📄 কিভাবে কোরআন অবতীর্ণ হয়
মহামহিম আল্লাহ তাআলা এমন একটি ঐশী গ্রন্থ অবতীর্ণ করবেন যা সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব হিসেবে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হবে। গ্রন্থটি যাঁর উপর অবতীর্ণ করবেন তিনিও সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। তাঁর নাম মুহাম্মদ (সাঃ), যার অর্থ উচ্চ প্রশংসিত। কোরআন নাজিলের ছয় মাস পূর্ব থেকে আল্লাহ পাক তাঁকে প্রস্তুত করে নিচ্ছেন স্বপ্নের মাধ্যমে। অর্থাৎ রমজান মাসে কোরআন নাজিল শুরু হয়। কিন্তু রবিউল আউয়াল মাস থেকে মুহাম্মদ (সাঃ) কে স্বপ্নযোগে প্রস্তুত করা হয়।
ইতিহাসের যুক্তিপ্রমাণ এবং কোরআন হাদীস সহ বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী প্রথম ওহী এসেছিল রমজান মাসের ২১ তারিখ সোমবার রাতে। তখন মুহাম্মদ (সাঃ) এর বয়স ছিল ৪০ বৎসর ৬ মাস ১২ দিন। এর পূর্বে ৬ মাস যাবত বিভিন্ন সময়ে তিনি স্বপ্নে দেখেছেন। কাজেই স্বপ্নের মাধ্যমে নবুওয়াতের সূচনা রবিউল আউয়াল মাসে হয়েছিল। এ মাস ছিল নবীজির (সাঃ) জন্মের মাস।
হযরত আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, প্রিয় রাসূল (সাঃ)-এর উপর ওহী নাজিলের সূচনা হয়েছিল স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন তা সোনালী সকালের মত প্রতিভাত হতো তাঁর জীবনে। এক টুকরা দৃশ্যমান জ্যোতি তাঁর আনন মোবারকে ভাস্বর হয়ে থাকত। এরপর তিনি নির্জনতা প্রিয় হয়ে ওঠেন। হেরা পর্বত গুহায় নিবিড় নিভৃতে একাকী আল্লাহ তাআলার ধ্যানে মশগুল হয়ে থাকেন এবং বিশাল সৃষ্টি ও তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীর চিন্তাভাবনা করতে থাকেন। এভাবে হেরা গুহায় রাত আর দিন কাটে। পানাহার শেষ হয়ে গেলে সেসব নেয়ার জন্য শুধু বাড়ী ফিরেন। এমনি করে এক পর্যায়ে আল্লাহর ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল (আঃ) এসে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, ইকরা (পড়ন)। নবীজী বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন। উদ্বেল কণ্ঠে বললেন, "আমি যে পড়তে জানি না।” (متلا) । ফেরেশতা তাঁকে বুকে চেপে ধরে ছেড়ে দিলেন। এরপর বললেন, পড়ুন। তিনি পুনরায় বললেন, আমি তো পড়তে জানি না। ফেরেশতা আবার তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন এবং বললেন, পড়ুন। তৃতীয় বার ফেরেশতা বুকে আলিঙ্গন করে ছেড়ে দিলেন। এরপর বললেন, পড়ুন। আর নবীজী (সাঃ) ওহীর প্রথম পাঁচ আয়াত পড়লেন,
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ، خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ ، اِقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ، عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمُ
ইকরা বিছমিল রাব্বিকাল্লাজী খালাক। খালাকাল্ ইনসানা মিন আলাক। ইকরা ওয়ারাব্বুকাল্ আকরাম। আল্লাজী আল্লামা বিল্ কালাম। আল্লামাল ইনসানা মা'লাম ইয়া'লাম।
অতঃপর নবীজী ঘরে ফিরলেন। প্রিয়তমা স্ত্রীকে বললেন, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও (زملونی زملونی)। হযরত খাদিজা (রাঃ) প্রিয় স্বামীকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দিলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কি হয়েছে? আপনি এমন কম্পমান কেন? আপনার আনন খানি এ কোন্ আলোতে ঝলমল করছে?
রাসূল (সাঃ) বললেন, একজন অভিনব ব্যক্তি আমার কাছে এসে বললেন, পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পড়তে জানি না। তারপর তিনি তিন তিনবার আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। আর আমি পড়লাম। খাদিজা (রাঃ) বললেন, আপনার ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। কেননা আপনি মানুষের উপকার করেন। মানবতার সেবা করেন। এতীমদের আশ্রয় দেন। মহান প্রভু আপনার কি কোন ক্ষতি করতে পারেন!
হযরত খাদিজা (রাঃ) প্রিয় নবীকে তাঁর চাচাত ভাই ওয়ারাকা ইবনে নওফেলের কাছে নিয়ে গেলেন। ওয়ারাকা ইবনে নওফেল ঈসায়ী ধর্ম বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং হিব্রু ভাষার পণ্ডিত ছিলেন। সে সময় তিনি দৃষ্টিহীন এবং বয়সের ভারে ন্যুজ্যমান। হযরত খাদিজা (রাঃ) বললেন, ভাইজান, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। রাসূল (সাঃ) হেরা গুহায় সংগঠিত ঘটনার কথা বর্ণনা করলেন। সব শুনে ওয়ারাকা বললেন, তিনি সে-ই দূত (জিবরাঈল (আঃ) যিনি হযরত মূসা (আঃ) এর কাছে ওহীর বাণী নিয়ে আসতেন। হায়, আমি যদি সেই সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারতাম যখন তোমার কওমের লোকেরা তোমাকে মাতৃভূমি থেকে বের করে দেবে। নবীজী অবাক হয়ে বললেন, কেন আমাকে মাতৃভূমি থেকে বের করে দেবে?
ওয়ারাকা বললেন, তুমি যে ওহী লাভ করেছ এ ধরনের ওহী যখনই কোন নবী পেয়েছেন তাঁর সাথে ভীষণ শত্রুতা করা হয়েছে। যদি আমি সেই দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারতাম তাহলে অবশ্যই তোমার সাহায্যে এগিয়ে যেতাম। এর কিছুকাল পরে ওয়ারাকা ইন্তেকাল করেন।
মুহাম্মদ (সাঃ) উপলব্ধি করতে সক্ষম হলেন তিনি নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি আরো বুঝতে সক্ষম হলেন, তাঁর কাছে যিনি এসেছিলেন তিনি ওহীর বাণীবাহক, আসমানী সংবাদ বাহক। এরূপ বিশ্বাস তাঁর মনে বদ্ধমূল হওয়ার পর তিনি অধীর আগ্রহে ওহীর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তাঁকে দৃঢ় হয়ে থাকতে হবে এবং এ দায়িত্ব বহন করতে হবে। মানসিক অবস্থার এ পর্যায়ে হযরত জিবরাঈল (আঃ) পুনরায় ওহী নিয়ে হাজির হলেন। এভাবে ক্রমান্বয়ে ওহী নাজিল হতে থাকে এবং তেইশ বছর ব্যাপী আল-কোরআনের সমস্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়।
ওহী বিভিন্ন রকম
প্রিয় নবী (সাঃ) এর উপর ওহী অবতীর্ণ হতো সুস্পষ্ট বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে। 'আর রাহীকুল মাখতুম' গ্রন্থে নিম্নোক্ত কয়েক প্রকারের অবতীর্ণ ওহীর কথা উল্লেখ রয়েছে।
এক. স্বপ্নের মাধ্যমে রাসূল (সাঃ) এর উপর ওহী নাজিল।
দুই. ফেরেশতা তাঁকে দেখা না দিয়ে অর্থাৎ অদৃশ্য অবস্থায় থেকে তাঁর মনে কথা বসিয়ে দিতো। যেমন নবীজী (সাঃ) বলেছেন, "রুহুল কুদ্দুস আমার মনে একথা বসিয়ে দিয়েছেন যে, রিজিক পাওয়ার পূর্বে কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে না। কাজেই আল্লাহপাককে ভয় কর এবং উত্তম রিযিক সন্ধান কর। রিজিক পেতে বিলম্ব হলে আল্লাহর নাফরমানীর মাধ্যমে তা অনুসন্ধান করো না। কেননা আল্লাহর কাছে যা কিছু রয়েছে সেসব সামগ্রী তাঁর আনুগত্য ব্যতীত পাওয়া যায় না।"
তিন. ফেরেশতা মানুষের আকৃতি ধারণ করে তাঁকে সম্বোধন করতেন এবং যা কিছু বলতেন নবীজী (সাঃ) সাথে সাথে মুখস্থ করে নিতেন। এসময় কখনো কখনো সাহাবারাও ফেরেশতাকে দেখতে পেতেন।
চার. রাসূল (সাঃ) এর কাছে ওহী ঘণ্টা ধ্বনির শব্দ তরঙ্গে আসতো। এটি ছিল ওহীর সবচেয়ে কঠিন অবস্থা। এ অবস্থায় ফেরেশতা তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং প্রচণ্ড শীতের মৌসুমেও তিনি ঘর্মাক্ত হয়ে যেতেন। তাঁর কপাল মোবারক থেকে ঘাম ঝরে পড়তো। তিনি উটের উপর উপবিষ্ট থাকলে উটসহ মাটিতে বসে পড়তেন।
পাঁচ. তিনি ফেরেশতাদের প্রকৃত রূপ দেখেছেন দুইবার। এ অবস্থায়ই আল্লাহ পাক তাঁর কাছে ওহী পাঠিয়েছেন আল-কোরআনের সূরা নাজমে একথা উল্লেখ আছে।
ছয়. মে'রাজের রাতে নামাজ ফরজ হওয়ার ওহী এবং অন্যান্য বিষয়ক ওহী প্রিয় নবী (সাঃ) উর্ধ্বলোকে অবস্থানকালে সেখানেই নাজিল হয়েছিল।
সাত. ফেরেশতার মাধ্যম ছাড়া আল্লাহপাক নবীজীর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, যা মে'রাজের হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
আট. আর এক প্রকার ওহীর কথা জানা যায়। এটি হচ্ছে আল্লাহ তাআলার মুখোমুখি পর্দাবিহীন অবস্থায় কথা বলা।
সুতরাং যদি আমাদের বোধশক্তি থাকে তাহলে আমরা বুঝে নিতে পারবো যে, কোরআন নাজিলের এরূপ বিচিত্র পদ্ধতি তাঁর ঐশী বৈশিষ্ট্যের স্পষ্ট প্রমাণ। যারা একথা বিশ্বাস করে কোরআন নাজিলের ইতিহাস তাদেরকে এজন্য পাঠ করতে হবে যেন কোরআন অধ্যয়ন করে এর গবেষণা কর্মে নিজেদের নিয়োজিত করা যায়। তাই আল্লাহপাক কোরআনের অধ্যয়নগুলোর উপর চিন্তাভাবনা করার উপদেশ দিয়েছেন। এরূপ চিন্তাভাবনার কর্মে যারাই নিয়োজিত হয় কোরানিক জ্ঞানের কর্তৃত্ব তাদেরকে দান করা হয়।
হেরা পর্বত গুহা বা জাবালে নূর। এখানে নবীজী (সাঃ) গভীর ধ্যানে মশগুল হয়ে থাকতেন এবং প্রথম ওহীর বাণী এখানেই অবতীর্ণ হয়।
প্রথম পর্বে অবতীর্ণ আয়াতসমূহ
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ، خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ ، اِقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ، عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمُ
(১) পাঠ করুন আপনার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন (মহাবিশ্বের সমস্ত সৃষ্টি)
(২) সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জোঁক সদৃশ রক্ত জমাট থেকে।
(৩) পাঠ করুন! আপনার প্রভু মহানুভব।
(৪) যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন।
(৫) শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। (সূরা আলাক)
দ্বিতীয় পর্বে অবতীর্ণ আয়াতসমূহ
نَ وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ . مَا أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونِ ، وَإِنَّ لَكَ لَأَجْرًا غَيْرَ مَمْنُونٍ. وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ .
(১) নূন, কলমের শপথ, আর যা লিখা হচ্ছে তারও শপথ।
(২) আপনি আপন প্রভুর কৃপায় পাগল কিংবা আছর গ্রস্ত নন।
(৩) অবশ্যই আপনার জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।
(৪) নিশ্চয়ই আপনি (হে মুহাম্মদ সাঃ) সর্বাপেক্ষা গৌরবান্বিত আদর্শ চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত। (সূরা নূন ওয়াল-কলম)
তৃতীয় পর্বে অবতীর্ণ আয়াতসমূহ
يَأَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ . قُمِ الَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا . نِصْفَهُ أَوِ انْقُصُ مِنْهُ قَلِيلًا ، أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا . إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا.
(1) O, you folded in garments! (2) Stand (to pray) by night but not all night. (3) Half of it or a little less than that. (4) Or a little more and recite the Quran in slow measured rhythmic tones. (5) Soon shall We send down to you a weighty Message.
(১) হে পোশাক আবৃত (মুহাম্মদ সাঃ!) (২) রাত্রিকালে সালাত কায়েম করুন কিন্তু রজনী ব্যাপী নহে। (৩) রাতের অর্ধেক কিংবা তা অপেক্ষা কিছুটা কম। (৪) অথবা তা অপেক্ষা কিছুটা বেশী এবং ধীর লয়ে ছন্দময় সূরে কোরআন পাঠ করুন। (৫) শীঘ্রই আমরা আপনার প্রতি একটি ভারী ওহী পাঠাব। (সূরা মুজ্জাম্মিল)
চতুর্থ পর্বে অবতীর্ণ ভারী ওহী
يَأَيُّهَا الْمُدَّثِرُ . قَمْ فَانْذِرُ . وَرَبَّكَ فَكَبِّرُ ، وَثِيَابَكَ فَطَهِّرُ . وَالرُّجْزَ فَاهْجُرُ . وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ . وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرُ . فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُورِ . فَذلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمٌ عَسِيرٌ . عَلَى الْكَفِرِينَ غَيْرُ يَسِيرِ . ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا . وَجَعَلْتُ لَهُ مَالًا مَّمْدُودًا . وَبَنِينَ شُهُودًا . وَمَهَدْتُ لَهُ تَمْهِيدًا . ثُمَّ يُطْمَعُ أَنْ أَزِيدَ . كَلَّا إِنَّهُ كَانَ لا يُتِنَا عَنِيدًا . سَأَرْهِقُهُ صَعُودًا . إِنَّهُ فكَرَ وَقَدَّرَ . فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ . ثُمَّ نَظَرَ - ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ . ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ . فَقَالَ إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرُ يُؤْثِرُ . إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ . سَأَصْلِيْهِ سَفَرَ . وَمَا أَدْرَكَ مَا سَفَرُ لَا تُبْقَى وَلَا تَذَرُ . لَوَاحَةٌ لِلْبَشَرِ . عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ
(1) O, you enveloped in garments! (2) Arise and warn!
(৩) And magnify of your Lord!
(৪) And purify your garments!
(৫) And all abomination shun!
(৬) And give not a thing in order to have more.
(৭) And be patient for the sake of your Lord!
(৮) Finally when the trumpet is sounded.
(৯) Truly That day will be a hard day.
(১০) Far from easy for the disbelievers!
(১১) Leave Me alone with the creature whom I created alone!
(১২) And then I granted resources in abundance!
(১৩) And sons to be, by his side!
(১৪) And made life smooth and comfortable for him!
(১৫) Yet is he greedy that I should add yet more.
(১৬) By no means! he has been opposing our Ayat.
(১৭) Soon will I visit him with a mount of calamities!
(১৮) For, he thought and he plotted.
(১৯) And woe to him! How he plotted!
(২০) Yes, woe to him, how he plotted!
(২১) Then he looked round!
(২২) Then he frowned and he scowled!
(২৩) Then he turned back and was haughty!
(২৪) Then he said, "This is nothing but magic, from that of old.
(২৫) This is nothing but the word of a mortal!
(২৬) Soon will I cast him into hell fire!
(২৭) And what will explain to you what hell-fire is!
(২৮) Naught do it permit to endure and not do it leave alone!
(২৯) Darkening and changing the colour of skins!
(৩০) Over it are Nineteen.
(১) ওহে চাদর আবৃত! (২) ওঠে পড়ুন আর আপনার প্রভুর সাবধান বাণী প্রচার করুন। (৩) আপনার প্রভুর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন! (৪) আর আপনার পোশাক কলঙ্ক মুক্ত করুন! (৫) আর অপবিত্রতা পরিহার করুন। (৬) অধিক প্রতিদানের আশায় অন্যকে কিছু দিবেন না। (৭) অধিকন্তু আপনার প্রভুর জন্য ধৈর্য ধারণ করুন! (৮) যে দিন মহানিনাদ উত্থিত হবে! (৯) সেদিন হবে খুব কঠিন দিন! (১০) অবিশ্বাসীদের জন্য এটা সহজ হবে না। (১১) আমাকে এবং ঐ ব্যক্তিকে একাকী থাকতে দিন যাকে আমি সৃষ্টি করেছি। (১২) আমি তাকে বিপুল ধন-সম্পদ দিয়েছি। (১৩) আর দিয়েছি পাশে অবস্থানকারী পুত্রদের। (১৪) স্বচ্ছলতা দান করেছি। (১৫) তবুও সে এ-ই লালসা করে যে, আরো বেশী করে দিই! (১৬) কিছুতেই না! সে আমাদের বিধান সমূহের বিরোধিতাকারী। (১৭) অচিরেই তাকে শাস্তির পর্বতে চড়াব। (১৮) সে চিন্তা করেছে এবং একটি চক্রান্ত স্থির করেছে। (১৯) তার জন্য রয়েছে ধ্বংস। কেমন চক্রান্ত স্থিরকারী সে! (২০) হ্যাঁ, তার জন্য রয়েছে ধ্বংস! কেমন চক্রান্তকারী সে! (২১) সে আবার চারিদিকে দৃষ্টিপাত করেছে। (২২) অতঃপর সে ভ্রুকুঞ্চিত করেছে এবং মুখ বিকৃত করেছে। (২৩) অতঃপর পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে এবং অহংকার করেছে। (২৪) এরপর বলেছে এটা প্রাচীন গ্রন্থ থেকে নকল করা যাদু ভিন্ন কিছুই নয়। (২৫) এটা তো একজন ক্ষণজীবীর কথা ভিন্ন আর কিছুই নয়! (২৬) শীঘ্রই আমি তাকে দোযখের আগুনে নিক্ষেপ করব। (২৭) আর আপনাকে কি করে ব্যাখ্যা করি যে দোযখের আগুন কেমন! (২৮) এটা কোন কিছু বাকীও রাখে না কোন কিছু ছেড়েও দেয় না। (২৯) এটা মানুষের বর্ণ বিবর্ণ করে পরিবর্তন করে দেয়। (৩০) এর উপর উনিশ। (সূরা মুদ্দাচ্ছির)
📄 ওহী বিভিন্ন রকম
প্রিয় নবী (সাঃ)-এর উপর ওহী অবতীর্ণ হতো সুস্পষ্ট বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে। 'আর-রাহীকুল মাখতুম' গ্রন্থে নিম্নোক্ত কয়েক প্রকারের অবতীর্ণ ওহীর কথা উল্লেখ রয়েছে।
এক. স্বপ্নের মাধ্যমে রাসূল (সাঃ)-এর উপর ওহী নাযিল।
দুই. ফেরেশতা তাঁকে দেখা না দিয়ে অর্থাৎ অদৃশ্য অবস্থায় থেকে তাঁর মনে কথা বসিয়ে দিতো। যেমন নবীজী (সাঃ) বলেছেন, "রূহুল কুদ্দুস আমার মনে এ কথা বসিয়ে দিয়েছেন যে, রিযিক পাওয়ার পূর্বে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে না। কাজেই আল্লাহপাককে ভয় করো এবং উত্তম রিযিক সন্ধান করো। রিযিক পেতে বিলম্ব হলে আল্লাহর নাফরমানীর মাধ্যমে তা অনুসন্ধান করো না। কেননা আল্লাহর কাছে যা কিছু রয়েছে সেসব সামগ্রী তাঁর আনুগত্য ব্যতীত পাওয়া যায় না।"
তিন. ফেরেশতা মানুষের আকৃতি ধারণ করে তাঁকে সম্বোধন করতেন এবং যা কিছু বলতেন নবীজী (সাঃ) সাথে সাথে মুখস্থ করে নিতেন। এ সময় কখনো কখনো সাহাবারাও ফেরেশতাকে দেখতে পেতেন।
চার. রাসূল (সাঃ)-এর কাছে ওহী ঘণ্টা ধ্বনির শব্দ তরঙ্গে আসতো। এটি ছিল ওহীর সবচেয়ে কঠিন অবস্থা। এ অবস্থায় ফেরেশতা তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং প্রচণ্ড শীতের মৌসুমেও তিনি ঘর্মাক্ত হয়ে যেতেন। তাঁর কপাল মোবারক থেকে ঘাম ঝরে পড়তো। তিনি উটের উপর উপবিষ্ট থাকলে উটসহ মাটিতে বসে যেতেন।
পাঁচ. তিনি ফেরেশতাদের প্রকৃত রূপ দেখেছেন দুইবার। এ অবস্থায়ই আল্লাহপাক তাঁর কাছে ওহী পাঠিয়েছেন। আল-কুরআনের সূরা নাজমে এ কথা উল্লেখ আছে।
ছয়. মি'রাজের রাতে নামাজ ফরজ হওয়ার ওহী এবং অন্যান্য বিষয়ক ওহী প্রিয় নবী (সাঃ) ঊর্ধ্বলোকে অবস্থানকালে সেখানেই নাযিল হয়েছিল।
সাত. ফেরেশতার মাধ্যম ছাড়া আল্লাহপাক নবীজীর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, যা মি'রাজের হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
আট. আর এক প্রকার ওহীর কথা জানা যায়। এটি হচ্ছে আল্লাহ তাআলার মুখোমুখি পর্দাবিহীন অবস্থায় কথা বলা।
সুতরাং যদি আমাদের বোধশক্তি থাকে তাহলে আমরা বুঝে নিতে পারবো যে কোরআন নাযিলের এরূপ বিচিত্র পদ্ধতি তাঁর ঐশী বৈশিষ্ট্যের স্পষ্ট প্রমাণ। যারা এ কথা বিশ্বাস করে কোরআন নাযিলের ইতিহাস তাদেরকে এজন্য পাঠ করতে হবে যেন কোরআন অধ্যয়ন করে এর গবেষণাকর্মে নিজেদের নিয়োজিত করা যায়। তাই আল্লাহপাক কোরআনের অধ্যয়নগুলোর উপর চিন্তা-ভাবনা করার উপদেশ দিয়েছেন। এরূপ চিন্তা-গবেষণার কর্মে যারাই নিয়োজিত হয় কোরআনিক জ্ঞানের কর্তৃত্ব তাদেরকে দান করা হয়।
হেরা পর্বত গুহা বা জাবালে নূর। এখানে নবীজী (সাঃ) গভীর ধ্যানে মশগুল হয়ে থাকতেন এবং প্রথম ওহীর বাণী এখানেই অবতীর্ণ হয়।
📄 প্রথম পর্বে অবতীর্ণ আয়াত সমূহ
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ . خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ . اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ . الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَم . عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ .
(১) পাঠ করুন আপনার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন (মহাবিশ্বের সমস্ত সৃষ্টি)
(২) সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জোঁক সদৃশ রক্ত জমাট থেকে।
(৩) পাঠ করুন! আপনার প্রভু মহানুভব।
(৪) যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন।
(৫) শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। (সূরা আলাক)
📄 দ্বিতীয় পর্বে অবতীর্ণ আয়াত সমূহ
দ্বিতীয় পর্বে অবতীর্ণ আয়াতসমূহ
نَ وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ . مَا أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونِ ، وَإِنَّ لَكَ لَأَجْرًا غَيْرَ مَمْنُونٍ. وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ .
(১) নূন, কলমের শপথ, আর যা লিখা হচ্ছে তারও শপথ।
(২) আপনি আপন প্রভুর কৃপায় পাগল কিংবা আছরগ্রস্ত নন।
(৩) অবশ্যই আপনার জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।
(৪) নিশ্চয়ই আপনি (হে মুহাম্মদ সাঃ) সর্বাপেক্ষা গৌরবান্বিত আদর্শ চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত। (সূরা নূন ওয়াল-কলম)