📄 দুই পর্বে সপ্ত আকাশ সৃষ্টি
দুই পর্বে সপ্ত আকাশ সৃষ্টি
১৯২৯ সালে G. Lemaitre এবং Hubble কর্তৃক আবিষ্কৃত তথ্য থেকে জানা যায়, মহাকাশের সাতটি স্তর এবং জ্যোতিষ্ক সমূহ দু'পর্বে (two phases) সৃষ্টি হয়েছে।
বিরাট বিস্ফোরণের (Big Bang) পর আদি অগ্নিবল বিস্ফোরিত হয়ে দ্রুত গতিতে প্রসারিত হতে থাকে এবং শীতল হয়ে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন কণাগুলো গ্যাস-মেঘের সৃষ্টি করে। এগুলো আলোর বিচ্ছুরণের সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়। প্রথম দিকে বিকিরণের চাপের দ্বারা স্বাভাবিক বিস্তৃতি বজায় ছিল। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে কিছু হিলিয়াম সহ হাইড্রোজেন পরমাণু দ্বারা বস্তু কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। গ্যাসের এ কেন্দ্রীভূত পিণ্ড বিচ্ছিন্নভাবে একে অপর থেকে দূরত্ব বজায় রেখে ছুটে বেড়ায়। যদিও বস্তুর একটি একক পিণ্ড যা তার নিজস্ব অভিকর্ষ শক্তি দ্বারা সংকুচিত হতে পারে তবুও এ সময় দু'টি বিপরীত শক্তি এ পিণ্ডের উপর ক্রিয়া করে। একটি হলো Force of Gravitation যা সংকুচিত করার চেষ্টা করে, অপরটি Force of Expansion, যা দূরত্ব সৃষ্টি করে।
কিন্তু সম্প্রসারণ শক্তির উন্মত্ত গতিবেগের জন্য সংকোচনশীল গ্যাসপিণ্ড (gas blob) বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করল। যথা- বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকার ও সর্পিলাকার বা পেঁচানো ইত্যাদি। এগুলোর নাম গ্যালাক্সি। অর্থাৎ সৃষ্টির প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন আকৃতির গ্যালাক্সি গঠিত হয় এবং আকাশ সৃষ্টির কাজ সম্পন্ন হয়। সৃষ্টির এ পর্বে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন বছর সময় অতিবাহিত হয়। কোরআনে এ ১৫০ মিলিয়ন বছর সময়ের ব্যাপ্তিকে 'ইওম' বলা হয়েছে। অর্থাৎ ১ দিন।
দ্বিতীয় পর্যায়ে গ্যালাক্সিপুঞ্জ বা সংকোচনশীল গ্যাস বলয়গুলো ভেঙ্গে গিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ল। এ অংশগুলো যতবেশী সংকুচিত হলো তত দ্রুত গতিতে আবর্তিত হতে লাগল। এভাবে আবর্তিত হতে হতে চ্যাপ্টা আকার ধারণ করল এবং জমাট বেঁধে আরও ছোট ছোট বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ল। ধীর গতিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে নক্ষত্র ও সৌরজগৎ (solar system) গঠিত হলো। গ্যাস ও ধূলিকণার গোলাকার মেঘপুঞ্জকে বলা হয় নীহারিকা (nebulae)। নীহারিকাসমূহ ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংকুচিত হতে লাগল এবং তাদের পশ্চাতে রেখে গেল গোলাকার বস্তুপিন্ড। এ গোলাকার বস্তুপিন্ডগুলো অবশেষে গ্রহ, উপগ্রহ ও গ্রহাণুতে রূপান্তরিত হলো। সুতরাং সৌরজগৎ, গ্রহ-উপগ্রহগুলো দ্বিতীয় পর্বে সৃষ্টি হয়েছিল এবং এরপর মহাবিশ্বের গোলাকার আবেষ্টনীতে আকাশের সাতটি বলয় গড়ে উঠল। দুই পর্বের সময়কালকে কোরআনের আয়াতে বলা হয়েছে ‘ইওমাইনে’।
فَقَضَهُنَّ سَبْعَ سَمُوتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاءِ أَمْرَهَا
So, He completed them as seven firmaments in two phases and assigned to each heaven its duty and command.
অতএব তিনি দুই পর্বে সপ্ত আকাশের সব কাজ সম্পন্ন করেন এবং প্রত্যেক আকাশে যথার্থ বিধান নির্দিষ্ট করে দেন। (হা-মীম-১২)
আরবী 'ইওম' অর্থ দিন। এ আয়াতে দ্বিবচন 'ইওমাইনে' ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু যে আয়াতে সৃষ্টি তত্ত্ব আলোচনা করা হয় সেখানে পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তনের সময়কালকে নির্দেশ করে না। যেমন সূরা হজ্বের ৪৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে ১ দিন = ১০০০ বছর। সূরা মা'আরেজের ৪ নং আয়াতে ১ দিন= ৫০,০০০ বছর বলা হয়েছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তাআলার নিকট ১ দিনের অর্থ একটি সময়কাল (A period of time) এ সময়কাল দীর্ঘ হতে পারে অথবা ক্ষুদ্রও হতে পারে। অর্থাৎ একটি সৃষ্টিকর্মকে পূর্ণতা দান করতে যতটুকু সময় লাগে 'দিন' বলতে সে সময়কে বুঝিয়েছেন। তাই 'ইওম' এর আরও অর্থ হতে পারে। যেমন, দিন, কাল, কালের ব্যাপ্তি, Era, phase ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ব্রিটেনে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে পুরুষ ও মহিলারা উপস্থিত হয়; সুতরাং মুসলিম নারীর জন্য মাহরাম পুরুষ ব্যতীত এ সমাবেশে পুরুষদের পাশাপাশি উপস্থিত হওয়া জায়েয হবে কিনা? আপনার জানার জন্য বলছি যে, এক ভাই এটাকে জায়েয বলেছেন এবং তিনি সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসকে এর পক্ষে দলীল হিসেবে পেশ করেছেন, তাতে আছে- জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তারপর তিনি অনুসন্ধান করলেন, কে তার মেহমানদারি করবে, তারপর আনসারদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি তাকে মেহমান হিসেবে দাওয়াত করলেন এবং তিনি উল্লেখ করেন যে, আনসার সাহাবী ও তাঁর স্ত্রী ঐ পুরুষ ব্যক্তিটির বসলেন এবং তার কাছে এমনভাব প্রকাশ করলেন যে, তাঁরা দু'জন খাচ্ছেন; আমরা এ মাসআলাটির প্রকৃত ব্যাখ্যা আশা করছি?
উত্তর: প্রশ্ন থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, তাতে পুরুষ ও নারীদের মাঝে মেলামেশা বা সহাবস্থানের বিষয় রয়েছে, আর পুরুষ ও নারীদের মাঝে মেলামেশা বা সহাবস্থানের বিষয়টি ফিতনা ও অশ্লীলতার দিকে নিয়ে যায়, আর এটাকে আমি অবৈধ মনে করি; কিন্তু যখন জরুরি প্রয়োজন দাবি করে পুরষদের সাথে নারীদের উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি, তখন আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো নারীদেরকে এক পাশে বসার ব্যবস্থা করা এবং অপর পাশে পুরুষদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা, আর নারীগণ কর্তৃক শরী'আত নির্ধারিত পর্দা পরিপূর্ণভাবে মেনে চলা, যেখানে নারী তার চেহারাসহ পুরো শরীর ঢেকে রাখবে।
আর যে হাদীসের দিকে প্রশ্নকর্তা ইঙ্গিত করেছেন, তাতে নারী-পুরুষে সহাবস্থান ছিল না; বরং আনসার সাহাবী ও তার স্ত্রী তার ঘরের এক পাশে ছিলেন, আর মেহমান ছিলেন আতিথিয়তা তথা মেহমানদারির জায়গায়।
তাছাড়া পর্দার বিষয়টির ব্যাপারে যেমন সর্বজন বিদিত যে, শরী'আতের প্রথম দিকে পর্দার বিষয়টি বাধ্যতামূলক ছিল না। কারণ, পর্দার বিষয়টিকে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের প্রায় পাঁচ বা ছয় বছর পরে শরী'আতে বাধ্যতামূলক করা হয়, আর যেসব হাদীসে পর্দা না করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেসব হাদীস পর্দার আয়াতসমূহ নাযিল হওয়ার পূর্বের বর্ণনা বলে ধরে নিতে হবে।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-'উসাইমীন
📄 মহাকাশের পরিণতি
মহাকাশের পরিণতি
মৌলিক প্রশ্ন হলো এই যে, মহাকাশ কি অসীমের দিকে বিস্তৃতি লাভ করেই চলবে? না, মহাকর্ষ বল অধিক পরিমাণে জোরদার হবে এবং এই বিস্তৃতি ক্রমান্বয়ে মন্থর হয়ে পড়বে। আর সেই সাথে শুরু হবে সংকোচন। এইসব প্রশ্নের জবাবে বর্তমান সৃষ্টিতত্ত্ববিদগণ দৃঢ়ভাবে বলেছেন, এমন একটি সময় উপস্থিত হবে যখন মহাকাশের সম্প্রসারণ গতি (force of expansion) ক্রমান্বয়ে থেমে যাবে এবং মহাকর্ষ শক্তির (force of gravitation) প্রাবল্য বৃদ্ধি পাবে। এই প্রসঙ্গে যতগুলি তাত্ত্বিক ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে গ্রহ, উপগ্রহসমূহের ওজন বৃদ্ধি এবং নক্ষত্রসমূহের ওজন হ্রাস। যেমন পৃথিবী গ্রহে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সংখ্যা বাড়া মানেই ওজন বৃদ্ধি পাওয়া। ২০০০ সাল নাগাদ পৃথিবীতে লোক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি। লোক সংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে ৫০০০ সালে মানুষের ওজন পৃথিবীর ওজনের সমান হবে। (বর্তমান পৃথিবীর ওজন 6×10²⁴Kg) আবার প্রতি মুহূর্তে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহে মহাজাগতিক ধূলিকণা (cosmic dust) এসে পড়ছে। বিজ্ঞানীদের সম্প্রতি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে কেবল পৃথিবীতে প্রতি বছরে ১০ হাজার টন মহাজাগতিক ধূলিকণা পতিত হয়। তাতে খুব স্বাভাবিকভাবে পৃথিবী সহ অন্যান্য গ্রহের ওজন বেড়েই চলেছে। এভাবে যত বেশি ওজন বাড়বে তত বেশি মহাকর্ষ শক্তি প্রবল হবে। অপরপক্ষে নক্ষত্রগুলির হাইড্রোজেন গ্যাস পুড়ে হিলিয়ামে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে এদের ওজন হ্রাস পাচ্ছে। যেমন আমাদের সূর্য (একটি নক্ষত্র) প্রতি সেকেন্ডে ওজন হারাচ্ছে ৪ মিলিয়ন টন। এভাবে সকল নক্ষত্র একটি পরিণত দশায় এগিয়ে যাচ্ছে।
অতএব, মহাকাশের স্বতাড়িত সম্প্রসারণ গতি সংকোচনের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য মহাজাগতিক বস্তুর গড় ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে আকাশী বস্তুগুলোর (celestial bodies) মহাকর্ষ শক্তি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এক সময় এরা একে অপরের কাছাকাছি এসে গেলে মহাকাশের সাতটি অঞ্চল ভেঙে একাকার হয়ে যাবে এবং গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে পারস্পরিক সংঘর্ষ শুরু হবে।
মহাকাশের পরিণতি সম্পর্কে আল কোরআন বহু তথ্য আমাদের অবহিত করেছেন তার মধ্যে নিম্নে কয়েকটি উদ্ধৃত করা হলো:
وَيَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَاءُ بِالْغَمَامِ وَنَزِّلُ الْمَلَائِكَةُ تَنْزِيلًا
The Day when the firmament will be rent asunder with clouds and angels will be sent down.
সেদিন আকাশ মেঘমালা সহ বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ হবে। (ফোরকান-২৫)
فَارْتَقِبُ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانِ مُبِينٍ
So watch for the day that the heaven will bring forth a kind of smoke plainly visible.
অতএব তোমরা সেদিনের প্রতীক্ষা কর যেদিন আকাশ থেকে এক ধরনের ধোঁয়া নির্গত হয়ে আকাশকে দৃশ্যমান ধূম্ররাশিতে পরিণত হবে। (দুখান-১০)
এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, আকাশ থেকে এক ধরনের ধোঁয়া নির্গত হয়ে আকাশকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে। এই কথার অর্থ হলো আকাশে গ্যাসীয়-মেঘ দেখা দেবে এবং ঐ গ্যাসীয় মেঘে সূর্য ঢাকা পড়ে যাবে। এটা সকলের জানা আছে যে, দু'টি বিপরীত শক্তি সূর্য তথা নক্ষত্রসমূহের উপর কাজ করছে। এই দু'শক্তির একটি হলো অভিকর্ষ বল অপরটি বিকিরণ চাপের দরুন প্রসারণ বল। সূর্যের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন সংযোজন (hydrogen fusion) ক্রিয়ার কারণে বিকিরণ চাপের উদ্ভব হয়। বর্তমানে এই দু'টি বিপরীত শক্তি সাম্যাবস্থা প্রযুক্ত করে রেখেছে যার দরুন সূর্য কিংবা যে কোন তারকা ভারসাম্যতা লাভ করেছে। যখন সূর্যের মোট হাইড্রোজেনের ১০% হিলিয়াম গ্যাসে রূপান্তরিত হবে তখন সূর্যের ভেতরের সাম্যাবস্থা বিঘ্নিত হবে। বিকিরণ চাপের আধিক্যের ফলে সূর্যের বহিঃ গ্যাসীয় অংশ বিরাট আকারে বিস্তার লাভ করবে এবং ধূম্ররাশিতে ঢাকা পড়ে যাবে আকাশের বিশাল অংশ।
অতএব, মহাকাশের সমাপ্তি ঘটবে এমন এক সময়ে যখন এর গড় ঘনত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং মহাকর্ষীয় শক্তির প্রাবল্য বেগবান হবে। সাথে সাথে সম্প্রসারণ গতি থেমে যাবে। ফলে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, কোয়াসার প্রভৃতি জ্যোতিষ্ক মহাকর্ষীয় টানে পরস্পরের নিকট এসে সংঘর্ষ শুরু করবে। বিশাল মহাজগৎ একটি বিন্দুতে এসে Closed হবে। এটাই হলো মহান স্রষ্টার নির্ধারিত সিদ্ধান্ত এবং তা অতি সত্য। সম্প্রতি, Closed Big Bang বা Closed Universe তত্ত্বে বিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মহাবিশ্ব (Whole universe) একটি বিন্দুতে Closed হওয়ার পর এমন এক শক্তিধর সত্তা দৃশ্যমান হয়ে উঠবে, যিনি মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ শক্তি (Gravitation and gravity) দ্বারা সমগ্র সৃষ্টি জগৎকে ধারণ করে রেখেছিলেন। তাহলে এই মহাশক্তিধর সত্তা কে?
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
All that is in the Universe will perish. And the presence of your Lord will remain forever who is full of Majesty - Bounty and Honour.
মহাবিশ্বের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে আর আপনার একমাত্র প্রভুর সত্তা অবশিষ্ট থাকবে, যিনি মহীয়ান ও গরীয়ান। (রহমান-২৬-২৭)
প্রশ্ন: পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে আমি একজন বিবাহিত পুরুষ অথচ আমার স্ত্রী সন্তান জন্ম দেয় নি। এমতাবস্থায় আমরা ডাক্তারের নিকট যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, তারপর ডাক্তার প্রথমে আমাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন এবং তার ফলাফল হলো আমি সুস্থ ত্রুটিমুক্ত, আর পরীক্ষার বাকি থাকল আমার স্ত্রী। সুতরাং এমতাবস্থায় আমি যদি তাকে পরীক্ষা করানোর উদ্দেশ্যে (পুরুষ) ডাক্তারের নিকট পেশ করি, তাহলে আমি কি গুনাহগার হব?
উত্তর: পুরুষ ব্যক্তির জন্য নারীর সেসব ডাক্তারি পরীক্ষা করা বৈধ নয়, যা লজ্জা বা লজ্জাস্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট, তবে জরুরি মুহূর্তে ও সংকটময় অবস্থায় বৈধ, আর এখানে এ রকম জরুরি কোনো ব্যাপার নেই। কারণ, এখানে নারীদের বিষয়ে অভিজ্ঞ মহিলা ডাক্তার পাওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কাজটি বিলম্বিত করা সম্ভব, আর দেশে ও বিদেশে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বহু মহিলা ডাক্তার রয়েছে।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন