📄 সূর্য
সৌরজগতের কেন্দ্রে সূর্য অবস্থিত। সকল গ্রহ তার চার পাশে আবর্তিত হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বিজ্ঞানী জোহান্স কেপলার সৌরজগতের গ্রহগুলো সূর্যের চারিদিকে যে নির্দিষ্ট নিয়মে আবর্তিত হয়ে থাকে তা প্রমাণ করার জন্য তিনটি সূত্র আবিষ্কার করেন। প্রথম সূত্রের ভাষ্য হলো, ‘গ্রহের অক্ষগুলো সূর্যের সঙ্গে এক আলোক-রেখায় উপবৃত্তাকার।’ দ্বিতীয় সূত্রের ভাষ্য হলো, ‘প্রত্যেক গ্রহের সাথে সূর্যের যোগাযোগ রেখা (radius vector) একই সময়ের ব্যবধানে সমান ক্ষেত্র অতিক্রম করতে পারে।’
তৃতীয় সূত্রের ভাষ্য, ‘যে কোন গ্রহের নাক্ষত্রকালের বর্গ তাদের সূর্য থেকে মধ্যবর্তী দূরত্বের ঘন অণুপাতের সমান।’ এ তিন সূত্রের একত্রিকরণ রীতি নিউটন আবিষ্কার করেন। এ তিন সূত্র থেকে তিনি অনুভব করেছিলেন যে, গ্রহগুলো সূর্যের কক্ষপথে টান খাচ্ছে। তাদের টানছে একটি শক্তি যাকে নিউটন মহাকর্ষ শক্তি (force of gravitation) বলে অবহিত করেছেন।
সূর্য তার অক্ষের চারপাশে আবর্তিত হয় খুব ধীর গতিতে। এটা একটা পার্থক্যধর্মী আবর্তন। এ আবর্তনের ফলে সূর্যের বিভিন্ন অংশের গতিবেগ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এ ভিন্নধর্মী আবর্তনের Synodic সময় সূর্যালোকের অক্ষাংশের সাথে বৃদ্ধি পায়। এ বৃদ্ধির কাল উত্তর দক্ষিণে নিরক্ষ রেখায় ২৭ দিন থেকে ৬০° অক্ষাংশে ৩১ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বর্ণালী বীক্ষণ যন্ত্র (spectroscopy) দ্বারা যে পরিমাপ পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় যে, আবর্তনের সময়কাল বৃদ্ধি পেতে পেতে মেরু অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছায়।
অতএব এটা খুবই স্পষ্ট যে, চন্দ্র, সূর্য তথা নক্ষত্রসমূহের কক্ষপথে যিনি সঠিক নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন, মহাকর্ষ শক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ রীতি প্রবর্তন করেছেন, তিনি সমগ্র জগতের একক অধিপতি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।
وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبْرَكَ اللهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
He created the Sun, the Moon and the Stars, governed by laws under His command. His verily is the creation and commandment. Blessed be Allah, the Lord of the Universe.
তিনি চাঁদ, সূর্য এবং নক্ষত্র সৃষ্টি করে তাঁর আইনের অধীন করে রেখেছেন। কেননা সৃষ্টি যাঁর আইন চলে তাঁর। সুতরাং মহামহিম আল্লাহপাক মহাবিশ্বের প্রভু।
স্বাভাবিকভাবে আমাদের মনে হয় সূর্য একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। আসলে পৃথিবীর নিকটবর্তী হওয়ার কারণে সূর্যকে এতো উজ্জ্বল এবং তেজদীপ্ত মনে হয়। সূর্যের চেয়ে লক্ষ গুণ উজ্জ্বল নক্ষত্র মহাকাশে প্রতিষ্ঠিত আছে। যেমন Rigel (বানরাজ) তারা। এটি সূর্য অপেক্ষা ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) গুণ দীপ্ত। S. Doradus - সূর্যের চেয়ে ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) গুণ ঔজ্জ্বল্যের অধিকারী। এসব নক্ষত্র সুবিশাল দূরত্বে থাকার দরুণ পৃথিবী থেকে খালি চোখে এদের উজ্জ্বল রূপ দর্শন করা অসাধ্য। বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা পর্যবেক্ষণ করার জন্য আলোক দূরবীন এবং রেডিও দূরবীন (Optical & Radio Telescope) ব্যবহার করে থাকেন।
প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীকে দীপ্তিময় করার জন্য সাত রং মিশ্রিত আলো অপরিহার্য। অন্য সব নক্ষত্র সূর্যের চেয়ে সহস্র লক্ষ গুণ উজ্জ্বল হলেও সাত রংয়ের সমাহারে যে আলো সৃষ্টি হয় তা দিনের আলো সৃষ্টি করার মত নয়। অথবা ঐসব নক্ষত্রের তেজদীপ্ত আলোক রশ্মিতে পৃথিবীর সবকিছু জ্বলে পুড়ে ভস্ম হয়ে যেতে পারে। তাই অন্য সব নক্ষত্র ব্যতিরেকে সূর্যকে পৃথিবীর নিকটবর্তী করা হয়েছে যাতে আলো এবং তাপের যথার্থ ভারসাম্য বজায় থাকে এবং দিনের আলোতে মানবজাতি আল্লাহ প্রদত্ত জীবনোপকরণ তালাশ করতে পারে। এটা পরম হিতৈশী আল্লাহপাকের অসীম করুণার দৃষ্টান্ত।
সূর্য যে তারামন্ডলে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ তারা মন্ডল (Milky way galaxy)। পৃথিবী থেকে ১৪,৮৮,১৪,৪০০ কিঃ মিঃ দূরত্বে থাকার দরুণ সূর্যের আলো বসুন্ধরায় পৌঁছতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। সূর্য এবং অন্যান্য নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা সম্পর্কে আল-কোরআন বলছে-
تَبْرَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا مُنِيرًا.
Blessed is He Who made constellations in the firmament and placed therein a lamp and a moon giving light.
তিনি মহামহিম আল্লাহ তাআলা, যিনি অন্তরীক্ষে নক্ষত্র পুঞ্জ সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে ঔজ্জ্বল্য ভরে দিয়েছেন এবং চন্দ্রকে করেছেন জ্যোৎস্নাময়।
هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاء وَالْقَمَرَ نُورًا .
It is He Who made the sun, radiating a brilliant light and the moon a lighted body.
তিনি আল্লাহ, যিনি সূর্যকে তেজদীপ্ত আলোকবর্তিকা রূপে তৈরি করেছেন এবং চন্দ্রকে করেছেন আলোকিত উপগ্রহ।
وَجَعَلَ الْقَمْرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا .
And He has placed the moon there as reflecting light and made the sun a lamp.
আর তিনি চাঁদকে আলোর প্রতিফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং সূর্যকে করেছেন আলোকবর্তিকা।
وَجَعَلْنَا أَيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ.
And the Sign of the day (sun) We have made to enlighten you that you may seek bounty from your Lord.
আর আমরা দিনের নিদর্শনকে করেছি উজ্জ্বল যাতে এ সময়ে তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ (জীবনোপকরণ) তালাশ করতে পার।
অতএব সূর্যের গড় তাপমাত্রা প্রায় ৬০০০°k। এর আলোকময় বহিরাবরনের উর্ধ্বে কয়েক হাজার কিঃমিঃ দূরে যে অঞ্চল অবস্থিত তাকে বলা হয় বর্ণমন্ডল (Chromosphere)। সূর্যের বর্ণমন্ডলের বাইরের দিকে অবস্থিত হালকা গ্যাসীয় আবরণকে ছটামন্ডল (Corona) বলা হয়, যার বিস্তার প্রায় ১০ সৌর ব্যাসার্ধ। এ ছটামন্ডল থেকে ইলেকট্রন ও প্রোটন আকারে বস্তুকণা সৌরবায়ু (Solar wind) হিসেবে প্রবাহিত হয়ে থাকে। পৃথিবীর বহির্দেশের বায়ুমন্ডল যে পরিমাণ সৌর বিকিরণ গৃহীত হয় তাকে বলা হয় সৌর ধ্রুব (Solar constant) যার গড় মান 1.96 cal./min/cm²
সূর্যের অভ্যন্তরে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে ৫০৮,০০০ বিলিয়ন অশ্ব শক্তি (Horse power) উৎপন্ন হয়। অন্যান্য গ্রহসহ পৃথিবী এবং পৃথিবীর আভ্যন্তরীণ সবকিছু সূর্য থেকে শক্তি লাভ করে জীবিত আছে। এ বিরাট কল্যাণ যিনি করেছেন তিনি পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।
সূর্যের গতি
সূর্য একটি গতিশীল তারা (Star)। পূর্বে ধারণা করা হতো এটি একটি স্থির নক্ষত্র। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে তত্ত্ব প্রকাশ করা হয়েছে যে, সূর্য তার নিজস্ব কক্ষপথে আবর্তন করে ক্ষান্ত নয়। বরং এটি গোটা সৌর পরিবারকে নিয়ে দৈনিক ২,৫৫,৬০,০০০ কিঃমিঃ বেগে এক অজানা দিগন্তে সন্তরণ করে চলেছে। এ দিগন্তের সীমা সৌরচূড়া (solar Apex) নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীদের মতে সূর্য দৈনিক ২০৮,৬৫,৬০,০০০ কিঃমিঃ বেগে তার অক্ষপথে ঘুরে এবং এই কক্ষপথ একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে ২৫০,০০০,০০০ বৎসর। তাহলে সূর্যের কক্ষপথের ব্যান্ডী হবে ২০৮,৬৫,৬০,০০০ x ২৫০,০০০,০০০০৩৬৫.২৫ কিঃ মিঃ। মহান আল্লাহ তাআলা-ই ভাল জানেন এ গাণিতিক হিসাবটি কতটুকু যথার্থ। বর্তমানে সূর্যের মোট দু'টি গতি (Motion) আবিষ্কৃত হয়েছে।
১। Forward movement ২। Orbital movement
১। Forward movement: ১৯২৭ সালে Astronomer Shapley সূর্যের গতিবিধির উপর পরীক্ষা চালিয়ে একটি তত্ত্ব আবিষ্কার করেন এবং তত্ত্বটির নাম দেন "Solar Apex" (সৌর চূড়া)। এতে তিনি বলেন, "The sun is moving towards an appointed goal" অর্থাৎ সূর্য একটি নির্ধারিত মঞ্জিলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ তত্ত্বটি আল-কোরআন ৭ম শতাব্দীতে ঐশী ভাষায় বর্ণনা করেছে,
وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ.
The sun is moving towards the goal prescribed for it. This is decreed by the Almighty, the All Knowing-Allah. সূর্য তার নির্ধারিত মঞ্জিলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি সর্বশক্তিমান কর্তৃক আদিষ্ট সীমা যিনি সর্বজ্ঞানের অধিকারী আল্লাহ তাআলা।
২। Orbital movement: ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে অবস্থিত আমাদের সূর্য ঘুরে নিজস্ব কক্ষপথে। উপবৃত্তাকার ঐ কক্ষপথে সূর্যের ঘূর্ণন গতিবেগ দৈনিক ২০৮,৬৫,৬০,০০০ কিঃ মিঃ এবং একবার গোটা কক্ষপথ ঘুরে আসতে এর মোট সময় লাগে ২৫ কোটি বৎসর। এ বিশাল ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় কোন প্রকার বিচ্যুতি ঘটবার অবকাশ নেই এবং একটি সুশৃংখল নীতিমালা অনুসরণ করে সূর্য ঘুরে। আল-কোরআন সূর্যের orbital movement এবং হিসাব নীতির অনুসরণ সম্পর্কে স্পষ্ট তত্ত্ব প্রকাশ করেছে।
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يسبحون.
It is He Who created the night and the day and the sun and the moon, all celestial objects move in the sky on their own orbits. তিনি রাত আর দিন সৃষ্টি করেছেন এবং চাঁদ আর সূর্য সৃষ্টি করেছেন। সকল আকাশী বস্তু আপন আপন কক্ষে ভ্রমণ করে।
الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ.
The sun and the moon follow courses exactly Computed. চাঁদ এবং সূর্য যথাযথ হিসাবের অনুসরণ করে চলেছে।
সূর্যের পরিণতি
পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহে দিনের আলো বর্ষণকারী সূর্য কখনো নিঃশেষ হবে কি? আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর জবাবে বলেছেন, Yes Indeed, the sun will one day be annihilated.
তাত্ত্বিক গবেষণা থেকে জানা যায় সূর্যের বর্তমান বয়স ৫০০ কোটি বছর থেকে কিছু বেশী। এটি তার প্রথম পর্বের অস্তিত্বগত বয়সের অর্ধেক। অর্থাৎ মোট ১০০০ কোটি বছর অতিক্রান্ত হলে তার প্রথম পর্ব সমাপ্ত হবে। সূর্যের ওজন নির্ণয় করা হয়েছে 2x 10^30 kg. বর্তমান অবস্থায় এটি প্রতি সেকেন্ডে ওজন হারাচ্ছে 4 মিলিয়ন টন। কেননা সূর্যে প্রতিনিয়ত H₂ গ্যাস দগ্ধ হয়ে হিলিয়ামে রূপান্তরিত হয়ে থাকে। এটি প্রতি সেকেন্ডে 508,000 বিলিয়ন অশ্বশক্তি (horse power) পরিমিত হারে বিকিরণ করে, যার মোট ওজন ৫০,০০,০০০ টন।
সূর্যের ব্যাস ১৩,৮৬,৪০০ কিঃ মিঃ। কিন্তু এ ব্যাস ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে। ১৭১৫ সাল থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পূর্ণগ্রাস-সূর্যগ্রহণ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ২৭৬ বৎসরে এর ব্যাস কমেছে প্রায় .৩৯ সেকেন্ড। এসব তথ্য থেকে সূর্যের একটি অবধারিত পরিণতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অবশ্য সূর্যের দ্বিতীয় পর্বের বয়স কত হতে পারে তা হিসাব করা সুকঠিন হলেও সকল বিজ্ঞানী এক মতে বলেছেন সূর্য পৃষ্ঠে মজুদ সমস্ত হাইড্রোজেন গ্যাস একদিন নিঃশেষ হবেই। তখন সে একটি নিষ্প্রভ নক্ষত্রে পরিণত হবে।
অতএব সূর্যের পরিণতি সম্পর্কে আল-কোরআন আরও স্পষ্ট তথ্য পেশ করেছে,
وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لأَجَلٍ مُّسَمًّى يُدَبِّرُ الأَمْرَ
And He has subjected the sun and the moon into services, each one runs until an appointed term and regulates them all.
তিনি সূর্য এবং চাঁদকে কার্যরত করে রেখেছেন- প্রত্যেকে একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সচল থাকবে। আর আল্লাহর সকল সৃষ্টি নিবিড় নিয়মতান্ত্রিকতায় বাঁধা।
إِذَا الشَّمْسُ كُورَتْ.
The day when the sun will be wrapped up. সেদিন সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে পড়বে।
সূর্য যখন তার পরিণত দশায় উপনীত হবে তখন সে কোন এক সময়ে স্ফীত হতে থাকবে। স্ফীত হতে হতে এক সময়ে তার আয়তন ভীষণভাবে বেড়ে যাবে। তখন তার চেহারা দেখাবে লাল রঙের অতিকায় একটি গোলকের মত। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ লাল রঙের নক্ষত্রের নাম দিয়েছেন লাল দৈত্য (red giant)। কারণ এরূপ দশায় উপনীত হওয়ার পর সূর্য তথা সকল নক্ষত্র তাদের নাক্ষত্রিক চরিত্র হারিয়ে ফেলবে। লাল দৈত্য আসলে প্রবীণ নক্ষত্র যারা বার্ধক্যের সীমায় উপনীত হয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে।
সৃষ্টির গোড়ায় ছিল পরিব্যাপ্ত মহাজাগতিক হাইড্রোজেন মেঘ। সে মেঘে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে প্রথমে পুঞ্জীভূত হয়। ক্রমে সংকুচিত, আরো সংকুচিত হয়। এ অবস্থায় ঘনত্ব কিংবা তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় দাঁড়ায় যার ফলে হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস পরস্পর সংযোজিত হয়ে সৃষ্টি করে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। তখন পুঞ্জীভূত গ্যাস বিকশিত হয়ে ওঠে নক্ষত্র হিসাবে। সংযোজনের সময় নির্গত হয় প্রচন্ড পরিমাণ তাপশক্তি। এ কারণে হাইড্রোজেনের সংযোজন প্রক্রিয়াকে হাইড্রোজেন প্রজ্জ্বলনও বলা হয়ে থাকে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা মহাজাগতিক গ্যাস সংকুচিত হয়ে সূর্য নামের নক্ষত্রটি তৈরি হতে সময় লেগেছিল প্রায় ৩ কোটি বছর।
কোন নক্ষত্রের হাইড্রোজেন গ্যাসের জ্বলন কত কাল চলবে সেটা অবশ্য নির্ভর করে তার ভরের উপর। যেমন সূর্যের বর্তমান বয়স ৫০০ কোটি বছরের চেয়ে কিছু বেশী। তার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে যে পরিমাণ হাইড্রোজেন সঞ্চিত রয়েছে নিয়মিত জ্বলনের পর তা নিঃশেষ হতে সময় লাগবে ১০০০ কোটি বছর। সৃষ্টির পর থেকে মূলত কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হাইড্রোজেনের সংযোজনের দরুন উৎপন্ন হয় প্রচন্ড তাপশক্তি। তুলনামূলকভাবে কোন নক্ষত্রের ভর যদি সূর্যের ভরের তিন গুণ হয় তাহলে সে নক্ষত্রের কেন্দ্রীয় হাইড্রোজেন ২ কোটি বছরে নিঃশেষিত হয়। কারণ ভর বেশী হলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও বৃদ্ধি পায়। তাই কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হাইড্রোজেনের উপর আরো বেশী চাপ প্রযুক্ত হয়। সেই অনুপাতে হাইড্রোজেনের জ্বলন চলে খুব দ্রুত গতিতে।
এভাবে হাইড্রোজেন নিঃশেষিত হওয়ার পর নক্ষত্রের কেন্দ্রীয় অঞ্চল মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে আবার সংকুচিত হতে থাকে। তার বাইরের অংশ যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'এনভেলপ' সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। দ্রুত সম্প্রসারণের দরুন তাপমাত্রা কমতে থাকে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় অঞ্চলে থাকে অবশিষ্ট হাইড্রোজেন। বাইরে হিলিয়াম। এ নিয়ে তৈরি হয় কোর (Core)। প্রচন্ড সংকোচনের দরুন এ কোর এর তাপমাত্রা দারুনভাবে বাড়তে থাকে। ফলে বহুগুণ উজ্জ্বল হয়। আর বাইরের সে এনভেলপ সমতালে সম্প্রসারিত হয়ে যায়। এ অবস্থায় আমরা সেই এনভেলপ বা নক্ষত্রের বহিরাংশটিই শুধু দেখতে পাই দৈত্যকার অবস্থায়। অভ্যন্তরের উজ্জ্বল কেন্দ্রীয় অঞ্চল আমাদের চোখের আড়ালে থাকে। সেটি তখন লাল বর্ণ ধারণ করে। তাই এ অবস্থায় নক্ষত্রটিকে বলা হয় Red giant বা লাল দৈত্য।
বলা হয়েছে এমন দশা আমাদের সূর্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই ঘটবে। অন্তত ৫০০ কোটি বছর পর তার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের উজ্জ্বলতা বেড়ে দাঁড়াবে এখনকার চেয়ে প্রায় ১০০০ গুণ বেশী। ঐ অবস্থায় পৃথিবীর তাবৎ জীবজগত ভস্মীভূত হয়ে যাবে। সূর্যের বাইরের অংশের এখন তাপমাত্রা ৬০০০ ডিগ্রী K। তখন তার তাপমাত্রা হ্রাস পেয়ে দাঁড়াবে ৩০০০ ডিগ্রী K-এ। ব্যাসার্ধ এখনকার চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশী হবে। এ অবস্থায় সে বুধ ও শুক্র গ্রহকে গিলে ফেলবে। তারপর দ্বিতীয় পর্যায়ে সূর্যের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হিলিয়াম সংযোজনের দরুন যখন নিঃশেষিত হতে থাকবে, তার বহিরাংশের আয়তন আরো বেড়ে যাবে। তখন এগিয়ে আসবে পৃথিবীর দিকে।
فَإِذَا انْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ وَرُدَةً كَالدِّهَانِ.
And when the sky will be rent asunder and become red like skin.
আর যখন আকাশ বিচূর্ণ হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, তখন সেটা রক্ত রঞ্জিত চামড়ার মত রূপ পরিগ্রহ করবে।
প্রশ্ন: মুসলিম ব্যক্তি জানে যে, বাজারে এমন কিছুসংখ্যক নারী রয়েছে, যারা নগ্ন অর্ধনগ্ন পোশাক পরিহিত অবস্থায় থাকে এবং তাতে নারী-পুরুষে এমনভাবে মেলামেশা বা সহাবস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেন না, এমতাবস্থায় মুসলিম ব্যক্তির জন্য বাণিজ্যিক বাজারে প্রবেশ করা বৈধ হবে কি?
উত্তর: এ ধরনের বাজারে প্রবেশ করা উচিৎ নয়, তবে যিনি সৎকাজের নির্দেশ দেন এবং অসৎকাজে নিষেধ করেন, তিনি প্রবেশ করতে পারেন অথবা প্রচণ্ড প্রয়োজনের কারণে দৃষ্টিকে অবনমিত রাখার সাথে প্রবেশ করতে পারবে এবং সাথে সাথে ফিতনার যাবতীয় কারণ ও উপলক্ষ থেকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে এর থেকে তার মান-সম্মান ও দীনকে নিরাপদ রাখা যায় এবং যাবতীয় মন্দের উপায়-উপকরণ থেকে দূরে থাকা যায়; কিন্তু মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গ ও প্রত্যেক ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো এ ধরনের বাজারে চলমান অশ্লীলতার প্রতিবাদ করার জন্য তাতে প্রবেশ করা, যাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার বাণীর প্রতি আমল হয়ে যায়, যাতে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ [التوبة: ٧١]
"আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে"। [সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৭১]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেছেন: وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَبِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴾ [آل عمران: ١٠٤]
"আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল যেন থাকে যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে, আর তারাই সফলকাম”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪] এ অর্থে আরও অনেক আয়াত রয়েছে। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوْا الْمُنْكَرَ ، فَلَمْ يُغَيِّرُوهُ ، أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِهِ».
"মানুষ যখন অশ্লীল কাজ দেখবে, অথচ প্রতিরোধ করবে না, তখন অতি শীঘ্রই আল্লাহ তা'আলা গণহারে তাদেরকে তাঁর শাস্তি দিবেন।"12 হাদীসটি ইমাম আহমাদ রহ. এবং কোনো কোনো 'সুনান' সংকলক আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرُهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ».
"তোমাদের কেউ যখন কোন অন্যায় কাজ হতে দেখে, তখন সে যেন তা হাত দ্বারা (শক্তি প্রয়োগে) বন্ধ করে দেয়, আর যদি সে এ ক্ষমতা না রাখে, তবে যেন মুখের (কথার) দ্বারা (জনমত গঠন করে) তা বন্ধ করে দেয়, আর যদি সে এ ক্ষমতাটুকুও না রাখে, তবে যেন অন্তরের দ্বারা (পরিকল্পিত উপায়ে) তা বন্ধ করার চেষ্টা করে বা এর প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। আর এটা হল ঈমানের সবচেয়ে দুর্বলতম স্তর।"13 ইমাম মুসলিম রহ, হাদীসটি তাঁর 'আস-সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আর এ অর্থে আরও অনেক হাদীস বর্ণিত আছে, আর আল্লাহই হলেন তাওফীক দানের একমাত্র মালিক।
শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায
টিকাঃ
¹² আহমাদ ও ইবন মাজাহ。
¹³ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ১৮৬
📄 সূর্যের গতি
সূর্যের গতি
সূর্য একটি গতিশীল তারা (Star)। পূর্বে ধারণা করা হতো এটি একটি স্থির নক্ষত্র। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে তত্ত্ব প্রকাশ করা হয়েছে যে, সূর্য তার নিজস্ব কক্ষপথে আবর্তন করে ক্ষান্ত নয়। বরং এটি গোটা সৌর পরিবারকে নিয়ে দৈনিক ২,৫৫,৬০,০০০ কিঃমিঃ বেগে এক অজানা দিগন্তে সন্তরণ করে চলেছে। এ দিগন্তের সীমা সৌরচূড়া (solar Apex) নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীদের মতে সূর্য দৈনিক ২০৮,৬৫,৬০,০০০ কিঃমিঃ বেগে তার অক্ষপথে ঘুরে এবং এই কক্ষপথ একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে ২৫০,০০০,০০০ বছর। তাহলে সূর্যের কক্ষপথের দৈর্ঘ্য হবে ২০৮,৬৫,৬০,০০০ x ২৫০,০০০,০০০ x ৩৬৫.২৫ কিঃ মিঃ। মহান আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন এ গাণিতিক হিসাবটি কতটুকু যথার্থ। বর্তমানে সূর্যের মোট দু'টি গতি (Motion) আবিষ্কৃত হয়েছে।
১। Forward movement
২। Orbital movement
১। Forward movement: ১৯২৭ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী শ্যাপলি (Astronomer Shapley) সূর্যের গতিবিধির উপর পরীক্ষা চালিয়ে একটি তত্ত্ব আবিষ্কার করেন এবং তত্ত্বটির নাম দেন "Solar Apex" (সৌর চূড়া)। এতে তিনি বলেন, "The sun is moving towards an appointed goal" অর্থাৎ সূর্য একটি নির্ধারিত মঞ্জিলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ তত্ত্বটি আল-কোরআন ৭ম শতাব্দীতে ঐশী ভাষায় বর্ণনা করেছে,
وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ.
The sun is moving towards the goal prescribed for it. This is decreed by the Almighty, the All-Knowing Allah.
সূর্য তার নির্ধারিত মঞ্জিলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি সর্বশক্তিমান কর্তৃক আদিষ্ট সীমা যিনি সর্বজ্ঞানের অধিকারী আল্লাহ তাআলা।
২। Orbital movement: ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে অবস্থিত আমাদের সূর্য ঘুরে নিজস্ব কক্ষপথে। উপবৃত্তাকার ঐ কক্ষপথে সূর্যের ঘূর্ণন গতিবেগ দৈনিক ২০৮,৬৫,৬০,০০০ কিঃ মিঃ এবং একবার গোটা কক্ষপথ ঘুরে আসতে এর মোট সময় লাগে ২৫ কোটি বছর। এ বিশাল ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রকার বিচ্যুতি ঘটবার অবকাশ নেই এবং একটি সুশৃঙ্খল নীতিমালা অনুসরণ করে সূর্য ঘুরে। আল-কোরআন সূর্যের কক্ষীয় গতি (orbital movement) এবং হিসাব নীতির অনুসরণ সম্পর্কে স্পষ্ট তত্ত্ব প্রকাশ করেছে।
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ.
It is He Who created the night and the day and the sun and the moon, all celestial objects move in the sky on their own orbits.
তিনি রাত আর দিন সৃষ্টি করেছেন এবং চাঁদ আর সূর্য সৃষ্টি করেছেন। সকল আকাশী বস্তু আপন আপন কক্ষে ভ্রমণ করে।
الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ.
The sun and the moon follow courses exactly Computed.
চাঁদ এবং সূর্য যথাযথ হিসাবের অনুসরণ করে চলেছে।
প্রশ্ন: শিল্প-কারখানায় অথবা অনিসলামিক অফিসসমূহে পুরুষদের মতো করে নারীদের কাজকারবার ও লেনদেনের বিধান কী? আর ঐ জীবনের বিধান কী হবে, যে ভয়াবহ রোগের কারণে ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে, উল্লিখিত এ পরিস্থিতিতে সে রোগের চিকিৎসার বিষয়টি মুসলিম নারীকে বেপর্দা করার দিকে নিয়ে যায়, যদিও ইসলামী তথা মুসলিম দেশসমূহের ডাক্তারগণ সবই পুরুষ?
উত্তর: অমুসলিমদের দেশে অমুসলিম পুরুষদের সাথে অমুসিলম নারীদের মেলামেশা বা সহাবস্থানের বিধানের ব্যাপারে কথা হলো, তা অবৈধ, বরং তাদের জন্য এর চেয়ে আরও বড় অপরাধ হলো আল্লাহ তা'আলাকে অস্বীকার করা। সুতরাং তাদের মাঝে এ ধরনের অশ্লীল কাজ সংঘটিত হওয়ার বিষয়টিকে অযৌক্তিক ভাবার কিছু নেই। আর ইসলামী দেশে মুসলিম পুরুষদের সাথে মুসিলম নারীদের মেলামেশা বা সহাবস্থানের বিষয়টি একেবারেই হারাম এবং যেখানে এ ধরনের সহাবস্থান পরিলক্ষিত হবে, সেখানকার প্রশাসন বা দায়িত্বশীলগণের জন্য আবশ্যকীয় করণীয় হলো, তারা নারী ও পুরুষদেরকে আলাদা আলাদা বিভাগে কাজ করাবেন। কেননা নারী ও পুরুষের মাঝে মেলামেশা ও সহাবস্থানের মধ্যে নৈতিক ও চারিত্রিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ, যা ন্যূনতম বুদ্ধি ও বিবেকবান ব্যক্তির নিকটও অস্পষ্ট নয়।
আর চিকিৎসার জন্য পুরুষ কর্তৃক মুসলিম নারীকে জরুরি প্রয়োজনে (শরীরের কোনো অঙ্গ) নগ্ন করতে হয় এবং এমতাবস্থায় পুরুষ ব্যতীত কোনো নারী চিকিৎসক পাওয়া না যায়, তখন এটা বৈধ হবে, কিন্তু সম্ভব হলে তা হতে হবে তার স্বামীর উপস্থিতিতে এবং তার শরীর থেকে ততটুকু পরিমাণ জায়গাই বস্ত্রমুক্ত করবে, যতটুকু নগ্ন করা চিকিৎসার প্রয়োজনে জরুরি হয়, আর এটা বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো এমন কতগুলো দলীল, যা জরুরি মুহূর্তে উম্মতের জন্য শরী'আতকে শিথিল করে দিয়েছে এবং সংকট দূর করেছে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন:
(مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ) [المائدة: ٦] "আর আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা করতে চান না”। [সূরা আল- মায়েদা, আয়াত: ৬]
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন:
(وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ) [الحج: ٧٨] "আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেন নি"। [সূরা আল-হজ, আয়াত: ৭৮]
স্থায়ী ফতোয়া বোর্ড
📄 সূর্যের পরিণতি
সূর্যের পরিণতি
পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহে দিনের আলো বর্ষণকারী সূর্য কখনো নিঃশেষ হবে কি? আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর জবাবে বলেছেন, "Yes indeed, the sun will one day be annihilated."
তাত্ত্বিক গবেষণা থেকে জানা যায় সূর্যের বর্তমান বয়স ৫০০ কোটি বছর থেকে কিছু বেশী। এটি তার প্রথম পর্বের অস্তিত্বগত বয়সের অর্ধেক। অর্থাৎ মোট ১০০০ কোটি বছর অতিক্রান্ত হলে তার প্রথম পর্ব সমাপ্ত হবে। সূর্যের ওজন নির্ণয় করা হয়েছে 2 x 10^30 kg। বর্তমান অবস্থায় এটি প্রতি সেকেন্ডে ওজন হারাচ্ছে 4 মিলিয়ন টন। কেননা সূর্যে প্রতিনিয়ত H₂ গ্যাস দগ্ধ হয়ে হিলিয়ামে (অতি হালকা গ্যাস) রূপান্তরিত হয়ে থাকে। এটি প্রতি সেকেন্ডে 508,000 বিলিয়ন অশ্বশক্তি (horse power) পরিমিত হারে বিকিরণ করে, যার মোট ওজন ৫০,০০,০০০ টন।
সূর্যের ব্যাস ১৩,৮৬,৪০০ কিঃ মিঃ। কিন্তু এ ব্যাস ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে। ১৭১৫ সাল থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পূর্ণগ্রাস-সূর্যগ্রহণ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ২৭৬ বৎসরে এর ব্যাস কমেছে প্রায় .৩৯ সেকেন্ড। এসব তথ্য থেকে সূর্যের একটি অবধারিত পরিণতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অবশ্য সূর্যের দ্বিতীয় পর্বের বয়স কত হতে পারে তা হিসাব করা সুকঠিন হলেও সকল বিজ্ঞানী এক মতে বলেছেন সূর্য পৃষ্ঠে মজুদ সমস্ত হাইড্রোজেন গ্যাস একদিন নিঃশেষ হবেই। তখন সে একটি নিষ্প্রভ নক্ষত্রে পরিণত হবে।
অতএব সূর্যের পরিণতি সম্পর্কে আল-কোরআন আরও স্পষ্ট তথ্য পেশ করেছে,
وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لأَجَلٍ مُّسَمًّى يُدَبِّرُ الأَمْرَ
And He has subjected the sun and the moon into services, each one runs until an appointed term and regulates them all.
তিনি সূর্য এবং চাঁদকে কার্যরত করে রেখেছেন- প্রত্যেকে একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সচল থাকবে। আর আল্লাহর সকল সৃষ্টি নিবিড় নিয়মতান্ত্রিকতায় বাঁধা। (রাআদ-২)
إِذَا الشَّمْسُ كُورَتْ.
The day when the sun will be wrapped up.
সেদিন সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে পড়বে। (তাকভীর-১)
সূর্য যখন তার পরিণত দশায় উপনীত হবে তখন সে কোন এক সময়ে স্ফীত হতে থাকবে। স্ফীত হতে হতে এক সময়ে তার আয়তন ভীষণভাবে বেড়ে যাবে। তখন তার চেহারা দেখাবে লাল রঙের অতিকায় একটি গোলকের মত। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ লাল রঙের নক্ষত্রের নাম দিয়েছেন লাল দৈত্য (red giant)। কারণ এরূপ দশায় উপনীত হওয়ার পর সূর্য তথা সকল নক্ষত্র তাদের নাক্ষত্রিক চরিত্র হারিয়ে ফেলবে। লাল দৈত্য আসলে প্রবীণ নক্ষত্র যারা বার্ধক্যের সীমায় উপনীত হয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে।
সৃষ্টির গোড়ায় ছিল পরিব্যাপ্ত মহাজাগতিক হাইড্রোজেন মেঘ। সে মেঘে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে প্রথমে পুঞ্জিভূত হয়। ক্রমে সংকুচিত, আরো সংকুচিত হয়। এ অবস্থায় ঘনত্ব কিংবা তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় দাঁড়ায় যার ফলে হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস পরস্পর সংযোজিত হয়ে সৃষ্টি করে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। তখন পুঞ্জীভূত গ্যাস বিকশিত হয়ে ওঠে নক্ষত্র হিসাবে। সংযোজনের সময় নির্গত হয় প্রচন্ড পরিমাণ তাপশক্তি। এ কারণে হাইড্রোজেনের সংযোজন প্রক্রিয়াকে হাইড্রোজেন প্রজ্জ্বলনও বলা হয়ে থাকে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা মহাজাগতিক গ্যাস সংকুচিত হয়ে সূর্য নামের নক্ষত্রটি তৈরী হতে সময় লেগেছিল প্রায় ৩ কোটি বছর।
কোন্ নক্ষত্রের হাইড্রোজেন গ্যাসের জ্বলন কত কাল চলবে সেটা অবশ্য নির্ভর করে তার ভরের উপর। যেমন সূর্যের বর্তমান বয়স ৫০০ কোটি বছরের চেয়ে কিছু বেশী। তার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে যে পরিমাণ হাইড্রোজেন সঞ্চিত রয়েছে নিয়মিত জ্বলনের পর তা নিঃশেষ হতে সময় লাগবে ১০০০ কোটি বছর। সৃষ্টির পর থেকে মূলত কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হাইড্রোজেনের সংযোজনের দরুন উৎপন্ন হয় প্রচন্ড তাপশক্তি। তুলনামূলকভাবে কোন নক্ষত্রের ভর যদি সূর্যের ভরের তিন গুণ হয় তাহলে সে নক্ষত্রের কেন্দ্রীয় হাইড্রোজেন ২ কোটি বছরে নিঃশেষিত হয়। কারণ ভর বেশী হলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও বৃদ্ধি পায়। তাই কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হাইড্রোজেনের উপর আরো বেশী চাপ প্রযুক্ত হয়। সেই অনুপাতে হাইড্রোজেনের জ্বলন চলে খুব দ্রুত গতিতে।
এভাবে হাইড্রোজেন নিঃশেষিত হওয়ার পর নক্ষত্রের কেন্দ্রীয় অঞ্চল মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে আবার সংকুচিত হতে থাকে। তার বাইরের অংশ যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'এনভেলপ' সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। দ্রুত সম্প্রসারণের দরুন তাপমাত্রা কমতে থাকে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় অঞ্চলে থাকে অবশিষ্ট হাইড্রোজেন। বাইরে হিলিয়াম। এ নিয়ে তৈরী হয় কোর (Core)। প্রচন্ড সংকোচনের দরুন এ কোর এর তাপমাত্রা দারুনভাবে বাড়তে থাকে। ফলে বহুগুণ উজ্জ্বল হয়। আর বাইরের সে এনভেলপ সমতালে সম্প্রসারিত হয়ে যায়। এ অবস্থায় আমরা সেই এনভেলপ বা নক্ষত্রের বহিরাংশটিই শুধু দেখতে পাই দৈত্যকার অবস্থায়। অভ্যন্তরের উজ্জ্বল কেন্দ্রীয় অঞ্চল আমাদের চোখের আড়ালে থাকে। সেটি তখন লাল বর্ণ ধারণ করে। তাই এ অবস্থায় নক্ষত্রটিকে বলা হয় Red giant বা লাল দৈত্য।
বলা হয়েছে এমন দশা আমাদের সূর্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই ঘটবে। অন্তত ৫০০ কোটি বছর পর তার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের উজ্জ্বলতা বেড়ে দাঁড়াবে এখনকার চেয়ে প্রায় ১০০০ গুণ বেশী। ঐ অবস্থায় পৃথিবীর তাবৎ জীবজগত ভস্মীভূত হয়ে যাবে। সূর্যের বাইরের অংশের এখন তাপমাত্রা ৬০০০ ডিগ্রী K। তখন তার তাপমাত্রা হ্রাস পেয়ে দাঁড়াবে ৩০০০ ডিগ্রী K-এ। ব্যাসার্ধ এখনকার চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশী হবে। এ অবস্থায় সে বুধ ও শুক্র গ্রহকে গিলে ফেলবে। তারপর দ্বিতীয় পর্যায়ে সূর্যের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হিলিয়াম সংযোজনের দরুন যখন নিঃশেষিত হতে থাকবে, তার বহিরাংশের আয়তন আরো বেড়ে যাবে। তখন এগিয়ে আসবে পৃথিবীর দিকে।
فَإِذَا انْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ وَرُدَةً كَالدِّهَانِ.
And when the sky will be rent asunder and become red like skin.
আর যখন আকাশ বিচূর্ণ হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, তখন সেটা রক্ত রঞ্জিত চামড়ার মত রূপ পরিগ্রহ করবে। (রহমান-৩৭)
প্রশ্ন: কোনো যুবতীর জন্য পুরুষদের সাথে সহাবস্থানে থেকে কোনো জায়গায় কাজ করা জায়েয হবে কি, জেনে রাখা ভালো যে, সে জায়গায় সে ছাড়া আরও অন্যান্য মেয়েরাও কাজ করে?
উত্তর: আমার মতে নারী ও পুরুষ সম্মিলিতভাবে কোনো সরকারী কাজ করা, অথবা কোনো বিশেষ ক্ষেত্র বা এলাকায় কাজ করা, অথবা কোনো সরকারী বা বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করা বৈধ নয়। কারণ, নারী-পুরুষ সহাবস্থানে অনেক ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয়, আর তাতে নারীর লজ্জা-শরমের অবসান ঘটে এবং পুরুষদের ব্যাপরে শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয় বা আতঙ্কের ব্যাপারটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।
কেননা যখন পুরুষ ও নারীদের সংমিশ্রণ ঘটে, তখন অবস্থা এমন হয়ে যায় যে, পুরুষদের নিকট নারীদের থেকে ভয়ের কোনো বিষয় থাকে না এবং নারীদের নিকট পুরুষদের ব্যাপারে লজ্জা করার কোনো ব্যাপার থাকে না, আর এটা (অর্থাৎ নারী ও পুরুষদের মাঝে অবাধ মেলামেশা) ইসলামী শরী'আত যা দাবি করে, তার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং পূর্ববর্তী সৎ ব্যক্তিগণ যে নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তারও পরিপন্থী; আপনি কি জানেন না যে, যখন মহিলারা ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হতেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য একটি বিশেষ স্থান নির্ধারণ করে দিতেন, যাতে তারা পুরুষদের সাথে মিশে না যায়; যেমন সহীহ হাদীসের মধ্যে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের মাঝে ভাষণ দেওয়ার সময় (তাদের মাঝে) অবস্থান করতেন এবং পরে নারীদের উদ্দেশ্যে চলে যেতেন, তারপর তাদেরকে ওয়াজ নসীহত করতেন, এটি প্রমাণ করে যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুতবা (ভাষণ) শুনতে পেতেন না অথবা শুনতে পেলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তারা যা শুনতেন, তা সম্পূর্ণভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারতেন না। তারপর আপনি কি জানেন না যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: خَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا، وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا . وَخَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا، وَشَرُّهَا آخِرُهَا».
"নারীদের সর্বোত্তম সারি বা কাতার হলো শেষ কাতার এবং সবচেয়ে মন্দ কাতার হলো তাদের প্রথম কাতার, আর পুরুষদের সর্বোত্তম কাতার হলো প্রথম কাতার এবং সবচেয়ে মন্দ কাতার হলো তাদের শেষ কাতার। "14
আর নারীদের প্রথম সারিটি শুধু পুরুষদের থেকে নিকটবর্তী হওয়ার কারণেই তা নিকৃষ্ট সারি হয়ে গেল এবং নারীদের সর্বশেষ সারিটি শুধু পুরুষদের থেকে দূরবর্তী হওয়ার কারণেই তা উৎকৃষ্ট সারি হয়ে গেল, আর যখন এ রকম অবস্থা যৌথভাবে 'ইবাদত করার ক্ষেত্রে হয়, তখন 'ইবাদত ভিন্ন অন্য ক্ষেত্রে আপনার অবস্থাটা কেমন হওয়া দরকার! আবার সকলেরই জানা আছে যে, মানুষ 'ইবাদত করা অবস্থায় লিঙ্গ বা শ্রেণীগত স্বভাব-প্রকৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি থেকে অনেক দূরে থাকে। সুতরাং যখন ইবাদাত ভিন্ন অন্য ক্ষেত্রে নারী- পুরুষের সহাবস্থান হবে, তখন অবস্থাটি কেমন হবে?! কারণ, শয়তান তো বনী আদমের রক্ত সঞ্চালনের শিরায় শিরায় চলাচল করে সুতরাং সে তো এ ধরনের সহাবস্থানের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি ও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটানোর ব্যাপারে দূরে দূরে থাকবে না, আর আমি আমাদের ভাইদেরকে যে দিকে আহ্বান করব, তা হলো তারা যেন নারীদের সাথে সহাবস্থান করা থেকে দূরে থাকে এবং তারা যেন জেনে রাখে যে, পুরুষদের জন্য তা খুবই ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِي النَّاسِ فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ».
"আমি আমার পর জনগণের মাঝে পুরুষদের জন্য মহিলাদের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর আর কোনো ফিতনা ছেড়ে যাচ্ছি না।"15
সুতরাং আমরা আল-হামদুলিল্লাহ! আমরা মুসলিম, আমাদের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে- আমাদের জন্য আবশ্যক হলো আমরা সে বৈশিষ্ট্যের দ্বারা অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে থাকব, আর আমাদের জেনে রাখা আবশ্যক যে, প্রজ্ঞাময় মহান আল্লাহর শরী'আতের অনুসারী, যিনি বান্দা ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর বিষয় সম্পর্কে জানেন এবং আমাদের আরও জেনে রাখা উচিৎ যে, যারা আল্লাহ তা'আলার রাস্তা ও শরী'য়ত থেকে দূরে থাকবে, তারা পথভ্রষ্ট এবং তাদের কর্মকাণ্ড বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয়ের পরিণতি লাভ করে, আর এ জন্য আমরা শুনতে পাই, যেসব জাতির নারীরা পুরুষদের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে, তারা এখন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তিলাভ করার জন্য, কিন্তু তারা এতো দূর থেকে কীভাবে সে কাঙ্খিত মুক্তিলাভ করবে। আল্লাহ তা'আলার নিকট আমাদের আবেদন, তিনি যেন আমাদের দেশ ও মুসলিম অধ্যুষিত দেশসমূহকে যাবতীয় মন্দ, খারাপি ও ফিতনা থেকে রক্ষা করেন।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-'উসাইমীন
টিকাঃ
¹⁴ ইবন মাজাহ, হাদীস নং- ১০০০। আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন。
¹⁵ সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৪৮০৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৭১২২