📄 আকাশের সংখ্যা
আদি অন্তহীন মহাকাশ মহাকর্ষ বলের প্রভাবে সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত হয়েছে। এ সাতটি অঞ্চলকে আমরা সপ্ত আকাশ বলে থাকি। নবম শতাব্দীর বিশিষ্ট মুসলিম বিজ্ঞানী আল্ কারেজমী সর্বপ্রথম আকাশের স্তর সাতটি সম্পর্কে ধারণা পেশ করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা এ তথ্যের ভিত্তিতে মহাকাশে অভিযান চালিয়ে তা কনফার্ম করেন।
১ম আকাশঃ আমাদের সৌরজগতের চারটি গ্রহ এ আকাশে অবস্থিত। এগুলো হচ্ছে বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars)। সূর্য থেকে এর ব্যাসার্ধ 13 আলোক-মিনিট (13 Light minutes)। (আলোক-মিনিট হচ্ছে আলো প্রতি মিনিটে যে দূরত্ব অতিক্রম করে। উল্লেখ্য ১ সেকেন্ডে আলো 3,00,000 কিঃ মিঃ পথ অতিক্রম করে থাকে।)
২য় আকাশঃ এখানে সৌরজগতের পাঁচটি গ্রহ সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। গ্রহগুলি (৫) বৃহস্পতি (Jupiter) (৬) শনি (Saturn) (৭) ইউরেনাস (৮) নেপচুন (৯) প্লুটো। এর ব্যাসার্ধ ৫ আলোক-ঘন্টা।
৩য় আকাশঃ এ আকাশ আঞ্চলিক নক্ষত্ররাজি দ্বারা সমৃদ্ধ। নক্ষত্রসমূহ হচ্ছে, Alpha Centauri, Sun, Tau ceti, Barnard star, Sirius, Procyon, 61 Cygni, ব্যাসার্ধ 20 আলোক-বর্ষ।
৪র্থ আকাশঃ আমাদের ছায়াপথ গ্যালাক্সি (Milky Way galaxy) এ আকাশ ব্যাপী বিস্তৃত এবং এর ব্যাসার্ধ 50,000 আলোক-বর্ষ। পূর্বে এটাকে মহাবিশ্ব মনে করা হতো। এখন এরূপ ২০,০০০ কোটি গ্যালাক্সির সন্ধান পাওয়া গেছে। আমাদের ছায়াপথ গ্যালাক্সি মহাকর্ষ বলের বাধ্যবাধকতায় ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্র সাথে নিয়ে আবর্তিত হচ্ছে।
৫ম আকাশঃ আঞ্চলিক গ্যালাক্সি মন্ডলী এ আকাশে অবস্থিত। এগুলি হচ্ছে, ARGO, URSA MINOR, ANDROMEDA, LEO -1, LEO - 11 ইত্যাদি। এর ব্যাসার্ধ 20,00,000 আলোক-বর্ষ।
৬ষ্ঠ আকাশঃ এখানে রয়েছে আঞ্চলিক সুপার গ্যালাক্সি গুচ্ছ। এদের নাম Sculptor, Virgo, NGC 5128, URSA ইত্যাদি। এগুলো শূন্য রাজ্যের সবচেয়ে বিশাল আকাশী বস্তু (Celestial bodies)। মহাশূন্যে এসব আকাশী বস্তুর মধ্যকার ব্যবধান তুলনামূলকভাবে ব্যাপক। এর ব্যাসার্ধ 750,00,000 আলোক-বর্ষ।
৭ম আকাশঃ আদি অন্তহীন বিশাল মহাবিশ্ব, যার সীমা-পরিসীমা কারো জানা নেই। এখানে ছায়াপথের সর্বোত্তম গুচ্ছগুলো অবস্থিত আছে। আর আছে কোয়াসার (Quasars)। জ্যোতিষ্কসমূহের মধ্যে কোয়াসার এক রহস্যময় অদ্ভুত ধরনের আকাশী বস্তু। এর দূরত্ব 20,000,000,000 আলোক-বর্ষ।
সপ্ত আকাশের সুবিশাল ব্যবস্থাপনা যা দর্শন করে নভোচারীদের শিহরণ জাগে। প্রত্যেক আকাশে অবস্থিত গ্রহ, নক্ষত্রসহ গ্যালাক্সিমন্ডলী, নেবুলা, সুপার নোভা প্রভৃতির সুশৃঙ্খল সুনিয়ন্ত্রিত আবর্তন দেখে মহান স্রষ্টার প্রতি কে না অবনত হয়? সপ্ত আকাশের মালিক মহান আল্লাহ বলেছেন,
ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوْهُنَّ سَبْعَ سَمُوتٍ.
Then He turned to the heaven and gave order and perfection to the seven firmaments.
অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন এবং যথাযথভাবে সপ্ত আকাশ নির্মাণ করলেন। (বাকারা-২৯)
الَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللهُ سَبْعَ سَمُوتٍ طِبَاقًا .
Have you not seen how Allah created the seven skies in perfect harmony?
তোমরা লক্ষ্য করে দেখ না, কিভাবে আল্লাহ সপ্ত আকাশ নির্মাণ করেছেন স্তরে স্তরে। (নূহ-১৫)
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمُوتٍ
Allah is He Who created over you seven heavens.
তিনি আল্লাহ যিনি তোমাদের উপর সাত আকাশ নির্মাণ করেছেন। (তালাক-১২)
الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمُوتٍ طِبَاقًا
He Who created seven heavens one above another.
তিনি আল্লাহ যিনি স্তরে স্তরে সপ্ত আকাশ নির্মাণ করেছেন। (মুলক-৩)
قُلْ مَنْ رَّبُّ السَّمُوتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ.
Say, Who is the Lord of seven skies and the Lord of Arsh-Al-Ajim (Tremendous Throne).
বল, সপ্ত আকাশ আর আরশের মালিক কে? (মু'মিনূন-৮৬)
এটা খুবই লক্ষণীয় বিষয় যে, সাত (সাবআ) সংখ্যাটি রহস্যজনকভাবে মহাবিশ্বের সাথে সম্পর্কযুক্ত। মহাকাশে সাত ধরনের আকাশী বস্তু বিদ্যমান, এগুলো হলো (১) নক্ষত্র (stars) (২) গ্রহ (planets) (৩) উপগ্রহ (satellites) (৪) ধূমকেতু (comets) (৫) নীহারিকা (nebula) (৬) ছায়াপথ (galaxies) (৭) কোয়াসার (Quasars) ইত্যাদি। আবার সাত ধরনের নক্ষত্র রয়েছে। যথা (১) বাদামী বর্ণের বামন তারকা (brown dwarf stars) (২) প্রধান অণুক্রমিক তারকা (main sequence stars) (৩) লাল বর্ণের দৈত্যাকৃতির তারকা (red giant stars) (৪) পালসেটিং তারকা (pulsating stars) (৫) শুভ্র বামন তারকা (white dwarf stars) (৬) নিউট্রন তারকা (neutron stars) এবং কৃষ্ণবিবর (black holes)।
কোন কোন ভাষ্যকার (Commentators) সাত (৭) সংখ্যার অর্থ করেছেন 'বহু' (Many)। কারণ সূরা ফাতেহার শুরুতে বলা হয়েছে, "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বহু সৃষ্টিজগতের রব।" তাহলে মহাবিশ্বে বহু জগত (Worlds) আছে। প্রত্যেক জগতের উপর সাত আকাশ আছে। সেখানে সাত ধরনের নক্ষত্র আছে। সাত প্রকার জ্যোতিষ্কও আছে। প্রত্যেক জগতে সূর্য আছে। সূর্যের আলোতে সাত প্রকার রং আছে।
সুতরাং আল্লাহপাক কর্তৃক ব্যবহৃত সাত (৭) এক রহস্যময় সংখ্যা যা নিয়ে এখনো নিবিড় গবেষণা চলছে।
প্রশ্ন: আমাদের মাঝে একটি খারাপ প্রথা দেখতে পাওয়া যায়, আর তা হলো নারীদের সাথে পুরুষদের অবাধ মেলামেশা। কারণ হলো আমরা তাদের সাথে অধিকাংশ কাজ করি এবং তাদের দিকে তাকাই, আর তারাও তাদের কাজসমূহ করে চেহারা খোলা রাখা অবস্থায়, আর আমরা বলি যে, আমাদের নিয়ত ভালো, আর আমাদের মধ্যে কোনো কোনো ব্যক্তি তার সহোদর ভাইয়ের স্ত্রী'র দিকে তাকায় এবং তাকে (ভাইয়ের বউকে) তার মাহরাম সহোদর বোনের মতো মনে করে, আর তার প্রতিবেশীগণের স্ত্রীদেরকে (যাদের সাথে বিবাহ হারাম এমন পর্যায়ের) মাহরামদের মতো বলে গণ্য করে; সুতরাং আমাদের মাঝে এমন পুরুষ ব্যক্তি আছেন, যিনি তার সহোদর ভাইয়ের সাথে, তার চাচাতো ভাইয়ের সাথে এবং তার শ্রেণীভুক্ত লোকজনের সাথে বসবাস করেন, আর তারা পুরুষ ও নারীগণ একসাথে পানাহার করেন। অতএব, এর বিধান কী হবে?
উত্তর: এ কাজগুলো প্রথম শ্রেণির জাহেলী প্রথার অন্তর্ভুক্ত, আর শরী'আত সম্মতভাবে আবশ্যক হলো নারী কর্তৃক তার মাহরাম পুরুষের সামনে ব্যতীত অন্য কারও সামনে তার মুখমণ্ডল বা চেহারা খোলা না রাখা, ঠিক অনুরূপভাবে নারীর জন্য বাধ্যতামূলক হলো চেহারা খোলা অবস্থায় সে অপরিচিত বা পরপুরুষের সাথে উঠাবসা করবে না এবং তার ওপর আরও ওয়াজিব হলো এমন কোনো স্থানে সে পরপুরুষের সাথে একান্ত নির্জনে সাক্ষাৎ করবে না, যেখানে তার কোনো মাহরাম পুরুষের উপস্থিতি নেই। কেননা এর কারণে অগণিত ফিতনা-ফ্যাসাদের সৃষ্টি হতে পারে। আর আল্লাহই হলেন তাওফীক দানের একমাত্র মালিক।
শাইখ আবদুল আযীয ইবন আবদিল্লাহ ইবন বায
📄 Gravitation and Centrifugal force
Gravitation and Centrifugal force
মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এর নাম মহাকর্ষ শক্তি (Gravitation energy)। বৃটিশ বিজ্ঞানী নিউটন কর্তৃক বর্ণিত মহাকর্ষ তত্ত্বটি হচ্ছে "Every particle in the universe attracts every other particle with a force directly proportional to the product of their masses and inversely proportional to the square of the distance between them"। তত্ত্বটির গাণিতিক ফর্মুলা নিম্নরূপ:
F ---- m₁ m₂ ----- d²
F = force m₁ m₂ = আকৃষ্ট বস্তুদ্বয়। d = distance.
মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে সজোরে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ শক্তি প্রত্যক্ষভাবে তাদের ভরের গুণফলের উপর এবং পরোক্ষভাবে দূরত্বের বর্গের উপর নির্ভর করে। দু'টি বস্তুর মধ্যে যার ভর বেশী, সেটি যার ভার কম তাকে কাছে টানে। দূরত্ব কম হলে আকর্ষণ শক্তি বৃদ্ধি পায়। আর দূরত্ব বেশী হলে আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায়।
মহাকাশের গ্রহ, নক্ষত্রগুলি মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবে ব্যালেন্স পজিশনে কায়েম রয়েছে। পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, গ্রহ, নক্ষত্রগুলি মহাকর্ষীয় টানে পরস্পর পরস্পরের কাছে আসতে চায়। কিন্তু মহাশূন্যের অবিরাম সম্প্রসারণ গতির (force of expansion) দরুন পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়।
উপরন্তু গ্রহ, নক্ষত্রগুলোর অবিরাম ঘূর্ণনের ফলে তাদের কক্ষীয় গতি থেকে উত্থিত হয় একটি বল যার নাম কেন্দ্রাতিগ বল (Centrifugal force)। অর্থাৎ এটি একটি বহির্মুখী বল যা একটি অক্ষের সাপেক্ষে ঘূর্ণনশীল বস্তুর উপর সক্রিয় এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী কেন্দ্রাভিমুখী বলের সমান ও বিপরীত। যেমন M ভর বিশিষ্ট একটি বস্তু যা R দৈর্ঘ্যের একটি সূতা দিয়ে একটি অনুভূমিক টেবিলের কেন্দ্রে একটি পিনের সঙ্গে যুক্ত এবং পিনের চারিদিকে প্রতি সেকেন্ডে W ভর বেগে ঘূর্ণনশীল। বস্তুটি বৃত্তাকৃতি পথে ঘুরে। যার ফলে কেন্দ্রাতিগ বল বস্তুটির উপর প্রযুক্ত হয় (Fc=Mw²R)। আর মহাকর্ষ সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি প্রত্যেক জ্যোতিষ্ক বা বস্তুদেহ (Material body) একে অপরকে আকর্ষণ করে চলেছে। এ শক্তি বস্তুর ভরের গুণফলের আনুপাতিক এবং বিপরীতভাবে বস্তু থেকে বস্তুর পৃথক হয়ে থাকার দূরত্বের বর্গের সামানুপাতিক। গ্রহ নক্ষত্রগুলো খসে পড়ে না বা একটার সাথে আর একটা ধাক্কাও খায় না যে কারণে তাহলো মহাকর্ষ ও কেন্দ্রাতিগ শক্তির সুষম প্রভাব। স্বভাবতই কেন্দ্রাতিগ শক্তি দ্বারা মহাকর্ষ শক্তির সুষমতা অদৃশ্য স্তম্ভ (Invisible pillar) তৈরী করে।
সুতরাং আল-কোরআন Gravitation and Centrifugal force সম্পর্কে যেভাবে তথ্য পেশ করেছে তা হলো,
اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمُوتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ.
Allah is He Who raised the heavens without any pillars that you can see, is firmly established on the Arsh (The throne).
তিনি আল্লাহ যিনি স্তম্ভ ব্যতীত আকাশমন্ডলীকে সুউচ্চ করেছেন তোমরা তো তা দেখতে পারছ। অতঃপর তিনি আরশে অধিষ্ঠিত হয়েছে।
وَسَخَّرَ لَكُمُ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومُ مُسَخَّرَاتٌ بِأَمْرِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ.
He has subjected to you the night and the day; the sun and the moon and the stars are subjected by His command; Verily in these are proofs for men who are wise.
তিনি তোমাদের কাজে নিয়োজিত করেছেন রাত, দিন, সূর্য এবং চন্দ্রকে। তারকা সমূহ তাঁরই বিধানের প্রতি অনুগত রয়েছে। নিশ্চয় এতে জ্ঞানী লোকদের জন্য রয়েছে অনেক প্রমাণ। (নাহল-১২)
خَلَقَ السَّمُوتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا .
He created the heavens without any pillars that you can see.
তিনি স্তম্ভ ব্যতীত নভোমন্ডলকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তোমরা তো তা দেখছ। (লোকমান-১০)
إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ أَنْ تَزُولَا.
Surely, Allah holds the heavens and the earth lest they should move away from their places.
নিশ্চয় আল্লাহ নভোমন্ডল এবং ভূ-মন্ডলকে এমনভাবে ধারণ করে রেখেছেন যার ফলে ওগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পতিত হয় না। (ফাতির-৪১)
মুসলিম বিজ্ঞানী আল-বেরুনী ১১ শতকে Gravitation and Centrifugal force সম্পর্কিত তত্ত্বের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ কোরআন নাজিল হওয়ার ১২০০ বছর পরে বিজ্ঞানী নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সুতরাং মহাকর্ষ ও কেন্দ্রাতিগ বল আবিস্কারের মাধ্যমে এটা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, অদৃশ্য স্তম্ভের অস্তিত্ব অবশ্যই আছে, যা উপরোল্লেখিত আয়াতসমূহে প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রশ্ন: পারিবারিক ড্রাইবারের সাথে সে পরিবারের নারী ও যুবতীদের সহাবস্থান করা এবং তাদের সাথে তার বিভিন্ন বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বিধান কী?
উত্তর: হাদীসে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ».
"কোনো ব্যক্তি কখনও কোনো মহিলার সাথে একান্তে নির্জনে সাক্ষাৎ করবে না, তবে জেনে রাখবে এমতাবস্থায় তাদের সাথে তৃতীয় জন হলো শয়তান। "11 সুতরাং 'একান্তে নির্জনে সাক্ষাৎ'-এর বিষয়টি ব্যাপক অর্থবোধক, যা বাড়িতে, গাড়িতে, বাজারে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ও অনুরূপ যে কোনো স্থানের বেলায় সমভাবে প্রযোজ্য, আর তারা একান্ত নির্জনে নিরাপদ নয়। কেননা তাদের কথাটাও লজ্জার বস্তুর মধ্যে গণ্য এবং যা কামভাবকে উস্কিয়ে দেয়। তাছাড়া কোনো কোনো নারী অথবা পুরুষকে পাওয়া যায়, যারা আল্লাহকে ভয় করেন এবং পাপাচারিতা ও খিয়ানত করাকে অপছন্দ করেন, তাদের মাঝেও শয়তান অনুপ্রবেশ করে, তাদের জন্য গুনাহের কাজটিকে হালকা করে দেখায় এবং তাদের জন্য কুটকৌশলের দরজাগুলো খুলে দেয়; সুতরাং এর থেকে দূরে থাকাটাই সবচেয়ে নিরাপদ।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন
টিকাঃ
¹¹ তিরমিযী, হাদীস নং- ২১৬৫
📄 দুই পর্বে সপ্ত আকাশ সৃষ্টি
দুই পর্বে সপ্ত আকাশ সৃষ্টি
১৯২৯ সালে G. Lemaitre এবং Hubble কর্তৃক আবিষ্কৃত তথ্য থেকে জানা যায়, মহাকাশের সাতটি স্তর এবং জ্যোতিষ্ক সমূহ দু'পর্বে (two phases) সৃষ্টি হয়েছে।
বিরাট বিস্ফোরণের (Big Bang) পর আদি অগ্নিবল বিস্ফোরিত হয়ে দ্রুত গতিতে প্রসারিত হতে থাকে এবং শীতল হয়ে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন কণাগুলো গ্যাস-মেঘের সৃষ্টি করে। এগুলো আলোর বিচ্ছুরণের সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়। প্রথম দিকে বিকিরণের চাপের দ্বারা স্বাভাবিক বিস্তৃতি বজায় ছিল। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে কিছু হিলিয়াম সহ হাইড্রোজেন পরমাণু দ্বারা বস্তু কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। গ্যাসের এ কেন্দ্রীভূত পিণ্ড বিচ্ছিন্নভাবে একে অপর থেকে দূরত্ব বজায় রেখে ছুটে বেড়ায়। যদিও বস্তুর একটি একক পিণ্ড যা তার নিজস্ব অভিকর্ষ শক্তি দ্বারা সংকুচিত হতে পারে তবুও এ সময় দু'টি বিপরীত শক্তি এ পিণ্ডের উপর ক্রিয়া করে। একটি হলো Force of Gravitation যা সংকুচিত করার চেষ্টা করে, অপরটি Force of Expansion, যা দূরত্ব সৃষ্টি করে।
কিন্তু সম্প্রসারণ শক্তির উন্মত্ত গতিবেগের জন্য সংকোচনশীল গ্যাসপিণ্ড (gas blob) বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করল। যথা- বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকার ও সর্পিলাকার বা পেঁচানো ইত্যাদি। এগুলোর নাম গ্যালাক্সি। অর্থাৎ সৃষ্টির প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন আকৃতির গ্যালাক্সি গঠিত হয় এবং আকাশ সৃষ্টির কাজ সম্পন্ন হয়। সৃষ্টির এ পর্বে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন বছর সময় অতিবাহিত হয়। কোরআনে এ ১৫০ মিলিয়ন বছর সময়ের ব্যাপ্তিকে 'ইওম' বলা হয়েছে। অর্থাৎ ১ দিন।
দ্বিতীয় পর্যায়ে গ্যালাক্সিপুঞ্জ বা সংকোচনশীল গ্যাস বলয়গুলো ভেঙ্গে গিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ল। এ অংশগুলো যতবেশী সংকুচিত হলো তত দ্রুত গতিতে আবর্তিত হতে লাগল। এভাবে আবর্তিত হতে হতে চ্যাপ্টা আকার ধারণ করল এবং জমাট বেঁধে আরও ছোট ছোট বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ল। ধীর গতিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে নক্ষত্র ও সৌরজগৎ (solar system) গঠিত হলো। গ্যাস ও ধূলিকণার গোলাকার মেঘপুঞ্জকে বলা হয় নীহারিকা (nebulae)। নীহারিকাসমূহ ঘূর্ণন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংকুচিত হতে লাগল এবং তাদের পশ্চাতে রেখে গেল গোলাকার বস্তুপিন্ড। এ গোলাকার বস্তুপিন্ডগুলো অবশেষে গ্রহ, উপগ্রহ ও গ্রহাণুতে রূপান্তরিত হলো। সুতরাং সৌরজগৎ, গ্রহ-উপগ্রহগুলো দ্বিতীয় পর্বে সৃষ্টি হয়েছিল এবং এরপর মহাবিশ্বের গোলাকার আবেষ্টনীতে আকাশের সাতটি বলয় গড়ে উঠল। দুই পর্বের সময়কালকে কোরআনের আয়াতে বলা হয়েছে ‘ইওমাইনে’।
فَقَضَهُنَّ سَبْعَ سَمُوتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاءِ أَمْرَهَا
So, He completed them as seven firmaments in two phases and assigned to each heaven its duty and command.
অতএব তিনি দুই পর্বে সপ্ত আকাশের সব কাজ সম্পন্ন করেন এবং প্রত্যেক আকাশে যথার্থ বিধান নির্দিষ্ট করে দেন। (হা-মীম-১২)
আরবী 'ইওম' অর্থ দিন। এ আয়াতে দ্বিবচন 'ইওমাইনে' ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু যে আয়াতে সৃষ্টি তত্ত্ব আলোচনা করা হয় সেখানে পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তনের সময়কালকে নির্দেশ করে না। যেমন সূরা হজ্বের ৪৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে ১ দিন = ১০০০ বছর। সূরা মা'আরেজের ৪ নং আয়াতে ১ দিন= ৫০,০০০ বছর বলা হয়েছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তাআলার নিকট ১ দিনের অর্থ একটি সময়কাল (A period of time) এ সময়কাল দীর্ঘ হতে পারে অথবা ক্ষুদ্রও হতে পারে। অর্থাৎ একটি সৃষ্টিকর্মকে পূর্ণতা দান করতে যতটুকু সময় লাগে 'দিন' বলতে সে সময়কে বুঝিয়েছেন। তাই 'ইওম' এর আরও অর্থ হতে পারে। যেমন, দিন, কাল, কালের ব্যাপ্তি, Era, phase ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ব্রিটেনে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে পুরুষ ও মহিলারা উপস্থিত হয়; সুতরাং মুসলিম নারীর জন্য মাহরাম পুরুষ ব্যতীত এ সমাবেশে পুরুষদের পাশাপাশি উপস্থিত হওয়া জায়েয হবে কিনা? আপনার জানার জন্য বলছি যে, এক ভাই এটাকে জায়েয বলেছেন এবং তিনি সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসকে এর পক্ষে দলীল হিসেবে পেশ করেছেন, তাতে আছে- জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তারপর তিনি অনুসন্ধান করলেন, কে তার মেহমানদারি করবে, তারপর আনসারদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি তাকে মেহমান হিসেবে দাওয়াত করলেন এবং তিনি উল্লেখ করেন যে, আনসার সাহাবী ও তাঁর স্ত্রী ঐ পুরুষ ব্যক্তিটির বসলেন এবং তার কাছে এমনভাব প্রকাশ করলেন যে, তাঁরা দু'জন খাচ্ছেন; আমরা এ মাসআলাটির প্রকৃত ব্যাখ্যা আশা করছি?
উত্তর: প্রশ্ন থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, তাতে পুরুষ ও নারীদের মাঝে মেলামেশা বা সহাবস্থানের বিষয় রয়েছে, আর পুরুষ ও নারীদের মাঝে মেলামেশা বা সহাবস্থানের বিষয়টি ফিতনা ও অশ্লীলতার দিকে নিয়ে যায়, আর এটাকে আমি অবৈধ মনে করি; কিন্তু যখন জরুরি প্রয়োজন দাবি করে পুরষদের সাথে নারীদের উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি, তখন আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো নারীদেরকে এক পাশে বসার ব্যবস্থা করা এবং অপর পাশে পুরুষদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা, আর নারীগণ কর্তৃক শরী'আত নির্ধারিত পর্দা পরিপূর্ণভাবে মেনে চলা, যেখানে নারী তার চেহারাসহ পুরো শরীর ঢেকে রাখবে।
আর যে হাদীসের দিকে প্রশ্নকর্তা ইঙ্গিত করেছেন, তাতে নারী-পুরুষে সহাবস্থান ছিল না; বরং আনসার সাহাবী ও তার স্ত্রী তার ঘরের এক পাশে ছিলেন, আর মেহমান ছিলেন আতিথিয়তা তথা মেহমানদারির জায়গায়।
তাছাড়া পর্দার বিষয়টির ব্যাপারে যেমন সর্বজন বিদিত যে, শরী'আতের প্রথম দিকে পর্দার বিষয়টি বাধ্যতামূলক ছিল না। কারণ, পর্দার বিষয়টিকে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের প্রায় পাঁচ বা ছয় বছর পরে শরী'আতে বাধ্যতামূলক করা হয়, আর যেসব হাদীসে পর্দা না করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেসব হাদীস পর্দার আয়াতসমূহ নাযিল হওয়ার পূর্বের বর্ণনা বলে ধরে নিতে হবে।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-'উসাইমীন
📄 মহাকাশের পরিণতি
মহাকাশের পরিণতি
মৌলিক প্রশ্ন হলো এই যে, মহাকাশ কি অসীমের দিকে বিস্তৃতি লাভ করেই চলবে? না, মহাকর্ষ বল অধিক পরিমাণে জোরদার হবে এবং এই বিস্তৃতি ক্রমান্বয়ে মন্থর হয়ে পড়বে। আর সেই সাথে শুরু হবে সংকোচন। এইসব প্রশ্নের জবাবে বর্তমান সৃষ্টিতত্ত্ববিদগণ দৃঢ়ভাবে বলেছেন, এমন একটি সময় উপস্থিত হবে যখন মহাকাশের সম্প্রসারণ গতি (force of expansion) ক্রমান্বয়ে থেমে যাবে এবং মহাকর্ষ শক্তির (force of gravitation) প্রাবল্য বৃদ্ধি পাবে। এই প্রসঙ্গে যতগুলি তাত্ত্বিক ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে গ্রহ, উপগ্রহসমূহের ওজন বৃদ্ধি এবং নক্ষত্রসমূহের ওজন হ্রাস। যেমন পৃথিবী গ্রহে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সংখ্যা বাড়া মানেই ওজন বৃদ্ধি পাওয়া। ২০০০ সাল নাগাদ পৃথিবীতে লোক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি। লোক সংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে ৫০০০ সালে মানুষের ওজন পৃথিবীর ওজনের সমান হবে। (বর্তমান পৃথিবীর ওজন 6×10²⁴Kg) আবার প্রতি মুহূর্তে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহে মহাজাগতিক ধূলিকণা (cosmic dust) এসে পড়ছে। বিজ্ঞানীদের সম্প্রতি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে কেবল পৃথিবীতে প্রতি বছরে ১০ হাজার টন মহাজাগতিক ধূলিকণা পতিত হয়। তাতে খুব স্বাভাবিকভাবে পৃথিবী সহ অন্যান্য গ্রহের ওজন বেড়েই চলেছে। এভাবে যত বেশি ওজন বাড়বে তত বেশি মহাকর্ষ শক্তি প্রবল হবে। অপরপক্ষে নক্ষত্রগুলির হাইড্রোজেন গ্যাস পুড়ে হিলিয়ামে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে এদের ওজন হ্রাস পাচ্ছে। যেমন আমাদের সূর্য (একটি নক্ষত্র) প্রতি সেকেন্ডে ওজন হারাচ্ছে ৪ মিলিয়ন টন। এভাবে সকল নক্ষত্র একটি পরিণত দশায় এগিয়ে যাচ্ছে।
অতএব, মহাকাশের স্বতাড়িত সম্প্রসারণ গতি সংকোচনের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য মহাজাগতিক বস্তুর গড় ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে আকাশী বস্তুগুলোর (celestial bodies) মহাকর্ষ শক্তি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এক সময় এরা একে অপরের কাছাকাছি এসে গেলে মহাকাশের সাতটি অঞ্চল ভেঙে একাকার হয়ে যাবে এবং গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে পারস্পরিক সংঘর্ষ শুরু হবে।
মহাকাশের পরিণতি সম্পর্কে আল কোরআন বহু তথ্য আমাদের অবহিত করেছেন তার মধ্যে নিম্নে কয়েকটি উদ্ধৃত করা হলো:
وَيَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَاءُ بِالْغَمَامِ وَنَزِّلُ الْمَلَائِكَةُ تَنْزِيلًا
The Day when the firmament will be rent asunder with clouds and angels will be sent down.
সেদিন আকাশ মেঘমালা সহ বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ হবে। (ফোরকান-২৫)
فَارْتَقِبُ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانِ مُبِينٍ
So watch for the day that the heaven will bring forth a kind of smoke plainly visible.
অতএব তোমরা সেদিনের প্রতীক্ষা কর যেদিন আকাশ থেকে এক ধরনের ধোঁয়া নির্গত হয়ে আকাশকে দৃশ্যমান ধূম্ররাশিতে পরিণত হবে। (দুখান-১০)
এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, আকাশ থেকে এক ধরনের ধোঁয়া নির্গত হয়ে আকাশকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে। এই কথার অর্থ হলো আকাশে গ্যাসীয়-মেঘ দেখা দেবে এবং ঐ গ্যাসীয় মেঘে সূর্য ঢাকা পড়ে যাবে। এটা সকলের জানা আছে যে, দু'টি বিপরীত শক্তি সূর্য তথা নক্ষত্রসমূহের উপর কাজ করছে। এই দু'শক্তির একটি হলো অভিকর্ষ বল অপরটি বিকিরণ চাপের দরুন প্রসারণ বল। সূর্যের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন সংযোজন (hydrogen fusion) ক্রিয়ার কারণে বিকিরণ চাপের উদ্ভব হয়। বর্তমানে এই দু'টি বিপরীত শক্তি সাম্যাবস্থা প্রযুক্ত করে রেখেছে যার দরুন সূর্য কিংবা যে কোন তারকা ভারসাম্যতা লাভ করেছে। যখন সূর্যের মোট হাইড্রোজেনের ১০% হিলিয়াম গ্যাসে রূপান্তরিত হবে তখন সূর্যের ভেতরের সাম্যাবস্থা বিঘ্নিত হবে। বিকিরণ চাপের আধিক্যের ফলে সূর্যের বহিঃ গ্যাসীয় অংশ বিরাট আকারে বিস্তার লাভ করবে এবং ধূম্ররাশিতে ঢাকা পড়ে যাবে আকাশের বিশাল অংশ।
অতএব, মহাকাশের সমাপ্তি ঘটবে এমন এক সময়ে যখন এর গড় ঘনত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং মহাকর্ষীয় শক্তির প্রাবল্য বেগবান হবে। সাথে সাথে সম্প্রসারণ গতি থেমে যাবে। ফলে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, কোয়াসার প্রভৃতি জ্যোতিষ্ক মহাকর্ষীয় টানে পরস্পরের নিকট এসে সংঘর্ষ শুরু করবে। বিশাল মহাজগৎ একটি বিন্দুতে এসে Closed হবে। এটাই হলো মহান স্রষ্টার নির্ধারিত সিদ্ধান্ত এবং তা অতি সত্য। সম্প্রতি, Closed Big Bang বা Closed Universe তত্ত্বে বিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মহাবিশ্ব (Whole universe) একটি বিন্দুতে Closed হওয়ার পর এমন এক শক্তিধর সত্তা দৃশ্যমান হয়ে উঠবে, যিনি মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ শক্তি (Gravitation and gravity) দ্বারা সমগ্র সৃষ্টি জগৎকে ধারণ করে রেখেছিলেন। তাহলে এই মহাশক্তিধর সত্তা কে?
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
All that is in the Universe will perish. And the presence of your Lord will remain forever who is full of Majesty - Bounty and Honour.
মহাবিশ্বের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে আর আপনার একমাত্র প্রভুর সত্তা অবশিষ্ট থাকবে, যিনি মহীয়ান ও গরীয়ান। (রহমান-২৬-২৭)
প্রশ্ন: পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে আমি একজন বিবাহিত পুরুষ অথচ আমার স্ত্রী সন্তান জন্ম দেয় নি। এমতাবস্থায় আমরা ডাক্তারের নিকট যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, তারপর ডাক্তার প্রথমে আমাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন এবং তার ফলাফল হলো আমি সুস্থ ত্রুটিমুক্ত, আর পরীক্ষার বাকি থাকল আমার স্ত্রী। সুতরাং এমতাবস্থায় আমি যদি তাকে পরীক্ষা করানোর উদ্দেশ্যে (পুরুষ) ডাক্তারের নিকট পেশ করি, তাহলে আমি কি গুনাহগার হব?
উত্তর: পুরুষ ব্যক্তির জন্য নারীর সেসব ডাক্তারি পরীক্ষা করা বৈধ নয়, যা লজ্জা বা লজ্জাস্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট, তবে জরুরি মুহূর্তে ও সংকটময় অবস্থায় বৈধ, আর এখানে এ রকম জরুরি কোনো ব্যাপার নেই। কারণ, এখানে নারীদের বিষয়ে অভিজ্ঞ মহিলা ডাক্তার পাওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কাজটি বিলম্বিত করা সম্ভব, আর দেশে ও বিদেশে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বহু মহিলা ডাক্তার রয়েছে।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবন আবদির রহমান আল-জিবরীন