📄 নভোযান অবতরণ
পৃথিবীতে ফিরে আসার জন্য নভোযানের কক্ষপথীয় বেগ কমাতে হয়। যাতে করে তা প্রথম মহাজাগতিক বেগের তুলনায় কম হয়। তখন নভোযানটি পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরতে থাকে। অপটিক্যাল ভিউ ফাইন্ডার দিয়ে পৃথিবীর উপরিভাগের দিকে নভোচারীরা লক্ষ্য রাখেন এবং ধীরে ধীরে নভোযানের দিক পরিবর্তন করেন। নিয়ন্ত্রণ প্যানেল থেকে ইঞ্জিন পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে নির্দেশাবলীকে জটিল পথ অতিক্রম করতে হয়।
অতঃপর নভোযান প্রচন্ড বেগে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে। পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথচ্যুত হওয়ার সময় নভোযানের যে বেগ থাকে বর্তমান বেগ তার চেয়ে দেড় গুণ বেশী। অবতরণের সময় উচ্চ চাপ যাতে নির্ধারিত মান ছাড়িয়ে না যায় এবং নভোযান যাতে নির্দিষ্ট স্থানে নামতে পারে এজন্য বায়ুমন্ডলে প্রবেশের সময় কোণ ও স্থান সঠিকভাবে মেনে চলতে হয়।
যদি পৃথিবীর বায়ুমন্ডল না থাকতো তাহলে নভোযান পৃথিবী ছাড়িয়ে যে ন্যূনতম দূরত্ব অতিক্রম করতো, তাকে শর্তাধীন অনুভূ বলা হয়। শর্তাধীন অনুভূ নির্দিষ্ট মানের চেয়ে বেশী হলে নভোযান বায়ুমন্ডলের উপরিভাগের খণ্ডিত স্তরগুলিতে অপেক্ষাকৃত ধীরে মন্দনপ্রাপ্ত হবে এবং অবতরনের নির্ধারিত স্থান ছাড়িয়ে যাবে। আর শর্তাধীন অনুভূ নির্দিষ্ট মানের চেয়ে কম হলে নভোযানের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে অবতরণ করবে না। তাই নভোযানকে অতি ক্ষুদ্র কোণে (প্রায় স্পর্শক বরাবর) বায়ু মন্ডলে অনুপ্রবেশ করতে হয়। নির্ধারিত মান থেকে এক ডিগ্রী বিচ্যুতি হলে ফল হয় অতি মারাত্মক।
অবশেষে নভোযানের বেগ কমে সেকেন্ডে ২০০ মিটার-এ এসে পৌঁছে। এবার রিটারডেশন প্যারাসুট খুলে যায়। একটি বিস্ফোরণের শব্দের সাথে সাথে রিটারডেশন প্যারাসুটের কাপড় ছিটকে যায়। অবতরণ যন্ত্রের উপর প্রথমে স্ট্রেটিং প্যারাসুট এবং পরে বিচিত্র বিশালাকার মূল প্যারাসুটটিও খুলে যায়। নভোচারীসহ কেবিন ধীরে ধীরে নামতে থাকে। সুতরাং মহাশূন্য অভিযান শেষ হয়েছে। নভোযানটি পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেছে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে খুবই স্পষ্ট হয়েছে যে, মহাশূন্য অভিযান (যা ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত অসম্ভব মনে করা হতো) পরিচালনা করতে কি বিপুল দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত নৈপুণ্যতা প্রয়োজন। আর এ দক্ষতা ও কলাকৌশল উদ্ভাবন করেছে মানুষ জ্ঞান শক্তি দিয়ে। যা কেবল একজন থেকে এসেছে। তিনি সকল জ্ঞানের অধিকারী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। তাই আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান শক্তির বলে মানুষ মহাশূন্যে প্রবেশ করতে পারবে- এ তথ্য কোরআনের আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রকাশ করেছেন স্পষ্ট করে।
يَمَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا وَ لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَن.
O assembly of Jinns and men, if you are able to penetrate the regions of the heavens and the earth then penetrate you. But you shall never be able to penetrate them without a great power (from Allah).
হে জ্বীন ও মানবমন্ডলী, যদি তোমরা প্রবেশ করতে পার নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল এলাকায় তাহলে প্রবেশ কর। তবে মহা ক্ষমতা ব্যতীত তোমরা মোটেও প্রবেশ করতে পারবে না। (আর-রাহমান-৩৩)
ডঃ মরিস বুকাইলি The Bible, The Quran and Science গ্রন্থে বলেছেন, প্রবেশ করা বা To penetrate আরবী ক্রিয়াপদ 'নাফাজা' এর অনুবাদ। এর সাথে 'মিন' অব্যয় সংযুক্ত রয়েছে। আর 'নাফাজা'র অর্থ কোন কিছুর ভেতরে সোজা ঢুকে গিয়ে তার অপর পার্শ্বে বেরিয়ে যাওয়া। একটা তাঁর যেভাবে এফোঁড়-ওফোঁড় চলে যায়। সুতরাং কোরআনের এ আয়াতে এ শব্দগুচ্ছের দ্বারা আলোচ্য মহাশূন্য এলাকায় গভীরভাবে প্রবেশ করে এলাকার অপর পার্শ্বে পৌঁছানোর কথাই বুঝানো হয়েছে।
Yusuf Ali 'সুলতান' এর অনুবাদ করেছেন Authority বা কর্তৃত্ব। অর্থাৎ আল্লাহপাক প্রদত্ত জ্ঞানের কর্তৃত্ব মানুষ পেলে মহাশূন্য বিজয় করতে সমর্থ হবে।
ডঃ মরিস বুকাইলি সুলতান سلطن শব্দের অনুবাদে লিখেছেন 'মহাক্ষমতা'। মহাশূন্য বিজয়ের কর্মসূচিতে মানব জাতি যে মহাক্ষমতার (সুলতান) বলে সাফল্য অর্জন করবে। ধারণা করা যেতে পারে, সেই ক্ষমতা আসবে সর্বশক্তিমান আল্লাহর তরফ থেকে।
সুতরাং এতে সন্দেহের কোন অবকাশ থাকছে না যে, মানুষ একদিন আমরা যাকে বলছি মহাশূন্য বিজয় (যদিও তা এখনো সঠিক অর্থে নয়) সেই বিজয় অর্জনে যে সক্ষম হবে, এ আয়াতের দ্বারা সুস্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আরো একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, কোরআনের এ আয়াতে শুধু মহাশূন্যে মানুষের প্রবেশের কথাই বলা হয়নি। সে সাথে পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগে মানুষের অনুসন্ধান-কর্ম সম্পাদনের কথাও বলা হয়েছে।
وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَابًا مِّنَ السَّمَاءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ. لَقَالُوا إِنَّمَا سُكرَتْ اَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَّسْحُورُونَ.
Even, if We opened out to them a gate from the heaven and they were to continue ascending therein. They would surely say, "Our eyes have been intoxicated. Nay we have been bewitched by sorcery."
যদি আমরা আকাশের কোন দরজা তাদের জন্য খুলে ধরতাম এবং তারা উহাতে আরোহণ করতো তাহলে নিশ্চয়ই বলতো, "আমাদের চক্ষু মোহাচ্ছন্নতায় বিভ্রান্ত হয়েছে। বরং আমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।" (হিযর-১৪-১৫)
ধারণার বাইরে অতি অদ্ভুত কিছু দর্শনে মানুষের যে বিস্ময়, উপরোক্ত আয়াতে তার প্রকাশ ঘটেছে। এ আয়াতে আরও প্রকাশ পেয়েছে, নভোচারীরা এমন অপ্রত্যাশিত দৃশ্য অবলোকন করবেন যে, তার ফলে তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়ে পারবে না। বস্তুতঃ নভোচারীদের দৃষ্টি ধাঁধিয়ে যাবে। যেভাবে মোহাচ্ছন্ন মাতাল অবস্থায় কারো চোখ বিভ্রান্ত হয়। মনে হয় যেন যাদু করা হয়েছে।
এ প্রতিক্রিয়ার কারণেই হয়তো বা সোভিয়েট নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন মহাশূন্য সফরে গিয়ে ধাঁধায় পড়ে গিয়েছিল এবং পৃথিবীতে ফিরে এসে বলেছিল যে, মহাশূন্যে সে আল্লাহ বল, স্রষ্টা বল, কারো দেখা পায়নি। অপরপক্ষে, একই মহাশূন্য দর্শন করে মার্কিন নভোচারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। তারা চন্দ্র পৃষ্ঠে অবতরণের পর স্রষ্টার উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য প্রার্থনার সময় চেয়ে নেন। উল্লেখ্য যে, চন্দ্র বিজয়ী জেমস আরউইন সম্প্রতি ধর্মান্তরিত হয়েছেন। এ্যাপোলো-১৫ নভোযানের ফ্লাইট সদস্য হিসেবে জেমস আরউইন ১৯৭২ সালে চাঁদে পদার্পন করেন।
প্রশ্ন: এ ধরনের সম্পর্কের বিধান কী?
উত্তর: প্রশ্নকর্তার 'বিবাহপূর্ব' কথার দ্বারা যদি উদ্দেশ্য হয় 'সহবাসের পূর্বে এবং বিবাহচুক্তি সম্পাদনের পর' তাহলে এ ধরনের সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই। কারণ, 'আকদ' তথা বিবাহ সম্পাদনের দ্বারা সে তার স্ত্রী হয়ে গেছে, যদিও তথাকথিত বাসর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় নি, আর যদি এ ধরনের সম্পর্ক 'আকদ' সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে প্রস্তাব চলাকালীন সময়ের মাঝে হয় অথবা এরও পূর্বে হয়, তাহলে তা হারাম ও অবৈধ। কারণ, কোনো পুরুষ মানুষের জন্য বৈধ নয় যে, সে অপরিচিত নারীর সাথে কথা বলার মাধ্যমে অথবা তার প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার মাধ্যমে অথবা একান্ত নির্জনে বসে মজা উপভোগ করবে। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ، وَلَا تُسَافِرُ المَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ».
"কোনো মাহরাম পুরুষ সাথী ছাড়া কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না, আর কোনো মাহরাম পুরুষের সাথে ছাড়া কোনো নারী সফর করবে না। "24
মোটকথা: যখন এ ধরনের মেলামেশা 'আকদ' সম্পন্ন হওয়ার পরে হয়, তাহলে তাতে কোনো দোষ নেই, আর যদি 'আকদ' সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে হয়, যদিও তা প্রস্তাবের পরে ও কবুলের আগে হয়, তবুও তা বৈধ হবে না এবং তার জন্য এটা হারাম হবে। কেননা বিবাহচুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য সে অপরিচিত নারী।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-'উসাইমীন
টিকাঃ
²⁴ সহীহ বুখারী ও মুসলিম。
📄 চন্দ্র বিজয়
মূলতঃ ১৯৫৭ সাল থেকে মহাকাশ অভিযান আরম্ভ হয়। এ অভিযানের প্রথম সফলতা চন্দ্র পৃষ্ঠে মানুষের অবতরণ। বিজয়ের দিনটি ছিল ১৯৬৯ সালে ২১শে জুলাই।
এ্যাপোলো-১১ নামক নভোযানে চড়ে চাঁদের দেশে পাড়ি দেন তিনজন নভোচারী - নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স এবং এডউইন অলড্রিন। প্রায় ২ লক্ষ ৩৯ হাজার মাইল ভ্রমণ করে তারা তিনদিন পর চাঁদের দেশে পৌঁছান। তখন রাত ১২টা ১৭ মিনিট ৪১ সেকেন্ড। মূলযান কলম্বিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চন্দ্র তরী ঈগল চাঁদের বুকে অবতরণ করে। নীল আর্মস্ট্রং ঈগলের জানালা খুলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য অবলোকন করেন।
মানবজাতির রূপকথার দেশ, চাঁদের দেশ, প্রসারিত ঊর্মিহীন ধূলিময় বিশাল মরুভূমি এখন তার চোখের সামনে দৃশ্যমান। ঈগলের মইয়ের নয়টি ধাপ বেয়ে আর্মস্ট্রং চাঁদের বুকে পদচিহ্ন রাখেন। আর আবেগজড়িত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন, "That's one small step for a man is one giant leap for mankind" অর্থাৎ এটা একজন মানুষের জন্য একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ। কিন্তু গোটা মানবজাতির জন্য এক বিশাল পদক্ষেপ। চন্দ্র পৃষ্ঠে অবতরণ ছিল গোটা মানবজাতির দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত ও স্বপ্নিল মুহূর্ত। এ বিজয় মহাকাশে মানুষের নিত্য নতুন অভিযানের পথ খুলে দিয়েছে। এটি এক যুগান্তকারী ঘটনা। নীল আর্মস্ট্রং এবং তার দুই সহকারী চাঁদের বুকে একটি বিশেষ যানও অবতরণ করান। তারা পায়ে হেঁটে এবং বিশেষ যানে চড়ে চন্দ্র পৃষ্ঠে ঘুরে বেড়ান। চাঁদে অবতরণ করার পর মুহূর্তে তারা ভূ-পৃষ্ঠে কন্ট্রোল রুমে রেডিও বার্তা প্রেরণ করেন। বার্তাটি ছিল "হিউস্টন ট্রাংকুইলিটি বেজ হেয়ার, দি ঈগল হ্যাজ ল্যান্ডেড।" এ বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে সবাই আনন্দ-উল্লাসে উদ্বেলিত হয়ে উঠেন। মুহূর্তে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে মানব জাতির এ অবিস্মরণীয় ঘটনাটি।
মহানুভব আল্লাহ তা'আলা সপ্তম শতাব্দীতে পৃথিবীবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রথম চন্দ্র অভিযান সফল হবে।
اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ.
The time is nigh and the moon is pierced (conquered).
অতি নিকট সময়ে চন্দ্র বিদীর্ণ (অভিযান সফল হবে) হবে। (ক্বামার-১)
উক্ত আয়াতের আরো একটি ব্যাখ্যা রয়েছে হাদীস গ্রন্থে। একদা জ্যোৎস্না রাতে মক্কার কাফেররা নবীজী (সাঃ)-কে পরীক্ষা করার জন্য বলল, হে মুহাম্মদ (সাঃ), আপনি যদি প্রকৃত নবী হয়ে থাকেন তাহলে ঐ দূর আকাশের চাঁদকে ইশারা করুন দেখি? আপনার ইশারায় চাঁদে কিছু ঘটে কিনা আমরা দেখব। রাসূল (সাঃ) তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে চাঁদের প্রতি আঙ্গুল ইশারা করলেন। সাথে সাথে চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়ে আকাশের দুই প্রান্তে চলে যায় এবং পর মুহূর্তে খন্ডিত অংশদ্বয় এসে মিশে যায়। এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে উপস্থিত কাফেরেরা এবং সাহাবাগণ।
নীল আর্মস্ট্রং ইসলামে নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনী হয়তোবা জানতেন। চন্দ্র পৃষ্ঠে একটি দ্বিখন্ডিত রেখা পর্যবেক্ষণ করে তিনি হতবাক হয়ে যান। আর কাফেরদের মোকাবেলায় মুহাম্মদ (সাঃ) চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করার যে মু'জিজা (অলৌকিক ঘটনা) প্রদর্শন করেছিলেন তা স্মরণ করেন। তখন তিনি প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করে মুহাম্মদ (সাঃ) প্রদর্শিত ধর্ম ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। পৃথিবীতে ফিরে এসে জনাব আর্মস্ট্রং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মর্মে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন: মাহরাম পুরুষ সঙ্গী ছাড়া কাজের মেয়ের আগমনের ব্যাপারে শরী'আতের বিধান কী? তার নিজ শহর থেকে মাহরাম পুরুষ ব্যতীত আগমন করা অথবা যে ঘরে কাজ করবে সেখানে তার সাথে মাহরাম পুরুষের উপস্থিতি ছাড়া তার একাকি অবস্থান করাটা কি হারাম?
উত্তর: মাহরাম পুরুষ সঙ্গী ছাড়া কোনো নারীর সফর করা বৈধ নয়, চাই সে কাজের মেয়ে হউক অথবা অন্য যে কোনো নারী। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
لا تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ».
"কোনো মাহরাম পুরুষের সাথে ছাড়া কোনো নারী সফর করবে না।"25
তবে মহিলার জন্য ঘরে অবস্থান করার জন্য মাহরাম পুরুষের উপস্থিতি বা অবস্থানের প্রয়োজন নেই; কিন্তু অপরিচিত বা পরপুরুষের জন্য কোনো নারীকে নিয়ে একান্তে অবস্থান করার কোনো সুযোগ (ইসলামে) নেই। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ».
"কোনো মাহরাম পুরুষ সাথী ছাড়া কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না। "26
তিনি আরও বলেন:
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ ، فَإِنَّ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ».
"কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না। কারণ, তাদের সাথে তৃতীয় জন হলো শয়তান।" ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল রহ. হাদীসটি সহীহ সনদে উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
শাইখ আবদুল ‘আযীয ইবন আবদুল্লাহ ইবন বায
টিকাঃ
²⁵ সহীহ বুখারী ও মুসলিম。
²⁶ সহীহ বুখারী ও মুসলিম。