📘 Biggan moy quran > 📄 সময়ের একক নির্ধারণে সহায়ক

📄 সময়ের একক নির্ধারণে সহায়ক


সময়ের একক নির্ধারণে সহায়ক

পৃথিবীতে সময়ের (নির্ধারণের) তিনটি স্বাভাবিক একক হচ্ছে দিন, মাস, বৎসর। এ এককগুলো Fixed করার ভিত্তি হচ্ছে সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবী। অর্থাৎ মানুষ সময়ের এককগুলো পেয়েছে সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবীর ঘূর্ণন প্রকৃতি থেকে। যেমন পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর একবার আবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘন্টা। সেজন্য পৃথিবীতে ২৪ ঘন্টায় একদিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সূর্যের চারিদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন। তাই ৩৬৫ দিনে বছর গণনা করা হয়। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে চাঁদের সময় লাগে ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড। এটাকে মোটামুটি ৩০ দিন ধরে "মাস" নির্ণয় করা হয়েছে। এভাবে আধুনিক যুগের ঘড়ি এবং ক্যালেন্ডার হচ্ছে জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) চর্চার প্রত্যক্ষ ফল। সময়ের একক নির্ধারণ সম্পর্কে আল-কোরআন যে তথ্য দিয়েছে,

فَالِقُ الْإِصْبَاحِ ، وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنَا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا.
He is the cleaver of the day-break and He has appointed the night for tranquillity and the sun and the moon for reckoning of time.
তিনিই প্রভাতের সূচনা করেন এবং রাতকে প্রশান্তির জন্য আর চাঁদ এবং সূর্যকে সময় নিরূপণের জন্য নিয়োজিত করেছেন। (আনআম-৯৬)

প্রাচীনকালে সূর্যোদয় থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের ব্যাপ্তীকে দিন নির্ধারণ করা হতো। এতে দেখা গেছে ঋতু পরিবর্তন জনিত কারণে দিনের দৈর্ঘ্য ঠিক থাকে না। তাই আধুনিক বিজ্ঞানে দিন ধার্য করা হয়েছে সূর্যের পর পর দু'বার মধ্যগগনে আসার কাল পরিমাণকে। সূর্যের মধ্যগগনে আসাকে ইংরেজীতে বলা হয় Culmination.

Culmination দুই প্রকার। Upper culmination এবং Lower culmination.

Upper culmination হচ্ছে সূর্য যখন দর্শকের ঠিক মাথার উপরে আরোহণ করে দিনের সূচনা করে। আর Lower culmination হচ্ছে মধ্যগগন থেকে ঢলে সূর্য যখন ক্রমান্বয়ে দিনের সমাপ্তি ঘটায়। সুতরাং দিনে সূচনা ও সমাপ্তি ঘটার জন্য দুটি Upper culmination এবং দুটি Lower culmination সংগঠিত হতে হয়। এ ঘটনার উপর কোরআনের তথ্য হচ্ছে,

رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ.
He is Lord of the two easts and Lord of the two wests.
তিনি দুই উদয় এবং দুই অস্তাচলের (নির্দেশনাকারী) প্রভু। (আর-রহমান-১৭)

إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ.
The number of months in the sight of Allah is twelve (in a year) so was it ordained by Allah on the Day when He created the heavens and the earth.
নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা হচ্ছে বারো (এক বছর)। এ নিয়ম তিনি বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন নভোমন্ডল এবং ভূ-মন্ডল সৃষ্টির দিন থেকে। (তাওবা-৩৬)

প্রশ্ন: গান-বাদ্য শুনার বিধান কী? আর যেসব ধারাবাহিক নাটক অনুষ্ঠানে নারীরা সৌন্দর্য প্রদর্শন করে, সেসব অনুষ্ঠান দেখার বিধান কী?
উত্তর: এসব ধারাবাহিক নাটক বা অনুষ্ঠান হারাম ও নিষিদ্ধ। কারণ, এর মধ্যে আল্লাহর পথে বাধা ও অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় রয়েছে এবং ঝুঁকি রয়েছে এমন সব অশ্লীল কাজে জড়িয়ে যাওয়ার, যা আল্লাহ তা'আলা হারাম ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ * وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ ءَايَتُنَا وَلَّى مُسْتَكْبِرًا كَأَن لَّمْ يَسْمَعْهَا كَأَنَّ فِي أُذُنَيْهِ وَقْرًا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴾ [لقمان: ٦، ٧]
"আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য কিনে নেয় কোনো জ্ঞান ছাড়াই এবং আল্লাহ দেখানো পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। তাদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। আর যখন তার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন সে অহংকারে মুখ ফিরিয়ে নেয় যেন সে এটা শুনতে পায় নি, যেন তার কান দুটো বধির। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন"। [সূরা লোকমান, আয়াত: ৬-৭]
সুতরাং এ আয়াত দু'টিতে পরিষ্কার নির্দেশনা রয়েছে যে, বাদ্যযন্ত্র ও গান শুনাটা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুতি, আল্লাহর আয়াতসমূহকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের বস্তু হিসেবে গ্রহণ এবং আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনার ব্যাপারে অহঙ্কার প্রদর্শনের অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য।
আর যে ব্যক্তি এ কাজ করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে অবমাননাকর শাস্তি ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হুমকি দিয়েছেন। আর অধিকাংশ আলেম আয়াতে উল্লিখিত لَهْوَ الْحَدِيثِ (অসার বাক্য)-এর ব্যাখ্যা করেছেন 'গান ও বাদ্যযন্ত্র' এর দ্বারা এবং এমন প্রতিটি শব্দ বা সুর, যা আল্লাহর পথে চলতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
আর সহীহ বুখারীতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«ليكونَنَّ من أمتي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّون الحر، والحرير، والخمر، والمعازف».
"আমার উম্মতের মধ্যে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমি কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।"20
হাদীসে উল্লিখিত । শব্দের অর্থ الزنا )ব্যভিচার), আর শব্দের الحرير অর্থ রেশমি কাপড়, الحرير শব্দটি (রেশমি কাপড় যা) সর্বজনবিদিত, আর তা পুরুষদের জন্য হারাম, আর ۔ (মদ) শব্দটি সর্বজন পরিচিত, আর তা হলো প্রত্যেক নেশা জাতীয় বা মাতালকারী বস্তু, আর এটা সকলের জন্য হারাম, আর المعازفশব্দের অর্থ খেল-তামাশা বা বিনোদনযন্ত্র। যেমন, বাঁশি, সেতারা, তবলা, তাম্বুরা ইত্যাদি। 21
সুতরাং মুসলিম নারী ও পুরুষ সকলের জন্য এসব অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকা এবং তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা ওয়াজিব, আর অনুরূপভাবে যেসব ধারাবাহিক নাটকীয় দৃশ্যে নারীদের সৌন্দর্য প্রদর্শনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেগুলো দেখাও হারাম। কারণ, এর মধ্যে তার দর্শকের জন্য মহাবিপদ রয়েছে। যেমন, তার অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত হওয়া, ব্যক্তিত্ব নষ্ট হওয়া এবং কখনও কখনও এটা তাকে এমন কাজে জড়িয়ে যেতে আকর্ষণ করে, যা আল্লাহ তা'আলা হারাম ঘোষণা করেছেন, চাই সে দর্শক পুরুষ হউক অথবা নারী। আল্লাহ তা'আলা সকলকে এমন কাজের তাওফীক দিন, যাতে তাঁর সন্তুষ্টি ও অনুমোদন রয়েছে এবং সকলকে তাঁর ক্রোধের যাবতীয় কারণ ও উপায়-উপকরণ থেকে নিরাপদে রাখুন।
শাইখ আবদুল 'আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায

টিকাঃ
²⁰ সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৫২৬৮
²¹ আন-নিহায়া ও আল-কামুস。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00