📄 আল্লাহ তাআলার নাম সমূহ
আল্লাহ তাআলার নামসমূহ
১. (الله) আল্লাহ (জাতি নাম)
২. (اله) ইলাহ (আইনদাতা)
৩. (رب) রব (সার্বভৌম সত্তা)
৪. (رحمن) রহমান (পরম হিতৈষী)
৫. (رحیم) রহীম (পরম করুণাময়)
৬. (مالك) মালিক (অধিপতি)
৭. (قدوس) কুদ্দুস (একান্ত পবিত্র সত্তা)
৮. (سلام) সালাম (শান্তি দানকারী)
৯. (مؤمن) মু'মিন (নিরাপত্তা বিদায়ক)
১০. (مهیمن) মুহাইমিন (রক্ষণাবেক্ষণকারী)
১১. (عزیز) আযীয (পরাক্রমশালী)
১২. (جبار) জব্বার (প্রবল ক্ষমতাবান)
১৩. (متكبر) মুতাকাব্বির (মহিমান্বিত সত্তা)
১৪. (خالق) খালিক (সৃজনকর্তা)
১৫. (بديع) বাদী (আদি উদ্ভাবন কর্তা)
১৬. (مصور) মুসাওয়্যির (রূপদাতা)
১৭. (حکیم) হাকিম (প্রজ্ঞাময়)
১৮. (حی) হায়্যু (চিরঞ্জীব)
১৯. (قیوم) কাইয়্যুম (চিরস্থায়ী সত্তা)
২০. (اول) আউয়াল (আদি সত্তা)
২১. (آخر) আখির (সর্বশেষ সত্তা)
২২. (ظاهر) যাহির (দৃশ্যমান)
২৩. (باطن) বাতিন (অদৃশ্য সত্তা)
২৪. (بصیر) বাসীর (মহাদৃষ্টিশীল)
২৫. (ناصر) নাসির (সাহায্যকারী)
২৬. (خبیر) খাবীর (সম্যক জ্ঞাত সত্তা)
২৭. (کبیر) কাবীর (সুমহান সত্তা)
২৮. (قدیر) কাদীর (মহাশক্তিশালী)
২৯. (بارئ) বারী (নিপুণ স্রষ্টা)
৩০. (المقسط) মুকসিত (অত্যাচার দমনকারী)
৩১. (قهار) কাহ্হার (মহা শাস্তিদাতা)
৩২. (غفار) গফ্ফার (ক্ষমতাশীল)
৩৩. (غفور) গফুর (পরম ক্ষমাশীল)
৩৪. (سمیع) সামী (সর্বশ্রোতা)
৩৫. (علیم) আলীম (সর্বজ্ঞানী)
৩৬. (کریم) কারীম (মহা বদান্যশীল)
৩৭. (حلیم) হালীম (পরম সহনশীল)
৩৮. (حمید) হামীদ (মহাপ্রশংসিত সত্তা)
৩৯. (مجید) মাজীদ (মহাসম্মানিত)
৪০. (شهید) শহীদ (সাক্ষী)
৪১. (رقیب) রাকীব (তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সম্পন্ন সত্তা)
৪২. (عظیم) আযীম (শ্রেষ্ঠ)
৪৩. (باقی) বাকী (অনন্তকাল বিদ্যমান সত্তা)
৪৪. (مجیب) মুজীব (উত্তর দাতা)
৪৫. (قریب) কারীব (নিকটবর্তী)
৪৬. (لطیف) লতীফ (সুদর্শী সত্তা)
৪৭. (وکیل) ওয়াকীল (জিম্মাদার)
৪৮. (حفیظ) হাফীজ (সংরক্ষক)
৪৯. (احد) আহাদ (অদ্বিতীয় সত্তা)
৫০. (واحد) ওয়াহিদ (একক সত্তা)
৫১. (صمد) সামাদ (স্বয়ং সম্পূর্ণ)
৫২. (ودود) ওয়াদুদ (প্রেমময় সত্তা)
৫৩. (عفو) আফুও (পাপ মোচনকারী)
৫৪. (رؤوف) রউফ (মমতাময়)
৫৫. (نور) নূর (আলোকময় সত্তা)
৫৬. (رزاق) রাজ্জাক (রিজিক দাতা)
৫৭. (هادی) হাদী (পথ প্রদর্শক)
৫৮. (متين) মাতীন (মহা গাম্ভীর্যময় সত্তা)
৫৯. (واسع) ওয়াসিউ (সর্বব্যাপী)
৬০. (بسیط) বাসীত (বিস্তারকারী সত্তা)
৬১. (شکور) শাকূর (কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী সত্তা)
৬২. (مخرج) মুখরিজ (নির্গতকারী সত্তা)
৬৩. (موسع) মুসি' (সম্প্রসারণকারী)
৬৪. (وهاب) ওয়াহ্হাব (মহাদাতা)
৬৫. (تواب) তাওয়্যাব (তাওবা কবুলকারী)
৬৬. (فتاح) ফাত্তাহ (বিজয় দানকারী)
৬৭. (مقتدر) মুকতাদির (অত্যন্ত প্রভাবশালী সত্তা)
৬৮. (متعال) মুতা'আলী (সর্বোচ্চ আসনে আসীন সত্তা)
৬৯. (منتقم) মুনতাকিম (প্রতিশোধ গ্রহণকারী)
৭০. (غنی) গনী (অমুখাপেক্ষী সত্তা)
৭১. (ولي) ওয়ালী (বন্ধু)
৭২. (مولی) মাওলা (অভিভাবক)
৭৩. (ولی) ওয়ালী (নিয়ন্ত্রণকারী)
৭৪. (علی) আলী (সর্বোচ্চ সত্তা)
৭৫. (اعلی) আ'লা (সুমহান সত্তা)
৭৬. (باقي) বাকী (চিরস্থায়ী)
৭৭. (حسیب) হাসীব (হিসাব গ্রহণকারী)
৭৮. (حنان) হান্নান (সহানুভূতিশীল)
৭৯. (رشید) রাশীদ (হেদায়ত দানকারী)
৮০. (حق) হাক্ক (ন্যায়বান সত্তা)
৮১. (مستعان) মুসতা'আন (সহায়স্থল)
৮২. (مقیت) মুকীত (শক্তিদাতা)
৮৩. (مبدی) মুবদী (আদি সৃষ্টিকারী)
৮৪. (معید) মু'ঈদ (নতুনভাবে সৃষ্টিকারী)
৮৫. (محیی) মুহয়ী (জীবন দানকারী)
৮৬. (محسن) মুহসিন (দানশীল)
৮৭. (معطی) মু'তী (দানশীল সত্তা)
৮৮. (واجد) ওয়াজিদ (অস্তিত্ব দানকারী)
৮৯. (صبور) সবূর (অতিশয় ধৈর্যশীল সত্তা)
৯০. (الوارث) আল-ওয়ারিস (সত্ত্বাধিকারী)
৯১. (نعیم) না'ঈম (নেয়ামত দানকারী)
৯২. (شفیع) শাফী' (শেফা দানকারী)
৯৩. (معز) মু'ইয (সম্মান দানকারী)
৯৪. (جلیل) জালীল (মহা প্রতাপশালী)
৯৫. (مقدس) মুকাদ্দিস (একান্ত পবিত্র সত্তা)
৯৬. (عادل) আদিল (ন্যায় বিচারক)
৯৭. (نافع) নাফি' (সুফলদাতা)
৯৮. (ذوالطول) যুত তাওল (মহা শক্তিধর)
৯৯. (مذل) মুযিল্ল (অপমানকারী)
১০০. (مانع) মানি' (বাধা দানকারী)
১০১. (مصدق) মুসাদ্দিক (সত্যয়নকারী)
১০২. (قابض) ক্বাবিয (সংকোচনকারী)
১০৩. (مغنی) মুগনী (অভাব মোচনকারী)
১০৪. (فاطر) ফাতির (সৃষ্টিকারী)
১০৫. (محیط) মুহীত (বেষ্টনকারী)
১০৬. (ضار) দার (বিপদ দানকারী)
১০৭. (ذوالفضل) যুল ফাদল (মহা অনুগ্রহশীল)
১০৮. (ذو انتقام) যুন-ইনতিকাম (দন্ডদাতা)
১০৯. (منان) মান্নান (অতিশয় উপকার সাধনকারী)
১১০. (ستار) সাত্তার (দোষ গোপনকারী সত্তা)
১১১. (سبحان) সুবহান (মহা পবিত্র সত্তা)
১১২. (بر) বার (অনুগ্রহকারী)
১১৩. (ذوالقوة) যুল কুওয়াহ (শক্তির আধার)
১১৪. (ذو الجلال والاكرام) যুল জালালি ওয়াল ইকরাম (মহিমাময় মহানুভব)
আরবী ভাষার হরফ (বর্ণ) সমূহের নিজস্ব সংখ্যামান আছে। নিম্নে তা দেয়া হলোঃ
| ا | ب | ج | د | ه | و | ز |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ |
| ح | ط | ی | ک | ل | م | ن |
| ৮ | ৯ | ১০ | ২০ | ৩০ | ৪০ | ৫০ |
| س | ع | ف | ص | ق | ر | ش |
| ৬০ | ৭০ | ৮০ | ৯০ | ১০০ | ২০০ | ৩০০ |
| ت | ث | خ | ذ | ض | ظ | غ |
| ৪০০ | ৫০০ | ৬০০ | ৭০০ | ৮০০ | ৯০০ | ১০০০ |
বিছমিল্লাহ' আয়াতটিতে ব্যবহৃত ১৯ হরফের সংখ্যামানঃ
ب (2) س (60) م (40) ا (1) ل (30) ل (30) ه (5) ا (1) ل (30) ر (200) ح (8) م (40) ن (50) ا (1) ل (30) ر (200) ح (8) ي (10) م (40)
উক্ত বর্ণমালার সংখ্যামানের সমষ্টি ৭৮৬। বিছমিল্লাহতে একই হরফের পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে মোট বর্ণ পাওয়া যায় ১০টি। ১৯ সংখ্যায় ব্যবহৃত অংক দু'টির যোগফল ১+ ৯=১০। সুতরাং ১০÷১০=১ (আল্লাহ এক এবং একক চিরকাল)।
এ ফলাফল থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়। তাই যারা আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করে তারা পুরাপুরি মিথ্যাবাদী কিংবা অন্ধ অনুকরণে বিশ্বাসী। আবার নাস্তিকেরা (আল্লাহর অস্তিত্বে অবিশ্বাসী) বলে থাকে; "There is no God on earth or in the heaven" পৃথিবীর নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা বড় বড় ডিগ্রী লাভ করেছে। কিন্তু সে-ই অধীত বিদ্যার অসাড় নির্যাস থেকে মহান স্রষ্টার পরিচয় লাভ করতে সমর্থ হয়নি। তাই তারা নিরেট মূর্খ হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। অথচ অংক কষলেই আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায়।
১৯টি বর্ণের সংখ্যামানের সমষ্টি (৭৮৬) থেকে পুনরাবৃত্ত বর্ণগুলির সংখ্যা মানের সমষ্টি (৪০৬) বাদ দিয়ে যে সংখ্যাটি পাওয়া গেল তাও ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য।
এখন আমরা সহজে বুঝতে পারছি, বিজ্ঞানময় গ্রন্থ 'আল-কোরআন' এর কোন বর্ণ, কিংবা শব্দ অথবা কোন সূরা কেউ রদবদল করার চেষ্টা করলে ১৯ সূত্রের কাছে ধরা পড়বেই।
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ.
Verily, We Ourself have sent down this Exhortation and most surely We will be its Guardian.
আমিই এ কোরআন নাজিল করেছি এবং আমি স্বয়ং এর সংরক্ষক। (হিজর-৯)
وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ.
And recite the Book (Al Quran) what has been revealed to you from your Lord; None can change His words.
আপনার প্রভু আপনার প্রতি যে গ্রন্থ (আল-কোরআন) ওহী করেছেন তা পাঠ করুন। আর তাঁর আয়াতসমূহ কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না চিরকাল। (কাহাফ-২৭)
📄 মুকাত্তাআত নৈপুন্যতা
মুকাত্তাআত নৈপুণ্যতা
عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ - Over it are Nineteen. এর উপর উনিশ।
ঐশী গ্রন্থ আল-কোরআন সকল গ্রন্থ থেকে স্বতন্ত্র। এর বিভিন্ন সূরার শুরুতে বিচিত্র বর্ণ বিন্যাস ব্যবহৃত হয়েছে। এ বর্ণ বিন্যাসকে বলা হয়- মুকাত্তাআত (Abbreviation)। যেমন সূরা বাকারা শুরু হয়েছে 'আলিফ লাম মীম' মুকাত্তাআত দিয়ে। মুকাত্তাআত সমূহের পূর্ণ অর্থ কি হতে পারে তা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে এগুলোর গাণিতিক রহস্য উন্মুক্ত হয়েছে। মোট ২৯টি সূরার প্রারম্ভে ১৪টি বিভিন্ন হরফ (বর্ণ), ১৪টি ভিন্ন ভিন্ন বিন্যাসে প্রয়োগ করা হয়েছে। এদের যোগফল (২৯+১৪+১৪)=৫৭. যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
নিম্নে মুকাত্তাআত যুক্ত সূরাগুলি উদ্ধৃত করা হলো:
২. আল-বাকারা
৩. আলে ইমরান
২৯. আনকাবুত
৩০. রুম
৩১. লোকমান
৩২. সাজদা
৩৮. সূরা সাদ
৫০. সূরা কাফ
৬৮. সূরা কলম
০৭. সূরা আরাফ
১০. সূরা ইউনুস
১১. সূরা হুদ
১২. সূরা ইউসুফ
১৩. সূরা রাদ
১৪. সূরা ইব্রাহিম
১৫. সূরা হিজর
১৯. মারইয়াম
২০. ত্বোয়াহা
২৬. শুআরা
২৭. নামল
২৮. কাসাস
৩৬. ইয়াসিন
৪০. মুমিন
৪১. হা-মীম সাজদা
৪২. শুরা
৪৩. যুখরুফ
৪৪. দুখান
৪৫. জাসিয়া
৪৬. আহকাফ
আলিফ-লাম-মীম (ا, ل, م) মুকাত্তাআতটি মোট ৬টি সূরার প্রারম্ভে ব্যবহৃত হয়েছে।
উক্ত সূরাগুলোর আয়াতসমূহে আলিফ, লাম, মীম (ا ل م) বর্ণ তিনটি যতবার ব্যবহৃত হয়েছে তার সমষ্টি ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য। নিম্নে তার একটি পরিসংখ্যান দেখানো হলোঃ
| সূরা | আলিফ | লাম | মীম | সমষ্টি | ১৯ দ্বারা বিভাজ্য |
| :----- | :--- | :--- | :--- | :----- | :--------------- |
| বাকারা | ৪৫০২ | ৩২০২ | ২১৯৫ | ৯৮৯৯ | " |
| ইমরান | ২৫২১ | ১৮৯২ | ১২৪৯ | ৫৬৬২ | " |
| আনকাবুত | ৭৭৪ | ৫৫৪ | ৩৪৪ | ১৬৭২ | " |
| রুম | ৫৪৪ | ৩৯৩ | ৩১৭ | ১২৫৪ | " |
| লোকমান | ৩৪৭ | ২৯৭ | ১৭৩ | ৮১৭ | " |
| সেজদা | ২৫৭ | ১৫৫ | ১৫৮ | ৫৭০ | " |
| **মোট** | **৮৯৪৫** | **৬৪৯৩** | **৪৪৩৬** | **১৯৮৭৪** | **১৯৮৭৪÷১৯=১০৪৬** |
উক্ত পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট সূরা সমূহে ব্যবহৃত, ا, ل, ম বর্ণ তিনটির আলাদা যোগফল ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। আবার সূরা ছয়টির একত্রিত যোগফলও ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
সুতরাং এরূপ নিখুঁত গাণিতিক বন্ধনে সমৃদ্ধ গ্রন্থে কোনরূপ বিকৃতি ঘটানো কি সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব নয়। ইহুদী, খৃস্টানেরা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থে যেমন ইচ্ছা সংযোজন বিয়োজন করেছে। সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল-কোরআনে সামনের দিক থেকে কিংবা পেছন দিক থেকে কোন হরফ বা শব্দ যোগ বিয়োগ করার অবকাশ নেই। যদি করা হয় তাহলে উনিশ ফর্মুলার কাছে ধরা পড়ে যাবে।
لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلُ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ
That no falsehood can ever creep into it, neither from before nor from behind; It is revealed from Allah, full of wisdom and worthy of praise.
কোন মিথ্যা এতে (কোরআনে) প্রবেশ করবে না সম্মুখ থেকে কিংবা পশ্চাত থেকে। এটি প্রজ্ঞাময় প্রশংসিত আল্লাহর নিকট থেকে অবতীর্ণ। (হা-মীম সাজদা-৪২)
এভাবে দেখা যায়, মুকাত্তাআত বিশিষ্ট সূরাগুলোতে মুকাত্তাআতে ব্যবহৃত বর্ণগুলি আছে। ঐসব বর্ণ সমষ্টির সংখ্যা যা দাঁড়ায় তা ১৯ দ্বারা নিঃশেষে ভাগ যায়।
সূরা মারইয়াম এর মুকাত্তাআত গঠিত হয়েছে ৫টি হরফ দ্বারা।
ك ব্যবহৃত হয়েছে ১৩৭ বার
هـ ১৭৫ বার
ی ৩৪৩ বার
ع ১১৭ বার
ص ২৬ বার
মোট ৭৯৮ বার
(কাফ, হা, ইয়া, আইন, সাদ) এ সূরাটিতে হরফ সমূহ মোট ৭৯৮ বার ব্যবহৃত হয়েছে, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
সূরা আরাফ এর মুকাত্তাআত ا ل م ص (আলিফ, লাম, মীম, সাদ)। উক্ত সূরাতে মুকাত্তাআতে ব্যবহৃত হরফগুলি:
ا ব্যবহৃত হয়েছে ২৫২৯ বার
ل ১৫৩০ বার
م ১১৬৪ বার
ص ৯৭ বার
মোট ৫৩২০ বার
৫৩২০÷১৯=২৮০
সূরা ইয়াসিনের মুকাত্তাআত ي س (ইয়া, সীন)। সূরাটিতে হরফ দু'টি ব্যবহৃত হয়েছে মোট ২৮৫ বার, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
আল-কোরআনের সূরা মুমিন থেকে সূরা আহকাফ পর্যন্ত এই ৭টি সূরার শুরুতে একই মুকাত্তাআত ح م (হা, মীম) ব্যবহৃত হয়েছে। ধারাবাহিক এ সাতটি সূরায় 'হা' (ح) এবং 'মীম' (م) হরফ দু'টি মোট ২১৪৭ বার ব্যবহৃত হয়েছে, যা ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য।
মুকাত্তাআতগুলির মধ্যে 'হা' (ه), ত্বোয়া, হা (ط ه), ত্বোয়া, সীন (ط س) এবং ত্বোয়া, সীন, মীম (ط س م) হরফগুলি আছে। সূরা মারইয়াম, ত্বোয়াহা, শুআরা, নামল এবং কাসাসে। এ পাঁচটি সূরার মুকাত্তাআতে ব্যবহৃত হরফগুলি মোট ১৭৬৭ বার ব্যবহৃত হয়েছে, এটি ১৯ দ্বারা নিঃশেষে ভাগ যায়।
সূরা ইউনুস এবং সূরা হুদ শুরু হয়েছে ا ل ر (আলিফ, লাম, রা) মুকাত্তাআত দিয়ে। সূরাদ্বয়ে হরফ তিনটির মোট ব্যবহার ২৪৮৯ বার, এটি ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
সূরা ইউসুফ, সূরা ইব্রাহিম এবং সূরা হিজরেও একই মুকাত্তাআত ا ل ر (আলিফ, লাম, রা) আছে। সূরা তিনটিতে মুকাত্তাআতের হরফগুলোর মোট ব্যবহারঃ
ইউসুফ ২৩৭৫ বার, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
ইব্রাহিম ১১৯৭ বার, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
হিজর ৯১২ বার, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।
সূরা রাদ এর মুকাত্তাআত ا ل م ر (আলিফ, লাম, মীম, রা)। এতে আছে ৪টি হরফ। মুকাত্তাআতে ব্যবহৃত এ ৪টি হরফ উক্ত সূরায় ব্যবহার করা হয়েছে মোট ১৪৮২ বার, যা ১৯ দ্বারা নিঃশেষে ভাগ যায়।
মুকাত্তাআত সম্বলিত সর্বশেষ সূরা কলম। যার শুরুতে একটি হরফ বিশিষ্ট মুকাত্তাআত ব্যবহৃত হয়েছে। সেটি হচ্ছে নূন (ن)। উক্ত সূরাতে নূন ব্যবহৃত হয়েছে ১৩৩ বার, এটি অবশ্যই ১৯ দ্বারা নিঃশেষে বিভাজ্য।
মুকাত্তাআতের ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়োগ
শুধু কাফ অক্ষর দিয়ে শুরু হয়েছে সূরা কাফ। আল্লাহ তাআলা কোরআনের বারোটি স্থানে লুত সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিবারে সম্বোধন করেছেন قوم لوط (কাওমে লুত) বাক্যাংশ দ্বারা। কিন্তু সূরা কাফ এর ১৩ নং আয়াতে এসে اخوان لوط (ইখওয়ানু লুত) সম্বোধন ব্যবহার করেছেন। অর্থের দিক থেকে কাওমে লুত (লুতের স্বজাতি) যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ইখওয়ানু লুত (লুতের ভাইয়েরা বা অনুগামীরা) একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এ ব্যতিক্রম বিষয়টির কারণ হচ্ছে সূরা কাফ এর ১৩ নং আয়াতে কাওমুল লুত শব্দ ব্যবহার করলেও এর সংখ্যা হয় ৫৮টি, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য নয়। সে জন্য ইখওয়ানু লুত শব্দ ব্যবহার করে এর সংখ্যা ৫৭ করা হয়েছে। যেন ১৯ দ্বারা বিভাজ্য হয়।
এবার ص বর্ণটি তিনটি সূরার মুকাত্তাআতে ব্যবহৃত হয়েছে। সূরাগুলি হচ্ছে- আরাফ, মরিয়াম এবং সাদ।
১। সূরা আরাফ-এ ص ব্যবহৃত হয় মোট = ৯৭ বার
২। সূরা মরিয়াম-এ ص ব্যবহৃত হয় মোট = ২৬ বার
৩। সাদ-এ ص ব্যবহৃত হয় মোট = ২৯ বার
যোগফল = ১৫২ বার
১৫২ ÷ ১৯ = ৮
এখন বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, আরবী 'বাসতাতান' (بسطة) শব্দের বানান (Spelling) লিখা হয় সাধারণতঃ বা, সীন, ত্বা ও তা দিয়ে (بسطة)। যেমন সূরা বাকারার ২৪৭ নং আয়াতে এ শব্দটি এসেছে।
قَالَ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَةً بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ وَاللَّهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
কিন্তু সূরা আরাফের ৬৯ নং আয়াতে বাসতাতান শব্দের বানান এসেছে, বা, সাদ, ত্বা এবং তা সহকারে এবং সাদ এর উপর ছোট্ট করে একটি সীন (س) বসানো হয়েছে।
في الخلق بَصْطَة
এতে করে 'বাসতাতান' (প্রদান করা) শব্দের অর্থের কোন তারতম্য ঘটেনি। এ প্রয়োগ বিধির তাৎপর্য হচ্ছে, সূরা আরাফের সংশ্লিষ্ট আয়াতে ص দ্বারা بصطة শব্দটি গঠিত না হলে আলোচ্য সূরা তিনটিতে (আরাফ, মরিয়াম, সাদ) একটি 'সাদ' কম হতো। ফলে উনিশের (১৯) ফর্মূলা ব্যর্থ হয়ে যেত।
এভাবে মহান আল্লাহ তাআলা সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব আল-কোরআনকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করেছেন। উপরন্তু উনিশের গাণিতিক বন্ধন এবং মুকাত্তাআত সমূহের কৌশলগত প্রয়োগ বিধি থেকে আল-কোরআনের অলৌকিকত্ব প্রমাণিত হয়। এ গ্রন্থের Purity-র নিশ্চয়তা হচ্ছে, আল-কোরআনের হুবহু কপি 'উম্মুল কিতাব' এ সংরক্ষিত আছে। উম্মুল কিতাব অর্থ আসল কিতাব। অর্থাৎ যেখান থেকে নবীদের প্রতি কিতাবে ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। সূরা ওয়াকিয়ায় এটাকে বলা হয়েছে 'কিতাবিম্ মাকনূন' (সুরক্ষিত গ্রন্থ)। সূরা বুরুজে বলা হয়েছে, 'লওহে মাহফুজ' (সংরক্ষিত ফলক)
وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ
And verily it is in safe custody with Us in the Mother Book, indeed exalted and full of wisdom.
অবশ্যই ইহা আমাদের নিকট উম্মুল কিতাবে সুরক্ষিত রয়েছে, অতীব উচ্চ মর্যাদার এবং প্রজ্ঞাময় কিতাব। (যুখরুফ-৪)
وَإِنَّهُ لَقُرْآنَ كَرِيمٌ . فِي كِتَبٍ مَكْنُونٍ
That this is indeed a Quran most honourable in a Book well guarded.
অবশ্যই ইহা অতি সম্মানিত কোরআন যা একটি সুরক্ষিত গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে। (ওয়াকিয়া-৭৭-৭৮)
لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَتِ اللَّهِ . ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
No change can there be in the words of Allah - This is indeed the supreme felicity.
আল্লাহর বাক্যসমূহ পরিবর্তন হবার নয়, ইহা এক মহা সাফল্য। (ইউনুস-৬৪)
আল-কোরআন অধ্যয়ন করে যুগে যুগে পৃথিবীর জ্ঞানী লোকেরা এর বিশুদ্ধতা এবং অলৌকিকতার উপর যেসব মন্তব্য করেছেন তার কয়েকটি এখানে উদ্ধৃত করা হলো,
The Quran, the Bible and Science গ্রন্থের প্রণেতা, Dr. Maurice Bucaille বলেন, "There is not a single verse in the Holy Quran which is assailable from the scientific point of view". (বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাংঘর্ষিক একটি বাক্যও পবিত্র কোরআনে নেই।)
বিশ্ববিখ্যাত ইতিহাসবেত্তা Gibbon বলেছেন, "The creed of Muhammad (s.a.w) is free from the suspicions of ambiguity and the Quran is a glorious testimony to the unity of God". (মুহাম্মদ (সাঃ) এর ধর্মমত সব সন্দেহ সংশয় থেকে মুক্ত এবং আল-কোরআন হচ্ছে স্রষ্টার একত্বের এক উজ্জ্বল দলিল)।
উনবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ লেখক টমাস কারলাইল কোরআন অধ্যয়ন করে অভিভূত হয়ে বলেছেন- "The words of such a book is a voice from nature's own heart. Men do and must read to that, as to nothing else, all else is wind in Comparison" (এমন এক গ্রন্থের কথা যেন তা প্রকৃতির অন্তঃস্থল থেকে উৎসারিত। মানুষ তা পড়ছে এবং অবশ্যই এটাই তাদের পড়তে হবে। অন্য কিছু নয়। এর তুলনায় অন্য সব গ্রন্থ ফুৎকার সম)।
"কেবল মাত্র কোরআনই একমাত্র গ্রন্থ যাতে ১৩০০ বৎসরের ব্যবধানেও কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ইহুদী ও খৃস্টানদের এমন কোন নির্ভরযোগ্য ধর্ম গ্রন্থ নেই যা আদৌ কোন দিক থেকে কোরআনের সমকক্ষ হতে পারে" (ঐতিহাসিক বাডলে)
The Quran is powerful enough to conquer the hearts. (মানুষের হৃদয় জয় করার জন্য কোরআন মোহনী শক্তির অধিকারী) (O'Leary)
"আরবী ভাষায় অবতীর্ণ কোরআন শরীফ অতি মনোমুগ্ধকর এবং আকর্ষণীয়। এর বাক্য বিন্যাস পদ্ধতি ও প্রকাশভঙ্গি চমৎকার বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। কোরআনের ভাবধারা অন্য ভাষায় যথাযথ রূপান্তর অতিশয় মুশকিল।" (The wisdom of the Quran-Jhon fash)
"আমি কোরআনের শিক্ষা সমূহের উপর গবেষণা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, কোরআন অবশ্যই নাজিলকৃত আসমানী কিতাব এবং উহার শিক্ষা সমূহ মানব স্বভাবের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। (গান্ধী)
📄 মুকাত্তাআতের ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়োগ
মুকাত্তাআতের ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়োগ
শুধু ক্বাফ অক্ষর দিয়ে শুরু হয়েছে সূরা ক্বাফ। আল্লাহ তাআলা কোরআনের বারোটি স্থানে লুত সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিবারে সম্বোধন করেছেন قوم لوط (কুওমে লুত) বাক্যাংশ দ্বারা। কিন্তু সূরা ক্বাফ এর ১৩ নং আয়াতে এসে اخوان نوط (ইখওয়ানু লুত) সম্বোধন ব্যবহার করেছেন। অর্থের দিক থেকে ক্বাওমে লুত (লুতের স্বজাতি) যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ইখওয়ানু লুত (লুতের ভাইয়েরা বা অনুগামীরা) একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এ ব্যতিক্রম বিষয়টির কারণ হচ্ছে সূরা ক্বাফ এর ১৩ নং আয়াতে ক্বাওমুল লুত শব্দ ব্যবহার করলেও এর সংখ্যা হয় ৫৮টি, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য নয়। সে জন্য ইখওয়ানু লুত শব্দ ব্যবহার করে এর সংখ্যা ৫৭ করা হয়েছে। যেন ১৯ দ্বারা বিভাজ্য হয়।
এবার ص বর্ণটি তিনটি সূরার মুকাত্তাআতে ব্যবহৃত হয়েছে। সূরাগুলি হচ্ছে- আ'রাফ, মরিয়াম এবং ছোয়াদ।
১। সূরা আ'রাফ-এ ص ব্যবহৃত হয় মোট = ৯৭ বার
২। সূরা মরিয়াম-এ ص ব্যবহৃত হয় মোট = ২৬ বার
৩। ছোয়াদ-এ ص ব্যবহৃত হয় মোট = ২৯ বার
যোগফল = ১৫২ বার
১৫২ ÷ ১৯ = ৮
এখন বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, আরবী 'বাছতাতান' (بسطة) শব্দের বানান (Spelling) লিখা হয় সাধারণতঃ বা, সীন, ত্বোয়া ও তা দিয়ে (بسطة)। যেমন সূরা বাকারার ২৪৭ নং আয়াতে এ শব্দটি এসেছে।
قَالَ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَةً بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ وَاللَّهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
কিন্তু সূরা আ'রাফের ৬৯ নং আয়াতে বাছতাতান শব্দের বানান এসেছে, বা, ছোয়াদ, ত্বোয়া এবং তা সহকারে এবং ছোয়াদ এর উপর ছোট্ট করে একটি ছিন (س) বসানো হয়েছে।
في الخلق بَصْطَة
এতে করে 'বাছতাতান' (প্রদান করা) শব্দের অর্থের কোন তারতম্য ঘটেনি। এ প্রয়োগ বিধির তাৎপর্য হচ্ছে, সূরা আ'রাফের সংশ্লিষ্ট আয়াতে ص দ্বারা بصطة শব্দটি গঠিত না হলে আলোচ্য সূরা তিনটিতে (আ'রাফ, মরিয়াম, ছোয়াদ) একটি 'ছোয়াদ' কম হতো। ফলে উনিশের (১৯) ফর্মূলা ব্যর্থ হয়ে যেত।
এভাবে মহান আল্লাহ তাআলা সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব আল-কোরআনকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করেছেন। উপরন্তু উনিশের গাণিতিক বন্ধন এবং মুকাত্তাআত সমূহের কৌশলগত প্রয়োগ বিধি থেকে আল-কোরআনের অলৌকিকত্ব প্রমাণিত হয়। এ গ্রন্থের Purity-র নিশ্চয়তা হচ্ছে, আল-কোরআনের হুবহু কপি 'উম্মুল কিতাব' এ সংরক্ষিত আছে। উম্মুল কিতাব অর্থ আসল কিতাব। অর্থাৎ যেখান থেকে নবীদের প্রতি কিতাবে ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। সূরা ওয়াকিয়ায় এটাকে বলা হয়েছে 'কিতাবিম্ মাকনূন' (সুরক্ষিত গ্রন্থ)। সূরা বুরুজে বলা হয়েছে, 'লওহে মাহফুজ' (সংরক্ষিত ফলক)।
وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ
And verily it is in safe custody with Us in the Mother Book, indeed exalted and full of wisdom.
অবশ্যই ইহা আমাদের নিকট উম্মুল কিতাবে সুরক্ষিত রয়েছে, অতীব উচ্চ মর্যাদার এবং প্রজ্ঞাময় কিতাব। (যুখরুফ-৪)
وَإِنَّهُ لَقُرْآنَ كَرِيمٌ . فِي كِتَبٍ مَكْنُونٍ
That this is indeed a Quran most honourable in a Book well guarded.
অবশ্যই ইহা অতি সম্মানিত কোরআন যা একটি সুরক্ষিত গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে। (ওয়াকিয়াঃ৭৭-৭৮)
لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَتِ اللَّهِ . ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
No change can there be in the words of Allah - This is indeed the supreme felicity.
আল্লাহর বাক্যসমূহ পরিবর্তন হবার নয়, ইহা এক মহা সাফল্য। (ইউনুচ-৬৪)
আল-কোরআন অধ্যয়ন করে যুগে যুগে পৃথিবীর জ্ঞানী লোকেরা এর বিশুদ্ধতা এবং অলৌকিকতার উপর যেসব মন্তব্য করেছেন তার কয়েকটি এখানে উদ্ধৃত করা হলো:
The Quran, the Bible and Science গ্রন্থের প্রণেতা, Dr. Maurice Bucaille বলেন, "There is not a single verse in the Holy Quran which is assailable from the scientific point of view". (বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাংঘর্ষিক একটি বাক্যও পবিত্র কোরআনে নেই।)
বিশ্ববিখ্যাত ইতিহাসবেত্তা Gibbon বলেছেন, "The creed of Mohammad (s.a.w) is free from the suspicions of ambiguity and the Quran is a glorious testimony to the unity of God". (মুহাম্মদ (সাঃ) এর ধর্মমত সব সন্দেহ সংশয় থেকে মুক্ত এবং আল-কোরআন হচ্ছে স্রষ্টার একত্বের এক উজ্জ্বল দলিল)।
উনবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ লেখক টমাস কারলাইল কোরআন অধ্যয়ন করে অভিভূত হয়ে বলেছেন- "The words of such a book is a voice from nature's own heart. Men do and must read to that, as to nothing else, all else is wind in comparison" (এমন এক গ্রন্থের কথা যেন তা প্রকৃতির অন্তঃস্থল থেকে উৎসারিত। মানুষ তা পড়ছে এবং অবশ্যই এটাই তাদের পড়তে হবে। অন্য কিছু নয়। এর তুলনায় অন্য সব গ্রন্থ ফুৎকার সম)।
"কেবল মাত্র কোরআনই একমাত্র গ্রন্থ যাতে ১৩০০ বৎসরের ব্যবধানেও কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ইহুদী ও খৃস্টানদের এমন কোন নির্ভরযোগ্য ধর্ম গ্রন্থ নেই যা আদৌ কোন দিক থেকে কোরআনের সমকক্ষ হতে পারে" (ঐতিহাসিক বাডলে)।
The Quran is powerful enough to conquer the hearts. (মানুষের হৃদয় জয় করার জন্য কোরআন মোহনী শক্তির অধিকারী) (O'Leary)
"আরবী ভাষায় অবতীর্ণ কোরআন শরীফ অতি মনোমুগ্ধকর এবং আকর্ষণীয়। এর বাক্য বিন্যাস পদ্ধতি ও প্রকাশভঙ্গি চমৎকার বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। কোরআনের ভাবধারা অন্য ভাষায় যথাযথ রূপান্তর অতিশয় মুশকিল।" (The wisdom of the Quran-Jhon fash)
"আমি কোরআনের শিক্ষা সমূহের উপর গবেষণা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, কোরআন অবশ্যই নাজিলকৃত আসমানী কিতাব এবং উহার শিক্ষা সমূহ মানব স্বভাবের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।" (গান্ধী)