📄 নীহারিকা (Nebula)
মহাশূন্যে কুহেলিকার মত দেখায়। তবে কুহেলিকা নয়। এদের নাম নীহারিকা বা নেবুলা। নীহারিকা মহাকাশে অবস্থিত বিশালকার গ্যাসপিন্ড। এদের আকার আকৃতিতে সর্বপ্রকার বৈচিত্র্য লক্ষ্যণীয়। নিজস্ব আকৃতি অনুযায়ী নীহারিকাদের পৃথক পৃথক নাম দেয়া হয়েছে। যেমনঃ কালপুরুষ নীহারিকা (great nebula in orion) উত্তর আমেরিকা নীহারিকা, কর্কট নীহারিকা (crab nebula) ইত্যাদি। আবার দীপ্তিময়তার বিচারে নীহারিকা দু'ধরনের। Bright Nebula এবং Dark Nebula। দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে গভীর অন্ধকারে একটি নীহারিকা আছে। দূরবীন দিয়ে দেখলে খুব ভালভাবে দেখা যায়। এমন কি অনুকূল ক্ষেত্রে খালি চোখেও এটি দৃষ্ট হয়। এর নাম অঙ্গারধার নীহারিকা (the coalsack nebula)। আর একটি নীহারিকার নাম দেয়া হয়েছে Horsehead Nebula। এটি এক বৃহৎ উজ্জ্বল নীহারিকা। এর অগ্রভাগ দেখতে ঘোড়ার মস্তকের মত। তাই এর নাম অশ্বমুন্ড নীহারিকা।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তত্ত্ব অনুযায়ী নীহারিকাদের উৎপত্তি একাধিক সূত্রে ঘটতে পারে। এর অন্যতম সূত্র হচ্ছে তারকার বিস্ফোরণ (explosion)। অতি পরিণত দশায় উত্তীর্ণ কিছু তারা মাঝে মধ্যে আভ্যন্তরীণ কারণে বিস্ফোরিত হয়। হঠাৎ এসব তারা বৃহৎ এবং উজ্জ্বল হয়ে ফেটে পড়ে। বিস্ফোরণের পর যে পরিবর্তন ঘটে সে পরিবর্তিত তারার পরিবর্তনের মাত্রা অনুযায়ী তাকে নোভা (nova) কিংবা অতিনোভা (Supernova) বলা হয়। এ ঘটনার ফলে তারাটির বহিঃর্ভাগ তার কেন্দ্রীয় ঘন মধ্যভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় অংশে থেকে যায় ভরের সিংহভাগ। এ অংশটি ধীর ধীরে পূর্বের আকার এবং ঔজ্জ্বল্য লাভ করে আর উৎক্ষিপ্ত বহিঃর্ভাগ নীহারিকায় (nebula) পরিণত হয়।
একটি নীহারিকা ধীরে ধীরে মহাকাশের চতুর্দিকে বিরাজমান ক্ষীণ লঘু বস্তুর সমাহার থেকে যথেষ্ট পরিমাণ বস্তু নিজের দেহের সাথে যুক্ত করে নেয়। এভাবে নীহারিকাটি যখন যথেষ্ট ভরবিশিষ্ট হয়ে পড়ে তখন অভিকর্ষ বলের (gravity force) প্রভাবে সেটি ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকে। সংকোচনের এক পর্যায়ে নীহারিকাটির ভেতরে এমন প্রচন্ড চাপ ও তাপের সৃষ্টি হয় যার পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক রূপান্তর শুরু হয়। লঘু মৌলগুলো ধাপে ধাপে ভারী মৌলে পরিণত হয়। নীহারিকার ভেতর এ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলেই সেটি নক্ষত্রে (Star) প্রবর্তিত হয় এবং আকাশের নক্ষত্র জগতে তারার আবির্ভাব ঘটে।
مَا نَنْسَحُ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا
None of our signs do We abrogate or cause to be forgotten but We substitute something better or similar. Do you not know Allah is powerful over everything?
আমরা কোন নিদর্শন রদ করলে কিংবা বিস্তৃত করে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা সমপর্যায়ের নিদর্শন আনয়ন করি। আপনি কি জানেন না আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান? (বাকারা-১০৬)
অশ্বমুন্ড নীহারিকা (The Horsehead Nebula)
📄 গ্রহ (Planet)
গ্রহ (Planet)
আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে (modern astronomy) গ্রহকেও জ্যোতিষ্কের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেননা গ্রহদের দৃশ্য আলো নেই বটে কিন্তু এরা অদৃশ্য বিকিরণ পাঠাতে সক্ষম। যেমন রেডিও তরঙ্গ (Radio wave), x-Ray ইত্যাদি।
গ্রহগুলি নির্দিষ্ট নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরে এবং সংশ্লিষ্ট নক্ষত্র থেকে আলো (Light) লাভ করে উজ্জ্বল হয়। উদাহরণ স্বরূপ সৌরজগতের (solar system) ১১ টি গ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আমাদের পৃথিবী সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ, সূর্যের আলো দ্বারা আলোকিত।
গ্রহগুলি মূলতঃ কঠিন পদার্থে গঠিত। বিরাট ভর বিশিষ্ট নয় বিধায় এরা পারমাণবিক সংযোজন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন করতে পারে না। তবে নক্ষত্র থেকে শক্তি লাভ করে। গ্রহের বহুমুখী জটিল ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার ফলে তার কেন্দ্রে একটি অন্তর্মুখী শক্তি সৃষ্টি হয়। এর নাম মাধ্যাকর্ষণ শক্তি (Gravity force) এ শক্তির টানে গ্রহে অবস্থিত বস্তুগুলো সমবেত থাকে। তবে একেক গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বৈশিষ্ট্য একক রকম।
মহাকাশে নক্ষত্রের চেয়ে গ্রহগুলির অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় (rigid)। সহজে এদের আকার আকৃতির বড় ধরনের পরিবর্তন হয় না। অবিরাম ঘুরে। ঘুরার সময় কতগুলো নিয়ম-কানুন মেনে চলে। বিজ্ঞানী কেপলার সর্বপ্রথম এ নিয়মগুলো আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন গ্রহসমূহ সুনির্দিষ্ট বিধি মেনে চলতে বাধ্য।
وَمِنْ آيَتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِهِ.
And among His signs is that the heaven and the earth (planet) remain firm by His command.
আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি হচ্ছে আকাশ ও পৃথিবী তাঁর আদেশে সুদৃঢ় রয়েছে। (রূম-২৫)
পৃথিবী ব্যতীত অন্য কোন গ্রহে এযাবৎ প্রাণের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়নি। প্রাণের সন্ধানে গ্রহ থেকে গ্রহে বিজ্ঞানীরা প্রাণান্তকর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। সৌর জগতের বাইরে এখন অনেক গ্রহ আবিষ্কার হয়েছে। সে সব গ্রহে এখনো অভিযান শুরু হয়নি। অবশেষে যদি কোন গ্রহে প্রাণের সন্ধান মিলে, সেটি হবে মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়। কেননা আল-কোরআন এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে।
وَمِنْ أَيْتِهِ خَلْقُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَثَّ فِيهِمَا مِنْ دَابَّةٍ وَهُوَ عَلَى جَمْعِهِمْ إِذَا يَشَاءُ قَدِيرٌ
And among his signs is the creation of the heavens and the earth and the living creatures that He has scattered through them and He has power to gather them together when He wills.
তাঁর ইঙ্গিত সমূহের একটি--নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টি এবং এতদোভয়ের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া জীব। তিনি যখন ইচ্ছা এগুলোকে একত্র করতে সক্ষম। (শুরা-২৯)
اللهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمُوتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ.
Allah is He Who created the seven heavens and the earth also in equal number.
তিনি আল্লাহ, যিনি সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং সম সংখ্যক পৃথিবী ও সৃষ্টি করেছেন। (তালাক-১২)
উক্ত আয়াত দু'টি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, পৃথিবীতে জীবন ধারণের জন্য যেমন রয়েছে উপযুক্ত পরিবেশ, বায়ুমন্ডল, অক্সিজেন এবং পানি তেমনি পৃথিবীর অনুরূপ পরিবেশ মন্ডিত আরো ৬টি গ্রহ আছে যেগুলো এখনো আবিষ্কার হয়নি। এখন সবাই খুবই আশান্বিত যে, পৃথিবীর অনুরূপ গ্রহ অবশ্যই রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তা আবিষ্কৃত হবেই।
📄 উপগ্রহ (Satellite)
উপগ্রহ (Satellite)
একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ। পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী। আমাদের কাছ থেকে এর গড় দূরত্ব ২৩৮৮৫৭ মাইল। উপগ্রহ অনেকাংশে গ্রহের অনুরূপ। গ্রহের মতো কঠিন পদার্থে গঠিত। কিন্তু গ্রহ থেকে আকারে ছোট। উপগ্রহের নিজস্ব কোনো আলো নেই। নক্ষত্র থেকে আলোক রশ্মি উপগ্রহে প্রতিফলিত হয়। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ (satellite)। এটি সূর্য থেকে আলো প্রাপ্ত হয়ে পৃথিবীতে আলো পাঠায়। সূর্যের সাত রং থেকে হলুদ (yellow), কমলা (orange) এবং লাল (red) রং চাঁদের মাটি শোষণ করে এবং আলো তিনটির সংমিশ্রণে এমন একটি মধুর আলো সৃষ্টি করে যার নাম জ্যোৎস্না (moonlight)। আল্লাহ তা'আলার সৃষ্ট জ্যোৎস্নায় কার না নয়ন জুড়ায়।
এ যাবৎ সৌরজগতের গ্রহগুলির মোট ৪৮টি উপগ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে। উপগ্রহগুলি গ্রহের চারপার্শ্বে ঘোরে। তেমনি এক জটিল প্রক্রিয়ায় সূর্যকেও প্রদক্ষিণ করে।
وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا।
And He has made the moon a light reflecting satellite in the heavens.
তিনি নভোমন্ডলে চাঁদকে জ্যোৎস্না সৃষ্টিকারী উপগ্রহ বানিয়েছেন। (নূহ-১৬)
وَإِذَا النُّجُومُ انْكَثَرَتْ।
By the moon as she follows him (the sun) শপথ চন্দ্রের যখন সে সূর্যকে অনুসরণ করে (শামস-২)
📄 গ্রহাণু (Asteroid)/উলকা (Meteor)
মহাকর্ষ বলের (gravitation force) প্রভাবে সৌরজগতের পরিমন্ডলে ঝাঁক বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। এসব কোন আকাশী বস্তু (heavenly bodies)? অপূর্ব শৃংখলায় সূর্যের চার পার্শ্বে নিবিড় বন্ধন রচনা করেছে এরা কি গ্রহাণু? হ্যাঁ, এদের নাম গ্রহাণু বা Asteroids। লক্ষ লক্ষ গ্রহ, উপগ্রহ এবং গ্রহাণু সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবী থেকে এদের সুশৃংখল পরিক্রমণ আমরা খালি চোখে পর্যবেক্ষণ করতে পারিনা বটে। কিন্তু টেলিস্কোপে এরা অবশ্যই ধরা পড়ে। তবে একটি গ্রহাণুর নাম করা যায়। সেটি হচ্ছে ভেস্টা (vesta)। বৃহত্তর না হলেও ভেস্টা হচ্ছে গ্রহাণুদের মধ্যে উজ্জ্বলতম। পৃথিবী ঘুরছে বিধায় তার সাথে গ্রহাণুদের দূরত্বে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। সে সুবাধে ভেষ্টার সাথে পৃথিবীর দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম হয় তখন অনুকূল পরিবেশে একে (ভেষ্টাকে) খালি চোখে দেখা যায়। তাও কিন্তু সাজ সরঞ্জামের সাহায্য নিয়ে আগে থেকে জেনে নিতে হয় আকাশে ওর সঠিক অবস্থানটা কোথায়। ভেষ্টা নিজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, এমন কখনো নয়।
অতএব, মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবে সৌরজগতের চতুর্দিকে পাক খাচ্ছে মনোরম গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids Belt) ।
إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةِ الْكَوَاكِبِ.
We have indeed decorated the lower heaven with beauty (in) the planets (Asteroids).
বস্তুত: আমরা প্রথম আকাশকে গ্রহাণুপুঞ্জে সুশোভিত করেছি। (সফ্ফাত-৬)
আরবী "কাওকাব" (كوكب) অর্থ হতে পারে গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু, নক্ষত্র, Comet shooting star ইত্যাদি।
মেঘমুক্ত রাতের আকাশে প্রায় চোখে পড়ে উজ্জ্বল আলোর রেখা হঠাৎ ফুটে ওঠে। আবার সাথে সাথে মিলিয়ে যায়। এমন ঘটনাকে বলা হয় উল্কাপাত বা তারা খসা (Shooting star)। যে বস্তু গুলোকে এভাবে আত্মপ্রকাশ হতে দেখা যায় তাদের বলা হয় উল্কা (Meteor)। উল্কাদের নিজস্ব কোন আলো নেই। তাপহীন, দীপ্তিহীন এসব বস্তুপিণ্ড মহাকাশে ইতস্ততঃ ছড়িয়ে আছে, কখনো দলবদ্ধভাবে, কখনো বা বিচ্ছিন্নভাবে।
গতিশীলতার কারণে মাঝে মধ্যে কোন কোন উল্কা পৃথিবীর ধারে কাছে এসে পড়ে। তখন আর যায় কোথায়। পৃথিবীর অভিকর্ষ বল (Gravity force) ওদের প্রচন্ডভাবে টানতে থাকে। ফলে ওরা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে বাধ্য হয়। তখন পৃথিবীর বায়ু মন্ডলের বিভিন্ন স্তরে অবস্থিত গ্যাসীয় পদার্থের সাথে ধাবমান উল্কাপিন্ডগুলির সংঘর্ষ বাঁধে। যার দরুন ভীষণ উত্তপ্ত হয়ে ওরা জ্বলে উঠে। আর জ্বলন্ত উল্কাগুলি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। এটা হচ্ছে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা।
কিন্তু মহান আল্লাহ তা'আলা এই পরিকল্পনার ভিতর ইবলিসের জন্য এমন এক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পাকা করে রেখেছেন যা রীতিমত আশ্চর্যজনক। তা হচ্ছে শয়তান আড়ি পেতে যখন উর্ধ্ব জগতের কোন বিধি-বিধান শ্রবণ করার চেষ্টা করে তখন চতুর্দিক থেকে তার প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়। কারণ ইবলিশ মহাকাশের কোন বিধান যদি জেনে নিতে পারত তাহলে এতদিনে সে নভোচারীদেরকে বিভ্রান্ত করেই ছাড়তো। অধিকন্তু নভোচারীরা তাকে দেবতা মনে করে অনুসরণ করতে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে যেত। আল্লাহর বিস্ময়কর নিদর্শন সমূহ আবিস্কার করা তাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। জ্ঞান বিজ্ঞান আবিস্কারে বিরাট বাঁধা সৃষ্টি হতো।
إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةِ الْكَوَاكِبِ. وَحِفْظًا مِنْ كُلِّ شَيْطَنٍ مَارِدٍ. لَا يَسْمَعُونَ إِلَى الْمَلَا الْأَعْلَى وَيُقْذَفُونَ مِنْ كُلِّ جَانِبِ دُحُورًا وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاحِبٌ. إِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ ثَاقِبٌ.
Verily We have adorned the near heaven with the stars. And to guard against every rebellious devil. They cannot listen to the higher group for they are pelted from every side. Outcast, and theirs is a constant torment. Except such as snatch away something by stealing and they are pursued by a flaming fire of meteorites.
নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজি দিয়ে সুশোভিত করেছি এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে। ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে ওদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয় ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশ্যে। ওদের জন্য রয়েছে বিরামহীন শান্তি। তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু চুরি করে শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে। (শাফ্ফাত-৬-১০)
উল্কাগুলো বায়ু মন্ডলে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় না। ভূ-পৃষ্ঠে এসে উপনীত হয়। এদের পরিভাষাগত নাম উল্কাপিন্ড বা Meteorite উল্কাপিন্ডদের পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে জানা গেছে যে, উপাদানের দিক থেকে ওরা প্রধানত তিন রকমের হতে পারে- প্রস্তরময় উল্কাপিন্ড (stony meteorite), লৌহ গঠিত উল্কাপিন্ড (Iron meteorite) এবং প্রস্তর-লৌহ গঠিত উল্কাপিন্ড (stony Iron meteorite)। প্রস্তরময় উল্কাপিন্ড প্রধানত ম্যাগনেসিয়াম ও লোহার সিলিকেট এবং অক্সাইড দ্বারা গঠিত। লৌহ গঠিত উল্কাপিন্ড লোহা, নিকেল এবং কোবাল্ট দ্বারা গঠিত। আর এ দু'ধরনের উল্কাপিন্ডের উপাদান মিশে তৈরি হয়েছে প্রস্তর-লৌহ গঠিত উল্কাপিন্ড। আধুনিক বিজ্ঞানের কৌশল প্রয়োগ করে এদের বয়সও নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। হিসেব অনুসারে প্রাপ্ত উল্কাপিন্ডের বয়স প্রায় 4.7×10⁹ বা 470 কোটি বছরের মত অর্থাৎ ওরা প্রায় পৃথিবীর সমবয়সী।