📄 সালাতের বৈজ্ঞানিক বিভাগ
واقيموا الصلوة وبشر المؤمنين. And establish salat and give Glad Tidings to those who believe. আর আপনি নামাজ প্রতিষ্ঠা করুন এবং একনিষ্ঠ বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দান করুন। (ইউনুসঃ ৭-৮)
মানুষের শরীর যেন এক জটিল কারখানা। যেমন এর গঠন তেমনি বিচিত্র এর অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কাজ করার ক্ষমতা। গোটা মানব দেহ ৩৬০টি জোড়া (Joint) সন্ধিতে সংযুক্ত এবং প্রতিটি জোড়া সন্ধির নিয়মিত নড়াচড়া (Movement) অপরিহার্য। দেহের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কাজ করার ক্ষমতা সংরক্ষণের জন্য রীতিবদ্ধ শরীর চর্চা (Systematic Physical exercise) মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক বিষয়। স্বাস্থ্য রক্ষার বিজ্ঞান ভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে পরিস্কার উপলব্ধি করা যায় যে, নিয়মিত শরীর চর্চা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। যেমন, রোগ জীবাণু থেকে আত্মরক্ষার জন্য চোখের অশ্রু গ্রন্থি (Lacrimal gland) থেকে যে অশ্রু বের হয় তাতে আছে লাইসোজাইম (Lysozyme), যা চোখকে ধুয়ে পরিস্কার করে এবং রোগ জীবাণু ধ্বংস করে। মানুষের লালা এবং পাকস্থলী থেকে নির্গত হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) খাবারের সঙ্গে রোগ জীবাণু ঢুকলে তা আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়। স্নায়ুতন্ত্র প্রতিবর্তী ক্রিয়ার সাহায্যে ক্ষতিকারক উদ্দীপক থেকে আমাদের রক্ষা করে। রক্তের শ্বেত কণিকা (White blood corpuscle) রোগ জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করে তাদের ধ্বংস করে ফেলে। তাছাড়া যকৃৎ, প্লীহা, লসিকা গ্রন্থি, টনসিল, তাইমাস, অস্থিমজ্জা (Red bone marrow), ইত্যাদি গ্রন্থিগুলো জীবাণু ধ্বংসের কাজে সদা সতর্ক থাকে। কিন্তু রোগ প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা হিসেবে এসব গ্রন্থির কার্যকারিতা সক্রিয় রাখার জন্য বিজ্ঞান ভিত্তিক শরীর চর্চা অপরিহার্য। মুসলিম বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মুসলমানেরা শারীরিক Movement প্রক্রিয়ায় যে দৈনিক পাঁচ বার নামাজ আদায় করে তা এক অসাধারণ বিজ্ঞান ভিত্তিক শরীর অনুশীলন পদ্ধতি, যার ফলে একটি সক্ষম দেহ গড়ে ওঠে।
সক্ষম দেহ গড়ে তোলার জন্য আরো প্রয়োজন সুষ্ঠ রক্ত সঞ্চালন, অক্সিজেন (O₂) প্রবাহ এবং বিপাক (Metabolism)। পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে নিয়মিত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে দেহের রক্ত সঞ্চালন, অক্সিজেন প্রবাহ এবং বিপাক ক্রিয়া স্বাভাবিক ও সক্রিয় থাকে। যার দরুন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
রক্ত সঞ্চালন অর্থাৎ হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের মধ্যে গতিশীল থাকে। রক্তের গতিশীলতার উপর শারীরিক সক্ষমতা নির্ভরশীল। বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক প্রতিরূপ থেকে দেখা যায়, রক্ত সঞ্চালন স্বচ্ছ এবং স্বাভাবিক রাখার জন্য নামাজ আদায়ের পদ্ধতির চেয়ে উত্তম শারীরিক পদ্ধতি আর হতেই পারে না। কিয়াম (দাঁড়ানো) থেকে সেজদা পর্যন্ত যে দৈহিক Movement ঘটে তাতে মহাধমনী থেকে ধমনী, শাখা ধমনী ও কৈশিক জালিকার মাধ্যমে রক্ত সারা দেহে সংবহিত হয়। এর মধ্যে শাখা ধমনী ও কৈশিক জালিকায় যদি কোথাও চর্বি জমাট বাঁধে কিংবা স্ফীত অংশ থাকে, যা রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটায়, নিয়মিত সালাত আদায়ের ফলে স্ফীত ধমনী বা জমাট বাঁধা চর্বি ধীরে ধীরে মুক্ত হয় এবং সকল ধমনী তন্ত্রের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় থাকে। আবার শরীরে যে অসংখ্য কোষ (Cell) রয়েছে, ঐসব কোষের ভেতরে অক্সিজেনের সাহায্যে খাদ্য দহন করে শক্তি তৈরী হয়। এ সময় প্রথমে খাবারের জটিল অণু ভেঙ্গে যায় সরল অণুতে। পরে তা অক্সিজেনের সাহায্যে দহনের ফলে শক্তি উৎপন্ন করে। এ প্রক্রিয়ার নাম বিপাক (metabolism)। বিপাক সংগঠিত হওয়ার জন্য দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা জরুরী। দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায়ের দরুন দৈহিক Movement থেকে যখন শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে তখন বিপাকের হারও বেড়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে কোষে O₂ ঢুকার হারও বৃদ্ধি পায়।
এখন নামাজ আদায়ের শারীরিক পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে দেখি
কিয়ামঃ সক্ষম দেহের অধিকারী নামাজীকে স্থির দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হয়। এর নাম কিয়াম। এ সময় কোরআনের আয়াত পাঠ করা হয় বলেই মস্তিস্ক Speech centre সক্রিয় থাকে। হৃদয়-মন এক আল্লাহর দিকে এবং চোখ দু'টি সেজদার স্থান বরাবর নিবদ্ধ থাকে। কিয়াম অবস্থায় অভিকর্ষ শক্তির (earth gravity) টানে বেশীর ভাগ রক্ত পায়ের দিকে নেমে যায়। ফলে হৃদপিন্ডে রক্ত ফেরৎ যাওয়া বা Venus Return বিলম্বিত হয়। যার কারণে ক্ষণিকের জন্য হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং শারীরিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর ফলে বিপাক ক্রিয়া দ্রুত ঘটে এবং কোষের ভিতর শক্তি তৈরী হয়।
রুকুঃ কিয়াম থেকে সামনের দিকে বাকা হয়ে অবনত হওয়ার নাম রুকু। রুকু করার জন্য হাত দু'টি হাঁটু-সন্ধির (knee joint) উপর এমনভাবে রাখতে হয় যেন হাতের আঙুলগুলি ছড়ানো থাকে এবং পিঠ আর মাথা ভূমির সাথে সমান্তরাল (parallel) রেখায় থাকে। এ অবস্থায় মেরুদন্ডের ৩৩টি কশেরুকা (Vertebrae) প্রভাবিত হয়। এদের মধ্যে ঘাড়ের কাছে ৭টি সার্ভাইকাল (cervical), বুকের কাছে ১২টি থোরাসিক (thoracic), কোমরের কাছে ৫টি লাম্বার (Lumbar) ও ৫টি স্যাক্রাল (sacral) এবং একদম শেষে ৪টি হাড় মিশে একটি ককসিজিয়াল (coccygeal) নিয়মিত রুকু করার দরুন এসব হাঁড়ে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং বদ্ধাবস্থায়ও দেহের ভারসাম্য অটুট থাকে।
তাই আল-কোরআন বলছে,
وَاقِيمُوا الصَّلَوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرّٰكِعِين.
And Perform the Salat and practise regular charity and bow down your heads with those who bow down.
নামাজ কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু কর। (বাকারাঃ৪৩)
সেজদাঃ দু'পা, দু' হাঁটু, দু'হাত এবং নাক আর কপাল ভূমিতে ঠেকিয়ে একমাত্র প্রভু মহান আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণের নাম সেজদা। তখন ভূমির উপর সাতটি অঙ্গ ক্রমান্বয়ে রাখতে হয়। প্রথমে দু'পা, তারপর দু' হাঁটু, এরপর দু'হাত। সব শেষে নাক আর কপাল। ভূমিতে হাত দু'টি এমনভাবে রাখতে হয় যেন তা কান বরাবর থাকে এবং দৃষ্টি থাকবে নাকের আগার দিকে। এ সময়ে শরীরের ৩৬০টি জয়েন্ট ও ২০৬টি হাড় সমানে প্রভাবিত হয় এবং মস্তিস্কের অতি সূক্ষ্ম কৌশিক জালিকায় রক্ত প্রবাহিত হয়। শরীরের সর্বত্র রক্ত প্রবাহিত হওয়ার অর্থ সুস্থ দেহের পূর্ব শর্ত। সেজদাবনত অবস্থায় আল্লাহপাকের তছবীহ পড়া হয়। আর দেহের অভ্যন্তরে ঘটে স্নায়ু-গঠিত প্রতিক্রিয়া। যেমন শব্দ কিংবা আলোর মত যেসব মাধ্যম বাইরের পরিবেশের খবর আমাদের জানায় তাদের বলা হয় উদ্দীপক (stimulus)। চোখ, কান, নাক, ত্বক এরা উদ্দীপকের Receptor বা গ্রাহকের কাজ করে। চোখ দিয়ে আমরা দেখি, কান দিয়ে শুনি, নাকের সাহায্যে গন্ধ নিই এবং ত্বকের সাহায্যে অনুভব করি। এসব গ্রাহক থেকে খবর সেন্সরি নার্ভ (sensory nerve) দিয়ে পৌছে যায় কেন্দ্রীয় নার্ভ তন্ত্রে, অর্থাৎ মস্তিস্কে। কেন্দ্রীয় নার্ভতন্ত্রের সংকেত মোটর নার্ভ (motor nerve) দ্বারা ফেরৎ আসে ইফেক্টর অর্গানে (effector organ)। অর্থাৎ শরীরের যে অংশে প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে সে অংশে উদ্দীপকের মাধ্যমে গ্রাহক, খবর সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় নার্ভ তন্ত্রে পাঠানো এবং কেন্দ্রীয় নার্ভ তন্ত্রের নির্দেশে চোখে দেখা, কানে শুনা এবং ত্বকে অনুভব করার কাজ চলে। নামাজের মধ্যে মনের একাগ্রতা এক আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ থাকে যার দরুন বাইরের পরিবেশ থেকে উদ্গত উদ্দীপনা নামাজীর স্নায়ু তন্ত্রে ক্ষতিকর আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে না।
বৈঠকঃ নামাজ শেষ করার জন্য ডান পা খাড়া রেখে এবং বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসে নির্দিষ্ট দোয়া-দরূদ পাঠ করতে হয়। এর নাম শেষ বৈঠক। বিশ্ব নবী জনাবে মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর যেমন দরূদ পাঠ করতে হয়, তেমনি মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তাঁর পরিবার-পরিজনদের প্রতিও দরূদ পাঠ করতে হয়। এ সময় ডান পায়ের আঙুলগুলি পশ্চিম দিকে বক্র করে রাখা হয়। হাত দু'টি দু'উরুর উপর থাকে এবং দৃষ্টি থাকে কোলের দিকে। আর এতক্ষণ কিয়াম এবং সেজদা করার ফলে দেহের যে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় হয়েছে শেষ বৈঠকের সময় তা তৈরী হয়। এ সময় অক্সিজেনের সাহায্যে বেশী গ্লুকোজ দহন করে শক্তি উৎপাদন হতে থাকে। তখন বাড়তি অক্সিজেন জোগানোর জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যায়। অক্সিজেনকে বয়ে নিয়ে কোষে পৌছে দেয়ার দায়িত্ব রক্তের লোহিত রক্ত কণিকা হিমোগ্লোবিনের। হিমোগ্লোবিনের সংখ্যা নির্দিষ্ট হওয়ায় কিছুক্ষণ পরে রক্তের আর অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা থাকে না। যতক্ষণ অক্সিজেনের সঙ্গে খাদ্য দহন করে শক্তি তৈরীর কাজ চলে ততক্ষণ এ পদ্ধতিকে বলে সবাত শ্বসন (aerobic respiration)। শরীর যখন আর অক্সিজেন নিতে পারে না তখন শুরু হয় অবাত শ্বসন (anaerobic respiration)। সবাত শ্বসনের সময় গ্লাইকোলিসিস (glycolysis) পদ্ধতিতে গ্লুকোজ ভেঙ্গে পাইরুভিক এসিড তৈরী হয়। অক্সিজেনের সাহায্যে এ পাইরুভিক এসিড বিপাক পদ্ধতির সাহায্যে পানি (H₂O) আর কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) তৈরী করে। সেই সঙ্গে তৈরী হয় শক্তি।
অতএব, যারা নিয়মিত দিনে পাঁচবার নামাজ আদায় করেন, তারা আল্লাহপাককে সেজদা করতে গিয়ে বিরাট দৈহিক কল্যাণ লাভ করে থাকেন, তা অনেকেই অনুধাবন করতে পারেন না। এ নামাজের ভেতরে এমন শারীরিক কল্যাণ নিহিত আছে, যা বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উন্নয়নের ফলে এখন স্পষ্ট হয়েছে। কিন্তু নামাজ পড়তে হবে একমাত্র আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে। কেউ যদি শারীরিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়েন তাহলে তার নামাজ আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করবেন না। কেননা নামাজ আদায়ের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে সেজদা করতে গিয়ে দৈহিক কল্যাণ সাধিত হয়, যাকে বলা হয় একের ভিতর অনেক। এভাবে দেখা যায় আল্লাহ প্রদত্ত সকল বিধি-বিধান আমরা পালন করি তার আনুগত্য করার জন্য। এসব বিধানের মধ্যে যে কল্যাণ ও উপকার রয়েছে তা ঈমানদার-জ্ঞানী লোকেরাই বুঝতে পারেন, সেজন্য পরম হিতৈষী আল্লাহ তাআলা নামাজী লোকদের সুসংবাদ জানিয়ে দিয়েছেন। অধিকন্তু তাদের জন্য পরকালীন প্রতিদান তো আছেই।
واقيموا الصلوة وبشر المؤمنين.
And be steadfast in prayer and give Glad Tidings to those who believe.
নামাজের প্রতি একনিষ্ঠ হও আর বিশ্বাস স্থাপনকারীদের সুসংবাদ দান কর। (ইউনুস-৮৭)
📄 সালাতের রাজনৈতিক বিভাগ
সালাতের রাজনৈতিক বিভাগ
মহানবী (সাঃ) বলেছেন,
الصلوة عماد الدين فمن اقامها فقد اقام الدين ومن تركها فقد هدم الدين.
সালাত হচ্ছে দ্বীনের স্তম্ভ। যে ব্যক্তি সালাত কায়েম করে, সে দ্বীনকে কায়েম করে, আর যে ব্যক্তি সালাত পরিত্যাগ করে, সে দ্বীনকে পরিত্যাগ করে। (বুখারী, মুসলিম)
বিশাল একটি ভবন যেমন স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি গোটা দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকে নামাজের উপর। স্তম্ভবিহীন প্রাসাদ যেমন স্থায়ী হয় না, তেমনি নামাজবিহীন দ্বীন কল্পনাও করা যায় না। দ্বীন এমন এক জীবন ব্যবস্থার নাম যা আল্লাহপাক কর্তৃক মনোনীত এবং এ জীবন ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, বিচার নীতি এবং আন্তর্জাতিক নীতি বিধৃত আছে।
রাষ্ট্র বিজ্ঞানে বলা হয়েছে, একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য চারটি শর্ত প্রয়োজন:
১. নির্দিষ্ট একটি ভূ-খণ্ড।
২. সেই ভূ-খণ্ডের স্বাধীন সার্বভৌমত্ব।
৩. কিছু জনসাধারণ।
৪. এবং একটি নির্বাচিত সরকার।
এ চারটি শর্ত পরিপূর্ণ হলেই একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠিত হয়। নামাজের মধ্যে এ চারটি শর্ত এঁটে দেওয়া হয়েছে। তা কীভাবে এঁটে দেওয়া হয়েছে, যেমন নামাজ আদায়ের জন্য প্রয়োজন:
১. একটি নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ড।
এটি চার দেওয়াল বিশিষ্ট হতে পারে অথবা উন্মুক্তও হতে পারে, যাকে আমরা মসজিদ বলি। (আবার অখণ্ড ভূমির গোটা পৃথিবীও আল্লাহর মসজিদ)
২. ভূ-খণ্ডটি স্বাধীন সার্বভৌম।
কেউ মসজিদের জন্য জমি দান করলে, দান করার সাথে সাথে তার মালিকানা বাতিল হয়ে যায়। এর মালিক হন আল্লাহ এবং এটি সবার জন্য অবারিত থাকে। (আবার অখণ্ড ভূমির পৃথিবী সকল নামাজীর জন্য অবারিত)
৩. কিছু জনসাধারণ:
মসজিদ রাষ্ট্রের জনসাধারণ হচ্ছে মুসল্লীবৃন্দ।
৪. এবং একটি নির্বাচিত সরকার:
মসজিদ রাষ্ট্রের সরকার গঠিত হয় খতিব, পেশ ইমাম, মুয়াজ্জিন, মুতাওয়াল্লী ইত্যাদি ব্যক্তিদের নিয়ে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার যদি ভুল-ভ্রান্তি করে, জনগণ তার প্রতিবাদ করার অধিকার রাখে। অর্থাৎ সরকারের ভুল নীতির প্রতিবাদ করার সুযোগ পায় জনগণ।
মসজিদের প্রেসিডেন্ট (ইমাম) নামাজে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় যদি আল্লাহর আয়াত ভুল পাঠ করেন কিংবা ১৩টি ফরজ অথবা ১৪টি ওয়াজিবের মধ্যে যে কোনো একটি লঙ্ঘন করেন, তখন পিছন দিক থেকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে। অর্থাৎ আমাদের প্রভু নির্ভুল, অতি উচ্চ মহান। ইমাম সাহেব, আপনার ভুল সংশোধন করেন।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার যদি স্বৈরনীতি অবলম্বন করে, অর্থাৎ জনগণের প্রতিবাদ পরামর্শ কর্ণপাত না করে, স্বৈরাচারী (Autocracy) ভূমিকায় রাষ্ট্র পরিচালনা করে, তখন গণ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
কী অনুপম গণতন্ত্র আল্লাহপাক নামাজের মধ্যে বেঁধে দিয়েছেন, যা অন্য কোনো জীবন ব্যবস্থায় পাওয়া যাবে না! তাই ইসলামী সরকারের জন্য কোরআন মজীদে যে চার দফা কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে, তার প্রথম দফা হচ্ছে নামাজ।
الذين أن مكنهم في الأرض أقاموا الصلوة وآتوا الزكوة وأمروا بالمعروف ونهوا عن المنكر.
আমার মু'মিন বান্দারা এমন, যখন আমরা পৃথিবীতে তাদেরকে ক্ষমতা দান করি (তারা যখন কোনো দেশে ক্ষমতাসীন হয়), তখন তারা চার দফা কাজ সম্পাদন করে। প্রথম দফায় নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, দ্বিতীয় দফায় যাকাত আদায় করে, তৃতীয় দফায় সৎ কাজের আদেশ করে এবং চতুর্থ দফায় অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে। (হজ্ব-৪১)
রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করার পর ইসলামী সরকারের প্রথম কাজ হচ্ছে নামাজ প্রতিষ্ঠা করা। নামাজ ব্যতীত একটি রাষ্ট্রে শান্তি, সন্ধি, নিরাপত্তা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। নামাজ যেমন গণতন্ত্রের গ্যারান্টি, তেমনি স্বাধীনতারও গ্যারান্টি।
তাই আমীরুল মু'মিনীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) খেলাফতের দায়িত্ব লাভ করার পর সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি নামাজ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে পত্র লিখে পাঠান।
ان عمر بن الخطاب رضى الله عنه كتب الى عماله أن أهم أمركم عندي الصلوة فمن حفظها وحفظ عليها حفظ دينه ومن ضيعها فهو لما سواها اضيع.
হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তার খেলাফতের সময় কর্মকর্তাদের প্রতি এ মর্মে লিখে পাঠান যে, তোমাদের যাবতীয় কাজের মধ্যে আমার নিকট সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নামাজ কায়েম করা। যে ব্যক্তি নামাজকে রক্ষা করে ও তা সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করে, সে তার দ্বীনকে রক্ষা করে। আর যে ব্যক্তি নামাজ বিনষ্ট করে, সে নামাজ ছাড়াও অন্যান্য সব আদর্শ নষ্ট করে। (মুয়াত্তা মালিক)
📄 সমাজ জীবনে সালাতের প্রভাব
সমাজ জীবনে সালাতের প্রভাব
إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ Surely The Salat restrains from shameful and unjust deeds.
নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। (আনকাবুত-৪৫)
মানুষ সমাজ প্রিয় জীব। সমাজবদ্ধ জীবন যাপন মানুষের একটি সহজাত প্রবণতা। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নিবেদিত সমাজবিদরা নানারকম পথ আর মত অবলম্বন করে থাকেন। তারপরেও নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, বিপর্যয়, অন্যায়-অসত্য এবং অশ্লীলতায় গোটা সমাজ আকণ্ঠ নিমজ্জিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম সামাজিক বিপর্যয়ের সাথে একাকার হয়ে বসবাস করছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাস্তানি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব নেতিবাচক প্রবণতার শিকার হয়ে যুব সমাজ তিমির দিগন্তে হারিয়ে যাচ্ছে। ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, আলো-আঁধার পার্থক্য করার বোধশক্তি এখন তাদের নেই বললেই চলে। কিন্তু এ সর্বগ্রাসী বিপর্যয় থেকে ফেরার পথ আছে কি?
ইসলামে নামাজ এমন শক্তিশালী বিধান যা অন্যায়, অসত্য এবং অশ্লীলতা থেকে বের করে এনে খাঁটি সোনার সুপ্রিয় মানুষ বানিয়ে দেয়। এ প্রসঙ্গে একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করলে ব্যাপারটি উপলব্ধি করা সহজ হবে।
বাগদাদ শহরের একটি মসজিদের পেশ ইমাম, তাঁর স্ত্রী ছিল অত্যন্ত সুন্দরী, রূপসী এবং সুনয়নী। স্থানীয় এক দুর্দান্ত মাস্তান যুবক হঠাৎ একদিন ইমাম সাহেবের স্ত্রীকে দেখে তার প্রতি ভীষণ আসক্ত হয়ে পড়ে এবং এরপর রীতিমতো তাকে বিরক্ত করতে থাকে।
একদিন ইমাম সাহেবের বাড়িতে প্রবেশ করে যুবক বলল,
হে সুন্দরী মহিলা, আমি ইতিমধ্যে তোমার প্রতি খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছি। তাই আমার কামনা চরিতার্থ করার জন্য প্রস্তাব দিচ্ছি। তুমি কি আমার প্রস্তাবে রাজি?
মাস্তান যুবকের প্রস্তাব মহিলা নীরবে শুনলেন এবং ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গেলেন। রাতে যখন স্বামী ঘরে ফিরলেন, যুবকের প্রস্তাবিত কথাগুলো তার কাছে বর্ণনা করলেন। ইমাম সাহেব বললেন, তুমি রাজি হয়ে যাও। তবে একটি শর্তে। যদি সে একটানা চল্লিশ দিন আমার মসজিদে জামাআত সহকারে নামাজ আদায় করে এবং এ শর্ত আগে পূরণ করে, তাহলে তুমি বলবে, আমি রাজি।
পরের দিন যুবক এসে জিজ্ঞেস করল, আমার প্রস্তাবের সম্মতি পাব কি?
মহিলা বললেন, একটি শর্তের ভিত্তিতে আমি তোমার প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারি। শর্তটি হচ্ছে কোন বিরতি না দিয়ে একটানা চল্লিশ দিন আমার স্বামীর মসজিদে জামাআত সহকারে নামাজ আদায় করতে হবে। তারপর আমার কাছে আসবে।
যুবক বলল, এটা তো অতি সহজ শর্ত। এর চেয়েও কঠিন শর্ত দিলে আমি মেনে নিতাম।
এবার যুবক পাক পবিত্র সুন্দর পোশাক পরিধান করে নামাজ পড়তে লাগলো। ইমাম সাহেব মুনাজাত করে বললেন, হে আল্লাহ তাআলা 'এক পথহারা যুবককে তোমার দরবারে এনেছি। এখন পথ প্রদর্শন করার মালিক তুমি।'
যুবক শর্ত মোতাবেক জামাআত সহকারে নামাজ আদায় করে যাচ্ছে। ফজরের পর জোহরের অপেক্ষা করে। জোহরের পর আছর। এরপর মাগরিব। এরপর এশা। কোন বিরতি নেই নামাজে। এভাবে চল্লিশ দিন পার হয়ে গেল।
অতঃপর এ যুবক ইমাম সাহেবকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠলো এবং বলল: আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি অন্ধকার পথে বিভ্রান্ত হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। আল্লাহপাক আমাকে আলোর পথ দান করেছেন। সুপথ দান করেছেন। আমাকে দয়া করে মাফ করে দিন।
এবার ইমাম সাহেব যুবককে নিয়ে মুনাজাত ধরলেন:
رَبَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَّابُ.
Our Lord, let not our hearts deviate after you have guided us, and grant us mercy from You. Truly you are the granter of Bounties without measure.
হে খোদা পরওয়ারদেগার! সুপথ প্রদর্শন করার পর আমাদের অন্তরকে আর বক্র করে দিও না। আর আপনার নিকট থেকে আমাদেরকে করুণা দান করুন। কারণ আপনি অসীম করুণার আধার। (ইমরান-৮)
اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ.
Recite what is sent of the Book by revelation to you and establish regular salat, for salat restrains from shameful and unjust deeds.
(হে মুহাম্মদ) আপনার প্রতি যে গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি তা পাঠ করুন এবং সালাত কায়েম করুন। কেননা সালাত অশ্লীল এবং অশোভন কাজ থেকে বিরত রাখে। (আনকাবুত-৪৫)
অতএব, সালাত এমন একটি শক্তিশালী রুকন যা মানুষকে অন্যায়, অসত্য এবং অশোভন কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে। গহীন অন্ধকার থেকে বের করে উদ্ভাসিত আলোর দিকে ধাবিত করে। যদি সালাত অন্যায়, অবিচার এবং অশ্লীল কাজ থেকে কোন নামাজীকে বিরত করেনি, তাহলে বুঝতে হবে তার নামাজ লোক দেখানো নামাজ। এ নামাজ আল্লাহর দরবারে কবুল হচ্ছে না। নামাজীর পরিধানের কাপড় যদি হালাল টাকায় কেনা না হয়, নামাজী দৈনন্দিন যে খাবার গ্রহণ করে তা যদি হালাল টাকায় ক্রয় করা না হয়, নামাজী যদি পরের হক ঠিকভাবে ফেরত না দেয়, নামাজীর ঘরের মা-বোনেরা যদি পর্দা মেনে না চলে, নামাজী যদি পিতা-মাতার অবাধ্য হয়, নামাজীর উপর যাকাত ফরজ কিন্তু যাকাত হিসাব করে আদায় করে না। তাহলে কেমন করে এ ধরনের নামাজীর নামাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে? যখন সালাত আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করেন না তখন সালাত আদায় করা সত্ত্বেও কোন কোন নামাজী অন্যায়, অসত্য থেকে ফিরে আসে না।
📄 সালাতের চিরন্তন শিক্ষা
সালাতের চিরন্তন শিক্ষা
মুসলমানদের জীবনে নামাজের শিক্ষা সুপ্রসারী কল্যাণে পরিব্যাপ্ত। নামাজের শিক্ষাগুলি যখন একজন মানুষের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তার পার্থিব জীবন সফলতার শীর্ষে উপনীত হয়। এ সফলতা দ্বারা আর্থিক উন্নতিকে বুঝানো হয় না। এ সফলতা হচ্ছে চরিত্রের সফলতা, আত্মার সফলতা এবং পরকালের অনন্ত জীবনে পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের সফলতা। নামাজের শিক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে: পবিত্রতা, আল্লাহর নৈকট্য লাভ, নিয়মানুবর্তিতা, সময়নিষ্ঠা, উদারতা, শিষ্টাচার, বিনয়-নম্রতা, সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, জামাআতবদ্ধ জীবন এবং গণতন্ত্র।
পবিত্রতা
নামাজ আদায় করার জন্য পবিত্রতা অপরিহার্য। অবশ্যই ইসলামী জীবনে মুসলমানদেরকে সর্বদা পবিত্র থাকতে হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ পবিত্রতা বলতে বুঝে শরীর কিংবা পোশাকে যখন কাদামাটি, মল-মূত্র এবং অন্যান্য নাপাকী জিনিস লাগে তখন পানি দ্বারা তা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নেয়ার নাম পবিত্রতা। প্রকৃতপক্ষে ইসলামে পবিত্রতা বা তাহারাত বলতে শরীর, পোশাক, মন-মস্তিষ্ক তথা সমগ্র ব্যক্তি সত্তাকে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ও মলিনতা থেকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখাকে বুঝানো হয়। শরীর ও পোশাক-পরিচ্ছদের অপবিত্রতার অর্থ এমন মলিনতা, যা অনুভব করা যায় এবং রুচি প্রকৃতির কাছে অশোভনীয় মনে হয়। আর মন-মস্তিষ্কের অপবিত্রতার অর্থ শিরক, কুফর তথা ইসলাম সমর্থিত নয় এমন মতাদর্শ যেমন, ধর্মনিরপেক্ষবাদ, সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ ইত্যাদি গ্রহণ এবং চরিত্রের উপর তার প্রতিফলন। এসব ভ্রান্ত মতবাদ ধারণ করে যদি কেউ ওজু গোসল করেও নামাজে দাঁড়ায় তাঁর নামাজ ত্রুটি মুক্ত হবে না। যেহেতু সে মন-মস্তিষ্কের পবিত্রতা অর্জন করেনি। তাই আল-কোরআন বলছে,
وَثِيَابَكَ فَطَهِّرُ
And keep free from stain yourself.
নিজেকে পাক পবিত্র ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। (মুদ্দাচ্ছির-৪)
এখানে ‘সিয়াব’ বলতে শুধু পোশাক পরিচ্ছদকে বুঝানো হয়নি। পোশাক, মন-মস্তিষ্ক তথা সমগ্র ব্যক্তিসত্তাকে বুঝানো হয়েছে। এসবের পবিত্রতা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের পূর্বশর্ত। তাই পবিত্রতার গুরুত্বকে সামনে রেখে আল-কোরআন বলছে,
وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ.
And Allah loves those who make themselves pure.
পবিত্রতা অর্জনকারী লোকদের আল্লাহ খুব ভালবাসেন। (তাওবা-১০৩)
إِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ.
Verily Allah loves those who turn to Him constantly and He loves those who keep themselves pure and clean.
নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং নিজেদেরকে পাক-পবিত্র রাখে আল্লাহ তাদেরকে অতিশয় ভালবাসেন। (বাকারা-২২২)
নবী (সাঃ) বলেছেনঃ
الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيْمَانِ.
Abu Malik Ashari reported that cleanliness is half of faith.
পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।
ওজু
নামাজ আদায়ের পূর্বশর্ত হিসেবে শরীর, পোশাক এবং মন-মস্তিষ্কের পরিচ্ছন্নতা অর্জনের পর ওজু করা ফরজ। পোশাকের বাইরে যেসব অঙ্গ (হাত, পা, মুখমন্ডল ও মাথা) উন্মুক্ত থাকে তা মহানবী (সাঃ) কর্তৃক প্রবর্তিত নিয়মে পানি দ্বারা ধুয়ে-মুছে ফেলার নাম ওজু। ওজু করার পর যেমন সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহপাককে সেজদা করা যায় তেমনি বাতাসে বিরাজমান ধুলাবালি, গ্যাসীয় পদার্থ এবং ভাইরাস থেকে স্বাস্থ্য রক্ষা পায়। এর মহত্ব, গুরুত্ব এবং অপরিহার্যতা কত অধিক তা উপলব্ধি করা যায় কোরআনের একটি আয়াত থেকে যেখানে এর বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلُوةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
O My believers! when you prepare for salat, wash your faces and hands upto the elbows, rub your heads and wash your feet upto the ankles.
হে ঈমানদার লোকেরা, যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেবে তার পূর্বে নিজেদের মুখমন্ডল ধুয়ে নেবে এবং দু'হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নেবে এবং মাথা মুসেহ করবে এবং দু'পা টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে ফেলবে। (মায়েদা-৬)
মুখমন্ডল ধৌতকরণ (Washing faces): দেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে মুখ মন্ডল ও হস্তদ্বয়কে অধিক সময় উন্মুক্ত রাখতে হয়। তাই ঐগুলো ধূলাবালি ও ক্ষতিকর রোগ-জীবাণুর মাধ্যমে সহজেই আক্রান্ত হয়ে থাকে। মানুষের দেহের চামড়ায় সবসময় Staplylococci, Streptococci, E. Coli ইত্যাদি রোগ জীবাণু আশ্রয় নেয়। এ জীবাণুগুলো আমাদের মুখের লালাগ্রন্থি ও চুলের গোড়ায়ও আশ্রয় নিয়ে থাকে। আঙ্গুলের সাহায্যে এসব জীবাণু শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। অপরিষ্কার হাতের কারণে খাদ্য ও পানীয় দূষিত হতে পারে। হাত দু'টি সংশ্লিষ্ট জোড়াসন্ধি পর্যন্ত ধোয়ার পর মুখমন্ডল ধৌতকরণের ফলে রোগ সংক্রমণ বহুলাংশে ঘটতে পারে না এবং রোগের ক্ষতিকারক কার্যকারিতা থেকে মুখমন্ডলের চামড়া রক্ষা পায়। মুখমন্ডল ধৌতকরণের ফলে চোখের ভ্রূ, নেত্র-লোম, গোঁফ ও দাড়ি ঘন ঘন ধৌতকরণ হয়ে যায়। সুতরাং নামাজের আগে ওজুর মাধ্যমে ধৌতকরণের বিধান নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যপ্রদ এবং বিজ্ঞানসম্মত এবং এটি ওজুর প্রথম ফরজ।
কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌতকরণ (Washing hands upto the elbows): দুই হাত সব সময়ের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তাই হাত অপরিষ্কার, অপবিত্র ও ধুলাবালি দ্বারা দূষিত হয়। সারাদিন পাঁচবার নামাজের পূর্বে হাত দু'টি কনুই পর্যন্ত ধৌত হয় বলে ঐগুলো পরিষ্কার ও পবিত্রতা লাভ করে এবং হাতের চামড়ার মধ্য দিয়ে রোগ সংক্রমণের বিপদ অনেকাংশে কমে যায়। এটা ওজুর দ্বিতীয় ফরজ।
মাথা মুসেহ (To rub the Head): ওজু করার সময় মাথা মুসেহ করা তৃতীয় ফরজ। হাত দিয়ে মাথার চুলের উপর হালকাভাবে মুসেহ করতে হয়। এর ফলে মাথার চুলে ময়লা, ধূলাবালি এবং রোগ জীবাণু জমার সুযোগ থাকে না। ভেজা হাতে হালকা ধরনের ঘর্ষণ বা মুসেহ এবং গর্দান ঘর্ষণ হচ্ছে নবীজীর (সাঃ) সুন্নত এবং এটা স্বাস্থ্যসম্মত।
পা ধৌতকরণ (Washing feet upto ankles): ওজুর চতুর্থ ফরজ হলো দুই পা সংশ্লিষ্ট জোড়া-সন্ধি পর্যন্ত ভালভাবে ধুয়ে-মুছে ফেলা। পায়ে অনেক ধরনের কাদা-মাটি, ধূলাবালি এবং দূষিত পদার্থ জমার সুযোগ থাকে। এর ফলে পায়ের চামড়ায় অনেক সময় নানা রকম রোগ সংক্রমিত হয়। দৈনিক পাঁচবার ভালভাবে পা দু'টি ধৌত হলে চামড়ার মধ্য দিয়ে রোগ-সংক্রমণের প্রবণতা বহুলাংশে কমে যায়। এটা স্বাস্থ্যবিধি দ্বারা প্রমাণিত।
আল্লাহর নৈকট্য লাভ
মহান আল্লাহ শাশ্বত চিরন্তন সত্তা। তাঁর অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায়। কিন্তু তাকে দেখা অসাধ্য। হযরত মুছা (আঃ) খোদা তাআলার একটুখানি আলোর ঝলক দর্শন করে বেহুশ হয়ে গিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহপাক আরশ আজীমে সমাসীন এবং গোটা সৃষ্টির উপর এ আরশ প্রতিষ্ঠিত। আর সমগ্র সৃষ্টি তাঁর দৃষ্টি সীমায় নিবদ্ধ। অবশ্যই যারা নিয়মিত নামাজ আদায় করে তাদের সাথে আল্লাহ তাআলার একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা অন্য কোন ইবাদতের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তবে শর্ত এ যে, নামাজীর মনে যেন এ সম্পর্কের অনুভূতি জাগ্রত থাকে। তার অন্তরে আল্লাহর নৈকট্যের কামনা এতটা গভীর হবে যেন সে আল্লাহকে দেখছে। তাই আল্লাহ তাআলা বলছেন,
And fall prostrate and draw near to Allah.
আর আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর নিকটবর্তী হয়ে যাও। (আ'লাক-১৯)
নিয়মানুবর্তিতা
নিয়মানুবর্তিতা মানুষের জন্য এক অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে- "Practice makes a man perfect" অর্থাৎ অভ্যাস মানুষকে পূর্ণতা দান করে। দৈনন্দিন জীবনে আমাদেরকে অনেকগুলো নিয়ম চর্চা করতে হয়। যেমন, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম যাওয়া, ঘুম থেকে জাগা, স্কুল, কলেজ, অফিস কিংবা কাজ-কারবারে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা। এসব ক্ষেত্রে নিয়মের যখন ব্যতিক্রম করা হয় তখন একটি অবধারিত বিশৃঙ্খলা সর্বব্যাপী বয়ে যায়। তবে দৈনন্দিন জীবনে নিয়মগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রশিক্ষণ একটি পূর্ব শর্ত।
নামাজ মুসলমানদেরকে নিয়ম-শৃঙ্খলার প্রশিক্ষণ দান করে যেমন নির্দিষ্ট নিয়মে নামাজ আদায় করতে হয়। এ নিয়মগুলো হচ্ছে নামাজের জন্য নিয়ম অনুযায়ী ওজু করা, কিবলামুখী হয়ে নামাজ পড়া, কিয়াম, রুকু, সিজদা নিয়ম মোতাবেক পেশ করা, জামাআতবদ্ধ নামাজে ইমামকে অনুসরণ করা ইত্যাদি। এভাবে নিয়মিত নামাজ পড়লে এবং নামাজের নিয়ম-শৃঙ্খলার মেনে চললে, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় যে কোন নিয়ম-কানুন মেনে চলার অভ্যাস মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়।
সময়নিষ্ঠা
সময় এক অমূল্য সম্পদ। যে ব্যক্তি সময়ের মূল্য উপলব্ধি করেছে সে সফলকাম হয়েছে। পার্থিব যে কোন কর্ম সম্পাদন সময়ের সাথে সংঘটিত হয়। স্কুল, কলেজ, অফিস আদালত সবকিছু সময়ের নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যে পরিচালিত হয়। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে যাবতীয় কর্মকান্ড সময়ের উপর ভিত্তি করে সংগঠিত হয় বলে সময়ের প্রতি নিষ্ঠাবান হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
নামাজ মুসলমানদেরকে সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করার শিক্ষা দেয়। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পাঁচটি নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করতে হয়। তাই ঐ পাঁচটি নির্ধারিত সময় সম্পর্কে প্রত্যেক নামাজী অত্যন্ত সজাগ থাকেন এবং এভাবে সময়ের মূল্য উপলব্ধি করার মানসিকতা গড়ে ওঠে।
فَأَقِيمُوا الصَّلوةَ إِنَّ الصَّلوةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا
So, perform the Salat (regular prayers), surely the Salat are enjoined on believers at stated times.
অতএব, নামাজ কায়েম কর। বস্তুতঃ নামাজ মু’মিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়নিষ্ঠার সাথে ফরজ করা হয়েছে। (নিসা-১০৩)
নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করাকে নবীজি (সাঃ) সর্বোত্তম আমল হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ قَالَ الصَّلُوةُ عَلَى مِيقَاتِهَا ثُمَّ قَالَ بِرِّ الْوَالِدَيْنِ ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ.
Abdullah Bin Mas'ud (R.A) says that he asked the Holy prophet (S.A.W) which action is the best with Allah the Almighty? He answared, 'performing the Salat in time'. I asked thereafter 'He said, 'Good treatment of parents'. I submitted, 'Then which next?' He said, 'Al-Jihad in the way of Allah'.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রাঃ) বলেন, আমি নবীজিকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, সর্বোত্তম আমল কোনটি? নবীজি (সাঃ) বললেন, ঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা তারপর কোনটি? পিতামাতার সেবা করা। তারপর কোনটি? আল্লাহর পথে জিহাদ করা। (বুখারী)
আর এক হাদীসে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, সর্বোৎকৃষ্ট বান্দাহ তারাই যারা সূর্যের আলো এবং চাঁদ ও তারকারাজির গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকে যাতে নামাজের সময় বয়ে না যায়। (মুস্তাদরাকে হাকেম)
উদারতা
উদারতা মানুষের এক মহৎ গুণ। উদার প্রকৃতির মানুষ পার্থিব জীবনে সফলতা লাভ করে। এ সফলতা অন্তরে, বাইরে যখন প্রতিভাত হয় তখন সে মানুষের প্রতি অত্যন্ত দয়া ও সহানুভূতি প্রকাশ করে। নামাজ মানুষের মধ্যে অসাধারণ উদারতা সৃষ্টি করে। তার পাশের নামাজীকে জায়গাটা প্রশস্ত করে দেয়, যেন তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারেন। একে অপরের সাথে মিশে একাকার হয়ে দাঁড়ান। কেউ কারো প্রতি ঈর্ষা প্রদর্শন করেন না। নামাজের জামাআতের এ দৃশ্য তখন উদার মহিমায় ভাস্বর হয়ে ওঠে।
শিষ্টাচার
মানুষের সকল নৈতিক গুণের মধ্যে শিষ্টাচার অন্যতম একটি গুণ। এ গুণ নামাজ থেকে অর্জন করা যায়। যেমন নামাজের জন্য যখন আমরা মসজিদে যাই। সেখানে প্রাসঙ্গিক সৌজন্যতা বজায় রাখার নিমিত্তে মুরুব্বী, জ্ঞানী এবং বয়সী লোকদের আমরা সামনের কাতারে এগিয়ে দিই। ব্যক্তিগত এবং অমার্জিত কথা কিংবা শব্দ উচ্চারণ থেকে বিরত থাকি। সময়ানুবর্তিতাকে প্রাধান্য দিয়ে অপেক্ষা করি ইকামাতের জন্য। এরপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ইমামের কমান্ড অনুসরণ করি। এভাবে নিয়মিত নামাজ আদায় করার অভ্যাস থেকে নামাজীর ব্যক্তিগত জীবনে শিষ্টাচারের মহত্ব ও আদর্শ পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَواتِ وَالصَّلُوةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ
Guard strictly your regular prayers, especially the middle prayer and stand before Allah in a devout (frame of mind).
নামাজ সংরক্ষণ কর বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজ এবং আল্লাহর সামনে শিষ্টাচার ও আত্মসমর্পণের মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়াও। (বাকারা-২৩৮)
وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَالصَّبِرِينَ عَلَى مَا أَصَابَهُمْ وَالْمُقِيمِي الصَّلوةِ
And give good news to those who humble themselves, whose hearts are thrilled with fear when Allah is mentioned, who show patient perseverance over their afflictions, keep up regular salat.
এবং আর সুসংবাদ দিন সেই সব লোকদেরকে যারা বিনয় শিষ্টাচার অবলম্বন করে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর ভয়ে কেঁপে ওঠে, বিপদে ধৈর্য্যধারণ করে এবং নামাজ সংরক্ষণ করে। (হজ্ব-৩৪-৩৫)
বিনয়-নম্রতা
নম্রতা নামাজের জন্য অপরিহার্য শর্ত। যে নামাজে বিনয় নম্রতা নেই তা প্রকৃত নামাজ নয়। একজন অনুগত গোলামের মত অতিশয় কোমল এবং আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসাবে আল্লাহর দরবারে দাঁড়াতে হবে। যেন অন্তর আল্লাহর মহত্ব ও পরাক্রমে প্রকম্পিত হতে থাকে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে যেন বিনয় নম্রতার ছাপ ফুটে ওঠে। কোরআনে 'খুশু' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যার অর্থ ছোট হওয়া, দমে যাওয়া, নম্রতার সাথে ঝুঁকে পড়া। নামাজে এ খুশু অবলম্বন করার অর্থ এ যে শরীর মন-মস্তিষ্ক সব কিছু আল্লাহর সামনে দমিত করে অবনত হওয়া। মনের মধ্যে আল্লাহ শ্রেষ্ঠত্ব এবং ভয় এমনভাবে সঞ্চারিত হবে যেন মন্দ আবেগ, অনুরাগ ও অবাঞ্চিত চিন্তা-ভাবনা আসতে না পারে। নামাজের এ বিনয় নম্রতা থেকে এমন এক অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ হবে নামাজীর ব্যক্তি জীবনে, সামাজিক জীবনে এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে, যা শৈল চূড়ার বরফের মত শুভ্র হয়ে ফুটে ওঠবে।
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ.
The believers must win through, those who humble themselves in their salat.
সেই সব মু'মিন নিশ্চিত সফলতা লাভ করেছে যারা তাদের নামাজে বিনয় নম্রতা অবলম্বন করেছে। (মু'মিনূনঃ১-২)
সহনশীলতা
নামাজের মধ্যে কোন মুক্তাদী ইমামের ভুল সংশোধনের জন্য যখন লোকমা দেন তখন ইমাম সাহেব সহনশীলতার সাথে তা শুনেন এবং ভুল সংশোধন করে নেন। যদি সাহু সেজদায় সংশোধন যোগ্য ভুল হয় তবে সাহু সেজদা করে তা সংশোধন করেন। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য আর সহনশীলতা দৃষ্টান্ত স্বরূপ। এমনকি মুসল্লীদের মনে যদি ইমাম সাহেব সম্পর্কে কোন প্রশ্ন জাগে তবে ইমাম সাহেব ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে মুসল্লীদের প্রশ্ন শুনেন এবং তার জবাব দেন।
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায় যে, একদিন আমীরুল মু'মেনীন হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) মসজিদে ইমামতি করার জন্য দাঁড়িয়েছেন। একজন মুসল্লী উঠে প্রশ্ন করলেন, আমীরুল মু'মিনীন, রিলিফের কাপড় আমরা যা পেয়েছি তাতে জামা হয়নি। কিন্তু আপনার এত লম্বা জামা কি করে হলো? হযরত ওমর (রাঃ) ধৈর্য সহকারে শুনলেন এবং জবাব দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এমন সময় তাঁর ছেলে ওঠে বললেন, 'আমি যে কাপড়টুকু পেয়েছি তাও আব্বাকে দিয়েছি। তাই আব্বার জামা এত লম্বা হয়েছে।
আর একদিন হযরত ওমর (রাঃ) নামাজের জামাআতে নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেননি, একটু দেরীতে আসলেন। মুসল্লীগণ জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার আজ এতো বিলম্ব হলো কেন?" আমীরুল মু'মিনীন উত্তর দিলেন, আমার তো একটি মাত্র জামা। সেটা ধুয়ে শুকাতে দিয়েছিলাম। শুকাতে দেরী হওয়ায় আমার একটু বিলম্ব হয়েছে। তাই আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
সহনশীলতার এরূপ উদাহরণ কোথায় পাওয়া যাবে?
জামাআতবদ্ধ জীবন যাপন
নামাজ জামাআতবদ্ধ হয়ে পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জামাআত সহকারে নামাজ আদায় করার গুরুত্ব উপস্থাপন করতে গিয়ে নবীজি (সাঃ) বলেছেন,
لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَمْرَ بِالصَّلوةِ فَتُقَامَ ثُمَّ أَمْرَ رَجُلًا فَيَؤُمُ النَّاسَ ثُمَّ انْطَلِقُ مَعِى بِرِجَالٍ مَعَهُمْ خَزَمُ مِّنْ حَطَبٍ إِلَى قَوْمِ لَا يَشْهَدُونَ الصَّلوةَ فِي الْجَمَاعَةِ فَاحْرَقُ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ بِالنَّارِ.
আমার ইচ্ছা হয় এ নির্দেশ জারী করতে যে, এক ব্যক্তি ইমাম হয়ে নামাজ পড়া শুরু করুক, আর আমি লাকড়ি বহনকারী একদল সাথী সহ ঐসব লোকের ঘর বাড়ীতে গিয়ে আগুন লাগিয়ে দিই। যারা নামাজের জামাআতে উপস্থিত হয় না। (বুখারী, মুসলিম)
مَنْ سَمِعَ الْمُنَادِى بِالصَّلُوةِ فَلَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ اتَّبَاعِهِ عُذْرٌ قِيلَ وَمَا الْعُدْرُ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ خَوْفٌ أَوْ مَرَضٌ لَمْ تَقَبَّلْ مِنْهُ الصَّلَاةَ الَّتِي صَلَّى يَعْنِي فِي بَيْتِهِ.
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি জামাআতে নামাজের জন্য আজান শুনল এবং মুয়াজ্জিনের আহ্বানে সাড়া দিতে তার কোন ওযরও নেই, তথাপি সে জামাআতে নামাজের জন্য গেল না, একাকী নামাজ পড়ল, তাহলে সে নামাজ আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। প্রকৃত ওযর কি, এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, ভয় অথবা রোগ (আবু দাউদ)
উক্ত হাদীস দু'টি থেকে নামাজের জামাআতে উপস্থিত না হওয়ার পরিণতি সহজে উপলব্ধি করা যায়। এরূপ আরো অসংখ্য হাদীস রয়েছে যাতে জামাআতে নামাজ আদায়ের ফজীলত বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) সমস্ত মুসলমানদেরকে নামাজের জামাআতে উপস্থিত করে পার্থিব জীবনে ঐক্যবদ্ধ থাকার উপর জোর দিয়েছেন, যাতে করে ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলাম বিরোধী শক্তির প্রতিরোধ করা যায়।
وَأَقِيمُوا الصَّلوةَ وَأتُوا الزَّكَوةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ.
And be steadfast in Salat, practise regular charity and bow down your heads with those who bow down.
নামাজে একনিষ্ঠ হও, যাকাত আদায় কর এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু কর। (বাকারা-৪৩)
وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَوٰةَ.
(O Apostle) when you are with them and stand to lead them in Salat.
(হে নবী) যখন আপনি তাদের (মুসলমানদের) সাথে থাকবেন তখন আপনার নেতৃত্বে তাদের নামাজ পড়িয়ে দেবেন। (নিসা-১০২)
গণতন্ত্র
আমাদের সমাজে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনে যে সংকট বিরাজ করছে তা নৈতিক অধঃপতনের চূড়ান্ত বিপর্যয় বলা যায়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মারামারি, সন্ত্রাস, ভোট কেন্দ্র দখল, জোর করে গদি দখল, ভোট বেচা-কেনা প্রভৃতি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণতন্ত্রের নামে এসব কর্মকান্ড সমানে চলছে। কিন্তু নামাজ আমাদেরকে যে সুষ্ঠু নির্বাচন পদ্ধতি শিক্ষা দেয়, তা আর কোথাও দেখা যায় না। জামাআতের ইমাম নির্বাচনের বেলায় দেখতে হয় ইমামের ইলম, বিশুদ্ধ কেরাআত, পরহেজগারী, মুত্তাকী ও বয়স। দুই বা ততোধিক ইমাম উপস্থিত হয়েছেন এমতাবস্থায় যিনি সবচেয়ে বেশী জ্ঞানী, তিনিই ইমাম হবেন। এক্ষেত্রে যদি উপস্থিত ইমামগণ সবাই সমকক্ষ হন, তবে যিনি শুদ্ধরূপে কেরাআত পড়তে পারে, তিনি ইমাম হবেন। এখানেও যদি সমকক্ষ হন তবে যিনি অধিক পরহেজগার মুত্তাকী তিনি ইমাম হবেন। যদি তাতেও বরাবর হন, তবে যার বয়স বেশী, এখানেও সবাই সমান হলে সকলে মিলে যাকে নির্বাচন করবেন, তিনি ইমাম হবেন। ইমাম বা নেতা নির্বাচনের এ অবাধ ও স্বচ্ছ পদ্ধতি একমাত্র নামাজ আমাদের শিক্ষা দেয়। যদি সমাজে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের সময় নেতার চরিত্র, জ্ঞান, বয়স, পরহেজগারী, খোদাভীতি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য দেখে নেতা নির্বাচিত করা হয় তাহলে মারামারী, ভোট ডাকাতি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং গদি দখলের প্রবণতা বিলুপ্ত হতে বাধ্য।
অতএব, অশেষ কল্যাণে সমৃদ্ধ নামাজ মু'মিন লোকদের জন্য আল্লাহ তাআলা মেহেরবাণী করে দান করেছেন। তাই কোরআনের সর্বাধিক আলোচ্য বিষয় হচ্ছে নামাজ বা সালাত। সালাত হচ্ছে আল্লাহ ও মু'মিনদের মধ্যে একটি সেতু বন্ধন। মহান প্রভুর সাথে দৈনিক পাঁচ বার নামাজীরা কথা বার্তা বলেন। ফলে পরস্পরের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে। যারা নামাজ পড়ে না তারা এ বিরাট সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছেন।
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَقَامُوا الصَّلوةَ وَأَتُوا الزَّكُوةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ।
Those who believe and do deeds of righteousness and establish regular prayers and regular charity will have their reward with their Lord; on them shall be no fear, nor shall they grieve.
যারা ঈমান স্থাপন করেছে এবং সৎ কাজ করে, নামাজ কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে, তাদের পুরস্কার তাদের প্রভুর নিকট সংরক্ষিত আছে। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং দুঃখিত হওয়ার কোন কারণ নেই। (বাকারা-২৭৭)
إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلوةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكُوةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ।
Your real friends are Allah, His prophet and the believers, those who perform the Salat and give Zakat and bow down humbly.
তোমাদের প্রকৃত বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মু'মিনগণ। যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং আল্লাহর দরবারে অবনত হয় বিনয়-নম্রতার সাথে। (মায়েদা-৫৫)
الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلُوةَ وَمِمَّا رَزَقْنَهُمْ يُنْفِقُونَ।
(The believers are only those) who perform the Salat and spend out of that We have provided them.
যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে তারাই প্রকৃত মু'মিন। (আনফাল-৩)
إِنَّ الصَّلوةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا।
Indeed regular prayers are enjoined on believers at stated times.
নির্ধারিত সময়ে নামাজ কায়েম করা মু'মিনদের জন্য অবশ্যই কর্তব্য। (নিসা-১০৩)
يَٰبَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ।
O Children of Adam! Wear your beautiful apparel at every time and place of Salat, eat and drink; but waste not by excess. Indeed, Allah does not love the wasters at all.
হে আদম সন্তানরা! প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছদ পরিধান করবে আহার করবে পান করবে কিন্তু অপব্যয় করবে না কেননা অপব্যয়কারীদেরকে আল্লাহ তাআলা মোটেই ভালবাসেন না। (আ'রাফ-৩১)
নামাজ না পড়ার পরিণতি
নবীজী (সাঃ) বলেছেন,
الْعَهَدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلُوةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ.
আমাদের এবং অমুসলিমদের মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয় নামাজের মধ্য দিয়ে, যে নামাজ পরিত্যাগ করেছে সে কাফের বা কুফরী করেছে। (আবু দাউদ ও নাসায়ী)
بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلوة
মু'মিন বান্দা আর কাফেরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ পরিত্যাগ করা। (মুসলিম)
مَنْ تَرَكَ صَلَاةً مَكْتُوبَةٌ مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ত্যাগ করল তার উপর থেকে মহান আল্লাহর জিম্মাদারী মুক্ত হয়ে গেল। (আহমদ)
হযরত আলী (রাঃ) এর নিকট জনৈক বেনামাজী নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,
مَنْ لَّمْ يُصَلِّ فَهُوَ كَافِرٌ
যে নামাজ পড়ে না সে কাফের। (তিরমিযী)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে কুরতিন (রহঃ) বর্ণনা করেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ
أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلُوةُ فَإِنْ صَلُحَتْ صَلَحَ سَائِرَ عَمَلِهِ وَإِنْ فَسَدَتْ فَسَدَ سَائِرَ عَمَلِهِ.
কিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে। বান্দা যখন এ হিসাব পরিপূর্ণ রূপে দিতে পারবে তবে সে অন্যান্য আমলেও সফলকাম হয়ে যাবে। আর যদি সে নামাজের হিসাব পুরাপুরি দিতে না পারে তবে তার অন্যান্য আমলও খারাপ হয়ে যাবে। (তারগীব ও তারহীব)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অপর এক হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে ব্যক্তি নামাজ নষ্টকারী রূপে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে, আল্লাহ তার অন্যান্য পূণ্য কাজগুলোর কোন গুরুত্ব দেবেন না, অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যত ভাল এবং জনকল্যাণমূলক কাজ করুক না কেন সব কিছুই বৃথা। আল্লাহর নিকট বে-নামাজীর সৎ কাজের এক কানা কড়িও মূল্য নেই। (তাবারানী)
উপরোক্ত হাদীসগুলোর মর্মার্থ থেকে অনুধাবন করা যায় যে, যারা নামাজ পড়ে না তারা চরম অকৃতজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত (আরবী কাফের শব্দের আর এক অর্থ হলো 'অকৃতজ্ঞ')। নামাজের বহিঃস্থ প্রতিফলন হচ্ছে মানুষকে আল্লাহপাক প্রদত্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সহকারে তাঁকে সেজদা করা। নামাজের মাধ্যমে দুই পা, দুই হাত, দুই হাঁটু এবং নাক আর কপাল মহান প্রভুর নিকট অবনত হয়। এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যথার্থ সংযোজনের ফলে মানুষের সৌন্দর্য আকর্ষণীয় হয়েছে এবং এসবের ভূমিকা আমাদের স্বাভাবিক জীবন পরিচালনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে বলেই আমরা এদের গুরুত্ব তেমন উপলব্ধি করি না। কিন্তু যার দুই হাত প্যারালাইসিসে আক্রান্ত, যার একটি পা বিকলাঙ্গ, যার চোখ দু'টি অন্ধ, যার মস্তিষ্ক কোষগুলো স্বাভাবিক কাজ করে না অর্থাৎ যাকে মানসিক রোগী বলা হয়, এরূপ ত্রুটিযুক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে কেউ কি স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ আদায় করতে পারবে? পবিত্র কোরআনে একথা পরিষ্কার উল্লেখ আছে যে, উল্লেখিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো আল্লাহপাক মানুষকে দান করেছেন অত্যন্ত দয়াপরবশ হয়ে। অথচ মানুষ তাঁর প্রতি খুব কম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সুমহান আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম হচ্ছে নামাজ। তাইতো নবীজী (সাঃ) বে-নামাজী লোকদেরকে অকৃতজ্ঞ উম্মত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কোরআনের ভাষায় নামাজের ভেতরে আমরা আল্লাহর কাছে অনেক কিছু চাইতে পারি। বে-নামাজী হলে এরূপ চাওয়ার কোন সুযোগ নেই। বে-নামাজীরা সারাদিন তেমন পবিত্রতা অবলম্বন করে না। মহামহিম আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মহাপবিত্র সত্তা। এ পবিত্র সত্তার নিকট আরজী পেশ করতে হয় পূর্ণ পবিত্রতা অবলম্বন করেই। সুতরাং সকল মুসলমানের উচিত নামাজ কায়েম করে আল্লাহপাকের প্রতি পূর্ণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।