📘 Biggan moy quran > 📄 সিয়াম তত্ত্ব

📄 সিয়াম তত্ত্ব


সিয়াম তত্ত্ব (Theory of Fasting):
মানুষ যখন যৌবনে পদার্পণ করে তখন তার মধ্যে Sex tendency জাগ্রত হয়। কারণ এ সময়ে যৌনগ্রন্থি থেকে যৌন উদ্দীপক হরমোন (hormone) নিঃসৃত হয়। এ হরমোন নিঃসরণকে প্রভাবিত করে পিটুইটারী গ্রন্থি (pituitary) থেকে নির্গত আর এক ধরনের হরমোন, যার নাম মেলানোসাইট স্টিমুলেটিং হরমোন। এ হরমোন যৌনগ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে। যার ফলে যৌন আকাংক্ষা অনুভব করে। তাই এ সময় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতা, দারিদ্রতা কিংবা অন্য কোন প্রতিকূল অবস্থার কারণে বিয়ে করা অসম্ভব হলে তখন কি করা উচিত! এ সমস্যা সমাধানের কোন ফলপ্রসূ তত্ত্ব বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করতে সক্ষম হননি। কিন্তু ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এ বিষয়ে এমন একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক তত্ত্ব দিয়েছেন যা দৈহিক ও মানসিক কল্যাণ বয়ে আনে। তত্ত্বটির নাম সিয়াম তত্ত্ব। এ তত্ত্ব অনুযায়ী, দারিদ্রতা কিংবা বেকারত্বের কারণে উপরোল্লেখিত সময়ে বিয়ে করা অসম্ভব হলে সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা। এর ফলে যৌন উদ্দীপনা ক্রমান্বয়ে সুপ্ত হয়ে যায়। তবে এ উদ্দীপনা সুপ্ত হয়ে গেলে সিয়াম সাধনায় বিরতি দেয়া যায়।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجُ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْسَنُ لِلْفَرَجِ وَمَنْ لَّمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وَجَاءَ (মুত্তফাক আলাইহি)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সাঃ) বলেছেন, হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যে সামর্থবান তার উচিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। কেননা এটা দৃষ্টিকে অবনত করে এবং চারিত্রিক সততা সংরক্ষণ করে। আর যে যুবক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে অক্ষম তার উচিত রোজা পালন করা। কারণ রোজা যৌন আকাংক্ষা নিবৃত্ত করে। (বুখারী, মুসলিম)

উপযুক্ত মুহুর্তে বিয়ে করতে অসমর্থ যুবক-যুবতীর যখন সিয়াম তত্ত্ব গ্রহণ করবেন। এর সাথে সাথে আরো চারটি বিশেষ কল্যাণের অধিকারী হবেন।

১. শারীরিক কল্যাণ
রোজা পালনের ফলে ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজীজ, হাইপারটেনশন, গ্যাস্ট্রিক এসিডিটি প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেহের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠে।

২. মানসিক কল্যাণঃ
সিয়াম সাধনার দরুন মনের মধ্যে স্বর্গীয় প্রশান্তি প্রবাহিত হয়।

৩. আধ্যাত্মিক কল্যাণঃ
রোজাদার ব্যক্তির সাথে মহান আল্লাহর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে।

৪. পরকালীন কল্যাণঃ
রোজা পালনকারী বান্দার জন্য আল্লাহ তাআলা মহা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। আর এ পুরস্কার তিনি নিজেই দান করবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00