📘 Biggan moy quran > 📄 পৃথিবী সৃষ্টির পর্যায়সমূহ

📄 পৃথিবী সৃষ্টির পর্যায়সমূহ


পৃথিবী সৃষ্টির পর্যায়সমূহ
"Big Bang" সংগঠিত হওয়ার পর ঘটনা বহুল প্রক্রিয়ায় মহাবিশ্বের উন্মেষ ঘটে। বিস্তীর্ণ মহাকাশ (Heavens) ও আকাশী বস্তুসমূহ (Celestial bodies) যেভাবে সৃষ্টি হয়েছে সৃষ্টিতত্ত্ববিদরা তাকে দু'পর্বে এবং চার অধিযুগে (Era) বিভক্ত করেছেন।

প্রথম পর্ব (First phase):
সৃষ্টির প্রারম্ভে মহাজগৎ এমন দ্রুত সম্প্রসারণ হতে থাকে যার ফলে মহাকর্ষীয় শক্তি অপর তিনটি শক্তি (সবল নিউক্লিয়, দুর্বল নিউক্লিয় এবং বিদ্যুৎচুম্বকীয়) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের বিরাট মেঘমালা মহাকর্ষীয় ভাঙ্গনের ফলে পুঞ্জ পুঞ্জ বস্তুপিণ্ডে পরিণত হয়। এসব গ্যাস গঠিত বস্তুপিণ্ড উড়ে উড়ে স্থানান্তরিত হতে থাকে, যা প্রকারান্তরে নক্ষত্রে রূপ লাভ করে। নক্ষত্রসমূহ মহাকর্ষীয় শক্তির টানে কখনো গোলাকার, কখনো শঙ্কু, কখনো উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সি গঠন করে। এ পর্বে সৃষ্টিসমূহ সম্পন্ন হতে ২৫০ মিলিয়ন বৎসর সময় অতিবাহিত হয় এবং এটাকে গ্যালাক্সি গঠনের পর্বও বলা হয়।

দ্বিতীয় পর্ব (Second phase)
নক্ষত্রের আভ্যন্তরীণ চাপ গ্যাসীয় বস্তুর আরো ভেঙ্গে পড়াকে এগিয়ে দেয়। কোনো কোনো নক্ষত্রে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভারী মৌলিক পদার্থ ছিটকে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা থেকে নেবুলা গঠিত হয়। নেবুলাগুলো মহাকাশে ইতস্ততঃ ভ্রমণ শুরু করে এবং পরস্পর কাছাকাছি আসলে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যার দরুন ভারী পদার্থ বিচ্যুত হয়ে অবশেষে তা গ্রহ, উপগ্রহে পরিণত হয়। গ্রহ, উপগ্রহগুলো নির্দিষ্ট নক্ষত্রের চার পার্শ্বে ঘুরতে থাকে, এরূপ আমাদের ছায়াপথ গ্যালাক্সির নক্ষত্র সূর্যের (Star) প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। যার নাম সৌরজগত। সৃষ্টির এ পর্যায়কে দ্বিতীয় পর্ব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উপরোক্ত দু'পর্বের নিরিখে গঠিত হয় আমাদের পৃথিবী। মহাজাগতিক সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় তার জন্ম বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভূ-বিজ্ঞানীদের গবেষণা লব্ধ তত্ত্ব থেকে এ সত্য প্রতিভাত হয়েছে যে, পৃথিবীর আভ্যন্তরীণ সমুদয় সৃষ্টি চার পর্বে সমাপ্ত হয়েছে। এ সকল পর্বকে ভূতাত্ত্বিক অধিযুগ (geological eras) হিসেবে বিবৃত করা হয়েছে।

১ম অধিযুগ (1st era):
এটি ছিল দীর্ঘ অধিযুগ। এ অধিযুগ শুরু হয়েছিল ৪.২৫ বিলিয়ন বৎসর পূর্বে এবং এর স্থায়িত্ব ছিল ৩.৬৫ বিলিয়ন বৎসর। এ দীর্ঘ অধিযুগে সমগ্র বসুন্ধরায় ধারাবাহিক রূপান্তর ঘটতে থাকে। এ সময় বিভিন্ন গ্যাস মিশ্রিত উত্তপ্ত গ্যাসীয় মন্ডল পৃথিবীময় বিস্তৃত ছিল। ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণের ফলে তা তরল পদার্থে রূপান্তরিত হয় এবং এদের মধ্যে ক্রিয়া বিক্রিয়ার এক পর্যায়ে H₂ ও O₂ এর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জলীয় বাষ্প গঠিত হয়। তাপমাত্রা আরো হ্রাস পেলে বাষ্পকণা জল কণায় পরিণত হয়ে বৃষ্টিধারায় তা মাটিতে নেমে আসে। এভাবে ১০০ কোটি বছরের মধ্যে বায়ুমন্ডলের উন্নতি ঘটে। যার দরুন বসুন্ধরায় একাধারে বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটে এবং সাগর মহাসাগর ও নদ-নদী সৃষ্টি হয়। সৃষ্টির এ পর্যায়কে প্রোটেরোজোইক অধিযুগ (Proterozoic Era) নাম দেয়া হয়েছে।

২য় অধিযুগ (2nd era): এটাকে প্যালিওজোইক (Palaeozoic) অধিযুগ বলা হয়। এ সময়ে ক্রমাগত ধারায় ভূ-পৃষ্ঠের রূপান্তর ঘটতে থাকে। মৎস্য প্রাণী, উভয়চর প্রাণী (Amphibians) এবং সরীসৃপ প্রাণী (Reptiles) এ অধিযুগে আবির্ভূত হয়। এ অধিযুগ শুরু হয়েছিল ৬০০ মিলিয়ন বৎসর পূর্বে এবং এর স্থায়ীকাল ছিল প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন বৎসর।

৩য় অধিযুগ (3rd era): এ পর্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে মেসোজোইক অধিযুগ (Mesozoic Era)। এ সময়ে মাটির উর্বরতা সৃষ্টি হয়। মরুভূমি, বনাঞ্চল, পর্বতমালা এবং সামুদ্রিক অঞ্চল সম্প্রসারিত হতে থাকে। স্তন্যপায়ী জীব প্রথমবারের মত আবির্ভূত হয় এবং বিরল প্রাণী ডাইনোসর এ কালে আবির্ভূত হয়ে প্রাধান্য বিস্তার করে। এ যুগের স্থায়ী কাল ছিল প্রায় ১৫০ মিলিয়ন বৎসর।

৪র্থ অধিযুগ (4th era) এ পর্বের নাম সেনোজোইক এরা (Cenozoic era) বা নবজীবীয় অধিযুগ। এটি এমন একটি কাল যা শুরু হয়েছে প্রায় ৭০ মিলিয়ন বৎসর পূর্বে এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছে এ যুগে এবং মহান আল্লাহ তা'আলার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি "মানুষ" এ যুগে সৃষ্টি করা হয়েছে। কুরআন মজিদে একথা উল্লেখ আছে যে, পৃথিবীর প্রথম মানুষের নাম আদি পিতা আদম (আঃ)। তাঁকে মাটির আর পানির রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি করা হয়। তারপর আল্লাহপাক তার মধ্যে নফস সংযোজন করেন।

অতএব পৃথিবী সৃষ্টির এ সকল পর্ব সম্পর্কে আল-কোরআন সপ্তম শতাব্দীতে তথ্য পেশ করেছে।
قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْدَادًا ۚ ذَٰلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ ۚ وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ ۚ
Say, Do you disbelieve in Him Who created the earth in two phases and do you join equals with Him? He is the Lord of the whole universe. He set on the mountains standing firm, high above it and bestowed blessings on the earth and provided therein all things to give them nourishment in four eras in due proportion for those who seek sustenance.
আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি অবিশ্বাস স্থাপন করছ, যিনি দু’পর্বে পৃথিবী সৃষ্টি করছেন এবং তাঁর সমকক্ষ সাব্যস্ত করছ? অথচ তিনি সমগ্র মহাবিশ্বের একমাত্র প্রভু। তিনি ভূ-পৃষ্ঠে সুউচ্চ-সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং কল্যাণকর সব জিনিষ সৃষ্টি করেছেন চার অধিযুগ ব্যাপী। যাতে করে (পৃথিবীর বাসিন্দারা) রিযিক সন্ধান করতে পারে। (হা-মীম-৯-১০)

اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ
Allah it is Who created the heavens and the earth and all that are in between them in six phases.
তিনি আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভূ-মন্ডল এবং তাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন ছয় পর্বে। (সিজদা-৪)

প্রশ্ন: পুরুষ ব্যক্তির জন্য অপরিচিত নারীর দিকে আকস্মিক এক নজরের চেয়ে বেশি বার তাকানো বৈধ কিনা? আর যদি তা বৈধ না হয়, তাহলে পুরুষ ছাত্রদের জন্য শিক্ষাগ্রহণের যুক্তি দেখিয়ে এমন বক্তব্যের অনুষ্ঠানে হাযির হওয়া বৈধ হবে কি, যেখানে বক্তব্য পেশ করেন একজন সৌন্দর্য প্রদর্শনকারিনী নারী অথবা শরীরের সাথে লেগে থাকা আঁটসাঁট পোশাক পরিহিতা নারী?
উত্তর: পুরুষ ব্যক্তির জন্য অপরিচিত নারীর দিকে আকস্মিক এক নজরের চেয়ে বেশি বার তাকানো জায়েয হবে না; কিন্তু ডুবে যাওয়া থেকে, অথবা আগুনে পোড়া থেকে অথবা ধ্বংসস্তূপ থেকে অথবা অনুরূপ কোনো বিপদ থেকে উদ্ধার করার মতো জরুরি অবস্থায় অথবা ডাক্তারি পরীক্ষা করা অথবা রোগের চিকিৎসা করানোর মত জরুরি অবস্থায় যখন এ দায়িত্ব পালন করার মত কোনো নারীকে পাওয়া সহজ না হয়, তখন বিশেষ প্রয়োজনের কারণে পুরুষ ব্যক্তির জন্য আক্রান্ত নারীর দিকে একাধিকবার তাকানো বৈধ হবে।
وَصَلَّى اللهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ
(আল্লাহ সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর)।
স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড

📘 Biggan moy quran > 📄 পৃথিবীর গতি

📄 পৃথিবীর গতি


পৃথিবীর গতি (Earth’s motion)
পৃথিবী একটি গতিশীল গ্রহ। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে এটি সুনির্দিষ্ট পথে সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। আবার এটি নিজ অক্ষের (Axis) উপর লাটিমের মত পাক খায়। সম্প্রতি আরো দু’টি তথ্য জানা গেছে, পৃথিবী সূর্যের কক্ষপথে সূর্যকে নিয়ে আবর্তন করে এবং পৃথিবী সহ গোটা সৌরজগত Solar Apex অভিমুখে পরিক্রমণ করে। তাহলে পৃথিবীর চারটি গতি আমাদের সামনে প্রতিভাত হচ্ছে।
১। আহ্নিক গতি (Diurnal motion)
২। বার্ষিক গতি (Annual motion)
৩। সৌর গতি (Solar motion)
৪। সূর্যাক্ষের গতি (Motion on sun’s orbit)

১। আহ্নিক গতি
সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষরেখার উপর পৃথিবী পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে আবর্তিত হয়। এ আবর্তনে সময় লাগে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড। অর্থাৎ প্রায় ২৪ ঘন্টা। তাই ২৪ ঘন্টায় ১ দিন নির্ধারিত হয়েছে। আর এটাকে বলা হয় আহ্নিক গতি বা সৌরদিন। পৃথিবী একটি গ্রহ বলেই সূর্যের আলো দ্বারা আলোকিত হয়। সূর্যের আলো যে অংশে পতিত হয় সে অংশে দিন জাগে। অবশিষ্টাংশে রাত নামে। আহ্নিক গতির দরুন পৃথিবীতে রাত-দিন সংগঠিত হয়। পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর আহ্নিক গতি যদি থেমে যায় তাহলে এ বসুন্ধরায় এক অংশে চিরকাল দিন অপর অংশে চিরকাল রাত থাকত। অর্থাৎ রাত আর দিনের পরিবর্তন কখনো ঘটত না।
আহ্নিক গতির উপর আল-কোরআনে শত শত আয়াত রয়েছে। এখানে কয়েকটি উদ্ধৃত করা হলো।
أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُولِجُ الْبَلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي الَّيْلِ . وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى .
Do you not see that Allah merges the night into the day and He merges the day into the night that He has subjected the sun and the moon, each running its course for a term appointed.
তোমরা কি দেখ না মহানুভব প্রভু রাতকে দিনের উপর এবং দিনকে রাতের উপর প্রবাহিত করেন। আর তিনি চাঁদ এবং সূর্যকে নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছেন। প্রত্যেকে নিজ কক্ষপথে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলতে থাকবে। (লোকমান-২৯)
يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى الَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى.
He makes the night glide over the day and the day over night; He has subjected the sun and the moon; each one follows a course for a time appointed.
তিনি রাতকে দিনের উপর দিনকে রাতের উপর প্রবাহিত করেন এবং চাঁদ আর সূর্যকে নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আবর্তিত হবে। (যুমার-৫)

২। বার্ষিক গতি
পৃথিবী প্রতিনিয়ত উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। নিজ অক্ষে ২৪ ঘন্টায় একবার আবর্তনের সাথে সাথে একটি নির্ধারিত পথে সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। এভাবে সূর্যের চারিদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। তাই ৩৬৫ দিনে এক বৎসর ধরা হয়। আর এর নাম বার্ষিক গতি।
বার্ষিক গতির ফলে সূর্যের আলোক রশ্মি কোথাও লম্বভাবে এবং কোথাও তির্যকভাবে পতিত হয়। এর ফলে দিন-রাতের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। দিন-রাতের হ্রাস বৃদ্ধির কারণে পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন হয়।
অতএব বার্ষিক গতির উপর আল কোরআন,
وَجَعَلْنَا الَّيْلَ وَالنَّهَارَ أَيَتَيْنِ فَمَحَوْنَا آيَةَ الَّيْلِ وَجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ وَالتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْتُهُ تَفْصِيلًا.
We have made the night and the day as two signs, the sign of the night have We obscured, while the sign of the day We have made to enlighten you that you may seek bounty from your Lord and that you may know the number and count of the years and all things have We explained in detail.
আমরা রাত ও দিনকে দু'টি নিদর্শন করেছি। অতঃপর রাতের নিদর্শন নিষ্প্রভ করে দিয়েছি এবং দিনের নিদর্শনকে দেখার উপযোগী করেছি। যাতে তোমরা তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পার এবং যাতে স্থির করতে পার বছর সমূহের গণনা এবং হিসাব। আর সব কিছুর বিশদ বিবরণ সুবিদিত করেছি। (বাণী ইসরাইল-১২)
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ إِثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتُبِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاتِ وَالْأَرْضَ .
The number of months in the sight of Allah is twelve (in a year), So was it ordained by Allah on the Day when He created the heavens and the earth.
নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টির দিবস থেকে আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা বারো (এক বছর)। (তওবা-৩৬)
هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُوْرًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السَّنِيْنَ وَالْحِسَابَ
It is He Who made the sun a brilliant light and the moon a light of beauty and measured manzils for her that you may know the number of years and count of time.
তিনি-ই সূর্যকে উজ্জ্বল প্রদীপ করেছেন এবং চাঁদকে করেছেন আলোকিত (উপগ্রহ)। আর তার জন্য মঞ্জিল সমূহ নির্ধারণ করেছেন যাতে করে তোমরা বছর সমূহ ঠিক করতে পার এবং সময় গণনা করতে পার। (ইউনুচ-৫)

৩। সৌর গতি
সৌর জগতের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ পৃথিবী। সূর্য তার পরিবারের সকল গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ সহ এক নির্ধারিত মঞ্জিলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটাকে বলা হয় Solar Apex (সৌর চূড়া)। পৃথিবীর সৌরজগতের সাথে Solar Apex এর দিকে যে গতিতে আবর্তিত হয় তার নাম সৌরগতি। সৌর জগত কখন গিয়ে Solar Apex এ পৌছবে এ পর্যন্ত কোন বিজ্ঞানী তা বলতে সক্ষম হননি। সুমহান আল্লাহপাকই সর্বজ্ঞ।
وَالشَّمْسُ تَجْرِى لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذَلِكَ تَقْدِيْرُ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ.
And the sun is moving towards an appointed goal prescribed for it. This is decreed by the Almighty, the All knowing--Allah.
সূর্য তার নির্ধারিত মঞ্জিলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি সর্বশক্তিমান কর্তৃক আদিষ্ট সীমা যিনি সর্বজ্ঞানের অধিকারী আল্লাহ তাআলা। (ইয়াসীন-৩৮)

৪। সূর্যাক্ষের গতি
পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর ২৪ ঘন্টায় একবার আবর্তিত হয়। সূর্যের চারিদিকে ৩৬৫ দিনে একবার ঘুরে আসে। সৌরজগতের সাথে Solar Apex এর দিকে ক্রমান্বয়ে ধাবিত হয়ে থাকে এবং তার আর একটি ঘূর্ণন প্রক্রিয়া ধরা পড়েছে। সেটি হচ্ছে সূর্যের কক্ষপথের উপর আবর্তন। সূর্যের কক্ষপথ একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৫ মিলিয়ন আলোক বৎসর (25 million light years).
কُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ।
All celestial bodies are moving in the sky.
প্রত্যেক আকাশী বস্তু মহাশূন্যে সঞ্চরণ করে চলেছে। (আম্বিয়া-৩৩)
إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمُوتِ وَالْأَرْضَ أَنْ تَزُولًا।
Indeed, Allah holds the heavens and the earth lest they should move away from their courses.
তিনি আল্লাহ যিনি আকাশ সমূহ এবং পৃথিবীকে ধারণ করে রেখেছেন যেন তারা গতিপথ থেকে বিচ্যুত না হয়। (ফাতির-৪১)

প্রশ্ন: হারাম শরীফে যৌন কামনা ব্যতীত কোনো পুরুষ নারীদের দিকে তাকালে তাকে শরী'আতের দৃষ্টিতে দোষী সাব্যস্ত করা হবে কিনা, জেনে রাখা দরকার যে, নারীরাই তাদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে?
উত্তর: বাস্তব কথা হলো হারাম শরীফে নারীদের সমস্যাটি একটি বড় ধরনের সমস্যা। কারণ, নারীদের মধ্যে যারা ইবাদাত ও আনুগত্যের এ স্থানটিতে হাযির হন, তারা এমন চেহারা নিয়ে হাযির হন, যাতে কেউ ফিতনার শিকার না হয়, আবার কোনো কোনো নারী আসে সৌন্দর্য প্রদর্শন করে সুগন্ধি লাগিয়ে এবং কখনও কখনও তার চালচলন থেকে এমন ভাব প্রকাশ পায় যে, সে পুরুষদের সাথে প্রেমালাপ করছে, আর এ কাজটি মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য যে কোনো জায়গাতেও অন্যায় ও অপরাধ। সুতরাং তা মসজিদে হারামে কীভাবে বৈধ হতে পারে?! আর তাদের মধ্য থেকে যারা শুনেন ও পাঠ করেন, তাদের প্রতি আমার নসীহত বা উপদেশ হলো, তারা যেন তাদের নিজেদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করেন এবং যে কেনো অপরাধ সংঘটিত হওয়া থেকে 'বাইতুল্লাহ' তথা আল্লাহ তা'আলার ঘরকে সম্মান করেন। আর পুরুষগণের দায়িত্ব হলো, যখন তারা কোনো নারীকে অশালীন চেহারায় দেখতে পাবে, তখন তাদের কর্তব্য হলো তাকে উপদেশ দেওয়া, ধমক দেওয়া অথবা যিনি তাকে নিষেধ করতে ও ধমক দিতে পারেন, তার সম্পর্কে তাকে জানিয়ে দেওয়া, আর আল-হামদুলিল্লাহ, (সেখানকার) মানুষগুলোর মধ্যে ভালো গুণ রয়েছে।
কিন্তু এটা সত্ত্বেও আমরা বলব: অবশ্যই পুরুষ ব্যক্তির দায়িত্ব হলো সাধ্য অনুযায়ী তার দৃষ্টিকে অবনমিত রাখা, যেমনটি আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ﴾ [النور: ٣٠]
“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে।”¹⁸
সুতরাং তার আবশ্যকীয় দায়িত্ব হলো তার দৃষ্টিকে সাধ্যানুসারে অবনমিত রাখা, বিশেষ করে যখন সে নিজেকে দেখবে মজা পাওয়ার জন্য মন আনচান করে, তখন তার জন্য ওয়াজিব হলো বেশি বেশি করে নিচের দিকে তাকানো, আর এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে বহু রকম-ফের রয়েছে।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-'উসাইমীন

টিকাঃ
¹⁸ সূরা আন-নুর, আয়াত: ৩০

📘 Biggan moy quran > 📄 পৃথিবীর সংখ্যা

📄 পৃথিবীর সংখ্যা


পৃথিবীর সংখ্যা সাত
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمُوتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ।
Allah is He Who created the seven heavens and the earth also in equal number.
তিনি আল্লাহ যিনি সাত আকাশ এবং সম সংখ্যক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। (তালাক-১২)
আল-কোরআনে ব্যবহৃত "ছাবআ” শব্দটি এমন বিস্ময় সৃষ্টি করেছে যা আল্লাহ তা'আলার সমগ্র সৃষ্টি রহস্যকে তাৎপর্যমণ্ডিত করে তুলেছে। "ছাবআ” অর্থ সাত। সপ্ত আকাশের ধারণা বহুদিন থেকে বিশ্বময় সর্বসাধারণের কাছে জানা আছে।
অতএব, আকাশের স্তর সাত, বায়ুমণ্ডলের স্তর সাত, সূর্যের আলোতে আছে সাত রঙ, মহাকাশে দৃশ্যমান জ্যোতিষ্ক সাত প্রকার, তারকারাজির মধ্যেও সাত রকমের তারকা রয়েছে (সৃষ্টি নৈপুণ্যতা অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে)। তাই গবেষকরা বলেছেন, 'It's a mysterious SEVEN in the creation of Almighty.
উপরোক্ত আয়াতে আল-কোরআন ইঙ্গিত দিয়েছে যে "সপ্ত আকাশের মত সমসংখ্যক পৃথিবী রয়েছে।" পৃথিবী বলতে আমরা বুঝি, যেখানে জীবন সৃষ্টি হয়। যেখানে প্রাণী বসবাসের উপযুক্ত বায়ুমণ্ডল রয়েছে। যেখানে ফসল উৎপন্ন হয় এবং আবিষ্কার করার নির্দেশনাবলী রয়েছে।
আল-কোরআনের এই ইঙ্গিতের ভিত্তিতে সম্ভবত পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা গ্রহ থেকে গ্রহে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন পৃথিবীর মত উপযুক্ত পরিবেশ সমৃদ্ধ কোন গ্রহ পাওয়া যায় কিনা। অথবা কোন গ্রহে প্রাণের সন্ধান মিলে কিনা। আমাদের সৌরজগতের বাইরে এখন অনেক গ্রহ আবিষ্কার হয়েছে। যারা নির্দিষ্ট নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরছে। আবার অন্য গ্যালাক্সিতে অবস্থিত গ্রহে এখনো মানুষের জ্ঞান পৌঁছেনি। হয়ত একদিন এমন চমক সৃষ্টি হবে পৃথিবীর মত আরো ছয়টি গ্রহ আবিস্কার হবে। সে সব গ্রহে পৃথিবীর অনুরূপ পরিবেশ পাওয়া যাবে কিংবা প্রাণের সন্ধান মিলবে। আর তখন এটা হবে মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়।
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمُوتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ
Allah is He Who created the seven firmaments and of the earth a similar number.
তিনি আল্লাহ, যিনি সপ্ত আকাশ ও সম সংখ্যক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। (তালাক-১২)
'পৃথিবীর সংখ্যা সাত' এ মর্মে আরো একটি ব্যাখ্যা দেয়া যায়। যেমন ভূ-তাত্ত্বিক ফলাফল থেকে জানা যায় পৃথিবী সাত স্তরে বিভক্ত।
১। Atmosphere (বায়ুমন্ডল)
এটি পৃথিবীর এক অপরিহার্য বাহ্য স্তর। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর বিস্তৃতি ৫০০ কিঃ মিঃ উর্ধ্বে। এ স্তর পৃথিবী মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আকর্ষণে ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেপ্টে আছে।
২। Crust (ভূ-ত্বক)ঃ
পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন বহিরাবরণকে ভূ-ত্বক বলা হয়। পৃথিবীর সামগ্রিক দেহ-অবয়ব গঠনে ভূ-ত্বকের অবদান মাত্র ০.৬%। ভূত্বকের পুরুত্ব মহাদেশের তলদেশে গড়ে ৩৫ কিঃ মিঃ এবং সমুদ্র তলদেশে গড়ে ৫ কিঃ মিঃ। এ স্তরে রয়েছে মাটির উর্বরা শক্তির প্রয়োজনীয় উপাদান সমূহ যথা-
অক্সিজেন O₂ ৪৬.৬% অ্যালুমিনিয়াম Al- ৮.১% আয়রন Fe- ৫.০% ক্যালসিয়াম Ca- ৩.৬% সোডিয়াম Na- ২.৮% পটাসিয়াম K- ২.১% অন্যান্য ২৯.২% ১০০%
৩। Lithosphere (অশ্মমন্ডল)ঃ ভূ-ত্বকের নিম্নভাগ থেকে এর পুরুত্ব ১০০ কিঃ মিঃ মাত্র। আমাদের গ্রহের বৈশিষ্ট্যগুলো ঐ ঘটনার মধ্যে নিহিত যে ঘটনায় অশ্মমন্ডল সহ এর উপরিভাগ ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে বেশ কিছু কঠিন অশ্মমন্ডলীয় প্লেটে পরিণত হয়েছে। লিথোস্ফিয়ারের নিম্নদেশের গঠনে বেশ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বিদ্যমান। এ গঠন বিচ্ছিন্ন সীমারেখা দ্বারা চিহ্নিত। এ সীমারেখাকে বলা হয় 'মোহো' (Moho)। এ অংশের গভীরতা ২৯০০ কিঃ মিঃ। এ অংশ সমগ্র পৃথিবীর দেহাবয়বের ৮২% শতাংশেরও বেশী গঠন করেছে।
৪। Aesthenosphere (নমনীয় মন্ডল): অশ্মমন্ডলের নিম্নভাগ থেকে অন্তত ২৫০ কিঃ মিঃ এর পুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এর নাম নমনীয় মন্ডল। এ স্তরের উপর আবরণ গরম, তুলনামূলকভাবে প্লাস্টিকের মতো এবং ক্ষীরের মোটা স্তরের মতো তলতলে। এটা এমন নমনীয় স্তর যার সঞ্চালন গতির সাহায্যে লিথোস্ফিয়ারের শক্ত প্লেটগুলোকে ভূ-মন্ডলের চারপাশে সঞ্চালিত হওয়ার সুবিধা প্রদান করে।
৫। Mesosphere (মেসোমন্ডল): নমনীয় মন্ডলের নিম্নভাগ থেকে এ স্তর ৩৫ কিঃ মিঃ পুরু। এটা পথে ঢালা পিচের (Pitch) মতো আবরণী অংশ যা প্রকৃতিগতভাবে সুগঠিত। এর আরো গভীরে আছে স্থলাংশ (Core)। স্থলাংশ দু'টি উপস্তরে বিভক্ত। যথা, বহিঃস্থল ও অন্তঃস্থল।
৬। Outer core (বহিঃস্থল): মেসোমন্ডলের দু'টি উপস্তরের একটি। এর পুরুত্ব ২১০০ কিঃ মিঃ। এ স্তর তরল লোহা দ্বারা গঠিত। এ লোহার সাথে সামান্য পরিমাণ সালফার মিশ্রিত থাকে।
৭। Inner core (অন্তঃস্থল): Outer core এর পরে এটি ভূ-গর্ভের সর্বশেষ স্তর।
এর গভীরতা প্রায় ১৪০০ কিঃ মিঃ। এর স্তর সম্ভবত কঠিন। এতে লোহা ও অন্যান্য ভারী বস্তু আছে।
অতএব, পৃথিবীর এসব স্তর আলোচ্য আয়াতের "সাত পৃথিবী" তথ্যকে সমর্থন করে।

প্রশ্ন: যখন পুরুষ ব্যক্তি মসজিদে হারামে (জুমু'আর) সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং নারীদের স্থানের খুব কাছাকাছি সালাত আদায় করে, আর কয়েক বার তাদের চেহারার দিকে তাকানো হয়ে যায়, এমতাবস্থায় এর বিধান কী হবে?
উত্তর: হাদীসে সালাতের মধ্যে পুরুষগণ কর্তৃক নারীদের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থানের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কারণ, পুরুষদের সর্বোত্তম সারি বা কাতার হলো প্রথম কাতার এবং সবচেয়ে মন্দ কাতার হলো তাদের শেষ কাতার। কেননা শেষ কাতারটি নারীদের নিকটবর্তী হওয়ার কারণেই মন্দ কাতার, আর নারীদের সর্বোত্তম সারি বা কাতার হলো শেষ কাতার এবং সবচেয়ে মন্দ কাতার হলো তাদের প্রথম কাতার। কেননা প্রথম কাতারটি পুরুষদের নিকটবর্তী হওয়ার কারণেই মন্দ কাতার। সুতরাং পুরুষের জন্য মসজিদে ইচ্ছাকৃতভাবে নারীদের দিকে তাকানো হারাম এবং নারীর আবশ্যকীয় কাজ হলো সে মসজিদে পর্দা পালন করবে এবং এমন জায়গায় প্রবেশ করবে, যেখানে সাধারণত পুরুষগণ প্রবেশ করে না। এটি হলো, সে যদি মসজিদে সালাত আদায় করতে চায়, তবে সালাত আদায়ের জন্য তার নিজস্ব ঘরই উত্তম স্থান।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00