📘 Biggan zakir naik 📄 মৌমাছি

📄 মৌমাছি


মৌমাছি: আচরণ, যোগাযোগ এবং কুরআনিক নির্দেশনা

কুরআন ও মৌমাছি: এক ঐশ্বরিক নির্দেশ

وَأَوْحَىٰ رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ - ثُمَّ كُلِي مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا

"তোমার প্রতিপালক মৌমাছির প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন যে, বাসা তৈরি কর পাহাড়ে, বৃক্ষে আর উঁচু ঢালে। অতঃপর প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের (শিখানো) সহজ পদ্ধতি মেনে চল।

–সূরা আন-নাহল: ৬৮-৬৯

নিজস্ব দক্ষতার সাহায্যে মৌমাছি কিভাবে তার পালনকর্তার প্রশস্ত পথের সন্ধান পায় তা কুরআনের উপরের আয়াতে উল্লেখ রয়েছে।


মৌমাছির যোগাযোগ এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার

১৯৭৩ সালে ভন-ফ্রিচ মৌমাছির আচরণ ও যোগাযোগের উপর গবেষণার জন্য নোবেল পুরষ্কার পান। কোন নতুন বাগান বা ফুলের সন্ধান পেলে মৌমাছিটি আবার মৌচাকে ফিরে যায় এবং তার সহকর্মী মৌমাছিদেরকে সেখানে যাওয়ার সঠিক গতিপথ ও মানচিত্র 'মৌমাছির নৃত্য' নামক আচরণের মাধ্যমে তা জানায়। অন্যান্য কর্মী মৌমাছিকে তথ্য জানানোর উদ্দেশ্যে এ ধরণের আচরণ আলোকচিত্র ও অন্যান্য পদ্ধতির সাহায্যে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।


কর্মী মৌমাছির লিঙ্গ পরিচয়: ঐতিহাসিক ভুল ধারণা ও আধুনিক বিজ্ঞান

স্ত্রী মৌমাছি হচ্ছে কর্মী মৌমাছি বা সৈনিক মৌমাছি। সূরা আল-নাহলের ৬৮ ও ৬৯ নং আয়াতে মৌমাছির জন্য স্ত্রী লিঙ্গ فَاسْلُكِي (ফাসলুকী) ও كُلِي (কুলী) ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ যেসব মৌমাছি খাদ্য সংগ্রহের কাজ করে, তা স্ত্রী মৌমাছি। অন্যকথায় সৈনিক বা কর্মী মৌমাছি হচ্ছে স্ত্রী মৌমাছি

মূলত শেক্সপিয়ারের 'Henry the Forth' নাটকের কিছু চরিত্র মৌমাছি সম্পর্কিত বর্ণনা করে যে, মৌমাছিরা হল সৈনিক এবং তাদের একটি রাজা রয়েছে। শেক্সপিয়ারের যুগে মানুষ মৌমাছি সম্পর্কে এরকমই ধারণা করত। তারা মনে করত যে, কর্মী মৌমাছিরা পুরুষ এবং ঘরে ফিরে তাদেরকে একটি রাজা মৌমাছির কাছে জবাবদিহি করতে হয়। যাহোক এটা সত্য নয়। কর্মী মৌমাছিরা হল স্ত্রী এবং তারা রাজা মৌমাছির কাছে নয় বরং রাণী মৌমাছির কাছে জবাবদিহি করে। কিন্তু এ বিষয়টি মাত্র ৩০০ বছর পূর্বে আধুনিক অনুসন্ধানে আবিষ্কৃত হয়েছে।


📘 Biggan zakir naik 📄 মাকড়সার জাল এক ভঙ্গুর বাসস্থান

📄 মাকড়সার জাল এক ভঙ্গুর বাসস্থান


কুরআন ও মাকড়সার ঘর: ভঙ্গুরতা ও বাস্তবতা

সূরা আল-আনকাবুতে মাকড়সার উপমা

সূরা আল-আনকাবুতে কুরআন বর্ণনা করে যে,

مَثَلُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ أَوْلِيَاءَ كَمَثَلِ الْعَنكَبُوتِ اتَّخَذَتْ بَيْتًا ۖ وَإِنَّ أَوْهَنَ الْبُيُوتِ لَبَيْتُ الْعَنكَبُوتِ ۖ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ

"যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে মুনিব হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের উপমা সেই মাকড়সার মত, যে নিজের জন্য একটি ঘর বানায়; অথচ নিঃসন্দেহে সর্বাধিক ভঙ্গুর আবাসস্থল হচ্ছে, মাকড়সার ঘর, কিন্তু তারা যদি তা জানত।"

–সূরা আল-আনকাবুত: ৪১


মাকড়সার ঘরের বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক ইঙ্গিত

মাকড়সার ভঙ্গুর, সুন্দর ও দুর্বল ঘরের দৈহিক বর্ণনার সাথেসাথে মাকড়সার ঘরের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের অসারতা; বহুসংখ্যকবার স্ত্রী মাকড়সা কর্তৃক তার সহকর্মী পুরুষ মাকড়সাকে হত্যার বিষয়টির উপরও কুরআন জোর দেয়।


📘 Biggan zakir naik 📄 শারীরবৃত্ত বিজ্ঞান

📄 শারীরবৃত্ত বিজ্ঞান


আল্লাহ ভিন্ন অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়া এবং মানুষের দুর্বলতা

নীতিগর্ভ উপমার শিক্ষা

নীতিগর্ভ উপমাটি সেসব মানুষের দুর্বলতার দিকেও ইঙ্গিত করে যারা দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তির জন্য আল্লাহ ভিন্ন অন্য কারো কাছে সাহায্য চায়


📘 Biggan zakir naik 📄 রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ও দুধ

📄 রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ও দুধ


কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান: দুধ উৎপাদন রহস্য

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কুরআনের বিস্ময়কর জ্ঞান

মুসলিম বিজ্ঞানী ইবনে নাফীস রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া উপস্থাপন করার ৬০০ বছর পূর্বে এবং পশ্চিমা বিশ্বে উইলিয়াম হারওয়ের এই মত উপস্থাপনের ১০০০ বছর পূর্বেই কুরআন নাযিল হয়েছিল। অস্ত্রে (পাকস্থলী থেকে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যনালীর নিম্নাংশ) কী ঘটে তা প্রায় ১৩ শতাব্দি পূর্বে জানা যায় কারণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অবশ্যই পরিপাকক্রিয়ার শোষণের মাধ্যমে পরিপুষ্ট হয়। কুরআনের একটি আয়াত দুধের উপাদানের উৎস সম্পর্কে বর্ণনা করে যা এই মতগুলোর সাথে সংগতিপূর্ণ।


দুধ উৎপাদনের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া

উপরের মতগুলো সম্পর্কে কুরআনের আয়াত বুঝতে হলে, এটা জানা দরকার যে, অস্ত্রে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং সেখানে খাদ্য থেকে যেসব খাদ্যরস শোষিত হয় তা এক জটিল প্রক্রিয়ায় রক্তে মিশে যায়; কখনো কখনো তা রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে লিভারের (যকৃত) মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। তারপর সেগুলোকে রক্ত শরীরের প্রত্যেক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পৌঁছে দেয়, যার মধ্যে দুধ উৎপাদনকারী লালাগ্রন্থিও অন্তর্ভুক্ত।

সহজ কথায়, অস্ত্রের অভ্যন্তরস্থ বিশেষ ধরণের কিছু নির্যাস অস্ত্রের আবরণের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পৌঁছায়।


কুরআন ও দুধের উৎপত্তির ব্যাখ্যা

কুরআনের নিম্নলিখিত আয়াতগুলো বুঝতে হলে শারীরবৃত্তীয় বৈজ্ঞানিক ধারণাটি অবশ্যই পুরোপুরি সঠিকভাবে মূল্যায়িত করতে হবেঃ

وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً ۖ نُّسْقِيكُم مِّمَّا فِي بُطُونِهِ مِن بَيْنِ فَرْثٍ وَدَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَائِغًا لِّلشَّارِبِينَ

"তোমাদের জন্য গবাদি পশুতেও অবশ্যই শিক্ষা নিহিত রয়েছে। তোমাদেরকে পান করাই ওদের পেটের গোবর আর রক্তের থেকে উৎপন্ন বিশুদ্ধ দুগ্ধ যা পানকারীদের জন্য খুবই উপদেয়।"

–সূরা আন-নাহল: ৬৬

আর গবাদি পশুর ভিতরে তোমাদের জন্য অবশ্যই শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাদের পেটে যা আছে তাথেকে আমি তোমাদেরকে পান করাই (দুধ) আর ওতে তোমাদের জন্য আছে বহুবিধ উপকার। তোমরা তাথেকে খাও (গোশত)।


আধুনিক বিজ্ঞান ও কুরআনের বিস্ময়কর সামঞ্জস্য

গবাদি পশুর দুধ উৎপাদন সম্পর্কে কুরআনের ১৪০০ বছর আগের বর্ণনা আর অতি সাম্প্রতিক আধুনিক শারীরবৃত্ত বিজ্ঞান যা আবিষ্কার করেছে তাতো বিস্ময়করভাবে মিল রয়েছে।


ফন্ট সাইজ
15px
17px