📘 Biggan moy quran > 📄 ক্লোনিং

📄 ক্লোনিং


وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
And He gave you senses of hearing and sight and hearts so that you may give thanks to Allah.
এবং তিনি তোমাদের দান করেছেন শ্রবণ অনুভূতি, দৃষ্টি শক্তি এবং হৃদয়, যেন তোমরা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার। (নাহল ৭৮)

ক্লোনিং

هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِّنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ
It is He who created you from a single self.
তিনি আল্লাহ যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র নাফস থেকে। (আরাফ-১৮৯)

স্বাভাবিকভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতে বংশ বিস্তার ঘটে যৌন মিলন প্রক্রিয়ায়। এ প্রক্রিয়ায় Sperm দ্বারা ovum নিষিক্ত (Fertilized) হলেই ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পরাগায়ণ (pollination) পদ্ধতিতে পুংরেণু এবং স্ত্রীরেণুর মধ্যে মিলন ঘটে।

কিন্তু স্বামী-স্ত্রী বা বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে মিলন ব্যতিরেকে প্রাণী সৃষ্টি হতে পারে কি? বিজ্ঞানের কাছে এটি ছিল এক কঠিন জিজ্ঞাসা। এ জিজ্ঞাসার জবাবে বিজ্ঞানীরা কীট-পতঙ্গের মধ্যে পার্থেনোজেনিসিস (Parthenogenesis) প্রক্রিয়ায় বংশ বিস্তারে সক্ষম হয়েছেন।

Parthenogenesis মৌমাছির মধ্যে প্রয়োগ করে সফল হওয়ার পর শশক জাতীয় (Rabbit) প্রাণীর উপর পরীক্ষা করা হয়। তাতেও সফলতা আসে। এরপর জীববিজ্ঞানীরা মানুষের ভ্রূণ (human embryo) নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করেন এবং একটি নিষিক্ত Ovum ধাই মাতার (foster mother) গর্ভে স্থাপন করে অপেক্ষা করতে থাকেন। ফলে যথাসময়ে একটি স্বাভাবিক শিশু জন্ম লাভ করে। যার নাম দেওয়া হয় 'Test Tube Baby'। এ পদ্ধতিতে জন্মলাভকারী প্রথম টেস্ট টিউব বেবির নাম লুইসা ব্রাউন। বর্তমানে পার্থেনোজেনিসিস প্রক্রিয়ায় পশু-পাখির উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে।

এরপর ১৯৯৭ সালে বিজ্ঞানীরা ক্লোনিং (cloning) পদ্ধতিতে ভেড়া-শাবক বের করে বিশ্বময় চমক সৃষ্টি করেন। স্কটল্যান্ডের রোজলিন ইন্সটিটিউটের ভ্রূণ বিজ্ঞানী ডঃ ইয়ান উইলমুট এবং তার সহকর্মীরা ভেড়ার দেহ কোষকে (cell body) ক্লোনিং করে সাতটি মেষ শাবক বের করেন যাদের শারীরিক গঠন পরস্পর একই রকম এবং এদের কোনো পিতা নেই।

একটি মাত্র কোষ থেকে জীবন শুরু হলেও বিভাজনের ফলে ভ্রূণের বিভিন্ন কোষ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হয়। যেমন, কোনো কোনো কোষ মস্তিষ্ক গড়ে তোলে, কোনো কোষ হৃদপিণ্ড গড়ে তোলে, কেউ নিয়োজিত হয় চুল, নখ, নাক, কান ইত্যাদি রূপায়ণে। আর এটাকে বলা হয় ডিফারেনশিয়েশন। ভেড়ার দেহ কোষকে ক্লোনিংয়ের পথে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে বিজ্ঞানীরা কোষের ডিফারেনশিয়েশন বন্ধ করতে সক্ষম হন। অর্থাৎ কোষটির নিউক্লিয়াসের DNA তে জিনগুলি সব একই অবস্থায় থাকে। Sperm এবং ovum এর মিলনে উৎপন্ন জনের বেলায় ঠিক এ ঘটনাই ঘটে। ডঃ উইলমুট ও তার দল প্রথমে গর্ভবতী একটি ভেড়ার স্তনের কিছু কোষ সংগ্রহ করে, কোষগুলোকে বিশেষ রাসায়নিক পদার্থে রেখে দেন এবং ক্রমশ কোষগুলির পুষ্টির উপাদান সরিয়ে নিতে থাকেন। এর ফলে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম অর্থাৎ ডিফারেনশিয়েশন বন্ধ হয়ে যায়।

পরের ধাপে বিজ্ঞানীরা অন্য একটি ভেড়ার ডিম্বাশয় থেকে একটি অনিষিক্ত ovum সংগ্রহ করেন। সে অনিষিক্ত ovum থেকে জটিল বৈজ্ঞানিক উপায়ে DNA সমেত নিউক্লিয়াস অপসারণ করে গর্ভবতী ভেড়ার স্তন থেকে সংগৃহীত কোষ সেখানে স্থাপন করেন এবং বৈদ্যুতিক স্পার্কের মাধ্যমে DNA টি নিষিক্ত করেন। ফলে একটি নতুন ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। এর ঠিক ছ'দিন পরে ভ্রূণটি প্রতিস্থাপন করা হয় তৃতীয় আর একটি ভেড়ার জরায়ুতে। আর প্রতিস্থাপিত ভ্রূণ থেকে জন্ম নেয় একটি মেষ শাবক যার নাম দেওয়া হয় ডলি। এভাবে আরও ৬টি ভেড়া জন্ম নেয়, যাদের চেহারা, রং এবং শারীরিক গঠন হুবহু এক ও অভিন্ন। পিতা ছাড়া ডলির জন্ম হয়। অর্থাৎ ক্লোনিং প্রক্রিয়ায় Sperm এর প্রয়োজন নেই।

বিজ্ঞানীরা অতি সম্প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন যে, একটি দেহ কোষকে ক্লোনিং করে এভাবে মানব শিশুর কপি বের করা যাবে। কোনো পুরুষের Sperm প্রয়োজন হবে না। এমনকি যদি কেউ তার ইচ্ছানুরূপ সন্তান পেতে চায় তাহলে তাও ক্লোনিং প্রক্রিয়ায় বের করা সম্ভব। যেমন, কেউ যদি পুত্র সন্তান পেতে চায় তার গায়ের রং, শারীরিক গঠন, চুল, কান, নাক, ইত্যাদি পূর্বে নির্বাচিত করেই ক্লোনিং করা যাবে। তবে এটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।

মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় মহান আল-কোরআন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রেখেছেন গোটা মানব জাতির সামনে। তা হচ্ছে আল্লাহর বিশিষ্ট নবী হযরত ঈসা (আঃ) এর জন্ম। (যার জন্ম হয়েছে পিতা ছাড়া)। ইয়াহুদি আর খ্রিস্টানরা বলে থাকে যে, কোনো কুমারী নারীর সন্তান হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। এখন তাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয় ক্লোনিং কি করে সম্ভব হলো, যেখানে পিতার প্রয়োজন হয় না। প্রকৃতপক্ষে যে কোষ নিয়ে ক্লোনিং করা হয় সে কোষটির (Cell) মধ্যে অবশ্যই ভ্রূণ সৃষ্টির প্রয়োজনীয় উপাদান ও প্রাণ থাকে। আরবীতে প্রাণকে বলা হয় রূহ। রূহ নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা করেছেন। কিন্তু কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি। ভবিষ্যতেও পারবে না। কেননা এ বিষয়ে মানুষকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে খুব সামান্য। রূহ সংক্রান্ত জ্ঞান আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। তবে বিজ্ঞানীদের গবেষণা এখনো থামেনি। জার্মান রসায়ন বিজ্ঞানী Baron Von Riechenbach বলেছেন, মানুষ, গাছপালা ও পশু-পাখির শরীর থেকে বিশেষ এক প্রকার জ্যোতি বের হয়। বৃটিশ ডাক্তার ওয়াল্টার কিলনার Dicyanin Dye রঞ্জিত কাচের ভেতর দিয়ে লক্ষ্য করেন, মানুষের দেহের চারপাশে ৬-৮ সেন্টিমিটার পরিমিত স্থান জুড়ে একটি উজ্জ্বল আলোর আভা মেঘের মত ভাসে। এরপর সাবেক সোভিয়েত বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গুরভিচ আবিষ্কার করেন যে, জীবন্ত সব কিছু থেকে বিশেষ একটি শক্তি আলোর আকারে বের হয় যা খালি চোখে দেখা যায় না। কিরলিন ফটোগ্রাফির মাধ্যমে প্রাণী দেহের বিচ্ছুরিত এ আলোক রশ্মির ছবি তোলা হয় যার উৎস হচ্ছে রূহ বা প্রাণ।

অতএব রূহ সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণার সীমা এখানেই শেষ। অর্থাৎ 'রূহ' বিষয়ক গবেষণা তেমন অগ্রসর হবে না। এখন আল-কোরআন সে বিষয়ে বলছে-

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوْحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيْتُمْ مِّنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا.
They ask you concerning the spirit, say, the spirit is a command coming from your Lord and the knowledge thereof you have been given a little.
ওরা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে আপনি জবাব দিন, রূহ হচ্ছে আমার প্রভুর পক্ষ থেকে আসা একটি আদেশ। তবে এ বিষয়ে তোমাদের খুব সামান্য জ্ঞান দান করা হয়েছে। (বনী ইসরাইল-৮৫)

অতএব আল্লাহ তাআলার আদেশ ঘটিত রূহ যখন হযরত মারিয়াম (আঃ) এর গর্ভে প্রবিষ্ট হয় তখন সাথে সাথে হযরত ঈসার ভ্রূণ সৃষ্টি হয়ে যায়। মানুষ সৃষ্টির জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ক্লোনিং প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। ঐশী আদেশ- 'কুন' বলাটাই যথেষ্ট।

১. Parthenogenesis হচ্ছে sperm (শুক্রাণু) ছাড়া ovum কে পরিপুষ্ট করে ভ্রূণ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া।
২. ক্লোনিং অর্থ হুবহু নকল বা কার্বন কপি অর্থাৎ একই আকার আকৃতি বিশিষ্ট, একই শারীরিক গঠন সমৃদ্ধ, একই রং এবং একই লিঙ্গের দুই বা ততোধিক প্রাণী বের করার নাম ক্লোনিং। বিজ্ঞানীরা বলেছেন এ প্রক্রিয়ায় নাকি মানুষও বের করা যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মানুষের ক্লোনিং শুরু হলে সামাজিক বিপর্যয় নেমে আসবে। একে অপরকে ব্ল্যাকমেইল, প্রতারণা, নারী নির্যাতন এবং আরও অন্যান্য জটিল সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাই ক্লোনিং প্রক্রিয়ায় মানুষ সৃষ্টি করা একটি গর্হিত কাজ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00