📘 Biggan moy quran > 📄 নীল আকাশ নীল নয়!

📄 নীল আকাশ নীল নয়!


নীল আকাশ নীল নয়!
বিশাল বিস্তীর্ণ আকাশ যা আমরা ভূপৃষ্ঠ থেকে অবলোকন করি। এটাকে পার্থিব আকাশ কিংবা নিকটবর্তী আকাশ হিসেবে অবহিত করা হয়। এ আকাশের রং আমাদের দৃষ্টিতে সুনীল ধরা পড়ে। কিন্তু আকাশের রং নীল তো নয়। তবুও কেন নীল চাঁদোয়ার মত দেখায়। এর রহস্য কি?
পূর্বে এ ধারণা প্রচলিত ছিল যে, এমনকি এখনো গ্রামে-গঞ্জে অশিক্ষিত জনসাধারণের মধ্যে এ বিশ্বাস চালু আছে যে, আকাশ পৃথিবী উপরে জমাট-বাঁধা কঠিন ছাদ বিশেষ। আর ঐ ছাদের গায়ে এঁটে আছে চাঁদ, সূর্য, গ্রহ ও নক্ষত্র সমূহ। এভাবে একের উপর এক করে করে সাত আকাশ জমাট বেঁধে গড়ে ওঠেছে। এ ধারণা একেবারে সঠিক নয়। আকাশ শব্দের আভিধানিক অর্থ শূন্য বা Space। অর্থাৎ গোলাকার মহাবিশ্ব। পৃথিবী সৌরজগতের একটি গ্রহ। তার উপর সাতটি স্ব-আবেষ্টনীযুক্ত বলয়। এ বলয়গুলি খুবই সুরক্ষিত এবং সূর্য তথা বিভিন্ন নাক্ষত্রিক আলোক আভায় আলোকিত। পৃথিবীর উপর যে আকাশ তা দিনের বেলা নীল আলোর বন্যায় ভাস্বর। এ নীল রঙের রহস্য কি!
প্রকৃতপক্ষে এটা একটি সৃষ্টি কৌশল। আল্লাহর সৃষ্টি সৌন্দর্যের একটি দৃষ্টান্ত। যেমন সূর্যের আলোতে যে সাতটি রং আছে তার একটি রং হচ্ছে অতিনীল (indigo)।
বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে অবস্থিত গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় কণা সূর্যের অতিনীল রশ্মি চুষে নিয়ে নীল বর্ণ ধারণ করে। যার দরুন পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে আকাশকে নীল চাঁদোয়ার মত দেখায়।
অতএব আকাশের প্রকৃত অবস্থা কি ছিল সে সম্পর্কে আল-কোরআন বলছে, ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانًا Then He turned to the sky while it was like smoke. অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধূম্রমণ্ডিত।
وَلَقَدْ زَيَّنَا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ And We have adorned the earth’s sky with brilliant light. আর আমরা পার্থিব আকাশকে আলোক বর্ণালী দ্বারা সজ্জিত করেছি।
সীমাহীন প্রজ্ঞার অধিকারী সুমহান আল্লাহপাক তাঁর সৃষ্টি নৈপুণ্যতায় ধূম্রমণ্ডিত আকাশকে নীল চাঁদোয়ার মত আকর্ষণীয় করেছেন মহা জাগতিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে। যা দেখে আমাদের নয়ন জুড়ায়। হৃদয়-মন আবেগ আপ্লুত হয়ে ওঠে। আকাশের সৌন্দর্য পর্যবেক্ষণ করে কবি বলেছেন,
Above the head শির উপরে নীল চাঁদোয়া The blue canopy কদম তলে সবুজ গালিচা Beneath the feet সৃষ্টির অভিরাম নৈপুণ্যতা বলতে পার কার! The green tapestry সর্বময় মহান স্রষ্টা -- আল্লাহ তা'আলার। Are the creation of beauty! Of Allah the Almighty.
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فَرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً He is Allah Who made for you the earth as a bed and the heaven your canopy. তিনি আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠকে শয্যার মত করে তৈরি করেছেন এবং আকাশকে করেছেন নীল চাঁদোয়া।

📘 Biggan moy quran > 📄 প্রতিরক্ষা ছাদ

📄 প্রতিরক্ষা ছাদ


প্রতিরক্ষা ছাদ
পৃথিবীর চারপাশে বেষ্টন করে আছে যে বায়ুর আবরণ তাকে আমরা বায়ুমণ্ডল বলি। আবার এটাকে Sky Acts নামেও অভিহিত করা হয়। বিন্যস্ত বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫ কোটি বছর এবং এর পুরুত্ব প্রায় ১০,০০০ কিমি।

বায়ুমণ্ডল প্রায় সাতটি স্তরে বিন্যস্ত এবং প্রতিটি স্তরে নানা রকম মহাজাগতিক ধূলি ও গ্যাসীয় পদার্থের আস্তরণ বিদ্যমান যা সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর রশ্মি (harmful rays) প্রতিহত করে।

সূর্য একটি জ্বলন্ত নক্ষত্র। এ নক্ষত্র থেকে অনবরত বেরিয়ে আসে বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ (electromagnetic radiations), তেজস্ক্রিয় রশ্মি (radioactive rays), অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet rays) এবং এক্স-রে। সূর্যের বাইরের পরিমণ্ডলে যে সৌর বায়ু (solar wind) উত্থিত হয় তাতে থাকে আয়ন এবং ইলেকট্রন কণা। এসব তেজস্ক্রিয় রশ্মি ও অণুকণা ঘণ্টায় ৯০০০০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে আঘাত হানে। এক ধরনের নিউট্রন তারকা আছে যাদেরকে এক্স-রে পালসার বলা হয়। সেই নিউট্রন তারকাগুলো জীবনঘাতী এক্স-রে উৎপন্ন করে। সুদূর মহাশূন্য থেকে মহাজাগতিক রশ্মি (cosmic rays) আলোর বেগের কাছাকাছি বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে এসে আঘাত হানে।

সুতরাং বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ, তেজস্ক্রিয় রশ্মি, অতিবেগুনি রশ্মি, মহাজাগতিক রশ্মি ও আয়ন এবং ইলেকট্রন কণা যদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ভূ-পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছতে পারতো তাহলে, উদ্ভিদ জগত, প্রাণীজগত ও মানব জগতের ব্যাপক বিনাশ সাধন করতো। কিন্তু বায়ুমণ্ডলীয় স্তরগুলো এসব মারাত্মক রশ্মি ও তেজস্ক্রিয় অণুকণাগুলো আটকে রাখে কিংবা শোষণ করে নেয়।

একজন সৈনিক আত্মরক্ষার জন্য যেমনি করে প্রতিরক্ষা ঢাল ব্যবহার করে তেমনি বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলি পৃথিবীর বাসিন্দাদের রক্ষার জন্য সূর্যের তেজস্ক্রিয় রশ্মির বিরুদ্ধে ঢালের মত কাজ করে। তাই উদ্ভিদ ও প্রাণীকুল নিরাপদে পৃথিবীতে বসবাস করতে পারে। বায়ুর স্বচ্ছতার দরুন আমরা তার স্তরগুলি খালি চোখে দেখতে পাই না। এখন স্তরসমূহের উল্লেখপূর্বক সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো।

১. ট্রপোস্ফিয়ার: এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর, ভূ-পৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে। জীবজগতের জন্য এ স্তর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ স্তরে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড রয়েছে। ক্লোরোফ্লোরোকার্বন যাকে গ্রীন হাউস ইফেক্ট বলা হয় তা থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য ট্রপোস্ফিয়ার অতিরিক্ত CO₂ চুষে নেয়।
২. স্ট্রাটোস্ফিয়ার: স্ট্রাটোস্ফিয়ার দ্বিতীয় বায়ুমণ্ডলীয় স্তর, যা উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিমি পুরু ওজন (O₃) স্তর। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet rays) যদি ভূ-পৃষ্ঠে পৌঁছে তাহলে সমস্ত প্রাণী ত্বকের ক্যান্সার (skin cancer) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে। ওজন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে বলে পৃথিবী এখনো প্রাণীজগতের বাস উপযোগী রয়েছে।
৩. মেসোস্ফিয়ার: মেসোস্ফিয়ার প্রায় ৮০ কিমি পুরু। এখানে বায়ুর চাপ অত্যন্ত ক্ষীণ। এ স্তরে তাপমাত্রা হ্রাস পেয়ে -১৫° সেলসিয়াসে স্থির হয়। শৈত্যপ্রবাহ এবং হিমেল জলীয় কণা কেন্দ্রীভূত হয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এ স্তর।
৪. থার্মোস্ফিয়ার: এ স্তরের তাপমাত্রা সাধারণত ৪,৫০০ সেলসিয়াস। সূর্য থেকে আগত অদৃশ্য রঞ্জন রশ্মি (x-ray) এখানে Absorb হয়ে যায়।
৫. আয়নোস্ফিয়ার: সূর্যের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয়ে তা আয়ন কণায় রূপান্তরিত হয়। তাছাড়া রেডিও তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় এ স্তরে।
৬. এক্সোস্ফিয়ার: এ স্তর অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা গঠিত। তেজস্ক্রিয় সূর্যের কিরণ এ স্তরে পতিত হলে হাইড্রোজেন পুড়ে হিলিয়াম গ্যাসে রূপান্তরিত হয়।
৭. ম্যাগনেটোস্ফিয়ার: সূর্যে মাঝে মাঝে বিস্ফোরণ ঘটে। এর অগ্নি কণাগুলো সৌর বায়ু (solar wind) দ্বারা উক্ত স্তরে এসে বিদ্যুৎ কণায় রূপান্তরিত হয় এবং তা পৃথিবীর মেরু প্রদেশে যেখানে চৌম্বক ক্ষেত্র আছে সেখানে গিয়ে ভিড় করে। এর নাম মেরুজ্যোতি বা অরোরা।

অতএব, প্রতিরক্ষামূলক এসব স্তর সম্পর্কে আল-কোরআন বলছে,
وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَائِقَ وَمَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غَافِلِينَ।
And We made above you seven tracts and We are never unmindful of our creation.
আর আমরা তোমাদের উপর সাত স্তর বানিয়েছি এবং আমাদের সৃষ্টির ব্যাপারে আমরা কখনো অমনযোগী নই। (মুমিনুন-১৭)

وَزَيَّنَا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا .
And We adorned the earth's sky with lamps for light and for protection.
আর আমরা পার্থিব আকাশকে নক্ষত্র খচিত করেছি আলোর জন্য এবং প্রতিরক্ষার জন্য। (হামীম সেজদা-১২)

وَجَعَلْنَا السَّمَاءَ سَفَفًا مَحْفُوظًا . وَهُمْ عَنْ آيَتِهَا مُعْرِضُونَ.
And We made the sky a roof well protected. Yet they turn away from Our signs.
আমরা আকাশকে প্রতিরক্ষা ছাদ বানিয়েছি। তবুও তারা আমাদের নির্দেশনাগুলো এড়িয়ে যায়। (আম্বিয়া-৩২)

আরবী সামাউন (سماء) শব্দের অর্থ শুধু আকাশ নয়, এর অর্থ হতে পারে উচ্চতা, স্তর, Region, Tract ইত্যাদি। 'সামাউন' কে ইংরেজিতে বলা হয় Sky, Heaven, Firmament ইত্যাদি।

📘 Biggan moy quran > 📄 সাত রংয়ের সমাহার

📄 সাত রংয়ের সমাহার


সূর্যের আলো আর বৈদ্যুতিক ভাল্বের আলো উভয় কি সমান? সহজে বলা যায়, উভয় আলোতে রয়েছে আকাশ পাতাল ব্যবধান। অথবা বৈদ্যুতিক ভাল্ব জ্বালিয়ে দিনের আলো সৃষ্টি করা যায় কি? তাও কখনো সম্ভব নয়। কারণ সূর্যের আলোতে সাত রংয়ের সমাহার ঘটেছে বলেই দিনের দীপ্তিময়তা সৃষ্টি হয় যা বৈদ্যুতিক আলোতে অনুপস্থিত। সে জন্যে সূর্যের উপস্থিতিতে আমরা পৃথিবীকে এতো উজ্জ্বল এবং স্বচ্ছ রূপে দেখতে পাই। সূর্যের আলোর রংগুলির সংক্ষিপ্ত প্রকাশ ইংরেজীতে 'VIBGYOR', বাংলায় 'বেঅনীসহকলা'।
V-violet-বেগুনি
I-Indigo-অতি-নীল
B-Blue-নীল
G- Green- সবুজ
Y-Yellow-হলুদ
O-Orange- কমলা
R-Red-লাল

প্রিজমের মাধ্যমে সূর্যালোকের সাত রং পরখ করা যায়। সূর্য রশ্মির সামনে প্রিজম ধরলে তাতে সূর্যালোক প্রতিসরিত হয়ে সাতভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। (প্রিজম হচ্ছে তিন কোণা বিশিষ্ট অতি স্বচ্ছ কাঁচ।)

আবার সূর্যালোকের সাত রং রংধনুর (rainbow) মধ্যে ফুটে ওঠে। এক পশলা বৃষ্টি হওয়ার পর সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে তখন বায়ুতে ভাসমান জলীয় কণায় রবির আলো প্রতিফলিত হয়ে আকাশে সাত রংয়ের মনোরম আলোক রেখা সৃষ্টি করে। এর নাম রংধনু (rainbow)।

মহাবিশ্বের সৃষ্টি নিদর্শনগুলির প্রতি ইঙ্গিত করে আল-কোরআনে (سبع) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে বার বার। যার ফলে সৃষ্টি নৈপুণ্যতায় বিস্ময়কর মাত্রা যোগ হয়েছে এবং জ্ঞানী লোকদের "ছাবআ" শব্দটি ভীষণভাবে আকৃষ্ট করেছে।

আমরা জেনেছি আকাশে সাতটি অঞ্চল (Region) বিরাজমান। বায়ুমন্ডলে রয়েছে সাতটি স্তর। পৃথিবীর স্তরও সাত, মহাকাশের দৃশ্যমান জ্যোতিষ্ক সাত প্রকার।
যথা,
(১) Stars
(২) planets
(৩) Satellites
(৪) Comets
(৫) Nebula
(৬) Galaxies
(৭) Quasars
এবং তারকাও সাত প্রকারঃ
(১) Brown dwarf stars
(২) Main sequence stars
(৩) Red giant stars
(৪) pulsating stars
(৫) White dwarf stars
(৬) Neutron stars
(৭) Black holes
ইত্যাদি। এখন দেখা যাচ্ছে সূর্যের আলোতেও সাত রংয়ের সমাহার বিদ্যমান।

সুতরাং 'ছাবআ' শব্দের বিশেষত্ব আমাদের কাছে পরিস্কার হয়েছে। আল-কোরআন বিভিন্ন আয়াতে এর ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًا شِدَادًا
And we built over you seven (layers) firmly fixed.
আমরা তোমাদের উপর সাতটি সুরক্ষিত (স্তর) তৈরী করেছি। (নাবা-১২)

প্রায় অনুবাদ গ্রন্থে এ আয়াতের অনুবাদ করা হয়েছে "আমরা মজবুত সাত আকাশ নির্মাণ করেছি", অথচ এখানে আকাশের কথা মোটেও উল্লেখ নেই। এখানে বুঝতে হবে, আল্লাহ তা'আলা সাতটি বিষয় যুক্ত যে সকল সৃষ্টি প্রকাশ করেছেন, এ আয়াতে তাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَائِقَ
We have made above you seven tracts.
আমরা তোমাদের উপর সাত স্তর সৃষ্টি করেছি। (মুমিনুন-১৭)

📘 Biggan moy quran > 📄 পরিমাপ সহায়ক

📄 পরিমাপ সহায়ক


মহাকাশে কোটি কোটি কিঃ মিঃ ব্যবধানে অবস্থিত নক্ষত্রগুলির দূরত্ব নির্ণয় করা একটি কঠিন বিষয় ছিল। শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্যে ১১০০০ মিলিয়ন আলোক বর্ষ পর্যন্ত দেখা যায়। হাবল টেলিস্কোপ দ্বারা M100 গ্যালাক্সি পর্যন্ত দূরত্ব নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু মহাবিশ্বের অন্তহীন প্রান্তে যে সকল নক্ষত্রমণ্ডলির দূরত্ব আমাদের গ্যালাক্সির থেকে ঐ সব নক্ষত্রমণ্ডলির দূরত্ব কিভাবে নির্ণয় করা যায়।

নক্ষত্রগুলি পর্যবেক্ষণ করতে করতে বিজ্ঞানীরা দেখলেন যে কোনো কোনো নক্ষত্রের উজ্জ্বলতার তারতম্য ঘটে অর্থাৎ নক্ষত্রগুলি কখনো অতি উজ্জ্বল কখনো মৃদু উজ্জ্বল চরিত্র প্রদর্শন করে থাকে। আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে 300000 কিঃ মিঃ। এ হিসেবের ভিত্তিতে তীব্র আলোক রশ্মি আর মৃদু রশ্মির গতিবেগের দূরত্বে একটি পার্থক্য ধরা পড়ল। এ পার্থক্যটুকু হিসাব করে বিজ্ঞানীরা একটি নক্ষত্র থেকে অন্য নক্ষত্রের দূরত্ব এবং আমাদের গ্যালাক্সি থেকে দূরবর্তী গ্যালাক্সির দূরত্ব পরিমাপ করার একটি সহজ কৌশল পেয়ে গেলেন। দূরত্ব মাপার এ কৌশলকে বলা হয় স্পেকট্রোস্কোপি। অর্থাৎ বর্ণালী বিশ্লেষণ (Spectroscopic Analysis) পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে নক্ষত্রসমূহের দূরত্ব পরিমাপ করা সহজ এবং নিখুঁতভাবে তা করা হয়।

অতএব নক্ষত্রের আলোক রশ্মি বিশ্লেষণ করে দূরত্ব মাপার কৌশল সম্পর্কে আল-কোরআন বলছে।

وَالسَّمَاءِ رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ.
And the firmament has He raised it high and He has set up the balance.
অতএব, তিনি আকাশকে সুউচ্চ করেছেন এবং সেখানে পরিমাপ সহায়ক স্থাপন করেছেন। (রহমান-৭)

আরবী মিজান (میزان) শব্দের অর্থ Balance, মানদণ্ড, Measure, Metre, পরিমাপ সহায়ক ইত্যাদি। আকাশের সাথে যেহেতু মিজান শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তাহলে বুঝতে হবে এখানে চাল, ডাল, মাছ, মাংস প্রভৃতি পরিমাপ করার দাঁড়িপাল্লার কথা বলা হয়নি। নক্ষত্রের দূরত্ব নির্ণয় করার জন্য মহাকাশে যে সকল নক্ষত্র মাইলফলক হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে, নিশ্চয়ই সেসব পরিমাপ সহায়ক নক্ষত্রের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটা স্পষ্ট।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00