📄 পরিশিষ্ট-১০ মৌমাছি
পরিশিষ্ট-১০ Appendix-10
মৌমাছি (The Bee)
Hymenoptera বর্গের Apoidea অধিগোত্রের পতঙ্গদের সাধারণ নাম মৌমাছি। প্রায় ৩০০০ প্রজাতির মৌমাছির কথা জানা গেছে। বর্তমান কালে প্রায় সব মৌমাছি প্রোটিন সংগ্রহের জন্য পরাগের উপর এবং শর্করা সংগ্রহের জন্য ফুলের নির্যাসের উপর নির্ভরশীল। ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর মাধ্যমে মৌমাছিরা ফুলের পরাগ সংযোগ ঘটায়। এ কারণে অসংখ্য উদ্ভিদ পরাগায়নের (pollination) জন্য একান্তভাবে মৌমাছির উপর নির্ভরশীল। আর এর গুরুত্ব যে কত তা হিসেব করা অসাধ্য। মৌমাছির এ কাজ শুধু মানুষের খাদ্য ও মধু সরবরাহের জন্যই অপরিহার্য নয়। জলজ, স্থলজ ও প্রাণীজ সম্পদের জন্যও মৌমাছি অতীব প্রয়োজনীয় প্রাণী। দয়াময় আল্লাহ তাআলা এ ছোট্ট প্রাণীটিকে অনেক গুণে সমৃদ্ধ করেছেন।
মৌচাক নির্মাণ (building of hives): মৌমাছির নির্মিত মৌচাক খুব ভালভাবে সুগঠিত। প্রতিটি মৌচাকে একজন রানী মৌমাছি, কিছু পুরুষ মৌমাছি এবং কিছু কর্মী মৌমাছি থাকে। স্থানভেদে মৌচাকগুলো বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কিছু মৌচাক পাহাড়ের কোলে এবং বৃক্ষডালে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। আর কিছু মৌচাক দালান-কোঠার দেয়ালে ও ছাদের কিনারায় পরিলক্ষিত হয়। পাহাড়ী মৌমাছি বিরাট আকারে মৌচাক তৈরি করে থাকে। এ মৌচাকের আকার হয়ে থাকে সাধারণ ০.৮ বর্গমিটার। অন্যান্য প্রজাতির মৌমাছি যথা, ইউরোপীয় এপিস মেলিফিকা (apis mellifica) এবং এশীয় এপিস সিরানা (apis cerana) তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের মৌচাক নির্মাণ করে থাকে। যে মৌচাকে মৌমাছিরা কলোনী নির্মাণ করে বসবাস করে তা উপর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। মৌচাক তৈরি হয়ে থাকে খাড়াভাবে এবং তার কক্ষগুলো থাকে আড়াআড়িভাবে। সমগ্র মৌচাক অসংখ্য ষড়ভূজের (Hexagon) সমষ্টি। অর্থাৎ এক একটি প্রকোষ্ঠ ৬টি বাহু দ্বারা সীমাবদ্ধ। বাহুগুলো মোমের তৈরি। মোম তৈরি হয় মৌমাছির উদরের উপরের অংশে অবস্থিত গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালা দ্বারা। মৌমাছিরা মোমকে চর্বন করে এবং মুখের লালাতে মিশিয়ে পাতলা বেড়ি আকারে মৌচাকের মধ্যে প্রকোষ্ঠ তৈরি করে। ছাত্রদের কাছে এটা খুব মজার ব্যাপার যে, মৌমাছিরা আশ্চর্যজনকভাবে যে ষড়ভুজ (hexagon) রচনা করে তা খুব কার্যকরভাবে স্বল্প জায়গার মধ্যে তৈরি হয়ে থাকে। এ প্রকোষ্ঠে মধু সঞ্চিত হয়ে থাকে যথেষ্ট পরিমাণে। যে প্রকোষ্ঠগুলো নিয়মিতভাবে ষড়ভুজ ক্ষেত্র বিশিষ্ট হয় তাদের আকার ও গঠন দুই ধরনের। ছোট আকারের প্রkoষ্ঠগুলোতে কর্মী-মৌমাছি বাস করে। এতে মধু ও পরাগরেণু সঞ্চয় করা হয়। বড় প্রকোষ্ঠগুলোতে পুরুষ মৌমাছি বাস করে। কোন নির্দিষ্ট ঋতুতে মৌচাকে বাস করার অবস্থা যখন অধিক মৌমাছি দ্বারা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে তখন স্ত্রী মৌমাছি বা রাণীর জন্য বিশেষ ধরনের কক্ষ নির্মাণ করা হয়। এ কক্ষগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছির বাচ্চা জন্মে। এ কক্ষগুলো আড়াআড়ি না হয়ে খাড়া আকারের হয়ে থাকে এবং এগুলোর নিচের দিক উন্মুক্ত থাকে। এক পাউন্ড মোমের দ্বারা ৩৫০০০ কক্ষ তৈরি হতে পারে এবং এ কক্ষগুলোতে অন্তত ১০ কেজি মধু সংরক্ষিত থাকতে পারে। মৌচাকের আভ্যন্তরীন ব্যবস্থাপনা এরূপ যে, সেখানে একটি প্রসারিত লালন-পালন বিভাগ বা ডিম ফোঁটানোর কক্ষ থাকে। এ কক্ষের নিম্নদেশে থাকে পরাগরেণুর সঞ্চয়-সম্ভার। আর এর উপরিভাগে থাকে মধুর সঞ্চয়-সম্ভার। এর সর্বনিম্নে থাকে প্রবেশপথ। এ প্রবেশপথ থেকে মধু সঞ্চয়ের স্থানটি সর্বাপেক্ষা দূরবর্তী।
মধু সংগ্রহ (Collection of honey): মাত্র আধা কেজি মধু উৎপাদন করার জন্য ৫৫০টি মৌমাছিকে ২৫ লক্ষ ফুল থেকে রস ও পরাগ সংগ্রহ করতে হয়। আর এজন্য তাদেরকে ৭৫০০০ বার ফুলে ফুলে ভ্রমণ করতে হয়। যখন ফুল পাওয়া যায় না তখন মৌমাছিরা ফলের রস সংগ্রহ করে। কিন্তু তাদের চোওয়াল শক্ত না হওয়ার কারণে কাচা ফল থেকে রস সংগ্রহ করতে পারে না। ফল পেকে নরম হলেই সে নরম-পাকা ফল থেকে অতি সহজে রস সংগ্রহ করে থাকে।
একটি মৌচাকে ৩০,০০০ থেকে ৬০০০০ কর্মী মৌমাছি থাকে। এ মৌমাছিগুলো জন্ম থেকে ২১ দিনের মধ্যে কর্মক্ষম হয়ে ওঠে এবং পরাগ ও ফুলের রস সন্ধানের কাজে তারা বাইরে বের হয়। আর এসবের সন্ধান পেলে তারা ফিরে এসে চাকের অন্যান্য কর্মী মৌমাছিদের খবর দেয়। মৌমাছিদের একটি বৈশিষ্ট্য এ যে তারা ১০০ মিটার ব্যাসার্ধ ব্যাপী খাদ্য সন্ধান করে যেখানে খাদ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহের সুযোগ থাকে।
মধুনৃত্য (Honey dance): যে পদ্ধতিতে মৌমাছিরা তাদের সহযোগী সদস্যদের মধু প্রাপ্তির স্থান সম্পর্কে খবর জানায় সে পদ্ধতিকে বলা হয় মধুনৃত্য বা Honey dance। এটাকে মৌমাছির ভাষা হিসেবেও অভিহিত করা হয়। মধূনৃত্যের দ্বারা দু'টি তথ্য প্রতিভাত হয়। একটি খাদ্য বা মধু প্রাপ্তির ঠিকানা অপরটি খাদ্যের মজুদ। তাদের ভাষার যোগাযোগ মধুনৃত্যের জ্যামিতিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে যদি মৌমাছি সোজাপথে উড়ে এগিয়ে যায়, তারপর ডান দিকে ঘুরে যায়, তারপর আবার সোজাপথে চলে, এরপর আবার বামদিকে ঘুরে। এ নৃত্য-ভঙ্গির চলন পরিক্রমা দ্বারা বোঝা যায় যে, এখানে অর্থাৎ তার চলন ভঙ্গির বলয়ের মধ্যে খাদ্যের (ফুলের মধু) সন্ধান মিলেছে। আবার মৌমাছির খাদ্যের গতি সন্ধানের ইঙ্গিত দেয় সূর্যরশ্মির গতিপথের সঙ্গে খাদ্যের গতিপথের সম্পর্কের মধ্যে মিল প্রতিষ্ঠা করে। সূর্যরশ্মির গতিপথ দেখানো হয় মৌচাকের উপরের অংশ থেকে উপর দিকে তির্যক রেখা টেনে। যদি মৌমাছি লম্বভাবে উপর দিকে ওঠে তাহলে বুঝতে হবে যে, এভাবে উপর দিকে উঠলেই খাদ্যের সন্ধান মিলবে। যদি খাদ্য সূর্য-রশ্মি থেকে ৩০ ডিগ্রী বামে থাকে তাহলে নৃত্যের গতি সূর্যরশ্মির লম্বরেখা থেকে ৩০ ডিগ্রী বামে ঝুঁকে পড়বে। অন্যান্য মৌমাছিরা নৃত্যরত মৌমাছিদের লক্ষ্য করে দেখে এবং তাদের অবস্থানের সঙ্গে লম্বরেখার সম্পর্ক কি ধরনের তা অবলোকন করে। এ লম্বরেখা সূর্যরশ্মির গতিপথ ও অভিকর্ষ টানের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলে। (অভিকর্ষ বলের অনুভূতি মৌমাছিদের নিজস্ব) যখন নৃত্য প্রদর্শনকারী মৌমাছিরা চলে যায় তখন অন্যরা সূর্যরশ্মির প্রতি লক্ষ্য রেখে একটা নির্দিষ্ট কৌণিক দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। প্রজ্ঞাময় আল্লাহপাক মৌমাছিদের নির্ধারিত পথের ব্যাপারটি তুলে ধরেছেন সূরা নাহলের ৬৯ নং আয়াতে। যে পথে ভ্রমণ করার জন্য তিনি তাদের আদেশ দিয়েছেন। মৌমাছিদের উপর বিভিন্ন গবেষকদের গবেষণা কর্মে নৃত্যভঙ্গির আলোকে নির্দিষ্ট পথের বিষয়টি অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে। মৌমাছির গোষ্ঠীবদ্ধ জীবন ও খাদ্য সংগ্রহ পদ্ধতি খুব বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে পরিশিষ্ট-১০-এ।
মধুতে দু'রকম শর্করা পাওয়া যায়। গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ। এ দু'টি উপাদান মধুর প্রধান উপকরণ। এতে সামান্য পরিমাণে সুক্রোজ ও মল্টোজ রয়েছে।
মধুতে কার্বোহাইড্রেট ৭৯.৫%, প্রোটিন ০.৩%, আয়রন-০.৭% হারে বিদ্যমান। ডাক্তারি ভাষায় মধুকে বলা হয় ডিটারজেন্ট টু আলসার। মেডিসিন হিসেবে মধু ব্যাকটেরিয়ার এক নম্বর শত্রু। অর্থাৎ এটি এন্টিবায়োটিকের মত কাজ করে। ওরাল ডিহাইড্রেশনে মধুকে চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। যা ডায়রিয়া প্রতিকারে বিশেষ কার্যকর। কণ্ঠস্বর সবল করার জন্য মধুর শরবত অত্যন্ত উপকারী। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে, মধু রোগজীবাণু খুব কার্যকরভাবে ধ্বংস করে।
وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِى مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ . ثُمَّ كُلِى مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفُ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءُ لِلنَّاسِ، إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
And your Lord inspired the bees, saying: "Take your habitations in the hills, and on the trees and in what they erect. Then eat of all the fruits and follow the paths of your Lord made tractable for you; there issues forth from their bellies, a drink of varying colours, wherein is healing for men; Verily in this is indeed a sign for people who thought."
আপনার প্রভু মধুমক্ষিকাকে এ মর্মে ওহী করেছেন, তোমরা গাছের ডালে, পাহাড়ে এবং ঘরবাড়ির ছাদে বাসা (মৌচাক) নির্মাণ কর। অতঃপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন প্রভুর পথে চল যা অতি সরল। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় (মধু) নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নির্দেশনা। (নাহাল-৬৮-৬৯)
মধুর বর্ণ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। গাঢ় বাদামী থেকে সোনালী হলুদ বর্ণের মধু দেখা যায়। ফুল থেকে মৌমাছিরা যে মধু সংগ্রহ করে তা মৌচাকে জমা হয় এবং সেখানে ব্যাপকতা লাভ করে। মৌচাকে সঞ্চিত মধু পরবর্তীতে মৌমাছিদের খাদ্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
ফুল থেকে আহরিত নির্যাস ও পরাগের উপর নির্ভর করে মধুর গন্ধও বর্ণের ধরন। Tannic Acid মধুর কৃষ্ণ বর্ণ ও তীক্ষ্ণ স্বাদের কারণ বলে মনে করা হয়। হলুদ বর্ণের মধু সরষে থেকে আহরিত মধুর বৈশিষ্ট্য বহন করে। মধুর রং হলুদ বর্ণের হয় Carotin বা Xanthophyll এর কারণে। সাদা ত্রিফলা গাছের মধু রক্ত-গোলাপ রং লাভ করার কারণ হলো 'এ্যানথোসায়ানিন' (anthocyanin)। মৌচাকে পানির আধিক্য বাষ্পীভূত হয়ে বিপরীতভাবে শর্করা জাতীয় পদার্থ এক দানা বিশিষ্ট স্যাকারিন যথা, লেভলুজ ও ডেক্সট্রোজে পরিবর্তিত হয়। মধুতে গড়ে লেভলুজ ৪০.৫%, ডেক্সট্রোজ ৩৪%, সুক্রোজ ১.৯%, ওয়াটার ১৭.৭%, ডেক্সট্রিন ও গাম (gums) ১.৯% এবং এ্যাশ ০.১৮% থাকে। এছাড়া মধুতে অন্যান্য উপাদানের মধ্যে থাকে ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-বি কমপ্লেক্সের সদস্য, বিভিন্ন রকম এনজাইম, খনিজ পদার্থ, সিলিকা, ম্যাঙ্গানিজ, ক্লোরিন, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, সালফার, এ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। সব ধরনের মধু বায়ু থেকে পানি শুষে (Hygroscopic) নেয় তাই মধু কখনো জমাট বাধে না। মধুতে অধিক পরিমাণে তাপ দিলে তার সুগন্ধ ও খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়।
ইউনানী ও আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসাশাস্ত্র মধকে ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করে থাকেন। বর্তমানে পুষ্টি বিজ্ঞানীগণ মধুর পুষ্টিমানের উপর ব্যাপক হারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশকিছু ঔষধ বিশেষজ্ঞ মধুকে শিশুর খাদ্য হিসেবে অনুমোদন করেছেন। শিশুরা মধু পান করলে ক্যালসিয়াম লাভ করে থাকে এবং হজমের গন্ডগোল দূরিভূত হয়। কারণ মধুতে থাকে স্বাভাবিক কার্বোহাইড্রেট। উপরন্তু এজাইম; ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, খনিজ উপাদান এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ মধুতে বিদ্যমান থাকায় এসব পদার্থ থেকে মানুষ পুষ্টির জন্য যথেষ্ট সহায়তা লাভ করে।
একথা আমরা সকলে জানি যে, মহানবী (সঃ) বহু রকম রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মধু পান করতে বলতেন। বিশেষ করে অম্লতা দেখা দিলে অধিকাংশ লোকই মধু পান করতেন। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে চিকিৎসক Larsen প্রতিনিয়ত ১২৫ গ্রাম মধু সেবন করার জন্য সুপারিশ করেছেন। মধুতে যে থায়ামিন, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং বহু ধরনের শর্করা বিদ্যমান থাকে তা যকৃত রোগের বিশেষ উপকার সাধন করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানী Digir বলেছেন, অম্ল রোগের চিকিৎসায় মধু যে বিরাট অবদান রাখে তা আজকের দিনে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বৃটেন, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইটালী ও জার্মানীর বহু পত্র-পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি তুলে ধরে মধু যে অম্ল রোগের কি পরিমাণ উপকার সাধন করে তা ভালভাবে দেখিয়েছেন। অম্ল রোগে পড়ে শরীর ভেঙ্গে গেলে মধু পান করে তা পুনর্গঠন করা যায়। কারণ মধু খাদ্য প্রাণের (ভিটামিন) অভাব পূরণ করে এবং অম্লতা উপশম করে। ফোঁড়া, ঘা ও ছেরা ঘায়ের চিকিৎসায় মধু ব্যবহৃত হয়ে থাকে কারণ মধুতে কিছু নমনীয় এ্যানটিসেপটিক গুণাবলী আছে। মৌমাছিরা যে মধু সংগ্রহ করে তা রোগ চিকিৎসায় যে ব্যাপক অবদান রাখে তা বিশেষভাবে গবেষণার বিষয়বস্তু।
সুতরাং আল-কোরআনের সূরা নাহলের ৬৮ এবং ৬৯ নং আয়াতে মৌমাছিদের মধু সম্পর্কে খুব উচ্চ মানের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত মৌমাছিদের প্রবৃত্তি সম্পর্কে আল্লাহপাক আমাদের অবগত করেছেন। এই প্রবৃত্তি তিনি মৌমাছিদেরকে বাসা নির্মাণে তিনটি স্থানের প্রতি ওহীর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করেছে। অতঃপর এতদসঙ্গে মৌমাছিরা কিভাবে মধু সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা করে থাকে তাও বিবৃত করা হয়েছে। পরিশেষে মৌমাছিদের পেট থেকে কিভাবে মধু নিঃসৃত হয় তা ব্যক্ত করা হয়েছে।