরুষ ছাড়া কর্মস্থলে আগমন করবেন না। আর যখন আপনার দেশ বা শহর থেকে মাহরাম পুরুষ ছাড়া আগমন করে ফেলেছেন, তখন আপনার জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করা, আর যখন সফর করার ইচ্ছা করবেন, তখন আপনার জন্য অপরিহার্য হলো মাহরাম পুরুষ সঙ্গী থাকা। সুতরাং মাহরাম পুরুষ আসা পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করবেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لا تُسَافِرُ المَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ».
"কোনো মাহরাম পুরুষের সাথে ছাড়া কোনো নারী সফর করবে না। "29
আর যদি নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে কোনো মাহরাম পুরুষের পক্ষে এ দায়িত্ব পালন করাটা সহজ হয় ভালো, নতুবা বিয়ের মাধ্যমে সে অভাব পূরণ করতে হবে, ফলে আপনার জন্য স্বামীই মাহরাম পুরুষের ভূমিকায় সফরের সাথী হতে পারবে। সুতরাং বিষয়টি আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিন, আর সফরের সময় আপনার দায়িত্ব হলো আপনার সাধ্যানুসারে কাজ করা, দেখবেন শেষ পর্যন্ত মাহরাম পুরুষের অভাব পূরণ হয়ে গেছে। আর নারীদের মাঝে আপনার এখনকার অবস্থান এবং বৈধ কর্মে নিয়োজিত থাকার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, আল-হামদুলিল্লাহ।
আর কোনো সন্দেহ নেই যে, মাহরাম পুরুষ সাথে ছাড়া নারীর সফর খুবই বিপজ্জনক এবং তাতে ঝুঁকি ও ফিতনার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে, আর এ জন্যই আমরা আমাদের দীনী বোনদেরকে উপদেশ দিচ্ছি এর থেকে সতর্ক হওয়ার জন্য এবং তারা যেন মাহরাম পুরুষ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই সফর না করেন।
আমরা তাদেরকে আরও উপদেশ দিচ্ছি পুরুষদের সাথে মেশার অথবা পুরুষের সাথে কাজ করার অথবা পুরুষদের সাথে নির্জনে অবস্থান করার প্রশ্নে সর্বোচ্চ সতর্ক হওয়ার জন্য-এ সবগুলো ব্যাপারে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, চাই তা হাসপাতালেই হউক অথবা অন্য যে কোনো জায়গাতেই হউক।
আর সকলের জন্য আমার উপদেশ হলো, তারা যেন কোনো নারীকে তার মাহরাম পুরুষ ছাড়া আসতে না বলেন, নারী যেন মাহরাম পুরুষ সঙ্গী ছাড়া সফর না করে, পুরুষের সাথে কাজ না করে এবং তার মাহরাম নন এমন কোনো পুরুষের সাথে একান্ত নির্জনে অবস্থান না করে। কেননা তা ফিতনার মহাসড়ক, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা নিষেধ করেছেন এবং তাকে হারাম ঘোষণা করেছেন, তিনি বলেন:
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ ، فَإِنَّ ثَالِقَهُمَا الشَّيْطَانُ».
"কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না। কারণ, তাদের সাথে তৃতীয় জন হলো শয়তান।"30
আর এ হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, আবশ্যকীয়ভাবে নারী ও তার অভিভাবকদেরকে সম্মান রক্ষার জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং ফিতনার যাবতীয় কারণ ও উপলক্ষ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করা, আর নারী কর্তৃক কাজ করার ব্যাপারে কথা হলো, বৈধ কাজে নারী নারীদের মাঝে কাজ করাতে কোনো অসুবিধা নেই, তাতে তার দীনের ক্ষতি হবে না এবং পুরুষদের সাথে ফিতনার কোনো কারণও তৈরি হবে না।
শাইখ আবদুল 'আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায

টিকাঃ
²⁸ 'ইস্তিখারা' হলো কোনো বিষয়কে কেন্দ্রে করে নির্ধারিত কিছু দো'য়ার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নিকট সে বিষয়ে ভালো ও কল্যাণ কামনা করা। -অনুবাদক。
²⁹ সহীহ বুখারী ও মুসলিম。
³⁰ ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল রহ. হাদীসটি সহীহ সনদে উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00