📘 Biggan moy quran > 📄 নিউরন

📄 নিউরন


নিউরন বুদ্ধি ও অনুভূতির আধার মানব মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্রস্থল। মস্তিষ্ক (Brain) আল্লাহর এক বিস্ময়কর সৃষ্টি কর্ম যার মধ্যে নিহিত আছে ১৪ বিলিয়ন নিউরন (Neuron)। সমগ্র জীবদেহের মূল উপাদান হচ্ছে জীবকোষ (Cell body)। এ জীবকোষের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট যে কোষ, যা দ্বারা ইন্দ্রিয়, পেশী, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুমন্ডল গঠিত হয়েছে, তার নাম নিউরন।

অগ্রমস্তিষ্ক (Prosencephalon) অঞ্চলে অবস্থিত থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস যা সংবেদী অঙ্গ থেকে আসা যে কোন সংকেত দ্রুত গ্রহণ করে এবং বুদ্ধি, অনুভূতি, চিন্তা, ইচ্ছাশক্তি, উদ্ভাবনী শক্তি, চেতনা শক্তি, প্রভৃতি মানসিক বোধের নিয়ন্ত্রণ করে। বিজ্ঞানীরা হাইপোথ্যালামাসকে আবেগের কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। শরীরের আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উদ্দীপনার সংকেত যখন স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে তখন নিউরন তা গ্রহণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রেরণ করে। যেমন, দেহের কোন অংশ একটুখানি স্পর্শ করলে, কিংবা গরম বা ঠান্ডা অনুভব করলে অথবা কেউ চিমটি কাটলে সংশ্লিষ্ট স্নায়ুতন্ত্র সাথে সাথে নিউরনকে সংকেত পাঠায়। Neuron অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয় হাত সরিয়ে নাও অথবা চিমটি কাটা স্থানে একটুখানি মেসেজ করে নাও। এটি কোন অধীত বিদ্যার ফসল নয় বরং নিউরন থেকে আসা সিদ্ধান্তের ফল, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগঠিত হয়। যদি কেউ পিন দ্বারা খোঁচা দেয় তখন কি ঘটে। পিনের খোঁচা বাহ্যিক উদ্দীপক (Stimulus)। ত্বকের গ্রাহক (Receptor) কোষ উদ্দীপনা গ্রহণ করে সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। সেখান থেকে নির্দেশ আসে Motor nerve এর মাধ্যমে পেশীতে। তারপর হাত সরিয়ে নেয়া হয়। চলার পথে আপনি বিপদগ্রস্ত হয়েছেন। কিংবা কোন ভয়ানক জন্তুর সামনে পড়ে গেছেন। এমতাবস্থায় Neuron সিদ্ধান্ত দেবে, কারো সাহায্যের জন্য চিৎকার কর কিংবা একটি লাঠি হাতে নাও অথবা গাছ বেয়ে উপরে ওঠে যাও। এভাবে আমাদের বুদ্ধি, বিবেচনা এবং সিদ্ধান্ত প্রদানকারী স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষুদ্রতম একক নিউরন।

অতএব নিউরন এতই বিস্ময়কর স্নায়ুকোষ যার বহুবিধ কার্যপ্রণালী বিজ্ঞানীদের আকুল পাথারে ফেলে দিয়েছে।

سَنُرِيهِمُ ابْتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ
We will show our signs in your own selves.
আমাদের নির্দেশনা সমূহ তোমাদের নিজেদের মধ্যে প্রতিভাত হবে। (হা-মীম ৫৩)

وَفِي الْأَرْضِ ايْتُ لِلْمُوقِنِينَ. وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ.
On the earth are signs for those of assured faith as also in your own selves, will you not then see?
পৃথিবী জুড়ে রয়েছে একান্ত বিশ্বাসীদের জন্য অনেক প্রমাণ, আরো রয়েছে তোমাদের নিজেদের মধ্যে। তারপরেও কি তোমরা প্রত্যক্ষ করবে না? (যারিয়াত ২০-২১)

মানুষের মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্রের একক নিউরনকে আল-কোরআন 'আয়াত' (Sign) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যাতে করে জ্ঞানী লোকেরা এসব আয়াতের বিস্ময়কর তথ্যাবলী আবিষ্কার করে নেয়। আর আল্লাহ তা'আলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

📘 Biggan moy quran > 📄 হৃদপিন্ড (Hearts)

📄 হৃদপিন্ড (Hearts)


হৃদপিন্ড (Hearts)
মহান আল্লাহ তা'আলার আর একটি অসাধারণ সৃষ্টি হৃদপিন্ড (hearts)। এটি দেহের সমস্ত অংশে রক্ত সঞ্চারণের জন্য পাম্প যন্ত্রের (pumping machine) মতো কাজ করে। চলমান এ যন্ত্রটি দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে শিরার (vein) মাধ্যমে আনীত রক্ত ধমনীর (artery) সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রেরণ করে। হৃদপিন্ড প্রতিটি সুস্থ মানুষের জীবদ্দশায় গড়ে ২৬০০ মিলিয়ন বার স্পন্দিত হয়ে প্রতিটি নিলয় (ventricle) থেকে প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন লিটার (দেড় লক্ষ টন) রক্ত বের করে দেয়।

হৃদপেশী দ্বারা নির্মিত হৃদপিন্ড, যার মধ্যে রয়েছে চারটি প্রকোষ্ঠ ও চারটি ভাল্ভ। এটি সংকোচন (systole) এবং প্রসারণ (diastole) প্রক্রিয়ায় শিরার মাধ্যমে দূষিত রক্ত টেনে আনে। এরপর উক্ত রক্ত পরিশুদ্ধ করে ধমনীর সাহায্যে শরীরের বিস্তৃত অংশে ছড়িয়ে দেয়। হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণ প্রক্রিয়ায় যে ছন্দময় স্পন্দন উদগত হয় তা জীবনের গতি সচল রাখে। এ স্পন্দন বন্ধ হলেই জীবনের সমাপ্তি ঘটে। প্রতিবার হৃদ স্পন্দনের সময় কতগুলো পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন ঘটে এবং পরবর্তী স্পন্দনের সময় তার পুনরাবৃত্তি হয়। এটাকে বলা হয় হৃদ চক্র (cardiac cycle)। সুস্থ মানবদেহে হৃদপিন্ড প্রতিমিনিটে ৬০-৭০ বার অর্থাৎ গড়ে ৬৫ বার স্পন্দিত হয় এবং প্রতিটি চক্রে সময় লাগে মাত্র ০.৮ সেকেন্ড।

আলিন্দের ঘটনা প্রবাহঃ নিলয়ের ঘটনা প্রবাহঃ
অলিন্দের সংকোচন = ০.১ সেঃ নিলয়ের সংকোচন = ০.৩ সেঃ
অলিন্দের প্রসারণ = ০.৭ সেঃ নিলয়ের প্রসারণ = ০.৫ সেঃ
= ০.৮ সেকেন্ড = ০.৮ সেকেন্ড
وَهُوَ الَّذِي أَنْشَأَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ.
It is He Who created for you ears, eyes and hearts; little thanks do you give.
তিনি সেই মহান সত্তা যিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ এবং হৃদয় সৃষ্টি করেছেন, অথচ তোমরা খুব কম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (মুমিনুন-৭৮)

হৃদপিন্ডের কার্যপ্রণালী অত্যন্ত জটিল। দেহের ভিতরে রক্ত গতিশীল রাখাই হৃদপিন্ডের কাজ। শরীরের ঊর্ধ্বভাগ থেকে CO₂ সমৃদ্ধ দূষিত রক্ত সুপেরিয়র ভেনা ক্যাভা এবং নিম্নভাগ থেকে ইনফেরিয়র ভেনা ক্যাভার মাধ্যমে হৃদপিন্ডের ডান অলিন্দে (Right atrium) প্রবেশ করে। সেখান থেকে দক্ষিণ নিলয়ে বাহিত হয়। ফুসফুস থেকে O₂ সমৃদ্ধ রক্ত, দু'টি ফুসফুসীয় শিরার মাধ্যমে বাম অলিন্দে পৌঁছায়। সেখান থেকে রক্ত বাম নিলয়ে চলে যায়। এটাই হার্টের আসল কর্মপ্রক্রিয়া।

ডান অলিন্দ ফুসফুস
পালমোনারী- মহাধমনী -পালমোনারী শিরা
মহাশিরা- -বাম অলিন্দ
ডান নিলয়- -বাম নিলয়
সিস্টেমিক মহাধমনী
হৃদপিন্ডে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া

দক্ষিণ অলিন্দের গাত্রে এক ধরনের বিশেষ কোষ হার্টের পেসমেকার বা গতি নির্ধারক হিসেবে কাজ করে। এর নাম Sino Atrial node সংক্ষেপে S.A. Node। হার্টের উপর দিয়ে প্রবাহিত বৈদ্যুতিক প্রবাহ বা ঢেউ এখান থেকে শুরু হয়। S.A. Node নষ্ট হয়ে গেলে আজকাল কৃত্রিম পেসমেকার লাগিয়ে রোগীকে কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখা হয়। হার্টের স্বাভাবিক কর্মকান্ডের জন্য যে দু'টি রক্তনালী দ্বারা রক্ত পৌঁছায় ঐ দু'টি রক্তনালীর নাম করোনারী ধমনী। করোনারী ধমনীর অনেক শাখা প্রশাখা হৃদপিন্ডের পেশীর ভিতরে বিস্তার লাভ করে এবং কোষ সমূহের স্বাভাবিক কাজ কর্ম ঠিক রাখে। কিন্তু হার্টের কাজকর্মে বিপত্তির কারণ করোনারী ধমনীতে জমে যাওয়া একদলা রক্ত কিংবা এক টুকরা চর্বি। এ ধমনীর অনুরূপ ধমনী মানুষের উরুতে রয়েছে, যা কেটে নিয়ে ডাক্তারেরা হার্টে লাগিয়ে থাকেন নষ্ট করোনারী ধমনীর স্থলে। করোনারী ধমনী নষ্ট হয়ে যাবে। আর মেহেরবান আল্লাহ সে ধমনীর ব্যবস্থা করে রেখেছেন মানুষের উরুতে। এরকম অনেক নিদর্শন মানুষের শরীরে বিদ্যমান যার কতকটা আবিষ্কার হয়েছে, কতকটা হয়নি।

وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
And Allah has brought you forth from the wombs of your mothers when you knew nothing and He gave you senses of hearing and sight and hearts so that you may give thanks to Allah.
আল্লাহ মাতৃগর্ভ থেকে তোমাদের বের করেছেন যখন তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের কর্ণ, চক্ষু এবং হৃদপিন্ড দিয়েছেন যেন তোমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (নাহর-৭৮)

📘 Biggan moy quran > 📄 চোখ

📄 চোখ


**চোখ (Eye)**
আমাদের চোখ আলোকের মধ্য দিয়ে দৃষ্টি সঞ্চার করে। দৃষ্টি সঞ্চারের সাথে অনেকগুলি আনুষঙ্গিক অঙ্গ জড়িত। যেমন কর্নিয়া, স্ক্লেরা, আইরিস, কোরয়েড, রেটিনা, লেন্স, পিউপিল, Ciliary bodies, কনজাংটিভা, অ্যাকুয়াস হিউমার, Eyeglands ইত্যাদি। এসব অঙ্গের আচরণ ও কার্যপ্রণালী কিছু কিছু আবিষ্কৃত হলেও বেশীর ভাগ অঙ্গের কার্যকারণ রহস্যময় রয়ে গেছে।

চোখের গঠন এবং দেখার পদ্ধতি অনুকরণে আবিষ্কৃত হয়েছে ক্যামেরা। আমাদের চোখের সামনে আছে একটি লেন্স। এ লেন্স কিছু বিশেষ ধরনের কোষ দিয়ে তৈরী। ক্যামেরাতেও এমনি একটি কাঁচের লেন্স থাকে। এই লেন্সের মধ্যে কোন জিনিসের উপর থেকে প্রতিফলিত আলো ঢুকে ক্যামেরার ফিল্মে পড়ে। আর তার উপরে ঐ বস্তুর একটা উল্টো প্রতিবিম্ব তৈরী হয়। চোখের মধ্যে ফিল্মের কাজ করে রেটিনা। রেটিনার চার পার্শ্বে কালো রঙের একটি স্তর আছে। এর নাম কোরয়েড (choroid)। চোখে আলো প্রবেশ করে পিউপিল (pupil) দিয়ে। আলো বাড়া-কমা নিয়ন্ত্রণ করে আইরিস (iris)। আবার রেটিনার আছে আলো গ্রহণকারী কোষ Photoreceptor। এ কোষ দু'প্রকার। 'কোণ' (cones) গ্রাহক কোষ। আর কম আলোর অনুভূতি গ্রহণ করে রড (rods) গ্রাহক কোষ। কোষগুলি আলোর অনুভূতি দ্রুত মস্তিষ্কের দর্শন কেন্দ্রে (visual centre) প্রেরণ করার সাথে সাথে আমরা দেখতে পাই। প্রত্যেক জিনিসের ছবি রেটিনায় গিয়ে একটি উল্টা প্রতিবিম্ব তৈরী করে। কিন্তু মস্তিষ্কের দর্শন কেন্দ্রের সাহায্যে তা সোজা হয়ে যায়। অর্থাৎ মস্তিষ্কে গিয়ে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সোজা হয়ে যায়।

মহান আল্লাহ তা'আলা দয়া করে আমাদের কপালের নিচে যে দু'টি নয়ন এঁটে দিয়েছেন তার প্রতি লক্ষ্য করে আল-কোরআন বলছে.
الَمْ نَجْعَل لَّهُ عَيْنَيْنِ. وَلِسَانًا وَشَفَتَيْنِ.
Have We not made for him a pair of eyes and a tongue and a pair of lips?
আমরা কি তাকে দু'টি চোখ, একটি জিহবা এবং দু'টি ঠোঁট দেই নি? (বালাদ ৮-৯)

অথচ চোখের কথা বলার সাথে সাথে আরো গুরুত্বপূর্ণ দু’টি অঙ্গের কথা বলা হয়েছে। একটি জিহবা অপরটি ঠোঁট। জিহবা তিনটি প্রধান কাজে অংশ গ্রহণ করে।
১। খাদ্য সঞ্চালন করাঃ জিহবা খাদ্যদ্রব্য সঞ্চালন করে অন্ননালী পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
২। খাদ্য সামগ্রীর স্বাদ গ্রহণ করাঃ দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা রকম খাদ্য গ্রহণ করি। কিন্তু একএকটি খাদ্যের স্বাদ এক এক রকম। এটা উপভোগ করার জন্য জিহবায় রয়েছে ৩০০০ (তিন হাজার) আস্বাদন স্তর। যেমন, আপেল, কমলা, আম তিনটাই ফল জাতীয় খাদ্য। অথচ প্রত্যেকটির ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ আমরা বুঝতে পারি। সিঁকেন, বীফ, মাটন প্রত্যেকটি মাংস জাতীয় খাদ্য। কিন্তু এদের আলাদা আলাদা স্বাদ পরখ করা যায়। জিহবার মধ্যে আস্বাদন স্তর না থাকলে সমস্ত খাদ্য দ্রব্যের এক রকম মনে হতো।
৩। কথা বলতে সাহায্য করাঃ আমাদের স্বরযন্ত্রে যে কথা তৈরী হয় তাতে জিহবা অংশ গ্রহণ করে থাকে। জিহবা না থাকলে প্রয়োজনীয় কথা তৈরী করে তা ডেলিভারী দেয়া মোটেও সম্ভব হতো না।

আর আমাদের ঠোঁট দু’টি কথা বলার সময় সঞ্চালিত হয়। খাদ্য ও পানীয় সর্বপ্রথম রিসিভ করে ঠোঁট। পরে মুখের ভেতর আবদ্ধ করে উপযোগিতা সৃষ্টি করে। মানুষের ঠোঁটদ্বয় দাঁতের উপর আবৃত থাকে, যার দরুন চেহারার সৌন্দর্য ফুটে উঠে।

📘 Biggan moy quran > 📄 দৃষ্টি শক্তির অন্তরালে

📄 দৃষ্টি শক্তির অন্তরালে


দৃষ্টি শক্তির অন্তরালে

আমাদের চোখ কোনো কিছু দেখার জন্য দৃষ্টি সঞ্চার করে। দৃষ্টি সীমায় যা কিছু দৃশ্যমান শুধু তা-ই আমরা দেখতে পাই। বাতাস অতি স্বচ্ছ পদার্থ। আমরা কি তা দেখি? পরমাণু, ইলেকট্রন, প্রোটন, ফোটন, নিউট্রন, মেসন, বেরিয়ন প্রভৃতি অতি ক্ষুদ্র কণিকা আমরা দেখি না, এরকম অনেক কিছুর অস্তিত্ব আছে। অথচ আমরা দেখি না। আবার অন্ধকারে কিংবা দূরত্বে অবস্থিত এমন জিনিসও ভালোভাবে দেখা যায় না। এ সবের কারণ কী?

পূর্বেই বলেছি আমাদের রেটিনায় আছে দু’ধরনের আলো গ্রহণকারী কোষ কোন্ এবং রড। (বেশি আলো এবং রঙিন আলোয় সাড়া দেয় কোন্ গ্রাহক কোষ। আর কম আলোয় সাড়া দেয় রড গ্রাহক কোষ)। কোনো বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলো কোন্ বা রড কোষকে উদ্দীপিত করলে তবেই আমরা দেখতে পাই। কিন্তু সব ধরনের আলোক তরঙ্গ আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। যারা ধরা পড়ে তাদের বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ (Visible light wave)। বায়ু অতি স্বচ্ছ পদার্থ হওয়ায় বায়ুর কণা থেকে আলোক তরঙ্গ এসে আমাদের চোখে পড়ে না। তাই আমরা বাতাস দেখতে পাই না। এ রকম যেসব বস্তুকণা বা অন্যান্য পদার্থ যাদের অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও যে কারণে আমরা ঐগুলি দেখি না তা হচ্ছে ঐ সব বস্তু থেকে আলোক-তরঙ্গ এসে আমাদের চোখে পড়ে না। তাই তাদের দেখা যায় না।

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ চোখে এসে পড়লে কোন্ এবং রড এর মধ্যে যে রাসায়নিক পদার্থ আছে, তা আলো শোষণ করে নেয়। কোন্-এর আছে আয়োডোপসিন (Iodopsin) এবং রড-এর আছে রোডপসিন (Rhodopsin)। আলোর প্রভাবে রাসায়নিক পদার্থের বিক্রিয়ায় যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় তা স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে। তখনই আমরা দেখি। অন্ধকারে কোন্ বা রড কোষ আলো গ্রহণ করতে পারে না বলেই অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না।

قُلْ هُوَ الَّذِي أَنْشَاكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ.
Say it is He Who has created you and made for you ears, eyes and hearts, little thanks do you give.
বলুন তিনি আল্লাহ যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের দান করেছেন শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টি শক্তি এবং অন্তঃকরণ, অথচ তোমরা খুব কম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (মুলক-২৩)

أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ
Who is that has power over hearing and sight?
কে আছে এমন যে শ্রবণ শক্তি আর দৃষ্টি শক্তির উপর ক্ষমতা রাখে? (ইউনুচ-৩১)
এ আয়াতাংশটি উপলব্ধি করে কে না কাতর হয়? শ্রবণ শক্তি ও দর্শনশক্তি উভয়ই অতি সূক্ষ্ম ও জটিল কলাকৌশলের অঙ্গীভূত প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া সচল থাকে আল্লাহপাকের নির্ধারিত নিয়ম কানুনের ভিত্তিতে। স্বাভাবিক জীবন-যাপনের জন্য এ দু'টি শরীরবৃত্তীয় অঙ্গ একান্ত অপরিহার্য। এ দু'টি অঙ্গ বাদ দিলে কিংবা বিকল হয়ে গেলে কে আছে এমন ঐগুলোর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম আনুষঙ্গিক কলা ও কোষগুলো নতুনভাবে সৃষ্টি করে দিতে পারে? সেজন্য এ দুটি অঙ্গের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে আল্লাহপাক বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষের উপর তাঁর বিশেষ করুণা অবারিত। যদি মানুষ কোনো বস্তু দেখতে না পায় এবং কোনো কিছু শুনতে না পায় তাহলে পার্থিব জীবন তার কাছে সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়বে। তাই মানবজাতির উচিত তাঁর প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00