📄 ওহী বিভিন্ন রকম
প্রিয় নবী (সাঃ)-এর উপর ওহী অবতীর্ণ হতো সুস্পষ্ট বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে। 'আর-রাহীকুল মাখতুম' গ্রন্থে নিম্নোক্ত কয়েক প্রকারের অবতীর্ণ ওহীর কথা উল্লেখ রয়েছে।
এক. স্বপ্নের মাধ্যমে রাসূল (সাঃ)-এর উপর ওহী নাযিল।
দুই. ফেরেশতা তাঁকে দেখা না দিয়ে অর্থাৎ অদৃশ্য অবস্থায় থেকে তাঁর মনে কথা বসিয়ে দিতো। যেমন নবীজী (সাঃ) বলেছেন, "রূহুল কুদ্দুস আমার মনে এ কথা বসিয়ে দিয়েছেন যে, রিযিক পাওয়ার পূর্বে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে না। কাজেই আল্লাহপাককে ভয় করো এবং উত্তম রিযিক সন্ধান করো। রিযিক পেতে বিলম্ব হলে আল্লাহর নাফরমানীর মাধ্যমে তা অনুসন্ধান করো না। কেননা আল্লাহর কাছে যা কিছু রয়েছে সেসব সামগ্রী তাঁর আনুগত্য ব্যতীত পাওয়া যায় না।"
তিন. ফেরেশতা মানুষের আকৃতি ধারণ করে তাঁকে সম্বোধন করতেন এবং যা কিছু বলতেন নবীজী (সাঃ) সাথে সাথে মুখস্থ করে নিতেন। এ সময় কখনো কখনো সাহাবারাও ফেরেশতাকে দেখতে পেতেন।
চার. রাসূল (সাঃ)-এর কাছে ওহী ঘণ্টা ধ্বনির শব্দ তরঙ্গে আসতো। এটি ছিল ওহীর সবচেয়ে কঠিন অবস্থা। এ অবস্থায় ফেরেশতা তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং প্রচণ্ড শীতের মৌসুমেও তিনি ঘর্মাক্ত হয়ে যেতেন। তাঁর কপাল মোবারক থেকে ঘাম ঝরে পড়তো। তিনি উটের উপর উপবিষ্ট থাকলে উটসহ মাটিতে বসে যেতেন।
পাঁচ. তিনি ফেরেশতাদের প্রকৃত রূপ দেখেছেন দুইবার। এ অবস্থায়ই আল্লাহপাক তাঁর কাছে ওহী পাঠিয়েছেন। আল-কুরআনের সূরা নাজমে এ কথা উল্লেখ আছে।
ছয়. মি'রাজের রাতে নামাজ ফরজ হওয়ার ওহী এবং অন্যান্য বিষয়ক ওহী প্রিয় নবী (সাঃ) ঊর্ধ্বলোকে অবস্থানকালে সেখানেই নাযিল হয়েছিল।
সাত. ফেরেশতার মাধ্যম ছাড়া আল্লাহপাক নবীজীর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, যা মি'রাজের হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
আট. আর এক প্রকার ওহীর কথা জানা যায়। এটি হচ্ছে আল্লাহ তাআলার মুখোমুখি পর্দাবিহীন অবস্থায় কথা বলা।
সুতরাং যদি আমাদের বোধশক্তি থাকে তাহলে আমরা বুঝে নিতে পারবো যে কোরআন নাযিলের এরূপ বিচিত্র পদ্ধতি তাঁর ঐশী বৈশিষ্ট্যের স্পষ্ট প্রমাণ। যারা এ কথা বিশ্বাস করে কোরআন নাযিলের ইতিহাস তাদেরকে এজন্য পাঠ করতে হবে যেন কোরআন অধ্যয়ন করে এর গবেষণাকর্মে নিজেদের নিয়োজিত করা যায়। তাই আল্লাহপাক কোরআনের অধ্যয়নগুলোর উপর চিন্তা-ভাবনা করার উপদেশ দিয়েছেন। এরূপ চিন্তা-গবেষণার কর্মে যারাই নিয়োজিত হয় কোরআনিক জ্ঞানের কর্তৃত্ব তাদেরকে দান করা হয়।
হেরা পর্বত গুহা বা জাবালে নূর। এখানে নবীজী (সাঃ) গভীর ধ্যানে মশগুল হয়ে থাকতেন এবং প্রথম ওহীর বাণী এখানেই অবতীর্ণ হয়।
📄 প্রথম পর্বে অবতীর্ণ আয়াত সমূহ
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ . خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ . اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ . الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَم . عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ .
(১) পাঠ করুন আপনার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন (মহাবিশ্বের সমস্ত সৃষ্টি)
(২) সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জোঁক সদৃশ রক্ত জমাট থেকে।
(৩) পাঠ করুন! আপনার প্রভু মহানুভব।
(৪) যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন।
(৫) শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। (সূরা আলাক)
📄 দ্বিতীয় পর্বে অবতীর্ণ আয়াত সমূহ
দ্বিতীয় পর্বে অবতীর্ণ আয়াতসমূহ
نَ وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ . مَا أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونِ ، وَإِنَّ لَكَ لَأَجْرًا غَيْرَ مَمْنُونٍ. وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ .
(১) নূন, কলমের শপথ, আর যা লিখা হচ্ছে তারও শপথ।
(২) আপনি আপন প্রভুর কৃপায় পাগল কিংবা আছরগ্রস্ত নন।
(৩) অবশ্যই আপনার জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।
(৪) নিশ্চয়ই আপনি (হে মুহাম্মদ সাঃ) সর্বাপেক্ষা গৌরবান্বিত আদর্শ চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত। (সূরা নূন ওয়াল-কলম)
📄 তৃতীয় পর্বে অবতীর্ণ আয়াত সমূহ
তৃতীয় পর্বে অবতীর্ণ আয়াতসমূহ
يَأَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ . قُمِ الَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا . نِصْفَهُ أَوِ انْقُصُ مِنْهُ قَلِيلًا ، أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا . إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا.
(1) O, you folded in garments! (2) Stand (to pray) by night, but not all night. (3) Half of it, or a little less than that. (4) Or a little more, and recite the Quran in slow measured rhythmic tones. (5) Soon shall We send down to you a weighty Message.
(১) হে পোশাক আবৃত (মুহাম্মদ সাঃ!) (২) রাত্রিকালে সালাত কায়েম করুন, কিন্তু রজনী ব্যাপী নহে। (৩) রাতের অর্ধেক, কিংবা তা অপেক্ষা কিছুটা কম। (৪) অথবা তা অপেক্ষা কিছুটা বেশি এবং ধীর লয়ে ছন্দময় সুরে কোরআন পাঠ করুন। (৫) শীঘ্রই আমরা আপনার প্রতি একটি ভারী ওহী পাঠাব। (সূরা মুজ্জাম্মিল)