📘 Biggan moy quran > 📄 পৃথিবীর উপগ্রহ (The Moon)

📄 পৃথিবীর উপগ্রহ (The Moon)


প্রশ্ন: আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, কোনো কোনো সময় আমি মেয়েদেরকে সালাম দেই। আমার প্রশ্ন হলো ছাত্র কর্তৃক তার সহপাঠী বান্ধবীদেরকে স্কুল-কলেজে সালাম দেয় কী বৈধ, নাকি অবৈধ?
উত্তর: প্রথমত মেয়েদের সাথে একই জায়গায় একই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করাটাই বৈধ নয়। কেননা এটা হলো ফিতনার অন্যতম বড় একটি কারণ।
সুতরাং কোনো ছাত্র ও ছাত্রীর জন্য এ ধরনের যৌথ অংশগ্রহণমূলক কোনো কর্মকাণ্ড বৈধ নয়, যেহেতু তার মধ্যে ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে। আর সালামের বিষয়টি হলো যে সালামের মধ্যে ফিতনার কোনো কারণ প্রদর্শিত হয় না ছাত্র কর্তৃক ছাত্রীকে এমন শরী'আত সম্মত সালাম প্রদান করাতে কোনো অসুবিধা নেই এবং ছাত্রী কর্তৃক ছাত্রকে সালাম দেওয়াতেও কোনো সমস্যা নেই, তবে কোনো অবস্থাতেই তারা মুসাফাহা (করমর্দন) করবে না। কারণ, অপরিচিত নারী পুরুষে মুসাফাহা করা বৈধ নয়; বরং সালাম হবে পর্দা রক্ষা করে দূর থেকে এবং সাথে ফিতনার উপলক্ষসমূহ থেকেও দূরে থাকতে হবে, আর কোনো অবস্থাতেই একান্ত নির্জনে এ ধরনের সালাম চলবে না। কারণ, শরী'আতসম্মত সালামের মধ্যে কোনো ফিতনা না থাকাতে তাতে কোনো দোষ নেই। তবে ছাত্র কর্তৃক ছাত্রীকে অথবা ছাত্রী কর্তৃক ছাত্রকে সালাম দেওয়ার সময় যখন এমন কোনো মানসিকতা থাকে, যা ফিতনার কারণ হিসেবে গণ্য (অর্থাৎ কামভাবের সাথে ও আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো উদ্দীপনা নিয়ে সালাম দেওয়া), তখন এ সালাম শরী'আতের নিয়মানুযায়ী নিষিদ্ধ। আর তাওফীক দানের মালিক হলেন আল্লাহ।
শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায

📘 Biggan moy quran > 📄 মহাশূন্য অভিযান

📄 মহাশূন্য অভিযান


প্রশ্ন: মুসলিম পুরুষের জন্য পত্রিকা বা ম্যাগাজিনে ছাপানো নারীদের ছবির দিকে তাকানো বৈধ হবে কি? আর নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হারাম হওয়ার মাত্রাটা কি একই রকম হবে- চাই তার দিকে সরাসরি দৃষ্টি দেওয়া হউক অথবা ম্যাগাজিনে ছাপানো তার ছবির দিকে তাকানো হউক? আমাদেরকে বুঝিয়ে বলবেন।
উত্তর: কোনো সন্দেহ নেই যে, সৌন্দর্য প্রদর্শনকারিনী নারীদের দিকে তাকানো এমন একটি মারাত্মক বিষয়, যা ফিতনার কারণ বা উপলক্ষ তৈরি করে এবং অশ্লীল কাজের দিকে আহ্বান করে। এ জন্য আল্লাহ তা'আলা নারীদেরকে পর্দা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন:
وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ [النور: ٣١]
"আর তারা তাদের গলা ও বুক যেন মাথার কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখে”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১]
আর কোনো সন্দেহ নেই যে, উলঙ্গ বা অর্ধ-উলঙ্গ নারীর ছবির দিকে তাকানোর বিষয়টি তার সাথে ফিতনায় জড়িয়ে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ, আর এর ওপর ভিত্তি করে সিনেমাতে, পত্রিকায়, ম্যাগাজিনে ও অন্য যে কোনো খানে প্রদর্শিত এমন প্রতিটি ছবির দিকে তাকানোই হারাম বলে বিবেচিত হবে, যা বিপর্যয়ের কারণ সৃষ্টি করবে অথবা ফিতনার দিকে আকর্ষণ করবে।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন

📘 Biggan moy quran > 📄 আল্-কোরআন এবং প্রাণের উৎপত্তি

📄 আল্-কোরআন এবং প্রাণের উৎপত্তি


প্রশ্ন: বিদেশ থেকে মাহরাম পুরুষ ছাড়া কাজের মেয়ে নিয়ে আসার বিধান কী, যখন সে মেয়েটি মুসলিম হয়? যেমন এ কাজটি অনেক মানুষ করে থাকে, বিশেষ করে ছাত্রগণ। আর তারা যুক্তি দেখান যে, তারা বাধ্য হয়ে এটা করেন, আবার তাদের কেউ কেউ যুক্তি পেশ করেন যে, মাহরাম পুরুষ ছাড়া সফর করার যে গুনাহ এটা তার (কাজের মেয়ের) ওপরই বর্তাবে অথবা কাজের মেয়ে নিয়ে আসার দায়িত্বে নিয়োজিত অফিস কর্তৃপক্ষের উপর বর্তাবে? আশা করি আপনি এ বিষয়টি পরিষ্কার করে বর্ণনা করবেন। আল্লাহ আপনাদেরকে হিফাযত করুন এবং উত্তম পুরস্কার দান করুন।
উত্তর: মাহরাম পুরুষ ছাড়া কাজের মেয়ে নিয়ে আসার কাজটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবাধ্যতার শামিল। কেননা তাঁর নিকট থেকে সহীহ বর্ণনা এসেছে, তিনি বলেন:
«لاَ تُسَافِرُ المَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ».
"কোনো মাহরাম পুরুষের সাথে ছাড়া কোনো নারী সফর করবে না।"27
তাছাড়া মাহরাম পুরুষের সাথে ছাড়া তার আগমন করাটা কখনও কখনও তার পক্ষ থেকে অথবা তার সাথে ফিতনার কারণ হতে পারে, আর ফিতনার সকল কারণ বা উপলক্ষ ইসলামী শরী'আতে নিষিদ্ধ। কেননা যা হারামের দিকে ধাবিত করে, তাও হারাম বলে গণ্য।
আর কোনো কোনো মানুষ কর্তৃক এ ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করাটা বিপজ্জনক, আর যারা বলেন: 'বিষয়টি খুবই জরুরি বিষয় (হওয়াতে তা না করার উপায় নেই)', তাদের এ কথার কেনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি ও দলীল নেই।
কারণ, আমরা যদি কাজের মেয়ের আবশ্যকতার বিষয়টি জরুরি বলে মেনেও নেই, তাহলে এটা জরুরি নয় যে, তাকে মাহরাম পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই আসতে হবে। অনুরূপভাবে কোনো কোনো মানুষের এ কথারও কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি ও দলীল নেই, যারা বলে: 'মাহরাম পুরুষ ছাড়া সফর করার যে গুনাহ এটা তার (কাজের মেয়ের) উপরই বর্তাবে অথবা কাজের মেয়ে নিয়ে আসার দায়িত্বে নিয়োজিত অফিস কর্তৃপক্ষের উপর বর্তাবে।' কারণ, যে ব্যক্তি হারাম কাজের কর্তার জন্য দরজা উন্মুক্ত করে দেবে, সে ব্যক্তি গুনাহের সহযোগিতা করার কারণে সে ক্ষেত্রে তার অংশীদার হবে। আর আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴿وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَن صَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَن تَعْتَدُوا وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴾ [المائدة: ٢]
"তোমাদেরকে মসজিদুল হারামে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনই সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। নেককাজ ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পর সাহায্য করবে এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর"। [সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ২]
আর আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করার জন্য, আর মাহরাম পুরুষ ছাড়া কাজের মেয়ে নিয়ে আসার মানেই হলো অসৎকাজের স্বীকৃতি প্রদান করা, প্রতিবাদ করা নয়।
আল্লাহ তা'আলার নিকট আবেদন করছি, তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর সঠিক পথ তথা সিরাতুল মুস্তাকীমের পথ দেখান- তাদের পথ, যাদেরকে তিনি পুরস্কৃত করেছেন, তাঁরা হলেন নবীগণ, চরম সত্যবাদী ও শহীদগণ এবং সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন

টিকাঃ
²⁷ সহীহ বুখারী ও মুসলিম。

📘 Biggan moy quran > 📄 আল কোরআন এবং (Medical Embryology)

📄 আল কোরআন এবং (Medical Embryology)


প্রশ্ন: উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদেরকে বাদ্যের তালে তালে কুচকাওয়াজ, সুরসঙ্গীত ও নৃত্যের কাজে ব্যবহার করা বৈধ হবে কি, অথচ এসব ছাত্রী এমন সংকীর্ণ টাইটপিট পাজামা পরিধান করে, যা শরীরের প্রতিটি অঙ্গ ও যৌন-সম্মোহনী বস্তুগুলো পরিমাপসহ প্রকাশ করে দেয় এবং পরিধান করে দুই বিগত পরিমাণ লম্বা পোশাক?
উত্তর: এটা বৈধ নয়। কারণ, তাতে তাদের গোপন অঙ্গসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং সংক্ষিপ্ত (ছোট) ও সংকীর্ণ পোশাক পরিধান করার কারণে তাদের দেহের যৌন-সম্মোহনী বস্তুগুলো প্রকাশ পেয়ে যায়, তাছাড়া তাতে বাদ্যের তালে তালে নৃত্য ও সুর-সঙ্গীতের মত আমোদ-প্রমোদের ব্যাপারে রয়েছে এবং এ দু'টি জিনিসই অত্যন্ত খারাপ উত্তেজক, যা উপস্থিত দর্শকদের যৌনতাকে উস্কে দেয় এবং তাতে অশ্লীলতা, অন্যায় ও নৈতিক অবক্ষয়ের উপায়-উপকরণসমূহ সক্রিয় হয়ে উঠে, আর এ জন্য শারিরীক কুচকাওয়াজের আগের পরের সকল কাজই অবৈধ, আর তার জন্য কতগুলো প্রাথমিক প্রস্তুতি রয়েছে, তা হলো এসব ছাত্রীদেরকে আপত্তিকর পোশাক পরিধান করে কুচকাওয়াজের জন্য প্রস্তুতিমূলক বাদ্যের তালে তালে নৃত্য ও সুর-সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তারা এ ঘৃণিত বিষয়ে দক্ষ ও পারদর্শী হয়ে উঠে এবং উপস্থিত দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার দ্বারা খারাপির ক্ষেত্রে সফলতার গ্যারান্টি ও নিশ্চয়তা বিধান করতে পারে, আর তার (কুচকাওয়াজের) পরপর আরও কতগুলো নিকৃষ্ট কর্ম আছে যেগুলোর দ্বারা অথবা যেগুলোর অধিকাংশের দ্বারা তার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়, আর সেগুলো হলো- যার উপর তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং যে ক্ষেত্রে তারা প্রদর্শনী করেছে, তার জন্য তাদেরকে দেওয়া পুরস্কার গ্রহণ করা, ফলে তারা তার থেকে পঙ্কিলতা উপার্জন করল, যার দ্বারা তারা দুনিয়ার আমোদ-প্রমোদ ও রঙ্গ-তামাশা অর্জন করবে।
প্রশ্ন: এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দানের জন্য কি ছাত্রীর অভিভাবক গুনাহগার হবেন?
উত্তর: এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, যাকে আল্লাহ তা'আলা কোনো দায়িত্ব দিয়েছেন। সুতরাং ছাত্রীর অভিভাবক পিতা বা তার পক্ষ থেকে অভিভাবকের দায়িত্ব পালনকারীকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। অতএব, তিনি যদি ইসলামের আদব বা শিষ্টাচারগুলো তাকে সুন্দরভাবে শিক্ষা দেন এবং তাকে খারাপ ও অন্যায় কাজের পিচ্ছিল জায়গাসমূহ থেকে রক্ষা করেন, তাহলে আল্লাহ তাকে পুরস্কার ও সাওয়াব দান করবেন এবং তার মর্যাদা ও মানসম্মান রক্ষা ও সংরক্ষণ করবেন, আর যদি তিনি তাকে খারাপ শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করেন অথবা যথাযথ শিক্ষা দানের কাজে অবহেলা করেন অথবা তাকে ফিতনার জায়গাগুলোতে ও খেল-তামাশার ময়দানে ঠেলে দেন, তাহলে তার অপরাধের কারণে তিনি অপরাধি ও গুনাহগার হবেন, যার অভিভাবকের দায়িত্ব তাকে আল্লাহ দিয়েছেন এবং তার শেষ পরিণতিও শুভ হবে না। কারণ, তিনি তার দায়িত্বের অপব্যবহার করার কারণে তার দুনিয়ার জীবনে ব্যর্থতা ও হতাশার ফল ভোগ করবেন এবং পরকালীন জীবনে শাস্তি ভোগ করবেন, যদি আল্লাহ তা'আলা তাঁর রহমত দ্বারা তাকে ক্ষমা না করেন।
প্রশ্ন: সরকারী কর্তৃপক্ষের জন্য জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের নামে ছাত্রীদেরকে এ কাজে বাধ্য করা সঠিক ও যথাযথ হবে কিনা?
উত্তর: এমন প্রশাসন ব্যতীত জাতির সৌভাগ্য, উন্নতি, সকল বিষয়ে সুশৃঙ্খলা এবং তার অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে না, যারা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে পাওয়া তাওফীকের মাধ্যমে আকিদা-বিশ্বাসে, কথায়, কাজে ও তাদের মধ্যকার উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে তাদেরকে শাসন ও পরিচালনা করবে আল্লাহ তা'আলার কিতাব ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ'র (কর্মপদ্ধিতির) আলোকে এবং তাদেরকে নেতৃত্ব দেবে সুন্দর ও সুচারুরূপে।
আর কোনো শাসক শ্রেণি ও প্রশাসনের পক্ষে স্থায়িত্ব, গ্রহণযোগ্যতা ও গৌরব অর্জন করা সম্ভব নয় এমন এক জাতির উপস্থিতি ব্যতীত, যার অবস্থা জীবনের সকল দিক ও বিভাগে দীন, সততা, সরলতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প, কৃষি, শক্তি ও সামর্থসহ সকল ক্ষেত্রে এমন না হয়, যার দ্বারা জাতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার ভিত মজবুত ও শক্তিশালী হয়, এমনকি তা সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তে পরিণত হয়, যার প্রতি মুগ্ধ হয়ে বুদ্ধিজীবীগণ তার দিকে তাদের দৃষ্টি উত্থাপন করে এবং তার অবস্থা সম্পর্কে যিনি অবগত হন, তিনি তাকে সম্মান ও সমীহ করেন।
সুতরাং শাসকশ্রেণী তাদের জাতি ও নাগরিকগণের জন্য যে পরিমাণ ভালো সেবা, প্রাপ্য অধিকার ও সুশাসন উপহার দিতে পরবে, তারা শক্তি, সম্মান, গৌরব ও উচ্চমর্যাদার মতো ফল ভোগ করতে পারবে, আর জনগণও যে পরিমাণে তাদের কল্যাণকামী প্রশাসন কর্তৃক তাদেরকে যে ভালো কাজের দিকে আহ্বান করা হয়, সে আহ্বানে সাড়া দেবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য তাদেরকে সহযোগিতা করবে, তারাও সে পরিমাণে উন্নতি, কল্যাণ, সমৃদ্ধি, সুখ-শান্তি ইত্যাদি লাভ করতে পারবে।
সুতরাং মুসলিম সমাজের শাসকবর্গ ও প্রশাসকশ্রেণীর জন্য আবশ্যক হলো, তারা তাদের প্রজাদেরকে ইসলমী শাসননীতির ভিত্তিতে পরিচালিত করবেন।
এবং এ ক্ষেত্রে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যথাযথ অনুকরণ করবেন, আর সাথে সাথে তারা তাঁর হিদায়াতের পথে চলবেন এবং তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীনের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন, যাতে তারা সৌভাগ্যবান হন এবং তাদের নাগরিকগণও সৌভাগ্যবান হয়, আর তাদের ইহকালীন ও পরকালীন পরিণতি যাতে প্রশংসনীয় হয়, আর যাতে ইসলামী শরী'য়ত ও তার মজবুত নিয়ম-নীতির বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে।
কারণ, তাদের প্রজাগণের শাসন করার ক্ষেত্রে, তাদের আচার অনুষ্ঠান ও চারিত্রিক বিচ্যুতির ক্ষেত্রে এবং তাদের সভ্যতা-সংস্কৃতি ও শিক্ষাব্যবস্থায় খেল-তামাশা, আমোদ-প্রমোদ ও রঙ্গ-তামাশার অনুপ্রবেশ ঘটানোর মাধ্যমে এবং সেখানে নারী ও পুরুষে সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করার মাধ্যমে এবং এ ধরনের নানান রকমের অন্যায় ও খারাপির প্রথা চালু করার ব্যাপারে তারা তাদের প্রবৃত্তির খেয়াল খুশির অনুরসরণ করলে এবং নাস্তিক্যবাদী রাষ্ট্রসমূহের অনুকরণ করলে তারা তাদের স্বহস্তে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
সুতরাং তারা যদি এ কাজ করেন, তাহলে তাদের বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে এবং ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাবে, আর যদি তারা আল্লাহকে তুচ্ছজ্ঞান করে, তাহলে তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং তাদের জন্য শাস্তির ঘোষণা সত্যে পরিণত হবে, আর এটাই হলো বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের যথাযথ পুরস্কার।
আর পরিশেষে বলতে হয়, প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্য ও গভীর অর্থবোধক বাণীর অধিকারী নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ ও উপদেশ থেকে এত বেশি সুন্দর, পরিপূর্ণ, সুস্পষ্ট ও ব্যাপক অর্থবোধক কথা অন্য কেনো মানুষের কথার মধ্যে পাওয়া যায় না। কেননা তিনি বলেছেন:
«ألا كُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسؤول عن رَعِيَّتِهِ، فالإمام الذي على النَّاسِ راع، وهو مسؤول عن رَعِيَّتِهِ، والرجل راع على أهل بيته، وهو مسؤول عن رَعِيَّتِهِ ، والمرأةُ رَاعِيَةٌ عَلى أَهْلِ بَيْتِ زوجها، وولده، وهي مسؤولة عنهم، وعبد الرجل راع على مال سيده، وهو مسؤول عنه، ألا كلكم راع، وكلكم مسؤول عن رعيته».
"জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল, আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব, ইমাম, যিনি জনগণের দায়িত্বশীল, তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন; পুরুষ গৃহকর্তা তার পরিবারের দায়িত্বশীল, সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর পরিবার ও সন্তান-সন্ততির ওপর দায়িত্বশীল, সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কোনো ব্যক্তির গোলাম স্বীয় মালিকের সম্পদের দায়িত্বশীল, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সাবধান! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।"31
তিনি আরও বলেন: مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْتَرْعِيهِ اللهُ رَعِيَّةٌ ، فَلَمْ يَحُطُهَا بِنُصْحِهِ إِلَّا لَمْ يَجِدْ رَائِحَةَ الْجَنَّة».
"কোনো বান্দাকে যদি আল্লাহ তা'আলা জনগণের নেতৃত্ব প্রদান করেন, আর সে কল্যাণকামিতার সাথে তাদের তত্ত্বাবধান না করে, তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।"32
অপর এক বর্ণনায় এসেছে: مَا مِنْ وَالٍ يَلِي رَعِيَّةٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ فَيَمُوتُ وَهُوَ غَاةٌ لَهُمْ إِلَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ».
"যদি কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি মুসলিম জনগণের দায়িত্ব লাভ করল এবং তার মৃত্যু হল এ অবস্থায় যে, সে ছিল খিয়ানতকারী, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।"33
সুতরাং প্রত্যেক দায়িত্বশীল বা প্রশাসক যেন সেসব ব্যক্তির ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে, যাদের নেতৃত্ব আল্লাহ তাকে প্রদান করেছেন, আর তিনি যেন তাদের কল্যাণ কামনা করেন এবং তাদের মধ্যে সত্য ও ন্যায়বিচার করেন। কারণ, তিনি তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেন।
আল্লাহ হলেন তাওফীক দাতা।
وَصَلَّى اللهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ .
(আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর)।
শিক্ষা গবেষণা ও ফতোয়োর স্থায়ী বোর্ড

টিকাঃ
³¹ সহীহ বুখারী হাদীস নং- ৬৭১৯; সহীহ মুসলিম。
³² সহীহ বুখারী (হাদীস নং- ৬৭৩১) ও মুসলিম。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00