📘 Biggan moy quran > 📄 কিভাবে রকেট মহাশূন্যে উৎক্ষিপ্ত হয়

📄 কিভাবে রকেট মহাশূন্যে উৎক্ষিপ্ত হয়


নভোযান পরিবহনকারী রকেট তার শক্তিশালী ইঞ্জিনের কার্যপ্রণালী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। গ্যাস নিষ্কাশনের ফলে রকেট-ইঞ্জিনে শক্তি সঞ্চার হয় এবং জ্বালানি দহনের ফলে এ গ্যাস সৃষ্টি হয়। একক সময়ে যত বেশি গ্যাস নিষ্কাশিত হয় সক্রিয় বল অর্থাৎ ইঞ্জিনের আকর্ষণ বলও তত বেশি প্রবল হয়। বড় আকারের বল সৃষ্টির জন্য শুধুমাত্র দহনই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী ও অপেক্ষাকৃত দীর্ঘস্থায়ী অগ্নিশিখা, অনেকটা মন্দীভূত বিস্ফোরণের মতো। দুই বা তিনটি রকেটের সমন্বয়ে গঠিত রকেটকে রকেট স্তর বা রকেট রেলগাড়ি বলা হয়। রকেট স্তর বা রকেট রেলগাড়ি উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে আনা হয় এবং এখান থেকে মহাকাশ যাত্রা শুরু হয়। উড্ডয়নের পর অঙ্গীভূত রকেটের স্তরগুলো ক্রমানুসারে কাজ করে। যেমন সমস্ত রেলগাড়ি চালায় প্রথম স্তর। যখন প্রথম স্তরের সব জ্বালানি নিঃশেষ হয়ে যায়, তখন প্রথম স্তর রকেট থেকে আলাদা হয়ে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। যার ফলে পরবর্তী পর্যায়ে উড্ডয়নশীল যন্ত্রের ভর হ্রাস পায়। এরপর দ্বিতীয় স্তরের ইঞ্জিন চালু হয়। রকেটের অবশিষ্ট অংশসমূহের ভরবেগ সঞ্চারের কাজ চালাতে থাকে দ্বিতীয় স্তরের ইঞ্জিন। এরপর দ্বিতীয় স্তরটিও পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এবার তৃতীয় স্তর শুধু প্রয়োজনীয় বোঝা বহন করে। আর এ প্রয়োজনীয় বোঝাটি হলো স্বয়ংক্রিয় স্টেশন বা নভোযান এবং শুধুমাত্র স্বয়ংক্রিয় স্টেশনটিই প্রয়োজনীয় মহাজাগতিক বেগ অর্জন করে।

সাধারণত শেষ স্তরে সরঞ্জাম মডিউল স্থাপিত হয়। সেখানে রকেটের উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রপাতি থাকে। এখান থেকে আদেশ দেওয়া হয় ইঞ্জিন চালু ও বন্ধ করার আদেশ, স্তর আলাদা করার আদেশ, উড্ডয়নের দিক পরিবর্তন কিংবা প্রয়োজনীয় বেগ বজায় রাখার আদেশ ইত্যাদি।

রকেট উৎক্ষেপণ করার সময় এভাবে সবকটি সিস্টেম কার্যোপযোগী করে পরীক্ষা করা হয় তারা নির্বিঘ্নে কাজ করছে কি না। ভূ-গর্ভস্থ গুদাম থেকে পাম্প স্টেশনগুলির সাহায্যে রকেটের ট্যাঙ্কগুলিতে শত শত টন জ্বালানি ও অক্সিডাইজার (তরল অক্সিজেন) ভরা হয়। তরল অক্সিজেন বায়বীয় অবস্থায় পরিবর্তন হয় বলে উৎক্ষেপণকালে রকেট সাদা মেঘে আচ্ছাদিত হয়ে যায়। উৎক্ষেপণের মাত্র আর ক'ঘণ্টা বাকি। নভোচারীরা এগিয়ে আসেন। ক্ষণিকের বিদায়। তারপর নভোযানে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেন।

ইঞ্জিন চালু করা মাত্র প্রচণ্ড আওয়াজ সবকিছুকে বধির করে তোলে। রকেটের নিচ থেকে ক্ষিপ্রবেগে অগ্নিশিখা নির্গত হয়। মনে হয় অগ্নিঝড় সবকিছুকে গিলে ফেলেছে। রকেট প্রচণ্ড বেগে ঊর্ধ্ব থেকে ঊর্ধ্বতর দূরত্বে ধাবিত হচ্ছে। অপটিক্যাল যন্ত্রপাতির লেন্সের সাথে মহাকাশ যানের উপর দৃষ্টি রাখে রাডার স্টেশনের অ্যান্টেনা। টিভি পর্দায় মহাকাশ যানটিকে চলমান উজ্জ্বল বিন্দু বলে মনে হয়। নভোযানের রেডিও তরঙ্গে উৎক্ষেপণ সমাহারের সবকটি বেতার কেন্দ্রই সমন্বিত।

এখন ওভার-লোডিং বৃদ্ধি পায়। মহাকাশযান আরও ঊর্ধ্বে উঠতে থাকে। নভোচারীরা শুনতে পায় প্রথম স্তরের কপিকলকে বিচ্ছিন্নকারী পাইরোচাক (pyrocuck) কিভাবে কাজ করতে শুরু করল। সাথে সাথে ওভার-লোডিং হ্রাস পেয়ে যায় এবং রকেট রেলগাড়ির অবশিষ্টাংশকে দ্বিতীয় স্তরের ইঞ্জিনসমূহ লুফে নেয়। এখন অবগুণ্ঠিত পোর্ট হোলে কৃষ্ণবর্ণ আকাশ ও উজ্জ্বল অকম্পিত নক্ষত্ররাজি নভোচারীদের পরিদৃষ্ট হয়। পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ হওয়ার জন্য নভোযানটিকে প্রথম মহাজাগতিক বেগ লাভ করতে হবে।

প্রশ্ন: যেসব ম্যাগাজিনে নারীদের প্রায় উলঙ্গ ছবি প্রকাশ করা হয়, সেসব ম্যাগাজিন পাঠ করা এবং ঐসব ছবি দেখার বিধান কী হবে?
উত্তর: আমরা প্রত্যেক মুসলিমকে যাবতীয় ফিতনা ও তার সকল উপায় উপকরণ থেকে দূরে থাকার জন্য উপদেশ দিচ্ছি, যাতে সে তার দীনকে হিফাযত করতে পারে, যে দীন তার কর্মকাণ্ডের সংরক্ষক, আর কোনো সন্দেহ নেই যে, সুন্দরী নারীদের নগ্ন বা প্রায় উলঙ্গ ছবি দেখার বিষয়টি যেনা-ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করার এবং অশ্লীল কাজে প্রলুব্ধ করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। কারণ, তা মনের অভিপ্রায় বা আগ্রহকে জাগ্রত করে ঐসব নারীদের সাথে অথবা তাদের মতো অপরাপর নারীদের সাথে মিলিত হওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে এবং এ লক্ষ্য অর্জনের পথে সকল উপায় ও সর্বশক্তি নিয়োগ করতে।
সুতরাং স্বীয় নাফসের কল্যাণকামী মুসলিম ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও মানানসই দিক হলো সে নিজেকে এমন সব বস্তু ও বিষয় থেকে রক্ষা করবে, যা তার চরিত্রকে কলুষিত করে।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন

📘 Biggan moy quran > 📄 মহাশূন্যে নভোযান

📄 মহাশূন্যে নভোযান


মহাশূন্যে নভোযান
দীর্ঘদিনব্যাপী মহাশূন্যে উড্ডয়নকালে নভোচারীরা কক্ষপথ মডিউলে বিশ্রাম গ্রহণ করেন এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন। কক্ষপথ স্টেশনের সাথে নভোযানের ডকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ডকিং ইউনিটটিকেও এই মডিউলে স্থাপন করা হয়। কক্ষপথে স্থাপনের সময় ডকিং এবং পৃথিবীতে অবতরণের সময় নভোচারীরা যে অবতরণ-মডিউলকে সংযুক্ত করে, তা বৃত্তাকার হ্যাচ-ওয়ে। অবতরণ মডিউলে নভোচারীদের জন্য বিশেষ ধরনের আসন আছে। উর্ধ্বে উৎক্ষেপণ ও কক্ষপথ হতে অবতরণের সময়কার ওভারলোডিংকে সহজে সহনীয় করার জন্য নভোচারীরা এই আসনগুলিতে না বসে শুয়ে থাকেন।

মহাশূন্যে সব কাজই বাঁধা সময়ে চলে। স্পেস ঘড়িতে শুধু তৎকালীন সময় নির্দেশকই নয়, এখানে একটি স্টপ-ওয়াচও থাকে, যাকে ইচ্ছামত চালানো ও বন্ধ করা যায়। আসল ব্যাপারটা হলো এই যে, নভোযানের নিয়ন্ত্রণ অনেকগুলি নির্দেশের উপর নির্ভরশীল এবং এই নির্দেশগুলি অতি সূক্ষ্মভাবে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে দিতে হয়।

আরও একটি চিত্তাকর্ষক যন্ত্র হলো নেভিগেশন গ্লোব। এই গ্লোবটি দেখে সবসময় জানা সম্ভব, এখন পৃথিবীর উপরিভাগের কোন অংশে উড়ে চলেছে নভোযান। যদি আকস্মিকভাবে উড্ডয়ন সমাপ্ত করতে হয়, তাহলে নভোচারী গ্লোব দেখে অবতরণ স্থল পছন্দ করতে পারেন। গ্লোব দেখে নভোচারীরা জানতে পারেন কখন নভোযানটি পৃথিবীর ছায়ায় প্রবেশ করছে এবং কখন পৃথিবীর ছায়া ত্যাগ করছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা, পৃথিবীর উপরিভাগে নভোযানের অবস্থান নির্ণয় ইত্যাদির জন্য এর প্রয়োজন।

প্রশ্ন: কোনো মানুষ অপরিচিত নারীদের ছবি সংগ্রহ করে এবং তার দিকে তাকায়, আর এর দ্বারা মজা উপভোগ করে এ যুক্তি দেখিয়ে যে, এসব তো ছবি, আসল নয়। সুতরাং এ ব্যাপারে শরী'আতের বিধান কী?
উত্তর: এটা খুব মারাত্মক ধরনের ঘৃণ্য কাজ, আর এটা হলো মানুষ যখন নারীর দিকে তাকায়, চাই এটা দর্শনযোগ্য প্রচার মাধ্যমের দ্বারা হউক অথবা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে হউক অথবা এগুলো ছাড়া অন্য যে কোনোভাবেই হউক, তখন অবশ্যই এর থেকে পুরুষের অন্তরে ফিতনার সৃষ্টি হয়, যা তাকে আকর্ষণ করে সরাসরি নারীর দিকে তাকানোর সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য, আর এটা হলো একটা দেখা জিনিস। আর আমাদের নিকট খবর আছে যে, কোনো কোনো যুবক সুন্দরী নারীদের ছবি সংগ্রহ করে তাদের দিকে তাকিয়ে আনন্দ পাওয়ার জন্য অথবা তাদের দিকে তাকিয়ে মজা উপভোগ করার জন্য, আর এটি প্রমাণ করে যে, এসব ছবি দর্শনের মধ্যে বড় ধরনের ফিতনা নিহিত রয়েছে। সুতরাং কোনো মানুষের জন্য এসব ছবি দেখা বৈধ নয়, চাই তা কেনো ম্যাগাজিনে হউক অথবা কোনো পত্রিকার মধ্যে হউক অথবা অন্য কোনো খানে। কারণ, এর মধ্যে এমন ফিতনা রয়েছে, যা তার দীনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং তার অন্তরকে নারীদের দিকে তাকাতে আসক্ত ও অনুরক্ত করবে, ফলে সে সব সময় সরাসরি নারীদের দিকে তাকিয়ে থাকবে, আর আল্লাহই সবকিছু ভালো জানেন।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-'উসাইমীন

📘 Biggan moy quran > 📄 মহাজাগতিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র

📄 মহাজাগতিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র


মহাজাগতিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র
কক্ষপথে আবর্তনশীল নভোযান উড়ন্ত পাখির কথা মনে করিয়ে দেয়। সৌর ব্যাটারির উন্মুক্ত প্যানেলের ডানা নভোযানের এ সাদৃশ্যতার কারণ। নভোযানের সিস্টেম সমূহ ও যন্ত্রপাতির কাজের জন্য বৈদ্যুতিক শক্তির প্রয়োজন, যা তারা পায় সৌর ব্যাটারি (সৌর ব্যাটারি সূর্য রশ্মিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে) এবং রাসায়নিক তড়িৎ সঞ্চয়ক (Chemical accumulator) থেকে। যানমধ্যস্থ নেটওয়ার্কে তড়িৎ-চাপ যখন নির্দিষ্ট মানের নীচে নামে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রগুলি তখন সৌর ব্যাটারিগুলিকে তড়িৎ সঞ্চয়কের সাথে সংযুক্ত করে। এভাবে বৈদ্যুতিক শক্তির ঘাটতি পূরণ করা যায়।

অবস্থান নির্দেশক প্রণালী
রকেটের শেষ স্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পর ক্ষীপ্রবেগে ধাবমান নভোযানটি অসীম শূন্যতার মাঝে বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরতে থাকে। এ অবস্থায় কোথায় পৃথিবী এবং কোথায় আকাশ নির্ণয় করার চেষ্টা চলে। ডিগবাজী খাওয়া অবস্থায় কেবিনের মধ্যে বসে নভোচারীদের পক্ষে নভোযানটির অবস্থান নির্ণয় করা অত্যন্ত কঠিন। মহাজাগতিক বস্তু অধ্যয়ন করা অসম্ভব। তেমনি অসম্ভব সৌর ব্যাটারীর পক্ষে কাজ করা। অতএব নভোযানটিকে বাধ্য করা হয় মহাশূন্যে একটি নির্দিষ্ট স্থান গ্রহণ করতে এবং তার অবস্থান নির্ণয় করা হয়। জ্যোতিষ্ক নিরীক্ষণের জন্য কতগুলি উজ্জ্বল নক্ষত্র, সূর্য অথবা চন্দ্রের আপেক্ষিক দিক স্থাপন করা হয়। সৌর ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি পেতে হলে তার প্যানেলগুলিকে সূর্যের দিকে মুখ করে রাখতে হয়। দু'টি নভোযান কাছাকাছি আসার জন্য তাদেরকে একে অপরের তুলনায় স্থান পরিবর্তন করতে হয়।
নভোযান অথবা মহাজাগতিক স্টেশনের দিক স্থাপন করার জন্য বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। যেমন, অপটিক্যাল যন্ত্র, যার সাহায্যে নভোচারীরা স্থানীয় লম্ব (পৃথিবী ও নভোযানের ভরকেন্দ্রদ্বয়কে সংযুক্তকারী সরল রেখা) থেকে নভোযানটির কৌণিক বিচ্যুতি নির্ণয় করেন। স্থানীয় লম্ব ইনফ্রা-রেড লম্ব-যন্ত্র দ্বারা নির্মাণ করা সম্ভব। যন্ত্রটি পৃথিবী ও মহাকাশের তাপের তুলনার ভিত্তিতে কাজ করে।

নভোচারীরা পৃথিবীর পরিবেশ সাথে নিয়ে যান
ভূ-পৃষ্ঠে আমরা বাতাসের কথা চিন্তা করি না। আমরা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিই। কিন্তু মহাশূন্যে শ্বাস নেয়া একটি বিশেষ সমস্যা। নভোযানের বাইরে চারিদিকে বায়ুশূন্য। নিঃশ্বাস গ্রহণ করার জন্য নভোচারীরা পৃথিবী থেকে বাতাস সাথে নিয়ে যান। মানুষ ২৪ ঘন্টায় প্রায় ৮০০ গ্রাম অক্সিজেন গ্রহণ করে। নভোযানে অক্সিজেনকে উচ্চ চাপে গ্যাসীয় অথবা তরল অবস্থায় সিলিন্ডারে রাখা যায়।
অক্সিজেন ছাড়া নভোচারীরা জল ও খাবারের রসদও সাথে নিয়ে যান। পলিথিন আস্তরণের মজবুত আধারে জল সংরক্ষিত থাকে। ওজন শূন্যতায় খোলা পাত্র থেকে জল উপচে পড়ে এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকার ধারণ করে ভাসতে থাকে। সেজন্য জলের আধারের সাথে দু'টি নল সংযুক্ত থাকে। একটি নল অর্গল সম্বলিত মাউথপিসে (mouth piece) শেষ হয়েছে। অপরটি পাম্প পর্যন্ত বিস্তৃত। পাম্পের সাহায্যে জলের আধারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে নভোচারী মাউথপিসকে মুখ-গহ্বরে রাখেন। তারপর অর্গলের বোতাম টিপে জল পান করেন। কেবল এভাবেই মহাশূন্যে জল পান করা সম্ভব। নভোযানে রন্ধনশালা, ল্যাট্রিন ইত্যাদি ব্যবস্থা থাকে।

নভোচারীদের পোশাক
নভোচারীরা এক অভিনব পোশাক পড়ে মহাশূন্যে বিচরণ করে। পোশাকের নাম স্পেসস্যুট (space suit)। নভোযানের বায়ু নিরোধ ব্যবস্থা বিকল হলে স্পেসস্যুট নভোচারীদের রক্ষা করে। কেবিনের অভ্যন্তরে চাপ হ্রাস পেলে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র স্পেসস্যুটের সাথে ঘনীভূত বাতাসের সিলিন্ডার সংযুক্ত করে। উন্মুক্ত মহাশূন্যে কিংবা অন্য কোন মহাকাশীয় বস্তুপৃষ্ঠে বিচরণের জন্যও স্পেসস্যুট প্রয়োজন। স্পেসস্যুট একটিমাত্র পোশাক নয়। বরং একটির উপর একটি পরিহিত পোশাকের সমন্বয়। সাদা রং তাপ বিকিরক রশ্মিকে ভালভাবে প্রতিহত করতে পারে বলে স্পেসস্যুটের উপরের তাপসহনকারী পোশাকটি সাদা রঙের। উপরের আচ্ছাদনের নীচে ক্রীন-ভ্যাকুয়াম তাপ-অন্তরন পোশাক আর তার নীচে বহু স্তরের আবরণ। এর ফলে স্পেসস্যুট সম্পূর্ণ বায়ু নিরোধতার নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে।
স্পেসস্যুটের একটি আবরণ থাকে বায়ু চলাচলের জন্য। যে একবার রাবারের দস্তানা বা জুতা পরেছে, সে জানে বায়ু নিরোধী পোশাক কত অসুবিধাজনক। তবে নভোচারীরা এ ধরনের অসুবিধা ভোগ করেন না। স্পেসস্যুটের বায়ু চলাচল ব্যবস্থা তাদেরকে এ অসুবিধার হাত থেকে অব্যাহতি দেয়। উন্মুক্ত মহাকাশে বিচরণকারী নভোচারীর পোশাক-পরিচ্ছদের তালিকায় দস্তানা, জুতা, শিরস্ত্রাণ অন্তর্ভুক্ত। শিরস্ত্রাণের পোর্টেহোলে রে ফিল্টার বসানো আছে। যা চোখ ধাঁধানো সূর্য-রশ্মির হাত থেকে চোখ রক্ষা করে। নভোচারীর পিঠে বিশেষ ধরনের থলি হ্যাভারস্যাক আছে। এ থলিতে কয়েক ঘন্টার জন্য অক্সিজেন মজুত থাকে এবং বায়ু পরিশোধন প্রণালীটিও এ থলির মধ্যে অবস্থান করে। নমনীয় স্ফীত-নল (hose) দ্বারা থলিটি স্পেসস্যুটের সাথে সংযুক্ত। যোগাযোগ তার ও সেফ্টি বেল্ট নভোচারীকে নভোযানের সাথে বেঁধে রাখে। নভোচারীকে উন্মুক্ত মহাকাশে ভাসতে সাহায্য করে নাতি বৃহৎ রিঅ্যাকটিভ মোটর।

নভোযান অবতরণ
পৃথিবীতে ফিরে আসার জন্য নভোযানের কক্ষপথের বেগ কমাতে হয়। যাতে করে তা প্রথম মহাজাগতিক বেগের তুলনায় কম হয়। তখন নভোযানটি পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরতে থাকে। অপটিক্যাল ভিউ ফাইন্ডার দিয়ে পৃথিবীর উপরিভাগের দিকে নভোচারীরা লক্ষ্য রাখেন এবং ধীরে ধীরে নভোযানের দিক পরিবর্তন করেন। নিয়ন্ত্রণ প্যানেল থেকে ইঞ্জিন পর্যন্ত পৌছানোর আগে নির্দেশাবলীকে জটিল পথ অতিক্রম করতে হয়।
অতঃপর নভোযান প্রচন্ড বেগে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে। পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথচ্যুত হওয়ার সময় নভোযানের যে বেগ থাকে বর্তমান বেগ তার চেয়ে দেড় গুণ বেশী। অবতরণের সময় উচ্চ চাপ যাতে নির্ধারিত মান ছাড়িয়ে না যায় এবং নভোযান যাতে নির্দিষ্ট স্থানে নামতে পারে এজন্য বায়ুমন্ডলে প্রবেশের সময় কোণ ও স্থান সঠিকভাবে মেনে চলতে হয়।
যদি পৃথিবীর বায়ুমন্ডল না থাকতো তাহলে নভোযান পৃথিবী ছাড়িয়ে যে ন্যূনতম দূরত্ব অতিক্রম করতো, তাকে শর্তাধীন অনুভূ বলা হয়। শর্তাধীন অনুভূ নির্দিষ্ট মানের চেয়ে বেশী হলে নভোযান বায়ুমন্ডলের উপরিভাগের খণ্ডিত স্তরগুলিতে অপেক্ষাকৃত ধীরে মন্দনপ্রাপ্ত হবে এবং অবতরনের নির্ধারিত স্থান ছাড়িয়ে যাবে। আর শর্তাধীন অনুভূ নির্দিষ্ট মানের চেয়ে কম হলে নভোযানের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে অবতরণ করবে না। তাই নভোযানকে অতি ক্ষুদ্র কোণে (প্রায় স্পর্শক বরাবর) বায়ু মন্ডলে অনুপ্রবেশ করতে হয়। নির্ধারিত মান থেকে এক ডিগ্রী বিচ্যুতি হলে ফল হয় অতি মারাত্মক।
অবশেষে নভোযানের বেগ কমে সেকেন্ডে ২০০ মিটার-এ এসে পৌঁছে। এবার রিটার্ডেশন প্যারাসুট খুলে যায়। একটি বিস্ফোরণের শব্দের সাথে সাথে রিটার্ডেশন প্যারাসুটের কাপড় ছিটকে যায়। অবতরণ যন্ত্রের উপর প্রথমে স্ট্রেচিং প্যারাসুট এবং পরে বিচিত্র বিশালাকার মূল প্যারাসুটটিও খুলে যায়। নভোচারীসহ কেবিন ধীরে ধীরে নামতে থাকে। সুতরাং মহাশূন্য অভিযান শেষ হয়েছে। নভোযানটি পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেছে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে খুবই স্পষ্ট হয়েছে যে, মহাশূন্য অভিযান (যা ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত অসম্ভব মনে করা হতো) পরিচালনা করতে কি বিপুল দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত নৈপুণ্যতা প্রয়োজন। আর এ দক্ষতা ও কলাকৌশল উদ্ভাবন করেছে মানুষ জ্ঞান শক্তি দিয়ে। যা কেবল একজন থেকে এসেছে। তিনি সকল জ্ঞানের অধিকারী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। তাই আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান শক্তির বলে মানুষ মহাশূন্যে প্রবেশ করতে পারবে- এ তথ্য কোরআনের আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রকাশ করেছেন স্পষ্ট করে।
يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا وَ لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ.
O assembly of Jinns and men, if you are able to penetrate the regions of the heavens and the earth then penetrate you. But you shall never be able to penetrate them without a great power (from Allah).
হে জ্বীন ও মানবমন্ডলী, যদি তোমরা প্রবেশ করতে পার নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল এলাকায় তাহলে প্রবেশ কর। তবে মহা ক্ষমতা ব্যতীত তোমরা মোটেও প্রবেশ করতে পারবে না। (আর-রাহমান-৩৩)
ডঃ মরিস বুকাইলি. The Bible, The Quran and Science গ্রন্থে বলেছেন, প্রবেশ করা বা To penetrate আরবী ক্রিয়াপদ 'নাফাজা' এর অনুবাদ। এর সাথে 'মিন' অব্যয় সংযুক্ত রয়েছে। আর 'নাফাজা'র অর্থ কোন কিছুর ভেতরে সোজা ঢুকে গিয়ে তার অপর পার্শ্বে বেরিয়ে যাওয়া। একটা তাঁর যেভাবে এফোঁড়-ওফোঁড় চলে যায়। সুতরাং কোরআনের এ আয়াতে এ শব্দগুচ্ছের দ্বারা আলোচ্য মহাশূন্য এলাকায় গভীরভাবে প্রবেশ করে এলাকার অপর পার্শ্বে পৌছানোর কথাই বুঝানো হয়েছে।
Yusuf Ali 'সুলতান' এর অনুবাদ করেছেন Authority বা কর্তৃত্ব। অর্থাৎ আল্লাহপাক প্রদত্ত জ্ঞানের কর্তৃত্ব মানুষ পেলে মহাশূন্য বিজয় করতে সমর্থ হবে।
ডঃ মরিস বুকাইলি সুলতান سلطن শব্দের অনুবাদে লিখেছেন 'মহাক্ষমতা'। মহাশূন্য বিজয়ের কর্মসূচিতে মানব জাতি যে মহাক্ষমতার (সুলতান) বলে সাফল্য অর্জন করবে। ধারণা করা যেতে পারে যে, সেই ক্ষমতা আসবে সর্বশক্তিমান আল্লাহর তরফ থেকে।
সুতরাং এতে সন্দেহের কোন অবকাশ থাকছে না যে, মানুষ একদিন আমরা যাকে বলছি মহাশূন্য বিজয় (যদিও তা এখনো সঠিক অর্থে নয়) সেই বিজয় অর্জনে যে সক্ষম হবে, এ আয়াতের দ্বারা সুস্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আরো একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, কোরআনের এ আয়াতে শুধু মহাশূন্যে মানুষের প্রবেশের কথাই বলা হয়নি। সে সাথে পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ মানুষের অনুসন্ধান-কর্ম সম্পাদনের কথাও বলা হয়েছে।
وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَابًا مِّنَ السَّمَاءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ. لَقَالُوا إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَّسْحُورُونَ.
Even, if We opened out to them a gate from the heaven and they were to continue ascending therein. They would surely say, "Our eyes have been intoxicated. Nay we have been bewitched by sorcery."
যদি আমরা আকাশের কোন দরজা তাদের জন্য খুলে ধরতাম এবং তারা উহাতে আরোহণ করতো তাহলে নিশ্চয়ই বলতো, "আমাদের চক্ষু মোহাচ্ছন্নতায় বিভ্রান্ত হয়েছে। বরং আমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।" (হিযর-১৪-১৫)
ধারণার বাইরে অতি অদ্ভুত কিছু দর্শনে মানুষের যে বিস্ময়, উপরোক্ত আয়াতে তার প্রকাশ ঘটেছে। এ আয়াতে আরও প্রকাশ পেয়েছে, নভোচারীরা এমন অপ্রত্যাশিত দৃশ্য অবলোকন করবেন যে, তার ফলে তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়ে পারবে না। বস্তুতঃ নভোচারীদের দৃষ্টি ধাঁধিয়ে যাবে। যেভাবে মোহাচ্ছন্ন মাতাল অবস্থায় কারো চোখ বিভ্রান্ত হয়। মনে হয় যেন যাদু করা হয়েছে।
এ প্রতিক্রিয়ার কারণেই হয়তো বা সোভিয়েট নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন মহাশূন্য সফরে গিয়ে ধাঁধায় পড়ে গিয়েছিল এবং পৃথিবীতে ফিরে এসে বলেছিল যে, মহাশূন্যে সে আল্লাহ বল, স্রষ্টা বল, কারো দেখা পায়নি। অপরপক্ষে, একই মহাশূন্য দর্শন করে মার্কিন নভোচারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। তারা চন্দ্র পৃষ্ঠে অবতরণের পর স্রষ্টার উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য প্রার্থনার সময় চেয়ে নেন। উল্লেখ্য যে, চন্দ্র বিজয়ী জেমস আরউইন সম্প্রতি ধর্মান্তরিত হয়েছেন। এ্যাপোলো-১৫ নভোযানের ফ্লাইট সদস্য হিসেবে জেমস আরউইন ১৯৭২ সালে চাঁদে পদার্পণ করেন।

চন্দ্র বিজয়
মূলতঃ ১৯৫৭ সাল থেকে মহাকাশ অভিযান আরম্ভ হয়। এ অভিযানের প্রথম সফলতা চন্দ্র পৃষ্ঠে মানুষের অবতরণ। বিজয়ের দিনটি ছিল ১৯৬৯ সালে ২১শে জুলাই।
এ্যাপোলো-১১ নামক নভোযানে চড়ে চাঁদের দেশে পাড়ি দেন তিনজন নভোচারী - নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স এবং এডউইন অলড্রিন। প্রায় ২ লক্ষ ৩৯ হাজার মাইল ভ্রমণ করে তারা তিনদিন পর চাঁদের দেশে পৌঁছান। তখন রাত ১২টা ১৭ মিনিট ৪১ সেকেন্ড। মূলযান কলম্বিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চন্দ্র তরী ঈগল চাঁদের বুকে অবতরণ করে। নীল আর্মস্ট্রং ঈগলের জানালা খুলে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য অবলোকন করেন।
মানবজাতির রূপকথার দেশ, চাঁদের দেশ, প্রসারিত ঊর্মিহীন ধূলিময় বিশাল মরুভূমি এখন তার চোখের সামনে দৃশ্যমান। ঈগলের মইয়ের নয়টি ধাপ বেয়ে আর্মস্ট্রং চাঁদের বুকে পদচিহ্ন রাখেন। আর আবেগজড়িত কন্ঠে উচ্চারণ করেন, "That's one small step for a man is one giant leap for mankind" অর্থাৎ এটা একজন মানুষের জন্য একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ। কিন্তু গোটা মানবজাতির জন্য এক বিশাল পদক্ষেপ। চন্দ্র পৃষ্ঠে অবতরণ ছিল গোটা মানবজাতির দীর্ঘ আকাংখিত ও স্বপ্নিল মুহূর্ত। এ বিজয় মহাকাশে মানুষের নিত্য নূতন অভিযানের পথ খুলে দিয়েছে। এটি এক যুগান্তকারী ঘটনা। নীল আর্মস্ট্রং এবং তার দুই সহকারী চাঁদের বুকে একটি বিশেষ যানও অবতরণ করান। তারা পায়ে হেঁটে এবং বিশেষ যানে চড়ে চন্দ্র পৃষ্ঠে ঘুরে বেড়ান। চাঁদে অবতরণ করার পর মুহূর্তে তারা ভূ-পৃষ্ঠে কন্ট্রোল রুমে রেডিও বার্তা প্রেরণ করেন। বার্তাটি ছিল: "হিউস্টন, ট্রাংকুইলিটি বেজ হেয়ার, দি ঈগল হ্যাজ ল্যান্ডেড।" এ বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে সবাই আনন্দ-উল্লাসে উদ্বেলিত হয়ে উঠেন। মুহূর্তে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে মানব জাতির এ অবিস্মরণীয় ঘটনাটি।
মহানুভব আল্লাহ তা'আলা সপ্তম শতাব্দিতে পৃথিবীবাসিকে জানিয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রথম চন্দ্র অভিযান সফল হবে।
اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ.
The time is nigh and the moon is pierced (conquered).
অতি নিকট সময়ে চন্দ্র বিদীর্ণ (অভিযান সফল হবে) হবে। (ক্বামার-১)
উক্ত আয়াতের আরো একটি ব্যাখ্যা রয়েছে হাদীস গ্রন্থে। একদা জ্যোৎস্না রাতে মক্কার কাফেররা নবীজী (সাঃ)-কে পরীক্ষা করার জন্য বলল, হে মুহাম্মদ (সাঃ), আপনি যদি প্রকৃত নবী হয়ে থাকেন তাহলে ঐ দূর আকাশের চাঁদকে ইশারা করুন দেখি? আপনার ইশারায় চাঁদে কিছু ঘটে কিনা আমরা দেখব। রাসূল (সাঃ) তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে চাঁদের প্রতি আঙুল ইশারা করলেন। সাথে সাথে চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়ে আকাশের দুই প্রান্তে চলে যায় এবং পর মুহূর্তে খন্ডিত অংশদ্বয় এসে মিশে যায়। এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে উপস্থিত কাফেরেরা এবং সাহাবাগণ।
নীল আর্মস্ট্রং ইসলামে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী হয়তোবা জানতেন। চন্দ্র পৃষ্ঠে একটি দ্বিখন্ডিত রেখা পর্যবেক্ষণ করে তিনি হতবাক হয়ে যান। আর কাফেরদের মোকাবেলায় মুহাম্মদ (সাঃ) চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করার যে মোজেজা (অলৌকিক ঘটনা) প্রদর্শন করেছিলেন, তা স্মরণ করেন। তখন তিনি প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করে মুহাম্মদ (সাঃ) প্রদর্শিত ধর্ম ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। পৃথিবীতে ফিরে এসে জনাব আর্মস্ট্রং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মর্মে পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন: পুরুষদের পক্ষ থেকে টেলিভিশন অথবা সিনেমা বা ভিডিওর পর্দায় প্রদর্শিত অভিনেত্রী বা শিল্পী নারীদের চেহারা ও শরীররে দিকে তাকানো অথবা পত্রিকার পাতায় ছাপানো নারীদের ছবির দিকে তাকানোর বিধান কী?
উত্তর: তাদের দিকে তাকানো হারাম। কারণ, এগুলো থেকে ফিতনা সৃষ্টি হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে, তাছাড়া আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ ﴾ [النور: ٣٠ ]
"মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটিই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত"। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩০]
নারীদের থেকে দৃষ্টি সংযত রাখার বিষয়টি ব্যাপক, চাই সরাসরি নারী হোক অথবা ছবিতে নারী, চাই তারা পত্রিকার পাতায় থাকুক অথবা টেলিভিশনের পর্দায় অথবা অন্য কোথাও।
শাইখ আবদুল 'আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায

📘 Biggan moy quran > 📄 অবস্থান নির্দেশক প্রণালী

📄 অবস্থান নির্দেশক প্রণালী


রকেটের শেষ স্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পর ক্ষিপ্রবেগে ধাবমান নভোযানটি অসীম শূন্যতার মাঝে বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরতে থাকে। এ অবস্থায় কোথায় পৃথিবী এবং কোথায় আকাশ নির্ণয় করার চেষ্টা চলে। ডিগবাজী খাওয়া অবস্থায় কেবিনের মধ্যে বসে নভোচারীদের পক্ষে নভোযানটির অবস্থান নির্ণয় করা অত্যন্ত কঠিন। মহাজাগতিক বস্তু অধ্যয়ন করা অসম্ভব। তেমনি অসম্ভব সৌর ব্যাটারির পক্ষে কাজ করা। অতএব নভোযানটিকে বাধ্য করা হয় মহাশূন্যে একটি নির্দিষ্ট স্থান গ্রহণ করতে এবং তার অবস্থান নির্ণয় করা হয়। জ্যোতিষ্ক নিরীক্ষণের জন্য কতগুলি উজ্জ্বল নক্ষত্র, সূর্য অথবা চন্দ্রের আপেক্ষিক দিক স্থাপন করা হয়। সৌর ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি পেতে হলে তার প্যানেলগুলিকে সূর্যের দিকে মুখ করে রাখতে হয়। দু'টি নভোযান কাছাকাছি আসার জন্য তাদেরকে একে অপরের তুলনায় স্থান পরিবর্তন করতে হয়।

প্রশ্ন: যদি অবিবাহিত যুবক অবিবাহিতা যুবতীর সাথে টেলিফোনে কথা বলে, তাহলে সে ক্ষেত্রে এর বিধান কী হবে?
উত্তর: অপরিচিত নারীর সাথে এমন আলাপ করা বৈধ নয়, যা যৌনতাকে উস্কে দেয়। যেমন, প্রেমালাপ করা, আদর সোহাগ জাতীয় কথা বলা এবং কোমল কণ্ঠে কথা বলা ইত্যাদি, চাই সে কথা বলাটা টেলিফোনে হউক অথবা অন্য যে কোনোভাবেই হউক (তা বৈধ হবে না)। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ [الاحزاب: ٣٢]
"সুতরাং পর-পুরুষের সাথে কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলো না। কারণ, এতে যার অন্তরে ব্যাধি আছে, সে প্রলুব্ধ হয়”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩২]
তবে কোনো প্রয়োজনের কারণে সাময়িকভাবে কথা বলাতে কোনো অসুবিধা নেই, যখন সে ফিতনা-ফ্যাসাদের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়ে কথা বলে; কিন্তু সে কথা হবে প্রয়োজন পরিমাণ, তার বেশি নয়।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00