📄 পরিশিষ্ট-৬ ক্রোমোজোম
পরিশিষ্ট-৬ ক্রোমোজোম
ক্রোমোজোম বংশগতির উপাদান বা জিন বহনকারী কোষের অন্যতম অঙ্গাণু। ক্রোমোজোমে জিন উপাদানের অবস্থান তার DNA অণুতে। সারিবদ্ধ হয়ে থাকা এ উপাদান অ্যাসিড প্রোটিন ও বেসিক (Basic) প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সুতার মত এক জটিল নিউক্লিও প্রোটিনের গঠন তৈরী করে। উদ্ভিদ ও প্রাণীর সব প্রকৃত কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যে ক্রোমোজোম থাকে। তবে কোষ বিভাজনের সময় যখন তারা সংকুচিত হয় এবং নিউক্লিয়াসের আবরণী অদৃশ্য হয়ে যায় কেবল তখনই অণুবীক্ষণ যন্ত্রে তাদের চোখে পড়ে। এ সময় তাদের নিরেট দ্বিখন্ডে বিভক্ত দন্ডের মত গঠন বলে মনে হয় এবং প্রত্যেকে ক্রোমাটিড নামে দুইটি হুবহু একই রকমের সমান্তরাল অংশ নিয়ে গঠিত থাকে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমোজোমে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে একটি প্রাথমিক সংকোচন (primary constriction) থাকে। একে সেন্ট্রোমিয়ার (centromere) বলা হয়। কোষ বিভাজনের সময় এ অংশের মাধ্যমে ক্রোমোজোমের অর্ধাংশ দু'টি স্পিন্ডল ফাইবার (spindle fibre) এর সাথে যুক্ত হয়ে আলাদা হয়ে যায়।
জানা গেছে যে, ক্রোমোজোম থেকে নতুন ক্রোমোজোম সৃষ্টি হয়। কোষ বিভাজনের প্রাক্কালে ইন্টারফেজ পর্যায়ে (interphase stage) একটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বি বিভাজন না হয়ে নতুন ক্রোমোজোমের উদ্ভব ঘটায়। পৃথক হবার পর ক্রোমাটিডগুলোর কুন্ডলী খুলে যায়। আয়তনে বৃদ্ধি পায় এবং দু'টি অপত্য কোষের প্রত্যেকটিতে একটি করে অপত্য নিউক্লিয়াস গঠন করে। নতুন তৈরী অপত্য নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোম ক্রোমাটিডের পরিবর্তিত রূপ হিসেবে প্রকাশিত হয়। অপত্য কোষগুলো বড় হলে পরবর্তী কোষ বিভাজনে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
আয়তন ও সংখ্যাঃ বিভিন্ন জীবে মেটাফেজ পর্যায়ে একটি ক্রোমোজোমের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১৫-৩০ মাইক্রোমিটার এবং ব্যাস ০.-২.০ মাইক্রোমিটার। উদ্ভিদের ক্রোমোজোম প্রাণীদের ক্রোমোজোমের তুলনায় সাধারণত বড় হতে দেখা যায়। আবার উন্নত শ্রেণীর উদ্ভিদের মধ্যে একবীজপত্রী (monocot) উদ্ভিদসমূহের ক্রোমোজোম দ্বিবীজপত্রী (dicot) উদ্ভিদের তুলনায় বড় হয়। মানবদেহের ক্রোমোজোমের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৪০৬ মাইক্রোমিটার। বিভিন্ন জীবকোষে প্রজাতিভেদে ক্রোমোজোম সংখ্যা ২ থেকে ১৫০০ পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত এ সংখ্যা ৫০ এর বেশী হয় না। তবে প্রতিটি প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্দিষ্ট বা ধ্রুবক (constant)। প্রাণী জগতে সবচেয়ে কম সংখ্যক ক্রোমোজোম দেখা গেছে Ascaris Megacephala নামক পরজীবী নিমাটোড-এ। এদের দেহকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাত্র দুই। মানুষের বেলায় এ সংখ্যা ৪৬।
সর্বনিম্ন সংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট উদ্ভিদ হচ্ছে গাঁদা গোত্রীয় Haplopapus gracilis যেখানে ক্রোমোজোম সংখ্যা চার। যেসব জীবে যৌন প্রজনন ঘটে তাদের অধিকাংশের নিষিক্ত ডিমে এবং তা থেকে উদ্ভূত দেহকোষে ক্রোমোজোম নিয়মিতভাবে জোড়ায় জোড়ায় থাকে। এ জোড়ায় একটি পিতা থেকে (paternal set) এবং অপরটি মাতা থেকে (maternal set) আসে। এ ধরনের ক্রোমোজোম সংখ্যাকে ডিপ্লয়েড (diploid, 2n) সংখ্যা বলা হয়। জননকোষে প্রতি জোড়া ক্রোমোজোম থেকে একটি করে ক্রোমোজোম আসে। ডিপ্লয়েড সংখ্যার এরূপ অর্ধভাগকে হেপ্লয়েড (haploid, n) সংখ্যা বলা হয়।
সেক্স-ক্রোমোজোমঃ যেসব জিন লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য দায়ী অথবা লিঙ্গ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে তাদের অবস্থান এক জোড়া বিশেষ ক্রোমোজোমে। এ ক্রোমোজোম দু'টিকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা অ্যালোজোম (allosome) অন্যান্য ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোমস (autosomes)। সেক্স ক্রোমোজোম দু'টির বড়টি সাধারণত স্ত্রী-পুরুষ বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রয়োজনীয় জিন বহন করে এবং একে X ক্রোমোজোম বলা হয়। ছোট সদস্যটি Y ক্রোমোজোম নামে পরিচিত। মানুষের ক্ষেত্রে এটি পুরুষত্বের জন্য দায়ী জিন বহন করে। অনেক প্রজাতি আছে যাদের পুরুষ চরিত্রের জন্য দায়ী জিনগুলো অটোজোমে অবস্থান করে। সেখানে Y ক্রোমোজোম অনুপস্থিত থাকতে পারে। লিঙ্গ নির্ধারণকারী জিন ছাড়াও সেক্স ক্রোমোজোমে বিশেষ করে Y ক্রোমোজোমে অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী ক্রোমোজোমও থাকতে পারে।
ক্রোমোজোম অ্যাবারেশন (Chromosomal aberration): ক্রোমোজোমের অ্যাবারেশন বলতে স্বাভাবিক ক্রোমোজোমের যে কোন ধরনের পরিবর্তনকে বুঝায়। এ পরিবর্তন হতে পারে ক্রোমোজোমের সংখ্যায়, তার গঠনে অথবা বিন্যাসে। ক্রোমোজোম সংখ্যার পরিবর্তন বলতে হয় ক্রোমোজোমের সম্পূর্ণ সেট হারানো অথবা নতুন এক সেট লাভ করার কারণে (euploidy) অথবা এক বা একাধিক ক্রোমোজোম হারানো কিংবা প্রাপ্তির কারণে (aneuploidy)।
একটি ক্রোমোজোমে অথবা একাধিক ক্রোমোজোমে গঠনগত পরিবর্তন হয় DNA অণুর ক্ষতির কারণে। আর এর ফলে ক্রোমোজোম ভেঙ্গে যায়। এতে ক্রোমোজোমের কোন অংশের হরণ বা নতুন অংশ প্রাপ্তি অথবা দু'টি ক্রোমোজোমের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে। অনেক সময়ে ক্রোমোজোমের কোন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন অংশ ১৮০০ পরিমাণ আবর্তিত হয় এবং ঐ একই ক্রোমোজোমের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হয়। গঠনগত পরিবর্তন অনেক সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ঘটে। যেমন মানুষের বেলায় বয়স বাড়ার কারণেও তা হতে পারে। তবে এক্স-রশ্মি (X-rays), অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet rays) বা রাসায়নিক মিউটাজেনিক এজেন্ট (chemical mutagenic agents) ক্রোমোজোমে অ্যাবারেশনের হার বাড়িয়ে দেয়। ক্রোমোজোমের বিন্যাসের পরিবর্তন সাধারণ জিনতাত্ত্বিক গবেষণায় নির্ণয় করা সম্ভব। কারণ এতে জিনের বিন্যাসেও পরিবর্তন হয়। অতি কদাচিৎ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ক্রোমোজোমের পরিবর্তনগুলো ধরা পড়ে।
নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে সূক্ষ্মসূতার মত ক্রোমোজোম সর্বোত্তম হাতের মাস্টার ডিজাইন। এ ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে প্রত্যেক জীবের স্বাতন্ত্র স্বকীয়তা গড়ে ওঠে। আর এ ডিজাইন রূপায়নকারী হলেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলা। মানুষের বেলায় প্রথমেই একজন শিশু-সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে তা নির্ধারিত হয়ে যায় ঐ মুহূর্তে যখন একটি sperm একটি ovum এর ভেতরে প্রবেশ করে। প্রত্যেক সাধারণ মানুষের দেহকোষের ৪৬টি ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া এবং দু'টি লিঙ্গ ক্রোমোজোম মিলে গঠন করে আর এক জোড়া। সর্বমোট ২৩ জোড়া। পুরুষের দু'টি লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোমের মধ্যে একটি X এবং অপরটি Y। কিন্তু স্ত্রীলোকের থাকে ২টি X ক্রোমোজোম। যদি ovum Y ক্রোমোজোমবাহী sperm এর সাথে মিলিত হয়ে ভ্রূণ সৃষ্টি করে তখন শিশুটি হয় ছেলে (xy)। আর যদি X ক্রোমোজোমবাহী sperm এর সাথে মিলে তখন সন্তানটি হবে মেয়ে (xx)। এভাবে ক্রোমোজোমের মিলন সম্পূর্ণভাবে মানুষের কৃতিত্ব বর্হিভূত ঘটনা। একমাত্র আল্লাহপাকই ঠিক করেন সন্তানটি ছেলে হবে না মেয়ে হবে।
অতএব সূরা নজম-৪৫ নং আয়াতে x এবং y ক্রোমোজোমের প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যা এখন পবিত্র কোরআনের ভাষ্যকারগণ (Commentators) সকলে স্বীকার করে নিয়েছেন।
📄 পরিশিষ্ট-৭ জিন
জিন বংশগতির নিয়ন্ত্রণকারী ন্যূনতম একক হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি জীবের বৈশিষ্ট্যাবলী জিনের মাধ্যমে বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে থাকে অর্থাৎ জিনই বংশগতির একমাত্র ধারক ও বাহক। বংশগতি বিদ্যার জনক গ্রেগর মেন্ডেলের মতে জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য একটি করে ফ্যাক্টর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। এ ফ্যাকটরকেই ১৯০৩ সালে জোহানসেন জিন (Gene) নাম দেন।
পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, একটি ক্রোমোজোমে অসংখ্য জিন থাকে এবং এ জিনগুলি একটি বিশেষ রীতিতে বিন্যস্ত থাকে, প্রতিটি জিন একটি নির্দিষ্ট ক্রোমোজোমে একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে। ঐ নির্দিষ্ট স্থানকে জিনের লোকাস (Locus) বলে, যা পরিবর্তিত হয় না। এক জোড়া প্রতিরূপ (homologous) ক্রোমোজোমে লোকাসের স্থান নির্দিষ্ট। প্রতি লোকাসে এক বা একাধিক কার্যকরী একক থাকতে পারে এবং প্রতিটি একক একটি জিন হিসেবে কাজ করে। ক্রোমোজোমের লোকাসে অবস্থিত যে কোন কার্যকরী একক যাতে রিকম্বিনেশন (recombination) সম্ভব ও যা পরিবৃত্তি বা মিউটেশনে অংশ নিতে পারে তাই জিন। আধুনিক ধারণায় বলা হয় ক্রোমোজোমের যে অংশটি পলিপেপটাইড উৎপাদনের সংকেত বহন করে সেটাই জিন। DNA ক্রোমোজোমের একমাত্র স্থায়ী রাসায়নিক পদার্থ। সুতরাং DNA -ই বংশগতির উপাদান ও রাসায়নিক ভিত্তি এবং সরাসরি পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যায়। একটি ক্রোমোজোমে জিনগুলো একটি সারিতে পরপর সাজানো থাকে। মানব দেহে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমে জিনের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। সাধারণ ডিপ্লয়েড কোষে ক্রোমোজোম জোড়ায় জোড়ায় থাকে এবং জিনগুলোরও জোড়া থাকে। একই জোড়ার দুই জিন একই রকম অথবা কিছুটা আলাদা হতে পারে।
জিনের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলোর সারসংক্ষেপে (ক) জিন ক্রোমোজোমের ভিতরে থাকে এবং তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোন কোন ক্ষেত্রে ক্রোমোজোমের বাইরেও পাওয়া যায়। (খ) জিন নিউক্লিক অ্যাসিড বা DNA দিয়ে গঠিত। (গ) প্রতিটি জিনে গড়ে ১৫০০ নিউক্লিওটাইড থাকে। (ঘ) সাধারণত একটি জিনের রাসায়নিক গঠন বৈশিষ্ট্য অন্য জিনের গঠন বৈশিষ্ট্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে না। (ঙ) একটি ক্রোমোজোমে জিনের সংখ্যা অসংখ্য (চ) প্রতি ক্রোমোজোমে জিনগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে সাজানো থাকে ও প্রতিটি জিন একটি নির্দিষ্ট স্থান লোকাসে অবস্থান করে (ছ) জিনের আয়তন প্রায় 0.05 m (জ) আকৃতি ও গঠন ঠিক রেখে জিন নিজে নিজেই বিভাজনের মাধ্যমে অনুলিপি বা প্রতিলিপি তৈরী করতে পারে। এর ফলে ক্রোমোজোমেরও প্রতিলিপি সৃষ্টি হয়। (ঝ) পিতামাতার দেহ থেকে সন্তানের দেহে জিনের মাধ্যমেই উত্তরাধিকার ঘটে।
বংশগতি বিদ্যা অনুযায়ী, জীবের বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন বংশগতির একক দ্বারা নির্ধারিত হয় যেগুলো কোষ বিভাজনে (মাইটোসিস) তাদের হুবহু প্রতিরূপের সৃষ্টি করে। এ ধরনের এককগুলোর মধ্যে পরিবৃত্তি ঘটে থাকে যার ফলে একই ধরনের নতুন স্থায়ী এককের সৃষ্টি হয়। এ নতুন একক জীবের ঐ নির্দিষ্ট চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের উপর একই ধরনের প্রভাব ফেলে কিন্তু সমান প্রভাব ফেলে না। একই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এ সকল একক ক্রোমোজোম একটি নির্দিষ্ট স্থান (লোকাস) দখল করে থাকে।
সকল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া একাধিক বিক্রিয়ার পর্যায়ক্রমিক সংঘটনের মাধ্যমে সম্পাদিত হয় এবং প্রতিটি বিক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট উৎসেচক (enzyme) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকে পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা যায়, কোন একটি নির্দিষ্ট জিনে যদি পরিবৃত্তি ঘটে তাহলে সংশ্লিষ্ট জীবে একটি নির্দিষ্ট বিক্রিয়া ঘটতে পারে না। এ তথ্যের উপর ভিত্তি করে 'একজিন' ধারণার উদ্ভব হয়েছিল। সম্প্রতি মলিকিউলার জীববিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এ ধারণার পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। মলিকিউল ধারণায় জিন হচ্ছে DNA অণুর একটি অংশ যা একটি পলিপেপটাইডকে সংকেত দেয়। প্রকৃতিতে ২০ রকম অ্যামিনো অ্যাসিড (amino acid) রয়েছে যা দিয়ে এ পলিপেপটাইডগুলো গঠিত। পলিপেপটাইডগুলো এককভাবে অথবা অনেকগুলো যুক্ত হয়ে কার্যকরী আমিষ গঠন করে। DNA ও RNA উভয় প্রকার নিউক্লিক অ্যাসিডের অণুই চার প্রকার নিউক্লিওটাইড (nucleotide) দ্বারা গঠিত (DNA-তে ডিঅক্সারাইবো নিউক্লিওটাইড যেমন অ্যাডেনিন, থাইমিন, গুয়ানিন ও সাইটোসিন থাকে এবং RNA তে রাইবোনিউক্লিওটাইড থাকে, যাতে থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল রয়েছে।) কোন্ কোন্ অ্যামিনো অ্যাসিড পরপর যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড গঠন করবে তা সংশ্লিষ্ট DNA অংশের নিউক্লিওটাইডের বিন্যাসের উপর নির্ভর করে। DNA- তে রক্ষিত পলিপেপটাইড গঠনের এ তথ্য প্রথমে অনুলিপনের মাধ্যমে বার্তাবাহক RNA- তে স্থানান্তরিত হয়। এ mRNA হতে কোষের আমিষ সংশ্লেষণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্থকরণ (translation) প্রক্রিয়ায় আমিষ সংশ্লেষিত হয়। তিনটি নিউক্লিওটাইডের একটি গ্রুপ একটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিডকে সংকেত করে। চারপ্রকার নিউক্লিওটাইড বিভিন্নভাবে বিন্যস্ত হয়ে মোট ৬৪টি বিভিন্ন সংকেত লিপির সৃষ্টি করে থাকে যেগুলো ২০টি অ্যামিনো অ্যাসিড এবং পলিপেপটাইড শৃংখলের শুরু ও শেষ নির্দেশ করে। জিনগুলো শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরীর তথ্যই বহন করে না বরং অনেক জিন আছে যেগুলো অন্য জিনের প্রকাশকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
জিন প্রকৌশল (Genetic engineering):
দুইটি DNA অণু পরস্পর সংযুক্ত করে তা জীবদেহে বা জৈব পদ্ধতিতে (Living system) প্রবেশ করানোর কৌশল জিন প্রকৌশল নামে পরিচিত। প্রকৃতিগতভাবে যে এমন প্রক্রিয়া ঘটে না। তা নয়। তবে দ্রুত ও অতিরিক্ত ফল লাভ করার জন্য সাধারণত জিন প্রকৌশল প্রয়োগ করা হয়। উচ্চতর জীবের ক্ষেত্রে এ কৌশল ব্যবহারের অর্থ হলো এমন কোন বৈশিষ্ট্যের ধারক জিন প্রবেশ করানো যা আগে উক্ত জীবের দেহে ছিল না।
উদ্ভিদঃ বিভিন্ন প্রজনন পদ্ধতি ব্যবহার করে ভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ দেহের মধ্যে জিন স্থানান্তর করা সম্ভব। তবে তা কেবলমাত্র কাছাকাছি সম্পর্কযুক্ত প্রজাতির উদ্ভিদের ক্ষেত্রে সম্ভবপর হয়। এর ফলে অনেক দূর সম্পর্কীয় উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় জিন প্রবেশ করানো যায় না। অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন জিন প্রবিষ্ট করানোর জন্য এ ধরনের প্রজনন প্রতিবন্ধক কৃত্রিম উপায়ে অতিক্রম করা বিশেষ জরুরী। বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে যে সকল জিন স্থানান্তর করা প্রয়োজন সাধারণত সেগুলোর নির্বাচনযোগ্য কোন দেহরূপ (phenotype) থাকে না। এজন্য এদের সংযুক্ত কোন জিন নির্দেশকের সাহায্যে চিহ্নিত করতে হয়।
একটি ভিন্ন পন্থা রয়েছে যেখানে প্রাকৃতিক পদ্ধতিকে ব্যবহার করে উদ্ভিদের জিনের প্রকাশকে পরিবর্তন করা হয় বা বাধা দেয়া হয়। এ ধরনের পদ্ধতিগুলো জিন স্থানান্তরের কার্যকর বাহক হিসেবে কাজ করে। এদের মূলে আছে এমন DNA অণু যেগুলো প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভিদকোষে প্রবেশ করে ও প্রতিরূপ সৃষ্টি করে। যেহেতু এরা উদ্ভিদের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে তাই সহজেই এদের সনাক্ত করা যায়। অবশ্য এসব রোগের উদ্ভিদ মারা যায় না। তবে প্রাণশক্তি অনেক কমে যায়। প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভিদের পরিবর্তন গঠনের আর একটি পদ্ধতি ক্রাউন গল পদ্ধতি (crown gall system) নামে পরিচিত। ক্রাউন গল এক ধরনের উদ্ভিদ টিউমার। এটা মৃত্তিকার ব্যাকটেরিয়া Agrobacterium tumefaciens- এর সংক্রমনের ফলে সৃষ্টি হয়। এ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে টিউমার আবেশী প্লাজমিড (Tumour inducing plasmid)- এ কতগুলো জিন রয়েছে যা টিউমার সৃষ্টির জন্য দায়ী। এ প্লাজমিডটি বেশ ছোট গোলাকৃতির DNA অণু এবং এটা কোষের নানা রকম কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। Agrobacterium একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ DNA উদ্ভিদ কোষে স্থানান্তর করে দেয় (T-DNA) এবং এটা উদ্ভিদের জিনোমের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। অনেক সময় টিউমার আবেশী জিন থাকা সত্ত্বেও স্বাভাবিক উদ্ভিদ জন্মাতে দেখা যায়। এর অর্থ অন্য কোন জিন টিউমার আবেশী জিনের কর্মতৎপরতা দমন করে রাখে।
প্রাণীঃ প্রাণীকোষে জিন প্রকৌশল প্রয়োগের সমস্যা ভিন্ন রকম। অবশ্য এ ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সুবিধাও রয়েছে। স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে জিন পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে।
মানব কোষের নির্দিষ্ট ক্রোমোজোমের একটি বিশেষ জিন সনাক্ত করার জন্য কোষীয় মিলন (cell fusion) পদ্ধতি অনেক বার ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত ইঁদুরের কোষের সঙ্গে মানব কোষের মিলন ঘটালে মানবকোষের ক্রোমোজোম বিলীন হয়ে যায়। শেষ পর্যায়ে একটি ইঁদুর কোষে একটি মানব ক্রোমোজোম থেকে যায়। এ কোষটি পরীক্ষা করে উক্ত মানব ক্রোমোজোম কি প্রোটিন তৈরী করে তা সনাক্ত করা যায়। কতগুলো টিউমার ভাইরাস পোষক কোষের জিনের সঙ্গে নিজেদের জিন মিলিয়ে দিতে পারে। এ ধরনের ভাইরাস সংক্রমনের ফলে পোষক কোষ টিউমারের বৈশিষ্ট্যসূচক প্রোটিন তৈরী শুরু হয়, যা কোষের স্বাভাবিক বিভাজন ব্যাহত করে। এ রকম ভাইরাস প্রাণীকোষে কোন জিন প্রবেশ করানোর জন্য বাহক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
প্রাণীকোষ রূপান্তরের আর একটি কৌশল হচ্ছে কোষের মধ্যে বিশুদ্ধ DNA ঢুকিয়ে দেয়া। অন্য কোষের DNA সমন্বয় করতে সক্ষম কিছু কোষে এ প্রক্রিয়া সম্ভবপর হলেও এ থেকে পরিণত প্রাণী জন্মানো সম্ভব নয়। অবশ্য উদ্ভিদের বেলায় এরকম প্রক্রিয়ায় পরিণত উদ্ভিদ জন্মানো সম্ভব।
মানব জিনতত্ত্ব (Human genetics): মানুষের বংশগতি ও কৌলিক বৈচিত্রের বহিঃপ্রকাশ অর্থাৎ তার দেহরূপ (phenotype) নির্ধারণ করাই জিনের কাজ। ক্রোমোজোম ও জিনের গঠন, বংশ বৈচিত্র ও বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হওয়ার কৌশল, জিন কিভাবে পিতামাতার বৈশিষ্ট্য সন্তান সন্ততির মধ্যে স্থানান্তর করে প্রভৃতি বিষয়ের সুস্পষ্ট প্রমাণযোগ্য ফলাফল মানব জিনতত্ত্বকে বর্তমানে সমৃদ্ধ করে তোলেছে।
ক্রোমোজোম মানুষের বংশগতির মূল ভিত্তি। প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াসে সূতার মত প্যাঁচানো ক্রোমোজোম থাকে। একটি sperm ও ovum এর মিলনের ফলে জাইগোট তৈরী হয় এবং সেখান থেকে শরীরের সকল রকম কোষের উৎপত্তি ঘটে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতিটি কোষেই সমসংখ্যক ও সমপ্রকৃতির ক্রোমোজোম থাকে (ব্যতিক্রম শুধু জনন কোষে)। ক্রোমোজোম নিউক্লিও প্রোটিন দ্বারা গঠিত। এর DNA জনন কোষের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে বংশগতির রাসায়নিক বার্তা বয়ে নিয়ে যায়। মিউসিস বিভাজনের ফলে জনন কোষ তৈরী হয়। এর ফলে প্রতিটি জনন কোষে দেহ কোষের অর্ধেক সংখ্যক (হেপ্লয়েড সংখ্যক) ক্রোমোজোম থাকে। নিষেকের পর ক্রোমোজোম সংখ্যা আবার ডিপ্লয়েড হয়। নিষেককৃত কোষে মাতৃকোষের প্রতিটি ক্রোমোজোম সমবৈশিষ্ট্য সম্পন্ন পিতৃকোষের ক্রোমোজোমের সাথে জোড় তৈরী করে। প্রতি জোড়া জোড়া জিনকে অ্যালেলী (alleles) বলা হয়। অ্যালেলীর প্রতিটি জিন হুবহু একটি আর একটির মত হতে পারে কিংবা বিষম (heterozygotes) হতে পারে।
মানুষের স্বাভাবিক ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬টি। এদের মধ্যে ৪৪টি দেহ ক্রোমোজোম এবং দু'টি যৌন ক্রোমোজোম। যৌন ক্রোমোজোম চিহ্নিত করা হয় x ও y প্রতীক দ্বারা। মহিলাদের যৌন ক্রোমোজোম দুইটি x ক্রোমোজোম দ্বারা গঠিত এবং পুরুষদের একটি x ও একটি y ক্রোমোজোম নিয়ে গঠিত। x এবং y ক্রোমোজোমের সমসত্ত্ব অংশে ৮-৯টি পরিবৃত্তের স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগ সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পূর্ণ বর্ণান্ধত্ব, জেরোডার্মা পিগমেন্টোসাম (xeroderma pigmentosum) ওগুচির রোগ (oguchi's disease), নিম্নাঙ্গের অবশতা (spastic paraplegia), এপিডার্মোলাইসিস বুলোসা (epidermolysis bullosa), রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা (retinitis pigmentosa) ইত্যাদি। অবশ্য এ সকল রোগের সঙ্গে যৌন ক্রোমোজোমের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
যৌন ক্রোমোজোম সংশ্লিষ্ট রোগের উদাহরণ হিমোফিলিয়া (haemophilia), লাল-নীল বর্ণান্ধত্ব ইত্যাদি। এসব রোগের পরিব্যক্ত জিন x ক্রোমোজোমে অবস্থিত। মহিলাদের দু'টি x ক্রোমোজোমেই এরকম পরিব্যক্ত জিন থাকলে রোগটি আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু একটি x ক্রোমোজোম স্বাভাবিক এবং অপর x ক্রোমোজোম পরিব্যক্ত জিনবাহী হলে উক্ত মহিলা ঐ রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। পুরুষদের যেহেতু একটি মাত্র x ক্রোমোজোম থাকে, এজন্য ঐ একটি x ক্রোমোজোমেই পরিব্যক্ত জিন অবস্থান করলে রোগটি আত্মপ্রকাশ করে। এজন্য বলা হয় x ক্রোমোজোম-সংশ্লিষ্ট রোগের বাহক মহিলারা কিন্তু রোগের শিকার পুরুষেরা।
বংশগতির প্রকৃতি নির্ধারণ
জিনগত বিশ্লেষণের প্রথম ধাপ হলো একটি বৈশিষ্ট্য জন্মগত সূত্রে অর্জিত হয় কিনা তা নির্ধারণ করা। যদি হয়, তা কিভাবে? বংশগতির প্রকৃতি পরিবারের উপর পর্যবেক্ষণ করে নির্ণয় করা যায়। জিন বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে পরিবার বলতে পিতামাতা ও তাদের সন্তান-সন্ততিকে বোঝানো হয়।
পরপর কয়েক প্রজন্মের সদস্যদের মধ্যে কোন একটি বৈশিষ্ট্যের সঞ্চারণ পর্যবেক্ষণ করে বৈশিষ্ট্যটি দেহ ক্রোমোজোম বাহিত (প্রকট অথবা প্রচ্ছন্ন) নাকি যৌন ক্রোমোজোম বাহিত (প্রকট অথবা প্রচ্ছন্ন) তা বলা যায়। প্রত্যেক আক্রান্ত ব্যক্তির পিতা কিংবা মাতা আক্রান্ত বৈশিষ্ট্যাধারী হলে ওটাকে দেহ ক্রোমোজোমবাহিত প্রকট বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা হয়। যৌন ক্রোমোজোম সংশ্লিষ্ট রোগ আক্রান্ত পিতার নিকট থেকে পুত্রের শরীরে সঞ্চারিত হতে পারে না। দেহ ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের একটি সাধারণ উদাহরণ অ্যালবিনিজম (albinism)। একটি পেডিগ্রী (pedigree) থেকে কোন বৈশিষ্ট্য প্রচ্ছন্ন (recessive) কিনা তা নির্ধারণ করা যায় না। প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যবাহী পেডিগ্রীর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ১। পিতামাতা সাধারণত সুস্থ দেহের অধিকারী। ২। পিতৃমাতৃ সূত্রের আত্মীয় স্বজনদের সচরাচর এ বৈশিষ্ট্য থাকে না এবং ৩। রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বিয়ের ফলে এ সকল বৈশিষ্ট্যের বেশী প্রকাশ ঘটতে দেখা যায়।
যৌন ক্রোমোজোমবাহী প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের পেডিগ্রীর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, ১। আক্রান্ত পিতার নিকট থেকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের জিন তার পুত্রের শরীরে সঞ্চারিত হয় না। ২। সুস্থ স্বাভাবিক পিতার পুত্র সন্তানও স্বাভাবিক। ৩। আক্রান্ত পুরুষ সন্তানেরা তাদের মায়েদের নিকট থেকে আক্রান্ত জিন লাভ করে। এবং ৪। মহিলারা সাধারণত এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের বাহক। কিন্তু এ সকল রোগে সচরাচর তারা আক্রান্ত হয় না। অবশ্য আক্রান্ত পুরুষ কোন বাহক মহিলাকে বিয়ে করলে তাদের কন্যা সন্তান কিংবা পুত্র সন্তান উভয়েই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যৌন ক্রোমোজোম বাহিত প্রকট বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও এ সকল নিয়ম প্রযোজ্য। তবে এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত পুরুষের সকল কন্যা সন্তানই আক্রান্ত হবে এবং সুস্থ মহিলাদের উত্তরসূরীরা সুস্থ হবে।
যে সকল জিনগত বৈশিষ্ট্যের গতিধারা সুস্পষ্ট এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার সাহায্যে প্রমাণযোগ্য শুধু সেগুলো চিকিৎসা আইনে ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে ABO, MN এবং Rh রক্তের গ্রুপ উল্লেখযোগ্য। সারা পৃথিবীতেই এগুলো চিকিৎসা আইনের ক্ষেত্রে গ্রহণীয়।
শিশুর পিতৃত্ব নিয়ে কোন সমস্যা দেখা দিলে জিনগত প্রমাণের দরকার হয়। শিশুর শরীরে যদি এমন কোন এন্টিজেন (antigen) থাকে যা মায়ের শরীরে কিংবা সন্দেহভাজন পিতার শরীরে নেই তাহলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি শিশুর পিতা নয় একথা বলা যায়। আবার সন্দেহকৃত পিতার দেহ থেকে জিনগত কারণে যেসব এন্টিজেন শিশুর শরীরে সঞ্চারিত হওয়ার কথা তা না পাওয়া গেলেও ঐ ব্যক্তির পিতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
অতএব, জিনতত্ত্বের উপর বিজ্ঞানীরা সঠিক জ্ঞান লাভ করেছে উনবিংশ শতাব্দীতে। কিন্তু ৭ম শতাব্দীতে অবতীর্ণ আল কোরআনের বেশ ক'টি আয়াতে এ বিষয়ের উপর জোরালো তথ্য খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। এগুলোর মধ্যে সূরা আবাছা-১১, আলে ইমরান-৬ এবং ইনফিতারঃ৭-৮ নম্বর আয়াত অন্যতম। প্রথম দিকে এসব আয়াতের উপর বিভিন্ন প্রকার বক্তব্য পেশ করা হলেও বর্তমানে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের উন্নয়নের সাথে সাথে পবিত্র কোরআনের ভাষ্যকারগণ ঐসব আয়াতে জিনগত ধারণার ইঙ্গিত রয়েছে মর্মে একমত পোষণ করেছেন।
📄 পরিশিষ্ট-৮ DNA (ডি অক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড)
পরিশিষ্ট-৮ Appendix-8
ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড Deoxyribonucleic Acid (DNA)
DNA জীবকোষের নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণরাসায়নিক যৌগ। ক্রোমোজোম তথা জিনের সাংগঠনিক উপাদান রূপে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড জীবের প্রজাতি সত্তা ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে। কোষের অধিকাংশ DNA ক্রোমোজোমের উপাদান হিসেবে নিউক্লিয়াসে বিরাজ করে। অল্প পরিমাণ ডিএনএ মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাসটিড ও অন্যান্য সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুতেও থাকে।
DNA জীবকোষে বিদ্যমান বৃহৎ অণুর অন্তর্ভুক্ত। ডিএনএ অণুগুলোর আনবিক ওজন দুই বিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে। এ অণুগুলো দীর্ঘ পলিমার বা বহুসংখ্যক নিউক্লিওটাইড মনোমার দিয়ে গঠিত। প্রতিটি নিউক্লিওটাইড একটি নাইট্রোজেন ক্ষারক, চিনি ও ফসফরিক এসিড দিয়ে গঠিত। DNA অণুতে বিদ্যমান নাইট্রোজেন ক্ষারকগুলো হলো পিউরিন (অ্যাডিনিন ও গুয়ানিন) এবং পাইরিমিডিন (সাইটোসিন ও থাইমিন)। এ অণুতে বিদ্যমান পাঁচ কার্বন বিশিষ্ট চিনিটি হলো ডিঅক্সিরাইবোজ। পিউরিন ও পাইরিমিডিন নিউক্লিওটাইডের রাসায়নিক গঠন চিত্র-১ এ দেখানো হয়েছে।
চিত্র-১: পিউরিন ও পাইরিমিডিন নিউক্লিওটাইডের রাসায়নিক গঠন
১৯৬৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক (Watson and Crick) নামক দু'জন বিজ্ঞানী DNA অণুর দ্বি-সূত্রাকৃতির (double Helix) গঠন প্রস্তাব করেন। বস্তুত অধিকাংশ DNA অণু দ্বি-সূত্রাকার। এ অণুগুলোতে দু'টি DNA শিকল একে অপরের সঙ্গে পাকানো থাকে এবং শিকল দু'টি সঠিক অর্থে বিপরীতমুখী বা বিপরীতমুখী সমান্তরাল (antiparallel)। এ বিজ্ঞানীদ্বয়ের প্রস্তাব অনুসারে পিউরিন ও পাইরিমিডিনের ভিন্ন আকার ও আকৃতির ফলে দ্বি-সূত্রাকৃতি DNA অণুতে এদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট রীতিতে জোড়া বন্ধন ঘটে। থাইমিনের সঙ্গে অ্যাডেনিন (TA) এবং সাইটোসিনের সঙ্গে গুয়ানিন (CG)। এরূপ বন্ধনগত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ওয়াটসন ও ক্রিক আরো প্রস্তাব করেন যে, দ্বি-সূত্রাকৃতির DNA পাকানো অবস্থায় থাকে যা একটি হেলিক্যাল (helical) গঠন তৈরি করে।
চিত্র-২ ওয়াটসন ও ক্রিকের DNA অণুর মডেল
বংশগত বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ থেকে দেখা যায় যে, কোষের নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান ক্রোমোজোম কৌলিক তথ্য (genetic information) বহন করে। এ কোষ যখন বিভক্ত হয় তখন এ তথ্য অপরিবর্তিত অবস্থায় অপত্য কোষে (child cell) স্থানান্তরিত হয়। অধিকন্তু এ ধরনের প্রমাণও রয়েছে যে, ক্রোমোজোমগুলো নিজেরাই অনুলিপন (replication) করে থাকে এবং পৃথক হয়ে যায়। এর ফলে মাতৃকোষে বিদ্যমান ক্রোমোজোম সেটের হুবহু অনুলিপি প্রতিটি অপত্য কোষে স্থানান্তরিত হয়। DNA অণুর অনুলিপন প্রক্রিয়ার একটি মডেল চিত্র-৩ এ দেখানো হলো।
চিত্র-৩ DNA অণুর অনুলিপন: A = অ্যাডেনিন C = সাইটোসিন G = গুয়ানিন ও T = থাইমিন
নিউক্লিয়াসের বিভাজনের সময় ডবল হেলিক্স DNA অণুগুলো পৃথক হয়ে যায় এবং প্রতিটি সূত্র একটি নূতন সূত্র তৈরির জন্য নিয়ামক (template) হিসেবে কাজ করে। নতুন সূত্রটি কোষের ভিতরে বিদ্যমান নিউক্লিওটাইড থেকে সংশ্লেষিত হয়। নিউক্লিওটাইডের সংশ্লেষণ ও নতুন DNA সূত্রের সৃষ্টির জন্য বেশ কিছু সংখ্যক এনজাইমের প্রয়োজন হয়। এ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ঘটা অসম্ভব। কোনোভাবে যদি একবার ত্রুটি ঘটে তাহলে এটাকে সংশোধন করা যেতে পারে। আর যদি সংশোধন করা না হয় তবে DNA এর এই পরিবর্তন DNA অণু থেকে উদ্ভূত সকল DNA-তে ঘটতে থাকবে। ত্রুটিপূর্ণ DNA দ্বারা প্রোটিন সংকেত অনুক্রমে এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে যার ফলে প্রোটিনের সক্রিয়তা বিনষ্ট বা পরিবর্তন হয়ে যায়। DNA অণুর ক্ষারক অনুক্রমে পরিবর্তনের ফলে পরিবৃত্তি (mutation) ঘটে।
প্লাজমিড DNA অনেক অঙ্গাণুর DNA এবং কোনো কোনো ক্ষুদ্র ভাইরাসের DNA-র গঠন চক্রবৃত্তীয়। চক্রবৃত্তীয় গঠনের গুরুত্ব সাধারণভাবে এ কারণে বেশি যে, মুক্ত প্রান্তহীন DNA স্ট্যান্ডগুলোতে সহজে রাসায়নিক বা অনুঘটকীয় অবনতি ঘটে না। প্রাণী ও ব্যাকটেরিয়ার অন্যান্য ভাইরাসগুলোতে অস্বাভাবিক DNA থাকে। এসব DNA-তে দ্বিসূত্রের পরিবর্তে একটি মাত্র সূত্র থাকে। কিছু সংখ্যক ব্যাকটেরিয়ার ভাইরাসেও অস্বাভাবিক DNA উপাদান দেখা যায়। এসব DNA-তে সাইটোসিনের পরিবর্তে মিথাইল সাইটোসিন থাকে। ইউরাসিল দ্বারা থাইমিন প্রতিস্থাপিত হতে পারে। এসব পরিবর্তন DNA অণুর সঠিক গঠন ও দ্বি-হেলিক্স ক্ষারক জোড়া বন্ধনের রীতি প্রভাবিত করে না। কিন্তু DNA অণুর স্থিতিশীলতা প্রভাবিত করতে পারে।
অতএব, উপরোক্ত আলোচনায় দেখা যাচ্ছে যে, DNA অণুর গঠন কাঠামো খুবই জটিল এবং অত্যন্ত সুগঠিত। জন্মদান ও প্রজনন রীতি যে DNA এর মধ্যে নিহিত সে DNA এর অবস্থান কেন্দ্রীয় নিউক্লিয়াসের মধ্যে। বিজ্ঞানী ওয়াটসন ও ক্রিক DNA-এর আনবিক কাঠামোর উপর গবেষণা কর্ম পরিচালিত করে যে মডেল উপস্থাপন করেছেন, ১৯৬৩ সনের পূর্বে তা কেউ জানতো না। এদের গবেষণা কর্মে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, নতুন প্রোটিন তৈরির প্রাথমিক ধাপই হলো RNA (রাইবোনিউক্লিক এসিড) দূতের DNA উপর বিশেষ আকারের উৎপাদন। RNA একটি নির্দিষ্ট ধরনের প্রোটিন গঠনের প্রয়োজনীয় তথ্য ধারণ করে। কোষের সাইটোপ্লাজমে একসারি অ্যামিনো এসিড বিদ্যমান থাকে। আর এ অ্যামিনো এসিডগুলোর প্রত্যেকটিতে স্বল্প মাত্রায় নিউক্লিক এসিড সংযুক্ত থাকে। যখন RNA দূত সেখানে হাজির হয় তখন ক্ষুদ্রাকারের RNA অণুকণাগুলো দূত অণুকণাগুলোকে সঠিক স্থানে সংযুক্ত করে। এভাবে সংযুক্ত করার ফলে সঠিক ফলশ্রুতি নিশ্চিত হয়। DNA অণুর আনবিক গঠন এতই জটিল যে বহু বিজ্ঞানী এতে বিস্ময় বোধ করে থাকেন। এ DNA মলিকিউলের একমাত্র রূপকার প্রজ্ঞাময় আল্লাহপাক। তাই তিনি এর ইঙ্গিত দিয়েছেন ঐশীগ্রন্থ আল কোরআনে। সূরা যাসিয়া-৪, কিয়ামাহ-৪, হামীম-৫৩ এবং আরো বহুসংখ্যক আয়াতে এর ইঙ্গিত সুস্পষ্ট। এসব আয়াতের উপর সঠিক নিয়ত সহকারে যে কেউ গবেষণা করুক না কেন আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি কৌশল তার কাছে প্রতিভাত হবেই।
📄 পরিশিষ্ট-৯ পরিযায়ী পাখি
পরিশিষ্ট-৯ Appendix-9
পরিযায়ী পাখি-(Migratory birds)
অক্টোবর মাসে অনেক পাখিই বাসা ছেড়ে শীতের সন্ধানে দক্ষিণে যায়। কিন্তু হাজার হাজার মাইলের এ ভ্রমণপথে পরিযায়ী পাখিরা কিভাবে এদের পথের দিকনির্দেশনা খুঁজে পায়? বিজ্ঞানীরা এখনও এর সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। তবে এ যাবত প্রাপ্ত তথ্যাদি থেকে জানা যায় এ মাইগ্রেটরি পাখিরা বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে এ কাজটি করে।
সবচেয়ে বোধগম্য স্পষ্ট পদ্ধতিটি হলো ভূতলস্থ দৃশ্যমান প্রাকৃতিক দৃশ্য, যেমন পর্বতমালা ও উপকূলের অবস্থান ও আকৃতি, নদ-নদীর অবস্থান ও গতিপথ ইত্যাদির সাহায্য নেয়া। পাখিরা তাদের বাসা খুঁজে পেতেও এ কাজটি করে থাকে।
অনেক পাখি যাত্রাপথে দিক নির্দেশনার জন্য সূর্যকে ব্যবহার করে। এর জন্য দেশান্তরের সময় সূর্য আকাশে দিনের কোন সময়ে কোথায় অবস্থান করে তা জেনে নিতে হয়। সে কাজটি শুধু মানুষ কিছু জটিল অংকের মাধ্যমে করতে পারে। কিন্তু দিনটা যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে কি করবে? যাত্রাপথে একজন মানুষ যেমন দিক নির্ণয়ের লক্ষ্যে কম্পাস ব্যবহার করে। পাখিরাও কি তেমন কিছু একটা ব্যবহার করে?
হ্যাঁ এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রত্যেকটি কবুতরের মাথার খুলির ভেতরে একটা ছোট্ট চৌম্বক দানা আছে (pod of magnetic grain)। ধারণা করা হয় এরা পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সাথে নিজেদের সারিবদ্ধভাবে সাজায় যা দিক নির্ণায়ক কম্পাসের কাজ করে। এ ধারণাটি প্রমাণ করার জন্য যে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে তাহলো পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে কাজ করে (Interferes) এমন একটি স্থানীয় চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরী করে, যদি একটি কবুতরের (Homing pigeon) মাথায় একটি ছোট্ট চুম্বক টুকরা লাগিয়ে দেয়া হয়, তবে এটা উল্টো পথে উড়তে শুরু করবে।
রাতে ভ্রমণের সময় আকাশের তারকারাজির সাহায্যে দিক নির্ণয় করা কবুতরের আর একটি কৌশল। বহু প্রজাতির পাখিই আকাশের তারকারাজির সাহায্যে পথ চলে। তবে ইন্ডিগো বান্টিংস (Indigo buntings) নামের পাখিদের মধ্যে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। কয়েক বছর আগে এক নিরীক্ষায় দেখা গেছে যে, উত্তর গোলার্ধে ইন্ডিগো বান্টিংস আকাশে তারা দেখে Polaris এর চারদিকে ঘুরে বেড়ায় (Wheel around) যা পৃথিবীর উত্তর মেরু অনুযায়ী সারিবদ্ধভাবে সাজানো, রাতের আকাশে Polaris দেখে চিনতে পারাই পাখিদেরকে তাদের উত্তরমুখী পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে। এ ধারণা পরীক্ষা করার জন্য অনুসন্ধানকারীগণ পাখিদের একটি প্লাটফর্মের অভ্যন্তরে একটি কৃত্রিম আকাশ দেখান। যার ফলে দেখা গেল পাখিগুলো তারার মাধ্যমে উত্তর দিক নির্ধারণ করতে সক্ষম হলো। মজার ব্যাপার হলো তারাগুলো কিন্তু আকাশের সঠিক অবস্থানে ছিল না। তাদের পরস্পরের সাথে সম্পর্কটি ঠিক রাখা হয়েছিল। যখন পরীক্ষকগণ এদের অবস্থানগুলো বদলে দিয়ে Betelgeuse কে ধ্রুব নক্ষত্র (যার চতুর্দিকে তারাগুলো ঘোরে) হিসেবে সাজালেন তখন পাখিগুলো Betelgeuse কে ধ্রুব নক্ষত্র ধরে সেই অনুযায়ী পথ চলতে লাগল।
আরও একটি উপায় আছে, তাহলো পাখিরা সূর্যালোকে মেরুকরণ পদ্ধতি (Polarisation pattern) উপলব্ধি করে। সূর্যরশ্মি যখন আমাদের বায়ুস্তর ভেদ করে যায়, তখন ক্ষুদ্র বায়ু কণার মধ্য দিয়ে আলোক তরঙ্গকে একটি নির্দিষ্ট দিকে যেতে দেয়। সূর্যাস্তের সময় আকাশের দিকে তাকালে আমরাও আলোকের মেরু প্রবণতার (Resulting polarisation of the light) ব্যাপারটি চিহ্নিত (detect) করতে পারি।
কিছু কিছু পাখি মেরু প্রবণতাকে আকাশে একটা বড় কম্পাস হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু যে কোন নাবিক বলতে পারে যে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য যা প্রয়োজন তা হলো উত্তর দিক কোনটা তা জেনে নেয়া। এক্ষেত্রে মানুষের দরকার হয় Elementary trigonometry এবং উচ্চতর ত্রিকোণমিতির মাধ্যমে একটা ম্যাপ অংকন করা।
পাখিও কি মানুষের মত ত্রিকোণমিতি সমাধান করতে পারে? নিঃসন্দেহে না। সূর্য বা নক্ষত্র দেখে ভ্রমণ করা একটি পাখিকে ত্রিকোণমিতি সমাধান করতে বলা যে কথা পাহাড় থেকে ধেয়ে আসা একটি নদীকে Fluid dynamics এর Differential equation সমাধান করতে বলা একই কথা। তবে পাখিদের কার্যকলাপকে মানুষ যখন গণিতের ভাষায় রূপান্তর করে তখনই কেবল হাজার হাজার মাইল ভ্রমণকারী পাখিদের গাণিতিক কৌশল আমাদের সামনে প্রতিভাত হয়। আসল কথা হলো করুণাময় আল্লাহ পাখিদেরকে গাণিতিক কৌশল অবলম্বন করে পথ চলতে শিক্ষা দিয়েছেন।
যদি মহামহিম আল্লাহ আমাদের উড়ার কথা ভাবতেন তবে তো আমাদের পাখাই দিতেন। একথার অন্তর্নিহিত অর্থ হলো তিনি অবশ্যই চেয়েছেন আমরা উড়ে বেড়াই। তাই তো তিনি মানুষকে অংক করার মত ব্রেইন দিয়েছেন, যা দিয়ে মানুষ Aircraft, Spacecraft ও রকেট আবিষ্কার করে বাতাসে কিংবা মহাশূন্যে ভেসে বেড়ায়।