📘 Biggan moy quran > 📄 পৃথিবীর সংখ্যা

📄 পৃথিবীর সংখ্যা


পৃথিবীর সংখ্যা সাত
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمُوتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ।
Allah is He Who created the seven heavens and the earth also in equal number.
তিনি আল্লাহ যিনি সাত আকাশ এবং সম সংখ্যক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। (তালাক-১২)
আল-কোরআনে ব্যবহৃত "ছাবআ” শব্দটি এমন বিস্ময় সৃষ্টি করেছে যা আল্লাহ তা'আলার সমগ্র সৃষ্টি রহস্যকে তাৎপর্যমণ্ডিত করে তুলেছে। "ছাবআ” অর্থ সাত। সপ্ত আকাশের ধারণা বহুদিন থেকে বিশ্বময় সর্বসাধারণের কাছে জানা আছে।
অতএব, আকাশের স্তর সাত, বায়ুমণ্ডলের স্তর সাত, সূর্যের আলোতে আছে সাত রঙ, মহাকাশে দৃশ্যমান জ্যোতিষ্ক সাত প্রকার, তারকারাজির মধ্যেও সাত রকমের তারকা রয়েছে (সৃষ্টি নৈপুণ্যতা অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে)। তাই গবেষকরা বলেছেন, 'It's a mysterious SEVEN in the creation of Almighty.
উপরোক্ত আয়াতে আল-কোরআন ইঙ্গিত দিয়েছে যে "সপ্ত আকাশের মত সমসংখ্যক পৃথিবী রয়েছে।" পৃথিবী বলতে আমরা বুঝি, যেখানে জীবন সৃষ্টি হয়। যেখানে প্রাণী বসবাসের উপযুক্ত বায়ুমণ্ডল রয়েছে। যেখানে ফসল উৎপন্ন হয় এবং আবিষ্কার করার নির্দেশনাবলী রয়েছে।
আল-কোরআনের এই ইঙ্গিতের ভিত্তিতে সম্ভবত পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা গ্রহ থেকে গ্রহে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন পৃথিবীর মত উপযুক্ত পরিবেশ সমৃদ্ধ কোন গ্রহ পাওয়া যায় কিনা। অথবা কোন গ্রহে প্রাণের সন্ধান মিলে কিনা। আমাদের সৌরজগতের বাইরে এখন অনেক গ্রহ আবিষ্কার হয়েছে। যারা নির্দিষ্ট নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরছে। আবার অন্য গ্যালাক্সিতে অবস্থিত গ্রহে এখনো মানুষের জ্ঞান পৌঁছেনি। হয়ত একদিন এমন চমক সৃষ্টি হবে পৃথিবীর মত আরো ছয়টি গ্রহ আবিস্কার হবে। সে সব গ্রহে পৃথিবীর অনুরূপ পরিবেশ পাওয়া যাবে কিংবা প্রাণের সন্ধান মিলবে। আর তখন এটা হবে মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়।
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمُوتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ
Allah is He Who created the seven firmaments and of the earth a similar number.
তিনি আল্লাহ, যিনি সপ্ত আকাশ ও সম সংখ্যক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। (তালাক-১২)
'পৃথিবীর সংখ্যা সাত' এ মর্মে আরো একটি ব্যাখ্যা দেয়া যায়। যেমন ভূ-তাত্ত্বিক ফলাফল থেকে জানা যায় পৃথিবী সাত স্তরে বিভক্ত।
১। Atmosphere (বায়ুমন্ডল)
এটি পৃথিবীর এক অপরিহার্য বাহ্য স্তর। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর বিস্তৃতি ৫০০ কিঃ মিঃ উর্ধ্বে। এ স্তর পৃথিবী মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আকর্ষণে ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেপ্টে আছে।
২। Crust (ভূ-ত্বক)ঃ
পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন বহিরাবরণকে ভূ-ত্বক বলা হয়। পৃথিবীর সামগ্রিক দেহ-অবয়ব গঠনে ভূ-ত্বকের অবদান মাত্র ০.৬%। ভূত্বকের পুরুত্ব মহাদেশের তলদেশে গড়ে ৩৫ কিঃ মিঃ এবং সমুদ্র তলদেশে গড়ে ৫ কিঃ মিঃ। এ স্তরে রয়েছে মাটির উর্বরা শক্তির প্রয়োজনীয় উপাদান সমূহ যথা-
অক্সিজেন O₂ ৪৬.৬% অ্যালুমিনিয়াম Al- ৮.১% আয়রন Fe- ৫.০% ক্যালসিয়াম Ca- ৩.৬% সোডিয়াম Na- ২.৮% পটাসিয়াম K- ২.১% অন্যান্য ২৯.২% ১০০%
৩। Lithosphere (অশ্মমন্ডল)ঃ ভূ-ত্বকের নিম্নভাগ থেকে এর পুরুত্ব ১০০ কিঃ মিঃ মাত্র। আমাদের গ্রহের বৈশিষ্ট্যগুলো ঐ ঘটনার মধ্যে নিহিত যে ঘটনায় অশ্মমন্ডল সহ এর উপরিভাগ ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে বেশ কিছু কঠিন অশ্মমন্ডলীয় প্লেটে পরিণত হয়েছে। লিথোস্ফিয়ারের নিম্নদেশের গঠনে বেশ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বিদ্যমান। এ গঠন বিচ্ছিন্ন সীমারেখা দ্বারা চিহ্নিত। এ সীমারেখাকে বলা হয় 'মোহো' (Moho)। এ অংশের গভীরতা ২৯০০ কিঃ মিঃ। এ অংশ সমগ্র পৃথিবীর দেহাবয়বের ৮২% শতাংশেরও বেশী গঠন করেছে।
৪। Aesthenosphere (নমনীয় মন্ডল): অশ্মমন্ডলের নিম্নভাগ থেকে অন্তত ২৫০ কিঃ মিঃ এর পুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এর নাম নমনীয় মন্ডল। এ স্তরের উপর আবরণ গরম, তুলনামূলকভাবে প্লাস্টিকের মতো এবং ক্ষীরের মোটা স্তরের মতো তলতলে। এটা এমন নমনীয় স্তর যার সঞ্চালন গতির সাহায্যে লিথোস্ফিয়ারের শক্ত প্লেটগুলোকে ভূ-মন্ডলের চারপাশে সঞ্চালিত হওয়ার সুবিধা প্রদান করে।
৫। Mesosphere (মেসোমন্ডল): নমনীয় মন্ডলের নিম্নভাগ থেকে এ স্তর ৩৫ কিঃ মিঃ পুরু। এটা পথে ঢালা পিচের (Pitch) মতো আবরণী অংশ যা প্রকৃতিগতভাবে সুগঠিত। এর আরো গভীরে আছে স্থলাংশ (Core)। স্থলাংশ দু'টি উপস্তরে বিভক্ত। যথা, বহিঃস্থল ও অন্তঃস্থল।
৬। Outer core (বহিঃস্থল): মেসোমন্ডলের দু'টি উপস্তরের একটি। এর পুরুত্ব ২১০০ কিঃ মিঃ। এ স্তর তরল লোহা দ্বারা গঠিত। এ লোহার সাথে সামান্য পরিমাণ সালফার মিশ্রিত থাকে।
৭। Inner core (অন্তঃস্থল): Outer core এর পরে এটি ভূ-গর্ভের সর্বশেষ স্তর।
এর গভীরতা প্রায় ১৪০০ কিঃ মিঃ। এর স্তর সম্ভবত কঠিন। এতে লোহা ও অন্যান্য ভারী বস্তু আছে।
অতএব, পৃথিবীর এসব স্তর আলোচ্য আয়াতের "সাত পৃথিবী" তথ্যকে সমর্থন করে।

প্রশ্ন: যখন পুরুষ ব্যক্তি মসজিদে হারামে (জুমু'আর) সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং নারীদের স্থানের খুব কাছাকাছি সালাত আদায় করে, আর কয়েক বার তাদের চেহারার দিকে তাকানো হয়ে যায়, এমতাবস্থায় এর বিধান কী হবে?
উত্তর: হাদীসে সালাতের মধ্যে পুরুষগণ কর্তৃক নারীদের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থানের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কারণ, পুরুষদের সর্বোত্তম সারি বা কাতার হলো প্রথম কাতার এবং সবচেয়ে মন্দ কাতার হলো তাদের শেষ কাতার। কেননা শেষ কাতারটি নারীদের নিকটবর্তী হওয়ার কারণেই মন্দ কাতার, আর নারীদের সর্বোত্তম সারি বা কাতার হলো শেষ কাতার এবং সবচেয়ে মন্দ কাতার হলো তাদের প্রথম কাতার। কেননা প্রথম কাতারটি পুরুষদের নিকটবর্তী হওয়ার কারণেই মন্দ কাতার। সুতরাং পুরুষের জন্য মসজিদে ইচ্ছাকৃতভাবে নারীদের দিকে তাকানো হারাম এবং নারীর আবশ্যকীয় কাজ হলো সে মসজিদে পর্দা পালন করবে এবং এমন জায়গায় প্রবেশ করবে, যেখানে সাধারণত পুরুষগণ প্রবেশ করে না। এটি হলো, সে যদি মসজিদে সালাত আদায় করতে চায়, তবে সালাত আদায়ের জন্য তার নিজস্ব ঘরই উত্তম স্থান।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00