📘 Biggan zakir naik 📄 অতি সামান্য পরিমাণ তরল পদার্থ (নুতফাহ)

📄 অতি সামান্য পরিমাণ তরল পদার্থ (নুতফাহ)


কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান: নুতফাহ থেকে মানব সৃষ্টি

কুরআনে নুতফাহ-এর ধারণা

পবিত্র কুরআন কমপক্ষে ১১ স্থানে মানুষকে 'নুতফাহ' থেকে সৃষ্টি করার কথা বলে, যার অর্থ অতি সামান্য পরিমাণ তরল পদার্থ অথবা কোন কাপের নীচের তলায় অবশিষ্ট কয়েক ফোঁটা তরল পদার্থ। এ বিষয়টি কুরআনের সূরা মু'মিনূনঃ ১৩ নং আয়াতসহ আরও অনেক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।


আধুনিক বিজ্ঞান ও নুতফাহ

সাম্প্রতিক কালে বিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে যে, ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার জন্য গড়ে তিন মিলিয়ন শুক্রকীটের মধ্য থেকে মাত্র একটি শুক্রকীট প্রয়োজন। এটির আরেক অর্থ হচ্ছে, নিষিক্তকরণের জন্য শুধুমাত্র নির্গত শুক্রকীটের ১/৩ মিলিয়ন ভাগ অথবা ০.০০০০৩% দরকার।


নুতফাহ সম্পর্কিত অন্যান্য কুরআনের আয়াত

একই ধরণের বর্ণনা কুরআনের সূরা নাহল: ৪, সূরা কাহফঃ ৩৭, সূরা ফাতিরঃ ১১, সূরা ইয়াসীনঃ ৭৭, সূরা মুমিনঃ ৬৭, সূরা নাজমা ৪৬, সূরা কিয়ামাহঃ ৩৭, সূরা দাহর: ২ এবং সূরা আবাসাঃ ১৯ নং আয়াতেও উল্লেখিত হয়েছে।


📘 Biggan zakir naik 📄 তরল পদার্থের নির্যাস (সুলালাহ)

📄 তরল পদার্থের নির্যাস (সুলালাহ)


মানব সৃষ্টিতে কুরআনের বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা

কুরআনে মানব সৃষ্টির ইঙ্গিত

ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُ مِن سُلَالَةٍ مِّن مَّاءٍ مَّهِينٍ

"অতঃপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেন, তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।"

–সূরা সাজদাহ : ৮


'সুলালাহ' শব্দের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও আধুনিক জীববিজ্ঞান

আরবী শব্দ سُلَالَة 'সুলালাহ' মানে তরল পদার্থের নির্যাস বা অবিভক্ত কোন বস্তুর সর্বোত্তম অংশ

আমরা এখন জানতে পেরেছি যে, পুরুষের দেহে উৎপন্ন কয়েক মিলিয়ন শুক্রাণু থেকে ডিম্বাণুতে প্রবেশকারী একটি মাত্র শুক্রাণুই নিষিক্তকরণের জন্য প্রয়োজন হয়। কয়েক মিলিয়ন থেকে ঐ একটি মাত্র শুক্রাণুকেই কুরআনে 'সুলালাহ' বলা হয়েছে। আমরা বর্তমানে এটাও জানতে পেরেছি যে, নারীদেহে উৎপন্ন দশ হাজারের অধিক ডিম্বাণু থেকে একটি মাত্র ডিম্বাণুই নিষিক্ত হয়। দশ হাজার ডিম্বাণু থেকে ঐ একটি ডিম্বাণুকে কুরআনে 'সুলালাহ' বলা হয়েছে।

তরল পদার্থ থেকে সুষমভাবে বের করে আনার অর্থেও 'সুলালাহ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়। তরল পদার্থ দ্বারা জননকোষ ধারণকারী নারী ও পুরুষের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সংক্রান্ত তরল পদার্থকে বুঝায়। ডিম্বাণু উভয়কে নিষিক্তকরণের প্রক্রিয়ায় সুষমভাবে তাদের নিজস্ব পরিমণ্ডল থেকে বের করে আনা হয়।


📘 Biggan zakir naik 📄 মিশ্রিত তরল পদার্থ (নুতফাতুন আমশা-জ)

📄 মিশ্রিত তরল পদার্থ (নুতফাতুন আমশা-জ)


কুরআনে মানব সৃষ্টি: নুতফাতুন আমশাজ

নুতফাতুন আমশাজ: কুরআনের আয়াত

নীচের আয়াতটির দিকে লক্ষ্য করা যাক:

إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍ

"আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে।”

–আদ-দাহর: ২


নুতফাতুন আমশাজ শব্দের ব্যাখ্যা

আরবী শব্দ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ (নুতফাতুন আমশাজ)-এর অর্থ হচ্ছে, মিশ্রিত তরল পদার্থ। কুরআনের অনেক তাফসীরকারকের মতে, মিশ্রিত তরল পদার্থ বলতে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ জাতীয় ধারক বা তরল পদার্থকে বোঝায়।

নারী ও পুরুষের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু মিশ্রিত হওয়ার পরেও ভ্রূণ নুতফা আকারে অবস্থান করে। মিশ্রিত তরল পদার্থ বলতে শুক্রাণুজাতীয় তরলকেও বুঝানো হতে পারে যা বিভিন্ন লালাগ্রন্থির নিঃসৃত রস হতে আসে।

সেহেতু, নُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ (নুতফাতুন আমশাজ)- এর অর্থ দাঁড়ায়, নারী ও পুরুষের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু এবং এগুলোর চতুর্পার্শ্বের তরল পদার্থের কিছু অংশ


📘 Biggan zakir naik 📄 ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ

📄 ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ


শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ: বিজ্ঞান ও কুরআন

লিঙ্গ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক ধারণা

ডিম্বাণুর প্রকৃতি দ্বারা নয় বরং শুক্রাণুর প্রকৃতি দ্বারাই ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারিত হয়ে থাকে। শিশুটি পুরুষ বা স্ত্রী কী হবে তা 'XX' বা 'XY' জাতীয় ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের উপর নির্ভর করে। ডিম্বাণু নিষিক্তকারী শুক্রের লিঙ্গ-ক্রোমোজোমের উপর ভিত্তি করে নিষিক্তকরণের সময়েই প্রাথমিকভাবে লিঙ্গ নির্ধারিত হয়। যদি 'X' বহনকারী শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তাহলে ভ্রূণ হয় স্ত্রীলিঙ্গ এবং যদি 'Y' বহনকারী শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তাহলে ভ্রূণ হয় পুংলিঙ্গ


কুরআনের প্রথম ইঙ্গিত

কুরআন মাজীদে আল্লাহপাক বলেন-

وَأَنَّهُ خَلَقَ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنثَىٰ - مِن نُّطْفَةٍ إِذَا تُمْنَىٰ

"তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল পুরুষ ও নারী, এক বিন্দু থেকে, যখন নির্গত হয়।"

–সূরা আন্-নাজম্ঃ ৪৫-৪৬

আরবী শব্দ نُطْفَة (নুতফাহ) অর্থ, সামান্য পরিমাণ তরল এবং تُمْنَىٰ (তুমনা) অর্থ স্খলিত বা নির্গত হওয়া। সেহেতু, নুতফাহ দ্বারা শুক্রানুকেই বোঝানো হয় কারণ শুক্রই স্খলিত হয়।


কুরআনের দ্বিতীয় ইঙ্গিত

কুরআন মাজীদে আল্লাহপাক আরো বলেন-

أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَن يُتْرَكَ سُدًى - أَلَمْ يَكُ نُطْفَةً مِّن مَّنِيٍّ يُمْنَىٰ

"সে কী স্খলিত শুক্র ছিল না? অতঃপর সে ছিল রক্তপিণ্ড, অতঃপর (আল্লাহ) সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন। অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন যুগল, নর ও নারী।"

–সূরা আল-ক্বিয়ামাহ : ৩৭-৩৯

এখানে আয়াতে مِّن مَّنِيٍّ يُمْنَىٰ শব্দ দিয়ে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারনের জন্য দায়ী পুরুষ থেকে স্খলিত খুবই সামান্য পরিমাণ (এক ফোঁটা) শুক্রকে বুঝানো হয়েছে।


সামাজিক প্রেক্ষাপট ও উপসংহার

ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ শাশুড়ীরা নাতি আকাঙ্ক্ষা করে এবং যদি নাতনী হয় তাহলে সেজন্য প্রায় পুত্রবধূকে দায়ী করে। যদি তারা জানত যে, নারীর ডিম্বাণু নয় বরং পুরুষের শুক্রের প্রকৃতি লিঙ্গ নির্ধারণ করে! যদি দোষারোপ করতে হয়, তাহলে পুত্রবধূদেরকে দোষারোপ না করে বরং তাদের ছেলেদেরকে দোষারোপ করা উচিত; কারণ কুরআনবিজ্ঞান উভয় পুরুষের শুক্রকে শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য দায়ী হিসেবে উল্লেখ করে!


ফন্ট সাইজ
15px
17px