📘 Biggan moy quran > 📄 চন্দ্র বিজয়

📄 চন্দ্র বিজয়


মূলতঃ ১৯৫৭ সাল থেকে মহাকাশ অভিযান আরম্ভ হয়। এ অভিযানের প্রথম সফলতা চন্দ্র পৃষ্ঠে মানুষের অবতরণ। বিজয়ের দিনটি ছিল ১৯৬৯ সালে ২১শে জুলাই।

এ্যাপোলো-১১ নামক নভোযানে চড়ে চাঁদের দেশে পাড়ি দেন তিনজন নভোচারী - নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স এবং এডউইন অলড্রিন। প্রায় ২ লক্ষ ৩৯ হাজার মাইল ভ্রমণ করে তারা তিনদিন পর চাঁদের দেশে পৌঁছান। তখন রাত ১২টা ১৭ মিনিট ৪১ সেকেন্ড। মূলযান কলম্বিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চন্দ্র তরী ঈগল চাঁদের বুকে অবতরণ করে। নীল আর্মস্ট্রং ঈগলের জানালা খুলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য অবলোকন করেন।

মানবজাতির রূপকথার দেশ, চাঁদের দেশ, প্রসারিত ঊর্মিহীন ধূলিময় বিশাল মরুভূমি এখন তার চোখের সামনে দৃশ্যমান। ঈগলের মইয়ের নয়টি ধাপ বেয়ে আর্মস্ট্রং চাঁদের বুকে পদচিহ্ন রাখেন। আর আবেগজড়িত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন, "That's one small step for a man is one giant leap for mankind" অর্থাৎ এটা একজন মানুষের জন্য একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ। কিন্তু গোটা মানবজাতির জন্য এক বিশাল পদক্ষেপ। চন্দ্র পৃষ্ঠে অবতরণ ছিল গোটা মানবজাতির দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত ও স্বপ্নিল মুহূর্ত। এ বিজয় মহাকাশে মানুষের নিত্য নতুন অভিযানের পথ খুলে দিয়েছে। এটি এক যুগান্তকারী ঘটনা। নীল আর্মস্ট্রং এবং তার দুই সহকারী চাঁদের বুকে একটি বিশেষ যানও অবতরণ করান। তারা পায়ে হেঁটে এবং বিশেষ যানে চড়ে চন্দ্র পৃষ্ঠে ঘুরে বেড়ান। চাঁদে অবতরণ করার পর মুহূর্তে তারা ভূ-পৃষ্ঠে কন্ট্রোল রুমে রেডিও বার্তা প্রেরণ করেন। বার্তাটি ছিল "হিউস্টন ট্রাংকুইলিটি বেজ হেয়ার, দি ঈগল হ্যাজ ল্যান্ডেড।" এ বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে সবাই আনন্দ-উল্লাসে উদ্বেলিত হয়ে উঠেন। মুহূর্তে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে মানব জাতির এ অবিস্মরণীয় ঘটনাটি।

মহানুভব আল্লাহ তা'আলা সপ্তম শতাব্দীতে পৃথিবীবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রথম চন্দ্র অভিযান সফল হবে।

اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ.
The time is nigh and the moon is pierced (conquered).
অতি নিকট সময়ে চন্দ্র বিদীর্ণ (অভিযান সফল হবে) হবে। (ক্বামার-১)

উক্ত আয়াতের আরো একটি ব্যাখ্যা রয়েছে হাদীস গ্রন্থে। একদা জ্যোৎস্না রাতে মক্কার কাফেররা নবীজী (সাঃ)-কে পরীক্ষা করার জন্য বলল, হে মুহাম্মদ (সাঃ), আপনি যদি প্রকৃত নবী হয়ে থাকেন তাহলে ঐ দূর আকাশের চাঁদকে ইশারা করুন দেখি? আপনার ইশারায় চাঁদে কিছু ঘটে কিনা আমরা দেখব। রাসূল (সাঃ) তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে চাঁদের প্রতি আঙ্গুল ইশারা করলেন। সাথে সাথে চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়ে আকাশের দুই প্রান্তে চলে যায় এবং পর মুহূর্তে খন্ডিত অংশদ্বয় এসে মিশে যায়। এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে উপস্থিত কাফেরেরা এবং সাহাবাগণ।

নীল আর্মস্ট্রং ইসলামে নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনী হয়তোবা জানতেন। চন্দ্র পৃষ্ঠে একটি দ্বিখন্ডিত রেখা পর্যবেক্ষণ করে তিনি হতবাক হয়ে যান। আর কাফেরদের মোকাবেলায় মুহাম্মদ (সাঃ) চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করার যে মু'জিজা (অলৌকিক ঘটনা) প্রদর্শন করেছিলেন তা স্মরণ করেন। তখন তিনি প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করে মুহাম্মদ (সাঃ) প্রদর্শিত ধর্ম ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। পৃথিবীতে ফিরে এসে জনাব আর্মস্ট্রং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মর্মে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন: মাহরাম পুরুষ সঙ্গী ছাড়া কাজের মেয়ের আগমনের ব্যাপারে শরী'আতের বিধান কী? তার নিজ শহর থেকে মাহরাম পুরুষ ব্যতীত আগমন করা অথবা যে ঘরে কাজ করবে সেখানে তার সাথে মাহরাম পুরুষের উপস্থিতি ছাড়া তার একাকি অবস্থান করাটা কি হারাম?
উত্তর: মাহরাম পুরুষ সঙ্গী ছাড়া কোনো নারীর সফর করা বৈধ নয়, চাই সে কাজের মেয়ে হউক অথবা অন্য যে কোনো নারী। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
لا تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ».
"কোনো মাহরাম পুরুষের সাথে ছাড়া কোনো নারী সফর করবে না।"25
তবে মহিলার জন্য ঘরে অবস্থান করার জন্য মাহরাম পুরুষের উপস্থিতি বা অবস্থানের প্রয়োজন নেই; কিন্তু অপরিচিত বা পরপুরুষের জন্য কোনো নারীকে নিয়ে একান্তে অবস্থান করার কোনো সুযোগ (ইসলামে) নেই। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ».
"কোনো মাহরাম পুরুষ সাথী ছাড়া কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না। "26
তিনি আরও বলেন:
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ ، فَإِنَّ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ».
"কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না। কারণ, তাদের সাথে তৃতীয় জন হলো শয়তান।" ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল রহ. হাদীসটি সহীহ সনদে উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
শাইখ আবদুল ‘আযীয ইবন আবদুল্লাহ ইবন বায

টিকাঃ
²⁵ সহীহ বুখারী ও মুসলিম。
²⁶ সহীহ বুখারী ও মুসলিম。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00